📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 সুস্থ, পবিত্র, চক্ষুষ্মান, বুদ্ধিমানের পরিচয়

📄 সুস্থ, পবিত্র, চক্ষুষ্মান, বুদ্ধিমানের পরিচয়


২৫. হাসান ইবনু হাম্মাদ বলেন, আমি আবু হাম্মাদকে বলতে শুনেছি, "বসরা শহরে গিয়ে আমি মরহুম আত্তারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, 'হাসান বাসরি -এর কোনো সঙ্গী-সাথি কি এখন জীবিত আছেন?' তিনি বলেন, 'কেবল একজন বাকি আছেন।' আমি সে ব্যক্তির নিকট যাই। তাকে বলি, 'আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। আপনি যদি আমাকে হাসান বাসরি -এর এমন কিছু উক্তি শোনাতেন, যার মাধ্যমে আমি উপদেশ গ্রহণ করতে পারব!' তিনি বলেন, 'হাসান বাসরি আলোচনার মধ্যে প্রায়সময়ই বলতেন: হে আদম সন্তান! তুমি তো গতকাল এক ফোঁটা বীর্য ছিলে আর আগামীকাল লাশ হয়ে যাবে। এর মধ্যবর্তী সময়টাতে কেবল ময়লা মুছতে হয় তোমাকে। সুস্থ তো ঐ ব্যক্তি, গুনাহ যাকে অসুস্থ করে তোলেনি। পবিত্র হলো ঐ ব্যক্তি, পাপাচার যাকে অপবিত্র করে দেয়নি। যারা দুনিয়াকে সবচেয়ে বেশি ভুলে থাকতে পারে, তারাই আখিরাতকে অধিক স্মরণ করতে পারে। আর যারা বেশি বেশি দুনিয়ার আলোচনা করে, তারাই আখিরাতকে বেশি ভুলে যায়। যে নিজেকে অনিষ্ট থেকে বিরত রাখে, সে-ই আবিদ। যে হারাম কিছু দেখতে পেয়েও তার কাছে যায় না, সে-ই চক্ষুষ্মান। যে কিয়ামাত দিবসের কথা স্মরণ করে এবং সেদিনের হিসাব নিকাশের কথা ভুলে যায় না, সে-ই কেবল বুদ্ধিমান।”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 হালাল জিনিস উপভোগের জবাবদিহিতা

📄 হালাল জিনিস উপভোগের জবাবদিহিতা


২৬. ইবনুস সিমাক বলেন, "আমি জানতে পেরেছি যে, উমার ইবনু আবদুল আযীয একদিন হাসান বাসরি -কে চিঠি লিখে বলেন, 'সংক্ষেপে আমাকে কিছু উপদেশ দিন।' হাসান বাসরি তার উত্তরে লিখেন: 'অন্তর এবং দেহের এক ঝামেলার নাম দুনিয়া। পক্ষান্তরে যুহদ হলো অন্তর ও দেহ উভয়ের প্রশান্তির উপাদান। আমরা যে হালাল নিয়ামাত ভোগ করে থাকি, আল্লাহ তাআলা তা সম্পর্কেও জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। তাহলে হারাম কিছু ভোগ করার জিজ্ঞাসাবাদ কেমন হতে পারে, ভাবুন তো!”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 দুনিয়ার জন্য নিজেকে কষ্টে ফেলা

📄 দুনিয়ার জন্য নিজেকে কষ্টে ফেলা


২৭. মুহাম্মাদ ইবনু মুয়াবিয়া আল আযরাক থেকে বর্ণিত আছে, উমার ইবনু আবদুল আযীয একদিন হাসান বাসরি -কে চিঠি লিখে বলেন, “আমাকে সংক্ষেপে কিছু নাসীহাত করুন।” হাসান বাসরি তার চিঠির উত্তরে লিখেন: "দুনিয়া-বিমুখতা আপনার নিজেকে এবং আপনার দায়িত্বে থাকা সকল কিছুকে সংশোধিত করে তুলতে পারে। যুহদ অর্জিত হয় ইয়াকিনের মাধ্যমে। আর ইয়াকিন অর্জিত হয় গভীর চিন্তাভাবনার মাধ্যমে। আর গভীর চিন্তাভাবনার মাধ্যম হলো উপদেশ গ্রহণ। তাই দুনিয়ার প্রতি একটু লক্ষ করলেই দেখতে পাবেন, এটা এমন কোনো বিষয় নয়, যার জন্য নিজেকে কষ্টের মধ্যে ফেলতে হবে। তখন বুঝতে পারবেন যে, এ লাঞ্ছনাকর দুনিয়া সম্মানের কোনো বস্তু নয়। দুনিয়া তো বিপদ-আপদের বাড়ি এবং উপেক্ষা করার ঘর।”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 হালালের ব্যাপারে যুহদ

📄 হালালের ব্যাপারে যুহদ


২৮. হিশাম থেকে বর্ণিত আছে, হাসান বাসরি বলেছেন: “আল্লাহর কসম! এমন অনেক মানুষ দেখেছি, যাদের কোনো বিষয়ের তীব্র প্রয়োজন দেখা দিত আর পাশেই থাকত হালাল সম্পদ। কিন্তু প্রয়োজন মেটাতে তারা সে হালাল সম্পদও গ্রহণ করতেন না। লোকে বলতো, 'আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, এই হালাল সম্পদ দিয়ে প্রয়োজন মেটালেই তো পারেন!' তারা বলতেন, 'আল্লাহর কসম! সেটা করব না। আমার আশংকা হয়, এতে আমার অন্তর এবং আমল—সবকিছু বরবাদ হয়ে যাবে।”
২৯. মুহাম্মাদ ইবনু সাঈদ ইবনু যায়িদা বলেন, “আমি দাউদ ইবনু নুসাইরকে বলতে শুনেছি : 'দুনিয়া মানেই হালাল-হারামের মিশ্রণ। এটা ছাড়া দুনিয়া চলতে পারে না।”

টিকাঃ
[৫৫] অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে: আহমাদ ইবনু হাম্বল, আয-যুহদ, পৃ. ২৬০。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00