📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 অষ্টাগ্রহী হয়ে সুবিন্যস্ত হওয়া

📄 অষ্টাগ্রহী হয়ে সুবিন্যস্ত হওয়া


৫২. আবূ সাঈদ আর-রাযি বলেন, “শিবলিকে যুহদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তাকে তখন বলতে শুনেছি, 'বস্তু থেকে মন ফিরিয়ে বস্তুর প্রতিপালকের প্রতি মনোনিবেশ করাই হলো যুহদ.'”
৫৩. বিশর ইবনু হারিস থেকে বর্ণিত আছে, ফুযাইল ইবনু ইয়ায বলেছেন: “কেউ আল্লাহ তাআলার যত গভীর পরিচয় লাভ করে, তার অন্তরে আল্লাহর প্রতি তত অধিক ভয় তৈরি হয়। আর কেউ পরকালের প্রতি যতটা আগ্রহী থাকে, দুনিয়ার প্রতি তার মধ্যে ততটাই বিমুখতা তৈরি হয়ে যায়.”

টিকাঃ
[৬৯] আবূ আবদুর রহমান আস-সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, ১১০。
[৭০] আবু নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১০/৩৭০。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 কষ্ট যুহদের অবিচ্ছেদ্য অংশ

📄 কষ্ট যুহদের অবিচ্ছেদ্য অংশ


৫৪. আহমাদ ইবনু আবীল হাওয়ারি বলেন, "আমি আবূ সুলাইমান আদ দারানিকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি দুনিয়ার সকল টেনশন বাদ দিয়ে শান্তিতে বসে থাকে, সে যাহিদ নয়। আরে সেটা তো এক প্রশান্তির জীবন। বরং যাহিদ হলো, যে দুনিয়ার চিন্তাভাবনা বাদ দিয়ে পরকালের জন্য কষ্ট করে যায়.”
আবূ সাঈদ বলেন, আবূ সুলাইমান আরও বলেছেন : “ব্যক্তি যেভাবে দুনিয়ার ক্ষেত্রে যাহিদ হয়েছে, তেমনি দুনিয়ার সুখশান্তির ক্ষেত্রেও তাকে যাহিদ হতে হবে। সুখশান্তি তো দুনিয়া এবং তার ভোগবিলাসেরই অংশ.”
৫৫. ইবনু আবিদ দুনিয়া থেকে বর্ণিত আছে যে, আহমাদ বলেছেন, "আবূ হিশাম আবদিল মালিক আল মাগাযিলিকে জিজ্ঞেস করলাম, 'যুহদ কাকে বলে?' তিনি বলেন, 'যুহদ হচ্ছে উচ্চ আশা-আকাঙ্ক্ষা বাদ দেওয়া, দরিদ্রদের দান- সাদাকাহ করা এবং সুখ-শান্তি পরিত্যাগ করা.”
৫৬. আবু উসমান আল হান্নাত বলেন, "যুননুন-কে বলতে শুনেছি: 'তুমি যদি ক্ষুধা, নিঃসঙ্গতা, নির্জনবাসের মতো অপছন্দনীয় বিষয়গুলো বরণ করে নাও, তাহলে আশ্চর্যকর সব বিষয় প্রত্যক্ষ করতে পারবে.”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 যুহদের বিভিন্ন ক্ষেত্র

📄 যুহদের বিভিন্ন ক্ষেত্র


৫৭. হাসান ইবনু আল্লুবাইহ বলেন, "আমি ইয়াহইয়া ইবনু মুয়াযকে বলতে শুনেছি, 'যুহদ হলো তিন জিনিসের নাম: অল্পে তুষ্টি, নির্জনতা এবং ক্ষুধার্ত থাকা.”
৫৮. হাসান ইবনু আল্লুবাইহ বলেন, "আমি ইয়াহইয়া ইবনু মুয়াযকে বলতে শুনেছি: 'তিন বিষয়ে যুহদ অবলম্বন করতে হবে। বিপদে ধৈর্যধারণ করা, দারিদ্রের সময় অন্যকে প্রাধান্য দেওয়া, কোনো অবস্থাতেই দুনিয়া কামনা না করা."
৫৯. আলি ইবনুল মাদিনি থেকে বর্ণিত, সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাকে জিজ্ঞেস করা হয়, “যুহদ কাকে বলে?” তিনি বলেন, “সন্তুষ্টিমূলক বিষয়ে কৃতজ্ঞতা আদায় করা, বিপদে ধৈর্যধারণ করা। যে এমন করে, সে যাহিদ (দুনিয়াবিমুখ)।” সুফিয়ানকে তখন জিজ্ঞেস করা হয়, “তা হলে কৃতজ্ঞতা কী জিনিস?” তিনি বলেন, “আল্লাহ তাআলা যা করতে নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকা."
৬০. আবূ বকর আল খিরাশি বলেন, “আবূ বকর আল ওয়াররাককে যুহদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি উত্তরে বলেছিলেন, 'যুহদ শব্দে তিনটি বর্ণ রয়েছে। ز (ঝা) দিয়ে বোঝানো হচ্ছে, زینت তথা সৌন্দর্য পরিত্যাগ করতে হবে। ه (হা) দিয়ে বোঝানো হচ্ছে, هوى তথা প্রবৃত্তির অনুসরণ করা যাবে না। আর د (দাল) দিয়ে বুঝানো হচ্ছে دنیا (দুনিয়া) পরিত্যাগ করতে হবে."

টিকাঃ
[৭১] ইবনুল মুলাক্কিন, তাবাকাতুল আউলিয়া, পৃ. ৩২২。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 দুনিয়াবঞ্চিত হওয়ার কারণ

📄 দুনিয়াবঞ্চিত হওয়ার কারণ


৬১. জুনাইদ বাগদাদি বলেন, “আমি সিররি সাকতি -কে বলতে শুনেছি : 'আল্লাহ তাআলা আপন বন্ধুদের থেকে দুনিয়া ছিনিয়ে নিয়েছেন। নির্বাচিত বান্দাদের দুনিয়া থেকে নিরাপদ রেখেছেন। পছন্দনীয় ব্যক্তিদের অন্তর থেকে দুনিয়া বের করে দিয়েছেন। কারণ তিনি তাদের জন্য দুনিয়া চান না.”

টিকাঃ
[৭২] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৯/২২১。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00