📄 মানুষের কটুকথা থেকে বাঁচা অসম্ভব
১৫৮. মুজাহিদ থেকে বর্ণিত আছে যে, ইয়াহইয়া ইবনু যাকারিয়া তাঁর রবের কাছে দুআ করেছিলেন: “হে আমার রব! আমাকে মানুষের মুখ থেকে নিরাপদ রাখুন। তারা যেন আমার ব্যাপারে কেবল ভালো কথাই বলে।” বর্ণনাকারী বলেন, “আল্লাহ তাআলা তখন তার প্রতি ওহি পাঠিয়ে বলেন, 'ইয়াহইয়া! আমি তো নিজেকেই এই বৈশিষ্ট্যে ভূষিত করিনি। তাহলে তোমাকে কীভাবে করতে পারি!"
১৫৯. আবদুল্লাহ ইবনু ওয়াহাব মিসরি বলেন, "মক্কায় আমি সুফিয়ান সাওরিকে বলতে শুনেছি: 'মানুষের সন্তুষ্টি অর্জন করা এমন এক প্রান্তিক বিষয়, কখনো যার শেষ সীমানায় পৌঁছানো যায় না। এবং দুনিয়া অর্জন এমন এক বিষয়, কখনো যার শেষ সীমানা ছোঁয়া যায় না.”
টিকাঃ
[১২৪] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৬/৩৮৬, ৮/৩৩৮。
📄 সকলের সন্তুষ্টি অর্জন অসম্ভব
১৬০. মুআফা ইবনু ইমরান বলেন, "আমি সুফিয়ান সাওরিকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি অন্যের থেকে আশা করে, তাকে কখনো সন্তুষ্ট করা যায় না.”
১৬১. জারির ইবনু হাযিম থেকে বর্ণিত আছে, হাসান বাসরি-কে বলা হলো, “কিছু মানুষ আপনার ভুলত্রুটি ধরতে আপনার মজলিসে এসে থাকে। কোনো ভুল হয়ে গেলে আপনার সমালোচনায় মেতে উঠে তারা।” তিনি বলেন, “এ নিয়ে চিন্তার কিছুই নেই। কারণটা হচ্ছে, আমি আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশা করেছি এবং তা লাভের রাস্তাও পেয়ে গেছি। আমি জান্নাতের ব্যাপারে আশাবাদী এবং সেখানে পৌঁছার রাস্তাও পেয়ে গেছি। আয়তলোচনা হুরদের সঙ্গলাভের আশা করেছি এবং তারও রাস্তা পেয়ে গেছি। কিন্তু মানুষের সমালোচনা থেকে নিরাপদ থাকার আশা করে এর কোনো রাস্তা খুঁজে পাইনি। পরে খেয়াল করলাম, মানুষ যখন নিজ সৃষ্টিকর্তার ব্যাপারেই সন্তুষ্ট নয়, তখন নিজেদের মতোই আরেক সৃষ্টির ব্যাপারে তো সন্তুষ্ট হতে পারবেই না.”
১৬২. ইউনুস ইবনু আবদুল আলা থেকে বর্ণিত আছে, ইমাম শাফিয়ি বলেছেন, "দুই ব্যক্তি একে অপরকে তিরস্কার করছিল। তাদের কথাগুলো শুনছিলাম আমি। এক পর্যায়ে তাদের একজনকে বললাম, 'তুমি কখনো সকলকে সন্তুষ্ট করতে পারবে না। বরং নিজের এবং আল্লাহর মধ্যকার বিষয়গুলো ঠিকঠাক করে নাও। তা ঠিকঠাক হয়ে গেলে মানুষের ব্যাপারে আর পরোয়া কোরো না."
টিকাঃ
[১২৫] আল মুসান্নাফ ফি মানাকিবিশ শাফিয়ি, ২/১৭৩。
📄 আদম-সন্তানের স্বভাব
১৬৩. রবি ইবনু সুলাইমান বলেন, "আমি ইমাম শাফিয়ি -কে বলতে শুনেছি: 'আদম সন্তানকে নিচু স্বভাব দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। তাই যে সকল কাজ থেকে দূরে থাকা উচিত, আদম সন্তান সেগুলোর কাছে যাবেই। আর যে সকল বিষয়ের নিকটে যাওয়া উচিত, বনী আদম সেগুলো থেকে দূরে থাকবেই.'”
টিকাঃ
[১২৬] আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৯/১২৪。
📄 সংঘবদ্ধ ফরয ইবাদাত ব্যতীত জনসমাগম পরিহার
১৬৪. মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আস সাররাজ বলেন, “আমি ইবরাহীম ইবনু আদহাম -এর খাদিম ইবরাহীম ইবনু বাশশারকে বলতে শুনেছি: 'ইবরাহীম ইবনু আদহাম আমাদেরকে ওসিয়ত করে বলেছেন: মানুষের সাথে পরিচয়-পরিচিতি কমিয়ে দাও। যাদের চিনো না, তাদের সাথে পরিচিত হতে যেয়ো না। আর যাদের চিনো, তাদের সাথে অপরিচিতের মতো আচরণ করো.' আরও ওসিয়ত করেছেন, 'হিংস্র জন্তু থেকে যেভাবে পালাও, সেভাবেই মানুষ থেকে পলায়ন করবে। কিন্তু তাই বলে আবার জুমুআর সালাত এবং জামাআতে সালাত আদায় করা বাদ দিয়ে দিয়ো না যেন!'”
১৬৫. জুনাইদ ইবনু মুহাম্মাদ আল বাগদাদি বলেন, “আমি সিররি সাকতিকে বলতে শুনেছি : যদি জুমুআর সালাত এবং জামাআতে সালাত আদায়ের বিধান না থাকত, তাহলে আমি মাটি দিয়ে লেপে দরজাখানা বন্ধ করে দিতাম। আরও বলেন, 'জামাআতে সালাত আদায়ের জন্য বের হওয়ার পর যদি টের পাই যে, কেউ আমার দিকে আসছে, তাহলে মনে মনে বলি, হে আল্লাহ! আপনি তাদের ইবাদাতের স্বাদ দান করুন, যাতে তারাও ইবাদাতে মগ্ন হয়ে থাকে। ফলে তারা আর আমার নিকট আসবে না.”
টিকাঃ
[১২৭] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/১৯, ৩৩。
[১২৮] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৯/২২০。
[১২৯] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১০/১২৬。