📘 সৌভাগ্যের হাতছানি > 📄 মধ্যপন্থার মাঝে সৌভাগ্য রয়েছে

📄 মধ্যপন্থার মাঝে সৌভাগ্য রয়েছে


কার্পণ্য ও অপচয়ের মাঝে সমতা করাকে (اِقْتِصَاد ) বলে। সুতরাং তোমার চেয়েও যে ব্যক্তি অধিক ধনী, বিলাসিতা, আড়ম্বরতা ও খরচের ক্ষেত্রে তার সাথে তাল মিলিয়ে চলো না। এমনটি করলে ঋণের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে। ফলে যে-ই দেখবে, তোমাকে দূরে ঠেলে দেবে। আবার এমনিভাবে নিজের জন্য এবং পরিবারের জন্য খরচ করতে অধিক কৃপণতাও করবে না। দুস্থ, নিঃস্ব ও অসহায়দের সহায়তা করতে কার্পণ্য দেখিয়ো না। তাহলে তার আশা ও প্রয়োজনগুলো অপূরণীয়ই থেকে যাবে এবং অশান্তি আর অনিশ্চয়তার মাঝে দিনাতিপাত করতে হবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةٌ إِلَى عُنُقِكَ وَلَا تَبْسُطْهَا كُلَّ الْبَسْطِ فَتَقْعُدَ مَلُومًا محسورا
'তুমি একেবারে ব্যয়কুণ্ঠ হয়ো না এবং একেবারে মুক্তহস্তও হয়ো না। তাহলে তুমি তিরস্কৃত, নিঃস্ব হয়ে বসে থাকবে।'৮৪
সাইদ বিন জুবাইর বলেছেন, 'খারাপ কাজে ভালো সম্পদ ব্যয় করা অপচয়।'
ইবনে জিয়াদকে বলা হলো, 'তুমি কেন দিরহামকে ভালোবাসো; অথচ এই দিরহাম তোমাকে দুনিয়ার খুব কাছে নিয়ে যায়?' সে বলল, 'দিরহাম আমাকে দুনিয়ার কাছে নিলেও দুনিয়া থেকে বিমুখ রাখে।'

টিকাঃ
৮৪. সুরা আল-ইসরা, ১৭: ২৯।

📘 সৌভাগ্যের হাতছানি > 📄 ন্যায়পরায়ণতার মাঝে সৌভাগ্য রয়েছে

📄 ন্যায়পরায়ণতার মাঝে সৌভাগ্য রয়েছে


জীবনের প্রতিটি বিষয়ে সত্য পথকে আঁকড়ে ধরে রাখা এবং ইনসাফের পথ থেকে বিচ্যুত না হয়ে জুলুম করা থেকে বিরত থাকাকে ন্যায়পরায়ণতা বা (الْعَدْلُ) বলে। জুলুমের পথ খুবই দুর্গম এবং পিচ্ছিল। খুব কম মানুষই এই রাস্তায় সফল হতে পারে। এ পথের পথিকরা মানুষের হৃদয় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর ক্রোধান্বিত হন। যেসব জালিমরা প্রশান্তি আর সুখ বলতে কিছুই চিনে না, তাদের পাপের ও শাস্তির জঘন্যতা অনুমান করার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর ক্রোধান্বিত হয়ে থাকেন।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
وَلَا تَحْسَبَنَّ اللَّهَ غَافِلًا عَمَّا يَعْمَلُ الظَّالِمُونَ إِنَّمَا يُؤَخِّرُهُمْ لِيَوْمٍ تَشْخَصُ فِيهِ الْأَبْصَارُ
'জালিমরা যা করে, সে সম্পর্কে আল্লাহকে কখনো বেখবর মনে করো না, তাদেরকে তো ওই দিন পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে রেখেছেন, যেদিন চক্ষুসমূহ বিস্ফোরিত হবে। '৮৫
রাসুল বলেন:
اتَّقُوا دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ فَإِنَّهَا تُحْمَلُ عَلَى الْغَمَامِ يَقُولُ اللَّهُ جَلَّ جَلَالُهُ: وَعِزَّتِي وَجَلَا لِي لَأَنْصُرَنَّكَ وَلَوْ بَعْدَ حِينٍ
'তোমরা মাজলুমের বদ-দুআ থেকে বেঁচে থাকো। কেননা, তা মেঘমালার ওপরে উঠে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, “আমার ইজ্জত ও প্রতাপের কসম, কিছুক্ষণ পরে হলেও আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করব।""৮৬
তিনি আরও বলেন:
مَا مِنْ أَحَدٍ يَكُونُ عَلَى شَيْءٍ مِنْ أُمُورِ هَذِهِ الْأُمَّةِ قَلَّتْ أَمْ كَثُرَتْ فَلَا يَعْدِلُ فِيهِمْ إِلَّا كَبَّهُ اللَّهُ فِي النَّارِ
'যে কেউ এই উম্মতের কম-বেশি যেকোনো দায়িত্বে থাকা অবস্থায় যদি তাদের মাঝে ইনসাফ না করে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে অধোমুখী করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। '৮৭
উমর বিন আব্দুল আজিজ তাঁর এক কর্মকর্তার কাছে এই মর্মে চিঠি লিখেছেন, 'যখন তোমার সক্ষমতা তোমাকে মানুষের ওপর জুলুম করার প্রতি আহ্বান করবে, তখন তোমার ওপর আল্লাহর সক্ষমতার কথা চিন্তা করবে।'

টিকাঃ
৮৫. সুরা ইবরাহিম, ১৪: ৪২।
৮৬. আল-মুজামুল কাবির লিত-তাবারানি: ৩৭১৮।
৮৭. মুসতাদরাকুল হাকিম: ৭০১৪।

📘 সৌভাগ্যের হাতছানি > 📄 সন্তানের ওপর দুটি বিষয়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা দেওয়ার মাঝে সৌভাগ্য রয়েছে

📄 সন্তানের ওপর দুটি বিষয়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা দেওয়ার মাঝে সৌভাগ্য রয়েছে


তোমার মৃত্যুর পর সন্তানের ওপর দুটি বিষয়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা দেওয়ার বিধান দিয়েছেন আল্লাহ তাআলা। প্রথমত, আল্লাহর ভয়। দ্বিতীয়ত, সত্যকথন।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلْيَخْشَ الَّذِينَ لَوْ تَرَكُوا مِنْ خَلْفِهِمْ ذُرِّيَّةً ضِعَافًا خَافُوا عَلَيْهِمْ فَلْيَتَّقُوا اللَّهَ وَلْيَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا
'তাদের ভয় করা উচিত, যারা নিজেদের পশ্চাতে দুর্বল অক্ষম সন্তানসন্ততি ছেড়ে গেলে তাদের জন্য তারাও আশঙ্কা করে; সুতরাং তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং সংগত কথা বলে।'৮৮
উমর বিন আব্দুল আজিজ তাঁর আট সন্তান রেখে মারা গেছেন। মৃত্যুর আগে মানুষ তাকে জিজ্ঞাসা করল, 'হে উমর, আপনি আপনার সন্তানদের জন্য কী রেখে যাচ্ছেন?' তিনি বললেন, 'তাদের জন্য আমি তাকওয়া রেখে যাচ্ছি। যদি তারা সততার ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে, তাহলে আল্লাহই তাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করবেন। আর যদি এর বিপরীত হয়, তাহলে আল্লাহর অবাধ্যতার ওপর তাদের জন্য আমি কিছুই রেখে যাচ্ছি না।'
উমর বিন আব্দুল আজিজ তাঁর প্রত্যেক সন্তানের জন্য মাত্র বারো দিরহাম করে রেখে গিয়েছিলেন। খলিফা হিশাম বিন আব্দুল মালিক তার প্রত্যেক সন্তানের জন্য এক লক্ষ দিনার করে রেখে গিয়েছেন। বিশ বছর পর উমর বিন আব্দুল আজিজ-এর প্রতিটি সন্তান আল্লাহর রাস্তায় জিন বেঁধে ঘোড়া ছুটাচ্ছিল এবং অধিক সম্পদ থেকে অকাতরে আল্লাহর রাস্তায় দান করছিল।
পক্ষান্তরে হিশাম বিন আব্দুল মালিকের সন্তানগুলো খলিফা আবু জাফর মানসুরের আমলে মসজিদে দারুস সালামের সামনে দাঁড়িয়ে মানুষের কাছে সম্পদ ভিক্ষা চাচ্ছিল।

টিকাঃ
৮৮. সুরা আন-নিসা, ৪:৯।

📘 সৌভাগ্যের হাতছানি > 📄 মেকআপের মাঝেই কি নারীর প্রকৃত সৌভাগ্য?

📄 মেকআপের মাঝেই কি নারীর প্রকৃত সৌভাগ্য?


জনৈক বৃদ্ধা বেদুইন নারী তার যৌবনের ঔজ্জ্বল্য, সৌন্দর্যের আকর্ষণ ও চেহারার দীপ্ততা ধরে রেখেছিলেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, 'আপনি কী ব্যবহার করে এই সৌন্দর্য ধরে রেখেছেন এবং তা কোথা থেকে সংগ্রহ করেন?' জবাবে মহিলা বললেন:
'ঠোঁটের জন্য তিক্ত হলেও সত্য কথাকে ব্যবহার করি।
গলার স্বরের জন্য সালাত, কুরআন তিলাওয়াত ও তাসবিহ ব্যবহার করি।
চোখের জন্য দয়া, সহানুভূতি এবং অবনত দৃষ্টি ব্যবহার করি।
হাতের জন্য সাধ্যানুযায়ী অন্যের প্রতি ইহসানকে ব্যবহার করি।
পায়ের জন্য সত্যের ওপর অবিচলতাকে ব্যবহার করি।
অন্তরের জন্য আল্লাহর মহব্বত লালন করি।
আর আমার স্বামী যখন আমার দিকে তাকায়, তাকে খুশি করে দিই।
আল্লাহর অবাধ্যতা ছাড়া কোনো কিছুর আদেশ দিলে তা পালন করি।
আমার স্বামী আমার সামনে থেকে চলে গেলে তার সম্পদ ও আমার সম্ভ্রম রক্ষা করি।
আর আল্লাহর সাথে মুরাকাবা করার মাধ্যমে আমি পরিপূর্ণ সুখে থাকি।
আল্লাহর হক এবং আমার স্বামীর হক কী, তা ভালোভাবে জানি এবং প্রত্যেককে তার হক যথাযথভাবে আদায় করে দিই।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00