📘 সৎকাজ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ > 📄 মানুষের প্রতি উত্তম ব্যবহার, চাহিদার সাথে সংশ্লিষ্ট

📄 মানুষের প্রতি উত্তম ব্যবহার, চাহিদার সাথে সংশ্লিষ্ট


অনুরূপভাবে ব্যক্তি যদি কাউকেও কোন সৎকাজের আদেশ দিয়ে থাকে, অথবা ঐ ব্যাপারে তার অনুমোদন পাওয়া ভাল মনে করে থাকে, অথবা কোন খারাপ কাজ হতে নিষেধ করে তখন সে ঐ মানুষটির প্রতি এমন সদাচার করার প্রয়োজন সাধন করতে পারে যেমন- কোন প্রিয় বস্তু অর্জন করবে বা অপ্রিয় বিষয় দূর করতে পারবে।

কেননা আত্মা-নাক্সসমূহ খানিকটা মিষ্টি ব্যতীত শুধু তিক্ত জিনিসের উপর ধৈর্য ধারণ করতে পারে না। সেটা ছাড়া সম্ভবও নয়। আর এজন্যই মহান আল্লাহ আত্মাসমূহের সন্তুষ্টি বিধানের আদেশ দিয়েছেন। এমনকি "মু'আল্লাফাত-কুলুবুহুম” (যাদের অন্তরসমূহের সন্তুষ্টি বিধানকৃত)-দের জন্য সাদাকার মালসমূহের একটি বিশেষ অংশ ধার্য করেছেন এবং আল্লাহ তা'আলা বলেছেন তাঁর নাবী ﷺ-কে: “বাহ্যিক (দৃষ্টিতে তাদের সাথে যে) আচরণ (সমীচীন মনে হয় সেটা) গ্রহণ করুন, আর ভাল কাজের আদেশ (শিক্ষা) দিতে থাকুন এবং মুর্খদের হতে একদিকে সরে থাকুন।” (সূরা আল-আ'রাফ ৭ : ১৯৯)

অন্যত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'আলা বলেছেন: “এবং একে অন্যকে (ঈমানের উপর) ধৈর্য ধারণের উপদেশ দিয়েছে এবং একে অন্যকে (আল্লাহ্র সৃষ্টির প্রতি) সদয় হতে উপদেশ দিয়েছে।” (সূরা আল-বালাদ ৯০: ১৭) অতএব ধৈর্য ধারণ ও দয়া প্রদর্শন ছাড়া চলবে না। আর এটাই তো হল বীরত্ব ও বদান্যতা। এজন্যই আল্লাহ তা'আলা কোন কোন সময় সালাত ও যাকাতকে একত্রে উল্লেখ করেন। এটাই হল সৃষ্টির প্রতি "ইহসান” সদাচার। আবার কখনও বা নামায ও ধৈর্যকে একত্রে উল্লেখ করে থাকেন।

আসল কথা হলো নামায, যাকাত ও ধৈর্য- এ তিনটি ছাড়া কোন উপায় নেই। মু'মিনগণের আত্মসমূহের কল্যাণ সাধন ও তাদের ছাড়া অন্যদেরকে সংশোধন করতে এগুলো ছাড়া মু'মিনগণের মঙ্গল প্রতিষ্ঠিত হবে না। বিশেষ করে যতবারই ফিতনাহ্-ফাসাদ ও বিপদাপদ চরম আকার ধারণ করবে ততবারই এ তিনটির (সালাত, যাকাত ও ধৈর্য) প্রয়োজনও হবে সবচাইতে বেশী।

টিকাঃ
* রাসূল ﷺ একদা জিব্রাঈল ('আ.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, এ আয়াতটির হাকীকাত কি? তিনি বললেন, আল্লাহ বলেন: "যে ব্যক্তি তোমার সাথে বিচ্ছেদ অবলম্বন করে, তুমি তার সাথে মিলিত হও, আর যে ব্যক্তি তোমাকে বঞ্চিত করে, তুমি তাকে দান কর, আর যে উৎপীড়ন করে, তুমি তাকে ক্ষমা কর। এটাই উচ্চ পর্যায়ের স্বভাব।”

📘 সৎকাজ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ > 📄 কৃপণতা ও কাপুরুষতা নিন্দনীয়

📄 কৃপণতা ও কাপুরুষতা নিন্দনীয়


ধৈর্য ও ক্ষমার গুণ থাকা সাধারণভাবে আদম সন্তানদের সকলের জন্য প্রয়োজন। তাদের কি ধর্মীয়, কি পার্থিব, কোন কল্যাণেই ঐ দু'টি গুণ ছাড়া সাধিত হবে না। এজন্যই তাদের সকলেই বীরত্ব ও বদান্যতার জন্য প্রশংসা প্রচার করতে থাকে, এমনকি এতই সাধারণ যে, কবিগণ পর্যন্ত তাদের প্রশংসিত ব্যক্তিদের স্তুতিগানের কবিতায় তার উল্লেখ করে থাকেন। আবার তেমনিভাবে তারা কৃপণতা ও কাপুরুষতার কুৎসা ও প্রচার করে থাকেন।

আল্লাহ্ কিতাব ও সুন্নাত কৃপণতা ও কাপুরুষতার বদনাম এবং আল্লাহ্র পথে বীরত্ব ও দয়ার্দ্রতার প্রশংসা নিয়ে এসেছে। এ সম্পর্কে নাবী ﷺ বলেছেন- “ব্যক্তির মধ্যে যা খারাপ তা হল কৃপণতাময় লোভ এবং কাপুরুষতা।” তিনি আরও বলেছেন- “হে বানী সালামাহ্! তোমাদের গোত্রপতি কে? তখন তারা বলল: আল-জাদ্দু বিন কাইস, আমরা তাকে কৃপণতা দ্বারা ওজন করছি। নাবী ﷺ বললেন, কৃপণতার রোগ হতে বড় রোগ আর কি হতে পারে?" অন্য এক বর্ণনায় আছে- “নিশ্চয়ই গোত্রপতি কৃপণ হতে পারে না। তোমাদের গোত্রপতি বরং শুভ্র কোকড়ানো চুল বিশিষ্ট আল-বারা বিন মা'রূর।”

অনুরূপ সহীহ্ গ্রন্থে আবূ বাকর সিদ্দীক (রাযি.)-এর প্রতি জাবির বিন 'আবদুল্লাহ্ কথা এসেছে- “হয় আপনি আমাকে দিন, না হয় আমার সাথে কৃপণতা করুন। তখন তিনি বললেন: আপনি বলছেন "না হয় আমার সাথে কৃপণতা করুন?” কৃপণতার চেয়ে অধিকতর কঠিন রোগ আর কি হতে পারে?" এভাবে তিনি কৃপণতাকে সবচাইতে মারাত্মক রোগ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

সহীহ্ মুসলিমে সুলাইমান বিন রাবি'আহ হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন 'উমার (রাযি.) বলেছেন: “নাবী (যাকাতের মাল) বণ্টন করেছেন, তখন আমি বললাম: হে আল্লাহ্র রাসূল! আল্লাহ্র শপথ! এদের চাইতে অন্যরাই ঐসব মালের বেশী হকদার, তখন তিনি বললেন: তারা হয় আমার কাছে অশ্লীলভাবে চাইবে অথবা আমাকে কৃপণ বলবে। এ দু'টির যে কোন একটি গ্রহণ করতে সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু আমি তো কৃপণ নই।” তারা তো আমাকে দু'টি অপছন্দনীয় জিনিসের যে কোন একটি বেছে নিতে বলেছে। তাদের কোন একটি গ্রহণ না করলে আমাকে ছাড়বে না অন্যায়ভাবে চাওয়া ও কৃপণ বানানো। অথচ বখিল (কৃপণ) বানানোটাই অত্যধিক কঠিন। সুতরাং আমি তাদেরকে দান করে কঠিন বিষয়টিকে প্রতিহত করলাম।

কৃপণতা এমন একটি মৌলিক বিষয় যার আওতায় বহু শ্রেণী রয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'আলা বলেছেন: “আর কখনও যেন ধারণা না করে এরূপ লোক, যারা কৃপণতা করে ঐ বস্তুতে যা তাদেরকে আল্লাহ স্বীয় করুণায় দান করেছেন সেটা তাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে বরং সেটা তাদের জন্য খুবই অমঙ্গলজনক। তাদেরকে কিয়ামাতের দিন 'তাওক' পরিয়ে দেয়া হবে সেটার (ঐ মালের) যাতে তারা কৃপণতা করেছিল।” (সূরা আ-লি 'ইমরান ৩ : ১৮০)

অন্যত্র আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: “আর তোমরা আল্লাহ তা'আলারই 'ইবাদাত কর এবং তার সাথে কাউকেও শরীক করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার কর এবং আত্মীয়-স্বজনের সাথেও... নিশ্চয়ই আল্লাহ ঐরূপ লোকদেরকে ভালবাসেন না, যারা নিজেকে বড় মনে করে ও আত্মগর্ব করে এবং অন্যকে কৃপণতা শিক্ষা দেয়।” (সূরা আন্-নিসা ৪ : ৩৬-৩৭)

অনুরূপ কাপুরুষতার নিন্দা ও তাঁর কথায় প্রকাশিত: “আর সে সময়ে যে ব্যক্তি তাদের দিকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে- কিন্তু হা, যে ব্যক্তি যুদ্ধের জন্য কৌশল অবলম্বন কিংবা যে ব্যক্তি স্বদলের নিকট আশ্রয় নিতে আসে তার কথা স্বতন্ত্র, এতদ্ব্যতীত আর যে ব্যক্তি এরূপ করবে, সে আল্লাহ্র গযবে পতিত হবে এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম, আর সেটা অতিশয় মন্দ আবাসস্থল।” (সূরা আল-আনফাল ৮: ১৬)

আল্লাহ তা'আলা মুনাফিকদের সম্পর্কে বলেছেন: “আর তারা আল্লাহ তা'আলা শপথ করে বলে যে, তারা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত অথচ তারা তোমাদের কেউই নয়, বরং তারা হচ্ছে কাপুরুষের দল। যদি তারা কোন আশ্রয়স্থল পেত, অথবা গুহা কিংবা লুকিয়ে থাকার একটু স্থান, তবে তারা অবশ্যই মুখ উঠিয়ে সেদিকে ধাবিত হত।” (সূরা আত্-তাওবাহ্ ৯ : ৫৬-৫৭)

আল-কুরআনে জিহাদের জন্য উৎসাহ ও প্রেরণা দেয়া হয়েছে এবং জিহাদ অপছন্দকারী ও পরিহারকারীদের যত কুৎসা, তা ঐসবই কাপুরুষতার কুৎসা।

📘 সৎকাজ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ > 📄 উদারতা ও বীরত্বের প্রশংসা

📄 উদারতা ও বীরত্বের প্রশংসা


আর যখন আদম সন্তানদের দুনিয়ায় ও ধর্মে বীরত্ব ও বদান্যতা ব্যতিরেকে মঙ্গল সাধন হবেই না তখন আল্লাহ তা'আলা পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করেছেন: যে ব্যক্তি নিজে জিহাদ পরিত্যাগ করার মাধ্যমে তাঁর (আল্লাহ্) প্রতি পরাম্মুখ হবে আল্লাহ তা'আলা তার পরিবর্তে এমন এক ব্যক্তিকে আনবেন, যিনি ঐ (জিহাদের) দায়িত্ব পালন করবেন।

অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'আলা বলেছেন: “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের কি হল? যখন তোমাদেরকে বলা হয় যে, (জিহাদের জন্য) বের হও আল্লাহ্র রাস্তায়, তখন তোমরা মাটিতে লেগে থাক; তবে কি তোমরা পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবনের উপর পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? ...যদি তোমরা বের না হও, তবে আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে কঠোর শাস্তি দিবেন এবং তোমাদের পরিবর্তে অন্য এক জাতি সৃষ্টি করে দিবেন।” (সূরা আত্-তাওবাহ্ ৯ : ৩৮-৩৯)

অন্যত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'আলা বলেছেন: “অবশ্য তোমরা এরূপ যে, তোমাদেরকে আল্লাহ্র রাস্তায় ব্যয় করার আহ্বান জানালে তোমাদের কেউ কেউ কৃপণতা করে, আর যে কৃপণতা করে বস্তুতঃ সে নিজের প্রতিই কৃপণতা করে... আর যদি তোমরা বিমুখ হয়ে থাক, তবে আল্লাহ তোমাদের স্থলে অপর এক সম্প্রদায়কে সৃষ্টি করবেন, তারপর তারা তোমাদের মত হবে না।” (সূরা মুহাম্মাদ ৪৭ : ৩৮)

আল্লাহ তা'আলা জান-মাল দিয়ে তাঁর পথে জিহাদ করার কথা ঘোষণা করেছেন। আর বস্তুতঃ সেটাই হচ্ছে মহান আল্লাহ তা'আলার আনুগত্যের ব্যাপারে বীরত্ব ও আসল বদান্যতা। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: “কত কত ক্ষুদ্র দল বৃহত্তম দলের উপর আল্লাহ্র হুকুমে জয়লাভ করেছে, বস্তুতঃ আল্লাহ অটল ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছে।” (সূরা আল-বাকারাহ্ ২: ২৪৯)

আসলে শরীরের শক্তিই কিন্তু বীরত্ব নয়। কেননা এমনও তো দেখা যায় যে, লোকটি শারীরিকভাবে শক্তিশালী অথচ মন তার দুর্বল। অতএব বীরত্বটা হচ্ছে মনোবল ও সেটার দৃঢ়তা। কেননা যুদ্ধ তো নির্ভর করে শারীরিক শক্তি, যুদ্ধের কলাকৌশল, সমর নৈপুণ্য এবং আত্মার বল ও সমর অভিজ্ঞতার উপর। উভয়ের মধ্যে যেটি শিক্ষা ও জ্ঞান প্রসূত হবে সেটিই প্রশংসিত।

আর আসলে বলিষ্ঠ শক্তিশালী সে-ই যিনি রাগের সময়ও নিজেকে সংবরণ করতে সক্ষম এবং যা করা সমীচীন নয় তা না করে, যা সমীচীন তাই করেন। এ ধৈর্য হল দু'রকমের; এক রকম ধৈর্য হল রাগের সময় আর এক রকমের ধৈর্য হল বিপদের সময়। যেমন- হাসান (রহ.) বলেছেন- “কোন ব্যক্তি রাগের সময় সহনশীলতার পরিচয় দেয়া এবং বিপদের সময় ধৈর্য ধারণ করা বান্দার সবচেয়ে বড় গুণ।” সেটার একমাত্র আসল হল বেদনাদায়ক বিষয়ে ধৈর্য অবলম্বন করা। আর ইনিই হলেন সুকঠিন বীর পুরুষ যিনি যন্ত্রণাদায়ক বিষয়ের উপর ধৈর্য ধারণ করেন।

সহীহ্ মুসলিমে ইবনে মাস'ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, নাবী ﷺ বলেছেন: “তোমরা তোমাদের মধ্যে 'রাকুব' বলতে কি বুঝে থাক? তাঁরা বলল: 'রাকব' হল সে ব্যক্তি যার সন্তান হয় না। তিনি ﷺ বললেন: আসলে 'রাকব' ঐ রকম নয়; কিন্তু 'রাকব' হল ঐ ব্যক্তি যিনি তার সন্তানদের মধ্য হতে কাউকেও আগে পাঠাননি। অতঃপর তিনি ﷺ জিজ্ঞেস করলেন: তোমাদের মধ্যে 'সুরা'আহ' বলতে তোমরা কি বুঝে থাক? আমরা বললাম: 'সুরা'আহ' বলতে এমন লোককে বুঝি যাকে বহু লোকেও ভূলুণ্ঠিত করতে পারে না। অতঃপর তিনি ﷺ বললেন: আসলে তা নয়। কিন্তু 'সুরা'আহ' হল ঐ ব্যক্তি, যিনি রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।”

টিকাঃ
* আল্লামা নাবাবী উক্ত হাদীসটির যে ব্যাখ্যা করেছেন তার বঙ্গানুবাদ: “তোমরা হয়তো মনে করছ যে, 'রাকব' হল 'চিন্তিত', যিনি তার সন্তানদের শোকে আক্রান্ত। পারিভাষিক অর্থে সেটা ঐরূপ নয়, বরং 'রাকব' হল ঐ ব্যক্তি যার জীবদ্দশায় কোন সন্তানেরই মৃত্যু হয়নি যে, তাতে সাওয়াবের আশায় ধৈর্য ধারণ করবে... অনুরূপই তোমরা হয়তঃ মনে করছ যে, 'সুরা'আহ' ঐ প্রশংসিত শক্তিশালী সম্মানিত ব্যক্তি যাকে একাধিক লোকেও ধরাশায়ী করতে পারে না... কিন্তু আসলে পরিভাষা (শারী'আত)-এর দিক হতে সেটা ঐরূপ নয়, বরং 'সুরা'আহ' হল এমন ব্যক্তি যিনি রাগের সময় নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে সক্ষম। আর ইনিই হলেন প্রশংসিত সম্মানিত যার চরিত্রে চরিত্র গঠন করতে অতি বিরল লোকই সক্ষম হয়েছে।”

📘 সৎকাজ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ > 📄 হা-হুতাশ ও গৌরব করা হতে নিষেধ করা

📄 হা-হুতাশ ও গৌরব করা হতে নিষেধ করা


শয়তান যখন মানুষকে এ অহংকার ও হা-হুতাশের সময় তাদের অন্তরসমূহের দ্বারা, আওয়াজসমূহের দ্বারা ও হস্তসমূহ দ্বারা সীমারেখাসমূহ লঙ্ঘন করতে আহ্বান জানায় তখন নাবী ﷺ সেটা করতে নিষেধ করেছেন। নাবীর স্বীয় শিশুপুত্র ইব্রাহীমের মৃত্যু যন্ত্রণা দেখে যখন কেঁদে ফেলেছিলেন। তখন কেউ তাঁকে "আপনি কাঁদছেন অথচ আপনিই তো ক্রন্দন (বিলাপ) করতে নিষেধ করেন?" বললে তিনি 'ইরশাদ করলেন: "আমি তো মাত্র দু'রকমের আওয়াজ যা বোকা ও পাপীর আওয়াজ হতে নিষেধ করেছি, (সেটা হল):
১. নি'আমাত লাভ হবার সময়ের (ফুর্তীর) আওয়াজ: যেমন- খেল-তামাশা, শয়তানের বাশরী (গান-বাজনার)'র আওয়াজ।
২. বিপদ-মুসীবাতের সময়ের (দুঃখের) আওয়াজ: যেমন- বক্ষবিদারণ করে ও গাল-থাড়িয়ে এবং মূর্খ যুগের মত উপাধি বা নাম ধরে আহ্বান করে ক্রন্দন করা।"

আর বিপদের সময় যে সেটা (আওয়াজ) করতে নিষেধ করেছেন, তা যেমন- রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন- “যে (ক্রন্দনের সময়) গাল থাড়িয়ে কেঁদেছে এবং বক্ষ বিদারণ করেছে ও মুর্খতার যুগের ন্যায় (মৃতের) নাম বা উপাধি ধরে ডাকাডাকি করেছে সে আমাদের দলভুক্ত নয়।” নাবী ﷺ আরও বলেছেন: “মাথা ন্যাড়াকারিণী, বিলাপকারিণী ও বক্ষবিদারিণীর সাথে আমার কোনও সম্পর্ক নেই।” আরও বলেছেন: “বিপদাপদে চোখে ও অন্তরে যে শোকপোষণ হবে তা আল্লাহ্ পক্ষ হতে। অপরদিকে যা হাত ও রসনা দ্বারা প্রকাশ পাবে: সেটা শয়তানের পক্ষ হতে।”

প্রিয় নাবী ﷺ হত্যা করা এবং বিপদ-মুসীবাত ও আনন্দ-ফুর্তীর বেলায় আমরা কেমন করব বা করতে হবে তা 'ইরশাদ করেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক বস্তুর প্রতিই সদ্ব্যবহার করা অবধারিত করেছেন। সুতরাং যখন তোমরা কাউকেও হত্যা করবে তখন তার এ হত্যা সুন্দরভাবে সুসম্পন্ন করবে। আর যখন তোমরা যবেহ করবে, তখন উত্তমরূপে যবেহ করবে এবং তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই তার অস্ত্রটা তেজ-ধারালো করে নেয় এবং যবেহের পশুকে আরাম প্রদান করে।”

তিনি ﷺ আরও বলেছেন: “নিশ্চয়ই ঈমানদারগণই হত্যার বিষয়ে অধিক দয়াপ্রবণ (ক্ষমাশীল)।” আরও বলেছেন: “তোমরা কাউকে হত্যা করে প্রদর্শনীর জন্য ঝুলিয়ে রেখও না, (মৃতের নাক, কান বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে ফেলো না) গাদ্দারী করো না এবং নবজাত শিশুকেও হত্যা করো না।”

আল্লাহ্ রেশমের তৈরী পোশাক পরিধান করতে, স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করতে, স্বর্ণ রৌপ্যের থালা-বাসনে পানাহার করতে এবং অতিরিক্ত লম্বা করে কাপড় পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। এটা ছাড়া অন্যবিধ বহু ধরনের অপচয় এবং নি'আমাতের অহঙ্কার করতে নিষেধ করেছেন।

কোন আরব বেদুঈন নাবী ﷺ-এর গুণ বর্ণনায় বলেছেন: “তিনি বিজয় লাভ করেও কোন গৌরব করেননি, আবার বিজিত হয়েও কোন হায়-হুতাশ করেন না।” নাবী ﷺ ঐ সকল লোকদের নিন্দা করেছেন যারা রেশমের বুনানো কাপড়, অবৈধভাবে নারী ব্যবহার, রেশমী কাপড় পরিধান, মদপান ও গীত বাদ্যযন্ত্রসমূহের ব্যবহার হালাল মনে করবে।

মুল কথা হলো, মানুষের যে সকল আওয়াজসমূহ আনন্দের সময় সীমালঙ্ঘনে বাধ্য করে এবং যে সকল আওয়াজ দুঃখের সময় তাকে অধৈর্য করে তোলে তা বর্জনীয়। তবে হ্যাঁ, যে সকল আওয়াজ আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য রোষ সঞ্চার করে অথবা আনন্দ (বৈধ) ফুর্তীর সময় প্রচারের জন্য ব্যবহৃত হয়, সেগুলো নাবীর সুন্নাতে পাওয়া গেছে এবং তা বৈধ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00