📄 বাস্তবতা-বিবর্জিত জীবনধারণের মাঝে কি সৌভাগ্য আছে?
কিছু মানুষ বিভিন্নভাবে বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সৌভাগ্য খোঁজ করে। এদের কাছে জীবনটা বহনের অযোগ্য অসাধ্য একটি বোঝা এবং জীবিকা উপার্জনের জন্য কষ্ট করা হচ্ছে শরীর ধ্বংসের নামান্তর। ভালোবাসা, মায়ামমতা, অঙ্গীকার পূরণ, সততা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ গুণগুলো তাদের বিশ্বাসমতে কল্পকাহিনি বৈ কিছু নয়। চিন্তাজগৎ ছাড়া বাস্তবজগতে যেগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই! বাস্তব জীবন থেকে দূরে থাকতে এবং ভুলে যেতে এরা কিছু মাধ্যম অবলম্বন করে। কখনো জেগে জেগে স্বপ্ন দেখে এবং কল্পনায় প্রাসাদ বুনে ভুলে থাকতে চায়। কখনো মদের বোতলে চুমুক দিয়ে শেষ ফোঁটাটুকুও চুষে নিয়ে এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করার মাধ্যমে ভুলতে চায়। দুটো পদ্ধতিই মানুষকে খুব জঘন্য ও সর্বনিম্ন স্তরে নিয়ে পৌঁছায়।
কেউ কেউ কষ্ট লাঘবকারী ট্যাবলেট সেবন করে। তাদের ধারণা, হয়তো এর মাধ্যমে ক্লান্ত দেহে একটুখানি শান্তির পরশ পাবে এবং পরিশ্রান্ত শিরাগুলো কিছুটা সুখ অনুভব করবে।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, এই ট্যাবলেটগুলোকে কিছু বিশেষ মুহূর্তে নির্দিষ্ট চিকিৎসার জন্য ব্যবহারের কথা থাকলেও বর্তমানে এগুলোর অপব্যবহার হচ্ছে।
যারা কোনো ডাক্তারি পরামর্শ ছাড়া এগুলো সেবন করছে, তারা নিজেদের আসক্তির অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করছে এবং নিজেরাই নিজেদের শরীরকে ক্ষতির সম্মুখীন করছে।
১৯৫৭ সালে প্রকাশিত (مجلة الهلال)-এর একটি প্রবন্ধে কাতারের ড. আমির বলেছেন, 'অদ্ভুত ব্যাপার হলো, যেসব ধনীরা আমেরিকার ফ্লোরিডা ও ফ্রান্সের রিভেরার মতো দুনিয়ার স্বর্গতুল্য জায়গাগুলোতে ঘুরতে যায়, সেখানে তারা কেবল সাজসজ্জা, চাকচিক্য ও উপভোগ করতেই যায় না; বরং একটুখানি শান্তিও পেতে চায়। তাই সেখানে গিয়েও ফার্মেসি খোঁজে দুঃখ ও কষ্ট দূর করার ট্যাবলেট ক্রয় করার জন্য। যদি এতে একটুখানি সুখের পরশ পাওয়া যায়!
কিন্তু আমি বলব, অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এদের কাছে তো সুখ ও সৌভাগ্যের সবগুলো উপকরণই পর্যাপ্ত পরিমাণ বিদ্যমান। টাকা-পয়সা, অর্থ-সম্পদ, স্বভাব, প্রকৃতি, বিনোদনসামগ্রী ইত্যাদি সবই রয়েছে তাদের। এতকিছু সত্ত্বেও তারা একটুখানি সুখ অনুভব করার জন্য কৃত্রিম উপকরণাদির শরণাপন্ন হয়। কিন্তু সেখানেও কি সুখ মিলে?! কেবল স্বপ্নের বেড়াজালে আর অনুভবের ভাঁজে ভাঁজেই আটকে থাকে তাদের সুখগুলো!
বাস্তবতা হলো, তারা হইচইপূর্ণ এবং আয়েশি জীবন থেকে কিছুটা দূরে থাকতে চায়। বরং এভাবে সুখ তাদের থেকে অনেক দূরে পালিয়ে যায়। তারা টেরই পায় না।
তাদের দৃষ্টান্ত সেই ব্যক্তির মতো, যে তার খুব কাছেই আগুন জ্বলতে দেখে। অতঃপর আগুন না নিভিয়ে অথবা সেখান থেকে দূরে না সরে অজ্ঞতাবশত আগুনের কাছেই কাউকে থাকতে বলল!'৭
টিকাঃ
৭. ড. আমির, মাজাল্লাতুল হিলাল; জুন, ১৯৫৭ ইসায়ি।
📄 প্রাচুর্যপূর্ণ জীবন ও ধন প্রাচুর্যের মধ্যেই কি সৌভাগ্য?
কিছু মানুষ এমনটি ভেবে ধনাঢ্যতা ও প্রাচুর্যকে প্রকৃত সৌভাগ্য ভেবে বসে আছে। তাদের কাছে অঢেল সম্পদ, প্রাচুর্যময় জীবনই আসল সুখ। অথচ যেসব দেশে জীবনযাত্রার মান স্বাভাবিক স্তর পেরিয়ে সর্বোচ্চ স্বরে উপনীত হয়েছে এবং সকল সুবিধা হাতের নাগালে চলে এসেছে, তারাও প্রতিনিয়ত দুঃখ-কষ্ট, দুর্ভাগ্য ও অশান্তিপূর্ণ জীবন পার করছে বলে অভিযোগ করে যাচ্ছে। তাই সুখ ও সৌভাগ্য লাভের জন্য ভিন্ন কোনো পথের অনুসন্ধান করছে।
সুতরাং এ কথা স্পষ্ট, সম্পদের আধিক্য প্রকৃত সৌভাগ্য নয়। বরং অনেক সময় সম্পদের আধিক্য পরকালের পূর্বে ইহকালেই কারও কারও ক্ষতি ও বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই তো আল্লাহ তাআলা এক শ্রেণির মুনাফিকদের সম্পর্কে ইরশাদ করেন:
فَلَا تُعْجِبُكَ أَمْوَالُهُمْ وَلَا أَوْلَادُهُمْ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ بِهَا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا
'সুতরাং তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তানসন্ততি যেন আপনাকে বিস্মিত না করে। আল্লাহর ইচ্ছা হলো এগুলো দ্বারা দুনিয়ার জীবনে তাদের আজাবে নিপতিত রাখা।"৮
কষ্ট, কাঠিন্য, দুশ্চিন্তা, রোগব্যাধি ইত্যাদিই তাদের জন্য আজাব। যারা ধন-সম্পদ ও দুনিয়া অর্জনকে জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তাদের অধিকাংশের অবস্থা এমনই দেখা যায়। এরা সব সময় মানসিক কষ্টে থাকে। তাদের অন্তর সর্বদা ক্লান্ত থাকে। প্রতিটি মুহূর্তে তাদের দুশ্চিন্তায় ডুবে থাকতে হয়। একটি মুহূর্তের জন্যও তারা প্রশান্ত এবং দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে পারে না।
মানবতার নবি মুহাম্মাদ এ ধরনের মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যাপারে ইরশাদ করেন:
مَنْ كَانَتِ الْآخِرَةُ هَمَّهُ جَعَلَ اللَّهُ غِنَاهُ فِي قَلْبِهِ وَجَمَعَ لَهُ شَمْلَهُ، وَأَتَتْهُ الدُّنْيَا وَهِيَ رَاغِمَةُ، وَمَنْ كَانَتِ الدُّنْيَا هَمَّهُ جَعَلَ اللَّهُ فَقْرَهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ، وَفَرَّقَ عَلَيْهِ شَمْلَهُ، وَلَمْ يَأْتِهِ مِنَ الدُّنْيَا إِلَّا مَا قُدَّرَ لَهُ
'যে ব্যক্তির একমাত্র চিন্তার বিষয় হয় আখিরাত, আল্লাহ তাআলা তার অন্তরে ধনাঢ্যতা দিয়ে দেন এবং তার যাবতীয় বিচ্ছিন্ন কাজ একত্রিত করে সুসংযত করে দেন, তখন তার নিকট দুনিয়াটা নগণ্য হয়ে দেখা দেয়। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তির একমাত্র চিন্তার বিষয় হয় দুনিয়া, আল্লাহ তাআলা তার দারিদ্র্যকে তার চোখের সামনেই লাগিয়ে রাখেন এবং তার কাজগুলো এলোমেলো ও ছিন্নভিন্ন করে দেন; আর দুনিয়াতে তার জন্য যতটুকু নির্ধারণ করা হয়েছে, কেবল ততটুকুই সে পায়।”৯
কিছু কিছু মানুষকে সম্পদ দাসে পরিণত করে। ফলে তারা সম্পদের তালাশে কষ্ট অনুভব করে, সম্পদ হারানোর ভয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগে। রাসুল সত্যই বলেছেন। তিনি বলেন:
تَعِسَ عَبْدُ الدِّينَارِ، وَالدَّرْهَمِ، وَالقَطِيفَةِ، وَالخَمِيصَةِ، إِنْ أُعْطِيَ رَضِيَ، وَإِنْ لَمْ يُعْطَ لَمْ يَرْضَ
'ধ্বংস হোক দিনার ও দিরহামের গোলাম এবং চাদর ও শালের গোলাম! তাকে দেওয়া হলে সন্তুষ্ট হয়, আর না দেওয়া হলে অসন্তুষ্ট হয়। ১০
স্যার আর্নস্ট বলেন, 'অধিকাংশ মানুষের বিশ্বাস হলো, "ধনাঢ্যতা সৌভাগ্যের মাধ্যম।" কিন্তু আমি এর সম্পূর্ণ বিপরীত। ধনাঢ্যতা ও প্রাচুর্যের সুখের চেয়েও জীবনে আরও বেশি আনন্দ ও সুখ রয়েছে। আর্থিক সফলতা কোনোদিন প্রেমময়ী ও একনিষ্ঠ একজন স্ত্রীর ভালোবাসার সমান হতে পারে না। অর্থবিত্তের প্রাচুর্যের সুখ কখনো সন্তানসন্ততি নিয়ে সুখে থাকার আনন্দের সমতুল্য হয় না।
কিছু কিছু ধনী দরিদ্রদের চেয়েও বেশি দুর্দশাগ্রস্ত। এদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ও উদ্বেগ থাকে আড়ম্বরপূর্ণ খানাপিনা, যৌনাচার, দামি দামি আসবাবপত্র ক্রয়, আপডেট মডেলের গাড়ি ও বিলাসবহুল জিনিসপত্র সংগ্রহ করার প্রতি। অথচ যখন এরা এসব জাঁকজমকপূর্ণ আয়েশি জীবনের স্বাদ আস্বাদনে মরিয়া হয়ে থাকে, তখন ঠিকই অনুধাবন করে যে, তাদের এসব ভোগবিলাস চিরস্থায়ী নয়। কেবল নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। একঘেয়েমি বা বিরক্তি কিছুই তাদের দমিয়ে রাখতে পারে না।
প্রাচীন কালের জনৈক রাজার সম্পর্কে কথিত আছে যে, তিনি সবচেয়ে বেশি দুর্দশাগ্রস্ত ছিলেন। সে সময়ে তার চেয়ে বেশি দুঃখী আর কেউ ছিল না। অথচ তার সহায়-সম্পত্তি, খাবারদাবার ইত্যাদি কিছুতেই কমতি ছিল না। তথাপি সে-ই ছিল সবচেয়ে বড় দুঃখী। একদিন তার সামনে সবচেয়ে দামি এবং অত্যন্ত সুস্বাদু সকল খাবার উপস্থিত করা হলো। কিন্তু তার বদহজম থাকায় আর খেতে পারেনি।
একদিন তার এক ঘনিষ্ঠভাজন তাকে পরামর্শ দিল, 'যদি এক রাতের জন্য হলেও রাজ্যের সবচেয়ে সুখী ব্যক্তির পোশাক পরে থাকতে পারেন, তাহলে আপনি সুখী হয়ে যাবেন।' যে-ই কথা সে-ই কাজ। সাথে সাথে রাজ্যজুড়ে সবচেয়ে সুখী মানুষটিকে খোঁজা শুরু হলো। অবশেষে পেয়েও গেল। লোকটির পুরো চেহারাজুড়ে ছিল সবর ও সৌভাগ্যের ছাপ। অতঃপর তারা লোকটিকে রাজার সামনে হাজির করল। রাজা দেখে খুবই বিস্মিত হলো। কারণ, সবচেয়ে সুখী লোকটির গায়ে পরনের মতো ভালো কোনো জামা ছিল না!
কিছু মানুষ সম্পদকে সৌভাগ্যের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করতে চায়। অতঃপর এই নীতির আলোকেই সামনে এগুতে থাকে। কিন্তু খুব কমই সম্পদ উপার্জন হতে দেখে সেই মূলনীতির কথা ভুলে যায়, যেই নীতিকে সামনে রেখে সম্পদ অর্জন করতে শুরু করেছিল। এ কথাও ভুলে যায় যে, সে সম্পদকে কেবলই মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছিল। এভাবে দিন যেতে যেতে একসময় সম্পদই তার প্রকৃত লক্ষ্যে পরিণত হয়। রাতদিন তার পিছেই লেগে থাকে। কখনো হালাল পন্থায় আবার কখনো হারাম পন্থায় উপার্জন করতে থাকে। কিন্তু আশানুরূপ ফল পায় না। মাঝে মাঝে অন্যকে লাথি মেরে নিজে ওপরে উঠতে চায়। উসতাজ আব্দুল্লাহ আল-জুআইসান বলেন, 'অবশেষে সে হার্ট অ্যাটাক করে বসে। এভাবে মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত লড়ে যেতে থাকে!
সম্পদ দ্বারা সৌভাগ্য লাভ করার দুটো শর্ত রয়েছে।
এক. সম্পদ হালাল হতে হবে। যা ব্যক্তি নিজের শ্রম ও প্রচেষ্টা দ্বারা উপার্জন করে থাকে।
দুই. অনৈতিক ও অযথা সম্পদ ব্যয় করা যাবে না। তাহলে সম্পদ তার জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ১২
টিকাঃ
৮. সুরা আত-তাওবা, ৯: ৫৫।
৯. সুনানুত তিরমিজি: ২৪৬৫।
১০. সহিহুল বুখারি: ২৮৮৬।
১২. তাজারিবুহুম ফিস সাআদাহ, উসতাজ আব্দুল্লাহ আল-জুআইসান।
📄 সৌভাগ্য কি সন্তান সন্তুতির মাঝে?
এ কথা সত্য যে, সন্তানসন্ততি দুনিয়ার সৌন্দর্য। আল্লাহ তাআলা বলেন:
الْمَالُ وَالْبَنُونَ زِينَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا
'ধনৈশ্বর্য ও সন্তানসন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য। ১৩
বর্তমানে অনেক সন্তানই বাবা-মায়ের অবাধ্য। সম্পদের প্রতি সন্তানের লালসার কারণে অনেক বাবা-মা দুর্ভাগ্যবশত নিজ সন্তানের হাতেই খুন হয়! বড়ই আফসোসের বিষয়, এমন সন্তানের মধ্যে কি সুখ রয়েছে?!
টিকাঃ
১৩. সুরা আল-কাহফ, ১৮: ৪৬।
📄 সৌভাগ্য, রুচিশীলতা ও ব্যক্তিত্ব
ব্যক্তিজীবনে সুখী হওয়ার প্রধান উপাদান হলো, সৃষ্টিগত স্বভাব তথা মেজাজ ও ব্যক্তিত্ব। এই দুটি দ্বারাই সব সময় ব্যক্তির সন্তুষ্টি-খুশি এবং ক্রোধ নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই চিন্তাগ্রস্ত ও বিষণ্ণতায় আক্রান্ত ব্যক্তি যদি হঠাৎ কোনো বিপদ বা ট্র্যাজেডির সম্মুখীন হয়, তখন খুবই ভেঙে পড়ে এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
পক্ষান্তরে যখন কোনো সরল মেজাজের অধিকারী ব্যক্তি একই সমস্যার সম্মুখীন হয়, তখন সে বিষয়টিকে খুব স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে এবং বিষয়টি নিয়ে হা-হুতাশ না করে ভালোভাবে ও যথাযথ পদ্ধতিতে চিন্তা করতে শুরু করে। অথচ এই বিষয়টিতেই অন্য কেউ কোনো যথার্থতাই খুঁজে পাবে না।
ইমাম আজম আবু হানিফা নুমান প্রায় সময় তাঁর ছাত্রদের বলতেন, 'ইলমের কী পরিমাণ স্বাদ আমরা উপভোগ করছি, যদি রাজা-বাদশাহরা দেখত, তাহলে এর জন্য প্রয়োজনে আমাদের সাথে রীতিমতো যুদ্ধ করত!'
এরা চাইলে ক্ষমতাবলে পৃথিবীর সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের পুস্তিকাদির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে এবং পড়েও শেষ করতে পারবে। কিন্তু আবু হানিফা ও তাঁর শাগরেদগণের অধ্যয়ন ও পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার স্বাদ কখনো আস্বাদন করতে পারবে না!