📄 অসৎকাজের লোকেরা তাদের অনুসারীদের ভালবাসে
আর সেটা হল যে, খারাপ কাজের অনেক লোক তাদেরকেই ভালবাসে, যারা তাদের এ অবস্থায় থাকাকে গ্রহণ করে নিয়েছে, আর যারা তাদেরকে গ্রহণ করতে পারেনি তাদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে। এ অবস্থা বাতিল ধর্মগুলোর মধ্যে প্রকাশিত। প্রত্যেক জাতির (সম্প্রদায়ের) বন্ধুত্ব তাদের সমমানদের সাথে, আর যারা তাদের সমমনা নয় তাদের সাথে রয়েছে শত্রুতা। এরূপ অবস্থাই রয়েছে পার্থিব ও প্রবৃত্তির অভ্যাসের বিষয়গুলোতেও ঐসব অসৎ লোকগণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পছন্দ করে থাকে ও অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে তাদেরকেই যারা তাদের কুকর্মকাণ্ড ও প্রবৃত্তির চাহিদায় অংশগ্রহণ করবে। হয়তঃ ঐ বিষয়ে তাদেরকে সহযোগিতা করবে, যেমনটি হয়ে থাকে রাজ-ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হর্তা-কর্তাগণ ও ডাকাত-ছিনতাইকারী বা অনুরূপদের বেলায়। অথবা একাত্মতার মাধ্যমে আস্বাদন গ্রহণের নিমিত্ত।
যেমন- মদপানের জন্য জমায়েত হওয়া লোকদের বেলায় প্রযোজ্য আর তারা এটাই পছন্দ করবে যে, তাদের নিকটে যারা উপস্থিত হয়েছে তারা সকলেই যেন মদপান করে। হয়তো তার একাকী শালীনতা তথা ভাল থাকাটি তাদের নিকট ঘৃণার কারণে, সেটা তার হিংসার জন্য, অথবা সে একা ভাল থাকা ব্যক্তি যেন সমাজে তাদের চাইতে উচ্চ স্থান পেতে না পারে সেজন্য এবং তাদেরকে বাদ দিয়ে লোকেরা যে তারই প্রশংসা করবে অথবা ঐ একাকী ভাল থাকা ব্যক্তির যেন তাদের বিরুদ্ধে দাঁড় করাবার মত কোন যুক্তি প্রমাণ আর না থাকে অথবা সে নিজে তাদেরকে কোন শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারবে এ ভয়ে, অথবা সে ঐ বিষয়টি কারও কাছে তুলে ধরলে সে তাদেরকে শাস্তি দিবে এ ভয়ে, অথবা তারা এ ভাল থাকা লোকটির অনুগ্রহের পাত্র না হয়ে বা তার ভয়ের নীচে তাদের থাকতে না হয় এরূপ অন্যবিধ আরও কারণে তারা সকলেই তাকে এ পথে চলার সাথী করতে চায়। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: “কিতাবীদের মধ্য হতে অনেকেই একান্ত মনে চায় তোমাদের ঈমান আনার পর আবার তোমাদেরকে কাফির করে ফেলে, শুধু তাদের অন্তর্নিহিত হিংসার দরুন, তাদের নিকট সত্য উদ্ভাসিত হবার পর।” (সূরা আল-বাকারাহ্ ২: ১০৯)
অন্যত্র আল্লাহ তা'আলা মুনাফিকদের সম্পর্কে বলেছেন: “তারা এ আশা করে যে, যেমন তারা কাফির তদ্রূপ তোমরাও কাফির হয়ে যাও, যাতে তারা ও তোমরা একরূপ সমান হয়ে যাও।” (সূরা আন্-নিসা ৪: ৮৯) 'উসমান বিন 'আফফান (রাযি.) বলেছেন: “ব্যভিচারিণী একান্ত মনে চায়, হায়, স্ত্রীলোক সকলেই যদি ব্যভিচার করত!"
অংশগ্রহণ: তারা অংশগ্রহণ স্থির করে যেন একই পাপকার্য হয়, যেমন মদপানে অংশগ্রহণ, মিথ্যা বলা, খারাপ বিশ্বাসে অংশগ্রহণ ইত্যাদি। আবার কখনও বা পছন্দ করে যে, অংশগ্রহণটি যেন খারাপ কাজের কোন এক শ্রেণীতে হয় যেমন- ব্যভিচারী, সে চায় যে, অন্য সকলেও যেন ব্যভিচার করে। আর চোর চায় যে, অন্যরাও যেন চুরিই করে কিন্তু শুধু সে যার সাথে ব্যভিচার করেছে তাকে ছাড়া এবং যা চুরি করেছে তা সব ছাড়া যেন হয়।
আর দ্বিতীয় কারণটি হল: তারা ঐ ব্যক্তিকে তারা যে পাপ কাজে লিপ্ত আছে সে পাপ কাজে শরীক হতে আদেশ করে থাকে, যদি তাদের সাথে শরীক হয় তো ভাল, অন্যথায় তার সাথে শত্রুতা করবে এবং এমন কষ্ট দিবে যে, সেটা শক্তি প্রয়োগের স্তরে পৌঁছায় বা পৌঁছায়ও না। অতঃপর ঐ সকল লোক তাদের অশ্লীল কাজে অন্যের যোগদান করা পছন্দ করে অথবা তাকে উক্ত খারাপ কাজ করতে আদেশ করে এবং তারা যা করতে চায় তজ্জন্য তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। এভাবে যখন সে তাদের সাথে শরীক হল বা তাদের সহযোগিতা করল বা তাদের আনুগত্য করল তখনই তারা তাকে ত্রুটিপূর্ণ, খাটো বা নিম্নশ্রেণীর মনে করল ও তাকে হালকা জ্ঞান করল এবং ঐ অংশগ্রহণ করাটাকেই তার বিরুদ্ধে (অন্যান্য ব্যাপারে) প্রমাণ হিসেবে খাড়া করল। আর যদি সে তাদের সাথে শরীক না হত তাহলে তারা তার শত্রুতা করত ও তাকে কষ্ট দিত। আর এই তো হল অধিকাংশ ক্ষমতাশীল যালিমদের অবস্থা।
সৎকাজের ক্ষেত্রেও সমতুল্য অবস্থা বিদ্যমান রয়েছে বরং সেটা হতেও প্রবল। যেমন- আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'আলা বলেছেন: “আর যারা মু'মিন তাদের ভালবাসা আল্লাহ্র সঙ্গেই সুদৃঢ় রয়েছে।” (সূরা আল-বাকারাহ্ ২: ১৬৫) কেননা পুণ্যকাজের আহ্বায়ক স্বভাবতই অধিকতর শক্তিশালী।
📄 বিপদে ধৈর্য ধারণ করা অপরিহার্য
যখন বিপদ ভয়াল হয়ে দাঁড়ায় তখন সেটা মু'মিন ও সৎ লোকদের জন্য উচ্চ মর্যাদা ও মহান পুরস্কার লাভের কারণ হয়ে উঠে। যেমন- নাবী ﷺ-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল "মানুষের মধ্যে কারা সবচাইতে কঠিন বিপদের পরীক্ষা দিয়েছেন।" জওয়াবে নাবী ﷺ বলেছিলেন: “সবচাইতে বেশী বিপদে পড়েছেন নাবীগণ, তারপর হলেন সালিহীন (নেক্কারগণ) তারপর আদর্শ লোকগণ এবং তার পরবর্তী পর্যায়ের আদর্শ ব্যক্তিগণ। এক ব্যক্তি সে পরীক্ষিত হয় তার দীনের মজবুতি অনুযায়ী। যদি সে তার দীনের ব্যাপারে শক্ত-মজবুত হয় তাহলে তার পরীক্ষার কাঠিণ্যও বর্ধিত করা হয়ে থাকে। আর যদি সে তার দীনের ক্ষেত্রে দুর্বল হয়; তাহলে তার পরীক্ষার কাঠিন্যও কমিয়ে দেয়া হয়। মু'মিনের পরীক্ষা চলবেই; শেষাবধি এমন হবে যে, সে পৃথিবীতে বিচরণ করতে থাকবে অথচ তার কোন গুনাহ্ থাকবে না।"
ঐ সময় সে ধৈর্যের এত প্রয়োজনবোধ করবে যে সে অপেক্ষা আর কেউই সেটার প্রতি এত প্রয়োজনবোধ করবে না। আর সেটাই হচ্ছে দীনের ক্ষেত্রে নেতৃত্বের কারণ। যেমন- আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: “তারা যে ধৈর্য ধারণ করেছে তার ফলে তাদের মধ্য হতে কতকজনকে আমরা নেতা বানিয়েছি, তারা আমাদের আদেশ মত পথ চলে থাকে এবং আমাদের আয়াত (নিদর্শন) সমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।” (সূরা আস্-সাজদাহ্ ৪১: ২৪) সুতরাং আদিষ্ট সৎকাজ করতে ও নিষিদ্ধ খারাপ কাজ বাদ দিতেও ধৈর্যের প্রয়োজন। সেটার আওতাভুক্ত হয় কষ্টে ধৈর্য ধারণ করা এবং যা (গালমন্দ) বলা হবে, এবং যেসব বিপদ-মুসীবাত আপতিত হবে তাতেও ধৈর্য ধারণ করতে হবে। প্রাচুর্যের সময় বেশি উল্লাস তথা গর্ব করা হতে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। ইত্যাদি বহু প্রকারের ধৈর্য।
যদি বান্দার কাছে এমন জিনিস না থাকে যা দ্বারা সে শান্তি অনুভব করতে, প্রাচুর্যবোধ করতে ও খাদ্য গ্রহণ করতে পারে, তাহলে সে ধৈর্য ধারণ করতে পারবে না। আর তাই হল ইয়াক্বীন (সুদৃঢ় বিশ্বাস)। যেমন- ঐ হাদীসে আছে, যা আবূ বাকর সিদ্দীক (রাযি.) নাবী ﷺ হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইরশাদ করেছেন: “হে লোক সকল! আল্লাহ্র প্রতি বিশ্বাস ও সুস্থতা প্রার্থনা কর। কেননা কাউকেও বিশ্বাস দান করার পর সুস্থতা ছাড়া অধিকতর ভাল আর কোন কিছুই দেয়া হয়নি। অতএব তোমরা আল্লাহ্র নিকট ঐ দু'টি জিনিস চেয়ে নাও।”
📄 মানুষের প্রতি উত্তম ব্যবহার, চাহিদার সাথে সংশ্লিষ্ট
অনুরূপভাবে ব্যক্তি যদি কাউকেও কোন সৎকাজের আদেশ দিয়ে থাকে, অথবা ঐ ব্যাপারে তার অনুমোদন পাওয়া ভাল মনে করে থাকে, অথবা কোন খারাপ কাজ হতে নিষেধ করে তখন সে ঐ মানুষটির প্রতি এমন সদাচার করার প্রয়োজন সাধন করতে পারে যেমন- কোন প্রিয় বস্তু অর্জন করবে বা অপ্রিয় বিষয় দূর করতে পারবে।
কেননা আত্মা-নাক্সসমূহ খানিকটা মিষ্টি ব্যতীত শুধু তিক্ত জিনিসের উপর ধৈর্য ধারণ করতে পারে না। সেটা ছাড়া সম্ভবও নয়। আর এজন্যই মহান আল্লাহ আত্মাসমূহের সন্তুষ্টি বিধানের আদেশ দিয়েছেন। এমনকি "মু'আল্লাফাত-কুলুবুহুম” (যাদের অন্তরসমূহের সন্তুষ্টি বিধানকৃত)-দের জন্য সাদাকার মালসমূহের একটি বিশেষ অংশ ধার্য করেছেন এবং আল্লাহ তা'আলা বলেছেন তাঁর নাবী ﷺ-কে: “বাহ্যিক (দৃষ্টিতে তাদের সাথে যে) আচরণ (সমীচীন মনে হয় সেটা) গ্রহণ করুন, আর ভাল কাজের আদেশ (শিক্ষা) দিতে থাকুন এবং মুর্খদের হতে একদিকে সরে থাকুন।” (সূরা আল-আ'রাফ ৭ : ১৯৯)
অন্যত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'আলা বলেছেন: “এবং একে অন্যকে (ঈমানের উপর) ধৈর্য ধারণের উপদেশ দিয়েছে এবং একে অন্যকে (আল্লাহ্র সৃষ্টির প্রতি) সদয় হতে উপদেশ দিয়েছে।” (সূরা আল-বালাদ ৯০: ১৭) অতএব ধৈর্য ধারণ ও দয়া প্রদর্শন ছাড়া চলবে না। আর এটাই তো হল বীরত্ব ও বদান্যতা। এজন্যই আল্লাহ তা'আলা কোন কোন সময় সালাত ও যাকাতকে একত্রে উল্লেখ করেন। এটাই হল সৃষ্টির প্রতি "ইহসান” সদাচার। আবার কখনও বা নামায ও ধৈর্যকে একত্রে উল্লেখ করে থাকেন।
আসল কথা হলো নামায, যাকাত ও ধৈর্য- এ তিনটি ছাড়া কোন উপায় নেই। মু'মিনগণের আত্মসমূহের কল্যাণ সাধন ও তাদের ছাড়া অন্যদেরকে সংশোধন করতে এগুলো ছাড়া মু'মিনগণের মঙ্গল প্রতিষ্ঠিত হবে না। বিশেষ করে যতবারই ফিতনাহ্-ফাসাদ ও বিপদাপদ চরম আকার ধারণ করবে ততবারই এ তিনটির (সালাত, যাকাত ও ধৈর্য) প্রয়োজনও হবে সবচাইতে বেশী।
টিকাঃ
* রাসূল ﷺ একদা জিব্রাঈল ('আ.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, এ আয়াতটির হাকীকাত কি? তিনি বললেন, আল্লাহ বলেন: "যে ব্যক্তি তোমার সাথে বিচ্ছেদ অবলম্বন করে, তুমি তার সাথে মিলিত হও, আর যে ব্যক্তি তোমাকে বঞ্চিত করে, তুমি তাকে দান কর, আর যে উৎপীড়ন করে, তুমি তাকে ক্ষমা কর। এটাই উচ্চ পর্যায়ের স্বভাব।”
📄 কৃপণতা ও কাপুরুষতা নিন্দনীয়
ধৈর্য ও ক্ষমার গুণ থাকা সাধারণভাবে আদম সন্তানদের সকলের জন্য প্রয়োজন। তাদের কি ধর্মীয়, কি পার্থিব, কোন কল্যাণেই ঐ দু'টি গুণ ছাড়া সাধিত হবে না। এজন্যই তাদের সকলেই বীরত্ব ও বদান্যতার জন্য প্রশংসা প্রচার করতে থাকে, এমনকি এতই সাধারণ যে, কবিগণ পর্যন্ত তাদের প্রশংসিত ব্যক্তিদের স্তুতিগানের কবিতায় তার উল্লেখ করে থাকেন। আবার তেমনিভাবে তারা কৃপণতা ও কাপুরুষতার কুৎসা ও প্রচার করে থাকেন।
আল্লাহ্ কিতাব ও সুন্নাত কৃপণতা ও কাপুরুষতার বদনাম এবং আল্লাহ্র পথে বীরত্ব ও দয়ার্দ্রতার প্রশংসা নিয়ে এসেছে। এ সম্পর্কে নাবী ﷺ বলেছেন- “ব্যক্তির মধ্যে যা খারাপ তা হল কৃপণতাময় লোভ এবং কাপুরুষতা।” তিনি আরও বলেছেন- “হে বানী সালামাহ্! তোমাদের গোত্রপতি কে? তখন তারা বলল: আল-জাদ্দু বিন কাইস, আমরা তাকে কৃপণতা দ্বারা ওজন করছি। নাবী ﷺ বললেন, কৃপণতার রোগ হতে বড় রোগ আর কি হতে পারে?" অন্য এক বর্ণনায় আছে- “নিশ্চয়ই গোত্রপতি কৃপণ হতে পারে না। তোমাদের গোত্রপতি বরং শুভ্র কোকড়ানো চুল বিশিষ্ট আল-বারা বিন মা'রূর।”
অনুরূপ সহীহ্ গ্রন্থে আবূ বাকর সিদ্দীক (রাযি.)-এর প্রতি জাবির বিন 'আবদুল্লাহ্ কথা এসেছে- “হয় আপনি আমাকে দিন, না হয় আমার সাথে কৃপণতা করুন। তখন তিনি বললেন: আপনি বলছেন "না হয় আমার সাথে কৃপণতা করুন?” কৃপণতার চেয়ে অধিকতর কঠিন রোগ আর কি হতে পারে?" এভাবে তিনি কৃপণতাকে সবচাইতে মারাত্মক রোগ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
সহীহ্ মুসলিমে সুলাইমান বিন রাবি'আহ হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন 'উমার (রাযি.) বলেছেন: “নাবী (যাকাতের মাল) বণ্টন করেছেন, তখন আমি বললাম: হে আল্লাহ্র রাসূল! আল্লাহ্র শপথ! এদের চাইতে অন্যরাই ঐসব মালের বেশী হকদার, তখন তিনি বললেন: তারা হয় আমার কাছে অশ্লীলভাবে চাইবে অথবা আমাকে কৃপণ বলবে। এ দু'টির যে কোন একটি গ্রহণ করতে সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু আমি তো কৃপণ নই।” তারা তো আমাকে দু'টি অপছন্দনীয় জিনিসের যে কোন একটি বেছে নিতে বলেছে। তাদের কোন একটি গ্রহণ না করলে আমাকে ছাড়বে না অন্যায়ভাবে চাওয়া ও কৃপণ বানানো। অথচ বখিল (কৃপণ) বানানোটাই অত্যধিক কঠিন। সুতরাং আমি তাদেরকে দান করে কঠিন বিষয়টিকে প্রতিহত করলাম।
কৃপণতা এমন একটি মৌলিক বিষয় যার আওতায় বহু শ্রেণী রয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'আলা বলেছেন: “আর কখনও যেন ধারণা না করে এরূপ লোক, যারা কৃপণতা করে ঐ বস্তুতে যা তাদেরকে আল্লাহ স্বীয় করুণায় দান করেছেন সেটা তাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে বরং সেটা তাদের জন্য খুবই অমঙ্গলজনক। তাদেরকে কিয়ামাতের দিন 'তাওক' পরিয়ে দেয়া হবে সেটার (ঐ মালের) যাতে তারা কৃপণতা করেছিল।” (সূরা আ-লি 'ইমরান ৩ : ১৮০)
অন্যত্র আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: “আর তোমরা আল্লাহ তা'আলারই 'ইবাদাত কর এবং তার সাথে কাউকেও শরীক করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার কর এবং আত্মীয়-স্বজনের সাথেও... নিশ্চয়ই আল্লাহ ঐরূপ লোকদেরকে ভালবাসেন না, যারা নিজেকে বড় মনে করে ও আত্মগর্ব করে এবং অন্যকে কৃপণতা শিক্ষা দেয়।” (সূরা আন্-নিসা ৪ : ৩৬-৩৭)
অনুরূপ কাপুরুষতার নিন্দা ও তাঁর কথায় প্রকাশিত: “আর সে সময়ে যে ব্যক্তি তাদের দিকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে- কিন্তু হা, যে ব্যক্তি যুদ্ধের জন্য কৌশল অবলম্বন কিংবা যে ব্যক্তি স্বদলের নিকট আশ্রয় নিতে আসে তার কথা স্বতন্ত্র, এতদ্ব্যতীত আর যে ব্যক্তি এরূপ করবে, সে আল্লাহ্র গযবে পতিত হবে এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম, আর সেটা অতিশয় মন্দ আবাসস্থল।” (সূরা আল-আনফাল ৮: ১৬)
আল্লাহ তা'আলা মুনাফিকদের সম্পর্কে বলেছেন: “আর তারা আল্লাহ তা'আলা শপথ করে বলে যে, তারা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত অথচ তারা তোমাদের কেউই নয়, বরং তারা হচ্ছে কাপুরুষের দল। যদি তারা কোন আশ্রয়স্থল পেত, অথবা গুহা কিংবা লুকিয়ে থাকার একটু স্থান, তবে তারা অবশ্যই মুখ উঠিয়ে সেদিকে ধাবিত হত।” (সূরা আত্-তাওবাহ্ ৯ : ৫৬-৫৭)
আল-কুরআনে জিহাদের জন্য উৎসাহ ও প্রেরণা দেয়া হয়েছে এবং জিহাদ অপছন্দকারী ও পরিহারকারীদের যত কুৎসা, তা ঐসবই কাপুরুষতার কুৎসা।