📄 দুনিয়াবঞ্চিত হওয়ার কারণ
৬১. জুনাইদ বাগদাদি বলেন, “আমি সিররি সাকতি -কে বলতে শুনেছি : 'আল্লাহ তাআলা আপন বন্ধুদের থেকে দুনিয়া ছিনিয়ে নিয়েছেন। নির্বাচিত বান্দাদের দুনিয়া থেকে নিরাপদ রেখেছেন। পছন্দনীয় ব্যক্তিদের অন্তর থেকে দুনিয়া বের করে দিয়েছেন। কারণ তিনি তাদের জন্য দুনিয়া চান না.”
টিকাঃ
[৭২] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৯/২২১。
📄 যুহদের প্রকাশভঙ্গি বিভিন্নরকম
৬۲. আহমাদ ইবনু আবীল হাওয়ারি বলেন, “আমি আবূ সুলাইমানকে বলতে শুনেছি : 'দুনিয়াতে যাহিদদের দুটি শ্রেণি রয়েছে। এক শ্রেণির যাহিদরা দুনিয়াবিরাগী। পার্থিব লোভ-লালসার কিছুই তাদের অন্তরে আকর্ষণ তৈরি করে না। এ শ্রেণির লোকদের নিকট মৃত্যুই সর্বাধিক প্রিয়। কেবল পরকালের জীবনেরই আশা রাখে তারা।
আরেক শ্রেণি দুনিয়াবিরাগী হয় বটে। তবে আল্লাহর যিকরের মাধ্যমে আনন্দ লাভের জন্য দুনিয়ার জীবন তাদের কাছে প্রিয় হয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
জেনে রাখো, আল্লাহর যিকর দ্বারাই অন্তর প্রশান্তি লাভ করে।
তারা আশা রাখে, আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করলে আল্লাহ তাআলাও তাদের স্মরণ করবেন। এ কারণে তারা আগ্রহী হয় পার্থিব জীবনের প্রতি। কারণ, মৃত্যু হয়ে গেলে তো আর আল্লাহকে স্মরণ করা যাবে না। আল্লাহ তাআলাই তো বলেছেন :
فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ
সুতরাং, তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ রাখব।
আয়াতের অর্থ হলো, তোমরা আনুগত্যের মাধ্যমে আমাকে স্মরণ করবে। আমি রহমত ও প্রতিদানের মাধ্যমে তোমাদের স্মরণ করব।”
টিকাঃ
[৭৩] সূরা রাদ, ১৩: ২৮。
[৭৪] সূরা বাকারাহ, ২: ১৫২。
📄 যুহদের প্রশস্ত ব্যাখ্যা
৬৩. আবূ উসমান আল হান্নাত বলেন, “আমি যুননুন-কে বলতে শুনেছি : ‘ভাইসকল! জেনে রাখুন, বিভিন্নজন যুহ্দের ব্যাপারে বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেছেন। কেউ বলেছেন, যুহদ হলো বাড়িঘরের মুহাব্বত পরিত্যাগ করা। আরেক দলের মতে, মনের শান্তি এবং আনন্দ পরিত্যাগ করা। যেসব কারণে মন আনন্দ লাভ করে, তার সবকিছু থেকে অন্তরের সম্পর্ক ছিন্ন করে দেওয়া। আরেক দলের মতে যেসব বিষয় মানুষকে আল্লাহ থেকে বিমুখ করে দেয়, সেগুলো পরিত্যাগ করা। আরেক দলের মতে, দুনিয়া পরিত্যাগ করা এবং আশা-আকাঙ্ক্ষা কম করা। আরেক দলের মতে, আল্লাহর প্রতি আস্থা তৈরি হওয়া। আরেক দলের মতে, এমন সামান্য খাবার ও পোশাক গ্রহণ করা, যার মাধ্যমে ক্ষুধা নিবারণ হয় এবং লজ্জাস্থান ঢেকে থাকে, এ ছাড়া বাকি সকল কিছু পরিত্যাগ করা। আরেক দলের মতে, আল্লাহর জন্য আপন স্বার্থ পরিত্যাগ করা এবং যেসব জিনিস মানুষকে আল্লাহ থেকে বিমুখ করে দেয়, তা ছেড়ে দেওয়া। আরেক দলের মতে, মন থেকে মাখলুকের চিন্তা বের করে দেওয়া এবং একাকিত্ব ও নির্জনতা পছন্দ হওয়া।”
৬৪. আবূ উসমান আল হান্নাত বলেন, "আমি যুননুন-কে বলতে শুনেছি: ‘জেনে রাখ, যাহিদের গুণ হলো, সে হারানো জিনিস সন্ধান করতে যায় না। এমনকি সে জিনিসের সন্ধান না পেতেই হাতের জিনিসও হারিয়ে যায়.'
তিনি বলেন, 'এক দলের মতে যাহিদ হলো, দুনিয়া ও দুনিয়ার মানুষ এবং তার কোনো কিছুই যার নজরে পড়ে না। বরং কেবল আল্লাহ তাআলাই তার নজরে পড়ে। কেউ যখন এমন অবস্থায় উন্নীত হয়, তখন সে আল্লাহর হাত (তাওফিক বলে) দিয়েই সবকিছু গ্রহণ করে থাকে।”
৬৫. যুননুন থেকে বর্ণিত, ইবনু উয়াইনা বলেছেন, "যাকে নিয়ামাত প্রদান করা হলে সে শুকরিয়া আদায় করে আর বিপদে পতিত হলে ধৈর্য ধারণ করে, সে-ই যাহিদ।”
📄 আল্লাহর বদলে ইবাদতের ওপর নির্ভর করা
৬৬. আবূ উসমান আল হান্নাত বলেন, “আমি যুননুন-কে বলতে শুনেছি : 'মা'রিফাত লাভের দাবি করে বসো না। যুহদের ক্ষেত্রে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যেয়ো না। ইবাদাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ো না।' তাকে বলা হলো, 'আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন! বিষয়গুলো একটু ব্যাখ্যা করে দিন।' তিনি বলেন, 'যদি কোনো অদৃশ্য বিষয় জানার ইঙ্গিত করো, তা হলে তুমি এর দাবিকারী হয়ে যাবে। যদি তোমার মধ্যে বিশেষ কোনো অবস্থায় যুহদ দেখা দেয় আর অন্য অবস্থায় তা না দেখা যায়, তাহলে তুমি যুহদের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবে। একাগ্রতার সাথে ইবাদাত করে যদি ধারণা করো যে, আল্লাহ তাআলার মাধ্যমে নয় বরং এ ইবাদাতের মাধ্যমেই আল্লাহর শাস্তি থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে, তা হলে পরম অনুগ্রহকারী আল্লাহর পরিবর্তে তুমি ইবাদাতের ওপরই নির্ভরশীল হয়ে পড়বে.'”
টিকাঃ
[৭৫] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৯/৩৫০。