📄 আল্লাহুর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য ও নিয়্যাতের প্রয়োজন অপরিহার্য
সেটা এরূপ... যে আল্লাহ্ জন্য চেহারা (মস্তক) অবনত করায় উদ্দেশ্য ও নিয়্যাত সংশ্লিষ্ট যে, সেটা আল্লাহ্ জন্য। এ বিষয়ে চারটি শব্দ ব্যবহার করেছেন: মুখমণ্ডল অবনত করা, মুখাবয়ব প্রতিষ্ঠিত করা, সোজা রাখা।
যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'আলা বলেছেন: “তোমরা প্রত্যেক সাজদাহ্র সময় স্বীয় মুখমণ্ডল সোজা রেখও।” (সূরা আল-আ'রাফ ৭ : ২৯)
আল্লাহ তা'আলা অনুরূপ আরও বলেছেন: “অতএব তোমরা একনিষ্ঠভাবে স্ব স্ব লক্ষ্য এ ধর্মের প্রতি রাখ; আল্লাহ প্রদত্ত সে যোগ্যতার অনুসরণ করে চল, যার উপর আল্লাহ তা'আলা মানুষকে সৃষ্টি করেছে।” (সূরা আর-রূম ৩০ : ৩০)
মুখমণ্ডল ফিরানো: যেমন ইব্রাহীম ('আ.)-এর কথা : “আমি একাগ্রতার সাথে স্বীয় মুখমণ্ডল তাঁরই দিকে ফিরাচ্ছি, যিনি আসমানসমূহ ও যমীনকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুর্শিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।” নাবী ﷺ অনুরূপই রাত্রে নামায আরম্ভ করার দু'আয় বলতেন। বারা বিন 'আযিব (রাযি.) হতে বর্ণিত আছে যে, নাবী ﷺ তাঁকে শিখিয়েছেন যে, যখন বিছানায় শুতে যাবে তখন যেন সে বলে: “হে আমার আল্লাহ! আমার প্রাণকে তোমারই কাছে সোপর্দ করলাম, এবং আমার মুখমণ্ডলকে তোমারই দিকে ফিরালাম।”
সুতরাং মুখমণ্ডল যিনি ফিরাল এবং যাঁর দিকে ফিরানো হয় উভয়কেই শামিল করে এবং যেদিকে মুখ ফিরানো হয় তাও বুঝায়। বান্দার উদ্দেশ্য, লক্ষ্য এবং খেয়াল যদি আল্লাহ্রই দিকে হয়, আর এটাই হলো তার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের সততা। আর এই সাথে সে যদি নিষ্ঠাবান হয়ে থাকে, তবে তো তার জন্য একত্রে মিলিয়ে গেছে যে, তার 'আমাল সৎ হবে, এবং সে তার প্রভুর 'ইবাদাতে আর কাউকেও শরীক করবে না।
টিকাঃ
* (ইবনে হাম্বাল: ৪/২৯৯-৩০০; মুসলিম: ৮/৭৭-৭৮, কিতাবুয যিক্র আদ্ দু'আ-ওয়াত্তাওবাহ্); ইবনে মাজাহ্ ২/১৫, হা: নং- ৩৮৮৬, কিতাবুদ্ দু'আ)
* (বুখারী: ৯/৯২, কিতাবুত্ তাওহীদ এবং মুসলিমে একটু ভিন্ন শব্দে ৮/৭৭-৭৮, কিতাবুদ্ দু'আ)
📄 নাবীর সুন্নাত মুতাবিক অনুসরণ অপরিহার্য
নেক কাজ হলো 'ইহসান' 'নিষ্ঠা' আর সেটা হলো পূর্ণ কাজসমূহ। যার আদেশ দিয়েছেন আল্লাহ তা'আলা। আর আল্লাহ যার আদেশ দিয়েছেন সেটাই আল্লাহ্ সুন্নাত ও তদীয় রাসূল ﷺ-এর সুন্নাত সম্মত।
আল্লাহ তা'আলা তো সংবাদ দিয়েই দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি নিষ্ঠা অবলম্বন করবে এবং তার কাজে নিষ্ঠাবান হবে, সে তবে নিশ্চয়ই পুরস্কারের যোগ্য হবে, এবং শাস্তি হতে মুক্ত থাকবে।
আর বিশেষতঃ এজন্যই সাল্ফে সালিহীন ইমামগণ এ দু'টি মৌলিক বিষয়ের সমন্বয় ঘটাতেন, যেমন ফুযাইল বিন ইয়াজ (রহ.) আল্লাহ্র এ কথা: “যেন তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন যে, তোমাদের মধ্যে কে কাজে অত্যুত্তম” সম্পর্কে বলেছেন : “নিশ্চয়ই 'আমাল যদি সঠিক হয়, অথচ আল্লাহ্র জন্য 'খালিস' (নির্ধারিত) না হয়, তবে সেটা গৃহীত হবে না। আবার যদি 'আমাল খালিস হয় অথচ সঠিক না হয়, তবুও সেটা গৃহীত হবে না যে পর্যন্ত না তা 'আমাল খালিস হয় এবং সঠিক হয়। খালিস বলতে, কাজটি যেন একমাত্র আল্লাহর জন্য হয়। আর সঠিক বলতে 'আমালটি যেন সুন্নাত মুতাবিক হয়।"
সা'ঈদ বিন জুবাইর হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন: “শুধু কোন কথা গৃহীত হবে না, যদি তদানুযায়ী 'আমাল না পাওয়া যায়, আবার নিয়্যাত ব্যতীত কোন কথা এবং 'আমালও গৃহীত হবে না আর কোন কথা, কাজ এবং নিয়্যাতও গৃহীত হবে না, যদি সেটা সুন্নাত মুতাবিক না হয়।"
হাসান বাসরী (রহ.) হতেও অনুরূপই বর্ণিত আছে। এ বর্ণনাটি 'মুরজিয়া' সম্প্রদায়ের দাবী খণ্ডন করছে। এ বর্ণনা আমাদেরকে এ সংবাদ দিয়েছে যে, কথা এবং কাজ ছাড়া উপায় নেই। আল-কুরআনে 'সুন্নাত' বলতে 'ইবাদাতে সুন্নাত এবং বিশ্বাস তথা 'আকীদাহমূহে সুন্নাত বুঝিয়ে থাকে। যেমন ইবনে মাস'ঊদ (রাযি.)-এর কথারই ন্যায়: “একটি সুন্নাতের উপর 'আমাল করাকে যথেষ্ট মনে করা, একটি বিদ'আতের উপর ইজতিহাদ করার চাইতে অত্যধিক ভাল।”
আল্লাহ তা'আলা- আমি তার পবিত্রতা ঘোষণা করছি তিনিই সর্ববিষয়ে অধিক জ্ঞাত। ওয়া সাল্লাল্লাহু ওসাল্লামা ওয়া বা-রাকা 'আলা 'আবদিহি ওয়া রাসূলিহি মুহাম্মাদ, ওয়া মান্ তাবিআহু বিইসানিন ইলা-ইয়াওমিদ্দীন।