📄 অন্য গুণাবলির সাথে নির্জনতার উল্লেখ
১৭২. আবূ উসমান বলেন, "আমি যুননুনকে বলতে শুনেছি, 'যে ব্যক্তি মানুষের দোষ-ত্রুটি খোঁজে, সে নিজের দোষ-ত্রুটির ব্যাপারে অন্ধ হয়ে যায়। জান্নাত-জাহান্নামের প্রতি যার নজর থাকে, মানুষ কী বলে-না-বলে সে বিষয়ের প্রতি তার নজর থাকে না। যে ব্যক্তি মানুষ থেকে পালিয়ে যায়, সে তাদের অনিষ্ট থেকে বেঁচে যায়। আর যে কৃতজ্ঞতা আদায় করে, তার নিয়ামাত বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়.”
১৭৩. তিনি আরও বলেন, "আমি যুননুনকে বলতে শুনেছি, 'অখ্যাত ব্যক্তিদের তিনটি নিদর্শন রয়েছে। তা হলো : অন্য কেউ থাকলে নিজে কথা বলা পরিহার করা। সমকক্ষদের কাছে নিজের জ্ঞান জাহিরের আগ্রহ না থাকা। উপদেশ দেওয়া কিংবা অন্য প্রয়োজনে মানুষের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন দেখা দিলে ভেতরে ভেতরে যন্ত্রণা অনুভব করা.”
📄 মানুষের সাথে বন্ধুত্বের পরিণাম
১৭৪. জুনাইদ ইবনু মুহাম্মাদ বলেন "আমি যুননুনকে বলতে শুনেছি : 'মানুষের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দারিদ্র্যের লক্ষণ.'”
১ ৭৫. মূসা ইবনু মুহাম্মাদ বলেন, "আমি ইয়াহইয়া ইবনু মুয়াযকে বলতে শুনেছি : 'নির্জনতা সিদ্দিকদের কাঙ্ক্ষিত বস্তু আর মানুষের সাথে বন্ধুত্ব তাদের জন্য এক ভীতিকর বিষয়'.”
টিকাঃ
[১৩৫] ইবনু আসাকির, তাহযিবু তারিখি দিমাশক, ৫/২৮৭。
📄 নির্জনবাস সবার জন্য নয়
১ ৭৬. আবূ বকর রাযি বলেন, "আমি আবূ ইয়াকুব আস সুসিকে বলতে শুনেছি: 'শুধু শক্তিশালী মনীষীগণই নির্জনতা অবলম্বনে সক্ষম হয়ে থাকেন। আর আমাদের মতো মানুষের জন্য সংঘবদ্ধ হয়ে থাকাটাই উপকারী.” অর্থাৎ, একেকজন একেক পন্থা অবলম্বন করবেন।
১ ৭৭. আবূ আবদির রহমান বলেন, "আমি আবূ উসমান আল মাগরিবিকে বলতে শুনেছি : 'নির্জনতা অবলম্বনকারীর জন্য আবশ্যক হচ্ছে, আপন রবের যিকর ছাড়া অন্য সকল আলোচনা থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়া। রব ছাড়া অন্য সকল উদ্দেশ্য পরিত্যাগ করা। নফসকে সকল উপকরণ থেকে মুক্ত করে ফেলা। যদি কারও মধ্যে এসকল গুণাবলী না পাওয়া যায়, তাহলে নির্জনতা তাকে উলটো ফিতনা এবং বিপদের মধ্যে ফেলে দেবে.'”
টিকাঃ
[১৩৬] আওয়ারিফুল মাআরিফ, ১২৪。
📄 সমাজে থেকেও নির্জনতার ফায়দা লাভ
১ ৭৮. মানসূর ইবনু আবদিল্লাহ থেকে বর্ণিত আছে, আবূ মুহাম্মাদ আল জারিরিকে নির্জনতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছেন: “জনসমাগমের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও নিজের গোপন বিষয়সমূহ সংরক্ষণ করা। অন্যরা সেটা জানতে না পারা। নিজেকে পাপাচার থেকে বিরত রাখা। গোপনভেদ যেন কেবল আল্লাহ তাআলারই জানা থাকে.” আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকেও অনুরূপ বিষয় বর্ণিত হয়েছে।
১ ৭৯. আবদুল্লাহ ইবনু বাবাহ থেকে বর্ণিত আছে, আবদুল্লাহ বলেছেন: “মানুষের সাথে মেলামেশা করবে বটে। তবে যেসব বিষয় আল্লাহ তাআলার পছন্দনীয় নয়, সেসব বিষয়ে তাদের থেকে দূরে থাকবে। তারা যা চায়, তা পূরণ করবে। শুধু লক্ষ রাখবে, যেন তোমাদের দ্বীনের কোনো ক্ষতি না হয়ে যায়.”
টিকাঃ
[১৩৭] ইবনু আবী শাইবা, আল কিতাবুল মুসান্নাফ, ৫/৫৬৫。