📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 মানুষের আসল দারিদ্র্য

📄 মানুষের আসল দারিদ্র্য


৭. যাহ্হাক বলেন, “আমি বিলাল ইবনু সা'দকে বলতে শুনেছি : ‘হে রহমানের বান্দারা! আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর যে বিষয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, তোমরা তা পালন করছ না। অথচ আল্লাহ তাআলা নিজে যা বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছেন, তোমরা আগ বাড়িয়ে তা নিজের ঘাড়ে নিতে চাইছ! এটা তো আল্লাহ-প্রদত্ত মুমিন বান্দার পরিচয় নয়। বুদ্ধিমান কেউ কি সৃষ্টির উদ্দেশ্য থেকে বিমুখ হয়ে দুনিয়া তালাশ করতে পারে? জেনে রাখ, আল্লাহর আনুগত্য করে যেমন সাওয়াবের আশা করে থাকো, তেমনি তাঁর অবাধ্যতা করেও শাস্তির ভয় করা উচিত।’ ”

টিকাঃ
[৪৬] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৯/৩৮৬।

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 দুনিয়ার চার অংশ

📄 দুনিয়ার চার অংশ


৮. হাসান থেকে বর্ণিত আছে, আমের ইবনু আব্দে কায়েস বলেছেন : “চারটি বিষয়ের সমন্বয়েই মানুষের জীবন। পোশাক, খাবার, ঘুম ও নারী। এখন শোনো, একজন নারী দেখা আর কোনো দেয়াল দেখা—উভয়টাই আমার কাছে সমান। আর পোশাকের ক্ষেত্রে কথা হচ্ছে, লজ্জাস্থান ঢাকতে পারলেই হলো। কী দিয়ে ঢাকলাম, তার কোনো পরোয়া করি না। তবে খাবার ও ঘুম—এ দুটি আমার ওপর প্রবল হয়ে যায়। আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই এ দুটির ক্ষতি করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।” বর্ণনাকারী হাসান বলেন, “আল্লাহর শপথ! তিনি উভয়টারই ক্ষতি করে ছেড়েছেন (অর্থাৎ, খাওয়া ও ঘুমের ওপর নিয়ন্ত্রণ এনেছেন)।”
৯. ইউনুস ইবনু উবাইদ থেকে বর্ণিত আছে যে, আমের ইবনু আব্দে কায়েস বলেছেন, “দুনিয়ার চারটি অংশ রয়েছে : অর্থ-সম্পদ, নারী, ঘুম ও খাবার। অর্থ-সম্পদ আর নারীর আমার কোনো প্রয়োজন নেই। আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই বাকি দুটির ক্ষতি করে ছাড়ব। এবং আমার চিন্তা-ভাবনাকে অবশ্যই একটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলব।”
১০. আসমা ইবনু উবাইদ থেকে বর্ণিত আছে, আমের ইবনু আব্দে কায়েস বলেছেন : “আল্লাহর শপথ! যদি পারি, তাহলে আমার চিন্তা-ভাবনাকে অবশ্যই একটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ করে ফেলব।”

টিকাঃ
[৪৭] ইবনু আবী শাইবা, আল কিতাবুল মুসান্নাফ, ১৩/৪৭২。
[৪৮] ইবনু সাদ, আত তাবাকাতুল কুবরা, ৭/১১২。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 একটি আয়াতের ব্যাখ্যা

📄 একটি আয়াতের ব্যাখ্যা


১১. শাইবান থেকে বর্ণিত আছে যে, মানসুর বলেছেন, "আমি সাঈদ ইবনু জুবায়েরকে এই আয়াতের ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করি :
مَن كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لَا يُبْخَسُونَ
'যে ব্যক্তি পার্থিব জীবন ও তার চাকচিক্য কামনা করে, দুনিয়াতেই আমি এদেরকে আমলের পূর্ণ ফল ভোগ করিয়ে দেব এবং এতে তাদের কোনো কমতি করা হবে না।
এর উত্তরে সাঈদ বলেন, 'এতে ওই ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, যে কেবল পার্থিব ফায়দার উদ্দেশ্যেই আমল করে থাকে। আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা তার উদ্দেশ্য নয়। আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতেই তার প্রতিদান চুকিয়ে দেন। এটি সূরা রূমের এই আয়াতটির মতোই:
وَمَا آتَيْتُم مِّن رِّبًا لِّيَرْبُوَ فِي أَمْوَالِ النَّاسِ فَلَا يَرْبُو عِندَ اللَّهِ
'মানুষের ধন-সম্পদে তোমাদের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাবে বলে তোমরা সুদে যা কিছু দাও, আল্লাহর কাছে তা বৃদ্ধি পায় না।”

টিকাঃ
[৪৯] সুরা হুদ, আয়াত: ১৫
[৫০] এই অর্থে আবুশ শাইখ বর্ণনা করেছেন; আদ-দুররুল মানসুর, ৪/৪০৮。
[৫১] সুরা রূম, আয়াত: ৩৯

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 দুনিয়া-আখিরাত উভয়টি অর্জনের পন্থা

📄 দুনিয়া-আখিরাত উভয়টি অর্জনের পন্থা


১২. সাল্লাম ইবনু মিসকিন থেকে বর্ণিত আছে, হাসান বাসরি প্রায় সময়ই বলতেন: “যুবকেরা! আখিরাত অন্বেষণ করো। এমন অনেককে দেখেছি, যারা আখিরাত তালাশ করতে গিয়ে দুনিয়াও পেয়ে গেছে। কিন্তু এমন কাউকে দেখিনি, যে দুনিয়া অন্বেষণ করতে গিয়ে আখিরাতও পেয়ে গেছে।”

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00