📘 সৌভাগ্যের হাতছানি > 📄 নিকটাত্মীয়দের সুখী করো

📄 নিকটাত্মীয়দের সুখী করো


এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, নিকটাত্মীয়দের মাঝে সৌহার্দ্য, সহানুভূতি ও ভালোবাসার বন্ধনকে মজবুত করার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা। সুতরাং যারা এসব সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার দুঃসাহস করে এবং আত্মীয়তার সম্পর্কে ফাটল ধরায়, তারা আল্লাহর নীতির সীমালঙ্ঘন করল। যা-ই করুক না কেন, পরিশেষে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে। তিনি ইরশাদ করেন:
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا
'হে মানবসমাজ, তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দুজন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট (হক) চেয়ে থাকো এবং আত্মীয়-জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।'১০১
রাসুল বলেছেন:
مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ، أَوْ يُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ، فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ
'যে ব্যক্তি চায় যে, তাকে তার রিজিকের প্রশস্ততা বা জীবন (বরকতময় হয়ে) দীর্ঘ হওয়া আনন্দিত করুক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখে। '১০২
তিনি আরও বলেন :
صِلَةُ الرَّحِمِ، وَحُsْنُ الْخُلُقُ يُعَمِّرْنَ الدَّيَارَ وَيَزِدْنَ فِي الْأَعْمَارِ
'আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখা ও উত্তম চরিত্র অবলম্বন করা দেশকে আবাদ রাখে এবং আয়ু বৃদ্ধি করে।'১০৩

টিকাঃ
১০১. সুরা আন-নিসা, ৪: ১।
১০২. সহিহুল বুখারি : ২০৬৭।
১০৩. শুআবুল ইমান: ৭৫৯৯।

📘 সৌভাগ্যের হাতছানি > 📄 মানুষের প্রয়োজন পূরণের মাঝে সুখ ও সৌভাগ্য রয়েছে

📄 মানুষের প্রয়োজন পূরণের মাঝে সুখ ও সৌভাগ্য রয়েছে


যখন কাউকে তোমার কাছে প্রয়োজন পূরণের জন্য আসতে দেখবে, তখন 'আলহামদুলিল্লাহ' বলবে। কেননা, তিনি তোমাকে তার প্রয়োজনের কথা বলার পাত্র বানিয়েছেন। অতঃপর আবার 'আলহামদুলিল্লাহ' বলবে। কারণ, তিনি তোমাকে মানুষের প্রয়োজন পূরণের তাওফিক দিয়েছেন। মসজিদে ইতিকাফের চেয়েও মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণের জন্য চেষ্টা করা তোমার জন্য অধিক উত্তম। তোমার কোনো মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করে অথবা কোনো কাজে সহায়তা করার মাধ্যমে তাকে আনন্দ দেওয়ার মাঝে অনেক বড় সৌভাগ্য রয়েছে।
রাসুল -এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, 'হে আল্লাহর রাসুল, কারা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়?' তিনি বললেন:
أَحَبُّ النَّاسِ إِلَى اللهِ أَنْفَعُهُمْ لِلنَّاسِ، وَأَحَبُّ الْأَعْمَالِ إِلَى اللهِ سُرُورُ تُدْخِلُهُ عَلَى مُسْلِمٍ، أَوْ تَكْشِفُ عَنْهُ كُرْبَةٌ، أَوْ تَقْضِي عَنْهُ دَيْنًا، أَوْ تَطْرُدُ عَنْهُ جُوعًا، وَلَئِنْ أَمْشِي مَعَ أَخِي لِي فِي حَاجَةٍ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَعْتَكِفَ فِي هَذَا الْمَسْجِدِ شَهْرًا فِي مَسْجِدِ الْمَدِينَةِ، وَمَنْ كَفَّ غَضَبَهُ سَتَرَ اللَّهُ عَوْرَتَهُ، وَمَنْ كَظَمَ غَيْظَهُ وَلَوْ شَاءَ أَنْ يُمْضِيَهُ أَمْضَاهُ مَلَأَ اللَّهُ قَلْبَهُ رَجَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ مَشَى مَعَ أَخِيهِ فِي حَاجَةٍ حَتَّى يُثَبِّتَهَا لَهُ ثَبَّتَ اللَّهُ قَدَمَهُ يَوْمَ تَزُولُ الْأَقْدَامُ
'আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় মানুষ তারা, যারা মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার করে। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হচ্ছে, কোনো মুসলিমের অন্তরকে খুশি করা বা তার কোনো বিপদ দূর করে দেওয়া বা তার ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া বা তার ক্ষুধা দূর করা। কোনো ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে তার সাথে হাঁটা আমার কাছে এই মসজিদে (মসজিদে নববি) এক মাস ইতিকাফ করার চেয়েও অধিক প্রিয়। যে রাগ প্রশমিত করে, আল্লাহ তার দোষ গোপন রাখেন। যে ক্রোধ প্রয়োগ করার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা নিয়ন্ত্রণ করে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার অন্তরকে সন্তুষ্টি দ্বারা ভরে দেবেন। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করার জন্য তার সাথে চলে এবং পূরণ করে দেয়, আল্লাহ তার পদদ্বয়কে সেদিন দৃঢ় রাখবেন, যেদিন (অনেকের) পাসমূহ পদস্খলিত হবে।'১০৪
তিনি আরও ইরশাদ করেন:
إِنَّ لِلَّهِ عِنْدَ أَقْوَامٍ نِعَمَّا يُقِرُّهَا عِنْدَهُمْ مَا كَانُوا فِي حَوَائِجِ النَّاسِ، مَا لَمْ يَمَلُّوهُمْ فَإِذَا مَلَّوُهُمْ نَقَلَهَا مِنْ عِنْدِهِمْ إِلَى غَيْرِهِمْ
'নিশ্চয় লোকদের কাছে আল্লাহর এমন কিছু নিয়ামত আছে, যা আল্লাহ তাদের কাছে স্থির রাখেন, যতক্ষণ তারা মানুষের প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট থাকে; যতক্ষণ না তারা তাদের বিরক্ত করে। যখন তারা তাদের বিরক্ত করে, তখন আল্লাহ তাআলা তা অন্যদের কাছে স্থানান্তরিত করেন। ১০৫
আল্লাহর জন্য ভালোবাসার একটি আলামত হলো, মুসলিম ভাইয়ের উপকার করতে পছন্দ করা এবং তার কাছে যাওয়ার জন্য প্রফুল্ল হওয়া, যেমনিভাবে তার উপকার করে আনন্দিত হও। অতএব যখন তুমি এই উপকার করতে সচেষ্ট হবে, তাহলে উত্তম আনুগত্যের মাধ্যমে এবং উন্নত প্রতিদানের অধিকারী হয়ে আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করবে।
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, 'তিনি মসজিদে নববিতে ইতিকাফরত ছিলেন। এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে সালাম দিয়ে বসল। অতঃপর ইবনে আব্বাস তাকে লক্ষ্য করে বললেন, “হে অমুক, তোমাকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মনে হচ্ছে!” লোকটি বলল, “হে আল্লাহর রাসুলের চাচাতো ভাই, অমুকের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব আমার। এই কবরওয়ালার সম্মানের শপথ, আমার কাছে এর সক্ষমতা নেই।” ইবনে আব্বাস বললেন, "আমি কি তার ব্যাপারে তোমার সাথে কথা বলব না?” সে বলল, “যদি আপনি পছন্দ করেন তাহলে বলুন।” তারপর ইবনে আব্বাস জুতো পরে মসজিদে থেকে বেরিয়ে আসলেন। লোকটি তাকে বলল, “আপনি কি ভুলে গেছেন, আপনি কোথায় ছিলেন?” তিনি বললেন, “না, কিন্তু আমি এই কবরের অধিবাসীকে বলতে শুনেছি যে :
مَنْ مَشَى فِي حَاجَةِ أَخِيهِ وَبَلَغَ فِيهَا كَانَ خَيْرًا مِنِ اعْتِكَافِ عَشْرِ سِنِينَ، وَمَنِ اعْتَكَفَ يَوْمًا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ تَعَالَى جَعَلَ اللَّهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّارِ ثَلَاثَ خَنَادِقَ
'কারও তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে তার সাথে চলা এবং তা পূরণ করে দেওয়া দশ বছর ইতিকাফ করার চেয়ে উত্তম। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য একদিন ইতিকাফ করে, আল্লাহ তার ও জাহান্নামের মাঝে তিন খন্দক পরিমাণ দূরত্ব করে দেন। '১০৬
অপর বর্ণনায় এসেছে,
كُلُّ خَنْدَقٍ أَبَعْدُ مِمَّا بَيْنَ الْخَافِقَيْنِ
'প্রত্যেক খন্দক পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্তের ব্যবধানের চেয়ে অধিকতর দূরবর্তী। ১০৭
মুহাম্মাদ গাজালি বলেন, 'এই হাদিসে মুসলিমদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনের চমৎকার উপমা ফুটে উঠেছে। আরও ফুটে উঠেছে সমাজসেবার অনুপম দৃষ্টান্ত। যা একটি আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য এবং সমাজবদ্ধ মানুষের মাঝে বন্ধন অটুট রাখতে খুবই প্রয়োজন।
ইবনে আব্বাস মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণের লক্ষ্যে ইতিকাফ ছেড়ে দেওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন। ইতিকাফ একটি ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহর কাছে ইতিকাফের অনেক মর্যাদা রয়েছে। কেননা, ইতিকাফে মানুষ সালাত, সিয়াম, জিকির-আজকার ইত্যাদি চমকপ্রদ ইবাদতে মগ্ন থাকে। তার ওপর যদি ইতিকাফ মসজিদে নববিতে করা হয়! তাহলে তো অন্যান্য মসজিদে এক হাজার বার ইতিকাফ করার সমান প্রতিদান পাওয়া যায়।
মসজিদে নববিতে ইতিকাফের এত বেশি ফজিলত থাকা সত্ত্বেও ইবনে আব্বাস সাহায্যপ্রার্থী মুসলিম ভাইকে সহযোগিতায় এগিয়ে যাওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এমনই শিক্ষা পেয়েছেন। ১০৮

টিকাঃ
১০৪. আল-মুজামুল কাবির লিত-তাবারানি: ৮৬১।
১০৫. আল-মুজামুল আওসাত: ৮৩৫০।
১০৬. শুআবুল ইমান: ৩৬৭৯।
১০৭. আল-মুজামুল আওসাত: ৭৩২৬।
১০৮. খুলুকুল মুসলিম, শাইখ মুহাম্মাদ আল-গাজালি।

📘 সৌভাগ্যের হাতছানি > 📄 পরস্পর হাদিয়া দেওয়ার মাঝে সুখ ও সৌভাগ্য রয়েছে

📄 পরস্পর হাদিয়া দেওয়ার মাঝে সুখ ও সৌভাগ্য রয়েছে


হাদিয়ার একটি জাদুময়ী প্রভাব আছে। পারস্পরিক ভালোবাসা, সৌহার্দ্য, হৃদ্যতা বৃদ্ধিতে এর কার্যকারিতা অনেক। রাসুল ﷺ ইরশাদ করেছেন :
وَتَهَادَوْا تَحَابُّوا، وَتَذْهَبِ الشَّحْنَاءُ
'তোমরা হাদিয়া দাও—তাহলে পরস্পরের মাঝে ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে এবং তা (তোমাদের মধ্যকার) বিদ্বেষ দূর করে দেবে। ১০৯
কথিত আছে, সফর থেকে আসলে পরিবারকে কিছু হাদিয়া দাও। হোক তা সামান্য পাথরের টুকরো।

টিকাঃ
১০৯. মুয়াত্তা মালিক: ১৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00