📘 সৎকাজ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ > 📄 প্রত্যেকটি সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ হতে নিষেধ করা অপরিহার্য

📄 প্রত্যেকটি সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ হতে নিষেধ করা অপরিহার্য


জাতির সৎকাজে আদেশ দান ও অসৎকাজ হতে নিষেধ করাকে ওয়াজিব-ই-কিফাইয়াহ ধার্য করে এ বলে মহান আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা 'ইরশাদ করেছেন: “তোমাদের মধ্য হতে এমন একটি জাতি হওয়া উচিত যারা সকল ভাল তথা উত্তম বিষয়ের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের আদেশ করবে এবং অসৎকাজ হতে নিষেধ করবে, আসলে তারাই হচ্ছে সফলকাম সম্প্রদায়।” (সূরা আ-লি 'ইমরান ৩: ১০৪)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'আলা যখন, তাদের দ্বারা সৎকাজের আদেশ সংঘটিত হবে বলে সংবাদ দিয়েছেন, তখন তাতে এমন কোন শর্ত নেই যে, আদেশকারীর আদেশ ও নিষেধকারীর নিষেধ, বিশ্বের প্রত্যেকটি (প্রাপ্তবয়স্ক) ব্যক্তির নিকটে পৌঁছাতে হবে। যখন কোন জাতির নিকট- যার সে আদেশ দিবে ও যা হতে নিষেধ করবে, এটা না থাকে, তখন সেটা সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।

অতঃপর যদি তারা গাফলতি করে, তাহলে তার কর্মীর পূর্ণ ব্যবস্থা নেয়া সত্ত্বেও সেটা তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়ে না উঠে, তাহলে ঐ গাফলতিটা তাদের পক্ষ হতেই হয়েছে বলে ধরা হবে; কর্মীর পক্ষ হতে নয়। অনুরূপভাবে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ হতে নিষেধ করা নির্দিষ্ট করে প্রত্যেকের উপর বর্তাবে না; বরং পবিত্র কুরআনের প্রমাণ অনুসারে সেটা ওয়াজিব-ই-কিফাইয়াহ্।

জিহাদও ঠিক অনুরূপভাবে ওয়াজিব-ই-কিফায়াহ্। অতএব সেটার দায়িত্বশীল যখন সেটা সম্পাদনে ব্রতী হবেন না, তখন সকল সামর্থ্য ব্যক্তিগণ তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ঐ দায়িত্ব পালন না করার দোষে সমভাবে দোষী হবেন। সুতরাং এটা স্পষ্টভাবেই বুঝা গেল যে, প্রতিটি মানুষের উপরই তার শক্তি সামর্থ্য অনুযায়ী ঐ দায়িত্ব বর্তাবে। যেমন- নাবী হাদীসে বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে যে কোন একটি অসৎকাজ (হতে) দেখবে, সে যেন তাকে তার হাত দ্বারা প্রতিহত করে। তবে যদি সে ঐরূপ করতে অক্ষম হয়, তাহলে কথা দ্বারা যেন তাকে প্রতিহত করে, যদি এরূপও করতে অক্ষম হয়, তাহলে যেন অন্তর দিয়ে তাকে ঘৃণা করে। আর সেটা হচ্ছে সবচাইতে দুর্বল ঈমান।"

যদি বিষয়টি ঐ রকমই হয়, তাহলে এ কথা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করা, যা পরিপূর্ণ করা হয়ে থাকে জিহাদের মাধ্যমে সেটা একটি বৃহত্তম সৎকাজ; যার জন্য আমরা আদিষ্ট হয়েছি। তার জন্যই বলা হয়েছে- তোমার আদেশ যেন সৎকাজের জন্য হয় এবং অসৎকাজে তোমার নিষেধ করাও যেন সৎ হয়।

যখন এটা সর্বোত্তম ওয়াজিব এবং পছন্দনীয় কাজ, সুতরাং এ ওয়াজিবসমূহ (অপরিহার্য) ও মুস্তাহাবগুলোর সুফল তাদের (প্রয়োগের কারণে) অপকারের চাইতে বেশী ভারি হওয়াই বাঞ্ছনীয়। যেহেতু এটা সহকারেই রাসূলগণকে পাঠানো হয়েছিল এবং আসমানী গ্রন্থসমূহ অবতীর্ণ করা হয়েছিল। আল্লাহ তা'আলা কখনও ফাসাদ বা অনাসৃষ্টি পছন্দ করেন না। উপরন্তু আল্লাহ যার আদেশ করবেন, তা উত্তমই হবে।

অসৎকাজ হতে নিষেধ করা কখনও শক্তি দ্বারা হতে পারে, আবার কখনও বা রসনার দ্বারা, আবার কখনও শুধু অন্তরের ঘৃণা দ্বারাই হয়ে থাকে। অন্তর দ্বারা সেটা করা সর্বাবস্থায়ই ওয়াজিব হবে। যেহেতু সেটা করতে কোনই ক্ষতি নেই। যে ব্যক্তি এতটুকু ঘৃণাও পোষণ করে না সে আসলে মু'মিনই নয়। নাবী -এর হতে এরূপই বুঝা যায়। তিনি বলেছেন : “আর সেটা হল সবচাইতে দুর্বল ঈমান।” এবং আরও বলেছেন- "সেটার পর সরিষা পরিমাণ ঈমানও আর নেই।"

টিকাঃ
১. ওয়াজিব-ই-কিফাইয়াহ- যা কোন এলাকার একজন বা একদলে আদায় করলে অন্য সকলের পক্ষ হতে আদায় হয়ে যায়। যেমন- জানাযার নামায।
২. কোন অসৎকাজকে মনে মনে শুধু ঘৃণা করা দুর্বল ঈমান, আর এটুকুও যখন করবে না তখন বুঝা যাবে যে, অন্তরে ঈমান আর অবশিষ্ট নেই।

📘 সৎকাজ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ > 📄 আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে মানুষ দু’শ্রেণী

📄 আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে মানুষ দু’শ্রেণী


এখানেই মানুষের দু'টি দলই ভুল করে থাকে। প্রথম দল: তাদের উপর আদেশ ও নিষেধের যে দায়িত্ব, এ আয়াতটির ব্যাখ্যা হিসেবে অবহেলা করে ছেড়ে দিচ্ছে। যেমন প্রথম খলীফা আবু বাক্র সিদ্দীক (রাযি.) তাঁর এক ভাষণে বলেছিলেন: হে লোক সকল! তোমরা এ আয়াতটি পড়ে থাক- “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের স্ব-স্ব হিদায়াতের দায়িত্ব তোমাদের নিজেদের উপর, তোমরা যদি সৎপথপ্রাপ্ত হও তাহলে যারা বিপথগামী হয়েছে তারা তোমাদেরকে ক্ষতি করতে পারবে না” (সূরা আল-মায়িদাহ্ ৫ : ১০৫)। অথচ তোমরা সেটার সদ্ব্যবহার করছ না। আমি নাবী-কে বলতে শুনেছি "নিশ্চয়ই মানুষ যখন অসৎকাজ চলতে দেখবে, অথচ সেটাকে প্রতিহত করবে না, এটা বেশী দূরে নয় যে, আল্লাহ তা'আলা ঐ কাজের দায়ে সকলকেই সাধারণভাবে শাস্তি দিবেন।"

আর দ্বিতীয় দলটি- যারা জিহ্বা বা হাত দ্বারা মোটকথা সৎকাজে আদেশ দিতে ও অসৎকাজ হতে নিষেধ করতে চায়, কোন প্রয়োজনীয় জ্ঞান, সহনশীলতা বা ধৈর্য ছাড়াই এবং সেটার কোন্টি কোথায় চলবে, আর কোথায় চলবে না, কোন্টি সে করতে পারবে, আর কোন্টি সে করতে পারবে না, সেদিকে তার লক্ষ্য নেই। যেমন- আবূ সা'আলাবাহ্ আল্-খাশানী বর্ণিত হাদীসে আছে, আমি নাবী-কে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলাম, তিনি বলেছেন: “বরং তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে সৎকাজের আদেশ দিবে এবং অসৎকাজ হতে নিজেদেরকে নিজেরাই নিষেধ করবে। যখন দেখবে এমন কৃপণতা, যা অন্যেরা অনুসরণ করছে এবং অনুসৃত প্রবৃত্তি, প্রভাব বিস্তারকারী পার্থিব ঐশ্বর্য ও প্রত্যেক 'আলিম ব্যক্তি স্ব-স্ব রায় নিয়েই খুশি হচ্ছে এবং এমন সব অশ্লীল কর্ম কান্ড ঘটতে দেখবে যা ঠেকাবার মত তোমার কোন শক্তি নেই, এমতাবস্থায় 'চাচা আপন প্রাণ বাঁচা' ভিত্তিক নিজে নিজেকেই রক্ষা করবে।"

এমন কঠিন মুহূর্তে কোন একজন আদেশ ও নিষেধ নিয়ে এসে উপস্থিত হবে এ মনে করে যে, সে নিজে আল্লাহ্ ও তদীয় রাসূল-এর অনুগত, আসলে সে নিজেই সীমালঙ্ঘনকারী। যেমন- অনেক বিদ্‌'আতী ও প্রবৃত্তির পূজারীগণ নিজেদেরকে সৎকাজের আদেশদাতা ও অসৎকাজ হতে নিষেধকারী হিসেবে নিজেদের সাজিয়ে বসেছে। এ সকল লোক ঐ খারিজী, মুতাযিলা, রাফিজী ও অনুরূপ অন্যান্য গোষ্ঠীরই মত, যারা তাদের প্রতি আগত আদেশ ও নিষেধাবলীর ক্ষেত্রে ভুল করে বসেছে এবং এভাবেই তাদের সংশোধনী কাজের চেয়ে অনাসৃষ্টিই বেশী হয়েছে।

টিকাঃ
১. হাদীসটি উল্লেখিত ঐ আয়াতের ব্যাখ্যায় পুরোপুরি এসেছে- (ক) আত্-তাবারী : ১১/১৩৭; (খ) ইবনে কাসীর ২/৬৬৭; (গ) ইবনে মাযাহ্ অনুযায়ী সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ হতে নিষেধ করা ছেড়ে দিবার কোন প্রমাণ নেই। ইমাম তিরমিযী (রহ:) বলেছেন : আবু উমাইয়্যাহ্ হতে বর্ণিত- আমি আবু সা'আলাবাকে জিজ্ঞেস করে বললাম- এ আয়াতে আপনি কেমন করেন? তিনি বললেন : আল্লাহ্র শপথ! তুমি এমন লোকের কাছেই প্রশ্ন করেছ, যিনি সেটার উত্তর জ্ঞাত আছেন। আমি নাবী-কে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছি, তিনি বলেছেন : "বরং তোমরা নিজেরাই নিজেদের দ্বারা সৎকাজে আদিষ্ট হও এবং অসৎকাজ হতে নিজেরাই বিরত থাক। যখন দেখবে কৃপণতার অনুসরণ করা হচ্ছে, প্রবৃত্তির অনুসরণ চলছে, পাপ কাজ চলছে, 'আলিমগণ স্বীয় রায় নিয়েই খুশী তখন তোমরা নিজেদের ভাবনা নিজেরাই ভাববে...।"

📘 সৎকাজ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ > 📄 শাসকদের অত্যাচারে ধৈর্য ধারণ

📄 শাসকদের অত্যাচারে ধৈর্য ধারণ


এজন্যই নাবী শাসকদের অত্যাচারে ধৈর্য ধারণের আদেশ দিয়েছেন এবং তারা যতদিন পর্যন্ত নামায যথারীতি প্রতিষ্ঠা করতে থাকবে, ততদিন তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে নিষেধ করেছেন। এ মর্মে নাবী ইরশাদ করেছেন: “তোমরা তাদের (শাসকদের) প্রাপ্য তাদের কাছে পৌঁছিয়ে দাও এবং তোমাদের প্রাপ্য আল্লাহ্র কাছে চাও।” এ বিষয়ে অন্যত্র বিশদ আলোচনা করেছি।

এ কারনেই আহলে সুন্নাহ্ ওয়াল জামা'আহ্-এর মূল নীতিসমূহের অন্তর্গত:
১. দলবদ্ধ জীবন-যাপন করা।
২. শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ না হওয়া।
৩. ফিত্নার সময়ে যুদ্ধ পরিহার করা।

অথচ প্রবৃত্তির আজ্ঞাবহ যারা। যেমন- মুতাযিলারা, তারা শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাকে তাদের ধর্মের মূলনীতি বলে গণ্য করে থাকে। ওদিকে মুতাযিলারা তাদের ধর্মের মূলনীতি নির্ধারণ করে নিয়েছে নিম্নের পাঁচটি বিষয়কে: এমন (তাওহীদ) যা দ্বারা আল্লাহ্র গুণরাজিকে বাদ দেয়া হয়েছে; এমন (ন্যায়বিচার) যা দ্বারা তাব্দীরকে মিথ্যা বানানো হয়েছে; এমন (স্থান) যা দু'স্থানের মধ্যবর্তী; এমনতর (ধমকিকে) কার্যকর করা; এবং সৎকাজ আদেশ দান করাও অসৎকাজ হতে নিষেধ করা। এমনভাবে, যাতে শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা পর্যন্ত রয়েছে। এ সম্পর্কে অন্যত্র আলোকপাত করেছি।

টিকাঃ
১. অর্থাৎ- অত্যাচারী শাসকদের সময় নিজেদের দা'ওয়াতই শাসকদের প্রাপ্য আর শাসকদের পক্ষ হতে দা'ওয়াত গ্রহণ তোমাদের প্রাপ্য, এটা আল্লাহ্র কাছে চেয়ে নিতে হবে। উল্লেখিত হাদীসখানা বুখারী ও মুসলিম; ইবনে হাম্বল ১/৪৩২; আত্-তিরমিযী: ৪/৪৮২; কিতাবুল ফিতান: হা: নং- ২১৭ দ্রষ্টব্য।

📘 সৎকাজ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ > 📄 মঙ্গল আনার চেয়ে অমঙ্গল দূর করাই শ্রেয়

📄 মঙ্গল আনার চেয়ে অমঙ্গল দূর করাই শ্রেয়


এটার মূল প্রতিপাদ্য বিষয়টি হচ্ছে, যা সাধারণ নিয়মনীতির আওতায় আসে। যখন ভাল ও মন্দ এবং পাপ ও পুণ্যের মাঝে দ্বন্দ্ব বাঁধতে বা একত্রে পাশাপাশি জমা হয়ে ভীড় সৃষ্টি করবে, তখন উত্তম বিষয়টিকেই প্রাধান্য দিতে হবে। কেননা নিশ্চয়ই আদেশ ও নিষেধ যদিও মঙ্গল বিধান করা ও অমঙ্গল দূর করাকে সংশ্লিষ্ট করে থাকে, তবুও পরস্পর দ্বন্দ্বের সময় বিপরীত বিষয়টির প্রতিই দৃষ্টি ফেলতে হবে। যদি দেখা যায় যে, একটি বিষয়ে (স্থান-কাল-পাত্র ভেদে) আদেশ দান করলে তথায় মঙ্গল বিধান করা সম্ভব হবে না, সেটা বরং অমঙ্গল ডেকে আনবে, এমতাবস্থায় ঐ বিষয়টি সম্পর্কে আদেশ দেয়ার কোনই হুকুম থাকবে না, বরং আদেশ দেয়াই হবে নিষিদ্ধ। কেননা তাতে মঙ্গলের চাইতে অমঙ্গলই বেশি।

আসলে কল্যাণ-অকল্যাণের পরিমাপ নির্ধারণ করা হবে শারী'আতের নিক্তিতে। মানুষ যখন কুরআন ও হাদীসের সরাসরি বর্ণনা মেনে চলতে সক্ষম হবে, তখন তারা সেটা হতে আর দূরে সরে যাবে না। পক্ষান্তরে যদি তা না পারে, তাহলে তারা সমরূপ বিষয় ও দৃষ্টান্তবলী জানার জন্য নিজস্ব রায় বা দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে ইজতিহাদ করতে শুরু করবে। কুরআন ও হাদীসের মূল বক্তব্য তা ঐরূপ মানুষের খুব অল্পই প্রয়োজন বোধ করে থাকে, যারা ঐ বক্তব্যসমূহ ও সেটার অন্তর্নিহিত আহ্কামের প্রতি সূক্ষ্ম ইঙ্গিতাদি সম্বন্ধে পুরাপুরি ওয়াকিফহাল বা জ্ঞাত।

এটার উপর ভিত্তি করেই বলা যায় যে, যখন কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পাপ ও পুণ্যকে একত্রিত করে ফেলবে এমনভাবে যে, ঐ পরস্পর বিরোধী দু'প্রকারের কাজের মধ্যে কোনরূপ পার্থক্য করছে না। করছে তো পাপ পুণ্যের উভয়বিধ কাজ একত্রে করে যাচ্ছে, আবার ছাড়ছে তো উভয়বিধ কাজকে একত্রেই ছাড়ছে, তবে তাদেরকে সৎকাজের আদেশ দেয়া তো বৈধ হবে না, আবার অসৎকাজ হতে নিষেধ করাও বৈধ হবে না, বরং দেখতে হবে যে, যদি সৎকাজ বেশি হয় তাহলে সৎকাজেরই আদেশ দেয়া হবে। আর যদি এমনই হয় যে, সেটার চেয়ে নিম্নমানের (অসৎ) কাজকে জরুরী মনে করে এবং অসৎ হতে নিষেধও করে না, তাহলে সেটার চেয়েও বড় (উত্তম) কাজ বাদ পড়ে যাবার কারণ হবে। তখন বরং ঐ কাজ হতে নিষেধ করা হবে আল্লাহ তা'আলা ও তাঁর রাসূল-এর আনুগত্য নিঃশেষ হয়ে যাওয়া ও সৎকাজ বিলীন হয়ে যাবার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

এহেন পরিস্থিতিতে যদি অসৎকাজই প্রবল হয়ে থাকে যা হতে নিষেধ করা হয়েছে এবং যদি সেটার চাইতে কম মানের (সৎ) কাজ বিলীন হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং ঐ সৎকাজের জন্য আদেশ করা উক্ত অতিরিক্ত অসৎকাজের কারণ হয়ে উঠে, তাহলে সেটা হবে অসৎকাজে আদেশ দেয়া ও আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল-এর অবাধ্যতায় সচেষ্ট হওয়া।

অথচ যদি সৎকাজ ও অসৎকাজ সমান সমান হয় এবং উভয়টি ওৎপ্রোতভাবে জড়িত, অবস্থা এমন যে, তাদের কোনটিরই আদেশও দেয়া হয়নি আবার নিষেধও করা হয় না। সুতরাং এবার আদেশও করা চলে, আবার নিষেধও করা চলে। অন্যবার কিছুই চলে না। কারণ এখানে সৎকাজ অসৎকাজ অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত এবং ঐগুলো প্রাত্যহিক কিছু বিশেষ বিষয়ের মধ্যে বিদ্যমান পাওয়া যায়।

অথচ যদি প্রকারের দিকের কথা তুলি, তবে সাধারণভাবে সৎকাজেরই আদেশ দেয়া হবে এবং অসৎকাজ হতে মূলতঃ সাধারণভাবে নিষেধই করা হবে। অসৎকাজের কোন একজন কর্মীকে অথবা একটি দলকে সেটার সৎকাজের জন্য আদেশ দেয়া হবে এবং সেটার অসৎকাজ হতে নিষেধও করতে হবে। সেটার ভাল কাজ-কর্মের প্রশংসাও যেমন করা হবে, তার খারাপ কাজ-কারবারের জন্য তেমনই যথাযথ নিন্দাও করা হবে, যেন কোন সৎকাজে আদেশ করার কারণে তার চাইতেও কোন ভাল কাজে খোয়া না যায়। অথবা ঐ অসৎকাজের চাইতেও জঘন্য ধরনের কোন অশ্লীল কাজ সংঘটিত হবার কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। সাথে সাথে ঐ উত্তম কাজের আদেশ দানের ফলে, সেটা হতে অতি উত্তম কাজ বা বিষয় যেন বাদ পড়ে না যায়।

নাবী যে 'আবদুল্লাহ বিন উবাই বিন সালুল প্রমুখ (কপট ও দুষ্কর্মের পাণ্ডাদের নেতা)-কে তাদের দলবল ও সাঙ্গ-পাঙ্গ থাকার কারণে শাস্তি না দিয়ে বরং নীরব ভূমিকা অবলম্বন করেছিলেন তাও এ অধ্যায়েরই অন্তর্গত। কেননা 'আবদুল্লাহ বিন উবাইকে তার দুষ্কর্মের উপযুক্ত শাস্তি দিয়ে ঐ অপকর্ম তখনই উচ্ছেদ করার অর্থই ছিল তার গোত্রীয় লোকদের গোস্বা ও প্রতিশোধ গ্রহণের উগ্রতা এবং রাসূলুল্লাহ তাঁর সাথীদেরকে হত্যা করছে শুনে লোকজনের দূরে সরে পড়ার সামনে, তদপেক্ষা বেশী বড় সৎকাজের পথই বন্ধ করে দেয়া।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00