📄 মন্দ অভিজ্ঞতার আশঙ্কায় মানবসঙ্গ ও জনসমাগম পরিহার
১৫৫. হাফস ইবনু উমার আল জুফি থেকে বর্ণিত আছে, দাউদ ইবনু নুসাইর আত- তায়িকে জিজ্ঞেস করা হলো, "দাড়ি আঁচড়ান না কেন?” তিনি বলেন, “দুনিয়া তো শোকের ঘর।” জিজ্ঞেস করা হলো, "মানুষের সঙ্গে মেশেন না কেন?” তিনি বলেন, "আল্লাহ মাফ করুন! ছোটদের সাথে মিশলে হয়ত দেখবে তারা তোমাকে সম্মান করছে না। কিংবা বড়দের সাথে মিশলে হয়ত তারা খালি তোমার দোষ-ত্রুটি ধরবে!” বর্ণনাকারী বলেন, “এক মনীষী তার সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। কিন্তু পারেননি। সালাতের সময় হলে তিনি গায়ে চাদর জড়িয়ে এমনভাবে বের হতেন, যেন ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছেন! আর যখন ইমাম সাহেব সালাম ফিরাতেন, তখন এত দ্রুতগতিতে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়ে যেতেন, যেন পালিয়ে যাচ্ছেন.”
১৫৬. আবু হাফস ইবনু হুমাইদ চিঠি লিখেছিলেন আহমাদ ইবনু হাফস আল বুখারির কাছে। এতে তিনি বলেন, "জেনে রাখুন, আমি এত অধিক মানুষকে পরীক্ষা করে দেখেছি, যত মানুষকে আপনিও পরীক্ষা করেননি। এ পরীক্ষায় আমি এমন কাউকে পাইনি, যে গোপনীয় বিষয় গোপন রাখতে পারে। তার এবং আমার মধ্যে সংঘটিত কোনো অপরাধ ক্ষমা করে দিতে পারে। রাগান্বিত হয়ে গেলে নিজেকে সংবরণ করতে পারে। আমি তাকে কষ্ট দিলেও সে আমার সাথে সম্পর্ক রাখতে পারে। তাই এসব লোকের পেছনে সময় ব্যয় করাটা আসলে বড় ধরনের বোকামিই বটে." তিনি শেষের এ কথাটি তিনবার বলেছিলেন।
১৫৭. মালিক ইবনু মিগওয়াল থেকে বর্ণিত, শাবি বলেছেন: “রবি ইবনু খুসাইম জীবনে কোনো মজলিসে বসেননি আর অমুক অমুক পথেও কখনো বসেননি। এর কারণ হিসেবে বলতেন, 'আমার আশংকা হয়, আমার সামনেই কারও প্রতি যুলুম করা হবে, কিন্তু আমি তাকে সাহায্য করতে পারব না। কিংবা কেউ কারও ওপর মিথ্যা অপবাদ দিবে, আর সেখানে উপস্থিত থাকায় সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হবে আমাকে। কিংবা কেউ আমাকে সালাম দিবে, কিন্তু আমি সালামের উত্তর দিতে পারব না। কিংবা গর্ভধারণকারী কোনো নারীর গর্ভপাত হয়ে যাবে, কিন্তু আমি তার ভূমিষ্ঠ বাচ্চাকে বহন করে নিয়ে যেতে পারব না."
টিকাঃ
[১২১] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৭/৩৩৯。
[১২২] ইবনু হিব্বান, রওদ্বাতুল উকালা, ৮৩。
[১২৩] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ২/১১৬。
📄 মানুষের কটুকথা থেকে বাঁচা অসম্ভব
১৫৮. মুজাহিদ থেকে বর্ণিত আছে যে, ইয়াহইয়া ইবনু যাকারিয়া তাঁর রবের কাছে দুআ করেছিলেন: “হে আমার রব! আমাকে মানুষের মুখ থেকে নিরাপদ রাখুন। তারা যেন আমার ব্যাপারে কেবল ভালো কথাই বলে।” বর্ণনাকারী বলেন, “আল্লাহ তাআলা তখন তার প্রতি ওহি পাঠিয়ে বলেন, 'ইয়াহইয়া! আমি তো নিজেকেই এই বৈশিষ্ট্যে ভূষিত করিনি। তাহলে তোমাকে কীভাবে করতে পারি!"
১৫৯. আবদুল্লাহ ইবনু ওয়াহাব মিসরি বলেন, "মক্কায় আমি সুফিয়ান সাওরিকে বলতে শুনেছি: 'মানুষের সন্তুষ্টি অর্জন করা এমন এক প্রান্তিক বিষয়, কখনো যার শেষ সীমানায় পৌঁছানো যায় না। এবং দুনিয়া অর্জন এমন এক বিষয়, কখনো যার শেষ সীমানা ছোঁয়া যায় না.”
টিকাঃ
[১২৪] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৬/৩৮৬, ৮/৩৩৮。
📄 সকলের সন্তুষ্টি অর্জন অসম্ভব
১৬০. মুআফা ইবনু ইমরান বলেন, "আমি সুফিয়ান সাওরিকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি অন্যের থেকে আশা করে, তাকে কখনো সন্তুষ্ট করা যায় না.”
১৬১. জারির ইবনু হাযিম থেকে বর্ণিত আছে, হাসান বাসরি-কে বলা হলো, “কিছু মানুষ আপনার ভুলত্রুটি ধরতে আপনার মজলিসে এসে থাকে। কোনো ভুল হয়ে গেলে আপনার সমালোচনায় মেতে উঠে তারা।” তিনি বলেন, “এ নিয়ে চিন্তার কিছুই নেই। কারণটা হচ্ছে, আমি আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশা করেছি এবং তা লাভের রাস্তাও পেয়ে গেছি। আমি জান্নাতের ব্যাপারে আশাবাদী এবং সেখানে পৌঁছার রাস্তাও পেয়ে গেছি। আয়তলোচনা হুরদের সঙ্গলাভের আশা করেছি এবং তারও রাস্তা পেয়ে গেছি। কিন্তু মানুষের সমালোচনা থেকে নিরাপদ থাকার আশা করে এর কোনো রাস্তা খুঁজে পাইনি। পরে খেয়াল করলাম, মানুষ যখন নিজ সৃষ্টিকর্তার ব্যাপারেই সন্তুষ্ট নয়, তখন নিজেদের মতোই আরেক সৃষ্টির ব্যাপারে তো সন্তুষ্ট হতে পারবেই না.”
১৬২. ইউনুস ইবনু আবদুল আলা থেকে বর্ণিত আছে, ইমাম শাফিয়ি বলেছেন, "দুই ব্যক্তি একে অপরকে তিরস্কার করছিল। তাদের কথাগুলো শুনছিলাম আমি। এক পর্যায়ে তাদের একজনকে বললাম, 'তুমি কখনো সকলকে সন্তুষ্ট করতে পারবে না। বরং নিজের এবং আল্লাহর মধ্যকার বিষয়গুলো ঠিকঠাক করে নাও। তা ঠিকঠাক হয়ে গেলে মানুষের ব্যাপারে আর পরোয়া কোরো না."
টিকাঃ
[১২৫] আল মুসান্নাফ ফি মানাকিবিশ শাফিয়ি, ২/১৭৩。
📄 আদম-সন্তানের স্বভাব
১৬৩. রবি ইবনু সুলাইমান বলেন, "আমি ইমাম শাফিয়ি -কে বলতে শুনেছি: 'আদম সন্তানকে নিচু স্বভাব দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। তাই যে সকল কাজ থেকে দূরে থাকা উচিত, আদম সন্তান সেগুলোর কাছে যাবেই। আর যে সকল বিষয়ের নিকটে যাওয়া উচিত, বনী আদম সেগুলো থেকে দূরে থাকবেই.'”
টিকাঃ
[১২৬] আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৯/১২৪。