📄 শুধু হারাম পরিহার করাই যুহদ নয়
৪৭. আল্লান ইবনু আহমাদ আল বান্না বলেন, "ইবরাহীম আল বান্নাকে লক্ষ্য করে সিররি সাকতিকে বলতে শুনেছি: 'বান্না! যে ব্যক্তি ঘৃণাবশত দুনিয়া পরিত্যাগ করে আর যে ব্যক্তি আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও দুনিয়া থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে, তারা উভয়ে সমান নয়.”
৪৮. মুহাম্মাদ ইবনু নযর বলেন, "ইবনু মুয়াযকে যুহদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছেন : 'যা না হলেই নয়, সেটাও পরিত্যাগ করা হলো যুহদ.”
৪৯. মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল্লাহ আর-রাযি থেকে বর্ণিত, আবূ আমর আদ- দিমাশকিকে যুহদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছেন, “যুহদ হলো অবৈধ বিষয়ে নিপতিত হওয়ার আশঙ্কায় বৈধ বিষয় পরিত্যাগ করা.”
৫০. আহমাদ ইবনু ঈসা বলেন, "আমি ইয়াহইয়া ইবনু মুয়াযকে বলতে শুনেছি, 'যার মধ্যে আল্লাহর ভয় নেই, সে কীভাবে যাহিদ হতে পারে? যা তোমার অধিকারভুক্ত নয়, তাতে তো জড়াবেই না। তারপর নিজের অধিকারভুক্ত বিষয়েও বিরাগিতা অবলম্বন করবে.'”
৫১. আবূ Hafs ইবনু জালা বলেন, “আমি বিশর ইবনু হারিসকে বলতে শুনেছি: 'দুনিয়া পরিত্যাগ করাটা যুহদ নয়, বরং যুহদ হলো আল্লাহ ছাড়া সবকিছু পরিত্যাগ করা। যেমন: দাউদ ও সুলাইমান আলাইহিমাস সালাম। গোটা দুনিয়ার বাদশা হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর নিকট তারা ছিলেন যাহিদ.”
টিকাঃ
[৬৭] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৯/ ২২০১。
[৬৮] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/১১০১。
📄 অষ্টাগ্রহী হয়ে সুবিন্যস্ত হওয়া
৫২. আবূ সাঈদ আর-রাযি বলেন, “শিবলিকে যুহদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তাকে তখন বলতে শুনেছি, 'বস্তু থেকে মন ফিরিয়ে বস্তুর প্রতিপালকের প্রতি মনোনিবেশ করাই হলো যুহদ.'”
৫৩. বিশর ইবনু হারিস থেকে বর্ণিত আছে, ফুযাইল ইবনু ইয়ায বলেছেন: “কেউ আল্লাহ তাআলার যত গভীর পরিচয় লাভ করে, তার অন্তরে আল্লাহর প্রতি তত অধিক ভয় তৈরি হয়। আর কেউ পরকালের প্রতি যতটা আগ্রহী থাকে, দুনিয়ার প্রতি তার মধ্যে ততটাই বিমুখতা তৈরি হয়ে যায়.”
টিকাঃ
[৬৯] আবূ আবদুর রহমান আস-সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, ১১০。
[৭০] আবু নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১০/৩৭০。
📄 কষ্ট যুহদের অবিচ্ছেদ্য অংশ
৫৪. আহমাদ ইবনু আবীল হাওয়ারি বলেন, "আমি আবূ সুলাইমান আদ দারানিকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি দুনিয়ার সকল টেনশন বাদ দিয়ে শান্তিতে বসে থাকে, সে যাহিদ নয়। আরে সেটা তো এক প্রশান্তির জীবন। বরং যাহিদ হলো, যে দুনিয়ার চিন্তাভাবনা বাদ দিয়ে পরকালের জন্য কষ্ট করে যায়.”
আবূ সাঈদ বলেন, আবূ সুলাইমান আরও বলেছেন : “ব্যক্তি যেভাবে দুনিয়ার ক্ষেত্রে যাহিদ হয়েছে, তেমনি দুনিয়ার সুখশান্তির ক্ষেত্রেও তাকে যাহিদ হতে হবে। সুখশান্তি তো দুনিয়া এবং তার ভোগবিলাসেরই অংশ.”
৫৫. ইবনু আবিদ দুনিয়া থেকে বর্ণিত আছে যে, আহমাদ বলেছেন, "আবূ হিশাম আবদিল মালিক আল মাগাযিলিকে জিজ্ঞেস করলাম, 'যুহদ কাকে বলে?' তিনি বলেন, 'যুহদ হচ্ছে উচ্চ আশা-আকাঙ্ক্ষা বাদ দেওয়া, দরিদ্রদের দান- সাদাকাহ করা এবং সুখ-শান্তি পরিত্যাগ করা.”
৫৬. আবু উসমান আল হান্নাত বলেন, "যুননুন-কে বলতে শুনেছি: 'তুমি যদি ক্ষুধা, নিঃসঙ্গতা, নির্জনবাসের মতো অপছন্দনীয় বিষয়গুলো বরণ করে নাও, তাহলে আশ্চর্যকর সব বিষয় প্রত্যক্ষ করতে পারবে.”
📄 যুহদের বিভিন্ন ক্ষেত্র
৫৭. হাসান ইবনু আল্লুবাইহ বলেন, "আমি ইয়াহইয়া ইবনু মুয়াযকে বলতে শুনেছি, 'যুহদ হলো তিন জিনিসের নাম: অল্পে তুষ্টি, নির্জনতা এবং ক্ষুধার্ত থাকা.”
৫৮. হাসান ইবনু আল্লুবাইহ বলেন, "আমি ইয়াহইয়া ইবনু মুয়াযকে বলতে শুনেছি: 'তিন বিষয়ে যুহদ অবলম্বন করতে হবে। বিপদে ধৈর্যধারণ করা, দারিদ্রের সময় অন্যকে প্রাধান্য দেওয়া, কোনো অবস্থাতেই দুনিয়া কামনা না করা."
৫৯. আলি ইবনুল মাদিনি থেকে বর্ণিত, সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাকে জিজ্ঞেস করা হয়, “যুহদ কাকে বলে?” তিনি বলেন, “সন্তুষ্টিমূলক বিষয়ে কৃতজ্ঞতা আদায় করা, বিপদে ধৈর্যধারণ করা। যে এমন করে, সে যাহিদ (দুনিয়াবিমুখ)।” সুফিয়ানকে তখন জিজ্ঞেস করা হয়, “তা হলে কৃতজ্ঞতা কী জিনিস?” তিনি বলেন, “আল্লাহ তাআলা যা করতে নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকা."
৬০. আবূ বকর আল খিরাশি বলেন, “আবূ বকর আল ওয়াররাককে যুহদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি উত্তরে বলেছিলেন, 'যুহদ শব্দে তিনটি বর্ণ রয়েছে। ز (ঝা) দিয়ে বোঝানো হচ্ছে, زینت তথা সৌন্দর্য পরিত্যাগ করতে হবে। ه (হা) দিয়ে বোঝানো হচ্ছে, هوى তথা প্রবৃত্তির অনুসরণ করা যাবে না। আর د (দাল) দিয়ে বুঝানো হচ্ছে دنیا (দুনিয়া) পরিত্যাগ করতে হবে."
টিকাঃ
[৭১] ইবনুল মুলাক্কিন, তাবাকাতুল আউলিয়া, পৃ. ৩২২。