📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 দুনিয়ার জন্য নিজেকে কষ্টে ফেলা

📄 দুনিয়ার জন্য নিজেকে কষ্টে ফেলা


২৭. মুহাম্মাদ ইবনু মুয়াবিয়া আল আযরাক থেকে বর্ণিত আছে, উমার ইবনু আবদুল আযীয একদিন হাসান বাসরি -কে চিঠি লিখে বলেন, “আমাকে সংক্ষেপে কিছু নাসীহাত করুন।” হাসান বাসরি তার চিঠির উত্তরে লিখেন: "দুনিয়া-বিমুখতা আপনার নিজেকে এবং আপনার দায়িত্বে থাকা সকল কিছুকে সংশোধিত করে তুলতে পারে। যুহদ অর্জিত হয় ইয়াকিনের মাধ্যমে। আর ইয়াকিন অর্জিত হয় গভীর চিন্তাভাবনার মাধ্যমে। আর গভীর চিন্তাভাবনার মাধ্যম হলো উপদেশ গ্রহণ। তাই দুনিয়ার প্রতি একটু লক্ষ করলেই দেখতে পাবেন, এটা এমন কোনো বিষয় নয়, যার জন্য নিজেকে কষ্টের মধ্যে ফেলতে হবে। তখন বুঝতে পারবেন যে, এ লাঞ্ছনাকর দুনিয়া সম্মানের কোনো বস্তু নয়। দুনিয়া তো বিপদ-আপদের বাড়ি এবং উপেক্ষা করার ঘর।”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 হালালের ব্যাপারে যুহদ

📄 হালালের ব্যাপারে যুহদ


২৮. হিশাম থেকে বর্ণিত আছে, হাসান বাসরি বলেছেন: “আল্লাহর কসম! এমন অনেক মানুষ দেখেছি, যাদের কোনো বিষয়ের তীব্র প্রয়োজন দেখা দিত আর পাশেই থাকত হালাল সম্পদ। কিন্তু প্রয়োজন মেটাতে তারা সে হালাল সম্পদও গ্রহণ করতেন না। লোকে বলতো, 'আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, এই হালাল সম্পদ দিয়ে প্রয়োজন মেটালেই তো পারেন!' তারা বলতেন, 'আল্লাহর কসম! সেটা করব না। আমার আশংকা হয়, এতে আমার অন্তর এবং আমল—সবকিছু বরবাদ হয়ে যাবে।”
২৯. মুহাম্মাদ ইবনু সাঈদ ইবনু যায়িদা বলেন, “আমি দাউদ ইবনু নুসাইরকে বলতে শুনেছি : 'দুনিয়া মানেই হালাল-হারামের মিশ্রণ। এটা ছাড়া দুনিয়া চলতে পারে না।”

টিকাঃ
[৫৫] অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে: আহমাদ ইবনু হাম্বল, আয-যুহদ, পৃ. ২৬০。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 যুহদের প্রকারভেদ

📄 যুহদের প্রকারভেদ


৩০. মুতাওয়াক্কিল ইবনুল হুসাইন আল আবিদ থেকে বর্ণিত আছে যে, ইবরাহীম ইবনু আদহাম বলেছেন: “যুহদ তিন ধরনের। এক ধরনের যুহদ ফরয, আরেক ধরনের যুহদ নফল, তা অবলম্বন না করলেও চলে, আরেক ধরনের যুহদ নিরাপত্তামূলক। ফরয হলো, হারাম বিষয় থেকে যুহদ অবলম্বন করা (অর্থাৎ, হারাম থেকে বিরত থাকা)। নফল যুহদ, যা না করলেও হয়, তা হচ্ছে হালাল বিষয়ে যুহদ অবলম্বন করা (অর্থাৎ, যাতে কোনো সাওয়াব নেই, তা থেকেও বিরত থাকা)। আর নিরাপত্তামূলক হলো সন্দেহপূর্ণ বিষয়ে যুহদ অবলম্বন করা।”

টিকাঃ
[৫৬] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/২৬, ১০/১৩৭。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 যাহিদের বৈশিষ্ট্য

📄 যাহিদের বৈশিষ্ট্য


৩১. আবু আহমাদ আল হাসনাবি থেকে বর্ণিত আছে, আবূ হাফস বলেছেন: “হারাম বিষয়ে যুহদ অবলম্বন করা ফরয, বৈধ বিষয়ে তা মুস্তাহাব, আর হালাল বিষয়ে তা আল্লাহর নৈকট্য লাভের কারণ."
৩২. মুসাইয়াব থেকে বলেন, "আমি ইউসুফ ইবনু আসবাত-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, যুহদ আসলে কী। তিনি বলেন, 'আল্লাহ তাআলা যা হালাল করেছেন, তা-ই যুহদের ক্ষেত্র। অর্থাৎ, সেগুলোর প্রতি বিরাগী হতে হবে। আর তিনি যা হারাম করেছেন, তাতে লিপ্ত হয়ে গেলে তো আল্লাহ তোমাকে শাস্তিই দেবেন।' অর্থাৎ, হারাম পরিত্যাগ করা তো এমনিই ফরয। সেখানে যুহদের প্রশ্ন আসে না।”
৩৩. আবদুস ইবনুল কাসিম বলেন, "আমি সিররি সাকতি-কে বলতে শুনেছি: 'যাহিদের বৈশিষ্ট্য পাঁচটি। হালাল বিষয়ে কৃতজ্ঞতা আদায় করা; হারাম কাজ থেকে বিরত থাকা; মৃত্যু কখন চলে আসে, তার পরোয়া না করা; কখন কী খাবার জুটে, তার কোনো পরোয়া না করা; ধনাঢ্যতা এবং দারিদ্র-উভয়টাই সমান মনে হওয়া।”
৩৪. সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা বলেন, "যুহরি-কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করেছিল, 'আচ্ছা আবূ বকর, যাহিদের পরিচয় কী?' আমি তাকে এর উত্তরে বলতে শুনেছি: 'যে ব্যক্তি হারাম থেকে নিজেকে বিরত রাখে এবং হালাল ক্ষেত্রে কৃতজ্ঞতা আদায় করে, সে হলো যাহিদ।” আইয়ূব ইবনু হাসসান বলেন, "আমি ইবনু উয়াইনাকে বলতে শুনেছি, 'যুহদের ব্যাপারে আমি এরচেয়ে উত্তম কিছু আর শুনিনি।”
৩৫. আলি ইবনু আছছাম থেকে বর্ণিত, ফুযাইল ইবনু ইয়ায-কে যুহদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছেন: “তা হচ্ছে হালাল রিযক অনুসন্ধান করা।”
৩৬. মুহাম্মাদ ইবনু আলি বলেন, "আমি মুখাল্লাদ ইবনু হুসাইনকে বলতে শুনেছি, 'যুহদ হলো হালাল রিযক গ্রহণ করা।”

টিকাঃ
[৫৭] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/৩৩৭。
[৫৮] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৯/২১৯。
[৫৯] ইয়াকুব ফাসাবি, আল মারিফাতু ওয়াত তারিখ, ৩/৬৩৫。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00