📄 প্রসিদ্ধ হয়ে গেলে করণীয়
১৩৩. হাজ্জাজ ইবনু মুহাম্মাদ বলেন, "আমি শুবাকে বলতে শুনেছি : 'একবার আমি কোনো এক প্রয়োজনে আইয়ুব ইবনু কাইসানের সাথে বের হয়েছিলাম। আমি তার পাশাপাশি হাঁটতে চাইলে তিনি আমাকে সে সুযোগ দিচ্ছিলেন না। যেন কেউ তার বিষয়টি টের না পেয়ে যায়, সে জন্য এদিক সেদিক চলে যাচ্ছিলেন তিনি.'
শুবা বলেন, "আইয়ুব আমাকে একদিন বলেন, 'মানুষের মুখে মুখে আমার নাম ছড়িয়ে পড়েছে, অথচ আমি চাই না তাদের নিকট প্রসিদ্ধ হয়ে যেতে.”
১৩৪. আহমাদ ইবনু আবদিল্লাহ ইবনু ইউনুস বলেন, "আমি সুফিয়ান সাওরি -কে বলতে শুনেছি : 'গর্তে ঢুকে থাকার (অখ্যাত থাকার) চেয়ে বড় কোনো কল্যাণ আমাদের দৃষ্টিতে পড়েনি.”
১৩৫. ইউসুফ ইবনু আসবাত থেকে বর্ণিত আছে, সুফিয়ান সাওরি বলেছেন : “তিলাওয়াত এবং ইবাদাত-বন্দেগির কারণে কারও সুনাম-সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়া সত্ত্বেও যদি সে ঐ এলাকা থেকে বের হয়ে না যায়, তাহলে তার থেকে কোনো কল্যাণের আশা রেখো না."
টিকাঃ
[১০৭] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৩/৬。
[১০৮] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৭/২৬。
📄 আল্লাহর কাছে পরিচিতিই যথেষ্ট
১৩৬. আবুল কাসিম থেকে বর্ণিত, তিনি আউফ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি সাইব ইবনু আকরা থেকে একটা ঘটনা বর্ণনা করেছেন। এক জিহাদে মুসলিম মুজাহিদ নুমান ইবনু মুকরিন এবং তার সঙ্গীসাথিদের মৃত্যু হয়। উমার বিন আল-খাত্তাব (রাঃ) (ময়দান থেকে আগত দূতকে) নিহতদের পরিচয় জিজ্ঞেস করে বলেন, "আর কে কে মারা গেছে?” বর্ণনাকারী বলেন, "আমি তখন বললাম, 'আমিরুল মুমিনিন! এরপর যারা মারা গেছে, আপনি তাদের কাউকে চিনবেন না।' উমার (রাঃ) তখন বলেন, 'চুলোয় যাক! উমারের চেনা বা না-চেনায় কী আসে যায়! সে মহান সত্তা তাদেরকে তাদের শাহাদাতের মর্যাদা দান করেছেন, তিনি তাদেরকে আমার চেয়েও ভালোভাবে চেনেন.”
১৩৭. জুনাইদ ইবনু মুহাম্মাদ বলেন, “আমি সিররি সাকতিকে বলতে শুনেছি : 'অখ্যাত থাকতে চেষ্টা করো। তোমার অবস্থান সঠিক হলে ওটাই তোমাকে আল্লাহর বন্ধুদের মাঝে প্রসিদ্ধ করে দেবে.”
টিকাঃ
[১০৯] ইবনু আবী শাইবা, আল কিতাবুল মুসান্নাফ, ১৩/৬১
[১১০] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৯/২২০。
📄 দুনিয়ায় খ্যাতি ক্ষতির কারণও হতে পারে
১৩৮. মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ আল জাওহারি বলেন, "আমি বিশর ইবনু হারিসকে বলতে শুনেছি: 'হে আল্লাহ! যদি দুনিয়ার প্রসিদ্ধি আমার পরকালের লাঞ্ছনার কারণ হয়, তাহলে এই প্রসিদ্ধি আমার থেকে ছিনিয়ে নিন.”
১৩৯. আবূ ইয়াজিদ ফাইয ইবনু ইয়াযিদ আর রাক্কি থেকে বর্ণিত আছে, ফুযাইল ইবনু ইয়ায বলেছেন: "অখ্যাত থাকতে পারলে তা-ই করো। কেউ তোমাকে না চিনলে বা প্রশংসা না করলে তোমার কিছু ক্ষতি হবে না। যদি আল্লাহর পছন্দনীয় ব্যক্তি হয়ে যেতে পার, তাহলে মানুষের নিন্দার পাত্র হলেও কোনো ক্ষতি নেই.”
টিকাঃ
[১১১] ইবনু আসাকির, তাহযিবু তারিখি দিমাশক, ৩/২৩৯。
📄 অপ্রয়োজনীয় দেখা-সাক্ষাৎ নিরুৎসাহিতকরণ
১৪০. আবু সাদ ইয়াহইয়া ইবনু মানসূর আয যাহিদ বলেন, “আমি আবূ ইয়াহইয়া আল কুর্দিকে বলতে শুনেছি: 'এক লোক দাউদ আত তায়ির দরজায় করাঘাত করে। তিনি বলেন, 'বাইরে কে?' লোকটি বলে, 'অমুক।' দাউদ বলেন, 'আমার কীসের প্রয়োজন যে, আপনার এখানে আসার প্রয়োজন পড়ল? আর আপনার-ই বা কীসের প্রয়োজন যে, আমার কাছে আসতে হলো? আপনার যদি আমার কাছে কোনো প্রয়োজন না থাকে আর আমারও যদি আপনার কাছে কোনো প্রয়োজন না থাকে, তাহলে দেখা-সাক্ষাতের কী প্রয়োজন?'
১৪১. মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল্লাহ আল আম্বারি বলেন, "আমি ফুযাইল ইবনু ইয়াযকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি মাতা-পিতার আনুগত্য করে, অর্থ সম্পদ সঠিকভাবে উপার্জন ও ব্যয় করে এবং যার আচার-ব্যবহার সুন্দর, ভাই ও পরিচিতজনদের যে সম্মান করে, এর পাশাপাশি সে ঘরে অবস্থান করে, সে-ই হলো পরিপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী.”
১৪২. ইবরাহীম ইবনু আশআছ বলেন, “ফুযাইল ইবনু ইয়াযকে বলতে শুনেছি: 'যখন ঘরে আমার রবের সাথে একান্তে সময় কাটাই, কেবল তখনই শান্তির আনন্দ এবং চোখের শীতলতা অনুভব করি। আর যখন কানে কোনো আওয়াজ আসে, তখন মানুষের সাথে সাক্ষাৎ হওয়ার আশঙ্কায় বলে উঠি-ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। কারণ এর কারণে রবের সাথে আমার একান্তে সময় কাটানোয় বিঘ্ন ঘটবে.”
১৪৩. ফুযাইল ইবনু ইয়ায বলেন, "আবূ ইয়াহইয়া আল কুর্দিকে বলতে শুনেছি : 'সিংহ দেখে ভয় পেয়ো না, কিন্তু বনী আদমকে দেখলে কাপড় উঠিয়ে জীবন বাজি রেখে পলায়ন করো.”