📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 অখ্যাত যখন ইসলামের বৈশিষ্ট্য

📄 অখ্যাত যখন ইসলামের বৈশিষ্ট্য


১৮৮. জাবির ইবনু আবদিল্লাহ বলেন, নবি বলেছেন:
إنَّ الإسلام بدأغريبًا، وإنَّه سَيَعُودُ كما بدأ، فطوبى للغرباء، قالوا: ومن هم يا رسول الله؟ قال: الَّذِينَ يَصلحون حينَ يَفْسُدُ النَّاسُ.
"ইসলামের সূচনা হয়েছে অচেনা অবস্থায়। এটা আবার সেই অবস্থায় ফিরে যাবে, যেভাবে তার সূচনা হয়েছিল। তাই অপরিচিতদের জন্য সুসংবাদ।” সাহাবায়ে কেরام জিজ্ঞেস করেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ, তারা কারা?” তিনি বলেন, "যখন মানুষের অবস্থা মন্দ হয়ে যাবে, তখন যারা সঠিক পথে থাকবে."
১৮৯. আবুদ দারদা, আবূ উমামা আল বাহিলি, আনাস ইবনু মালিক এবং ওয়াসিলা ইবনুল আসকা থেকে বর্ণিত, তারা বলেন, "নবি একদিন আমাদের কাছে এসে বলেন:
إِنَّ الإسلام بَدَأَ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ كما بَدَأ فطوبى للغرباء قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ ومن الغرباء قَالَ الذِيْن يَصْلُحُون إذا فَسَدَ النَّاسُ وَلَا يُمَارُوْنَ فِي دِينِ اللَّهِ وَلَا يُكَفِّرُونَ أَحَدًا مِنْ أَهْلِ التَّوحِيدِ بِذَنبٍ
'অপরিচিত অবস্থাতেই ইসলামের সূচনা হয়েছে। শীঘ্রই আবারও অপরিচিত হয়ে যাবে তা। অতএব অপরিচিতদের জন্য সুসংবাদ.' সাহাবিগণ বললেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ! অপরিচিত কারা?' তিনি বলেন, 'যখন মানুষের অবস্থা মন্দ হয়ে যাবে, তখন যারা সঠিক পথে থাকবে। আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে কোনো ধরনের সন্দেহে নিপতিত হবে না তারা। (সাধারণ) গুনাহের কারণে আহলে কিবলাকে কাফির আখ্যা দেবে না."
১৯০. আবদুল্লাহ ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, তিনি নবি-কে বলতে শুনেছেন:
إِنَّ الإسلام بَدَأَ غَرِيبًا، وسَيَعُودُ كما بَدَأَ فَطُوبى للغُرَباءِ، أَلا إِنَّهُ لَا غُربة على مؤمن، ما مات مؤمنًا
"ইসলামের সূচনা হয়েছে অপরিচিত অবস্থায়। শীঘ্রই তা সেই সূচনাবস্থায় ফিরে যাবে। অতএব অপরিচিতদের জন্য সুসংবাদ। জেনে রাখ, মুমিন যদি ঈমানের ওপর মৃত্যুবরণ করে, তাহলে সে মোটেও অপরিচিত নয়.”
১৯১. আবদুল্লাহ ইবনু উমার থেকে বর্ণিত আছে, নবি বলেছেন:
إِنَّ الإِسْلامَ بَدَأَ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ غَرِيبًا كما بَدَأَ، وَهُوَ يَأْرِزُ بَيْنَ المَسْجِدَيْنِ، كما تأْرِزُ الحَيَّةُ فِي جُحْرِها.
"নিশ্চয়ই অপরিচিত অবস্থায় ইসলামের সূচনা হয়েছে। আবারও তা সেই শুরুর অবস্থায় ফিরে যাবে। যেমনভাবে সাপ তার গর্তে আশ্রয় নেয়, ইসলামও আশ্রয় নেবে এই দুই মাসজিদের মাঝে.”

টিকাঃ
[১৪۴] নুরুদ্দিন হাইসামি, মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ৭/২৭৮。
[১৪۵] তাবারানি, আল মুজামুল কাবির, ৮/১৭৮, ১৭৯。
[১৪۶] সাখাবি, আল মাকাসিদুল হাসানা, পৃ. ২৩৫。
[১৪۷] মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ, আস সহীহ, ১৪৬。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 কর্মের মাধ্যমে অখ্যাতির মর্যাদা লাভ

📄 কর্মের মাধ্যমে অখ্যাতির মর্যাদা লাভ


১৯২. আবদুল্লাহ ইবনু আমর বলেন, "আমরা তখন নবি-এর নিকট ছিলাম। এরই মধ্যে সূর্য উঠে যায়। তিনি তখন বলেন :
يأتي الله بِقَوْمٍ يَومَ القيامةِ نُورُهم كَنُورِ الشَّمْسِ قَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَنَحْنُ هُمْ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَال : لا ، وَلَكُم خَيْرٌ كَثِيرٌ ، وَلَكِنَّهُم الفُقَرَاءُ المُهَاجِرُوْنَ الَّذِينَ يُحْشَرُونَ مِن أقْطَارِ الأرض. ثمَّ قال: طوبى للغُرَباءِ، طُوبَى لِلْغُرَبَاء قِيلَ: وَمَنِ الغُرَباءُ؟ قال: ناس صالِحُوْن قَلِيلٌ فِي نَاسٍ كَثِيرٍ فِي بَعْضِهِم أَكْثَرُ مِنْ بَعْضٍ.
'কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাআলা এমন এক সম্প্রদায়কে হাজির করবেন, যাদের নূর হবে সূর্যের আলোর মতো.' আবু বকর জিজ্ঞেস করেন, 'ইয়া রাসূল্লাল্লাহ! আমরাই কি সেসকল লোক?' তিনি বলেন, 'না, তোমাদের জন্যও অনেক কল্যাণ রয়েছে। তবে তারা হলো দরিদ্র মুহাজির। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জমায়েত করা হবে তাদের.' তারপর তিনি বলেন, 'তাই অপরিচিতদের জন্য সুসংবাদ, অপরিচিতদের জন্য সুসংবাদ.' তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, 'অপরিচিত কারা?' তিনি বলেন, 'অনেক বেশি মানুষের মাঝে থাকা অল্প সংখ্যক সৎকর্মশীল লোক.”

টিকাঃ
[১৪۸] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ২/১৭৭, ২২২。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 গুরুবাদের (অপরিচিত) পরিচয়

📄 গুরুবাদের (অপরিচিত) পরিচয়


১৯৩. আবদুল্লাহ ইবনু আমর থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন :
أحَبُّ شيءٍ إلى الله تعالى الغرباء، قيل: ومن الغرباء؟ قال: الفرارُونَ بدينهم، يبعثُهُمُ اللهُ يَوْمَ القِيَامَةِ مَعَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عليهما السَّلامُ
“আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো গুরাবারা।” জিজ্ঞেস করা হলো, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! গুরাবা কারা?” তিনি বলেন, “যারা নিজেদের দ্বীন বাঁচাতে পালিয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা ঈসা ইবনু মারিয়াম -এর সাথে তাদেরকে কবর থেকে উঠাবেন.”
১৯৪. কাসির ইবনু আবদিল্লাহ আল মুযানি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবি বলেছেন :
إِنَّ الدِّينَ بَدَأَ غَرِيبًا ، وَسَيَعُودُ كَمَا بَدَأَ غَرِيبًا ، فَطُوبَى لِلْغُرَبَاءِ، فَقِيلَ : يَا رَسُولَ اللهِ وَمَنِ الْغُرَبَاءُ ؟ قَالَ : الَّذِينَ يُحْيُونَ سُنَّتِي وَيُعَلِّمُونَهَا عِبَادَ اللَّهِ
"নিশ্চয়ই এই দ্বীনের সূচনা হয়েছিল অপরিচিত অবস্থায়। শীঘ্রই তা সেই অবস্থায় ফিরে যাবে, যেভাবে তার সূচনা ঘটেছিল। অতএব অপরিচিতদের জন্য সুসংবাদ.” তখন জিজ্ঞেস করা হলো, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! গুরাবা কারা?” তিনি বলেন, “যারা আমার সুন্নাতকে জীবিত করবে এবং আল্লাহর বান্দাদের তা শেখাবে.”
১৯৫. আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন :
إنَّ الإسلام بدأ غريبًا وسيعود كما بدأ، فطوبى للغرباء. قيل: ومن الغرباء؟ قال: النزاع من القبائل.
"নিশ্চয়ই অচেনা অবস্থায় ইসলামের সূচনা হয়েছে এবং অচিরেই তা আবারও অচেনা হয়ে যাবে। অতএব অচেনাদের জন্য সুসংবাদ.” জিজ্ঞেস করা হলো, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! অচেনা কারা?” তিনি বলেন, "যারা নিজেদের গোত্র এবং পরিবার-পরিজন ছেড়ে চলে এসেছে.”
১৯৬. ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন:
مَن تَمَسَّكَ بسُنَّتي عند فَسادِ أُمَّتِي فله أجرُ شَهيد.
"যে ব্যক্তি আমার উম্মাতের ফিতনা-ফাসাদের সময় আমার সুন্নাত আঁকড়ে থাকবে, সে একশত শহীদের সাওয়াব লাভ করবে.”

টিকাঃ
[১৪۹] আলি মুত্তাকি আল হিন্দি, কানযুল উম্মাল, ১/৩৯২。
[১৫۰] কুযায়ি, মুসনাদুশ শিহাব, ২/১৩৮。
[১৫۱] তাবারানি, আল মুজামুল আওসাত, ৫৪১৪。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 সংখ্যাধিক্য মানেই উৎকৃষ্টতা নয়

📄 সংখ্যাধিক্য মানেই উৎকৃষ্টতা নয়


১৯৭. আবদুল্লাহ ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, নবি বলেন:
الناس كالإبل المائة لا يجد فيها راحلة
"মানুষ হলো শত উটের মতো, যাদের মাঝে একটা বাহনও খুঁজে পাওয়া যায় না.”
আযহারী উতাইবি থেকে বর্ণনা করে বলেন, “নবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, বংশের ক্ষেত্রে সকল মানুষই সমান। এক্ষেত্রে কারোর ওপর কারও শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তবে তারা শত উটের মতো, যাদের মাঝে একটাও বাহন হিসেবে ব্যবহারযোগ্য নয়.” আযহারী বলেন, "আমার মতে আল্লাহ তাআলা এতে দুনিয়ার নিন্দা করেছেন। দুনিয়াতে জড়িয়ে পড়া থেকে মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছেন। উপদেশ গ্রহণের জন্য তাদের সামনে দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন। যেমন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
إِنَّمَا مَثَلُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا كَمَاء أَنزَلْنَاهُ مِنَ السَّمَاءِ فَاخْتَلَطَ بِهِ نَبَاتُ الْأَرْضِ مِمَّا يَأْكُلُ النَّاسُ وَالأَنْعَامُ حَتَّى إِذَا أَخَذَتِ الْأَرْضُ زُخْرُفَهَا وَازَّيَّنَتْ وَظَنَّ أَهْلُهَا أَنَّهُمْ قَادِرُونَ عَلَيْهَا أَتَاهَا أَمْرُنَا لَيْلاً أَوْ نَهَارًا فَجَعَلْنَاهَا حَصِيدًا كَأَن لَّمْ تَغْنَ بِالْأَمْسِ كَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
'পার্থিব জীবনের উদাহরণ তেমনি, যেমন আমি আসমান থেকে পানি বর্ষণ করলাম। পরে তা সংমিশ্রিত হয়ে জমিনের উদ্ভিদ বেরিয়ে আসে, যা মানুষ ও জীব-জন্তুরা খেয়ে থাকে। এমনকি জমিন যখন তার শোভা ধারণ করে ও নয়নাভিরাম হয়ে উঠে এবং জমিনের মালিকেরা ভাবতে থাকে, তারা এর পূর্ণ অধিকারী, তখন রাতে কিংবা দিনে তার ওপর আমার নির্দেশ চলে আসে। তখন আমি সেগুলোকে এমনভাবে কর্তিত করে দিই, যেন কালও তার অস্তিত্ব ছিল না। চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য আমি এভাবেই নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করে থাকি.
এই ধরনের আয়াতে তিনি বিভিন্ন দৃষ্টান্ত এবং উপমা পেশ করেছেন। আল্লাহ তাআলা যে বিষয় থেকে মানুষকে সতর্ক করেছেন, নবি ﷺ সেগুলো থেকেই মানুষকে বিরত থাকতে বলতেন। যেমন তিনি বলেছেন, আমার পরের লোকজনকে দেখবে তাদের অবস্থা হয়ে গেছে শত উটের মতো, যাতে তুমি একটাও বাহন পাবে না। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, দুনিয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিমুখ এবং পরকালের প্রতি অধীর আগ্রহী মানুষের সংখ্যা খুবই কম.”
আবূ সুলাইমান আল খাত্তাবি উভয় অর্থ উল্লেখ করে বলেন, “বিষয়টাকে এভাবে ব্যাখ্যা করা যায় যে, একটা হচ্ছে, ধর্মের বিধিবিধানের ক্ষেত্রে লোকজন সকলেই সমান। শত উটের মধ্যে যেমন কোনো ভেদাভেদ নেই, তাতে যেমন আরোহণের মতো কোনো বাহন পাওয়া যায় না, তেমনি মানুষের মধ্যেও কোনো ভেদাভেদ নেই। সাধারণ মানুষের ওপর সম্ভ্রান্ত ও মর্যাদাবান কারও শ্রেষ্ঠত্ব নেই।
দ্বিতীয় ব্যাখ্যা হলো, অধিকাংশ মানুষই ভুল-ত্রুটি এবং মূর্খতার মধ্যে রয়েছে। তাই তাদের সাথে অধিক সময় অবস্থান করা যাবে না। তাদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা যাবে না। তবে যারা শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী, তাদের বিষয়টি ভিন্ন। যেমনভাবে উটের মধ্যে বাহনের সংখ্যা কম, তেমনি এই শ্রেণির লোকদের সংখ্যাও নিতান্তই কম। যেমন, আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
'কিন্তু অধিকাংশ লোকই জানে না.
وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
'কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না.
وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ يَجْهَلُونَ
'কিন্তু তাদের অধিকাংশই অজ্ঞ.”
যা-ই হোক, পূর্ববর্তী মনীষীগণ এই হাদীসটিকে মানুষের নিন্দা এবং জনসমাগম ছেড়ে নির্জনতা অবলম্বনের অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। যার মাধ্যমে বুঝে আসে, আমাদের উল্লিখিত দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটি হাদীসের উদ্দেশ্য।

টিকাঃ
[১৫۲] মুসলিম, আস সহীহ, ২৫৪৭。
[১৫۳] সুরা ইউনুস, ১০: ২৪。
[১৫۴] সূরা আরাফ, ৭: ১৮৭。
[১৫۵] সূরা আনআম, ৬:৩৭。
[১৫۶] সূরা আনআম, ৬:১১১。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00