📘 সৌভাগ্যের হাতছানি > 📄 সৌভাগ্য কি সন্তান সন্তুতির মাঝে?

📄 সৌভাগ্য কি সন্তান সন্তুতির মাঝে?


এ কথা সত্য যে, সন্তানসন্ততি দুনিয়ার সৌন্দর্য। আল্লাহ তাআলা বলেন:
الْمَالُ وَالْبَنُونَ زِينَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا
'ধনৈশ্বর্য ও সন্তানসন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য। ১৩
বর্তমানে অনেক সন্তানই বাবা-মায়ের অবাধ্য। সম্পদের প্রতি সন্তানের লালসার কারণে অনেক বাবা-মা দুর্ভাগ্যবশত নিজ সন্তানের হাতেই খুন হয়! বড়ই আফসোসের বিষয়, এমন সন্তানের মধ্যে কি সুখ রয়েছে?!

টিকাঃ
১৩. সুরা আল-কাহফ, ১৮: ৪৬।

📘 সৌভাগ্যের হাতছানি > 📄 সৌভাগ্য, রুচিশীলতা ও ব্যক্তিত্ব

📄 সৌভাগ্য, রুচিশীলতা ও ব্যক্তিত্ব


ব্যক্তিজীবনে সুখী হওয়ার প্রধান উপাদান হলো, সৃষ্টিগত স্বভাব তথা মেজাজ ও ব্যক্তিত্ব। এই দুটি দ্বারাই সব সময় ব্যক্তির সন্তুষ্টি-খুশি এবং ক্রোধ নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই চিন্তাগ্রস্ত ও বিষণ্ণতায় আক্রান্ত ব্যক্তি যদি হঠাৎ কোনো বিপদ বা ট্র্যাজেডির সম্মুখীন হয়, তখন খুবই ভেঙে পড়ে এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
পক্ষান্তরে যখন কোনো সরল মেজাজের অধিকারী ব্যক্তি একই সমস্যার সম্মুখীন হয়, তখন সে বিষয়টিকে খুব স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে এবং বিষয়টি নিয়ে হা-হুতাশ না করে ভালোভাবে ও যথাযথ পদ্ধতিতে চিন্তা করতে শুরু করে। অথচ এই বিষয়টিতেই অন্য কেউ কোনো যথার্থতাই খুঁজে পাবে না।
ইমাম আজম আবু হানিফা নুমান প্রায় সময় তাঁর ছাত্রদের বলতেন, 'ইলমের কী পরিমাণ স্বাদ আমরা উপভোগ করছি, যদি রাজা-বাদশাহরা দেখত, তাহলে এর জন্য প্রয়োজনে আমাদের সাথে রীতিমতো যুদ্ধ করত!'
এরা চাইলে ক্ষমতাবলে পৃথিবীর সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের পুস্তিকাদির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে এবং পড়েও শেষ করতে পারবে। কিন্তু আবু হানিফা ও তাঁর শাগরেদগণের অধ্যয়ন ও পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার স্বাদ কখনো আস্বাদন করতে পারবে না!

📘 সৌভাগ্যের হাতছানি > 📄 তোমার সৌভাগ্য তোমার চিন্তা থেকে

📄 তোমার সৌভাগ্য তোমার চিন্তা থেকে


মানুষের সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য, প্রশান্তি ও উৎকণ্ঠা সবকিছুর উদ্ভব একমাত্র তার নিজের ভেতর থেকেই হয়। নিজেই জীবনকে উজ্জ্বল ও প্রফুল্লতার রঙে রাঙিয়ে তোলে আবার নিজেই সুন্দর জীবনকে দুর্বিষহ ও অতিষ্ঠ করে তোলে। যেমনিভাবে তরল কিছুর ওপর রঙ ঢেলে দিলে সেটি যেমন তেমনই রঙিন হয়ে ওঠে।
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَى أَعْرَابِي يَعُودُهُ فَقَالَ: «لَا بَأْسَ عَلَيْكَ طَهُورُ إِنْ شَاءَ اللهُ، قَالَ: قَالَ الأَعْرَابِيُّ: طَهُورُ بَلْ هِيَ حُتَّى تَفُورُ عَلَى شَيْخٍ كَبِيرٍ تُزِيرُهُ القُبُورَ، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَنَعَمْ إِذًا»
'রাসুলুল্লাহ এক বেদুইনের কাছে প্রবেশ করলেন তার অসুস্থতা সম্পর্কে জানার জন্য। তখন তিনি বললেন, “তোমার চিন্তার কোনো কারণ নেই। ইনশাআল্লাহ তুমি গুনাহ থেকে পবিত্রতা লাভ করবে।” বেদুইন বলল, “এটি গুনাহ থেকে পবিত্র করে দেবে? না; বরং এটি এমন জ্বর, যা একজন বৃদ্ধকে সিদ্ধ করছে; যেন তাকে কবরে নিয়ে ছাড়বে।" নবিজি বলেন, "হ্যাঁ, তবে তা-ই। ১৪
অর্থাৎ বেদুইন লোকটির অসুস্থতা তার ব্যক্তিগত বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল। চাইলে অসুস্থতাকে পাপ মোচনকারী হিসেবে মেনে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে পারে, আবার চাইলে এটিকে বিপদ ও ধ্বংসের কারণও মনে করতে পারে। তাই তো রাসুল বলেন:
فَمَنْ رَضِيَ فَلَهُ الرِّضَا، وَمَنْ سَخِطَ فَلَهُ السَّخَطُ
'যে ব্যক্তি (বিপদাপদে) সন্তুষ্ট থাকে, তার জন্য সন্তুষ্টি বিদ্যমান আর যে ব্যক্তি (বিপদাপদে) অসন্তুষ্ট থাকে, তার জন্য অসন্তুষ্টি বিদ্যমান।'১৫
ডেল কার্নেগি বলেন, 'যখন আমাদের মাথায় সুখকর চিন্তা আসে, তখন নিজেদের সুখী অনুভব করি। আর যখন খারাপ চিন্তা ঘুরতে থাকে, তখন অজান্তেই আমরা অশান্ত ও অসুখী হয়ে পড়ি। আবার যখন কোনো বিরক্তিকর বা অস্বস্তিকর চিন্তায় পড়ে যাই, তখন ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ি। যখন অসুস্থতা ও রোগবালাই চেপে ধরে, তখন আমরা অসুস্থাবস্থাতেই দিনাতিপাত করি। এভাবেই আমাদের চিন্তা ও অবস্থার দ্বারা আমরা পরিবর্তিত হতে থাকি। ১৬

টিকাঃ
১৪. সহিহুল বুখারি: ৭৪৭০।
১৫. সুনানুত তিরমিজি: ২৩৯৬।
১৬. জাদ্দিদ হায়াতাকা, শাইখ মুহাম্মাদ আল-গাজালি।

📘 সৌভাগ্যের হাতছানি > 📄 তোমার যা আছে, তা উপভোগ করার পদ্ধতি জানার মাঝে সৌভাগ্য রয়েছে

📄 তোমার যা আছে, তা উপভোগ করার পদ্ধতি জানার মাঝে সৌভাগ্য রয়েছে


হৃদয়ের গভীর থেকে, মন-মেজাজ এবং চিন্তা-চেতনা থেকে সুখ ও সৌভাগ্যের উৎপত্তি ঘটে। জীবনের বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি তোমার মনোভাব, নানান ঘটনাপ্রবাহের মুখোমুখি হওয়ার পর সমাধানের পদ্ধতির মাঝে এবং জীবনের সকল পাওয়া না-পাওয়ার ভাগ্যের ওপর সন্তুষ্ট থাকার মাঝে শান্তি রয়েছে। তোমার মনোভাব, দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তা ইত্যাদিই তোমার সুখ ও দুঃখের কারণ।
দুই ব্যক্তি বাগানে প্রবেশ করল। গাছের ডালে খুব সুন্দর একটি গোলাপ দেখতে পেয়ে তারা গোলাপটি পাড়তে গেল। একজন গোলাপটি পাড়তে গিয়ে হাতে কাঁটা বিঁধে গেল। অতঃপর সে বলল, 'ওহহহ! জীবনটা কত কঠিন! কত হতভাগা আমরা! এত সুন্দর একটি গোলাপ পাড়তে গেলাম, তাতেও কাঁটার আঘাত! একটু শান্তিও কি পাব না জীবনে?!' অথচ পাশের ব্যক্তি গোলাপটি পাড়তে গিয়ে একই পরিস্থিতির শিকার হয়ে বলল, 'সুবহানাল্লাহ, তিনি কত মহান! গোলাপটি কতই না সুন্দর ও চমৎকার! সুন্দর গোলাপটির মাঝে কাঁটা পর্যন্ত দিয়ে রেখেছেন তিনি। তাঁর সৃষ্টি কতই না কারুকার্যময়!' একই বিষয়। কিন্তু দুজনের দুরকম ভাবনা।
দুজন ব্যক্তির হাতে আধা গ্লাস করে পানি দেওয়া হলো। অতঃপর সুখী লোকটি বলল, 'আমার গ্লাস অর্ধেকটা পূর্ণ আছে।' আর হতভাগা ও বক্র মানসিকতার লোকটি বলল, 'আহ! আমার গ্লাস অর্ধেকটা খালি।' একটি বিষয়কে দুজন দুভাবে নিয়েছে। এভাবেই জীবনের প্রতিটি বিষয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
জীবনের সবকিছুতেই দুটো দিক রয়েছে। একটি সুন্দর আরেকটি অসুন্দর। তাই দুনিয়ার সুন্দর দিকটাই গ্রহণ করো। খারাপ দিকটা এড়িয়ে চলো।
সুতরাং এ কথা বলা চলে যে, প্রকৃত সুখ-শান্তি হলো, তোমার যা আছে, তা উপভোগ করার শিল্পের মাঝে, সুন্দর দিক দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার মাঝে, অসুন্দর দিক দ্বারা নয় এবং জীবনের যেকোনো বিষয়ে সুন্দর দিকটি উন্মোচন করতে পারার মাঝে। কেবল কোনো কিছুর মালিক হওয়ার মাঝেই সুখ নেই; বরং তার সুন্দর ব্যবহারের মাঝে সুখ রয়েছে।
যদি জীবন থেকে দুর্ভাগ্য দূর হয়ে যায়, তাহলে বলো না, 'আমি হতভাগ্য নই।' বরং বলো, 'আমি সুখী।' এ কথা বলো না, 'আমার জীবনের অর্ধেকটা জুড়ে অশান্তি রয়েছে।' বরং এ কথা বলো, 'আমার জীবনের অর্ধেকটা জুড়ে সুখ আর শান্তি রয়েছে।'১৭

টিকাঃ
১৭. ফালসাফাতুস সাআদাহ, ড. মুহাম্মাদ ফাতহি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00