📄 কীভাবে পরিবারের সুখ বিনির্মাণ করবে?
অনেকেই প্রশ্ন করে, কীভাবে পরিবারে শান্তি আনয়ন করব? কেনই বা তারা পারিবারিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও প্রফুল্লতা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়?!
সাইয়িদা আমিনা সায়িদা বলেন, 'সৌভাগ্য আল্লাহর দান। যাকে ইচ্ছা তাকেই তিনি দান করেন। আবার চাইলে কারও কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে পারেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ইচ্ছে মতোই পরিচালনা করেন। যদি সুখ তৈরি করা যেত, তাহলে দুনিয়ার বুকে কোনো হতভাগা থাকত না। যদি জীবনের শেষ অংশে সুখী হওয়ার নিশ্চয়তা থাকত, তাহলে প্রথম অংশে কষ্ট করে অতিবাহিত করেও মানুষ আনন্দ অনুভব করত। যদি সুখের কণাগুলো পৃথিবীর কোনো আনাচে-কানাচে লুকিয়েও থাকত, তবুও মানুষ দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে সেখানে পৌঁছার ইচ্ছা করত। যদি আগুন আর কাঁটার বিছানার ওপর দিয়েও পথ অতিক্রম করতে হতো, তবুও মানুষ পিছপা হতো না।
ঘরের মধ্যে শান্তি নিশ্চিত হলে পুরো জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। সুখ একটি মানসিক বিষয়। যা আল্লাহর ইচ্ছায় তৈরি হয়। তবে সুখ বিনির্মাণে ভাগ্য অনেক ভূমিকা রাখে। কিন্তু আমাদের আত্মপ্রচেষ্টা বলে সুখ লাভের পথ আবিষ্কার করতে হবে এবং সুখের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, জীবনে একবার হলেও সুখ নিজ থেকে তোমার ঘরে এসে দেখা দেবে। কিন্তু তোমার এমনটা ভাবা ঠিক হবে না যে, তখন যদি অনুকূল ও উপযোগী পরিবেশ পাই, তাহলে তা গ্রহণ করব, অন্যথায় করব না। বুদ্ধিমান সে, যে সুযোগ পেয়ে সুখী পরিবার গঠনের মৌলিক উপাদানগুলো সংগ্রহ করেছে। মৌলিক কিছু উপাদান হলো:
ভালোবাসা: সুখী পরিবার গঠনের অন্যতম কার্যকর উপাদানের নাম ভালোবাসা। তবে এর দ্বারা এমন ভালোবাসা উদ্দেশ্য নয়, যা দ্রুত লাফিয়ে ওঠে, আবার ক্ষণিকের মধ্যেই নিভে যায়। বরং এখানে ভালোবাসা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে পারস্পরিক আত্মিক সামঞ্জস্যতা এবং মহৎ মানসিক অনুভূতি।
সুখী পরিবার কেবল ভালোবাসার উপাদানের ওপরই নির্ভর করে থাকে না। বরং এর জন্য প্রয়োজন স্বামী-স্ত্রীর মাঝে পারস্পরিক ক্ষমা-সুন্দর দৃষ্টি।
ক্ষমাশীলতা: উভয়ের মাঝে আস্থা ও সুধারণার কথাগুলো বিনিময় করতে হবে। আমরা তো বাড়িতে অনেক মজা করি। যদি আমরা বিশ্বাস করি, আমরা মানুষ আর ভুল মানুষের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য—তাহলে এটা আশ্চর্যের কিছু নয় যে, সঠিক কথা বা কাজের মূল্যায়ন দুজনের কেউ না কেউ নিজের দিকে নেবে। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, ভুল করার পর কেউ ভুল স্বীকার না করা কিংবা ভুল সংশোধনের চেষ্টা না করা।
আরও আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, একজনের ভুল দেখে আরেকজনের মনে কষ্ট আসা এবং মনের মধ্যে তা পুষতে থাকা। অতঃপর মনের গভীরে লালিত এই কষ্ট থেকে সৃষ্টি হয় লেলিহান অগ্নিশিখা। যা পরবর্তী সময়ে বিস্ফোরিত হয়ে বেরিয়ে আসে। কিন্তু যদি কষ্ট আসার সাথে সাথে একজন আরেকজনকে ক্ষমা করে দিত, তাহলে ঘরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আসত।
সহায়তা: পারস্পরিক সহায়তা একটি আদর্শ সুখী পরিবার গঠনের অন্যতম উপাদান। এটি ছাড়া ভালোবাসা এবং ক্ষমা করার মূল্য থাকে না। এগুলো একটি আরেকটিকে শক্তিশালী করে। আর পারস্পরিক সহায়তার দুটি দিক রয়েছে। নৈতিক ও বস্তুগত। ঘরের যেকোনো সমস্যার সমাধানের জন্য উত্তম পরিকল্পনা গ্রহণ করার দ্বারা প্রথম দিকটি দৃশ্যমান হয়। স্বামী-স্ত্রী একজন আরেকজনের কষ্টে সহায়তা না করলে এবং পরস্পরকে মূল্যায়ন না করলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা সৃষ্টি হয়। এ ছাড়াও একজন আরেকজনকে সহযোগিতা না করে কেবল নিজের অবদানের সাফাই গাওয়ার দ্বারাও দূরত্ব সৃষ্টি হয়।
বিনয় ও শ্রদ্ধার সাথে পারস্পরিক নির্দোষিতা ও পবিত্রতার কথা উল্লেখ না করে সুখী পরিবার গঠনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া যাবে না। কেননা, এটি সম্মানজনক জীবনযাপনের এবং মানুষের মাঝে পারস্পরিক সম্পর্ক রক্ষার কেন্দ্রবিন্দু।
প্রকৃত পবিত্রতা ও নির্দোষিতা: মুখের কথা, অন্তরের চিন্তা এবং কাজকর্ম সবই এর অন্তর্ভুক্ত। কথাকে ত্রুটিমুক্ত রাখার জন্য, মস্তিষ্ককে বিনষ্টতা থেকে রক্ষা করার জন্য এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দ্বারা নিজের ও মানুষের জন্য কল্যাণকর কাজ করা ও অকল্যাণকে প্রতিহত করার জন্য এগুলোর প্রয়োজন রয়েছে।
জনৈক সমাজবিজ্ঞানী লিখেছেন, 'অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, মতবিরোধ এড়াতে স্বামী-স্ত্রীর সবচেয়ে কার্যকর ও শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি হলো, এমন কোনো অগ্নিকাণ্ড যাতে প্রজ্বলিত না হয়, যা শুরু হওয়ার সময় অল্প পানি দ্বারা নেভানো সম্ভব নয়। কেননা, অধিকাংশ পারিবারিক মতবিরোধ (যেগুলো তালাক পর্যন্তও গড়ায়) সাধারণ ও নগণ্য কিছু কারণে হয়ে থাকে। যেগুলো ধীরে ধীরে উভয়ের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করে এবং একপর্যায়ে তা সংশোধন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
পারিবারিক সুখের দৃষ্টান্ত মৌমাছির নির্মিত মৌচাকের মতো। এটি নির্মাণে যত বেশি চেষ্টা-প্রচেষ্টা করা হবে, তত বেশি মিষ্টতা বৃদ্ধি পাবে।
📄 নারী ও সৌভাগ্য
প্রায়শ নারীরা নিজেদের জন্য সৌভাগ্যের উপকরণগুলো নির্ধারণ করে রাখে। একজন নারী সাধারণত যেগুলো চায়, সেগুলো হলো, শক্তিশালী একজন স্বামী, সন্তানসন্ততি, সুন্দর বাড়ি, ভালো অর্থনীতি ইত্যাদি। এই আশাগুলো সর্বদা নারীমনে ঘুরপাক খেতে থাকে। সে এগুলোর স্বপ্ন দেখে এবং জীবনে এগুলো পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করে।
অধিকাংশ নারীর চোখে একজন ভালো স্বামী হওয়া সাধারণ কোনো বিষয় নয়। অনেক পুরুষ আছে সবকিছুতে নারীর ওপরই নির্ভর করে থাকে এবং পারিবারিক যেকোনো বিষয়ে তার কোনো মূল্যায়নই থাকে না।
যেকোনো নারীই প্রত্যাশা করে, তার স্বামী যেন শক্তিশালী, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও সহানুভূতিশীল হয়। যেকোনো বিষয় অনুধাবনের ক্ষেত্রে যেন মহৎ হয়। উত্তম উপদেশদাতা, বিশ্বস্ত, অন্তরঙ্গ বন্ধু, একনিষ্ঠ প্রেমিক হয় এবং স্বামী যেন এমন সুপুরুষ হয়, যার ওপর সারা জীবন ভরসা করা যায়।
📄 পুরুষ ও সৌভাগ্য
পুরুষরা অধিক আশা ও প্রত্যাশা করে। তারা সম্পদ, শক্তি, দাপট ও ক্ষমতাকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে দেখে। যদি তাদের আশাগুলো বাস্তবায়িত হয় এবং কাঙ্ক্ষিত বস্তু পেয়ে যায়, তাহলে কি তারা প্রকৃত সুখ পাওয়ার সৌভাগ্য লাভ করবে?
যেসব পুরুষ মানুষের অর্থের দিকে না তাকিয়ে তাদের সম্মান পেয়ে লাভবান হতে চায়, এরা অধিকাংশই হতভাগা-দুর্ভাগা হয়। কেবল প্রসিদ্ধি ও পরিচিতি লাভের চেষ্টা করা আত্মিক প্রশান্তি ও সৌভাগ্য লাভের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। শুধু এগুলো সৌভাগ্য লাভের জন্য যথেষ্ট নয়। বরং কখনো কখনো এগুলো দুর্ভাগ্যের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কোনো পুরুষ যদি তার স্ত্রী-সন্তানের প্রতি সন্তুষ্ট থাকে, কর্মক্ষেত্রে সফল হয়, সুখে দুঃখে, গরম ও ঠান্ডায় সব সময় হাসিখুশি থাকে, সে-ই জীবনে সুখী হতে পারবে।
পক্ষান্তরে যদি স্বামী স্ত্রীকে ঘৃণা করে, সন্তানের প্রতি আস্থাবান না হয়, কাজকর্মকে বুকের মধ্যে চেপে বসা দুঃস্বপ্নের মতো মনে করে, দিন হলে রাত আসার অপেক্ষায় এবং রাত হলে দিনের আলো ফোটার আশায় থাকে, তাদের উচিত নিজেদের একটু ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং নিজেদের অবস্থাকে সংশোধন করা। অন্যথায় সব সময় দুর্ভাগ্য আর হতাশার মধ্যে কাটাতে হবে।
📄 স্বামী-স্ত্রীর মাঝে পার্থক্য
শুরুতেই উল্লেখ্য যে, স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে ব্যক্তিগত অনেক পার্থক্য রয়েছে। যেমন : স্বামীর এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, যেগুলো জন্মগতভাবে সে তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে পেয়েছে। স্ত্রীর মাঝে সেগুলোর পরিবর্তে তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অন্য কোনো বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে।
পরিবেশগত পার্থক্য থাকতে পারে। হয়তো স্বামী যেই পরিবেশে বড় হয়েছে, স্ত্রী তেমন পরিবেশে বড় হয়নি। আবার স্ত্রী যেমন পরিবেশে বড় হয়েছে, স্বামী তেমন পরিবেশে বড় হয়নি। কেউ হয়তো দ্বীনদার পরিবারে লালিতপালিত হয়েছে, কেউ দুনিয়াদার পরিবারে। একেক জনের অভ্যাস একেক রকম হতে পারে। উভয়ের মাঝে সামাজিকতার দিক থেকে ভিন্নতা থাকতে পারে।
প্রত্যেকের মাঝে মানসিকতার পার্থক্য থাকতে পারে। হয়তো স্বামী কিছুটা রসিক, প্রাণবন্ত ও প্রফুল্ল; কিন্তু তার স্ত্রী তার বিপরীত।
আরও থাকতে পারে চারিত্রিক পার্থক্য। কেউ হয়তো উদার এবং ক্ষমাশীল। আর অপরজন কিছুটা বিপরীত। থাকতে পারে শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য। ইত্যাদি এমন আরও বহু পার্থক্য থাকতে পারে উভয়ের মাঝে।
কিন্তু এত এত অমিল ও পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও উভয়ের মাঝে পারস্পরিক মিল হওয়ার অনেক বড় কিছু দিক রয়েছে। যেগুলো কাজে লাগিয়ে সকল অমিলকে পিছে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়; যাতে উভয়ের মাঝে সম্পর্ক বৃদ্ধি পায় এবং শক্তিশালী হয়। পার্থক্য ও ভিন্নতা হাজারো পয়েন্টে থাকলেও মিল হওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলার একটি বাণীই যথেষ্ট। তিনি ইরশাদ করেন:
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
'আর এক নিদর্শন این যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন; যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।'১১০
সুতরাং দুজনের মাঝে ভিন্নতা থাকলেও অবশ্যই দুজনকেই শান্তি ও পূর্ণতা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করতে হবে। প্রত্যেককেই প্রত্যেকের মধ্যে থাকা কল্যাণকর গুণগুলো দ্বারা পরস্পরকে সহায়তা করতে হবে। যাতে তাদের মাঝে কোনো ত্রুটি ও ফাটল অনুপ্রবেশ করতে না পারে। একে অপরের জন্য ব্যক্তিগত কিছু অভ্যাস ও স্বভাবকে পরিবর্তন করতে হবে। যখন তোমার স্ত্রীর সুখের জন্য তোমার কিছু ব্যক্তিগত অভ্যাস ও আগ্রহ পরিবর্তন করার বিষয়টি সে জানতে পারবে, তাহলে সেও তোমার জন্য তার কিছু অভ্যাসকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করবে, কিছু আগ্রহ ও ইচ্ছাকে কুরবান করবে।
উভয়ের মধ্যকার ভিন্নতাগুলোকে একে অপরকে আকর্ষণ করার কাজে লাগানো যায়। সুতরাং স্ত্রীর মাঝে কোনো ভিন্নতা দেখে নিজেকে দুশ্চিন্তায় ফেলো না। কেননা, তুমি তো এমন কোনো নারীকে বিয়ে করোনি, যে তোমার স্বভাবের সাথে পরিপূর্ণ মিল রাখে এবং এমন কোনো মেয়ে এনে ঘরে তোলোনি, যার শিক্ষাগত যোগ্যতা তোমার সমান। এমনটা ভাবতে পারলে তবেই পারিবারিক জীবনে সুখী হতে পারবে। জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পদ্ধতিগুলো সুখের পথ বিনির্মাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
একটি বিষয় প্রত্যেকের জানা থাকা দরকার। সুখী পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে অবশ্যই সেই সম্পর্ক তাকওয়া ও শরিয়াহর নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। যদি সম্পর্কগুলো শরিয়াহর মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত না হয়, সেই সম্পর্ক যেকোনো মুহূর্তে নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে।
তাই তো রাসুল ইরশাদ করেছেন:
تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لِأَرْبَعٍ: لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا، فَاظْفَرُ بِذَاتِ الدِّينِ، تَرِبَتْ يَدَاكَ
'চারটি দিক বিবেচনা করে নারীকে বিয়ে করা হয়—তার সম্পদ, বংশমর্যাদা, সৌন্দর্য ও দ্বীনদারি (দেখে)। সুতরাং তুমি দ্বীনদারিকে প্রাধান্য দাও। অন্যথায় ধূলিধূসরিত হোক তোমার হস্তদ্বয়। ১১২
রাসুল আরও বলেন:
مَا اسْتَفَادَ الْمُؤْمِنُ بَعْدَ تَقْوَى اللهِ خَيْرًا لَهُ مِنْ زَوْجَةٍ صَالِحَةٍ، إِنْ أَمَرَهَا أَطَاعَتْهُ، وَإِنْ نَظَرَ إِلَيْهَا سَرَّتْهُ، وَإِنْ أَقْسَمَ عَلَيْهَا أَبَرَّتْهُ، وَإِنْ غَابَ عَنْهَا نَصَحَتْهُ فِي نَفْسِهَا وَمَالِهِ
'কোনো মুমিন ব্যক্তি আল্লাহভীতির পর উত্তম যা লাভ করে, তা হলো পুণ্যময়ী স্ত্রী। স্বামী তাকে কোনো নির্দেশ দিলে সে তা পালন করে; সে তার দিকে তাকালে (তার হাস্যোজ্জ্বল চেহারা ও প্রফুল্লতা) তাকে (স্বামীকে) আনন্দিত করে এবং সে তাকে শপথ করে কিছু বললে তা পূর্ণ করে। আর স্বামীর অনুপস্থিতিতে সে তার সম্ভ্রম ও স্বামীর সম্পদের হিফাজত করে। '১১৩
টিকাঃ
১১০. সুরা আর-রুম, ৩০: ২১।
১১১. কাইফা তুয়ামিলু জাওজাতাকা, উসতাজ ইউসুফ মিখাইল আসআদ।
১১২. সহিহুল বুখারি: ৫০৯০, সহিহু মুসলিম : ১৪৬৬।
১১৩. সুনানু ইবনি মাজাহ: ১৮৫৭।