📘 সৌভাগ্যের হাতছানি > 📄 নেক আমলের মাঝে সৌভাগ্য রয়েছে

📄 নেক আমলের মাঝে সৌভাগ্য রয়েছে


যাদের অন্তরে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি বিশ্বাস রয়েছে এবং তারা নেক আমল করে, তাদেরকে আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে উত্তম জীবনযাপনের ওয়াদা দিয়েছেন। আর পরকালে আমলের চমৎকার প্রতিদান দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন:
مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
'যে সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং সে ইমানদার, পুরুষ হোক কিংবা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং প্রতিদানে তাদেরকে তাদের উত্তম কাজের কারণে প্রাপ্য পুরস্কার দেবো, যা তারা করত। '৫৭
উক্ত আয়াতে আল্লাহ কর্তৃক ঘোষিত )حَيَاةُ طَيِّبَةٌ(-এর মধ্যে জীবনের সব ধরনের শান্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে, )حَيَاةُ طَيِّبَةٌ( দ্বারা উত্তম ও হালাল রিজিককে বোঝানো হয়েছে।
আলি )حَيَاةُ طَيِّبة(-এর দ্বারা )القَنَاعَة( বা পরিতুষ্টি বুঝিয়েছেন।
ইবনে আব্বাস-এর মতে, এটি হলো )السَّعَادَة( বা সৌভাগ্য।
জাহহাক-এর মতে )حَيَاةُ طَيِّبَةٌ( হলো, দুনিয়াতে হালাল রিজিক অন্বেষণ করা এবং ইবাদত করা।
তবে সর্বাধিক বিশুদ্ধ মতামত হলো, )حَيَاةُ طَيِّبَةٌ(-এর মধ্যে এই সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত আছে। ৫৮

টিকাঃ
৫৭. সুরা আন-নাহল, ১৬: ৯৭।
৫৮. তাফসিরু ইবনি কাসির।

📘 সৌভাগ্যের হাতছানি > 📄 আল্লাহর স্মরণের মাঝে সৌভাগ্য রয়েছে

📄 আল্লাহর স্মরণের মাঝে সৌভাগ্য রয়েছে


ড. মুস্তফা আস-সিবায়ি বলেন, 'যদি নফস গুনাহ করতে চায়, তাকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দাও। তাতে যদি ফিরে না আসে, তাহলে মানুষের চরিত্রের কথা স্মরণ করিয়ে দাও। যদি এতেও বিরত না থাকে, তাহলে মানুষের মাঝে জানাজানি হওয়ার পর লজ্জাজনক পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দাও। যদি তাতেও বিরত না থাকে, তাহলে মনে রেখো, তুমি সেই মুহূর্তে হায়াওয়ানের কাতারে গিয়ে পৌঁছেছ।'৫৯

টিকাঃ
৫৯. হাকাজা আল্লামাতনিল হায়াত, ড. মুস্তফা আস-সিবায়ি।

📘 সৌভাগ্যের হাতছানি > 📄 নিয়ামতদাতার কৃতজ্ঞতা আদায়ের মাঝে সৌভাগ্য রয়েছে

📄 নিয়ামতদাতার কৃতজ্ঞতা আদায়ের মাঝে সৌভাগ্য রয়েছে


অধিকাংশ মানুষ ধারণা করে, আমাদের ওপর আল্লাহর সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামত হলো সম্পদ। অথচ যদি আমরা চিন্তা করি, তাহলে অবশ্যই দেখতে পাব, ধনী-গরিব নির্বিশেষে আমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর নিয়ামতের কোনো হিসেব নেই। অগণিত নিয়ামত তিনি আমাদের দিয়ে রেখেছেন। দৃষ্টি, শ্রবণশক্তি, বিবেক, পরিবার, সন্তানসন্ততি, সুস্থতা, আলো, বাতাস, পানি ইত্যাদি অসংখ্য নিয়ামত আমরা প্রতিনিয়ত ভোগ করে যাচ্ছি। এগুলো তো কিছু মাত্র। তিনি বলেন:
وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا
'যদি তোমরা আল্লাহর নিয়ামত গণনা করো, তবে তার সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না। '৬০
হাসান বলেন, 'যে ব্যক্তি খাবারদাবার ও পোশাক-পরিচ্ছদ ছাড়া তার প্রতি আল্লাহর আর কোনো নিয়ামত চোখে দেখে না, তার জ্ঞানে সীমাবদ্ধতা আছে এবং সে উপস্থিত শাস্তির মধ্যে আছে।'
নিয়ামত হারিয়ে যাওয়ার আগে নিয়ামতের অনুভূতি না থাকা আমাদের জঘন্য উদাসীনতা। অথচ আমরা ঠিকই জানি, কৃতজ্ঞতার দ্বারা নিয়ামত দীর্ঘস্থায়ী হয়। আর অকৃতজ্ঞতার দ্বারা নিয়ামত দূর হয়ে যায়। তিনি ইরশাদ করেন :
وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ وَلَئِنْ كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ
'যখন তোমাদের পালনকর্তা ঘোষণা করলেন যে, “যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো, তবে তোমাদের আরও দেবো; আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয় আমার শাস্তি হবে কঠোর।"৬১
আবু হাজিম বলেন, 'যেসব নিয়ামত বান্দাকে আল্লাহর নিকটে পৌঁছায় না, সেগুলো তার জন্য পরীক্ষা।'
তিনি আরও বলেন, 'যখন দেখবে, তোমার অবাধ্যতা সত্ত্বেও আল্লাহ নিয়ামত দিয়েই যাচ্ছেন, তখন তার প্রতি সতর্ক থেকো।'
(سَنَسْتَدرجهم مِنْ حَيْثُ لا يَعْلَمُونَ)৬২ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় সুফিয়ান বলেন, 'এর উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ তাদের ভরপুর নিয়ামত দান করেন; অথচ কৃতজ্ঞতা আদায়ের তাওফিক দেন না।'
অবাধ্যতা কল্যাণ ছিনিয়ে নেয় এবং নিয়ামত দূর করে দেয়। আলি বলেন, 'কোনো বিপদ আসলে কোনো না কোনো গুনাহের কারণেই আসে। আর কেবল তাওবার মাধ্যমেই তা উঠিয়ে নেওয়া হয়।' আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ
'তোমাদের ওপর যেসব বিপদাপদ পতিত হয়, তা তোমাদের কর্মেরই ফল এবং তিনি তোমাদের অনেক গুনাহ ক্ষমা করে দেন।'৬৩
তিনি আরও বলেন:
ذلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ لَمْ يَكُ مُغَيِّرًا نِعْمَةً أَنْعَمَهَا عَلَى قَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ وَأَنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
'তার কারণ এই যে, আল্লাহ কখনো পরিবর্তন করেন না, সেসব নিয়ামত, যা তিনি কোনো জাতিকে দান করেছিলেন, যতক্ষণ না সে জাতি নিজেই পরিবর্তিত করে দেয় নিজের জন্য নির্ধারিত বিষয়। বস্তুত আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। ৬৪

টিকাঃ
৬০. সুরা আন-নাহল, ১৬: ১৮।
৬১. সুরা ইবরাহিম, ১৪:৭।
৬২. 'আমি তাদের ক্রমান্বয়ে পাকড়াও করব এমন জায়গা থেকে, যার সম্পর্কে তাদের ধারণাও হবে না।' (সুরা আল-আরাফ, ৭: ১৮২)
৬৩. সুরা আশ-শুরা, ৪২: ৩০।
৬৪. সুরা আল-আনফাল, ৮:৫৩।

📘 সৌভাগ্যের হাতছানি > 📄 হালাল রিজিকে সৌভাগ্য রয়েছে

📄 হালাল রিজিকে সৌভাগ্য রয়েছে


নিজের প্রচেষ্টায় শ্রম-ঘাম ব্যয় করে হালাল উপার্জন করে বাড়িতে ফেরার দৃশ্য কতই না চমৎকার! যে উপার্জনে নেই কোনো সুদ, ঘুষ, মিথ্যা বা ধোঁকার মিশ্রণ। অতঃপর হালাল খাবারের মধ্যে ইমানের স্বাদ উপভোগ করে। বর্তমানে অনেক মানুষ হারাম পন্থায় উপার্জন করে বাড়ি ফিরে। সুদ, ঘুষ, ব্যবসা-বাণিজ্যে মিথ্যা শপথ করা, আদালতে মিথ্যা বিচার করা কিংবা সম্পদে হারামের মিশ্রণ থাকা ইত্যাদি মানুষের স্বাভাবিক উপার্জনে পরিণত হয়েছে।
যে হারাম সম্পদ দ্বারা আয়েশ করে এবং হারাম দ্বারা নিজের ও স্ত্রী-সন্তানকে লালনপালন করে, সে কীভাবে ঘুমাতে পারে?! কীভাবে সাক্ষাৎ করবে সেই মহান সত্তার সাথে, যিনি তাকে সম্পদ উপার্জনের পন্থা ও ব্যয়ের খাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন?! তাবারানি বর্ণনা করেছেন, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি রাসুল -এর সামনে (يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا)৬৫ এই আয়াত তিলাওয়াত করলাম। তখন সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস দাঁড়িয়ে বললেন, “ইয়া রাসুলাল্লাহ, আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন, তিনি যেন আমাকে মুসতাজাবুদ দাওয়া হিসেবে কবুল করেন।' তখন নবিজি তাকে বললেন:
يَا سَعْدُ أَطِبْ مَطْعَمَكَ تَكُنْ مُسْتَجَابَ الدَّعْوَةِ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، إِنَّ الْعَبْدَ لَيَقْذِفُ اللُّقْمَةَ الْحَرَامَ فِي جَوْفِهِ مَا يُتَقَبَّلُ مِنْهُ عَمَلَ أَرْبَعِينَ يَوْمًا، وَأَيُّمَا عَبْدٍ نَبَتَ لَحْمُهُ مِنَ السُّحْتِ وَالرِّبَا فَالنَّارُ أَوْلَى بِهِ
'হে সাদ, তুমি তোমার আহারকে হালাল করো, তাহলে তোমার দুআ কবুল করা হবে। শপথ সেই সত্তার—যাঁর হাতে মুহাম্মাদের জীবন, যদি কোনো বান্দা পেটে এক লোকমা হারাম খাবার ভক্ষণ করে, তার চল্লিশ দিনের আমল কবুল করা হবে না। কারও দেহ যদি হারাম সম্পদ দ্বারা লালিতপালিত হয়, তাহলে তার জন্য জাহান্নামই অধিক উপযুক্ত। '৬৬
এক মুসলিম নারী প্রতিদিন দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে স্বামী ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলত, 'আপনি কিছুতেই আমাদের জন্য সামান্য হারাম সম্পদও আনবেন না। কেননা, আমরা ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে পারব; কিন্তু জাহান্নামের আগুন সহ্য করতে পারব না।'

টিকাঃ
৬৫. 'হে মানবমণ্ডলী, ভূমণ্ডলে বিদ্যমান বস্তুগুলো থেকে হালাল উত্তম জিনিসগুলো খাও।' (সুরা আল-বাকারা, ২: ১৬৮)
৬৬. আল-মুজামুল আওসাত: ৬৪৯৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00