📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 হালাল জিনিস উপভোগের জবাবদিহিতা

📄 হালাল জিনিস উপভোগের জবাবদিহিতা


২৬. ইবনুস সিমাক বলেন, "আমি জানতে পেরেছি যে, উমার ইবনু আবদুল আযীয একদিন হাসান বাসরি -কে চিঠি লিখে বলেন, 'সংক্ষেপে আমাকে কিছু উপদেশ দিন।' হাসান বাসরি তার উত্তরে লিখেন: 'অন্তর এবং দেহের এক ঝামেলার নাম দুনিয়া। পক্ষান্তরে যুহদ হলো অন্তর ও দেহ উভয়ের প্রশান্তির উপাদান। আমরা যে হালাল নিয়ামাত ভোগ করে থাকি, আল্লাহ তাআলা তা সম্পর্কেও জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। তাহলে হারাম কিছু ভোগ করার জিজ্ঞাসাবাদ কেমন হতে পারে, ভাবুন তো!”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 দুনিয়ার জন্য নিজেকে কষ্টে ফেলা

📄 দুনিয়ার জন্য নিজেকে কষ্টে ফেলা


২৭. মুহাম্মাদ ইবনু মুয়াবিয়া আল আযরাক থেকে বর্ণিত আছে, উমার ইবনু আবদুল আযীয একদিন হাসান বাসরি -কে চিঠি লিখে বলেন, “আমাকে সংক্ষেপে কিছু নাসীহাত করুন।” হাসান বাসরি তার চিঠির উত্তরে লিখেন: "দুনিয়া-বিমুখতা আপনার নিজেকে এবং আপনার দায়িত্বে থাকা সকল কিছুকে সংশোধিত করে তুলতে পারে। যুহদ অর্জিত হয় ইয়াকিনের মাধ্যমে। আর ইয়াকিন অর্জিত হয় গভীর চিন্তাভাবনার মাধ্যমে। আর গভীর চিন্তাভাবনার মাধ্যম হলো উপদেশ গ্রহণ। তাই দুনিয়ার প্রতি একটু লক্ষ করলেই দেখতে পাবেন, এটা এমন কোনো বিষয় নয়, যার জন্য নিজেকে কষ্টের মধ্যে ফেলতে হবে। তখন বুঝতে পারবেন যে, এ লাঞ্ছনাকর দুনিয়া সম্মানের কোনো বস্তু নয়। দুনিয়া তো বিপদ-আপদের বাড়ি এবং উপেক্ষা করার ঘর।”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 হালালের ব্যাপারে যুহদ

📄 হালালের ব্যাপারে যুহদ


২৮. হিশাম থেকে বর্ণিত আছে, হাসান বাসরি বলেছেন: “আল্লাহর কসম! এমন অনেক মানুষ দেখেছি, যাদের কোনো বিষয়ের তীব্র প্রয়োজন দেখা দিত আর পাশেই থাকত হালাল সম্পদ। কিন্তু প্রয়োজন মেটাতে তারা সে হালাল সম্পদও গ্রহণ করতেন না। লোকে বলতো, 'আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, এই হালাল সম্পদ দিয়ে প্রয়োজন মেটালেই তো পারেন!' তারা বলতেন, 'আল্লাহর কসম! সেটা করব না। আমার আশংকা হয়, এতে আমার অন্তর এবং আমল—সবকিছু বরবাদ হয়ে যাবে।”
২৯. মুহাম্মাদ ইবনু সাঈদ ইবনু যায়িদা বলেন, “আমি দাউদ ইবনু নুসাইরকে বলতে শুনেছি : 'দুনিয়া মানেই হালাল-হারামের মিশ্রণ। এটা ছাড়া দুনিয়া চলতে পারে না।”

টিকাঃ
[৫৫] অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে: আহমাদ ইবনু হাম্বল, আয-যুহদ, পৃ. ২৬০。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 যুহদের প্রকারভেদ

📄 যুহদের প্রকারভেদ


৩০. মুতাওয়াক্কিল ইবনুল হুসাইন আল আবিদ থেকে বর্ণিত আছে যে, ইবরাহীম ইবনু আদহাম বলেছেন: “যুহদ তিন ধরনের। এক ধরনের যুহদ ফরয, আরেক ধরনের যুহদ নফল, তা অবলম্বন না করলেও চলে, আরেক ধরনের যুহদ নিরাপত্তামূলক। ফরয হলো, হারাম বিষয় থেকে যুহদ অবলম্বন করা (অর্থাৎ, হারাম থেকে বিরত থাকা)। নফল যুহদ, যা না করলেও হয়, তা হচ্ছে হালাল বিষয়ে যুহদ অবলম্বন করা (অর্থাৎ, যাতে কোনো সাওয়াব নেই, তা থেকেও বিরত থাকা)। আর নিরাপত্তামূলক হলো সন্দেহপূর্ণ বিষয়ে যুহদ অবলম্বন করা।”

টিকাঃ
[৫৬] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/২৬, ১০/১৩৭。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00