📄 নিজেকে ঠিক করো, সুখময় জীবনযাপন করতে পারবে
মার্কিন পরিসংখ্যান সংস্থা গ্যালাপের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী আমেরিকার ৫০% মানুষ বিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ হওয়ার পর আর একটিও বই পড়েনি।
ওয়াশিংটন বুশ পত্রিকায় প্রকাশ করেছে, ১৯৯৬ সালে জাতিসংঘের লাইব্রেরির সংখ্যা উনিশ শতাব্দীর সংখ্যার চেয়ে বেশি ছিল না। আমেরিকার সরকারি স্কুলগুলোর নিম্নমানের পড়ালেখার প্রতি ইঙ্গিত করে পত্রিকাটি বারবার অভিযোগ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভর্তি হওয়া ছাত্রদের প্রায় অর্ধেক বিশ্ব মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাম চিহ্নিত করতে পারে না। অন্যান্য রাষ্ট্রের কথা বাদই দিলাম।”২১
এই যদি হয় বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতির অবস্থা, তাহলে আমাদের আরব যুবকদের পড়াশুনার ও বই থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার ব্যাপারে আর কী বলার আছে! যে জাতির শুরুটাই ছিল (إقرأ) অর্থাৎ 'পড়ো' দিয়ে, সে জাতি আজ খুব সামান্যই পড়ালেখা করে!
মনোযোগবিহীন এবং চিন্তা-গবেষণা না করে কয়েক পৃষ্ঠা পড়ে যাওয়াই অজ্ঞ লোকদের জন্য যথেষ্ট। যা থেকে যৎসামান্যই অনুধাবন করা যায়।
পক্ষান্তরে জ্ঞানী লোক বইয়ের পর বই শেষ করে ফেলে। বিবেক দিয়ে চিন্তা করে আর অধ্যয়ন করে। প্রতিটি পৃষ্ঠার ভাঁজে ভাঁজে জ্ঞান অন্বেষণ করে, বিবেকের খোরাক তালাশ করে, যুগযুগ ধরে মানুষের রেখে যাওয়া জ্ঞান থেকে কিছু আহরণ করার চেষ্টা করে। তারপর অর্জিত সকল জ্ঞানকে নিজের জ্ঞানের ঝুলিতে পুরে নেয়। অতঃপর যখন সে কিছুর দিকে দৃষ্টিপাত করে অথবা কোনো কিছুকে বিচার করার চেষ্টা করে, তখন নিজের জ্ঞান ও অতীত-বর্তমানের হাজারো মানুষের জ্ঞান থেকে অর্জিত জ্ঞান দ্বারা তাকায় এবং বিচার করে।
প্রকৃত শিক্ষিত সে, যার অনুভূতি, বিবেক ও অন্তর সবই শিক্ষার আলোয় আলোকিত। যার মাঝে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সমন্বয় রয়েছে। এই জগতে কেউ সুখী থাকলে এ ধরনের লোকেরাই আছে। আহারে-অনাহারে, পেয়ে না-পেয়ে, বস্ত্রাবৃত ও বস্ত্রহীন অবস্থায় সর্বাবস্থায় সুখী। বিবেকের আলোকরশ্মি, অন্তরের উষ্ণতা ও দৃষ্টির প্রসারতা এদেরকে জীবনভর সুখী করে রাখে।২২
তাই তো জগতের কিছু মানুষ কিতাবের ভাঁজে ভাঁজে, বইয়ের পাতায় পাতায়, কলম আর কালির রেখায় রেখায় সুখ ও সৌভাগ্য খুঁজে পায়। বহু আলিম, লেখক, গবেষক ও সাহিত্যিক আছেন, যারা বইয়ের প্রতিটি পাতায় পাতায় গবেষণা ছাড়া, প্রতিটি গ্রন্থের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা মুক্তামালার সন্ধান পাওয়া ছাড়া এবং প্রকৃতি ও গবেষণাগারে মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচন করা ছাড়া প্রশান্তি অনুভব করে না।
টিকাঃ
২১. কিমিয়াউস সাআদাহ, উসতাজ হুসাইন আহমাদ আমিন। নভেম্বর, ১৯৯৮ ইসায়ি।
২২. তাসাক্কাফ নাফসাকা তায়িশ সায়িদান, ড. আহমাদ জাকি। আল-হিলাল, ১৯৫৪ ইসায়ি.।
📄 সৌভাগ্য অর্জনের জন্য কি বস্তুগত উপাদান অর্জন করা আবশ্যক?
এ কথা সত্য যে, সৌভাগ্য অর্জন করতে হলে বস্তুগত উপাদানগুলোর অনেক বেশি গুরুত্ব রয়েছে। রাসুল বলেছেন:
أَرْبَعُ مِنَ السَّعَادَةِ: الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ، وَالْمَسْكَنُ الْوَاسِعُ، وَالْجَارُ الصَّالِحُ، وَالْمَرْكَبُ الْهَنِيءُ، وَأَرْبَعُ مِنَ الشَّقَاوَةِ: الْجَارُ السُّوءُ، وَالْمَرْأَةُ السُّوءُ، وَالْمَسْكَنُ الضَّيقُ، وَالْمَرْكَبُ السُّوءُ»
'চারটি বিষয় সৌভাগ্যের : সতী নারী, প্রশস্ত বাসস্থান, ভালো প্রতিবেশী ও আরামদায়ক বাহন। পক্ষান্তরে চারটি বিষয় দুর্ভাগ্যের : খারাপ প্রতিবেশী, খারাপ মহিলা, সংকীর্ণ বাসস্থান ও খারাপ বাহন।'২৩
তাই সুখী হতে হলে মানুষের জন্য বস্তুগত অসুবিধা থেকে মুক্ত হওয়াই যথেষ্ট। যেগুলো হৃদয়কে সংকীর্ণ করে ফেলে। যেমন: খারাপ মহিলা, খারাপ বাসস্থান ও খারাপ বাহন। শুধু তা-ই নয়; বরং কোনো ধরনের কষ্ট ও বাধা ছাড়া সহজেই খাদ্য আহরণ করতে পারাও সুখী হওয়ার জন্য যথেষ্ট। রাসুল অত্যন্ত চমৎকার বলেছেন। তিনি বলেন:
مَنْ أَصْبَحَ مِنْكُمْ آمِنًا فِي سِرْبِهِ مُعَافَى فِي جَسَدِهِ عِنْدَهُ قُوتُ يَوْمِهِ فَكَأَنَّمَا حِيزَتْ لَهُ الدُّنْيَا
'তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার ঘরে অথবা গোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপদে ও সুস্থ শরীরে সকালে উপনীত হয় এবং তার নিকট একদিনের খাবার আছে, তবে তার জন্য যেন গোটা দুনিয়াটাই একত্র করা হলো।'২৪
টিকাঃ
২৩. সহিহ ইবনি হিব্বান: ৪০৩২।
২৪. সুনানুত তিরমিজি: ২৩৪৬।
📄 অন্তরের মাঝে সুখ ও সৌভাগ্য রয়েছে
প্রসিদ্ধ ইসলামি ডাক্তার সাবিত বিন কুররা সুখী হওয়ার উপায় নিয়ে চিন্তা করেছেন। অতঃপর তিনি অতি সংক্ষেপে খুবই চমৎকার উপস্থাপনায় তাঁর চিন্তা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, 'দেহের শান্তি অল্প খাবারের মধ্যে। নফসের প্রশান্তি অল্প গুনাহের মধ্যে। অন্তরের প্রশান্তি অল্প আগ্রহের মধ্যে। জবানের প্রশান্তি অল্প কথা বলার মাঝে।'
ফজিলাতুশ শাইখ আহমাদ আশ-শারাবাসি বলেন, বিজ্ঞ ও বিচক্ষণ লোকটি সত্যই বলেছেন, 'নিশ্চয়ই দেহের প্রশান্তি অল্প খাবারের মধ্যে।' কারণ, শরীর হচ্ছে একটি যন্ত্রের মতো। খাবার যার জ্বালানির মতো। আর জ্বালানি অবশ্যই নির্দিষ্ট পরিমাণে গ্রহণ করতে হয়। যদি পরিমাণ বেশি হয়ে যায়, তাহলে তা আগুনের চেয়েও মারাত্মক হয়ে দাঁড়ায়। অতঃপর অধিক জ্বালানি পেয়ে যখন শরীর তার চাহিদা পূরণ করার জন্য লাগামহীন ছুটতে থাকে, তখনই ব্যক্তির জন্য তা বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাকে মানুষের কাতার থেকে বের করে পশুতে পরিণত করে। প্রায় সময় তো তাকে ধ্বংসই করে দেয়।
বুদ্ধিমান তারা, যারা বেঁচে থাকার জন্য আহার করে। আর নির্বোধ তারা, যারা আহারের জন্য বেঁচে থাকে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ
'তোমরা খাও এবং পান করো; কিন্তু অপব্যয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপব্যয়কারীদের পছন্দ করেন না।'২৫
কথিত আছে, আমরা এমন জাতি, ক্ষুধার্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত খাই না। আর খাওয়া শুরু করলে তৃপ্ত হই না।
'নফসের প্রশান্তি অল্প গুনাহের মধ্যে।' কারণ, নফস খারাপ কাজের নির্দেশ দেবেই। যখন সে নিয়ন্ত্রণহারা হয়ে যায় এবং শিকলমুক্ত হয়ে যায়, তখন শয়তানের সাথে লাগামহীন ছুটতে থাকে। ফলে শয়তান নফসকে অপহরণ করে, নষ্ট করে ফেলে এবং পুরো নফসজুড়ে পাপে ছেয়ে যায়, ধোঁকাগ্রস্ত হয়, জুলুম করে, অপচয় করে।
তাই তো মানুষের সবচেয়ে বড় দুশমন হচ্ছে নফস। যদি নফস প্রবৃত্তির ডাকে সাড়া দেয়, তাহলে ব্যক্তির ওপর প্রভাব বিস্তার করে। আর যদি প্রবৃত্তির ডাকে সাড়া না দিয়ে প্রবৃত্তি ও ব্যক্তির মাঝে আড়াল হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সে সঠিক পথের ওপর অটল থাকতে পারে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে কারিমে ইরশাদ করেন:
وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّاهَا - فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا - قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا - وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسَّاهَا
'শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন, তাঁর। অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন। যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সে-ই সফলকাম হয়। এবং যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়।' ২৬
'অন্তরের প্রশান্তি অল্প আগ্রহের মধ্যে।' অর্থাৎ অল্প দুশ্চিন্তা, সামান্য ভয় এবং কম দুঃখ করার মধ্যে। কেননা, দুর্বল ও ভীতু হৃদয় সর্বদা ব্যক্তির জন্য অস্থিরতা, উৎকণ্ঠা ও অক্ষমতার দুয়ার খুলে দেয়। ফলে সে সব সময় দুশ্চিন্তায় পড়ে থাকে, অতীতের জন্য পরিতাপ করতে থাকে, বর্তমান নিয়ে সংকীর্ণতা অনুভব করে এবং প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে মানুষের মধ্য থেকে একটি শ্রেণি তার শত্রুতে পরিণত হয়। ফলে তাদের সাথে কথা বলতে হাজার বার হিসাব করে; যা অর্জন করতে সক্ষম নয়, তা প্রত্যাশা করে এবং তার স্বপ্নগুলো কল্পনার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যায়।
পক্ষান্তরে দৃঢ় হৃদয়ের মানুষগুলো আল্লাহর সিদ্ধান্তকে মেনে নেয় এবং রাসুলের হাদিস অনুযায়ী আমল করে। তিনি ইরশাদ করেন :
عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ، إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرُ، وَلَيْسَ ذَاكَ لِأَحَدٍ إِلَّا لِلْمُؤْمِنِ، إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ، فَكَانَ خَيْرًا لَهُ، وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ، صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ
'মুমিনের বিষয়টাই আশ্চর্যজনক! তার প্রতিটি বিষয়ই কল্যাণকর। এটা মুমিন ব্যতীত আর কারও জন্য নয়। তার সুখ এলে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করে; ফলে এটা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আবার বিপদের সম্মুখীন হলে সে ধৈর্যধারণ করে; ফলে এটাও তার জন্য কল্যাণকর হয়। '২৭
এটি এমন এক নিয়ামত, যা কেবল আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হৃদয়ের অধিকারীরাই অর্জন করতে পারে। তাই তো রাসুল বেশি বেশি এই দুআটি পাঠ করতেন :
اللَّهُمَّ يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ، ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ
'হে আল্লাহ, হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অটল রাখুন। '২৮
যদি অন্তর সঠিক আকিদার ওপর অটল থাকে, আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরে এবং আল্লাহর কাছে আশ্রিত হয়, তবেই সে সত্য পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত হলো।
ইসলাম মুসলিমদেরকে আত্মার নিরাপত্তা, অন্তরের প্রশান্তি ও স্থিরচিত্ততার সবক দেয়। আল্লাহ তাআলা মুমিনের সিফাত বর্ণনায় বলেন:
الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُمْ بِذِكْرِ اللَّهِ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
'যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়; জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণ দ্বারাই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়। ২৯
দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ
'আর তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না। যদি তোমরা মুমিন হও, তবে তোমরাই জয়ী হবে।'৩০
যারা সঠিক পথের ওপর অটল রয়েছে, তাদের প্রশংসায় আল্লাহ বলেন:
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ - نَحْنُ أَوْلِيَاؤُكُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنْفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ - نُزُلًا مِنْ غَفُورٍ رَحِيمٍ
'নিশ্চয় যারা বলে, "আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ", অতঃপর তাতেই অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে, “তোমরা ভয় করো না, চিন্তা করো না এবং তোমাদের প্রতিশ্রুত জান্নাতের সুসংবাদ শোনো। ইহকালে ও পরকালে আমরা তোমাদের বন্ধু। সেখানে তোমাদের জন্য আছে, যা তোমাদের মন চায় এবং সেখানে তোমাদের জন্য আছে, যা তোমরা দাবি করো। এটা ক্ষমাশীল করুণাময়ের পক্ষ থেকে সাদর আপ্যায়ন।”৩১
'জবানের প্রশান্তি অল্প কথার মধ্যে।' কারণ, যারা বেশি কথা বলে, তারা স্খলিত হয়। জবান যখন নিয়ন্ত্রণহীনভাবে কথা বলতে থাকে, তখন ব্যক্তির জন্য যেকোনো বিপদ ডেকে আনে। তাই তো রাসুল বলেছেন, (أَمْسِكْ عَلَيْكَ لسانك) 'তোমার জবানকে নিয়ন্ত্রণ করো।'৩২
ইবনে আব্বাস নিজের জিহ্বা ধরে জিহ্বাকে লক্ষ্য করে বলতেন, 'তোমার জন্য আফসোস! ভালো কথা বলো, তাহলে পুরস্কার পাবে। খারাপ কথা থেকে বিরত থাকো, তাহলে নিরাপদ থাকবে। নচেৎ মনে রেখো, অবশ্যই লজ্জিত হবে।'
জনৈক বিজ্ঞ ব্যক্তিকে বলা হলো, 'মানুষ কখন শক্তিশালী হয়?' উত্তরে তিনি বললেন, 'জবান বিবেচনাহীন অপরিণামদর্শী কোনো কথা বলতে গেলে যদি সে খুব কঠোরভাবে শক্তি দিয়ে জবানকে বিরত রাখতে পারে, তাহলে সে শক্তিশালী।'
শাইখ আহমাদ আশ-শারাবাসি বলেন, 'দ্বীনের মাপকাঠিতে এটাই সুখী হওয়ার পদ্ধতি। সুতরাং যদি শরীর খাবার অপচয় থেকে বিরত থাকে, নফস পাপ থেকে মুক্ত থাকে, অন্তর যদি দুশ্চিন্তা না করে এবং জবান যদি অযথা কথা বলা ছেড়ে দেয়, তবেই যেকোনো মানুষ সঠিক পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে এবং সুখী জীবনযাপন করতে সক্ষম হবে।৩৩
টিকাঃ
২৫. সুরা আল-আরাফ, ৭:৩১।
২৬. সুরা আশ-শামস, ৯১ : ৭-১০।
২৭. সহিহ মুসলিম : ২৯৯৯।
২৮. আল-আদাবুল মুফরাদ : ৬৮৩, মুসনাদু আহমাদ: ২৬৬৭৯, সুনানুত তিরমিজি : ৩৫২২।
২৯. সুরা আর-রাদ, ১৩: ২৮।
৩০. সুরা আলি ইমরান, ৩: ১৩৯।
৩১. সুরা ফুসসিলাত, ৪১: ৩০-৩২।
৩২. আল-মুজামুল কাবির লিত তাবারানি: ৭৪১, শুআবুল ইমান : ৭৮৪।
৩৩. হায়াতুকা : ৬ষ্ঠ সংখ্যা, শাইখ আহমাদ আশ-শারাবাসি।
📄 মধ্যপন্থার মাঝে সুখ ও সৌভাগ্য রয়েছে
যে ব্যক্তি বিবেকের চক্ষু দিয়ে তাকিয়ে নিজের জন্য মধ্যপন্থা বেছে নেয়, সে-ই প্রকৃত সুখী। যেকোনো কাজে মধ্যপন্থা অবলম্বন করলে তাতে সুখ আসে।
আহারে মধ্যপন্থা অবলম্বন করার ফলে রোগমুক্ত থাকা যায়। অযথা কাজ থেকে বিরত থাকার দ্বারা আত্মার প্রশান্তি এবং দেহের উদ্যম তৈরি হয়। সম্পদ উপার্জন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করলে ব্যয়ের ক্ষেত্রে কল্যাণকর বিভিন্ন দিকের সন্ধান পাওয়া যায়। অধ্যয়নে মধ্যপন্থা অবলম্বন করার দ্বারা অন্তরে প্রফুল্লতা আসে এবং ক্লান্তি দূর হয়। দ্বীন ও দুনিয়ার যাবতীয় সকল বিষয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বন করলে উভয় জগতেই সৌভাগ্য অর্জন করা যায়। ৩৪
টিকাঃ
৩৪. হাজ্জাতুন নাশিয়িন, শাইখ মুস্তফা আল-গালায়িনি।