📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 যাহিদের বৈশিষ্ট্য

📄 যাহিদের বৈশিষ্ট্য


৩১. আবু আহমাদ আল হাসনাবি থেকে বর্ণিত আছে, আবূ হাফস বলেছেন: “হারাম বিষয়ে যুহদ অবলম্বন করা ফরয, বৈধ বিষয়ে তা মুস্তাহাব, আর হালাল বিষয়ে তা আল্লাহর নৈকট্য লাভের কারণ."
৩২. মুসাইয়াব থেকে বলেন, "আমি ইউসুফ ইবনু আসবাত-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, যুহদ আসলে কী। তিনি বলেন, 'আল্লাহ তাআলা যা হালাল করেছেন, তা-ই যুহদের ক্ষেত্র। অর্থাৎ, সেগুলোর প্রতি বিরাগী হতে হবে। আর তিনি যা হারাম করেছেন, তাতে লিপ্ত হয়ে গেলে তো আল্লাহ তোমাকে শাস্তিই দেবেন।' অর্থাৎ, হারাম পরিত্যাগ করা তো এমনিই ফরয। সেখানে যুহদের প্রশ্ন আসে না।”
৩৩. আবদুস ইবনুল কাসিম বলেন, "আমি সিররি সাকতি-কে বলতে শুনেছি: 'যাহিদের বৈশিষ্ট্য পাঁচটি। হালাল বিষয়ে কৃতজ্ঞতা আদায় করা; হারাম কাজ থেকে বিরত থাকা; মৃত্যু কখন চলে আসে, তার পরোয়া না করা; কখন কী খাবার জুটে, তার কোনো পরোয়া না করা; ধনাঢ্যতা এবং দারিদ্র-উভয়টাই সমান মনে হওয়া।”
৩৪. সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা বলেন, "যুহরি-কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করেছিল, 'আচ্ছা আবূ বকর, যাহিদের পরিচয় কী?' আমি তাকে এর উত্তরে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি হারাম থেকে নিজেকে বিরত রাখে এবং হালাল ক্ষেত্রে কৃতজ্ঞতা আদায় করে, সে হলো যাহিদ।” আইয়ূব ইবনু হাসসান বলেন, "আমি ইবনু উয়াইনাকে বলতে শুনেছি, 'যুহদের ব্যাপারে আমি এরচেয়ে উত্তম কিছু আর শুনিনি।”
৩৫. আলি ইবনু আছছাম থেকে বর্ণিত, ফুযাইল ইবনু ইয়ায-কে যুহদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছেন: “তা হচ্ছে হালাল রিযক অনুসন্ধান করা।”
৩৬. মুহাম্মাদ ইবনু আলি বলেন, "আমি মুখাল্লাদ ইবনু হুসাইনকে বলতে শুনেছি, 'যুহদ হলো হালাল রিযক গ্রহণ করা।”

টিকাঃ
[৫৭] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/৩৩৭。
[৫৮] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৯/২১৯。
[৫৯] ইয়াকুব ফাসাবি, আল মারিফাতু ওয়াত তারিখ, ৩/৬৩৫。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 ধনাঢ্যতা ও দারিদ্র্য উভয়ই কল্যাণের লক্ষণ

📄 ধনাঢ্যতা ও দারিদ্র্য উভয়ই কল্যাণের লক্ষণ


৩৭. আবূ উসমান আল হান্নাত বলেন, “আমি যুননুন-কে বলতে শুনেছি, 'ধনাঢ্যতার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় হচ্ছে কল্যাণের লক্ষণ। • হারাম অর্থ-সম্পদ পরিত্যাগ করা। • সম্পদে অবধারিত হক (যাকাত) আদায় করা। • অহংকার হওয়ার আশঙ্কায় সকলের সাথেই বিনয় অবলম্বন করা।
আর দারিদ্র্যের ক্ষেত্রে কল্যাণের লক্ষণ হচ্ছে, • ভাগ্যে যতটুকু রিযক লেখা রয়েছে, তাতেই সন্তুষ্ট থাকা। • নিয়ামাতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশার্থে হাসিখুশি থাকা। • অর্থশালীদের সম্পদের প্রতি লোভ প্রদর্শনের কোনো বিষয় যেন নিজের মধ্যে দেখা না যায়, সে জন্য তাদের প্রতি কোনো বিনয় প্রদর্শন না করা।
এবং পরকালকে ভালোবাসার লক্ষণ হলো তিনটি। • অধিক পরিমাণে ক্রন্দন করা। • পরকালের কথা বেশি বেশি স্মরণ করা, সব সময় তার প্রতি আগ্রহ রাখা। • পরকালের কারণে দুনিয়ার প্রতি ঘৃণা রাখা।”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 পার্থিব সম্মান সাময়িক

📄 পার্থিব সম্মান সাময়িক


৩৮. আল্লাহ তাআলার বাণী : تِلْكَ الدَّارُ الْآخِرَةُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِينَ لَا يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِي الْأَرْضِ وَلَا فَسَادًا وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ
“আখিরাতের এ নিবাস তো আমি তাদের জন্যে নির্ধারিত করি, যারা দুনিয়ায় ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে এবং অনর্থ সৃষ্টি করতে চায় না। শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্যেই।”
আহমাদ ইবনু সালাবা বলেন, এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আবূ মুয়াবিয়া আল আসওয়াদ বলেছেন: "দুনিয়ার অপমান-অপদস্থতাকে তারা ভয় করে না। পার্থিব সম্মান লাভের জন্য প্রতিযোগিতায়ও লিপ্ত হয় না।”
৩৯. মুহাম্মাদ ইবনু আহইয়াদ আল বলখি বলেন, "আমি আবূ বকর আল ওয়াররাককে বলতে শুনেছি: 'প্রকৃত সম্মান লাভের আশায় আমি সাময়িক সম্মান বিক্রি করে দিয়েছি। আর প্রকৃত লাঞ্ছনার আশঙ্কায় সাময়িক লাঞ্ছনা কিনে নিয়েছি। আপন প্রতিপালকের আদেশ অমান্য করাটা নিজেই এক ধরনের শাস্তি."

টিকাঃ
[৬০] সূরা কাসাস, ২৮ : ৮৩。
[৬১] সুয়ুতি, আদ দুররুল মানসুর, ৬/৪৪৪。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 যুহদের প্রশস্ত সংজ্ঞা

📄 যুহদের প্রশস্ত সংজ্ঞা


৪০. আহমাদ ইবনু আবীল হাওয়ারি বলেন, "আমি আবূ সুলাইমান আদ দারানিকে বলতে শুনেছি: 'একবার ইরাকে যুহদের সংজ্ঞা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল। কেউ বলছিল, মানুষের সংশ্রব এড়িয়ে চলা হলো যুহদ। কেউ বলছিল, তা হচ্ছে প্রবৃত্তির চাহিদা পরিত্যাগ করা।' আবূ সুলাইমান বলেন, 'আসলে তাদের সবার কথাই প্রায় কাছাকাছি ছিল।' আহমাদ বলেন, 'যে ব্যক্তি মানুষের সংশ্রব এড়িয়ে চলে, সে তো আরও আগেই প্রবৃত্তির চাহিদা পরিত্যাগ করে চলবে।”

টিকাঃ
[৬২] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৯/২৫৮。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00