📄 একটি আয়াতের ব্যাখ্যা
১১. শাইবান থেকে বর্ণিত আছে যে, মানসুর বলেছেন, "আমি সাঈদ ইবনু জুবায়েরকে এই আয়াতের ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করি :
مَن كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لَا يُبْخَسُونَ
'যে ব্যক্তি পার্থিব জীবন ও তার চাকচিক্য কামনা করে, দুনিয়াতেই আমি এদেরকে আমলের পূর্ণ ফল ভোগ করিয়ে দেব এবং এতে তাদের কোনো কমতি করা হবে না।
এর উত্তরে সাঈদ বলেন, 'এতে ওই ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, যে কেবল পার্থিব ফায়দার উদ্দেশ্যেই আমল করে থাকে। আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা তার উদ্দেশ্য নয়। আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতেই তার প্রতিদান চুকিয়ে দেন। এটি সূরা রূমের এই আয়াতটির মতোই:
وَمَا آتَيْتُم مِّن رِّبًا لِّيَرْبُوَ فِي أَمْوَالِ النَّاسِ فَلَا يَرْبُو عِندَ اللَّهِ
'মানুষের ধন-সম্পদে তোমাদের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাবে বলে তোমরা সুদে যা কিছু দাও, আল্লাহর কাছে তা বৃদ্ধি পায় না।”
টিকাঃ
[৪৯] সুরা হুদ, আয়াত: ১৫
[৫০] এই অর্থে আবুশ শাইখ বর্ণনা করেছেন; আদ-দুররুল মানসুর, ৪/৪০৮。
[৫১] সুরা রূম, আয়াত: ৩৯
📄 দুনিয়া-আখিরাত উভয়টি অর্জনের পন্থা
১২. সাল্লাম ইবনু মিসকিন থেকে বর্ণিত আছে, হাসান বাসরি প্রায় সময়ই বলতেন: “যুবকেরা! আখিরাত অন্বেষণ করো। এমন অনেককে দেখেছি, যারা আখিরাত তালাশ করতে গিয়ে দুনিয়াও পেয়ে গেছে। কিন্তু এমন কাউকে দেখিনি, যে দুনিয়া অন্বেষণ করতে গিয়ে আখিরাতও পেয়ে গেছে।”
📄 যাহিদের দিনকাল
১৩. হাওশাব বলেন, “আমি হাসান বাসরি -কে বলতে শুনেছি: 'আল্লাহ তাআলা এমন ব্যক্তির প্রতি রহম করুন, যার জীবনযাত্রার মান একই ধরনের। যে মাত্র এক টুকরো রুটি খায়, জীর্ণ পোশাক পরে, মাটিতে পড়ে থাকে। সেইসাথে বেশি করে আল্লাহর ইবাদাত করে, গুনাহের কারণে কাঁদে, আল্লাহর রহমত লাভের আশায় শাস্তি থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে। মৃত্যু পর্যন্ত এভাবেই জীবনযাপন করে সে।”
📄 দুনিয়ার প্রতি আল্লাহর নির্দেশনা
১৪. সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা বলেন, “আমি আবূ হাযেমকে বলতে শুনেছি : 'আল্লাহ তাআলা দুনিয়াকে বলেছেন, যে ব্যক্তি তোমার সেবা-যত্ন করবে, তুমি তাকে কষ্টে ফেলে দেবে। আর যে আমার আনুগত্য করবে, তুমি তার সেবা-যত্ন করবে।”
১৫. ইবনু উমার থেকে বর্ণিত আছে যে, নবি বলেছেন:
مَنْ جَعَلَ الهُمُومَ هَمًّا وَاحِدًا كَفَاهُ الله تعالى هَمَّ آخِرَتِهِ وَمَنْ تَشَعَبَتْ بِهِ الهُمُومُ لَمْ يُبالِ اللَّهُ فِي أَيِّ أَوْدِيتِها هَلَكَ
“কেবল আখিরাতই যার একমাত্র চিন্তার কারণ হবে, তার দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য আল্লাহ-ই যথেষ্ট হয়ে যান। আর যার চিন্তা হবে বহুমুখী, সে কোন উদ্দেশ্য অর্জন করতে গিয়ে কোথায় মরে পড়ে থাকল, সে ব্যাপারে কোনো পরোয়াই করবেন না আল্লাহ তাআলা। "
টিকাঃ
[৫২] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৩/১৯৪。
[৫৩] ইমাম বাইহাকি, আল আদাব, পৃ. ৪৯৫。