📘 সৌভাগ্যের হাতছানি > 📄 নিয়ামতদাতার কৃতজ্ঞতা আদায়ের মাঝে সৌভাগ্য রয়েছে

📄 নিয়ামতদাতার কৃতজ্ঞতা আদায়ের মাঝে সৌভাগ্য রয়েছে


অধিকাংশ মানুষ ধারণা করে, আমাদের ওপর আল্লাহর সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামত হলো সম্পদ। অথচ যদি আমরা চিন্তা করি, তাহলে অবশ্যই দেখতে পাব, ধনী-গরিব নির্বিশেষে আমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর নিয়ামতের কোনো হিসেব নেই। অগণিত নিয়ামত তিনি আমাদের দিয়ে রেখেছেন। দৃষ্টি, শ্রবণশক্তি, বিবেক, পরিবার, সন্তানসন্ততি, সুস্থতা, আলো, বাতাস, পানি ইত্যাদি অসংখ্য নিয়ামত আমরা প্রতিনিয়ত ভোগ করে যাচ্ছি। এগুলো তো কিছু মাত্র। তিনি বলেন:
وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا
'যদি তোমরা আল্লাহর নিয়ামত গণনা করো, তবে তার সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না। '৬০
হাসান বলেন, 'যে ব্যক্তি খাবারদাবার ও পোশাক-পরিচ্ছদ ছাড়া তার প্রতি আল্লাহর আর কোনো নিয়ামত চোখে দেখে না, তার জ্ঞানে সীমাবদ্ধতা আছে এবং সে উপস্থিত শাস্তির মধ্যে আছে।'
নিয়ামত হারিয়ে যাওয়ার আগে নিয়ামতের অনুভূতি না থাকা আমাদের জঘন্য উদাসীনতা। অথচ আমরা ঠিকই জানি, কৃতজ্ঞতার দ্বারা নিয়ামত দীর্ঘস্থায়ী হয়। আর অকৃতজ্ঞতার দ্বারা নিয়ামত দূর হয়ে যায়। তিনি ইরশাদ করেন :
وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ وَلَئِنْ كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ
'যখন তোমাদের পালনকর্তা ঘোষণা করলেন যে, “যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো, তবে তোমাদের আরও দেবো; আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয় আমার শাস্তি হবে কঠোর।"৬১
আবু হাজিম বলেন, 'যেসব নিয়ামত বান্দাকে আল্লাহর নিকটে পৌঁছায় না, সেগুলো তার জন্য পরীক্ষা।'
তিনি আরও বলেন, 'যখন দেখবে, তোমার অবাধ্যতা সত্ত্বেও আল্লাহ নিয়ামত দিয়েই যাচ্ছেন, তখন তার প্রতি সতর্ক থেকো।'
(سَنَسْتَدرجهم مِنْ حَيْثُ لا يَعْلَمُونَ)৬২ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় সুফিয়ান বলেন, 'এর উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ তাদের ভরপুর নিয়ামত দান করেন; অথচ কৃতজ্ঞতা আদায়ের তাওফিক দেন না।'
অবাধ্যতা কল্যাণ ছিনিয়ে নেয় এবং নিয়ামত দূর করে দেয়। আলি বলেন, 'কোনো বিপদ আসলে কোনো না কোনো গুনাহের কারণেই আসে। আর কেবল তাওবার মাধ্যমেই তা উঠিয়ে নেওয়া হয়।' আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ
'তোমাদের ওপর যেসব বিপদাপদ পতিত হয়, তা তোমাদের কর্মেরই ফল এবং তিনি তোমাদের অনেক গুনাহ ক্ষমা করে দেন।'৬৩
তিনি আরও বলেন:
ذلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ لَمْ يَكُ مُغَيِّرًا نِعْمَةً أَنْعَمَهَا عَلَى قَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ وَأَنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
'তার কারণ এই যে, আল্লাহ কখনো পরিবর্তন করেন না, সেসব নিয়ামত, যা তিনি কোনো জাতিকে দান করেছিলেন, যতক্ষণ না সে জাতি নিজেই পরিবর্তিত করে দেয় নিজের জন্য নির্ধারিত বিষয়। বস্তুত আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। ৬৪

টিকাঃ
৬০. সুরা আন-নাহল, ১৬: ১৮।
৬১. সুরা ইবরাহিম, ১৪:৭।
৬২. 'আমি তাদের ক্রমান্বয়ে পাকড়াও করব এমন জায়গা থেকে, যার সম্পর্কে তাদের ধারণাও হবে না।' (সুরা আল-আরাফ, ৭: ১৮২)
৬৩. সুরা আশ-শুরা, ৪২: ৩০।
৬৪. সুরা আল-আনফাল, ৮:৫৩।

📘 সৌভাগ্যের হাতছানি > 📄 হালাল রিজিকে সৌভাগ্য রয়েছে

📄 হালাল রিজিকে সৌভাগ্য রয়েছে


নিজের প্রচেষ্টায় শ্রম-ঘাম ব্যয় করে হালাল উপার্জন করে বাড়িতে ফেরার দৃশ্য কতই না চমৎকার! যে উপার্জনে নেই কোনো সুদ, ঘুষ, মিথ্যা বা ধোঁকার মিশ্রণ। অতঃপর হালাল খাবারের মধ্যে ইমানের স্বাদ উপভোগ করে। বর্তমানে অনেক মানুষ হারাম পন্থায় উপার্জন করে বাড়ি ফিরে। সুদ, ঘুষ, ব্যবসা-বাণিজ্যে মিথ্যা শপথ করা, আদালতে মিথ্যা বিচার করা কিংবা সম্পদে হারামের মিশ্রণ থাকা ইত্যাদি মানুষের স্বাভাবিক উপার্জনে পরিণত হয়েছে।
যে হারাম সম্পদ দ্বারা আয়েশ করে এবং হারাম দ্বারা নিজের ও স্ত্রী-সন্তানকে লালনপালন করে, সে কীভাবে ঘুমাতে পারে?! কীভাবে সাক্ষাৎ করবে সেই মহান সত্তার সাথে, যিনি তাকে সম্পদ উপার্জনের পন্থা ও ব্যয়ের খাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন?! তাবারানি বর্ণনা করেছেন, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি রাসুল -এর সামনে (يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا)৬৫ এই আয়াত তিলাওয়াত করলাম। তখন সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস দাঁড়িয়ে বললেন, “ইয়া রাসুলাল্লাহ, আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন, তিনি যেন আমাকে মুসতাজাবুদ দাওয়া হিসেবে কবুল করেন।' তখন নবিজি তাকে বললেন:
يَا سَعْدُ أَطِبْ مَطْعَمَكَ تَكُنْ مُسْتَجَابَ الدَّعْوَةِ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، إِنَّ الْعَبْدَ لَيَقْذِفُ اللُّقْمَةَ الْحَرَامَ فِي جَوْفِهِ مَا يُتَقَبَّلُ مِنْهُ عَمَلَ أَرْبَعِينَ يَوْمًا، وَأَيُّمَا عَبْدٍ نَبَتَ لَحْمُهُ مِنَ السُّحْتِ وَالرِّبَا فَالنَّارُ أَوْلَى بِهِ
'হে সাদ, তুমি তোমার আহারকে হালাল করো, তাহলে তোমার দুআ কবুল করা হবে। শপথ সেই সত্তার—যাঁর হাতে মুহাম্মাদের জীবন, যদি কোনো বান্দা পেটে এক লোকমা হারাম খাবার ভক্ষণ করে, তার চল্লিশ দিনের আমল কবুল করা হবে না। কারও দেহ যদি হারাম সম্পদ দ্বারা লালিতপালিত হয়, তাহলে তার জন্য জাহান্নামই অধিক উপযুক্ত। '৬৬
এক মুসলিম নারী প্রতিদিন দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে স্বামী ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলত, 'আপনি কিছুতেই আমাদের জন্য সামান্য হারাম সম্পদও আনবেন না। কেননা, আমরা ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে পারব; কিন্তু জাহান্নামের আগুন সহ্য করতে পারব না।'

টিকাঃ
৬৫. 'হে মানবমণ্ডলী, ভূমণ্ডলে বিদ্যমান বস্তুগুলো থেকে হালাল উত্তম জিনিসগুলো খাও।' (সুরা আল-বাকারা, ২: ১৬৮)
৬৬. আল-মুজামুল আওসাত: ৬৪৯৫।

📘 সৌভাগ্যের হাতছানি > 📄 বিপদে ধৈর্যধারণের মাঝে সৌভাগ্য রয়েছে

📄 বিপদে ধৈর্যধারণের মাঝে সৌভাগ্য রয়েছে


দুনিয়াতে বিপদ, মুসিবত আর পরীক্ষার অভাব নেই। মুমিন ভালো করেই জানে, দুনিয়া হলো পরীক্ষার জায়গা। যেকোনো মুহূর্তে পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়। তবে যারা এসব বিপদ ও পরীক্ষায় আল্লাহর সন্তুষ্টিমূলক আচরণ করে, তারাই সফল হয়।
শুরাইহ বলেন, 'আমি কোনো বিপদের সম্মুখীন হলে চারবার আল্লাহর প্রশংসা করি।
- এর চেয়েও আরও বড় কোনো বিপদের সম্মুখীন হতে হয়নি বলে একবার শুকরিয়া জ্ঞাপন করি।
– আল্লাহ তাআলা আমাকে বিপদে সবর করার শক্তি দিয়েছেন বলে দ্বিতীয়বার কৃতজ্ঞতা আদায় করি।
- বিপদে পড়ে )إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ(৬৭ বলে আল্লাহর কাছে আশ্রিত হওয়ার তাওফিক দেওয়ায় তৃতীয়বার কৃতজ্ঞতা আদায় করি।
- আমার দ্বীনি কোনো বিষয়ে বিপদ দেননি বিধায় চতুর্থবার শুকরিয়া আদায় করি।'
মুমিন ব্যক্তি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ তাআলা ক্ষতি করার জন্য কোনো বিপদের সম্মুখীন করেন না এবং বিপদে ফেলার জন্য তার দ্বারা ভুল করান না। তিনি ইরশাদ করেন :
مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنْفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَهَا إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرُ - لِكَيْلَا تَأْسَوْا عَلَى مَا فَاتَكُمْ وَلَا تَفْرَحُوا بِمَا آتَاكُمْ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ
'পৃথিবীতে এবং ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের ওপর যে বিপর্যয় আসে, আমি তা সংঘটিত করার পূর্বেই তা লিপিবদ্ধ থাকে। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ। এটা এ জন্য বলা হয়, যাতে তোমরা যা হারাও, তজ্জন্যে দুঃখিত না হও এবং তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন, তজ্জন্যে উল্লসিত না হও। আল্লাহ কোনো উদ্ধত অহংকারীকে পছন্দ করেন না। '৬৮
আমাদের চেয়েও কঠিন বিপদ ও পরীক্ষার শিকার হয়েছেন আম্বিয়া এবং সালিহিনগণ। এমনকি সৃষ্টির সেরা মানব মুহাম্মাদ -ও এর থেকে বাদ পড়েননি। সবকিছু সত্ত্বেও তাঁরা ধৈর্যধারণ করেছেন এবং আল্লাহর কাছেই আশ্রয় খুঁজেছেন।
মুমিনরা যেন অন্তরে এ কথা গেঁথে নেয়, তার প্রতিটি বিষয় তার জন্য কল্যাণকর। রাসুল ইরশাদ করেন:
عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ، إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ، وَلَيْسَ ذَاكَ لِأَحَدٍ إِلَّا لِلْمُؤْمِنِ، إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ، فَكَانَ خَيْرًا لَهُ ، وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ، صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ
'মুমিনের বিষয়টাই আশ্চর্যজনক! তার প্রতিটি বিষয়ই কল্যাণকর। এটা মুমিন ব্যতীত আর কারও জন্য নয়। তার সুখ এলে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করে; ফলে এটা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আবার বিপদের সম্মুখীন হলে সে ধৈর্যধারণ করে; ফলে এটাও তার জন্য কল্যাণকর হয়। '৬৯
দ্বীনের মানদণ্ডের ওপর প্রতিষ্ঠিত মানবহৃদয় কখনো আল্লাহর কাছে আশ্রিত না হয়ে প্রশান্ত হয় না। তিনি ইরশাদ করেন:
الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُمْ بِذِكْرِ اللهِ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
'যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়; জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণ দ্বারাই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।'৭০
দুআ, ইসতিগফার, সালাত ও কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আশ্রয় নিতে হয়। আমরা যেন সেসব লোকের অন্তর্ভুক্ত না হই, যারা কেবল দারিদ্র্য, অসুস্থতা বা পরীক্ষার সময়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় খোঁজে। অতঃপর বিপদ বা দারিদ্র্য কেটে গেলে কিংবা সুস্থ হয়ে গেলে নিয়ামতের কথা ভুলে যায়। এদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَإِذَا مَسَّ الْإِنْسَانَ الضُّرُّ دَعَانَا لِجَنْبِهِ أَوْ قَاعِدًا أَوْ قَائِمًا فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُ ضُرَّهُ مَرَّ كَأَنْ لَمْ يَدْعُنَا إِلَى ضُرَّ مَسَّهُ كَذَلِكَ زُيِّنَ لِلْمُسْرِفِينَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
'আর যখন মানুষ কষ্টের সম্মুখীন হয়, তখন শুয়ে, বসে, দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকতে থাকে। তারপর আমি যখন তা থেকে মুক্ত করে দিই, সে কষ্ট যখন চলে যায়, তখন মনে হয় কখনো কোনো কষ্টেরই সম্মুখীন হয়ে যেন আমাকে ডাকেইনি। এমনিভাবে মনঃপূত হয়েছে নির্ভয় লোকদের যা তারা করেছে। '৭১

টিকাঃ
৬৭. 'নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।' (সুরা আল-বাকারা, ২: ১৫৬)
৬৮. সুরা আল-হাদিদ, ৫৭: ২২-২৩।
৬৯. সহিহ মুসলিম: ২৯৯৯।
৭০. সুরা আর-রাদ, ১৩: ২৮।
৭১. সুরা ইউনুস, ১০: ১২।

📘 সৌভাগ্যের হাতছানি > 📄 প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার মাঝে সৌভাগ্য রয়েছে

📄 প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার মাঝে সৌভাগ্য রয়েছে


যে ব্যক্তি প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রবৃত্তি কখনো তার ওপর প্রভাব খাটাতে গেলে উলটো সে প্রবৃত্তির ওপর প্রভাব খাটায়, সে-ই প্রকৃত বুদ্ধিমান এবং প্রবৃত্তির ওপর প্রভাব বিস্তারকারী। দুনিয়া ও আখিরাতে সে সৌভাগ্যবান হতে পারবে।
এক শাসক তার সময়ের একজন দুনিয়াবিরাগী আলিমের কাছে গমন করল। তার গৃহে প্রবেশ করেই সালাম দিল। আলিম তার প্রতি কোনো মনোযোগ না দিয়ে বেখেয়ালিভাবেই সালামের উত্তর দিয়েছেন। এই দেখে বাদশাহ রেগে গিয়ে বলল, 'আপনি আমার প্রতি মনোযোগ দিচ্ছেন না কেন?! আমি তো এই রাজ্যের রাজা।' আলিম মৃদু হেসে বললেন, 'যেখানে আমার গোলামরা তোমার বাদশাহ হয়ে বসে আছে, সেখানে আবার তুমি আমার বাদশাহ হও কীভাবে?!' রাজা বলল, 'তারা কারা?' আলিম বললেন, 'তারা হলো কুপ্রবৃত্তি। কুপ্রবৃত্তি তোমার রাজা; কিন্তু আমার গোলাম।'
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে প্রবৃত্তির নিন্দা করেছেন এবং প্রবৃত্তির অনুসরণকে প্রবৃত্তির ইবাদত বলে ঘোষণা করেছেন। কেননা, কারও ওপর প্রবৃত্তি চেপে বসলে তা তার পুরো সময়কে নিয়ে নেয়, চিন্তা ও মস্তিষ্ককে তার কাজেই ব্যস্ত করে রাখে; ফলে বান্দা আল্লাহকে ভুলে যায়, শরিয়তের কথা তার মনে থাকে না এবং প্রবৃত্তির কামনাবাসনা চরিতার্থ করার জন্য হালাল-হারাম যেকোনো কাজ করে বসে। তাই তো আল্লাহ তাআলা বলেন :
أَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ أَفَأَنْتَ تَكُونُ عَلَيْهِ وَكِيلًا
'আপনি কি তাকে দেখেন না, যে তার প্রবৃত্তিকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে? তবুও কি আপনি তার জিম্মাদার হবেন?'৭২

টিকাঃ
৭২. সুরা আল-ফুরকান, ২৫: ৪৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00