📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 দেহ ও অন্তরের যুহদ

📄 দেহ ও অন্তরের যুহদ


১৯. আহমাদ ইবনু আলি ইবনু জাফর বলেন, "আমি ইবরাহীম ইবনু ফাতিক-কে বলতে শুনেছি, জুনায়েদ বাগদাদিকে যুহদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি উত্তরে বলেছেন: 'দুনিয়াবিমুখতা হলো, হাতে অর্থ-সম্পদ না থাকা আর অন্তরে অর্থ-সম্পদ অন্বেষণের মানসিকতাও না থাকা।”
২০. তিনি বলেন, “রুআইম একদিন জুনায়েদ বাগদাদিকে যুহদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। আমি তাকে এর উত্তরে বলতে শুনেছি: 'দুনিয়াকে তুচ্ছ মনে করা এবং অন্তর থেকে দুনিয়ার প্রভাব সম্পূর্ণরূপে মিটিয়ে ফেলা।”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 যুহদের স্তর

📄 যুহদের স্তর


২১. আহমাদ ইবনু আবীল হাওয়ারি থেকে বর্ণিত আছে যে, আবূ সুলাইমান আদ-দারানি একবার যুহদের প্রথম স্তর সম্পর্কে আবূ সাফওয়ানকে জিজ্ঞেস করেছিলেন। আবূ সাফওয়ান উত্তরে বলেন: “যুহদ হচ্ছে দুনিয়াকে তুচ্ছ মনে করা।” আবূ সুলাইমান তখন বলেন, “এটা প্রথম স্তর হলে মধ্যবর্তী স্তর কোনটি? শেষ স্তরই বা কোনটি?” আবূ সাফওয়ান বলেন, “প্রথমত বাহ্যিকভাবে দুনিয়ার প্রতি বিমুখ হতে হবে, এরপর মন থেকেই বিমুখ হয়ে যেতে হবে। কেউ এর চূড়ান্ত স্তরে পৌঁছলেই দুনিয়া তার নিকট তুচ্ছ হয়ে যায়."
২২. আহমাদ ইবনু আবীল হাওয়ারি বলেন, "আমি আবূ সুলাইমানকে যুহদের প্রথম স্তর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে শুনেছি আবূ সাফওয়ান আর রুআইনিকে। আবূ সাফওয়ান উত্তরে বলেছেন, 'প্রথম স্তর হলো দুনিয়াকে তুচ্ছ মনে করা'।”
আবূ সাঈদ বলেন, "একদল আহলুল ইলমকে বলতে শুনেছি : 'দুনিয়াবিমুখতার প্রথম স্তর হলো, চেষ্টা-কসরত করে অন্তর থেকে দুনিয়ার মোহ বের করে ফেলা। আর সর্বশেষ স্তর হলো, আপনাতেই অন্তর থেকে সে মোহ বের হয়ে যাওয়া। শেষে এমন অবস্থায় উপনীত হওয়া যে, অন্তরে দুনিয়ার কোনো মূল্যই থাকবে না। দুনিয়ার প্রতি কোনো আগ্রহই জন্মাবে না তাতে। এমনকি তার প্রতি বিমুখতাও না। কেননা, অন্তরে যে বিষয়ের মূল্য থাকে, তার প্রতিই আগ্রহ বা বিমুখতা জন্মানোর প্রশ্ন আসে। মূল্যই যেখানে নেই, সেখানে বিমুখতাও অপ্রাসঙ্গিক'।”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 দুনিয়ার প্রতি তাচ্ছিল্য-অহংকার

📄 দুনিয়ার প্রতি তাচ্ছিল্য-অহংকার


২৩. আবূ আলি আল-বলখি থেকে বর্ণিত আছে, মুহাম্মাদ ইবনুল ফযলকে যুহদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছিলেন : “তুচ্ছতাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দুনিয়ার প্রতি তাকানো এবং এক ধরনের অহংকার নিয়ে তার থেকে বিমুখ হয়ে যাওয়া। যে ব্যক্তি দুনিয়ার কিছুকে ভালো মনে করল, সে তো দুনিয়াকেই মর্যাদা দিয়ে দিল."
২৪. আবুল আব্বাস আর-রাযি বলেন, “আমি ইয়াহইয়া ইবনু মুয়াযকে বলতে শুনেছি : 'প্রকৃত যাহিদের (দুনিয়া-বিমুখ) হাত যেমন দুনিয়ার উপকরণ থেকে মুক্ত, তেমনি তার অন্তরেও কোনো দুনিয়াবি উদ্দেশ্য নেই।”

টিকাঃ
[৫৪] আবূ আবদুর রহমান আস-সুলামি, তাবাকাতুস সুফিয়া, পৃ. ২১৬。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 সুস্থ, পবিত্র, চক্ষুষ্মান, বুদ্ধিমানের পরিচয়

📄 সুস্থ, পবিত্র, চক্ষুষ্মান, বুদ্ধিমানের পরিচয়


২৫. হাসান ইবনু হাম্মাদ বলেন, আমি আবু হাম্মাদকে বলতে শুনেছি, "বসরা শহরে গিয়ে আমি মরহুম আত্তারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, 'হাসান বাসরি -এর কোনো সঙ্গী-সাথি কি এখন জীবিত আছেন?' তিনি বলেন, 'কেবল একজন বাকি আছেন।' আমি সে ব্যক্তির নিকট যাই। তাকে বলি, 'আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। আপনি যদি আমাকে হাসান বাসরি -এর এমন কিছু উক্তি শোনাতেন, যার মাধ্যমে আমি উপদেশ গ্রহণ করতে পারব!' তিনি বলেন, 'হাসান বাসরি আলোচনার মধ্যে প্রায়সময়ই বলতেন: হে আদম সন্তান! তুমি তো গতকাল এক ফোঁটা বীর্য ছিলে আর আগামীকাল লাশ হয়ে যাবে। এর মধ্যবর্তী সময়টাতে কেবল ময়লা মুছতে হয় তোমাকে। সুস্থ তো ঐ ব্যক্তি, গুনাহ যাকে অসুস্থ করে তোলেনি। পবিত্র হলো ঐ ব্যক্তি, পাপাচার যাকে অপবিত্র করে দেয়নি। যারা দুনিয়াকে সবচেয়ে বেশি ভুলে থাকতে পারে, তারাই আখিরাতকে অধিক স্মরণ করতে পারে। আর যারা বেশি বেশি দুনিয়ার আলোচনা করে, তারাই আখিরাতকে বেশি ভুলে যায়। যে নিজেকে অনিষ্ট থেকে বিরত রাখে, সে-ই আবিদ। যে হারাম কিছু দেখতে পেয়েও তার কাছে যায় না, সে-ই চক্ষুষ্মান। যে কিয়ামাত দিবসের কথা স্মরণ করে এবং সেদিনের হিসাব নিকাশের কথা ভুলে যায় না, সে-ই কেবল বুদ্ধিমান।”

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00