📄 উদারতা ও বীরত্বের প্রশংসা
আর যখন আদম সন্তানদের দুনিয়ায় ও ধর্মে বীরত্ব ও বদান্যতা ব্যতিরেকে মঙ্গল সাধন হবেই না তখন আল্লাহ তা'আলা পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করেছেন: যে ব্যক্তি নিজে জিহাদ পরিত্যাগ করার মাধ্যমে তাঁর (আল্লাহ্) প্রতি পরাম্মুখ হবে আল্লাহ তা'আলা তার পরিবর্তে এমন এক ব্যক্তিকে আনবেন, যিনি ঐ (জিহাদের) দায়িত্ব পালন করবেন।
অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'আলা বলেছেন: “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের কি হল? যখন তোমাদেরকে বলা হয় যে, (জিহাদের জন্য) বের হও আল্লাহ্র রাস্তায়, তখন তোমরা মাটিতে লেগে থাক; তবে কি তোমরা পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবনের উপর পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? ...যদি তোমরা বের না হও, তবে আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে কঠোর শাস্তি দিবেন এবং তোমাদের পরিবর্তে অন্য এক জাতি সৃষ্টি করে দিবেন।” (সূরা আত্-তাওবাহ্ ৯ : ৩৮-৩৯)
অন্যত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'আলা বলেছেন: “অবশ্য তোমরা এরূপ যে, তোমাদেরকে আল্লাহ্র রাস্তায় ব্যয় করার আহ্বান জানালে তোমাদের কেউ কেউ কৃপণতা করে, আর যে কৃপণতা করে বস্তুতঃ সে নিজের প্রতিই কৃপণতা করে... আর যদি তোমরা বিমুখ হয়ে থাক, তবে আল্লাহ তোমাদের স্থলে অপর এক সম্প্রদায়কে সৃষ্টি করবেন, তারপর তারা তোমাদের মত হবে না।” (সূরা মুহাম্মাদ ৪৭ : ৩৮)
আল্লাহ তা'আলা জান-মাল দিয়ে তাঁর পথে জিহাদ করার কথা ঘোষণা করেছেন। আর বস্তুতঃ সেটাই হচ্ছে মহান আল্লাহ তা'আলার আনুগত্যের ব্যাপারে বীরত্ব ও আসল বদান্যতা। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: “কত কত ক্ষুদ্র দল বৃহত্তম দলের উপর আল্লাহ্র হুকুমে জয়লাভ করেছে, বস্তুতঃ আল্লাহ অটল ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছে।” (সূরা আল-বাকারাহ্ ২: ২৪৯)
আসলে শরীরের শক্তিই কিন্তু বীরত্ব নয়। কেননা এমনও তো দেখা যায় যে, লোকটি শারীরিকভাবে শক্তিশালী অথচ মন তার দুর্বল। অতএব বীরত্বটা হচ্ছে মনোবল ও সেটার দৃঢ়তা। কেননা যুদ্ধ তো নির্ভর করে শারীরিক শক্তি, যুদ্ধের কলাকৌশল, সমর নৈপুণ্য এবং আত্মার বল ও সমর অভিজ্ঞতার উপর। উভয়ের মধ্যে যেটি শিক্ষা ও জ্ঞান প্রসূত হবে সেটিই প্রশংসিত।
আর আসলে বলিষ্ঠ শক্তিশালী সে-ই যিনি রাগের সময়ও নিজেকে সংবরণ করতে সক্ষম এবং যা করা সমীচীন নয় তা না করে, যা সমীচীন তাই করেন। এ ধৈর্য হল দু'রকমের; এক রকম ধৈর্য হল রাগের সময় আর এক রকমের ধৈর্য হল বিপদের সময়। যেমন- হাসান (রহ.) বলেছেন- “কোন ব্যক্তি রাগের সময় সহনশীলতার পরিচয় দেয়া এবং বিপদের সময় ধৈর্য ধারণ করা বান্দার সবচেয়ে বড় গুণ।” সেটার একমাত্র আসল হল বেদনাদায়ক বিষয়ে ধৈর্য অবলম্বন করা। আর ইনিই হলেন সুকঠিন বীর পুরুষ যিনি যন্ত্রণাদায়ক বিষয়ের উপর ধৈর্য ধারণ করেন।
সহীহ্ মুসলিমে ইবনে মাস'ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, নাবী ﷺ বলেছেন: “তোমরা তোমাদের মধ্যে 'রাকুব' বলতে কি বুঝে থাক? তাঁরা বলল: 'রাকব' হল সে ব্যক্তি যার সন্তান হয় না। তিনি ﷺ বললেন: আসলে 'রাকব' ঐ রকম নয়; কিন্তু 'রাকব' হল ঐ ব্যক্তি যিনি তার সন্তানদের মধ্য হতে কাউকেও আগে পাঠাননি। অতঃপর তিনি ﷺ জিজ্ঞেস করলেন: তোমাদের মধ্যে 'সুরা'আহ' বলতে তোমরা কি বুঝে থাক? আমরা বললাম: 'সুরা'আহ' বলতে এমন লোককে বুঝি যাকে বহু লোকেও ভূলুণ্ঠিত করতে পারে না। অতঃপর তিনি ﷺ বললেন: আসলে তা নয়। কিন্তু 'সুরা'আহ' হল ঐ ব্যক্তি, যিনি রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।”
টিকাঃ
* আল্লামা নাবাবী উক্ত হাদীসটির যে ব্যাখ্যা করেছেন তার বঙ্গানুবাদ: “তোমরা হয়তো মনে করছ যে, 'রাকব' হল 'চিন্তিত', যিনি তার সন্তানদের শোকে আক্রান্ত। পারিভাষিক অর্থে সেটা ঐরূপ নয়, বরং 'রাকব' হল ঐ ব্যক্তি যার জীবদ্দশায় কোন সন্তানেরই মৃত্যু হয়নি যে, তাতে সাওয়াবের আশায় ধৈর্য ধারণ করবে... অনুরূপই তোমরা হয়তঃ মনে করছ যে, 'সুরা'আহ' ঐ প্রশংসিত শক্তিশালী সম্মানিত ব্যক্তি যাকে একাধিক লোকেও ধরাশায়ী করতে পারে না... কিন্তু আসলে পরিভাষা (শারী'আত)-এর দিক হতে সেটা ঐরূপ নয়, বরং 'সুরা'আহ' হল এমন ব্যক্তি যিনি রাগের সময় নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে সক্ষম। আর ইনিই হলেন প্রশংসিত সম্মানিত যার চরিত্রে চরিত্র গঠন করতে অতি বিরল লোকই সক্ষম হয়েছে।”
📄 হা-হুতাশ ও গৌরব করা হতে নিষেধ করা
শয়তান যখন মানুষকে এ অহংকার ও হা-হুতাশের সময় তাদের অন্তরসমূহের দ্বারা, আওয়াজসমূহের দ্বারা ও হস্তসমূহ দ্বারা সীমারেখাসমূহ লঙ্ঘন করতে আহ্বান জানায় তখন নাবী ﷺ সেটা করতে নিষেধ করেছেন। নাবীর স্বীয় শিশুপুত্র ইব্রাহীমের মৃত্যু যন্ত্রণা দেখে যখন কেঁদে ফেলেছিলেন। তখন কেউ তাঁকে "আপনি কাঁদছেন অথচ আপনিই তো ক্রন্দন (বিলাপ) করতে নিষেধ করেন?" বললে তিনি 'ইরশাদ করলেন: "আমি তো মাত্র দু'রকমের আওয়াজ যা বোকা ও পাপীর আওয়াজ হতে নিষেধ করেছি, (সেটা হল):
১. নি'আমাত লাভ হবার সময়ের (ফুর্তীর) আওয়াজ: যেমন- খেল-তামাশা, শয়তানের বাশরী (গান-বাজনার)'র আওয়াজ।
২. বিপদ-মুসীবাতের সময়ের (দুঃখের) আওয়াজ: যেমন- বক্ষবিদারণ করে ও গাল-থাড়িয়ে এবং মূর্খ যুগের মত উপাধি বা নাম ধরে আহ্বান করে ক্রন্দন করা।"
আর বিপদের সময় যে সেটা (আওয়াজ) করতে নিষেধ করেছেন, তা যেমন- রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন- “যে (ক্রন্দনের সময়) গাল থাড়িয়ে কেঁদেছে এবং বক্ষ বিদারণ করেছে ও মুর্খতার যুগের ন্যায় (মৃতের) নাম বা উপাধি ধরে ডাকাডাকি করেছে সে আমাদের দলভুক্ত নয়।” নাবী ﷺ আরও বলেছেন: “মাথা ন্যাড়াকারিণী, বিলাপকারিণী ও বক্ষবিদারিণীর সাথে আমার কোনও সম্পর্ক নেই।” আরও বলেছেন: “বিপদাপদে চোখে ও অন্তরে যে শোকপোষণ হবে তা আল্লাহ্ পক্ষ হতে। অপরদিকে যা হাত ও রসনা দ্বারা প্রকাশ পাবে: সেটা শয়তানের পক্ষ হতে।”
প্রিয় নাবী ﷺ হত্যা করা এবং বিপদ-মুসীবাত ও আনন্দ-ফুর্তীর বেলায় আমরা কেমন করব বা করতে হবে তা 'ইরশাদ করেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক বস্তুর প্রতিই সদ্ব্যবহার করা অবধারিত করেছেন। সুতরাং যখন তোমরা কাউকেও হত্যা করবে তখন তার এ হত্যা সুন্দরভাবে সুসম্পন্ন করবে। আর যখন তোমরা যবেহ করবে, তখন উত্তমরূপে যবেহ করবে এবং তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই তার অস্ত্রটা তেজ-ধারালো করে নেয় এবং যবেহের পশুকে আরাম প্রদান করে।”
তিনি ﷺ আরও বলেছেন: “নিশ্চয়ই ঈমানদারগণই হত্যার বিষয়ে অধিক দয়াপ্রবণ (ক্ষমাশীল)।” আরও বলেছেন: “তোমরা কাউকে হত্যা করে প্রদর্শনীর জন্য ঝুলিয়ে রেখও না, (মৃতের নাক, কান বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে ফেলো না) গাদ্দারী করো না এবং নবজাত শিশুকেও হত্যা করো না।”
আল্লাহ্ রেশমের তৈরী পোশাক পরিধান করতে, স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করতে, স্বর্ণ রৌপ্যের থালা-বাসনে পানাহার করতে এবং অতিরিক্ত লম্বা করে কাপড় পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। এটা ছাড়া অন্যবিধ বহু ধরনের অপচয় এবং নি'আমাতের অহঙ্কার করতে নিষেধ করেছেন।
কোন আরব বেদুঈন নাবী ﷺ-এর গুণ বর্ণনায় বলেছেন: “তিনি বিজয় লাভ করেও কোন গৌরব করেননি, আবার বিজিত হয়েও কোন হায়-হুতাশ করেন না।” নাবী ﷺ ঐ সকল লোকদের নিন্দা করেছেন যারা রেশমের বুনানো কাপড়, অবৈধভাবে নারী ব্যবহার, রেশমী কাপড় পরিধান, মদপান ও গীত বাদ্যযন্ত্রসমূহের ব্যবহার হালাল মনে করবে।
মুল কথা হলো, মানুষের যে সকল আওয়াজসমূহ আনন্দের সময় সীমালঙ্ঘনে বাধ্য করে এবং যে সকল আওয়াজ দুঃখের সময় তাকে অধৈর্য করে তোলে তা বর্জনীয়। তবে হ্যাঁ, যে সকল আওয়াজ আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য রোষ সঞ্চার করে অথবা আনন্দ (বৈধ) ফুর্তীর সময় প্রচারের জন্য ব্যবহৃত হয়, সেগুলো নাবীর সুন্নাতে পাওয়া গেছে এবং তা বৈধ।
📄 বীরত্ব ও উত্তেজনা যা আল্লাহুর সন্তুষ্টির জন্য হবে, সেটাই প্রশংসিত
এ ব্যাপারে সবিশেষ কথা হল যে, বীরত্ব ও উত্তেজনা, যেটুকুর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল প্রশংসা করেছেন ততটুকুরই প্রশংসাই হলো সুন্দর এবং তার নিন্দাই হলো অসুন্দর। আল্লাহ তা'আলা একমাত্র তাঁরই রাস্তায় বীরত্ব ও উত্তেজনার প্রশংসা করেছেন। যেমন- সহীহ্ হাদীস গ্রন্থে আবূ মূসা আশ'আরী (রাযি.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন:
রাসূলুল্লাহ ﷺ জিজ্ঞাসিত হলেন এক ব্যক্তি বীরত্বের কারণে যুদ্ধ করে, আবার একজন উত্তেজনার বশে যুদ্ধ করে, আবার একজন লোক দেখাবার জন্য যুদ্ধ করে, এখন ঐগুলোর কোন্টি আল্লাহ্র রাস্তায় যুদ্ধ হবে? তিনি বললেন- “আল্লাহ্র কালিমাই সর্বোচ্চ হোক” এজন্য যে যুদ্ধ করবে, তা হবে আল্লাহ্র রাস্তায়।
আল্লাহ তা'আলা তো ঘোষণাই করেছেন: “আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে সে পর্যন্ত যুদ্ধ করতে থাক, যে পর্যন্ত না তাদের হতে ফিত্নাহ্ (শিৰ্ক) বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং (তাদের) ধর্ম (কেবল) আল্লাহ্ তা'আলারই হয়ে যায়।” (সূরা আল-আনফাল ৮: ৩৯) আর সেটা এজন্যই যেহেতু সেটাই একমাত্র উদ্দেশ্য যেজন্য আল্লাহ তা'আলা তার সমস্ত জীবকে সৃষ্টি করেছেন।
যেহেতু সৎকাজের আদেশ দান এবং অসৎকাজ হতে নিষেধ করা এবং আল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদ করার মধ্যে পরীক্ষা এবং কষ্ট রয়েছে, যার কারণে মানুষ ফিত্নার সম্মুখীন হয়ে থাকে, সেহেতু মানুষের মধ্যে এমন লোক তৈরি হয়েছে যে ব্যক্তি ফিত্নাহ্ হতে বেঁচে থাকতে চায়, এ সুবাদে তার উপর যা ওয়াজিব হয়েছে সেটা (জিহাদ) এড়িয়ে যাবার মত বাহানা তৈরি করে। উদাহরণ স্বরূপ আল্লাহ তা'আলা মুনাফিকদের সম্পর্কে যা বলেছে: “আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমনও আছে, যে বলে, আমাকে (যুদ্ধে গমন না করার) অনুমতি দিন এবং আমাকে বিপদে ফেলবেন না; ভালরূপে বুঝে নাও যে, তারা তো বিপদে পড়েই গেছে।” (সূরা আত্-তাওবাহ্ ৯: ৪৯)
মুফাস্স্সিরগণ তাফসীরে উল্লেখ করেছেন: এ আয়াতখানি আল-জাদ্দ বিন কায়েসকে উপলক্ষ্য করে অবতীর্ণ হয়েছে, যখন নাবী ﷺ তাকে রোমানদের সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বলেছিলেন এবং তাকে বলেছিলেন: “ওহো! হলদে রং লোকদের স্ত্রীগণের প্রতি তোমার কোন আগ্রহ আছে কি? তখন সে বলল: হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি এমন একজন মানুষ যে, স্ত্রীদের ব্যাপারে আমি ধৈর্য ধারণ করতে পারি না আর এজন্যই আমি ঐসব হলদে রং লোকদের স্ত্রীগণ কর্তৃক ফিত্নার আশংকা করছি। অতএব আমাকে অনুমতি দিন এবং আমাকে বিপদে ফেলবেন না।”
জিহাদে গমনের মত একটি অপরিহার্য কাজ হতে সরে থাকাটা এবং তার সেটা হতে পিছিয়ে থাকাও ঈমানের দুর্বলতা এবং তার অন্তরের ঐ ব্যাধি যা তার সামনে যুদ্ধ পরিহার করাকে সুন্দর করে দেখিয়েছে, সেটাই সবচাইতে বড় ফিত্নাহ্ যাতে সে ইতোমধ্যেই পতিত হয়েছে। কোন্ বিবেকে সে বড় বিপদের মাঝে পতিত হবার মাধ্যমে সে ছোট্ট বিপদ হতে নিষ্কৃতি অনুসন্ধান করছে? অথচ আল্লাহ তা'আলা আদেশ করছেন: “এবং তাদের সঙ্গে ঐ পর্যন্ত যুদ্ধ কর যে পর্যন্ত না তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাসের অবসান হয় এবং ধর্ম খাঁটিভাবেই আল্লাহরই হয়ে যায়।”
টিকাঃ
* আল-জাদ্দ সে ব্যক্তি যে ব্যক্তি হুদাইবিয়ার সন্ধির সময়কালের 'বাই'আত-ই-রিযওয়ান' হতে গা-ঢাকা দিয়ে পিছিয়েছিল। তার সম্পর্কে একটি হাদীস এসেছে; নাবী ﷺ বলেছেন: "নিশ্চয়ই তাদের সকলেই ক্ষমাপ্রাপ্ত; শুধু সে লাল উটের আড়ালে লুকানো লোকটি ব্যতীত।"
📄 সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ হতে নিষেধের ক্ষেত্রে মানুষের শ্রেণীসমূহ
আল্লাহ তা'আলা স্বয়ং যে যুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন, ঐ যুদ্ধ যে ব্যক্তি পরিত্যাগ করে, সে তার অন্তরের সন্দেহ ও হৃদয়ের ব্যাধিতে পতিত হবার ফলে এবং আল্লাহ কর্তৃক আদিষ্ট জিহাদ ছেড়ে দেয়ায় আসলে ফিত্নার মধ্যে পড়েই আছে। এ বিষয়টি সূক্ষ্মভাবে অনুভব করে দেখুন... নিশ্চয়ই এখানেই মানুষ তিন শ্রেণীভুক্ত:
১. এক শ্রেণী- তারা আদেশও দেয়, নিষেধও করে, আবার জিহাদও করে তারা মনে করেছে যে, ফিত্নার মূলোৎপাটন করার জন্যই এসব করছে কিন্তু আসলে তাদের ঐ কর্ম-কাণ্ডই হচ্ছে মস্ত বড় ফিত্নাহ্। উদাহরণে ঐ সকল যোদ্ধাদের উল্লেখ করা যেতে পারে যারা জাতির অভ্যন্তরীণ গোলযোগের সময় অস্ত্র ধরেছিল। যেমন 'খারিজী সম্প্রদায়'।
২. দ্বিতীয়তঃ এমন সব সম্প্রদায় যারা ঐ সৎকাজের আদেশ করা, অসৎকাজ হতে নিষেধ করা ও যুদ্ধ করা হতে পিছিয়ে থাকে যা দ্বারা ধর্ম পুরোপুরিই আল্লাহ্র হয়ে যায়। তারা পিছিয়ে থাকে এজন্য যে, তারা যেন বিপদে পতিত না হয়, অথচ তারা ঐ বিপদে পড়েই আছে। যারা নিজদেরকে ধার্মিক বলে মনে করে, তাদের অনেকেরই এ অবস্থা।
৩. তারা মনে করে যে তারা তাদের মিথ্যা ধারণা অনুযায়ী যে ফিত্নাহ্ হতে বাঁচার জন্য পলায়ন করেছিল, তদপেক্ষা অধিক বড় ফিত্নাতে ইতোমধ্যেই পতিত হয়েছে।
আসলে তাদের কর্তব্য হল, আদেশ দান ও নিষেধ প্রদানের মত গুরুদায়িত্ব পালন করা এবং নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ পরিহার করা। ওয়াজিব আদায় করা ও নিষিদ্ধ বিষয় ত্যাগ করা (এ দু'টি কাজই) ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। যেহেতু তাদের নাক্সসমূহ ঐ দু'টি কাজই একত্রে পালন করা বা পরিহার করা ছাড়া তাদের আনুগত্যই করবে না।
এমতাবস্থায় তার অবশ্য কর্তব্য হলো: সবচাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কাজটির প্রতি দৃষ্টি দেয়া। সুতরাং যদি আদিষ্ট বিষয়টি নিষিদ্ধ বিষয়টিকে ছেড়ে দেয়ার চাইতে অধিক সাওয়াবের হয়ে থাকে, তাহলে ঐ বিষয়টির সাথে সেটা অপেক্ষা কম ফাসাদের কোন বিষয় জড়িত হবার ভয়ে তাকে ছেড়ে দিবে না।