📄 কষ্ট যুহদের অবিচ্ছেদ্য অংশ
৫৪. আহমাদ ইবনু আবীল হাওয়ারি বলেন, "আমি আবূ সুলাইমান আদ দারানিকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি দুনিয়ার সকল টেনশন বাদ দিয়ে শান্তিতে বসে থাকে, সে যাহিদ নয়। আরে সেটা তো এক প্রশান্তির জীবন। বরং যাহিদ হলো, যে দুনিয়ার চিন্তাভাবনা বাদ দিয়ে পরকালের জন্য কষ্ট করে যায়.”
আবূ সাঈদ বলেন, আবূ সুলাইমান আরও বলেছেন : “ব্যক্তি যেভাবে দুনিয়ার ক্ষেত্রে যাহিদ হয়েছে, তেমনি দুনিয়ার সুখশান্তির ক্ষেত্রেও তাকে যাহিদ হতে হবে। সুখশান্তি তো দুনিয়া এবং তার ভোগবিলাসেরই অংশ.”
৫৫. ইবনু আবিদ দুনিয়া থেকে বর্ণিত আছে যে, আহমাদ বলেছেন, "আবূ হিশাম আবদিল মালিক আল মাগাযিলিকে জিজ্ঞেস করলাম, 'যুহদ কাকে বলে?' তিনি বলেন, 'যুহদ হচ্ছে উচ্চ আশা-আকাঙ্ক্ষা বাদ দেওয়া, দরিদ্রদের দান- সাদাকাহ করা এবং সুখ-শান্তি পরিত্যাগ করা.”
৫৬. আবু উসমান আল হান্নাত বলেন, "যুননুন-কে বলতে শুনেছি: 'তুমি যদি ক্ষুধা, নিঃসঙ্গতা, নির্জনবাসের মতো অপছন্দনীয় বিষয়গুলো বরণ করে নাও, তাহলে আশ্চর্যকর সব বিষয় প্রত্যক্ষ করতে পারবে.”
📄 যুহদের বিভিন্ন ক্ষেত্র
৫৭. হাসান ইবনু আল্লুবাইহ বলেন, "আমি ইয়াহইয়া ইবনু মুয়াযকে বলতে শুনেছি, 'যুহদ হলো তিন জিনিসের নাম: অল্পে তুষ্টি, নির্জনতা এবং ক্ষুধার্ত থাকা.”
৫৮. হাসান ইবনু আল্লুবাইহ বলেন, "আমি ইয়াহইয়া ইবনু মুয়াযকে বলতে শুনেছি: 'তিন বিষয়ে যুহদ অবলম্বন করতে হবে। বিপদে ধৈর্যধারণ করা, দারিদ্রের সময় অন্যকে প্রাধান্য দেওয়া, কোনো অবস্থাতেই দুনিয়া কামনা না করা."
৫৯. আলি ইবনুল মাদিনি থেকে বর্ণিত, সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাকে জিজ্ঞেস করা হয়, “যুহদ কাকে বলে?” তিনি বলেন, “সন্তুষ্টিমূলক বিষয়ে কৃতজ্ঞতা আদায় করা, বিপদে ধৈর্যধারণ করা। যে এমন করে, সে যাহিদ (দুনিয়াবিমুখ)।” সুফিয়ানকে তখন জিজ্ঞেস করা হয়, “তা হলে কৃতজ্ঞতা কী জিনিস?” তিনি বলেন, “আল্লাহ তাআলা যা করতে নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকা."
৬০. আবূ বকর আল খিরাশি বলেন, “আবূ বকর আল ওয়াররাককে যুহদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি উত্তরে বলেছিলেন, 'যুহদ শব্দে তিনটি বর্ণ রয়েছে। ز (ঝা) দিয়ে বোঝানো হচ্ছে, زینت তথা সৌন্দর্য পরিত্যাগ করতে হবে। ه (হা) দিয়ে বোঝানো হচ্ছে, هوى তথা প্রবৃত্তির অনুসরণ করা যাবে না। আর د (দাল) দিয়ে বুঝানো হচ্ছে دنیا (দুনিয়া) পরিত্যাগ করতে হবে."
টিকাঃ
[৭১] ইবনুল মুলাক্কিন, তাবাকাতুল আউলিয়া, পৃ. ৩২২。
📄 দুনিয়াবঞ্চিত হওয়ার কারণ
৬১. জুনাইদ বাগদাদি বলেন, “আমি সিররি সাকতি -কে বলতে শুনেছি : 'আল্লাহ তাআলা আপন বন্ধুদের থেকে দুনিয়া ছিনিয়ে নিয়েছেন। নির্বাচিত বান্দাদের দুনিয়া থেকে নিরাপদ রেখেছেন। পছন্দনীয় ব্যক্তিদের অন্তর থেকে দুনিয়া বের করে দিয়েছেন। কারণ তিনি তাদের জন্য দুনিয়া চান না.”
টিকাঃ
[৭২] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৯/২২১。
📄 যুহদের প্রকাশভঙ্গি বিভিন্নরকম
৬۲. আহমাদ ইবনু আবীল হাওয়ারি বলেন, “আমি আবূ সুলাইমানকে বলতে শুনেছি : 'দুনিয়াতে যাহিদদের দুটি শ্রেণি রয়েছে। এক শ্রেণির যাহিদরা দুনিয়াবিরাগী। পার্থিব লোভ-লালসার কিছুই তাদের অন্তরে আকর্ষণ তৈরি করে না। এ শ্রেণির লোকদের নিকট মৃত্যুই সর্বাধিক প্রিয়। কেবল পরকালের জীবনেরই আশা রাখে তারা।
আরেক শ্রেণি দুনিয়াবিরাগী হয় বটে। তবে আল্লাহর যিকরের মাধ্যমে আনন্দ লাভের জন্য দুনিয়ার জীবন তাদের কাছে প্রিয় হয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
জেনে রাখো, আল্লাহর যিকর দ্বারাই অন্তর প্রশান্তি লাভ করে।
তারা আশা রাখে, আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করলে আল্লাহ তাআলাও তাদের স্মরণ করবেন। এ কারণে তারা আগ্রহী হয় পার্থিব জীবনের প্রতি। কারণ, মৃত্যু হয়ে গেলে তো আর আল্লাহকে স্মরণ করা যাবে না। আল্লাহ তাআলাই তো বলেছেন :
فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ
সুতরাং, তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ রাখব।
আয়াতের অর্থ হলো, তোমরা আনুগত্যের মাধ্যমে আমাকে স্মরণ করবে। আমি রহমত ও প্রতিদানের মাধ্যমে তোমাদের স্মরণ করব।”
টিকাঃ
[৭৩] সূরা রাদ, ১৩: ২৮。
[৭৪] সূরা বাকারাহ, ২: ১৫২。