📄 নিঃসঙ্গতা যখন আনন্দ ও শিক্ষণীয়
১৫২. আহমাদ ইবনু আবীল হাওয়ারি বলেন, “আবদুল আযীয ইবনু উমারকে 'আবিদদের সর্দার' বলে অভিহিত করতেন রাবিয়া। সেই আবদুল আযীয আর-রাসিবিকে জিজ্ঞেস করা হয়, 'আনন্দ লাভের আর কী কী উপায় বাকি আছে?' তিনি উত্তরে বলেন, 'পাতালের কোনো কুঠুরি, যাতে আমি আমৃত্যু একাকী থাকব.”
১৫৩. মালিক ইবনু আনাস থেকে বর্ণিত, যাইদ ইবনু আসলাম বলেছেন : “এক ব্যক্তি একবার জনপদ ছেড়ে কবরে গিয়ে বসবাস শুরু করে। তাকে এ ব্যাপারে তিরস্কার করা হলে সে বলে, 'কবরের বাসিন্দারাই আমার সত্যিকারের প্রতিবেশী। তাদের মধ্যে আমার জন্য শিক্ষা রয়েছে."
টিকাঃ
[১১৯] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৩/২২৩。
📄 গোপন ইবাদতের সাথী ফেরেশতাগণ
১৫৪. জাফর বলেন, "আমি সাবিতকে বলতে শুনেছি: 'খুলাইদ আল আসরি সম্প্রদায়ের বৈঠক ঘরে ফজরের সালাত পড়ে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর যিকর-আযকারে মগ্ন থাকতেন। এরপর ঘরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিয়ে বলতেন, আমার রবের ফেরেশতাদের স্বাগতম! আমি আজ তোমাদের সাক্ষ্য রেখে কিছু উত্তম আমল করব। তারপর তিনি 'বিসমিল্লাহ' যিকর করতে থাকেন—'সুবহানাল্লাহ', 'আলহামদুলিল্লাহ', 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার'। এভাবে যিকর করতে করতে ঘুমিয়ে পড়তেন তিনি। সালাতের সময় হলে মাসজিদে চলে যেতেন.”
টিকাঃ
[১২০] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আয-যুহদ, পৃ. ২৩৭。
📄 মন্দ অভিজ্ঞতার আশঙ্কায় মানবসঙ্গ ও জনসমাগম পরিহার
১৫৫. হাফস ইবনু উমার আল জুফি থেকে বর্ণিত আছে, দাউদ ইবনু নুসাইর আত- তায়িকে জিজ্ঞেস করা হলো, "দাড়ি আঁচড়ান না কেন?” তিনি বলেন, “দুনিয়া তো শোকের ঘর।” জিজ্ঞেস করা হলো, "মানুষের সঙ্গে মেশেন না কেন?” তিনি বলেন, "আল্লাহ মাফ করুন! ছোটদের সাথে মিশলে হয়ত দেখবে তারা তোমাকে সম্মান করছে না। কিংবা বড়দের সাথে মিশলে হয়ত তারা খালি তোমার দোষ-ত্রুটি ধরবে!” বর্ণনাকারী বলেন, “এক মনীষী তার সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। কিন্তু পারেননি। সালাতের সময় হলে তিনি গায়ে চাদর জড়িয়ে এমনভাবে বের হতেন, যেন ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছেন! আর যখন ইমাম সাহেব সালাম ফিরাতেন, তখন এত দ্রুতগতিতে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়ে যেতেন, যেন পালিয়ে যাচ্ছেন.”
১৫৬. আবু হাফস ইবনু হুমাইদ চিঠি লিখেছিলেন আহমাদ ইবনু হাফস আল বুখারির কাছে। এতে তিনি বলেন, "জেনে রাখুন, আমি এত অধিক মানুষকে পরীক্ষা করে দেখেছি, যত মানুষকে আপনিও পরীক্ষা করেননি। এ পরীক্ষায় আমি এমন কাউকে পাইনি, যে গোপনীয় বিষয় গোপন রাখতে পারে। তার এবং আমার মধ্যে সংঘটিত কোনো অপরাধ ক্ষমা করে দিতে পারে। রাগান্বিত হয়ে গেলে নিজেকে সংবরণ করতে পারে। আমি তাকে কষ্ট দিলেও সে আমার সাথে সম্পর্ক রাখতে পারে। তাই এসব লোকের পেছনে সময় ব্যয় করাটা আসলে বড় ধরনের বোকামিই বটে." তিনি শেষের এ কথাটি তিনবার বলেছিলেন।
১৫৭. মালিক ইবনু মিগওয়াল থেকে বর্ণিত, শাবি বলেছেন: “রবি ইবনু খুসাইম জীবনে কোনো মজলিসে বসেননি আর অমুক অমুক পথেও কখনো বসেননি। এর কারণ হিসেবে বলতেন, 'আমার আশংকা হয়, আমার সামনেই কারও প্রতি যুলুম করা হবে, কিন্তু আমি তাকে সাহায্য করতে পারব না। কিংবা কেউ কারও ওপর মিথ্যা অপবাদ দিবে, আর সেখানে উপস্থিত থাকায় সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হবে আমাকে। কিংবা কেউ আমাকে সালাম দিবে, কিন্তু আমি সালামের উত্তর দিতে পারব না। কিংবা গর্ভধারণকারী কোনো নারীর গর্ভপাত হয়ে যাবে, কিন্তু আমি তার ভূমিষ্ঠ বাচ্চাকে বহন করে নিয়ে যেতে পারব না."
টিকাঃ
[১২১] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৭/৩৩৯。
[১২২] ইবনু হিব্বান, রওদ্বাতুল উকালা, ৮৩。
[১২৩] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ২/১১৬。
📄 মানুষের কটুকথা থেকে বাঁচা অসম্ভব
১৫৮. মুজাহিদ থেকে বর্ণিত আছে যে, ইয়াহইয়া ইবনু যাকারিয়া তাঁর রবের কাছে দুআ করেছিলেন: “হে আমার রব! আমাকে মানুষের মুখ থেকে নিরাপদ রাখুন। তারা যেন আমার ব্যাপারে কেবল ভালো কথাই বলে।” বর্ণনাকারী বলেন, “আল্লাহ তাআলা তখন তার প্রতি ওহি পাঠিয়ে বলেন, 'ইয়াহইয়া! আমি তো নিজেকেই এই বৈশিষ্ট্যে ভূষিত করিনি। তাহলে তোমাকে কীভাবে করতে পারি!"
১৫৯. আবদুল্লাহ ইবনু ওয়াহাব মিসরি বলেন, "মক্কায় আমি সুফিয়ান সাওরিকে বলতে শুনেছি: 'মানুষের সন্তুষ্টি অর্জন করা এমন এক প্রান্তিক বিষয়, কখনো যার শেষ সীমানায় পৌঁছানো যায় না। এবং দুনিয়া অর্জন এমন এক বিষয়, কখনো যার শেষ সীমানা ছোঁয়া যায় না.”
টিকাঃ
[১২৪] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৬/৩৮৬, ৮/৩৩৮。