📄 দুনিয়া-আখিরাত উভয়টি অর্জনের পন্থা
১২. সাল্লাম ইবনু মিসকিন থেকে বর্ণিত আছে, হাসান বাসরি প্রায় সময়ই বলতেন: “যুবকেরা! আখিরাত অন্বেষণ করো। এমন অনেককে দেখেছি, যারা আখিরাত তালাশ করতে গিয়ে দুনিয়াও পেয়ে গেছে। কিন্তু এমন কাউকে দেখিনি, যে দুনিয়া অন্বেষণ করতে গিয়ে আখিরাতও পেয়ে গেছে।”
📄 যাহিদের দিনকাল
১৩. হাওশাব বলেন, “আমি হাসান বাসরি -কে বলতে শুনেছি: 'আল্লাহ তাআলা এমন ব্যক্তির প্রতি রহম করুন, যার জীবনযাত্রার মান একই ধরনের। যে মাত্র এক টুকরো রুটি খায়, জীর্ণ পোশাক পরে, মাটিতে পড়ে থাকে। সেইসাথে বেশি করে আল্লাহর ইবাদাত করে, গুনাহের কারণে কাঁদে, আল্লাহর রহমত লাভের আশায় শাস্তি থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে। মৃত্যু পর্যন্ত এভাবেই জীবনযাপন করে সে।”
📄 দুনিয়ার প্রতি আল্লাহর নির্দেশনা
১৪. সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা বলেন, “আমি আবূ হাযেমকে বলতে শুনেছি : 'আল্লাহ তাআলা দুনিয়াকে বলেছেন, যে ব্যক্তি তোমার সেবা-যত্ন করবে, তুমি তাকে কষ্টে ফেলে দেবে। আর যে আমার আনুগত্য করবে, তুমি তার সেবা-যত্ন করবে।”
১৫. ইবনু উমার থেকে বর্ণিত আছে যে, নবি বলেছেন:
مَنْ جَعَلَ الهُمُومَ هَمًّا وَاحِدًا كَفَاهُ الله تعالى هَمَّ آخِرَتِهِ وَمَنْ تَشَعَبَتْ بِهِ الهُمُومُ لَمْ يُبالِ اللَّهُ فِي أَيِّ أَوْدِيتِها هَلَكَ
“কেবল আখিরাতই যার একমাত্র চিন্তার কারণ হবে, তার দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য আল্লাহ-ই যথেষ্ট হয়ে যান। আর যার চিন্তা হবে বহুমুখী, সে কোন উদ্দেশ্য অর্জন করতে গিয়ে কোথায় মরে পড়ে থাকল, সে ব্যাপারে কোনো পরোয়াই করবেন না আল্লাহ তাআলা। "
টিকাঃ
[৫২] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৩/১৯৪。
[৫৩] ইমাম বাইহাকি, আল আদাব, পৃ. ৪৯৫。
📄 সবক্ষেত্রে একমাত্র উদ্দেশ্য আল্লাহ
১৭. আবূ উসমান সাঈদ ইবনু ইসমাইল আল ওয়ায়েজ বলেন, “আল্লাহ তাআলা যার একমাত্র উদ্দেশ্য নন, সে সবকিছুতেই আল্লাহর কাছ থেকে ত্রুটিপূর্ণ ফলাফল পাবে। পক্ষান্তরে, সর্বক্ষেত্রে তিনিই যার উদ্দেশ্য, সে আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কোথাও শান্তি এবং স্থিরতা পাবে না। কেননা, আল্লাহর অনুরূপ এমন আর কেউ নেই, যার নির্দেশ পালন করে সে প্রশান্তি লাভ করবে। আর আল্লাহর ওপরও কেউ নেই, যার নিকট সে আশ্রয় নিবে। তাই আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোথাও প্রকৃত শান্তি লাভ করতে পারে না সে।”