📄 যুহদের দুই পিঠ
২. আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, “হাতে যা রয়েছে, তার কোনো কিছুর প্রতি অন্তরে প্রশান্তি অনুভূত না হওয়াই যুহদ। আর দুনিয়ার কিছু হাতছাড়া হয়ে গেলে সে জন্য আফসোস না করাও যুহদের অন্তর্ভুক্ত।” এরপর তিনি তিলাওয়াত করেন :
مَا أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِّن قَبْلِ أَن نَّبْرَأَهَا إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرُ
“জমিনে এবং তোমাদের ওপর যত বিপদ আপতিত হয়, প্রত্যেকটিই আমি সংঘটিত করার পূর্বে কিতাবে লিপিবদ্ধ রাখি। নিশ্চয়ই এটা আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজ।”
৩. আহমাদ ইবনু আবীল হাওয়ারি বলেন, "আমি আবূ মুসা দাইবালিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, 'যুহদ কাকে বলে?' তিনি উত্তরে বলেন: 'দুনিয়ার কিছু হারিয়ে গেলে আফসোস না করা আর কিছু অর্জিত হলে তাতে আনন্দিত না হওয়া'।”
৪. সাহল ইবনু আলি আবী ইমরান বলেন, “আমি আবূ সুলাইমানকে বলতে শুনেছি: 'প্রকৃত যাহিদ (দুনিয়াবিমুখ) কখনো দুনিয়ার নিন্দা করে না আবার প্রশংসাও করে না। সত্যি বলতে দুনিয়ার দিকে ফিরেই তাকায় না সে। দুনিয়া পেয়ে আনন্দিতও হয় না, আর তা চলে গেলে দুঃখবোধও করে না'।”
টিকাঃ
[৪৪] সূরা হাদীদ, ৫৭:২২।
📄 যুহদের ডান
৫. আবু উসমান সাঈদ ইবনু উসমান আল হান্নাত বলেন, "আমি যুননুনকে বলতে শুনেছি: 'যে দুনিয়াদারদের সামনে অধিক পরিমাণে দুনিয়ার নিন্দা করে, সে-ই আসলে সবচেয়ে বড় দুনিয়ালোভী। বিশেষত যখন দুনিয়া না পাওয়ার তীব্র জ্বালায় পড়ে, তখন এমন নিন্দা করে সে। গোপনে গোপনে আসলে সে-ই সবচেয়ে বেশি দুনিয়া তালাশ করে'।”
টিকাঃ
[৪৫] তাঁর মূল নাম খয়্যাত (خیاط) হবে। তবে বিভিন্ন কিতাবাদি ও তার নুসখায় হান্নাত (حناط) লেখা আছে।
📄 যুহদের আলৌকিকতা
৬. আবূ উসমান সাঈদ ইবনু উসমান আল হান্নাত বলেন, “আমি যুননুন-কে বলতে শুনেছি: 'যারা এ জগত (আধ্যাত্মিকতা) থেকে ফিরে এসেছে, তারা মাঝরাস্তা থেকেই ফিরে এসেছে। যদি তারা আল্লাহর নিকট পৌঁছুতে পারত, তাহলে মাঝপথ থেকে ফিরে আসত না। তাই হে আমার ভাই, যুহদ অবলম্বন করো। তা হলে আশ্চর্যকর সব বিষয় প্রত্যক্ষ করতে পারবে।”
📄 মানুষের আসল দারিদ্র্য
৭. যাহ্হাক বলেন, “আমি বিলাল ইবনু সা'দকে বলতে শুনেছি : ‘হে রহমানের বান্দারা! আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর যে বিষয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, তোমরা তা পালন করছ না। অথচ আল্লাহ তাআলা নিজে যা বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছেন, তোমরা আগ বাড়িয়ে তা নিজের ঘাড়ে নিতে চাইছ! এটা তো আল্লাহ-প্রদত্ত মুমিন বান্দার পরিচয় নয়। বুদ্ধিমান কেউ কি সৃষ্টির উদ্দেশ্য থেকে বিমুখ হয়ে দুনিয়া তালাশ করতে পারে? জেনে রাখ, আল্লাহর আনুগত্য করে যেমন সাওয়াবের আশা করে থাকো, তেমনি তাঁর অবাধ্যতা করেও শাস্তির ভয় করা উচিত।’ ”
টিকাঃ
[৪৬] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৯/৩৮৬।