📄 মানুষের কার্যক্রম ন্যায়পরায়ণতা ব্যতীত পরিপূর্ণ হতে পারে না
অধিকার খর্ব করার (যুলুমের) মাধ্যমে পৃথিবীতে মানুষের সার্বিক অবস্থা (কর্মকাণ্ড) যতটুকু হয়ে থাকে, তার হতে (অনেক) বেশি পরিপূর্ণ হয়ে থাকে ন্যায়পরায়ণতার মাধ্যমে, যাতে হয়তঃ বা কিছু কিছু ছোট-খাটো ত্রুটি-বিচ্যুতির সমন্বয় ঘটে থাকে। সুতরাং কথিত আছে যে, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা ন্যায়পরায়ণ রাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠিত করে থাকেন, যদিও তা কাফির হয়ে থাকুক না কেন! আর যালিম রাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠিত করেন না। হোক না সেটা মুসলিম রাষ্ট্র!!"
কথায় বলে- “এ পৃথিবী ন্যায়বিচার ও কুফ্র নিয়ে চলতে পারে; কিন্তু ইসলাম ও যুলম নিয়ে চলতে পারে না।" নাবী বলেছেন: "আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা ও অবাধ্যতার চাইতে অতি ত্বরিত শাস্তি আনয়নের মত পাপ আর নেই"। অবাধ্যচারীকে তো দুনিয়াতেই হত্যা করা হয়ে থাকে যদিও সে পরকালে ক্ষমাপ্রাপ্ত ও অনুকম্পা প্রাপ্ত হয়ে থাকে।
সেটা এজন্য যে, প্রত্যেক জিনিসের আইনই হল ন্যায়পরায়ণতা (নীতিই হল ন্যায়পরায়ণতা)। অতএব (দেখা যাবে যে,) যদি দুনিয়ার বিষয়াদি ন্যায়নীতির সাথে পালিত হয় তাহলে দুনিয়াও ন্যায়ভাবে চলতে থাকে, যদিও সেটার ন্যায়বান লোকটির জন্য আখিরাতে কোন প্রাপ্যই না থাকে। আর যখন দুনিয়ার কোন বিষয়াদি ন্যায়নীতির মাধ্যমে পালিত না হয়, তবে দুনিয়াও ন্যায়ভাবে চলে না, যদিও সেটার অধিকারীর এমনও ঈমান থাকে, যার বদলা আখিরাতে পাবে।
সুতরাং নাফস এ পৃথিবীতে অন্যের প্রতি হিংসা, অন্যের প্রাপ্যের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন ও অন্যের উপর আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে যুগ্ম-অত্যাচারের (প্রকৃত) হোতা। এটা ছাড়াও কু-মনোবৃত্তিও বাসনা চরিতার্থ করতে অশ্লীল বিষয়সমূহ যেমন- ব্যভিচার, হারাম খাবার গ্রহণের দ্বারা নাফস নিজের উপর যুল্মের আহবায়ক। নাফস যখন দেখতে পাবে যে, সেটার সমপর্যায়ের অন্যান্যরা ইতোমধ্যেই যুগ্ম করেছে, অথবা কু-মনোবৃত্তিগুলো গ্রহণ করেছে তখন সে স্বয়ং এ সকল কু-মনোবৃত্তি গ্রহণ করার ও অত্যাচার করার জন্য পৃথিবীতে অনেক বড় আহ্বায়ক হয়ে বসবে।
অপরের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ, তার শাস্তির দাবী, তার ঐশ্বর্য বিলীন হবার আকাঙ্ক্ষা ও তার প্রতি ঘৃণায় সে আস্ফালন করতে থাকবে এবং এমনরূপ ধারণ করবে যে ইতোপূর্বে আর কখনও তেমন হয়নি। তখন সেটার (নাফস) নিজের কাছে জ্ঞান ও ধর্মীয় দিক হতে প্রমাণ মওজুদ থাকবে। সেটা হবে এই যে, ঐ অপরাপরগণ নিজেদেরও মুসলিম জনগণের উপর অত্যাচার করেছে আর তখন তার সৎকাজের আদেশ দান, অসৎকাজ হতে নিষেধ করা ও জিহাদ করা, দীনের অন্তর্গত।
📄 আদেশ দান ও নিষেধ করার ক্ষেত্রে মানুষের শ্রেণীসমূহ
এক্ষেত্রে মানুষ ত্রিবিধ :
১. এক সম্প্রদায়, তাদের নফসের চাহিদা ব্যতিরেকে তারা কিছুই করবে না। তাদেরকে যা দেয়া হবে, তা ছাড়া তারা সন্তুষ্ট হবে না। আর যখন তাদের কাউকেও তার প্রবৃত্তির চাহিদা অনুযায়ী-তা হারাম হোক বা হালাল হোক দেয়া হবে (দেখবে) তার রোষাগ্নি নির্বাপিত হয়ে গেছে এবং সাথে সাথে সে খুশিও হয়ে গেছে। আর ক্ষণিক পূর্বেও যে বিষয়টি তার নিকট অসৎ ছিল সেটা হতে নিষেধ করত, সেটা করার কারণে শাস্তি দিত, সেটা যে করত তাকে ভর্ৎসনা করত, এখন সে স্বয়ং সেটার কর্তাব্যক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২. অন্য আর এক সম্প্রদায়, তারা সহীহ দীনী কাজ-কর্মই করে থাকে, এবং তাতে তারা একমাত্র আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠভাবে এবং যা করে তাতে তারা একনিষ্ঠ হয়ে থাকে এবং ঐ কাজও তাদের জন্য বিশুদ্ধ ও নির্ভেজাল হয়ে থাকে। এমন যে সকল ব্যাপারে তাদেরকে কষ্ট দেয়া হয় তাতে তারা ধৈর্যও অবলম্বন করে থাকে। আর আসলে ঐ সম্প্রদায়ই হল সেসব লোক, যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎকর্ম সম্পাদন করেছে।
৩. আর এক সম্প্রদায়, যাদের মধ্যে এটাও তার সমাহার হয়ে থাকে। তারাই হল মু'মিনদের (বিশ্বাসীদের) বৃহত্তর অংশ। যার অন্তরে দীন আছে, আরও আছে কামনা, আবার অন্তরে আল্লাহ্র আনুগত্যের বাসনাও আছে ও ওদিকে অবাধ্যচরণের ইচ্ছাও বিদ্যমান। তাই কখনও এ আকাঙ্ক্ষা প্রবল হয়ে যায় আবার কখনও ঐ বাসনা হয় বেশী প্রবল।
এ ত্রিবিধ বণ্টনটা হল যেমন কথিত আছে নাক্সসমূহ (আত্মা) তিনটি : ১. নাক্স আম্মারাহ্ যা খারাপ কাজে উদ্বুদ্ধ করে; ২. লাওয়ামাহ্: যা বেশি বেশি ভর্ৎসনা করে; ৩. মুত্যুাইন্নাহ্ : যা ভাল কাজে তৃপ্ত থাকে।
সুতরাং প্রথম শ্রেণীর লোক তারা যারা নাক্সে আম্মারার অধিকারী, যা কু-কাজের জন্য বেশি আদেশ দিয়ে থাকে। মধ্যম দল তারা, যারা নাক্সে মুত্মাইন্নার অধিকারী, যাকে সম্বোধন করে (কিয়ামাতের দিন আল্লাহ্র পক্ষ হতে) বলা হবে- হে নাক্সে মুত্মাইন্নাহ (অর্থাৎ- শান্তিময় আত্মা)! তুমি তোমার প্রতিপালকের দিকে চল। আর ঐ সকল লোক হল বেশি ভর্ৎসনাকারী আত্মার অধিকারী যা পাপকাজ করে এবং তজ্জন্যই আবার ভর্ৎসনাও করে এবং রং-বেরং ধারণ করে।
আর এজন্যই যখন মানুষ আবূ বাক্ (রাযি.) ও 'উমার (রাযি.)-এর যুগে ছিল- তাঁরা দু'জন তো এমন ছিলেন যে, তাঁদের আনুগত্য তথা অনুসরণ করার জন্য মুসলিমগণকে আদেশ দেয়া হয়েছিল। যখন মানুষ 'উসমান (রাযি.)-এর খিলাফাতের শেষ পর্যায়ে ও 'আলী (রাযি.)-এর খিলাফাতের সময় ছিল তখন তৃতীয় শ্রেণীর লোক সংখ্যা বর্ধিত হয়ে গিয়েছিল, ঐ সময় মানুষের মধ্যে দীন ও ঈমান থাকা সত্ত্বেও আকাঙ্ক্ষা ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছিল। এভাবেই ফিত্নার সৃষ্টি হয়েছিল, যার কারণ একটু পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে।
অতএব বিশ্বাসী ব্যক্তির উচিত হল, সে যেন আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করে এবং তার অন্তরকে ঈমান ও আল্লাহভীতি দ্বারা আবাদ করে, অন্তরকে বক্র না করে তাওয়া (আল্লাহভীতি) ও হিদায়াতের উপর স্থির রাখে এবং সে যেন প্রবৃত্তির অনুসরণ না করে, এ সকল বিষয়ে আল্লাহরই উপর পূর্ণ আস্থা রাখে।
📄 অসৎকাজের লোকেরা তাদের অনুসারীদের ভালবাসে
আর সেটা হল যে, খারাপ কাজের অনেক লোক তাদেরকেই ভালবাসে, যারা তাদের এ অবস্থায় থাকাকে গ্রহণ করে নিয়েছে, আর যারা তাদেরকে গ্রহণ করতে পারেনি তাদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে। এ অবস্থা বাতিল ধর্মগুলোর মধ্যে প্রকাশিত। প্রত্যেক জাতির (সম্প্রদায়ের) বন্ধুত্ব তাদের সমমানদের সাথে, আর যারা তাদের সমমনা নয় তাদের সাথে রয়েছে শত্রুতা। এরূপ অবস্থাই রয়েছে পার্থিব ও প্রবৃত্তির অভ্যাসের বিষয়গুলোতেও ঐসব অসৎ লোকগণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পছন্দ করে থাকে ও অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে তাদেরকেই যারা তাদের কুকর্মকাণ্ড ও প্রবৃত্তির চাহিদায় অংশগ্রহণ করবে। হয়তঃ ঐ বিষয়ে তাদেরকে সহযোগিতা করবে, যেমনটি হয়ে থাকে রাজ-ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হর্তা-কর্তাগণ ও ডাকাত-ছিনতাইকারী বা অনুরূপদের বেলায়। অথবা একাত্মতার মাধ্যমে আস্বাদন গ্রহণের নিমিত্ত।
যেমন- মদপানের জন্য জমায়েত হওয়া লোকদের বেলায় প্রযোজ্য আর তারা এটাই পছন্দ করবে যে, তাদের নিকটে যারা উপস্থিত হয়েছে তারা সকলেই যেন মদপান করে। হয়তো তার একাকী শালীনতা তথা ভাল থাকাটি তাদের নিকট ঘৃণার কারণে, সেটা তার হিংসার জন্য, অথবা সে একা ভাল থাকা ব্যক্তি যেন সমাজে তাদের চাইতে উচ্চ স্থান পেতে না পারে সেজন্য এবং তাদেরকে বাদ দিয়ে লোকেরা যে তারই প্রশংসা করবে অথবা ঐ একাকী ভাল থাকা ব্যক্তির যেন তাদের বিরুদ্ধে দাঁড় করাবার মত কোন যুক্তি প্রমাণ আর না থাকে অথবা সে নিজে তাদেরকে কোন শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারবে এ ভয়ে, অথবা সে ঐ বিষয়টি কারও কাছে তুলে ধরলে সে তাদেরকে শাস্তি দিবে এ ভয়ে, অথবা তারা এ ভাল থাকা লোকটির অনুগ্রহের পাত্র না হয়ে বা তার ভয়ের নীচে তাদের থাকতে না হয় এরূপ অন্যবিধ আরও কারণে তারা সকলেই তাকে এ পথে চলার সাথী করতে চায়। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: “কিতাবীদের মধ্য হতে অনেকেই একান্ত মনে চায় তোমাদের ঈমান আনার পর আবার তোমাদেরকে কাফির করে ফেলে, শুধু তাদের অন্তর্নিহিত হিংসার দরুন, তাদের নিকট সত্য উদ্ভাসিত হবার পর।” (সূরা আল-বাকারাহ্ ২: ১০৯)
অন্যত্র আল্লাহ তা'আলা মুনাফিকদের সম্পর্কে বলেছেন: “তারা এ আশা করে যে, যেমন তারা কাফির তদ্রূপ তোমরাও কাফির হয়ে যাও, যাতে তারা ও তোমরা একরূপ সমান হয়ে যাও।” (সূরা আন্-নিসা ৪: ৮৯) 'উসমান বিন 'আফফান (রাযি.) বলেছেন: “ব্যভিচারিণী একান্ত মনে চায়, হায়, স্ত্রীলোক সকলেই যদি ব্যভিচার করত!"
অংশগ্রহণ: তারা অংশগ্রহণ স্থির করে যেন একই পাপকার্য হয়, যেমন মদপানে অংশগ্রহণ, মিথ্যা বলা, খারাপ বিশ্বাসে অংশগ্রহণ ইত্যাদি। আবার কখনও বা পছন্দ করে যে, অংশগ্রহণটি যেন খারাপ কাজের কোন এক শ্রেণীতে হয় যেমন- ব্যভিচারী, সে চায় যে, অন্য সকলেও যেন ব্যভিচার করে। আর চোর চায় যে, অন্যরাও যেন চুরিই করে কিন্তু শুধু সে যার সাথে ব্যভিচার করেছে তাকে ছাড়া এবং যা চুরি করেছে তা সব ছাড়া যেন হয়।
আর দ্বিতীয় কারণটি হল: তারা ঐ ব্যক্তিকে তারা যে পাপ কাজে লিপ্ত আছে সে পাপ কাজে শরীক হতে আদেশ করে থাকে, যদি তাদের সাথে শরীক হয় তো ভাল, অন্যথায় তার সাথে শত্রুতা করবে এবং এমন কষ্ট দিবে যে, সেটা শক্তি প্রয়োগের স্তরে পৌঁছায় বা পৌঁছায়ও না। অতঃপর ঐ সকল লোক তাদের অশ্লীল কাজে অন্যের যোগদান করা পছন্দ করে অথবা তাকে উক্ত খারাপ কাজ করতে আদেশ করে এবং তারা যা করতে চায় তজ্জন্য তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। এভাবে যখন সে তাদের সাথে শরীক হল বা তাদের সহযোগিতা করল বা তাদের আনুগত্য করল তখনই তারা তাকে ত্রুটিপূর্ণ, খাটো বা নিম্নশ্রেণীর মনে করল ও তাকে হালকা জ্ঞান করল এবং ঐ অংশগ্রহণ করাটাকেই তার বিরুদ্ধে (অন্যান্য ব্যাপারে) প্রমাণ হিসেবে খাড়া করল। আর যদি সে তাদের সাথে শরীক না হত তাহলে তারা তার শত্রুতা করত ও তাকে কষ্ট দিত। আর এই তো হল অধিকাংশ ক্ষমতাশীল যালিমদের অবস্থা।
সৎকাজের ক্ষেত্রেও সমতুল্য অবস্থা বিদ্যমান রয়েছে বরং সেটা হতেও প্রবল। যেমন- আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'আলা বলেছেন: “আর যারা মু'মিন তাদের ভালবাসা আল্লাহ্র সঙ্গেই সুদৃঢ় রয়েছে।” (সূরা আল-বাকারাহ্ ২: ১৬৫) কেননা পুণ্যকাজের আহ্বায়ক স্বভাবতই অধিকতর শক্তিশালী।
📄 বিপদে ধৈর্য ধারণ করা অপরিহার্য
যখন বিপদ ভয়াল হয়ে দাঁড়ায় তখন সেটা মু'মিন ও সৎ লোকদের জন্য উচ্চ মর্যাদা ও মহান পুরস্কার লাভের কারণ হয়ে উঠে। যেমন- নাবী ﷺ-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল "মানুষের মধ্যে কারা সবচাইতে কঠিন বিপদের পরীক্ষা দিয়েছেন।" জওয়াবে নাবী ﷺ বলেছিলেন: “সবচাইতে বেশী বিপদে পড়েছেন নাবীগণ, তারপর হলেন সালিহীন (নেক্কারগণ) তারপর আদর্শ লোকগণ এবং তার পরবর্তী পর্যায়ের আদর্শ ব্যক্তিগণ। এক ব্যক্তি সে পরীক্ষিত হয় তার দীনের মজবুতি অনুযায়ী। যদি সে তার দীনের ব্যাপারে শক্ত-মজবুত হয় তাহলে তার পরীক্ষার কাঠিণ্যও বর্ধিত করা হয়ে থাকে। আর যদি সে তার দীনের ক্ষেত্রে দুর্বল হয়; তাহলে তার পরীক্ষার কাঠিন্যও কমিয়ে দেয়া হয়। মু'মিনের পরীক্ষা চলবেই; শেষাবধি এমন হবে যে, সে পৃথিবীতে বিচরণ করতে থাকবে অথচ তার কোন গুনাহ্ থাকবে না।"
ঐ সময় সে ধৈর্যের এত প্রয়োজনবোধ করবে যে সে অপেক্ষা আর কেউই সেটার প্রতি এত প্রয়োজনবোধ করবে না। আর সেটাই হচ্ছে দীনের ক্ষেত্রে নেতৃত্বের কারণ। যেমন- আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: “তারা যে ধৈর্য ধারণ করেছে তার ফলে তাদের মধ্য হতে কতকজনকে আমরা নেতা বানিয়েছি, তারা আমাদের আদেশ মত পথ চলে থাকে এবং আমাদের আয়াত (নিদর্শন) সমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।” (সূরা আস্-সাজদাহ্ ৪১: ২৪) সুতরাং আদিষ্ট সৎকাজ করতে ও নিষিদ্ধ খারাপ কাজ বাদ দিতেও ধৈর্যের প্রয়োজন। সেটার আওতাভুক্ত হয় কষ্টে ধৈর্য ধারণ করা এবং যা (গালমন্দ) বলা হবে, এবং যেসব বিপদ-মুসীবাত আপতিত হবে তাতেও ধৈর্য ধারণ করতে হবে। প্রাচুর্যের সময় বেশি উল্লাস তথা গর্ব করা হতে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। ইত্যাদি বহু প্রকারের ধৈর্য।
যদি বান্দার কাছে এমন জিনিস না থাকে যা দ্বারা সে শান্তি অনুভব করতে, প্রাচুর্যবোধ করতে ও খাদ্য গ্রহণ করতে পারে, তাহলে সে ধৈর্য ধারণ করতে পারবে না। আর তাই হল ইয়াক্বীন (সুদৃঢ় বিশ্বাস)। যেমন- ঐ হাদীসে আছে, যা আবূ বাকর সিদ্দীক (রাযি.) নাবী ﷺ হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইরশাদ করেছেন: “হে লোক সকল! আল্লাহ্র প্রতি বিশ্বাস ও সুস্থতা প্রার্থনা কর। কেননা কাউকেও বিশ্বাস দান করার পর সুস্থতা ছাড়া অধিকতর ভাল আর কোন কিছুই দেয়া হয়নি। অতএব তোমরা আল্লাহ্র নিকট ঐ দু'টি জিনিস চেয়ে নাও।”