📘 সৎকাজ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ > 📄 জাতির পাপকাজেই বিপদের তথা দুর্ভোগের কারণ এবং পুণ্যের কারণে প্রাচুর্য আসে

📄 জাতির পাপকাজেই বিপদের তথা দুর্ভোগের কারণ এবং পুণ্যের কারণে প্রাচুর্য আসে


এটা জানা কথা- আল্লাহ তা'আলা তাঁর নিদর্শনসমূহ হতে আমাদের ভিতরকার বা তার সৌরমণ্ডলীয় যা আমাদেরকে দেখিয়েছেন আর তাঁর মহাগ্রন্থে যেসব বিষয়ে প্রমাণ উপস্থাপন করেছে, নিশ্চয়ই পাপসমূহই দুঃখ-দুর্দশার (একমাত্র) কারণ। সুতরাং কঠিন বিপদাপদ ও জঘন্য জঘন্য শাস্তি হয়ে থাকে শুধু জঘন্য ধরনের কুকর্মের কারণেই। অপরপক্ষে পুণ্য তথা সৎকাজ বয়ে আনে পুরস্কার। সুতরাং ব্যক্তির উত্তম কর্ম সম্পাদনই আল্লাহ্র পক্ষ হতে উত্তম পুরস্কারের কারণ।

এ সুবাদে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'আলা বলেছেন: “আসলে তোমাদেরকে যেসব বিপদাপদে পেয়ে গেছে, সেটা তোমাদের হস্তসমূহেরই অর্জিত ফল, অথচ আল্লাহ তা'আলা অনেক বিষয়ই ক্ষমা করে থাকেন।" (সূরা আশ্-শূরা ৪২: ৩০)

নূহ্ ('আ.)-এর জাতির এরূপ আরও পাপী জাতিসমূহ যেমন- 'আদ, সামূদ, লূত নাবীর জাতি, মাদায়িনবাসী এবং ফির'আওনের জাতিকে এ পৃথিবীতেই কিসের জন্য আল্লাহ তা'আলা শাস্তি দিয়েছিলেন, সে সংবাদ তিনি দিয়েছেন। আবার পারলৌকিক জগতেও কিভাবে শাস্তি দিবেন তাও বলে দিয়েছেন। এজন্যই ফির 'আওন সম্প্রদায়ভূক্ত একজন মু'মিন ব্যক্তি বলেছিলেন: "হে আমার জাতি! আমি নিশ্চয়ই তোমাদের উপর বিপদের দিনে আসা বিপদের মত (আর একটি) আসন্ন বিপদের ভয় করছি। যেমন হয়েছিল নূহ্ ('আ.)-এর জাতির প্রতি, ওই দিকে 'আদ, সামূদ এবং যারা তাদের পরবর্তীকালে। আসলে আল্লাহ তো কখনই তার বান্দাদের প্রতি অত্যাচার চান না। হে আমার জাতি! আমি তোমাদের জন্য আশংকা করি উচ্চৈঃস্বরে আর্তনাদের সেদিনের (শাস্তির) ভয় করছি। যেদিন তোমরা পিঠটান দিয়ে পলায়নপর হয়ে চলে যাবে। আল্লাহ্র শাস্তি হতে রক্ষাকারী তোমাদের জন্য আর কেউই থাকবে না।"

আল্লাহ তা'আলা সাধারণভাবে সতর্কবাণী সম্বলিত সূরাসমূহে পৃথিবীতে পাপীদেরকে কিরূপে শাস্তি দিলেন এবং পরকালে তাদের জন্য কিরূপ শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন তা উল্লেখ করে থাকেন। আবার কোনও বিশেষ সূরায় শুধু আখিরাতের ওয়া'দা সম্পর্কিত বিষয়ই উল্লেখ করে থাকেন। যেমন- আখিরাতের 'আযাব অত্যন্ত কঠিন এবং অপরদিকে সে কাজের প্রতিদানে সাওয়াবও বৃহত্তর এবং তা-ই হল (মু'মিনদের জন্য) স্থায়ী বাসস্থান।

যেমন- ইউসুফ ('আ.)-এর ঘটনায় আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: “এবং এভাবে আমরা ইউসুফের জন্য এ পৃথিবীতে স্থান করে দিলাম (সুবিধা করে দিলাম), সে তার যেখানে ইচ্ছা সেখানেই অবস্থান গ্রহণ করবে। আমাদের অনুগ্রহ যাকে আমরা ইচ্ছা করব, তাকেই পৌঁছাব। অথচ নিষ্ঠাবান ও সৎকর্মশীলদের কাজের মূল্য আমরা নষ্ট করি না। আসলে যারা ঈমান এনেছে এবং আল্লাহকে মূলতঃ ভয় করে তাদের জন্য পরকালের পারিশ্রমিকই উত্তম।” (সূরা ইউসুফ ১২: ৫৬-৫৭)

অনুরূপভাবে সূরা নূন ওয়াল্ কালামে সে অপরাধী (বাগানের বা শষ্য ক্ষেতের) মালিকদের কাহিনী বর্ণনা করেছেন, যারা তাদের ধন-সম্পদের হক আদায় করতে অস্বীকার করেছিল। ফলে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে শাস্তি দিয়েছিলেন। এসব বর্ণনার পর বলেছেন: “এভাবেই এরূপই 'আযাব হয়ে থাকে এবং পরকালের 'আযাব এটা অপেক্ষা গুরুতর। যদি এরা জানত।" (সূরা আল-কালাম ৬৮: ৩৩)

আর এভাবেই আল্লাহ্ পক্ষ হতে প্রকৃত জ্ঞান আসার পর যদি তারা প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে, তবে সেটা তাদেরই নিজ হাতের কর্ম ফল। আসলে মানুষের জন্য যা উপকারে আসবে, সেটাই শুধু পৃথিবীতে জমা হবে এবং এটা নিঃসন্দেহে একটি ইসলামী জিহাদের সমতুল্য। যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎকর্ম সম্পাদন করেছে, এরাই হচ্ছে সফলকাম সম্প্রদায়। আর এই যে জানাযাসমূহ, এটাই আহলে সুন্নাহ্ ও বিদ'আতীদের মধ্যে পৃথককারী মহা প্রাচীর।

📘 সৎকাজ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ > 📄 তাদের অনুসরণে ফিত্নার কারণসমূহ

📄 তাদের অনুসরণে ফিত্নার কারণসমূহ


আসলে যে ব্যক্তি সংঘটিত ফিত্নাসমূহকে ভালভাবে অনুধাবন করে দেখতে পেয়েছে যে, ঐগুলোই সেটার কারণ এবং জাতির আমীর 'উমরাঙ্গণও 'আলিমগণের মধ্যে যা ঘটছে তাও দেখতে পেয়েছে। আরও দেখতে পেয়েছে যে, জাতির রাজা বাদশাহ্ ও শাইখ মাশায়েখণের কারা ঐ ফিত্নায় প্রবেশ করেছে আর তাদেরকে অনুসরণ করেই বা কারা উক্ত ফিত্নায় পতিত হয়েছে। এটাই ঐ ফিত্নার মূল কারণ। তদুপরি বিপথগামিতা ও পথভ্রষ্টতার কারণসমূহও সেটারই অন্তর্গত। যেমন- ধর্মীয় বিষয়ে যথেচ্ছাচারিতা এবং রিপুবৃত্তি, ধর্মে বিদ'আত আনয়ন ও পৃথিবীতে পাপাচার করা।

নাক্স চাইবে যে অন্যের যা লাভ হয়েছে নিজের জন্যও তা অর্জিত হোক। আর এটাই হল "গিত্তাহ্” (কোন কিছু লাভ করতে মানসিক প্রতিযোগিতা) যা দ্বিবিধ পরশ্রীকাতরতার মধ্যে নিকৃষ্টতর। কেননা নাক্স সর্বদাই অন্যের উপর স্বীয় প্রাধান্য ও আধিপত্যের আকাঙ্ক্ষাই করে থাকে এবং অন্যকে ব্যতীত আপনাকে অগ্রগণ্য মনে করে ও ঈর্ষান্বিত হয়ে পরের প্রাচুর্য ও ঐশ্বর্য বিলীন হয়ে যাক এ আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে থাকে; যদিও সেটা অর্জিত না-ই হোক। আর তাতেই রয়েছে উচ্চাভিলাষ ও অনাসৃষ্টির উদগ্র বাসনা ও পরশ্রীকাতরতার কারণ হল এমন বাসনা যে, কোন ব্যাপারে কাম-বাসনা চরিতার্থ করতে অন্য কাউকেও ছাড়া এককভাবে তাতে বিশেষায়িত হওয়া। তবে যখন এরূপ নাক্স দেখবে যে অন্য কেউ ঐ ইপ্সিত ব্যাপারে ইতোমধ্যেই স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থ করে এবং ঐ বিষয়ে নিজেকে এককভাবে বিশেষিত ও অধিকারী করে নিয়েছে, তখন ব্যাপারটি কেমন হবে?

এ কথা সর্বজনবিদিত যে, যদিও এ সকল পাপাচারই ধর্মীয়ভাবে ও জ্ঞানের কাছে ঘৃণিত ও অপ্রসংশিত- তবুও স্বাভাবিকভাবে আত্মা ও রিপুর কাছে সেটা বড়ই স্বাদের। এ বিষয়ে নাবী ﷺ হতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ﷺ বাণী প্রদান করেছেন: “তোমরা সম্পদলিপ্সার কাছেও যেও না (সম্পদ-লিপ্সা হতে বেঁচে থাকো) কেননা নিশ্চয়ই সেটা তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে ধ্বংস করে ফেলেছিল। সম্পদলিপ্সা তাদেরকে কৃপণতা করতে আদেশ দিয়েছিল, ফলে তারা কার্পণ্যই করেছিল, সেটা তাদেরকে যুগ্ম-নির্যাতনের নির্দেশ দিয়েছিল, ফলে তারা (অর্থ লোভে মোহান্ধ হয়ে) যুগ্ম-নির্যাতনই করেছিল। অর্থলোভ তাদেরকে আত্মীয়তার সম্পর্কচ্ছেদ করতে আদেশ করেছিল, এতে তারা সম্পর্কচ্ছেদও করেছিল।”

অতএব এই যে সম্পদের প্রতি লিপ্সা- যা অন্তরের অতিমাত্রায় লোভ- তা ব্যক্তিকে তার করণীয় কাজ হতে ফিরিয়ে রেখে কৃপণতায় বাধ্য করে, পরের সম্পদ হরণের মাধ্যমে যুগ্ম করতে বাধ্য করে, নিকটাত্মীয়- স্বজনদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করতে বাধ্য করে এবং ঈর্ষাপরায়ণ করে তোলে- সেটা হল, অপর ব্যক্তি যার অধিকারী হয়েছে তাকে অপছন্দ করা ও তার বিনাশ কামনা করা। আসলে পরশ্রীকাতরতার মধ্যে কৃপণতা ও যুগ্ম বিদ্যমান।

যখন তাতে ব্যক্তি ভিত্তিক কারণ সংঘটিত হবে তখন তাতে দু'প্রকারের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। তাদের প্রথমটি: তাতে যে একক অধিকার ও যুগ্ম রয়েছে তজ্জন্য তাকে ঘৃণা করা, যেমনটি ঘটে থাকে মৌলিকভাবে বৈধ বিষয়গুলোতে। দ্বিতীয়টি: সেটার মধ্যে যে, আল্লাহ্র হক রয়েছে এজন্য তাকে ঘৃণা করা। আর ঠিক এ জন্যই গুনাহ্ (অপরাধ) তিন প্রকার যথা: ১. যাতে মানুষের উপর যুগ্ম করা রয়েছে; ২. যাতে আত্মার প্রতি অত্যাচার (যুল্ম) হয়ে থাকে; ৩. যাতে উভয়বিধ দু'টি বিষয়ই একত্র হতে পারে।

📘 সৎকাজ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ > 📄 মানুষের কার্যক্রম ন্যায়পরায়ণতা ব্যতীত পরিপূর্ণ হতে পারে না

📄 মানুষের কার্যক্রম ন্যায়পরায়ণতা ব্যতীত পরিপূর্ণ হতে পারে না


অধিকার খর্ব করার (যুলুমের) মাধ্যমে পৃথিবীতে মানুষের সার্বিক অবস্থা (কর্মকাণ্ড) যতটুকু হয়ে থাকে, তার হতে (অনেক) বেশি পরিপূর্ণ হয়ে থাকে ন্যায়পরায়ণতার মাধ্যমে, যাতে হয়তঃ বা কিছু কিছু ছোট-খাটো ত্রুটি-বিচ্যুতির সমন্বয় ঘটে থাকে। সুতরাং কথিত আছে যে, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা ন্যায়পরায়ণ রাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠিত করে থাকেন, যদিও তা কাফির হয়ে থাকুক না কেন! আর যালিম রাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠিত করেন না। হোক না সেটা মুসলিম রাষ্ট্র!!"

কথায় বলে- “এ পৃথিবী ন্যায়বিচার ও কুফ্র নিয়ে চলতে পারে; কিন্তু ইসলাম ও যুলম নিয়ে চলতে পারে না।" নাবী বলেছেন: "আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা ও অবাধ্যতার চাইতে অতি ত্বরিত শাস্তি আনয়নের মত পাপ আর নেই"। অবাধ্যচারীকে তো দুনিয়াতেই হত্যা করা হয়ে থাকে যদিও সে পরকালে ক্ষমাপ্রাপ্ত ও অনুকম্পা প্রাপ্ত হয়ে থাকে।

সেটা এজন্য যে, প্রত্যেক জিনিসের আইনই হল ন্যায়পরায়ণতা (নীতিই হল ন্যায়পরায়ণতা)। অতএব (দেখা যাবে যে,) যদি দুনিয়ার বিষয়াদি ন্যায়নীতির সাথে পালিত হয় তাহলে দুনিয়াও ন্যায়ভাবে চলতে থাকে, যদিও সেটার ন্যায়বান লোকটির জন্য আখিরাতে কোন প্রাপ্যই না থাকে। আর যখন দুনিয়ার কোন বিষয়াদি ন্যায়নীতির মাধ্যমে পালিত না হয়, তবে দুনিয়াও ন্যায়ভাবে চলে না, যদিও সেটার অধিকারীর এমনও ঈমান থাকে, যার বদলা আখিরাতে পাবে।

সুতরাং নাফস এ পৃথিবীতে অন্যের প্রতি হিংসা, অন্যের প্রাপ্যের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন ও অন্যের উপর আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে যুগ্ম-অত্যাচারের (প্রকৃত) হোতা। এটা ছাড়াও কু-মনোবৃত্তিও বাসনা চরিতার্থ করতে অশ্লীল বিষয়সমূহ যেমন- ব্যভিচার, হারাম খাবার গ্রহণের দ্বারা নাফস নিজের উপর যুল্মের আহবায়ক। নাফস যখন দেখতে পাবে যে, সেটার সমপর্যায়ের অন্যান্যরা ইতোমধ্যেই যুগ্ম করেছে, অথবা কু-মনোবৃত্তিগুলো গ্রহণ করেছে তখন সে স্বয়ং এ সকল কু-মনোবৃত্তি গ্রহণ করার ও অত্যাচার করার জন্য পৃথিবীতে অনেক বড় আহ্বায়ক হয়ে বসবে।

অপরের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ, তার শাস্তির দাবী, তার ঐশ্বর্য বিলীন হবার আকাঙ্ক্ষা ও তার প্রতি ঘৃণায় সে আস্ফালন করতে থাকবে এবং এমনরূপ ধারণ করবে যে ইতোপূর্বে আর কখনও তেমন হয়নি। তখন সেটার (নাফস) নিজের কাছে জ্ঞান ও ধর্মীয় দিক হতে প্রমাণ মওজুদ থাকবে। সেটা হবে এই যে, ঐ অপরাপরগণ নিজেদেরও মুসলিম জনগণের উপর অত্যাচার করেছে আর তখন তার সৎকাজের আদেশ দান, অসৎকাজ হতে নিষেধ করা ও জিহাদ করা, দীনের অন্তর্গত।

📘 সৎকাজ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ > 📄 আদেশ দান ও নিষেধ করার ক্ষেত্রে মানুষের শ্রেণীসমূহ

📄 আদেশ দান ও নিষেধ করার ক্ষেত্রে মানুষের শ্রেণীসমূহ


এক্ষেত্রে মানুষ ত্রিবিধ :
১. এক সম্প্রদায়, তাদের নফসের চাহিদা ব্যতিরেকে তারা কিছুই করবে না। তাদেরকে যা দেয়া হবে, তা ছাড়া তারা সন্তুষ্ট হবে না। আর যখন তাদের কাউকেও তার প্রবৃত্তির চাহিদা অনুযায়ী-তা হারাম হোক বা হালাল হোক দেয়া হবে (দেখবে) তার রোষাগ্নি নির্বাপিত হয়ে গেছে এবং সাথে সাথে সে খুশিও হয়ে গেছে। আর ক্ষণিক পূর্বেও যে বিষয়টি তার নিকট অসৎ ছিল সেটা হতে নিষেধ করত, সেটা করার কারণে শাস্তি দিত, সেটা যে করত তাকে ভর্ৎসনা করত, এখন সে স্বয়ং সেটার কর্তাব্যক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২. অন্য আর এক সম্প্রদায়, তারা সহীহ দীনী কাজ-কর্মই করে থাকে, এবং তাতে তারা একমাত্র আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠভাবে এবং যা করে তাতে তারা একনিষ্ঠ হয়ে থাকে এবং ঐ কাজও তাদের জন্য বিশুদ্ধ ও নির্ভেজাল হয়ে থাকে। এমন যে সকল ব্যাপারে তাদেরকে কষ্ট দেয়া হয় তাতে তারা ধৈর্যও অবলম্বন করে থাকে। আর আসলে ঐ সম্প্রদায়ই হল সেসব লোক, যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎকর্ম সম্পাদন করেছে।

৩. আর এক সম্প্রদায়, যাদের মধ্যে এটাও তার সমাহার হয়ে থাকে। তারাই হল মু'মিনদের (বিশ্বাসীদের) বৃহত্তর অংশ। যার অন্তরে দীন আছে, আরও আছে কামনা, আবার অন্তরে আল্লাহ্র আনুগত্যের বাসনাও আছে ও ওদিকে অবাধ্যচরণের ইচ্ছাও বিদ্যমান। তাই কখনও এ আকাঙ্ক্ষা প্রবল হয়ে যায় আবার কখনও ঐ বাসনা হয় বেশী প্রবল।

এ ত্রিবিধ বণ্টনটা হল যেমন কথিত আছে নাক্সসমূহ (আত্মা) তিনটি : ১. নাক্স আম্মারাহ্ যা খারাপ কাজে উদ্বুদ্ধ করে; ২. লাওয়ামাহ্: যা বেশি বেশি ভর্ৎসনা করে; ৩. মুত্যুাইন্নাহ্ : যা ভাল কাজে তৃপ্ত থাকে।

সুতরাং প্রথম শ্রেণীর লোক তারা যারা নাক্সে আম্মারার অধিকারী, যা কু-কাজের জন্য বেশি আদেশ দিয়ে থাকে। মধ্যম দল তারা, যারা নাক্সে মুত্মাইন্নার অধিকারী, যাকে সম্বোধন করে (কিয়ামাতের দিন আল্লাহ্র পক্ষ হতে) বলা হবে- হে নাক্সে মুত্মাইন্নাহ (অর্থাৎ- শান্তিময় আত্মা)! তুমি তোমার প্রতিপালকের দিকে চল। আর ঐ সকল লোক হল বেশি ভর্ৎসনাকারী আত্মার অধিকারী যা পাপকাজ করে এবং তজ্জন্যই আবার ভর্ৎসনাও করে এবং রং-বেরং ধারণ করে।

আর এজন্যই যখন মানুষ আবূ বাক্ (রাযি.) ও 'উমার (রাযি.)-এর যুগে ছিল- তাঁরা দু'জন তো এমন ছিলেন যে, তাঁদের আনুগত্য তথা অনুসরণ করার জন্য মুসলিমগণকে আদেশ দেয়া হয়েছিল। যখন মানুষ 'উসমান (রাযি.)-এর খিলাফাতের শেষ পর্যায়ে ও 'আলী (রাযি.)-এর খিলাফাতের সময় ছিল তখন তৃতীয় শ্রেণীর লোক সংখ্যা বর্ধিত হয়ে গিয়েছিল, ঐ সময় মানুষের মধ্যে দীন ও ঈমান থাকা সত্ত্বেও আকাঙ্ক্ষা ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছিল। এভাবেই ফিত্নার সৃষ্টি হয়েছিল, যার কারণ একটু পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে।

অতএব বিশ্বাসী ব্যক্তির উচিত হল, সে যেন আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করে এবং তার অন্তরকে ঈমান ও আল্লাহভীতি দ্বারা আবাদ করে, অন্তরকে বক্র না করে তাওয়া (আল্লাহভীতি) ও হিদায়াতের উপর স্থির রাখে এবং সে যেন প্রবৃত্তির অনুসরণ না করে, এ সকল বিষয়ে আল্লাহরই উপর পূর্ণ আস্থা রাখে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00