📄 অবতরণিকা
الحمد لله القائل : أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، وبعد:
সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর, যিনি বলেন: أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ 'তোমরা কি ধারণা করেছিলে যে, আমি তোমাদের অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে না?'
দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ নবি ও রাসুলের ওপর।...
এই পৃথিবীতে মুমিনদের মূল পুঁজি সামান্য কিছু সময়, সুনির্দিষ্ট কিছু মুহূর্ত কিংবা হাতে গোনা কয়েকটি দিন। যে ব্যক্তি এই মুহূর্তগুলোকে কল্যাণের কাজে বিনিয়োগ করে এবং সময়গুলো থেকে উপকৃত হওয়ার প্রয়াস পায়, তার জন্য মহা সুসংবাদ। আর যে ব্যক্তি সময় নষ্ট করে এবং কল্যাণ সঞ্চয়ে শিথিলতা প্রদর্শন করে, সে মূলত জিন্দেগির একমাত্র পুঁজিটাকেই বরবাদ করে—যা আর কোনো দিন সে ফিরে পাবে না।
অলসতা ও আরামপ্রিয়তার এই যুগে ভাটা পড়েছে মানুষের উদ্যমে। মানুষ আজ হয়ে পড়েছে আরাম ও বিলাসপ্রিয়। আল্লাহর আনুগত্য থেকে ক্রমশ গাফিল হয়ে পড়ছে তারা। আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ইবাদতবিমুখ হওয়ার প্রবণতা। বিরান হয়ে পড়েছে আনুগত্যের খাতা। অহেতুক কাজে বিনষ্ট হচ্ছে জীবনের মূল্যবান সময়।
নাজুক এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের দিশা লাভের মহান মানসে আমরা উম্মাহর খিদমতে পেশ করতে যাচ্ছি মূল্যবান একটি কিতাব। এতে সময়ের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে সারগর্ভ আলোচনা সন্নিবেশিত হয়েছে। নিয়মানুবর্তিতার গুরুত্ব এবং সময় হিফাজতের কলাকৌশল নিয়েও উঠে এসেছে বেশকিছু মূল্যবান দিকনির্দেশনা। সেই সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে মহান সালাফের অনুপম কিছু ঘটনা-সময়কে কাজে লাগিয়ে যারা আনুগত্যের চাষ করতেন জীবনের ময়দানে আর ইবাদতের ফুল-ফসলে ভরে তুলতেন আখিরাতের গুদাম, যারা নিজেদের সময়কে কাজে লাগিয়েছেন, আনুগত্যের মাঝেই যারা জীবনযাপন করেছেন, ইবাদতের মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে পরিণত করেছেন অমূল্য জীবনে।
আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করি- তিনি যেন আমাদের সময় কাজে লাগানোর তাওফিক দান করেন। এ বইতে বলা কথাগুলো দিয়ে আমাদের অন্তর জীবিত করেন। এগুলোকে আমাদের জন্য এমন স্মরণিকা বানিয়ে দেন, যার ফলে আমরা অলসতার অসুখ থেকে বাঁচতে পারি। যেন সংশোধিত হয় আমাদের জীবনের বাকি দিনগুলো।
وصلى الله على نبينا محمد - আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আল-কাসিম
টিকাঃ
১. সুরা আল-মুমিনুন: ১১৫
মানুষ যদি জীবনকে চিনত, জীবনের অর্থ বুঝত, তাহলে সৌভাগ্যলাভের বহু উপকরণ খুঁজে পেত। শুধু তা-ই নয়; বরং এমন সব উপকরণের সন্ধান পেত, যেগুলো পরকালের জান্নাতের আগে দুনিয়াতেই এক টুকরো জান্নাত হাতের মুঠোয় এনে দেয়।
মাঝে মাঝে জীবনটা থমকে দাঁড়ায়। তখন মানুষ নিজেকে প্রশ্ন করে, এ জীবনের লক্ষ্য কী আমার? সম্পদ উপার্জন করা? সম্মান ও প্রভাব-প্রতিপত্তি লাভ করা? ক্ষমতা অর্জন করা? নাকি এমন একটি সুখকর অবস্থায় উপনীত হওয়া, যে অবস্থায় সুখ-আনন্দ আর স্বাচ্ছন্দ্যের সকল উপকরণ ভোগ করতে পারব এবং সেগুলোর মধ্য দিয়ে সফলতার সত্য বাণীর স্বাদ আস্বাদন করতে পারব? অথবা এমন ইলম অর্জন করা, প্রতিনিয়ত যার গোপন ভেদগুলো আমার কাছে প্রকাশিত হতে থাকবে? নাকি জীবনের লক্ষ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা, যা আমাকে আমার স্রষ্টার কাছাকাছি নিয়ে যাবে এবং আমার হৃদয় প্রশান্ত হবে?
অধিকাংশ মানুষের কল্পনাটা এমন—(سَعَادَة) বা ‘সৌভাগ্য’ শুধু আক্ষরিক অর্থেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবতায় এর কোনো অস্তিত্ব নেই। তাদের ধারণামতে ‘সৌভাগ্য’ কেবলই মানুষের চিন্তার মধ্যে ঘুরপাক খায়। বাস্তবতার ময়দানে তার কোনো পদচারণা নেই।
এসব ধারণা পোষণকারীরা নিশ্চিত মূর্খ এবং ধোঁকাগ্রস্ত। কারণ তারা জানে না, আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এই বিস্তীর্ণ এবং কল্যাণ, নানাবিধ নিয়ামত ও বরকতের জনপদে দুর্ভাগ্য দিয়ে সৃষ্টি করেননি। আমাদের হতভাগ্য হতে এখানে পাঠাননি। কীভাবে তারা এমন ধারণা করে! অথচ স্বয়ং আল্লাহ তাআলা রাসুল -কে লক্ষ্য করে বলেন:
طه - مَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لِتَشْقَى
'ত-হা। আপনাকে ক্লেশ দেওয়ার জন্য আমি আপনার প্রতি কুরআন নাজিল করিনি।'২
فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدًى فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْقَى
'এরপর যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে হিদায়াত আসবে, তখন যে আমার বর্ণিত পথ অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং কষ্টে পতিত হবে না।'৩
অতঃপর আল্লাহ তাআলা হতভাগ্যদের জাহান্নামি ঘোষণা করে ইরশাদ করেন: فَأَمَّا الَّذِينَ شَقُوا فَفِي النَّارِ لَهُمْ فِيهَا زَفِيرٌ وَشَهِيقٌ
'অতএব যারা হতভাগ্য, তারা জাহান্নামে যাবে, সেখানে তারা আর্তনাদ ও চিৎকার করতে থাকবে।'৪
এরপর সৌভাগ্যবানদের জন্য জান্নাতের ঘোষণা দিয়ে তিনি ইরশাদ করেন: وَأَمَّا الَّذِينَ سُعِدُوا فَفِي الْجَنَّةِ خَالِدِينَ فِيهَا مَا دَامَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ
'আর যারা সৌভাগ্যবান, তারা থাকবে জান্নাতে, তাতে তারা চিরদিন থাকবে, যতদিন আসমানমণ্ডলী ও জমিন বর্তমান থাকবে।'৫
উল্লেখিত আয়াতগুলোতে আল্লাহ তাআলা যাদের কথা বলেছেন, তারাই প্রকৃত সৌভাগ্যবান। অথচ ওরা তা অনুভবও করতে পারে না।
বিশিষ্ট দার্শনিক এপিকটেটাস বলেন, 'যার জীবনটা দুর্ভাগ্যময় হয়, সে যেন এর জন্য অন্য কাউকে দোষারোপ না করে। তার দুর্ভাগ্যের জন্য সে নিজেই দায়ী।' কেননা, আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৌভাগ্যবান হওয়ার জন্যই সৃষ্টি করেছেন। সকল কল্যাণ আল্লাহ তাআলার কাছ থেকেই আসে। আর অকল্যাণ ও মন্দ আমাদের নিজেরদের কারণেই আসে। মূলত স্বভাব আমাদেরকে সৌভাগ্যবান বা দুর্ভাগ্যবান করে। অবস্থা নয়।
দুনিয়াতে কি শুধু কল্যাণই কিংবা শুধু অকল্যাণই বিরাজমান?! কেবল সৌভাগ্যের নাম মুখে জপতে থাকলেই দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে যাবে, নাকি এর জন্য চেষ্টাও করতে হবে? কেবল মনের ভেতরে লালন করলেই আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলো বাস্তবতা লাভ করবে, নাকি বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ কষ্ট করতে হবে? এটাই দুনিয়ার নীতি। জগতের পদ্ধতি এমনই। সবকিছুকে বিপরীত জিনিসের মাধ্যমে চেনা যায়। যদি দুর্ভাগ্য না থাকত, তাহলে সৌভাগ্য চেনা যেত না। যদি রাত না থাকত, তাহলে দিন থাকত না। যদি অন্ধকার না থাকত, তাহলে আলোর কোনো গুরুত্ব থাকত না।
সৌভাগ্যবান তো সে, যে নিজের অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার কৌশল জানে। কেবল ধন-সম্পদ, ভোগবিলাস, ঐশ্বর্য, প্রভাব-প্রতিপত্তি, প্রেম-ভালোবাসা, জ্ঞানার্জন বা জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হওয়া, অজ্ঞতা বা অজ্ঞতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং সাজসজ্জা বা সৌন্দর্যমণ্ডিত হওয়া সৌভাগ্য নয়। এগুলোর কোনোটিই প্রকৃত সৌভাগ্য নয়। কেউ যদি এই সবগুলো বিষয়ের অধিকারীও হয়, তবুও সে সৌভাগ্যবান নয়। বরং সৌভাগ্য তো হলো, ব্যক্তি নিজেকে সৌভাগ্যবান ভাবতে পারার মাঝে।
উক্ত বিষয়গুলোতে সৌভাগ্যের কিছু ছিটেফোঁটা অবশ্যই রয়েছে। কারও পক্ষে তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। যা একেকজন একেকভাবে অনুভব করে। যেমন : একাগ্রচিত্তে ইবাদতকারী ব্যক্তি আল্লাহর সামনে দাঁড়ালে সৌভাগ্য অনুভব করে। একজন জ্ঞানী ব্যক্তি নতুন কিছুর রহস্য উন্মোচনের সূচনায় অনুভব করে। তেমনিভাবে কোনো কিছুর অন্বেষণকারী লক্ষ্যে উপনীত হলে, ডাক্তার রোগীকে সুস্থ করতে পারলে, প্রচেষ্টাকারী আপন প্রচেষ্টায় সফল হলে, মা সন্তানের আওয়াজ শুনলে এবং বাবা সন্তানদের পরিপূর্ণ সুস্থ ও হাস্যোজ্জ্বল দেখতে পেলে অনুভব করে। এভাবেই একেকজন একেকভাবে সৌভাগ্যের ছোঁয়া অনুভব করে।
বাস্তবতা হলো, আমরা সকলেই আমাদের প্রতি আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতে টইটম্বুর এক দিগন্তে বসবাস করছি। তাই আমাদের উচিত, নিয়ামতগুলো সম্পর্কে যথাযথভাবে জানা। অধিকাংশ মানুষ তার ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ সম্পর্কে জানেই না। অতঃপর যখন অনুগ্রহ ছিনিয়ে নেওয়া হয়, তখন বুঝতে পারে! কিন্তু সেই বুঝ আর কোনো কাজে আসে না।
ড. মুস্তফা আস-সিবায়ি বলেন:
'বছরে একবার হলেও আদালতে ঘুরে আসো। তাহলে তোমার উত্তম আখলাকে তোমার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ বুঝতে পারবে!
কমপক্ষে মাসে একবার হাসপাতাল পরিদর্শন করে আসো। তাহলে তোমার প্রতি আল্লাহর সুস্থতার নিয়ামত ও অসুস্থতার কষ্ট অনুভব করতে সক্ষম হবে!
সপ্তাহে একবার হলেও বাগান থেকে ঘুরে আসো। তাহলে বুঝতে পারবে সৌন্দর্যের নিয়ামত দ্বারা আল্লাহ তাআলা তোমাকে কতখানি অনুগ্রহ করেছেন!
দিনে একবার লাইব্রেরিতে যাও। তাহলে আল্লাহর দেওয়া জ্ঞান ও বিবেকের নিয়ামতের শ্রেষ্ঠত্ব অনুমান করতে সক্ষম হবে।
আর প্রতিটি মুহূর্তে তোমার মহান প্রতিপালককে স্মরণ করো। তাহলে জীবনের সবগুলো নিয়ামতের গুরুত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব অনুধাবন করতে পারবে।'
হে মানুষ, অল্পতে তুষ্ট থাকো। তাহলে সুখী হতে পারবে। নিজেকে নিজে মূল্যায়ন করতে শিখো এবং মানুষের কাছে সম্মানিত হতে সচেষ্ট হও।
সর্বদা স্বাচ্ছন্দ্যে থাকার চেষ্টা করো। অর্থ-সম্পদের প্রাচুর্য দিয়ে নয়। জীবনে কোনো খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে প্রফুল্ল চিত্তে বীরের বেশে সবর করতে থাকো। কখনো পরাজয় আসলে এমনভাবে স্বাগত জানাও, যেন তুমি পরাজয়কে খুব পছন্দ করো এবং বিজয়কে হারানোর কারণে মনে কোনো ব্যথা নেই। চিন্তা করবে তো ভালো ও সুন্দর বিষয় নিয়েই চিন্তা করো। কথা বলার সময় ভালো এবং প্রয়োজনীয় কথা বলো। কারও সাথে হিংসা করবে না। কেননা, যে বিষয়ে তার সাথে হিংসা করবে, হয়তো সে বিষয়ের বাস্তবতা জানতে পারলে তার প্রতি সহানুভূতি আসবে এবং নিজের প্রতিই তোমার হিংসা জাগবে।
নিজের প্রতি সন্তুষ্ট হওয়া ছাড়া কিছুতেই সুখী হতে পারবে না। যদি নিজের যেকোনো ভালো-খারাপ অবস্থার প্রতি সন্তুষ্ট থাকতে পারো, তবেই হৃদয় প্রশান্ত থাকবে এবং নিজে প্রফুল্ল থাকতে পারবে। তবে এ কথা সত্য যে, সর্বদা মনের মতো পরিস্থিতি ও অনুকূল পরিবেশ পাবে না। অনেক কিছুই মনে হবে এটা করা উচিত। অথচ সামান্যই করা হয়েছে। নিজের মধ্যে কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য দেখতে পাবে। অবশ্যই সেগুলোকে যত্ন সহকারে লালনপালন করে আরও বৃদ্ধি করবে। তাহলে তুমি তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হতে সক্ষম হবে।
প্রকৃত মুমিন জানে, দুনিয়ার ভোগবিলাস ক্ষণস্থায়ী এবং ধন-সম্পদ, প্রভাব- প্রতিপত্তি ও সাজ-সৌন্দর্যের কোনো স্থায়িত্ব নেই। ফলে এসব বাস্তবতা অনুধাবন করার পর সে রবের সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই প্রাণপণ চেষ্টা শুরু করে; ইহকালে আল্লাহ যা কিছু দিয়েছেন, তাতেই পরিতুষ্ট থাকে এবং পরকালের জন্য এমনভাবে আমল করে, যেন কালই মৃত্যুবরণ করবে।
অতএব, প্রকৃত সৌভাগ্য হলো, আল্লাহর আনুগত্য, মানুষের পারস্পরিক ভালোবাসা, দরিদ্রের সহায়তা, অসুস্থের সেবা করা, অধঃপতিত ও নিম্নগামী মানুষকে ওপরে তুলে আনা, ক্ষুধার্তকে আহার দান, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র দান এবং অভাবীদের প্রতি দয়া করার মাঝে।
সারকথা হচ্ছে, কেউ পরিপূর্ণ সৌভাগ্যবান হতে হলে শারীরিকভাবে সুস্থ হতে হবে, জীবনযাপনে স্বাভাবিক হতে হবে, নিজের প্রতি সন্তুষ্ট হতে হবে এবং পরকালের উন্নতির জন্য সচেষ্ট ও আত্মমর্যাদাশীল হতে হবে। যদি এমন হতে পারে, তবে সে সৌভাগ্যবান। নচেৎ তার কপালে সৌভাগ্য নেই।
জনৈক ব্যক্তি খুবই সুন্দর বলেছেন, 'হে বনি আদম, দিনে কিংবা রাতে এমন একটি সময় নির্ধারণ করো, যখন তোমার প্রতিপালক ও সৃষ্টিকর্তার কাছে ফিরে যাবে একান্তে, চিন্তা করবে নিজের সূচনা ও সমাপ্তি নিয়ে এবং হিসাব করবে জীবনের অতিবাহিত দিনগুলো নিয়ে। অতঃপর যদি ফেলে আসা দিনগুলোকে সুন্দর ও কল্যাণময় দেখতে পাও, তাহলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে।
আর যদি দেখো সেই দিনগুলোতে ভুলত্রুটি আর অসম্পূর্ণতায় ভরপুর, তাহলে এখন থেকে ভালো কাজের দ্বারা সেগুলোকে পরিবর্তন করার চেষ্টা শুরু করবে।'
অবশ্যই তোমাকে দিনের অধিকাংশ সময় আল্লাহর জিকিরে অতিবাহিত করতে হবে। তিনি তো বলেছেন:
وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
'আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো; যাতে তোমরা সফলকাম হও।'৬
এই কিতাবটিকে আমি পাঁচটি অধ্যায়ে ভাগ করেছি। প্রথম অধ্যায়ের শিরোনাম হচ্ছে )أَيْنَ السَّعَادَةُ؟( বা কোথায় পাবে সৌভাগ্য? ধন-সম্পদে? ঐশ্বর্য-প্রতিপত্তিতে? কাজেকর্মে? নাকি অন্য কিছুতে?
দ্বিতীয় অধ্যায়ে আলোচনা করেছি ইমান সম্পর্কে। যা সৌভাগ্যের প্রকৃত উৎপত্তিস্থল।
তৃতীয় অধ্যায়ে আলোচনা করেছি, কীভাবে অন্যকে সুখী করতে হয় সে বিষয়ে।
চতুর্থ অধ্যায়ে বৈবাহিক জীবনের সুখ-শান্তি নিয়ে আলোকপাত করেছি। কীভাবে স্ত্রীকে সুখী করা যায় এবং স্ত্রী কীভাবে স্বামীকে সুখী করবে?
আর পঞ্চম অধ্যায়ে বিষণ্ণতা ও হতাশাগ্রস্ত হওয়া এবং নিজেকে অশুভ মনে করা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করেছি।
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন এই কিতাবের মাধ্যমে পাঠক, লেখক ও প্রকাশক সকলকে উভয় জাহানে সফলতা ও সুখ দান করেন। আল্লাহ তাআলাই তো সঠিক পথের দিশা-দানকারী।
টিকাঃ
২. সুরা তহা, ২০:১-২।
৩. সুরা তহা, ২০:১২৩।
৪. সুরা হুদ, ১১: ১০৬।
৫. সুরা হুদ, ১১: ১০৮।
৬. সুরা আল-জুমআ, ৬২: ১০।