📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 আল্লাহর বদলে ইবাদতের ওপর নির্ভর করা

📄 আল্লাহর বদলে ইবাদতের ওপর নির্ভর করা


৬৬. আবূ উসমান আল হান্নাত বলেন, “আমি যুননুন-কে বলতে শুনেছি : 'মা'রিফাত লাভের দাবি করে বসো না। যুহদের ক্ষেত্রে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যেয়ো না। ইবাদাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ো না।' তাকে বলা হলো, 'আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন! বিষয়গুলো একটু ব্যাখ্যা করে দিন।' তিনি বলেন, 'যদি কোনো অদৃশ্য বিষয় জানার ইঙ্গিত করো, তা হলে তুমি এর দাবিকারী হয়ে যাবে। যদি তোমার মধ্যে বিশেষ কোনো অবস্থায় যুহদ দেখা দেয় আর অন্য অবস্থায় তা না দেখা যায়, তাহলে তুমি যুহদের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবে। একাগ্রতার সাথে ইবাদাত করে যদি ধারণা করো যে, আল্লাহ তাআলার মাধ্যমে নয় বরং এ ইবাদাতের মাধ্যমেই আল্লাহর শাস্তি থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে, তা হলে পরম অনুগ্রহকারী আল্লাহর পরিবর্তে তুমি ইবাদাতের ওপরই নির্ভরশীল হয়ে পড়বে.'”

টিকাঃ
[৭৫] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৯/৩৫০。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 আল্লাহ-প্রেমিকের পরিচয়

📄 আল্লাহ-প্রেমিকের পরিচয়


৬৭. আবূ উসমান আল হান্নাত বলেন, “আমি যুননুন-কে বলতে শুনেছি : '(আধ্যাত্মিকতার এ জগত থেকে) যারা ফিরে এসেছে, তারা রাস্তা থেকেই ফিরে এসেছে। যদি তারা আল্লাহ তাআলা পর্যন্ত পৌঁছত তাহলে আর ফিরে আসত না। তাই হে আমার ভাই, দুনিয়াবিরাগী হয়ে যাও, তাহলে আশ্চর্যকর সব বিষয় দেখতে পাবে।' যুননুন বলেন, 'একদলের মতে যাহিদ হলো, যে আল্লাহর ভালোবাসায় দুনিয়াকে পরিত্যাগ করে থাকে.”
৬৮. আবূ উসমান আল হান্নাত বলেন, "আমি যুননুন-কে বলতে শুনেছি: 'জেনে রাখ, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে ভালোবাসে, আল্লাহর জন্য আপন স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া তার নিকট কঠিন কিছু মনে হয় না। কেননা তার চোখে আল্লাহই সবচেয়ে বড়, তাঁর চেয়ে বড় কিছুই নেই। তাই যারা আল্লাহ-প্রেমিক হতে চায়, তাদের মধ্যে অবশ্যই দুনিয়া-বিমুখতার নিদর্শন পরিলক্ষিত হওয়া উচিত। কারণ, যে অন্তরে দুনিয়ার মোহ রয়েছে, তাতে আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা স্থান লাভ করে না। যারা আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়, তারা দুনিয়ার প্রতি ফিরেও তাকায় না। আল্লাহ ছাড়া কারও প্রতি কোনো প্রয়োজনও থাকে না তাদের.”
৬৯. আবূ উসমান আল হান্নাত বলেন, “আমি যুননুন-কে বলতে শুনেছি : 'যেসব বিষয় মানুষকে আল্লাহ থেকে বিমুখ করে দেয়, তার সবকিছু পরিত্যাগ করাটাই আল্লাহ-প্রেমিকের নিদর্শন। এমনকি তার সকল কিছু একমাত্র আল্লাহ তাআলাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হবে.”
৭০. আবু উসমান আল হান্নাত বলেন, “আমি যুননুন-কে বলতে শুনেছি : 'আল্লাহ-প্রেমিকের আলামত হলো, সে আল্লাহ তাআলা ছাড়া বাকি সব কিছুর কথা ভুলে যাবে। আল্লাহর প্রতি কখনো কোনোরূপ ভীতি অনুভব করবে না সে। কেননা, আল্লাহর ভালোবাসা অন্তরে স্থান করে নেওয়ায় আল্লাহর সাথেই তার গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়ে যাবে। তবে কেউ পার্থিব কোনো কারণে আল্লাহকে ভালোবাসলে আল্লাহ কখনো তার অন্তরে স্থান করে নেন না.”
৭১. আবূ উসমান আল হান্নাত বলেন, “আমি যুননুন-কে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে ভালোবাসে, সে নিজ আমলে এক ধরনের স্বাতন্ত্র্য লাভ করে."

টিকাঃ
[৭৬] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৮/২৫২。
[৭৭] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৮/২৫২。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 আল্লাহর সাথে বন্ধুত্ব

📄 আল্লাহর সাথে বন্ধুত্ব


৭২. আবু উসমান আল হান্নাত বলেন, “মুমিনের গুণাবলির ব্যাপারে যুননুন-কে বলতে শুনেছি : 'আল্লাহ তাআলার কিছু নির্বাচিত বন্ধু রয়েছে।' তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, 'আবুল ফয়েজ! তাদের আলামত কী?' তিনি বলেন,
‘তারা সুখ-শান্তি পরিত্যাগ করে থাকে, অত্যন্ত মুজাহাদার সাথে আল্লাহর ইবাদত করে, সমাজের চোখে অবমূল্যায়িত থাকতেই তারা ভালোবাসে।’
তাকে বলা হলো, 'বান্দার প্রতি আল্লাহ তাআলার মনোনিবেশের আলামত কী?' তিনি বলেন, 'যখন দেখবে সে বিপদাপদে ধৈর্য ধারণ করে, নিয়ামাতের কৃতজ্ঞতা আদায় করে, আল্লাহর যিকরে মত্ত থাকে, তখন বুঝে নিবে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি মনোনিবেশ করেছেন।' এরপর তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, 'তাহলে কারও প্রতি আল্লাহ তাআলা বিমুখ হয়ে যাওয়ার আলামত কী?' তিনি বলেন, 'যখন দেখবে সে আল্লাহর স্মরণ ছেড়ে দিয়েছে, খেলাধুলায় মত্ত রয়েছে, আল্লাহর যিকর করে না, তখন বুঝবে আল্লাহ তার থেকে বিমুখ হয়ে গেছেন.'
বলা হলো, 'আল্লাহর সাথে বন্ধুত্ব স্থাপিত হওয়ার আলামত কী?' তিনি বলেন, 'যখন দেখবে মানুষের সাথে তিনি তোমার সম্পর্কের অবনতি ঘটাচ্ছেন, তখন বুঝে নিবে তিনি তোমাকে নিজের প্রতি টেনে নিচ্ছেন। আর যদি দেখ সৃষ্টিজীবের প্রতি তিনি তোমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলছেন, তখন বুঝে নিবে, তিনি তোমাকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন.”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 যুহদের ব্যাপারে মণীষীদের বুঝ

📄 যুহদের ব্যাপারে মণীষীদের বুঝ


৭৩. আব্বাস ইবনু ইউসুফ আশ শিকলি বলেন, "আমি ইয়াকুব ইবনুল ফারজিকে বলতে শুনেছি : 'যুহদের (দুনিয়া-বিমুখতা) ব্যাপারে লোকজন বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেছে। একদলের মতে যুহদ হলো, উচ্চ আশা-আকাঙ্ক্ষা না রাখা। এটা সুফিয়ান সাওরি, আহমাদ ইবনু হাম্বল এবং ঈসা ইবনু ইউনুস প্রমুখ মনীষীদের মতামত। আরেক দলের মতে যুহদ হলো দরিদ্রতা পছন্দ করার পাশাপাশি আল্লাহর প্রতি গভীর আস্থা রাখা। এটা আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, শাকিক এবং ইউসুফ ইবনু আসবাত-এর মত। আরেক দলের মতে যুহদ হলো, দিনার দিরহাম পরিত্যাগ করা। এটা আবদুল ওয়াহিদ ইবনু যাইদের মত। আরেক দলের মতে দুনিয়ার যা না হলেও চলে, এমন অতিরিক্ত বিষয় পরিত্যাগ করা। আরেক দলের মতে, যে সকল জিনিস মানুষকে আল্লাহ তাআলা থেকে উদাসীন করে দেয়, তার সবগুলো পরিত্যাগ করা। এটা দারানি-এর মত। আরেক দলের মতে, যুহد হলো নফসের সাথে সকল ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলা। আরেক দলের মতে, ইলমের যাবতীয় দলিল এবং ইয়াকীনের সকল সাক্ষ্য অনুযায়ী আমল করা। আরেক দলের মতে, কোনো ধরনের কৃত্রিমতা ছাড়াই দুনিয়ার প্রতি অন্তরে অনীহা তৈরি হওয়া। এই মত ব্যক্ত করেছেন হারিসা। আরেক দলের মতে, নিয়ামাত লাভ করে কৃতজ্ঞতা আদায় করা এবং বিপদের সময় ধৈর্য ধারণ করা। এটা ইবনু উয়াইনার মত। আরেক দলের মতে, যে ব্যক্তি সকল হালাল কাজে কৃতজ্ঞতা আদায় করে এবং হারাম কাজ থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রাখে সে হলো যাহিদ। এটা যুহরি-এর মত.”
৭৪. মুয়াবিয়া ইবনু আবদিল করীম বলেন, “হাসান বাসরি -এর সামনে একবার যুহদের পরিচয় সম্পর্কে আলোচনা উঠে। কেউ বলে, যুহদের সম্পর্ক পোশাক-আশাকের সাথে। আরেকজন বলে খাবার-দাবারের সাথে। আরেকদল ভিন্ন আরেক মত পোষণ করে। হাসান বাসরি তখন বলেন, তোমাদের কারও কথাই সঠিক নয়। বরং যাহিদ হলো ঐ ব্যক্তি, কাউকে (কোনো মুসলিমকে) দেখলেই যে বলে—সে তো আমার চেয়ে উত্তম.”

টিকাঃ
[৭৮] ইবনু আবী শাইবা, আল কিতাবুল মুসান্নাফ, ১৪/৫১。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00