📄 কঠিনতর যুহদ
৪১. আবদুল আযীয ইবনু আবান বলেন, "আমি সুফিয়ানকে বলতে শুনেছি : 'পার্থিব কোনো বিষয়ে যুহদ অবলম্বনের চেয়ে ক্ষমতা ও পদের ক্ষেত্রে যুহদ অবলম্বন করা বেশি কঠিন।'”
৪২. আবূ ইসহাক ইবরাহীম ইবনু শাইবান বলেন, "আমি আবদুল্লাহ আল মাগরিবিকে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি আপন সুখ-শান্তির ক্ষেত্রে যুহদ অবলম্বন করে, সে সম্মান ও ক্ষমতার ক্ষেত্রেও যুহদ অবলম্বনকারী হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি সম্মান ও ক্ষমতার ক্ষেত্রে যুহদ অবলম্বন করে, ওলিদের তালিকায় তার নাম লিপিবদ্ধ হয়ে যায়।”
টিকাঃ
[৬৩] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/২৩৮。
📄 যুহদ যখন সহজ
৪৩. আবদুল ওয়াহিদ ইবনু আলি বলেন, "আমি আবু আমর ইবনু নুজাইদকে বলতে শুনেছি : 'যে ব্যক্তি সৃষ্টির নিকট সম্মান-প্রতিপত্তি কামনা করে না, তার জন্য দুনিয়া এবং দুনিয়ার বিষয়-আশয় থেকে বিমুখ থাকাটা সহজ হয়ে যায়।”
📄 সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যাহিদ
৪৪. হাম্মাদ ইবনু ওয়াকিদ বলেন, "আমি মালিক ইবনু দিনার -কে বলতে শুনেছি : 'লোকে বলে মালিক নাকি যাহিদ হয়ে গেছে! আরে, মালিকের মধ্যে যুহদের কী আছে? তার কাছে আছেই তো মাত্র একটা জুব্বা আর একটা চাদর। যাহিদ তো হলেন উমার ইবনু আবদিল আযীয। দুনিয়া নিজেকে উজাড় করে তার কাছে হাজির হয়েছিল। কিন্তু তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন.'”
৪৫. মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল হামিদ থেকে বর্ণিত আছে, ইসহাক ইবনু মানসুর আস সালুলি বলেছেন: "আমি এবং আমার এক সাথি একদিন দাউদ আত-তায়ি -এর কাছে যাই। তখন মাটিতে বসে ছিলেন তিনি। সাথিকে বললাম, 'ইনি হলেন যাহিদ (দুনিয়া-বিমুখ)।' দাউদ আত-তায়ি তখন বলেন, 'আরে যাহিদ তো হলো ওই ব্যক্তি, যে দুনিয়া লাভের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও দুনিয়াকে পরিত্যাগ করে।”
৪৬. আওন ইবনু মুহাম্মাদ থেকে বর্ণিত আছে, উমার ইবনু আবদিল আযীয একদিন স্ত্রী-কে বললেন, "ফাতিমা! তোমার কাছে কি এক দিরহাম হবে? একটু আঙ্গুর কিনতাম।” ফাতিমা বললেন, “না।” তিনি বললেন, “কোনো পয়সা-টয়সা?” ফাতিমা এবারও না-সূচক উত্তর দিয়ে বললেন, “আচ্ছা, একটা কথা। আপনি বর্তমান সময়ের আমিরুল মুমিনীন। আপনার কাছে বুঝি আঙ্গুর কেনার মতো একটা দিরহাম বা পয়সাও নেই!” উমার বললেন, “আগামীকাল আমাকে বেড়ি পরিয়ে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার তুলনায় এ দীনতাই ভালো।”
টিকাঃ
[৬৪] ইবনুল জাওযী, সিরাতু উমার ইবনু আবদিল আযীয, পৃ. ১৮৪。
[৬৫] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৭/৩৪৪。
[৬৬] ইবনুল জাওযী, সিরাতু উমার ইবনু আবদিল আযীয, পৃ. ১৮৩。
📄 শুধু হারাম পরিহার করাই যুহদ নয়
৪৭. আল্লান ইবনু আহমাদ আল বান্না বলেন, "ইবরাহীম আল বান্নাকে লক্ষ্য করে সিররি সাকতিকে বলতে শুনেছি: 'বান্না! যে ব্যক্তি ঘৃণাবশত দুনিয়া পরিত্যাগ করে আর যে ব্যক্তি আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও দুনিয়া থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে, তারা উভয়ে সমান নয়.”
৪৮. মুহাম্মাদ ইবনু নযর বলেন, "ইবনু মুয়াযকে যুহদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছেন : 'যা না হলেই নয়, সেটাও পরিত্যাগ করা হলো যুহদ.”
৪৯. মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল্লাহ আর-রাযি থেকে বর্ণিত, আবূ আমর আদ- দিমাশকিকে যুহদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছেন, “যুহদ হলো অবৈধ বিষয়ে নিপতিত হওয়ার আশঙ্কায় বৈধ বিষয় পরিত্যাগ করা.”
৫০. আহমাদ ইবনু ঈসা বলেন, "আমি ইয়াহইয়া ইবনু মুয়াযকে বলতে শুনেছি, 'যার মধ্যে আল্লাহর ভয় নেই, সে কীভাবে যাহিদ হতে পারে? যা তোমার অধিকারভুক্ত নয়, তাতে তো জড়াবেই না। তারপর নিজের অধিকারভুক্ত বিষয়েও বিরাগিতা অবলম্বন করবে.'”
৫১. আবূ Hafs ইবনু জালা বলেন, “আমি বিশর ইবনু হারিসকে বলতে শুনেছি: 'দুনিয়া পরিত্যাগ করাটা যুহদ নয়, বরং যুহদ হলো আল্লাহ ছাড়া সবকিছু পরিত্যাগ করা। যেমন: দাউদ ও সুলাইমান আলাইহিমাস সালাম। গোটা দুনিয়ার বাদশা হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর নিকট তারা ছিলেন যাহিদ.”
টিকাঃ
[৬৭] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৯/ ২২০১。
[৬৮] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/১১০১。