📄 মানবসঙ্গ যখন পরিহার্য
১৪৮. ইউসুফ ইবনু হুসাইন বলেন, “কাসিম আল জুয়ির নিকট যখন তাহির আল মাকদিসি ছিলেন, তখন আমি তাকে বলতে শুনেছি, 'সকল শান্তি রয়েছে নির্জনতায় আর সকল আনন্দ রয়েছে আল্লাহর একান্ত ইবাদাত- বন্দেগিতে."
১৪৯. জাফর ইবনু সুলাইমান বলেন, “একদিন দেখি, মালিক ইবনু দিনার একটা কুকুরের পাশে বসে আছেন। জিজ্ঞেস করলাম, 'আবূ ইয়াহইয়া, কী হলো আপনার?' তিনি বলেন, 'খারাপ বন্ধুর চেয়ে এ কুকুরটাই ভালো.”
১৫০. হাসান ইবনু আমর বলেন, "আমি বিশর ইবনু হারিসকে বলতে শুনেছি, 'আমার নিজের মধ্যে যে রোগ রয়েছে, তার চিকিৎসা করে যেতে থাকব। চিকিৎসা শেষ হলে পরে অন্যের প্রতি নজর দেব। আমি খুব ভালোভাবেই জানি, কোথায় রোগ আছে আর কোথায় আছে তার চিকিৎসা। তোমরাই তো হলে রোগ। আমার সামনে এমন কিছু লোক দেখতে পাচ্ছি, যারা আল্লাহকে ভয় করে না এবং পরকালের প্রতি গুরুত্ব দেয় না.”
টিকাঃ
[১১৪] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ২/৩৭২。
[১১৫] ইবনুল মুলাক্কিন, তাবাকাতুল আউলিয়া, ৩৯৪。
[১১৬] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ২/৩৮৪。
[১১৭] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/৩৫৪。
📄 অখ্যাতিই প্রকৃত যুহদ
১৫১. বিশর ইবনু হারিস থেকে বর্ণিত, সুফিয়ান বলেছেন, "আসলে মোটা পোশাক আর মোটা খাবারের মধ্যে যুহদ নেই; বরং যুহদ তো রয়েছে উচ্চ আশা না রাখার মধ্যে। আবু আবদুল্লাহ কতই না চমৎকার বলেছেন! আমিও তেমনটাই বলি। তা হচ্ছে, অখ্যাত থাকার মধ্যে যুহদ রয়েছে.”
টিকাঃ
[১১৮] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৫/২০০。
📄 নিঃসঙ্গতা যখন আনন্দ ও শিক্ষণীয়
১৫২. আহমাদ ইবনু আবীল হাওয়ারি বলেন, “আবদুল আযীয ইবনু উমারকে 'আবিদদের সর্দার' বলে অভিহিত করতেন রাবিয়া। সেই আবদুল আযীয আর-রাসিবিকে জিজ্ঞেস করা হয়, 'আনন্দ লাভের আর কী কী উপায় বাকি আছে?' তিনি উত্তরে বলেন, 'পাতালের কোনো কুঠুরি, যাতে আমি আমৃত্যু একাকী থাকব.”
১৫৩. মালিক ইবনু আনাস থেকে বর্ণিত, যাইদ ইবনু আসলাম বলেছেন : “এক ব্যক্তি একবার জনপদ ছেড়ে কবরে গিয়ে বসবাস শুরু করে। তাকে এ ব্যাপারে তিরস্কার করা হলে সে বলে, 'কবরের বাসিন্দারাই আমার সত্যিকারের প্রতিবেশী। তাদের মধ্যে আমার জন্য শিক্ষা রয়েছে."
টিকাঃ
[১১৯] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৩/২২৩。
📄 গোপন ইবাদতের সাথী ফেরেশতাগণ
১৫৪. জাফর বলেন, "আমি সাবিতকে বলতে শুনেছি: 'খুলাইদ আল আসরি সম্প্রদায়ের বৈঠক ঘরে ফজরের সালাত পড়ে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর যিকর-আযকারে মগ্ন থাকতেন। এরপর ঘরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিয়ে বলতেন, আমার রবের ফেরেশতাদের স্বাগতম! আমি আজ তোমাদের সাক্ষ্য রেখে কিছু উত্তম আমল করব। তারপর তিনি 'বিসমিল্লাহ' যিকর করতে থাকেন—'সুবহানাল্লাহ', 'আলহামদুলিল্লাহ', 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার'। এভাবে যিকর করতে করতে ঘুমিয়ে পড়তেন তিনি। সালাতের সময় হলে মাসজিদে চলে যেতেন.”
টিকাঃ
[১২০] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আয-যুহদ, পৃ. ২৩৭。