📄 অপরের সম্পদের প্রতি নিরাসক্তি
১০০. আবদুল মালিক ইবনু উমাইর থেকে বর্ণিত আছে যে, সাদ আল খাইর আপন ছেলেকে বলতেন: “সব সময় নিরাসক্তি বজায় রাখবে, কারণ এটাই ধনাঢ্যতা। কখনো মানুষের কাছে থাকা অর্থ-সম্পদের ব্যাপারে লোভ রেখো না, কেননা এটাই সাক্ষাৎ দারিদ্র। উত্তমরূপে ওযু করবে। এমনভাবে সালাত আদায় করবে, যেন এটাই তোমার জীবনের শেষ সালাত। যদি আজকের দিনটাকে গতকালের চেয়ে উত্তম বানাতে চাও, আর আগামীকালটাকে আজকের চেয়ে উত্তম করে তুলতে চাও, তাহলে এমনটাই করো.”
১০১. ইসমাইল ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সাদ তার বাবার কাছ থেকে, তিনি সাদ থেকে বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি নবি -এর কাছে এসে বলে, "আমাকে সংক্ষেপে কিছু উপদেশ দিন." নবি তখন বলেন,
عليك بالإياس مما في أَيْدِي الناس وإياك والطمع فإنه الفقر الحاضر وصَلَّ صلاتك وأنتَ مُوَدِّعُ وإياك وما تَعْتَذِرُ منه
“মানুষের অর্থ-সম্পদের প্রতি কোনো ধরনের আশা রেখো না। লোভ- লালসা থেকে বিরত থাকবে। কেননা এটা স্বয়ং দারিদ্র। এমনভাবে সালাত আদায় করবে, যেন এটা তোমার জীবনের শেষ সালাত। এমন কাজ থেকে বিরত থাকবে, যে কারণে তোমাকে ক্ষমা চাইতে হয়.”
১০২. আবু আইয়ুব আনসারি থেকে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি এসে নবি -কে বলে, “আমাকে কিছু উপদেশ দিন.” তিনি বলেন,
إذا قمت في صلاتك فَصَلِّ صَلاةَ مُوَدّع ولا كَلَّمَنَّ بِكَلامٍ تَعْتَذِرُ منه غداً واجمع اليأس مما في ايدي الناس
“এমনভাবে সালাত আদায় করবে, যেন এটাই তোমার জীবনের শেষ সালাত। কখনো এমন কথা বলবে না, যে কারণে পরদিন তোমাকে ক্ষমা চাইতে হয়। আর মানুষের অর্থ-সম্পদের ব্যাপারে কোনো ধরনের আশা রেখো না.”
বলা হয়, ইবনু খুসাইম এটি বর্ণনা করেছেন আবূ আইয়ুবের আযাদকৃত গোলাম উসমান ইবনু যুবাইর থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে, তিনি আবূ আইয়ুব থেকে।
টিকাঃ
[৮৬] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/৩৫。
[৮৭] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১০/৩২৪。
[৮৮] বুখারি, আত তারিখুল কাবির, ৪/৪৫。
[৮৯] হাকিম নাইসাপুরি, আল মুস্তাদরাক, ৪/৩২৬。
[৯০] মিসবাহুয যুজাজা, ২/৩৩২。
[৯১] বুখারি, আত তারিখুল কাবির, ৬/২১৬。
📄 সৃষ্টির মুখাপেক্ষিতার পরিণাম
১০৩. আবদুল্লাহ ইবনু উমার বলেন, “যে ব্যক্তি কেবল আল্লাহ তাআলার কাছে তার প্রয়োজনের কথা বলে, তার প্রয়োজন পূরণ হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারও কাছে চায়, চোখে শুধু ঝাপসাই দেখতে পায় সে। দুনিয়ার সামান্য সম্পদ যাকে পরিতৃপ্ত করতে পারে না, অঢেল সম্পদও তার কোনো উপকার করতে পারে না। তাই যতটুকু হলে যথেষ্ট হয়ে যায়, ততটুকু নিয়েই ক্ষান্ত থেকো। নিষ্কলুষতাকে আঁকড়ে ধরো। আত্মসাৎ করা ছেড়ে দাও। কেননা, কিয়ামাতের দিন এর হিসাব হবে অত্যন্ত কঠিন.”
১০৪. জাবির থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন: القَنَاعَةُ كَنْزُ لَا يَفْنى
“অল্পে তুষ্টি এমন রত্নভাণ্ডার, যা কখনো শেষ হয় না.”
১০৫. সালামা ইবনু উবায়দিল্লাহ ইবনু মিহসান তার পিতা থেকে, তিনি নবি থেকে বর্ণনা করে বলেন: مَنْ أَصْبَحَ آمِنًا في سربه مُعافى في بدنه عندَه قُوْتُ يَوْمِهِ فَكَأَنَّمَا حِيزَتْ له الدنيا
“যে ব্যক্তির দিনের শুরুটা এভাবে হয় যে, তার পালিত পশু নিরাপদ, সে নিজেও সুস্থ আর তার কাছে রয়েছে সেদিনের খাবার, তাহলে গোটা দুনিয়াই যেন তাকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে.”
১০৬. যাকারিয়া ইবনু আবী খালিদ থেকে বর্ণিত আছে যে, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক একদিন আবৃত্তি করেন :
لا تَخضَعَنَّ لِمَخْلُوقٍ عَلَى طَمَع . فَإِنَّ ذَلِكَ مضر مِنكَ في الدين
وَاسْتَرزِقِ اللهَ مِمَّا فِي خَزائِنِهِ . فَإِنَّمَا الْأَمْرُ بَينَ الكَافِ وَالنون
إِنَّ الَّذِي أَنتَ تَرجُوهُ وَتَأْمَلُهُ . مِنَ البَرِيَّةِ مِسكينُ ابْنُ مِسكين
“কিছু পাওয়ার আশায় কখনও কোনো সৃষ্টির কাছে নীচু হোয়ো না
এটা তোমার দ্বীনের জন্য ক্ষতিকর।
বরং আল্লাহর ধনভাণ্ডার থেকে লাভের জন্য তাঁরই নিকট প্রার্থনা করো।
এটা তো তার 'কাফ' ও 'নুন'-দুটি শব্দের বিষয়।
যেসব মাখলুকের কাছে তুমি হাত পাতো, তারা তো নিজেরাই ফকিরের ঘরে ফকির.
১০৭. আবূ বকর ইবনু আহইয়াদ বলখি থেকে বর্ণিত আছে, আবূ বকর আল ওয়াররাক বলেছেন: “যদি লোভ-লালসাকে জিজ্ঞেস করা হয়, 'তোমার পিতা কে?' সে বলবে, 'তাকদীরের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ.' যদি জিজ্ঞেস করা হয়, 'তোমার পেশা কী?' সে বলবে, 'লাঞ্ছনা এবং অপমান উপার্জন.' 'তোমার উদ্দেশ্য কী?' এর উত্তরে বলবে, 'মানুষকে বঞ্চিতকরণ.'”
টিকাঃ
[৯২] তাবারানি, আল মুজামুল আওসাত, দেখুন: আল মাকাসিদুল হাসানা, ৪৯২。
[৯৩] তিরমিযি, আস সুনান, কিতাব: যুহদ, পরিচ্ছেদ: দুনিয়াবিরাগিতা。
[৯৪] ইবনু আসাকির, তারিখু বাগদাদ, ৩/৪৪৫。
[৯৫] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১০/২৩৬。
📄 নির্জনবাস গ্রহণ এবং অখ্যাত থাকা
১০৮. আবূ সাঈদ খুদরি থেকে বর্ণিত আছে, নবি একদিন জিজ্ঞেস করেন,
أَيُّ النَّاسِ أَفْضَلُ قَالُوا اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ فَأَعَادَهَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالُوا : يَا رَسُولَ اللهُ مَنْ جَاهَدَ بِمَالِهِ وَنَفْسِهِ قَالَ : ثُمَّ مَنْ قَالُوا : اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ : مُؤْمِنٌ يَعْتَزِلُ فِي شِعْبٍ يَتَّقِي رَبَّهُ وَيَدَعُ النَّاسَ مِنْ شَرِّهِ
“সর্বোত্তম মানুষ কে?” সাহাবায়ে কেরام বলেন, “আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ভালো জানেন।” নবি তিন তিনবার এই প্রশ্নটি করেন। সাহাবায়ে কেরام তখন বলেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ, যে নিজের জানমাল দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে, সে-ই সর্বোত্তম।” নবি বলেন, “তারপর কে?” সাহাবায়ে কেরام বলেন, “আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ভালো জানেন।” নবি তখন বলেন, “এরপর ওই মুমিন ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে আপন রবের ভয়ে এবং নিজের অনিষ্ট থেকে মানুষকে নিরাপদ রাখতে কোনো উপত্যকায় একাকী জীবনযাপন করতে থাকে.”
১০৯. ইসমাইল ইবনু উমাইয়া থেকে বর্ণিত আছে যে, উমার ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: "খারাপ চরিত্র থেকে কিংবা খারাপ লোকজন থেকে নিরাপদে থাকার যে শান্তি, তা রয়েছে একাকী জীবনযাপনের মাঝে.”
১১০. আদাসা বলেন, "একদিন আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ আমাদের পাশ দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। তখন তাকে একটি পাখি হাদিয়া দেওয়া হলে তিনি বলেন : 'এই পাখিটি যেখান থেকে শিকার করে আনা হয়েছে, আমিও যদি সেখানেই থাকতে পারতাম! কেউ আমার সাথে কথা বলতো না, আমিও কারও সাথে কথা বলতাম না."
১১১. Hafs ইবনু আসিম বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব বলেছেন, "আপনারা প্রত্যেকেই নির্জনতা অবলম্বন করুন."
টিকাঃ
[৯৬] বুখারি, আস সহীহ, কিতাব: জিহাদ, পরিচ্ছেদ: সর্বোত্তম ব্যক্তি হলো ওই মুমিন বান্দা, যে আপন জান মাল দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে。
[৯৭] ইবনু আবী শাইবা, আল কিতাবুল মুসান্নাফ, ১৩/২৭৫。
📄 ইলম, ইবাদাত ও নির্জনতা
১১২. ওয়ালিদ ইবনু মুগীরা বলেন, “সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব আমাকে বলেছেন, 'নির্জনতা অবলম্বন করুন, কারণ তা ইবাদাত.”
১১৩. মুহাম্মাদ ইবনু নসর আল হারিসি বলেন, "আমি রবি ইবনু খুসাইমকে বলতে শুনেছি: 'প্রথমে দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করো, এরপর নির্জনতা অবলম্বন করো.”
টিকাঃ
[৯৮] তাবারানি, আল-মু'জামুল কাবীর, ৯/১৬৫。
[৯৯] ইবনু সাদ, আত তাবাকাতুল কুবরা, ৪/১৬১。
[১০০] আলি মুত্তাকি আল হিন্দি, কানযুল উম্মাল, ৩/৭৭৫。