📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 নির্জনবাস সবার জন্য নয়

📄 নির্জনবাস সবার জন্য নয়


১ ৭৬. আবূ বকর রাযি বলেন, "আমি আবূ ইয়াকুব আস সুসিকে বলতে শুনেছি: 'শুধু শক্তিশালী মনীষীগণই নির্জনতা অবলম্বনে সক্ষম হয়ে থাকেন। আর আমাদের মতো মানুষের জন্য সংঘবদ্ধ হয়ে থাকাটাই উপকারী.” অর্থাৎ, একেকজন একেক পন্থা অবলম্বন করবেন।
১ ৭৭. আবূ আবদির রহমান বলেন, "আমি আবূ উসমান আল মাগরিবিকে বলতে শুনেছি : 'নির্জনতা অবলম্বনকারীর জন্য আবশ্যক হচ্ছে, আপন রবের যিকর ছাড়া অন্য সকল আলোচনা থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়া। রব ছাড়া অন্য সকল উদ্দেশ্য পরিত্যাগ করা। নফসকে সকল উপকরণ থেকে মুক্ত করে ফেলা। যদি কারও মধ্যে এসকল গুণাবলী না পাওয়া যায়, তাহলে নির্জনতা তাকে উলটো ফিতনা এবং বিপদের মধ্যে ফেলে দেবে.'”

টিকাঃ
[১৩৬] আওয়ারিফুল মাআরিফ, ১২৪。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 সমাজে থেকেও নির্জনতার ফায়দা লাভ

📄 সমাজে থেকেও নির্জনতার ফায়দা লাভ


১ ৭৮. মানসূর ইবনু আবদিল্লাহ থেকে বর্ণিত আছে, আবূ মুহাম্মাদ আল জারিরিকে নির্জনতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছেন: “জনসমাগমের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও নিজের গোপন বিষয়সমূহ সংরক্ষণ করা। অন্যরা সেটা জানতে না পারা। নিজেকে পাপাচার থেকে বিরত রাখা। গোপনভেদ যেন কেবল আল্লাহ তাআলারই জানা থাকে.” আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকেও অনুরূপ বিষয় বর্ণিত হয়েছে।
১ ৭৯. আবদুল্লাহ ইবনু বাবাহ থেকে বর্ণিত আছে, আবদুল্লাহ বলেছেন: “মানুষের সাথে মেলামেশা করবে বটে। তবে যেসব বিষয় আল্লাহ তাআলার পছন্দনীয় নয়, সেসব বিষয়ে তাদের থেকে দূরে থাকবে। তারা যা চায়, তা পূরণ করবে। শুধু লক্ষ রাখবে, যেন তোমাদের দ্বীনের কোনো ক্ষতি না হয়ে যায়.”

টিকাঃ
[১৩৭] ইবনু আবী শাইবা, আল কিতাবুল মুসান্নাফ, ৫/৫৬৫。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 মানুষের সাথে মেলামেশার শর্ত

📄 মানুষের সাথে মেলামেশার শর্ত


১৮০. রবিয়া ইবনু মাজিদ থেকে বর্ণিত আছে, আলি আপন সমর্থকদের একদিন বলেছিলেন: “মুখ এবং দেহের মাধ্যমে মানুষের সাথে মিশবে। তবে অন্তর ও কাজকর্মের দিক দিয়ে তাদের থেকে পৃথক থাকবে। প্রত্যেককেই নিজ নিজ কর্মের হিসাব দিতে হবে। কেননা, যে যাকে ভালোবাসে, কিয়ামাতের দিন সে তার সাথেই থাকবে.”
১৮১. আমরা অন্য এক জায়গায় নবি থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেছেন :
المسلم الذي يُخالِطُ النَّاسَ ويَصْبِرُ على أذاهم أفضَلُ مِنَ الذي لا يُخالِطُ النَّاسَ، ولا يصبر على أذاهم.
“যে মুসলিম মানুষের সাথে উঠাবসা করে, তাদের থেকে পাওয়া দুঃখ- কষ্টে সবর করে, সে ঐ ব্যক্তি থেকে উত্তম, যে মানুষের সাথে উঠাবসা করে না এবং তাদের দুঃখ-কষ্টে সবর করে না.”
মানুষের সাথে উঠাবসা এবং চলাফেরা যদি আল্লাহর ইবাদাত-বন্দেগী এবং ইখলাসের প্রতিবন্ধক না হয়, তখন এই বিধান। আর যদি তা ইবাদাত- বন্দেগির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায় আর নির্জনতা অবলম্বন করলে ভালোভাবে ইবাদাত করা যায়, তখন ইবাদাত-বন্দেগী করতে নির্জনতা অবলম্বন করাই উত্তম।

টিকাঃ
[১৩৮] দারিমি, আল মুসনাদ, ১/৯২。
[১৩৯] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ২/৪৩, ৫/৩৬৫。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 নিকটস্থদের সাথে মেলামেশার শর্ত

📄 নিকটস্থদের সাথে মেলামেশার শর্ত


১৮۲. আবূ সাঈদ খুদরি বলেন, “খুতবা দেওয়ার জন্য নবি একদিন আমাদের সামনে দাঁড়ান। তিনি সেদিনের খুতবায় বলেছিলেন :
ألا إني أُوشِكُ أن أُدعى فأجيب، فيليكُم عمال من بعدي، يقولون ما يعلمون، ويعملون بما يعرفون، وطاعة أولئك طاعة، فتلبثون كذلك دهرا، ثم يليكم عمال من بعدهم يقولون مالا يعلمون، ويعملون مالا يَعْرِفُونَ، فَمَنْ نَاصَحَهُمْ وَآزَرَهمْ وَشَدَّ عَلَى أَعْضَادِهِمْ، فَأُولئِكَ قَدْ هَلَكُوا وَأَهْلَكُوا، خَالِطُوهُمْ بِأَجْسَادِكُمْ، وَزَايِلُوهُمْ بِأَعْمَالِكُمْ، وَاشْهَدُوا عَلَى المحسن بأنه محسن، وعلى المسيء بأنه مسيء
'জেনে রাখো, শীঘ্রই আমার ডাক এসে যাবে। আমাকে চলে যেতে হবে তখন। এরপর এমন ব্যক্তিরা তোমাদের দায়িত্বে নিয়োজিত হবে, যারা নিজেদের জ্ঞান অনুযায়ী কথা বলবে। নিজেরা যা জানে, সে অনুযায়ী আমল করবে। তাদের আনুগত্য করাটা আবশ্যক। এমন অবস্থা কিছুকাল থাকবে। তারপর এমন কিছু লোক তোমাদের দায়িত্বে নিয়োজিত হবে, যারা যা জানে না, তা বলবে। আর যা বোঝে না, তা সম্পাদন করবে। তাদের প্রতি যারা হিতাকাঙ্ক্ষা পোষণ করবে, তাদের সাথে বন্ধুত্ব রাখবে এবং তাদের শক্তি জোগাবে। জেনে রাখ, তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। করণীয় হচ্ছে, তোমরা দেহের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে থাকবে বটে। তবে কাজকর্মের দিক থেকে পৃথক থাকবে তাদের থেকে। সৎকর্মশীলদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেবে যে, সে আসলেই সৎকর্মশীল। আর অসৎকর্মশীলদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেবে যে, সে অসৎ.”
১৮৩. আবু যর বলেন, “নবি আমাকে বলেছেন:
يَا أَبَا ذَرِّ كَيْفَ أَنْتَ إِذَا كُنْتَ فِي حَثَالَةٍ مِنَ النَاسِ وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ مَا تَأْمُرُنِي قَالَ اصْبِرْ اصْبِرْ خَالِقُوا النَّاسَ بِأَخْلَاقِهِمْ وَخَالِفُوهُمْ فِي أَعْمَالِهِمْ
'আবূ যর, কেমন লাগবে, যখন তুমি অত্যন্ত নিকৃষ্ট মানুষদের মাঝে থাকবে?' এ সময় তিনি উভয় হাতের আঙ্গুলগুলোকে একটি অপরটির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেখান। আমি বলি, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেক্ষেত্রে আপনি আমাকে কী করার নির্দেশ দেন?' তিনি বলেন, 'ধৈর্য ধারণ করবে, ধৈর্য ধারণ করবে। বাহ্যিক দিক থেকে মানুষের সাথে মিশবে কিন্তু কাজকর্মের দিক থেকে তাদের বিরোধিতা করবে.”
১৮৪. আব্বাস ইবনু হামযা আল ওয়ায়িজ বলেন, “আমি যুননুন বিন ইবরাহীম আল মিসরিকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি আপন প্রতিপালকের পরিচয় লাভ করেছে সে আবদিয়্যাত, যিকর-আযকার এবং আনুগত্যের স্বাদ লাভ করে। যদিও শারীরিকভাবে মানুষের মধ্যে থাকে কিন্তু চিন্তা-ভাবনা ও ভয়-ভীতির দিক দিয়ে তাদের থেকে দূরে থাকে সে.”

টিকাঃ
[১৪۰] নুরুদ্দিন হাইসামি, মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ৫/২৩৯。
[১৪۱] হাকিম নাইসাপুরি, আল মুস্তাদরাক, ৩/৩৪১。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00