📄 মানুষের সাথে মেলামেশার শর্ত
১৮০. রবিয়া ইবনু মাজিদ থেকে বর্ণিত আছে, আলি আপন সমর্থকদের একদিন বলেছিলেন: “মুখ এবং দেহের মাধ্যমে মানুষের সাথে মিশবে। তবে অন্তর ও কাজকর্মের দিক দিয়ে তাদের থেকে পৃথক থাকবে। প্রত্যেককেই নিজ নিজ কর্মের হিসাব দিতে হবে। কেননা, যে যাকে ভালোবাসে, কিয়ামাতের দিন সে তার সাথেই থাকবে.”
১৮১. আমরা অন্য এক জায়গায় নবি থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেছেন :
المسلم الذي يُخالِطُ النَّاسَ ويَصْبِرُ على أذاهم أفضَلُ مِنَ الذي لا يُخالِطُ النَّاسَ، ولا يصبر على أذاهم.
“যে মুসলিম মানুষের সাথে উঠাবসা করে, তাদের থেকে পাওয়া দুঃখ- কষ্টে সবর করে, সে ঐ ব্যক্তি থেকে উত্তম, যে মানুষের সাথে উঠাবসা করে না এবং তাদের দুঃখ-কষ্টে সবর করে না.”
মানুষের সাথে উঠাবসা এবং চলাফেরা যদি আল্লাহর ইবাদাত-বন্দেগী এবং ইখলাসের প্রতিবন্ধক না হয়, তখন এই বিধান। আর যদি তা ইবাদাত- বন্দেগির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায় আর নির্জনতা অবলম্বন করলে ভালোভাবে ইবাদাত করা যায়, তখন ইবাদাত-বন্দেগী করতে নির্জনতা অবলম্বন করাই উত্তম।
টিকাঃ
[১৩৮] দারিমি, আল মুসনাদ, ১/৯২。
[১৩৯] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ২/৪৩, ৫/৩৬৫。
📄 নিকটস্থদের সাথে মেলামেশার শর্ত
১৮۲. আবূ সাঈদ খুদরি বলেন, “খুতবা দেওয়ার জন্য নবি একদিন আমাদের সামনে দাঁড়ান। তিনি সেদিনের খুতবায় বলেছিলেন :
ألا إني أُوشِكُ أن أُدعى فأجيب، فيليكُم عمال من بعدي، يقولون ما يعلمون، ويعملون بما يعرفون، وطاعة أولئك طاعة، فتلبثون كذلك دهرا، ثم يليكم عمال من بعدهم يقولون مالا يعلمون، ويعملون مالا يَعْرِفُونَ، فَمَنْ نَاصَحَهُمْ وَآزَرَهمْ وَشَدَّ عَلَى أَعْضَادِهِمْ، فَأُولئِكَ قَدْ هَلَكُوا وَأَهْلَكُوا، خَالِطُوهُمْ بِأَجْسَادِكُمْ، وَزَايِلُوهُمْ بِأَعْمَالِكُمْ، وَاشْهَدُوا عَلَى المحسن بأنه محسن، وعلى المسيء بأنه مسيء
'জেনে রাখো, শীঘ্রই আমার ডাক এসে যাবে। আমাকে চলে যেতে হবে তখন। এরপর এমন ব্যক্তিরা তোমাদের দায়িত্বে নিয়োজিত হবে, যারা নিজেদের জ্ঞান অনুযায়ী কথা বলবে। নিজেরা যা জানে, সে অনুযায়ী আমল করবে। তাদের আনুগত্য করাটা আবশ্যক। এমন অবস্থা কিছুকাল থাকবে। তারপর এমন কিছু লোক তোমাদের দায়িত্বে নিয়োজিত হবে, যারা যা জানে না, তা বলবে। আর যা বোঝে না, তা সম্পাদন করবে। তাদের প্রতি যারা হিতাকাঙ্ক্ষা পোষণ করবে, তাদের সাথে বন্ধুত্ব রাখবে এবং তাদের শক্তি জোগাবে। জেনে রাখ, তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। করণীয় হচ্ছে, তোমরা দেহের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে থাকবে বটে। তবে কাজকর্মের দিক থেকে পৃথক থাকবে তাদের থেকে। সৎকর্মশীলদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেবে যে, সে আসলেই সৎকর্মশীল। আর অসৎকর্মশীলদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেবে যে, সে অসৎ.”
১৮৩. আবু যর বলেন, “নবি আমাকে বলেছেন:
يَا أَبَا ذَرِّ كَيْفَ أَنْتَ إِذَا كُنْتَ فِي حَثَالَةٍ مِنَ النَاسِ وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ مَا تَأْمُرُنِي قَالَ اصْبِرْ اصْبِرْ خَالِقُوا النَّاسَ بِأَخْلَاقِهِمْ وَخَالِفُوهُمْ فِي أَعْمَالِهِمْ
'আবূ যর, কেমন লাগবে, যখন তুমি অত্যন্ত নিকৃষ্ট মানুষদের মাঝে থাকবে?' এ সময় তিনি উভয় হাতের আঙ্গুলগুলোকে একটি অপরটির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেখান। আমি বলি, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেক্ষেত্রে আপনি আমাকে কী করার নির্দেশ দেন?' তিনি বলেন, 'ধৈর্য ধারণ করবে, ধৈর্য ধারণ করবে। বাহ্যিক দিক থেকে মানুষের সাথে মিশবে কিন্তু কাজকর্মের দিক থেকে তাদের বিরোধিতা করবে.”
১৮৪. আব্বাস ইবনু হামযা আল ওয়ায়িজ বলেন, “আমি যুননুন বিন ইবরাহীম আল মিসরিকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি আপন প্রতিপালকের পরিচয় লাভ করেছে সে আবদিয়্যাত, যিকর-আযকার এবং আনুগত্যের স্বাদ লাভ করে। যদিও শারীরিকভাবে মানুষের মধ্যে থাকে কিন্তু চিন্তা-ভাবনা ও ভয়-ভীতির দিক দিয়ে তাদের থেকে দূরে থাকে সে.”
টিকাঃ
[১৪۰] নুরুদ্দিন হাইসামি, মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ৫/২৩৯。
[১৪۱] হাকিম নাইসাপুরি, আল মুস্তাদরাক, ৩/৩৪১。
📄 অনসঙ্গের চেয়ে একাকিত্ব উত্তম
১৮৫. ফযল ইবনু সাঈদ আল হালাবি বলেন, “আমি সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাকে বলতে শুনেছি : 'আমার পনেরো বছর বয়স হলে বাবা বললেন, “বাছা! শিশুদের বিধি-বিধান এখন আর তোমার ওপর প্রযোজ্য নয়। তাই এখন থেকে কল্যাণকর কাজ করে যাবে। তাহলে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। সাবধান, কল্যাণকর কাজ থেকে দূরে থেকো না। যারা তোমার অমূলক প্রশংসা করে, তাদের দ্বারা ধোঁকা খেয়ো না। কেননা যারা বানিয়ে বানিয়ে তোমার প্রশংসা করে, তোমার ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে গেলে তারা তোমার নামে বানিয়ে বানিয়ে খারাপ কথাও বলতে পারবে। অসৎসঙ্গের চেয়ে একাকিত্ব উত্তম। তোমার প্রতি আমার যে ভালো ধারণা রয়েছে, সেটাকে মন্দ ধারণা দিয়ে পরিবর্তন করে দিয়ো না। জেনে রাখ, আলিমদের মাধ্যমে কেবল ওই ব্যক্তিই সফলতা লাভ করতে পারে, যে তাদের অনুসরণ করে। তাই তুমি তাদের অনুসরণ করবে, তাহলে সফলকাম হয়ে যাবে। তাদের খিদমাত করবে, তাহলে তাদের থেকে জ্ঞান আহরণ করতে পারবে।' সুফিয়ান বলেন, 'পিতার এ ওসিয়তকে আমি কিবলা হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছিলাম। পূর্ণাঙ্গভাবে আমি তা অনুসরণ করে চলেছি, কখনোই অন্যথা করিনি তার.”
📄 নবিজির মুখে অখ্যাতাদের প্রশংসা
১৮৬. আবদুল্লাহ ইবনু উমার থেকে বর্ণিত আছে, উমার একবার মুয়ায ইবনু জাবাল -এর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখেন যে, তিনি কাঁদছেন। জিজ্ঞেস করলেন, “কাঁদছেন কেন, মুয়ায?” তিনি তখন নবি -এর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “আমি এ কবরের অধিবাসীর কাছ থেকে একটি হাদীস শুনেছি। সে কারণেই কাঁদছি আমি। তিনি বলেছেন,
إِنَّ أَدْنى الرّياءِ شِرْكٌ، وأَحَبُّ العَبِيدِ إلى الله تعالى الأتقياء الأخفياء، الذين إِذَا غَابُوا لَمْ يُفْتَقَدُوا، وَإِذَا شَهِدُوا لَمْ يُعْرَفُوا، أولئك أئمة الهدى ومصابيح العلم
'রিয়া (লোকদেখানো ইবাদাত)-এর সর্বনিম্ন স্তরও শিরক। আর আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় বান্দা হলো, যারা তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে। তারা থাকে অখ্যাত। তারা অনুপস্থিত থাকলে কেউ তাদের খোঁজ নিতে যায় না, উপস্থিত হলেও কেউ তাদের চেনে না। তারাই হলো হিদায়াতের ইমাম এবং জ্ঞানের বাতি.”
১৮৭. আবূ উমামা থেকে বর্ণিত আছে, নবি বলেছেন:
إِنَّ مِنْ أَغْبَطِ النَّاسِ عِنْدِي ذَا حَقِّ مِنْ صَلَاةٍ, أَطَاعَ رَبَّهُ ، وَأَكْثَرَ عِبَادَتَهُ في السِّرِّ ، وَكَانَ لا يُشَارُ إِلَيْهِ بِالأَصَابِعِ ، وَكَانَ غَامِضًا فِي النَّاسِ ، وَكَانَ عَيْشُهُ كَفَافًا عُجَلَتْ مَنِيَّتُهُ ، وَقَلَّ تُرَاثُهُ ، وَقَلَّ بَوَاكِيهِ
"আমার কাছে সর্বাধিক ঈর্ষার পাত্র হলো ঐ ব্যক্তি, যে অধিক পরিমাণে (নফল) সালাত আদায় করে থাকে। আপন প্রতিপালকের আনুগত্য করে। গোপনে তাঁর ইবাদাত করে। (অখ্যাত হওয়ার কারণে) তার প্রতি আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করা হয় না। লোকেদের মাঝে তার পরিচয় থাকে অজ্ঞাত। যতটুকু না হলেই নয়, ততটুকুর মাধ্যমেই জীবন ধারণ করে সে। অনেক দ্রুত তার মৃত্যু হয়ে যায়। তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির পরিমাণ হয় কম। তার জন্য ক্রন্দনকারীর সংখ্যাও কম হয়ে থাকে.”
টিকাঃ
[১৪۲] হাকিম নাইসাপুরি, আল মুস্তাদরাক, ৩/২৭০。
[১৪۳] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ৫/২৫৫。