📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 প্রয়োজনের অধিক উপার্জনের অসম্ভাব্যতা

📄 প্রয়োজনের অধিক উপার্জনের অসম্ভাব্যতা


৮৯. হাসান থেকে বর্ণিত, আবূস সাহবা সিলাহ ইবনুল আশইয়াম বলেছেন, "যত জায়গায় রিযক থাকতে পারে, আমি তার সব জায়গায় তা খুঁজে দেখেছি। কিন্তু দিনের রিযক দিনে অর্জন ছাড়া আমাকে কেবল ক্লান্তিই দেখতে হয়েছে। আমি তখন বুঝতে পেরেছি, দিনেরটা দিনে অর্জন করাটাই আমার জন্য কল্যাণকর। অনেকেই এমন আছে, যাদের দিনের রিযক দিনে প্রদান করা হয়। কিন্তু সে আপন বিবেক বুদ্ধির স্বল্পতার কারণে বুঝতে পারে না যে, এটাই তার জন্য কল্যাণকর.”
৯০. হাসান থেকে বর্ণিত, আবূস সাহবা সিলাহ ইবনুল আশইয়াম বলেছেন : “দুনিয়ার যত জায়গায় হালাল রিযক ছিল, আমি তার সব জায়গা সন্ধান করেছি। কিন্তু সব জায়গা থেকেই কেবল জীবনধারণ পরিমাণ সামান্য খাবারই অর্জন করতে পারছিলাম। এই সামান্য সম্পদের মাধ্যমে জীবনধারণ করতে চাচ্ছিলাম না। কিন্তু ওইদিকে সামান্য সম্পদও পিছু ছাড়ছিল না আমার। এ অবস্থা দেখে আমি বলে উঠি, 'হে নফস! যতটুকু না হলেই নয় তোমাকে ততটুকু রিযক-ই প্রদান করা হয়েছে, তুমি এতেই তুষ্ট হয়ে যাও।' আমি তখন তাতেই তুষ্ট হয়ে গেছি, আমাকে আর কষ্ট সহ্য করতে হয়নি.”

টিকাঃ
[৮৩] ইবনু আবী শাইবা, আল কিতাবুল মুসান্নাফ, ১৩/৫৭৯。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 যুহদের মধ্যমপন্থা

📄 যুহদের মধ্যমপন্থা


৯১. রবি আল খাওলানি থেকে বর্ণিত, লুকমান তার ছেলেকে বলেন : "বাবা! আলিমদের সংস্পর্শে থেকো, তাদের সাথে তর্ক কোরো না। অন্যথায় তাদের ক্রোধে নিপতিত হয়ে যাবে। যতটুকু আহার যথেষ্ট, দুনিয়ার ঠিক ততটুকু সম্পদই গ্রহণ করবে। দুনিয়ায় এমনভাবে মত্ত হয়ে যেয়ো না, যা তোমার পরকালের জন্য ক্ষতিকর হয়ে যায়। আবার তা একেবারে প্রত্যাখ্যান করে দিয়ো না, অন্যথায় তুমি লোকজনের দয়ার পাত্র বনে যাবে। এমনভাবে সাওম থাকো, যাতে তোমার প্রবৃত্তির চাহিদা দমে যায়। আবার এমনভাবে সাওম শুরু করে দিয়ো না, যাতে দুর্বলতার কারণে তুমি সালাত-ই আদায় করতে পারো না। কেননা, (নফল) সাওমের চেয়ে (ফরয) সালাত আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়.”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 অল্পে তুষ্টি

📄 অল্পে তুষ্টি


৯২. আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল্লাহ বলেন, “আমি মুহাম্মাদ ইবনু আলি আল কাত্তানিকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি অল্পে তুষ্টির বিনিময়ে লোভ-লালসাকে বিক্রি করে দেয়, সে সম্মান এবং আত্মমর্যাদার মাধ্যমে সফলতা লাভ করে."
৯৩. মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান থেকে বর্ণিত আছে, আবুল হাসান আল বুশানজিকে অল্পে তুষ্টি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য যা বণ্টন করে দিয়েছেন, সে বণ্টন-নীতি জানা থাকাই হলো অল্পে তুষ্টি.”
৯৪. আবূ উসমান আল হান্নাত বলেন, "আমি যুননুন-কে বলতে শুনেছি, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্ধারিত পরিমাণের (ও তাকদীরের) ওপর আস্থা রাখে, সে দুঃখিত হয় না। যে আল্লাহর পরিচয় লাভে সক্ষম হয়, সে আল্লাহর প্রতি রাজী হয়ে যায়। আল্লাহ তার ব্যাপারে যে ফায়সালা করেন, তাতেই সন্তুষ্ট থাকে সে.'”
৯৫. ইবরাহীম ইবনু বাশশার বলেন, “আমি একদিন ইবরাহীম ইবনু আদহাম -কে বলি, 'আজ আমি মাটির কাজ করব.' তিনি বলেন, 'তুমি যেমন অন্বেষণ করো থাকো, তোমাকেও তেমন অন্বেষণ করা হয়। তোমাকে এমন এক সত্তা অন্বেষণ করেন, যার হাত থেকে তুমি কখনো রক্ষা পাবে না। আর তুমি এমন জিনিস অন্বেষণ করছ, যা তোমার জন্য যথেষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তুমি এখন যা ভোগ করছো, সেটা আগে থেকেই তোমার জন্য নির্ধারিত ছিল। এখন তুমি তা নিয়ে এসেছ কেবল। কত লোভীকে বঞ্চিত করা হয়; আর কত দরিদ্রকে রিযক প্রদান করা হয়!' এরপর তিনি বলেন, 'তোমার কি এখন আর কোনো উপায় নেই?' আমি উত্তরে বলি, 'এক সবজি বিক্রেতার কাছে একটি দানিক (এক দিরহামের এক ষষ্ঠমাংশ) পাই.' তিনি তখন বলেন, 'আশ্চর্য তো! এক দানিকের মালিক হওয়া সত্ত্বেও তুমি আবার কাজের সন্ধান করছো!'”
৯৬. ইবরাহীম ইবনু বাশশার বলেন, “আমি ইবরাহীম ইবনু আদহামকে বলতে শুনেছি: ‘অল্প লোভ-লালসা মানুষের মধ্যে সততা এবং তাকওয়া নিয়ে আসে। আর অধিক লোভ-লালসা অধিক দুশ্চিন্তা এবং দুঃখ-কষ্টের জন্ম দেয়.”
৯৭. সুলাইমান ইবনু আবী সালামা আল ফকীহ থেকে বর্ণিত আছে যে, একবার জুনাইদ ইবনু মুহাম্মাদ আস সুফিকে জিজ্ঞেস করা হলো, “কোন জিনিস অন্তরকে বিনষ্ট করে দেয়?” তিনি বলেন, “লোভ।” এরপর জিজ্ঞেস করা হলো, “কীভাবে তা সংশোধিত হয়ে যায়?” তিনি বলেন, “তাকওয়া.”
৯৮. জুবাইর ইবনু আবদিল ওয়াহিদ বলেন, “আমি বুনান আল হাম্মালকে বলতে শুনেছি, ‘যে কোনো লোভ-লালসা রাখে না, সে-ই স্বাধীন। মানুষ ততদিন পর্যন্ত স্বাধীন থাকতে পারে, যতদিন সে অল্পতেই তুষ্ট থাকে.'”
৯৯. সুলাইমান ইবনু আবী সুলাইমান বলেন, “আমি আলি ইবনু আবদিল আযীযকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তির মধ্যে অল্পে তুষ্টি নাই, কস্মিনকালে কোনো কিছুই তার প্রয়োজন মেটাতে পারবে না.”

টিকাঃ
[৮৪] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৮/২৫১。
[৮৫] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/১৩。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 অপরের সম্পদের প্রতি নিরাসক্তি

📄 অপরের সম্পদের প্রতি নিরাসক্তি


১০০. আবদুল মালিক ইবনু উমাইর থেকে বর্ণিত আছে যে, সাদ আল খাইর আপন ছেলেকে বলতেন: “সব সময় নিরাসক্তি বজায় রাখবে, কারণ এটাই ধনাঢ্যতা। কখনো মানুষের কাছে থাকা অর্থ-সম্পদের ব্যাপারে লোভ রেখো না, কেননা এটাই সাক্ষাৎ দারিদ্র। উত্তমরূপে ওযু করবে। এমনভাবে সালাত আদায় করবে, যেন এটাই তোমার জীবনের শেষ সালাত। যদি আজকের দিনটাকে গতকালের চেয়ে উত্তম বানাতে চাও, আর আগামীকালটাকে আজকের চেয়ে উত্তম করে তুলতে চাও, তাহলে এমনটাই করো.”
১০১. ইসমাইল ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সাদ তার বাবার কাছ থেকে, তিনি সাদ থেকে বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি নবি -এর কাছে এসে বলে, "আমাকে সংক্ষেপে কিছু উপদেশ দিন." নবি তখন বলেন,
عليك بالإياس مما في أَيْدِي الناس وإياك والطمع فإنه الفقر الحاضر وصَلَّ صلاتك وأنتَ مُوَدِّعُ وإياك وما تَعْتَذِرُ منه
“মানুষের অর্থ-সম্পদের প্রতি কোনো ধরনের আশা রেখো না। লোভ- লালসা থেকে বিরত থাকবে। কেননা এটা স্বয়ং দারিদ্র। এমনভাবে সালাত আদায় করবে, যেন এটা তোমার জীবনের শেষ সালাত। এমন কাজ থেকে বিরত থাকবে, যে কারণে তোমাকে ক্ষমা চাইতে হয়.”
১০২. আবু আইয়ুব আনসারি থেকে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি এসে নবি -কে বলে, “আমাকে কিছু উপদেশ দিন.” তিনি বলেন,
إذا قمت في صلاتك فَصَلِّ صَلاةَ مُوَدّع ولا كَلَّمَنَّ بِكَلامٍ تَعْتَذِرُ منه غداً واجمع اليأس مما في ايدي الناس
“এমনভাবে সালাত আদায় করবে, যেন এটাই তোমার জীবনের শেষ সালাত। কখনো এমন কথা বলবে না, যে কারণে পরদিন তোমাকে ক্ষমা চাইতে হয়। আর মানুষের অর্থ-সম্পদের ব্যাপারে কোনো ধরনের আশা রেখো না.”
বলা হয়, ইবনু খুসাইম এটি বর্ণনা করেছেন আবূ আইয়ুবের আযাদকৃত গোলাম উসমান ইবনু যুবাইর থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে, তিনি আবূ আইয়ুব থেকে।

টিকাঃ
[৮৬] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/৩৫。
[৮৭] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১০/৩২৪。
[৮৮] বুখারি, আত তারিখুল কাবির, ৪/৪৫。
[৮৯] হাকিম নাইসাপুরি, আল মুস্তাদরাক, ৪/৩২৬。
[৯০] মিসবাহুয যুজাজা, ২/৩৩২。
[৯১] বুখারি, আত তারিখুল কাবির, ৬/২১৬。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00