📘 সৌভাগ্যের হাতছানি > 📄 ভালো কাজ মন্দ কাজকে দূর করে দেয়

📄 ভালো কাজ মন্দ কাজকে দূর করে দেয়


পবিত্র কুরআনে একটি মহান আয়াত আছে। যেখানে একই সঙ্গে দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয় অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও চমৎকার ভঙ্গিতে তুলে ধরা হয়েছে। ভুলত্রুটি বহু মানুষের পদদ্বয়কে রক্তাক্ত করেছে, তাদের সুখ ও সৌভাগ্যকে পিষে দিয়েছে এবং সহজ ও সাবলীল জীবনধারণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।
আমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে কোনো ভুল বা পাপ করে না?! না, এমন কাউকে পাওয়া যাবে না। কিন্তু যখন মানুষ খারাপ কাজ করার পরপরই কোনো ভালো কাজ করে নেবে, তখন আল্লাহ তাআলা তা মুছে দেবেন। আমাদের সামাজিক জীবনে ও মিলবন্ধনে আল্লাহ তাআলার এই ঐশী হিদায়াতটি প্রয়োগ করা খুবই প্রয়োজন। প্রতিনিয়ত মানুষ একে অন্যের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে। সহপাঠীর সাথে কোনো না কোনো ভুল আচরণ করছে, স্ত্রীর সাথে রাগারাগি করছে, বন্ধুবান্ধবের সাথে অন্যায় করছে, সন্তানের সাথে রূঢ় আচরণ দেখাচ্ছে, প্রতিবেশীকে কষ্ট দিচ্ছে ইত্যাদি এমন আরও বহু খারাপ আচরণ প্রকাশ পাচ্ছে। কখনো আমাদের মেজাজ খারাপ থাকে, কখনো শিরাগুলো স্থির থাকে না, আবার কখনো ভুল বোঝাবুঝি হয়, মাঝে মাঝে শয়তান প্রভাব বিস্তার করে, কিংবা অজান্তেই মুখ দিয়ে অপ্রীতিকর কথা বেরিয়ে আসে, কখনো কারও চিন্তায় হৃদয়টা সংকীর্ণ হয়ে রয় ইত্যাদি বহু কারণে আমরা অজান্তেই অন্যের সাথে এমন আচরণ করে বসি, যার উপযুক্ত সে নয়।
এ ধরনের আচরণ প্রকাশ পাওয়া কখনোই উচিত নয়। কিন্তু তবুও প্রকাশ পেয়েই যায়। তবে এর মহৌষধ হচ্ছে, খারাপ আচরণের পরপরই কোনো ভালো আচরণ করা। তাহলেই খারাপটা মুছে যাবে। তবে তা হতে হবে উত্তম বাক্য উচ্চারণের মাধ্যমে, সুন্দর চেহারা দিয়ে, অন্তর থেকে বেরিয়ে আসা সৌহার্দ্য দিয়ে, হাস্যোজ্জ্বলভাবে, উদারতার সাথে, সত্য প্রশংসার মাধ্যমে, একনিষ্ঠতার সাথে অপারগতা প্রকাশ করার মাধ্যমে এবং অন্যদের আপত্তিগুলো অনুভব করার মাধ্যমে। কারণ, তারাও তো আমাদের মতোই মানুষ। যেভাবে আমরা ভুল করি, তারাও তো ভুল করে থাকে। কখনো তারা এমন পরিস্থিতির শিকার হয়, যা আমরা জানিই না। যেসব পরিস্থিতির কারণে তারা টেনশনে থাকে। সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষ সে, যে অন্যের কাছে নিজের অক্ষমতা ও অপারগতা প্রকাশ করে। এ ধরনের মানুষ জীবনে সুখী হতে পারে। অসম্ভব কিছু তালাশ করে জীবনকে কুড়ে কুড়ে শেষ করে না।
যদি কখনো তুমি ভুল করো, তাহলে হা-হুতাশ ও আক্ষেপ করেই সময় ব্যয় করো না। বরং এমনভাবে অনুতপ্ত হও, যার ফলে ভুল থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে পাও এবং উপকৃত হতে পারো। কিন্তু কখনো 'যদি এমন হতো...' ইত্যাদি কথা বোলো না। কারণ, এমন কথায় শয়তান সুযোগ পায়। রাসুল ﷺ-এর নির্দেশনা হলো, খারাপ কোনো কাজ করে ফেললে এর পরপরই ভালো কাজ করে নাও। তাহলে অচিরেই ভুল দূর হয়ে যাবে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় সামনেই সৌভাগ্য দেখতে পাবে। তিনি বলেন:
اتَّقِ اللهِ حَيْثُمَا كُنْتَ، وَأَتْبِعِ السَّيِّئَةَ الحَسَنَةَ تَمْحُهَا، وَخَالِقِ النَّاسَ بِخُلُقٍ حَسَن
'যেখানেই থাকো আল্লাহকে ভয় করো। মন্দ কাজের পরপরই ভালো কাজ করো—তাতে মন্দ দূরীভূত হয়ে যাবে। আর মানুষের সাথে উত্তম আচরণ করো। ৯৭

টিকাঃ
৯৭. সুনানুত তিরমিজি: ১৯৮৭।

📘 সৌভাগ্যের হাতছানি > 📄 পিতামাতাকে সুখে রাখো

📄 পিতামাতাকে সুখে রাখো


এমন কোনো মানুষ নেই, যে পিতামাতার প্রতি সন্তানের সুন্দর ব্যবহারের আবশ্যকীয়তার কথা জানে না। পৃথিবীর আলো-বাতাস দেখার পেছনে একমাত্র মাধ্যম তারা দুজনই। তারা সন্তানকে সাধ্যের সবটুকু চেষ্টা বিলীন করে লালনপালন করেছেন। সন্তানের সুখ-শান্তির জন্য জীবনভর কাজ করে গেছেন। সুতরাং তাদের সম্মান করা, তাদের সাথে সদাচরণ করা বিশেষ করে বার্ধক্যে তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার ও খিদমত করা সন্তানের জন্য আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا - وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلُّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
'তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত কোরো না এবং পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদের "উহ” শব্দটিও বোলো না এবং তাদের ধমক দিয়ো না। আর তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলো। তাদের জন্য সদয়ভাবে নম্রতার বাহু প্রসারিত করে দাও আর বলো, "হে আমার পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম করুন, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালনপালন করেছেন।৯৮
রাসুল বলেছেন:
بَرُّوا آبَاءَكُمْ تَبَرُّكُمْ أَبْنَاؤُكُمْ
'তোমরা তোমাদের পিতামাতার সাথে সদাচরণ করো। তাহলে তোমাদের সন্তানরাও তোমাদের সাথে সদাচরণ করবে।'৯৯
তিনি আরও বলেন:
مَنْ بَرَّ وَالِدَيْهِ طُوبَى لَهُ، زَادَ اللَّهُ فِي عُمُرِهِ
'যে ব্যক্তি পিতামাতার সাথে সদাচরণ করবে, তার জন্য সুসংবাদ। আল্লাহ তাআলা তার হায়াত বাড়িয়ে দেবেন।'১০০
একদিন ইবনে উমর এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে তার মাকে কাঁধে নিয়ে কাবা ঘর তাওয়াফ করছে। তাই সে বলল, 'হে ইবনে উমর, আপনি কি দেখছেন না, আমি তার প্রতিদান দিয়ে দিচ্ছি?' তিনি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, 'না, না; বরং তুমি তার সাথে সুন্দর আচরণ করছ। আর আল্লাহ তাআলা তোমাকে এই সামান্য সুন্দর আচরণের কারণে অনেক বেশি পুরস্কার দেবেন।'

টিকাঃ
৯৮. সুরা আল-ইসরা, ১৭: ২৩-২৪।
৯৯. আল-মুজামুল আওসাত: ১০০২।
১০০. আল-মুজামুল কাবির লিত-তাবারানি: ৪৪৭, মুসতাদরাকুল হাকিম: ৭২৫৭।

📘 সৌভাগ্যের হাতছানি > 📄 নিকটাত্মীয়দের সুখী করো

📄 নিকটাত্মীয়দের সুখী করো


এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, নিকটাত্মীয়দের মাঝে সৌহার্দ্য, সহানুভূতি ও ভালোবাসার বন্ধনকে মজবুত করার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা। সুতরাং যারা এসব সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার দুঃসাহস করে এবং আত্মীয়তার সম্পর্কে ফাটল ধরায়, তারা আল্লাহর নীতির সীমালঙ্ঘন করল। যা-ই করুক না কেন, পরিশেষে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে। তিনি ইরশাদ করেন:
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا
'হে মানবসমাজ, তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দুজন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট (হক) চেয়ে থাকো এবং আত্মীয়-জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।'১০১
রাসুল বলেছেন:
مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ، أَوْ يُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ، فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ
'যে ব্যক্তি চায় যে, তাকে তার রিজিকের প্রশস্ততা বা জীবন (বরকতময় হয়ে) দীর্ঘ হওয়া আনন্দিত করুক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখে। '১০২
তিনি আরও বলেন :
صِلَةُ الرَّحِمِ، وَحُsْنُ الْخُلُقُ يُعَمِّرْنَ الدَّيَارَ وَيَزِدْنَ فِي الْأَعْمَارِ
'আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখা ও উত্তম চরিত্র অবলম্বন করা দেশকে আবাদ রাখে এবং আয়ু বৃদ্ধি করে।'১০৩

টিকাঃ
১০১. সুরা আন-নিসা, ৪: ১।
১০২. সহিহুল বুখারি : ২০৬৭।
১০৩. শুআবুল ইমান: ৭৫৯৯।

📘 সৌভাগ্যের হাতছানি > 📄 মানুষের প্রয়োজন পূরণের মাঝে সুখ ও সৌভাগ্য রয়েছে

📄 মানুষের প্রয়োজন পূরণের মাঝে সুখ ও সৌভাগ্য রয়েছে


যখন কাউকে তোমার কাছে প্রয়োজন পূরণের জন্য আসতে দেখবে, তখন 'আলহামদুলিল্লাহ' বলবে। কেননা, তিনি তোমাকে তার প্রয়োজনের কথা বলার পাত্র বানিয়েছেন। অতঃপর আবার 'আলহামদুলিল্লাহ' বলবে। কারণ, তিনি তোমাকে মানুষের প্রয়োজন পূরণের তাওফিক দিয়েছেন। মসজিদে ইতিকাফের চেয়েও মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণের জন্য চেষ্টা করা তোমার জন্য অধিক উত্তম। তোমার কোনো মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করে অথবা কোনো কাজে সহায়তা করার মাধ্যমে তাকে আনন্দ দেওয়ার মাঝে অনেক বড় সৌভাগ্য রয়েছে।
রাসুল -এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, 'হে আল্লাহর রাসুল, কারা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়?' তিনি বললেন:
أَحَبُّ النَّاسِ إِلَى اللهِ أَنْفَعُهُمْ لِلنَّاسِ، وَأَحَبُّ الْأَعْمَالِ إِلَى اللهِ سُرُورُ تُدْخِلُهُ عَلَى مُسْلِمٍ، أَوْ تَكْشِفُ عَنْهُ كُرْبَةٌ، أَوْ تَقْضِي عَنْهُ دَيْنًا، أَوْ تَطْرُدُ عَنْهُ جُوعًا، وَلَئِنْ أَمْشِي مَعَ أَخِي لِي فِي حَاجَةٍ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَعْتَكِفَ فِي هَذَا الْمَسْجِدِ شَهْرًا فِي مَسْجِدِ الْمَدِينَةِ، وَمَنْ كَفَّ غَضَبَهُ سَتَرَ اللَّهُ عَوْرَتَهُ، وَمَنْ كَظَمَ غَيْظَهُ وَلَوْ شَاءَ أَنْ يُمْضِيَهُ أَمْضَاهُ مَلَأَ اللَّهُ قَلْبَهُ رَجَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ مَشَى مَعَ أَخِيهِ فِي حَاجَةٍ حَتَّى يُثَبِّتَهَا لَهُ ثَبَّتَ اللَّهُ قَدَمَهُ يَوْمَ تَزُولُ الْأَقْدَامُ
'আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় মানুষ তারা, যারা মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার করে। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হচ্ছে, কোনো মুসলিমের অন্তরকে খুশি করা বা তার কোনো বিপদ দূর করে দেওয়া বা তার ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া বা তার ক্ষুধা দূর করা। কোনো ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে তার সাথে হাঁটা আমার কাছে এই মসজিদে (মসজিদে নববি) এক মাস ইতিকাফ করার চেয়েও অধিক প্রিয়। যে রাগ প্রশমিত করে, আল্লাহ তার দোষ গোপন রাখেন। যে ক্রোধ প্রয়োগ করার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা নিয়ন্ত্রণ করে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার অন্তরকে সন্তুষ্টি দ্বারা ভরে দেবেন। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করার জন্য তার সাথে চলে এবং পূরণ করে দেয়, আল্লাহ তার পদদ্বয়কে সেদিন দৃঢ় রাখবেন, যেদিন (অনেকের) পাসমূহ পদস্খলিত হবে।'১০৪
তিনি আরও ইরশাদ করেন:
إِنَّ لِلَّهِ عِنْدَ أَقْوَامٍ نِعَمَّا يُقِرُّهَا عِنْدَهُمْ مَا كَانُوا فِي حَوَائِجِ النَّاسِ، مَا لَمْ يَمَلُّوهُمْ فَإِذَا مَلَّوُهُمْ نَقَلَهَا مِنْ عِنْدِهِمْ إِلَى غَيْرِهِمْ
'নিশ্চয় লোকদের কাছে আল্লাহর এমন কিছু নিয়ামত আছে, যা আল্লাহ তাদের কাছে স্থির রাখেন, যতক্ষণ তারা মানুষের প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট থাকে; যতক্ষণ না তারা তাদের বিরক্ত করে। যখন তারা তাদের বিরক্ত করে, তখন আল্লাহ তাআলা তা অন্যদের কাছে স্থানান্তরিত করেন। ১০৫
আল্লাহর জন্য ভালোবাসার একটি আলামত হলো, মুসলিম ভাইয়ের উপকার করতে পছন্দ করা এবং তার কাছে যাওয়ার জন্য প্রফুল্ল হওয়া, যেমনিভাবে তার উপকার করে আনন্দিত হও। অতএব যখন তুমি এই উপকার করতে সচেষ্ট হবে, তাহলে উত্তম আনুগত্যের মাধ্যমে এবং উন্নত প্রতিদানের অধিকারী হয়ে আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করবে।
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, 'তিনি মসজিদে নববিতে ইতিকাফরত ছিলেন। এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে সালাম দিয়ে বসল। অতঃপর ইবনে আব্বাস তাকে লক্ষ্য করে বললেন, “হে অমুক, তোমাকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মনে হচ্ছে!” লোকটি বলল, “হে আল্লাহর রাসুলের চাচাতো ভাই, অমুকের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব আমার। এই কবরওয়ালার সম্মানের শপথ, আমার কাছে এর সক্ষমতা নেই।” ইবনে আব্বাস বললেন, "আমি কি তার ব্যাপারে তোমার সাথে কথা বলব না?” সে বলল, “যদি আপনি পছন্দ করেন তাহলে বলুন।” তারপর ইবনে আব্বাস জুতো পরে মসজিদে থেকে বেরিয়ে আসলেন। লোকটি তাকে বলল, “আপনি কি ভুলে গেছেন, আপনি কোথায় ছিলেন?” তিনি বললেন, “না, কিন্তু আমি এই কবরের অধিবাসীকে বলতে শুনেছি যে :
مَنْ مَشَى فِي حَاجَةِ أَخِيهِ وَبَلَغَ فِيهَا كَانَ خَيْرًا مِنِ اعْتِكَافِ عَشْرِ سِنِينَ، وَمَنِ اعْتَكَفَ يَوْمًا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ تَعَالَى جَعَلَ اللَّهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّارِ ثَلَاثَ خَنَادِقَ
'কারও তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে তার সাথে চলা এবং তা পূরণ করে দেওয়া দশ বছর ইতিকাফ করার চেয়ে উত্তম। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য একদিন ইতিকাফ করে, আল্লাহ তার ও জাহান্নামের মাঝে তিন খন্দক পরিমাণ দূরত্ব করে দেন। '১০৬
অপর বর্ণনায় এসেছে,
كُلُّ خَنْدَقٍ أَبَعْدُ مِمَّا بَيْنَ الْخَافِقَيْنِ
'প্রত্যেক খন্দক পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্তের ব্যবধানের চেয়ে অধিকতর দূরবর্তী। ১০৭
মুহাম্মাদ গাজালি বলেন, 'এই হাদিসে মুসলিমদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনের চমৎকার উপমা ফুটে উঠেছে। আরও ফুটে উঠেছে সমাজসেবার অনুপম দৃষ্টান্ত। যা একটি আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য এবং সমাজবদ্ধ মানুষের মাঝে বন্ধন অটুট রাখতে খুবই প্রয়োজন।
ইবনে আব্বাস মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণের লক্ষ্যে ইতিকাফ ছেড়ে দেওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন। ইতিকাফ একটি ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহর কাছে ইতিকাফের অনেক মর্যাদা রয়েছে। কেননা, ইতিকাফে মানুষ সালাত, সিয়াম, জিকির-আজকার ইত্যাদি চমকপ্রদ ইবাদতে মগ্ন থাকে। তার ওপর যদি ইতিকাফ মসজিদে নববিতে করা হয়! তাহলে তো অন্যান্য মসজিদে এক হাজার বার ইতিকাফ করার সমান প্রতিদান পাওয়া যায়।
মসজিদে নববিতে ইতিকাফের এত বেশি ফজিলত থাকা সত্ত্বেও ইবনে আব্বাস সাহায্যপ্রার্থী মুসলিম ভাইকে সহযোগিতায় এগিয়ে যাওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এমনই শিক্ষা পেয়েছেন। ১০৮

টিকাঃ
১০৪. আল-মুজামুল কাবির লিত-তাবারানি: ৮৬১।
১০৫. আল-মুজামুল আওসাত: ৮৩৫০।
১০৬. শুআবুল ইমান: ৩৬৭৯।
১০৭. আল-মুজামুল আওসাত: ৭৩২৬।
১০৮. খুলুকুল মুসলিম, শাইখ মুহাম্মাদ আল-গাজালি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00