📘 সচ্চরিত্রতা ও চারিত্রিক গুণাবলী > 📄 আল্লাহর সাথে সচ্চরিত্রতা

📄 আল্লাহর সাথে সচ্চরিত্রতা


মানুষের প্রতি সম্মান ও ভক্তি প্রকাশ করা চরিত্রবান মানুষের গুণ। তাহলে মহান প্রতিপালককে বিশ্বাস করা, তাঁকে ভয় করা, তাঁর নবী ও কিতাবকে বিশ্বাস করা মানুষের সচ্চরিত্রতার লক্ষণ অবশ্যই। আল্লাহর সাথে সচ্চরিত্রতার বহিঃপ্রকাশ প্রধানতঃ কয়েকভাবে হয়ে থাকে:-
১. তাঁর দেওয়া সকল খবরে বিশ্বাস রাখা, তাঁর খবরে কোন প্রকার সন্দেহ পোষণ না করা। যেহেতু মহান সৃষ্টিকর্তা অপেক্ষা বেশি সত্যবাদী আর কে হতে পারে? তিনি বলেছেন, (وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ حَدِيثًا - وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ قِيلاً) "কথায় আল্লাহ অপেক্ষা অধিক সত্যবাদী কে আছে?”৬৩৫
২. তাঁর সকল আদেশ-নিষেধকে নির্দ্বিধায় পালন করা। সুতরাং কেউ যদি তাঁর কোন আদেশ প্রত্যাখ্যান বা উল্লংঘন করে অথবা কোন নিষেধ অবজ্ঞা বা উপেক্ষা করে, সে চরিত্রবান হতে পারে না।
৩. তাঁর বিধির বিধানকে সন্তুষ্ট চিত্তে ও ধৈর্যের সাথে বরণ করা। চরিত্রবানের কাজ হল, সে তাঁর ভাগ্য-বিধানের কাছে আত্মসমর্পণ করবে, তাতে কোন প্রকার অভিযোগ আনবে না। তাতে ধৈর্যধারণ করবে, অসন্তোষ বা ক্ষোভ প্রকাশ করবে না। তাতে কোন মঙ্গল আছে জানবে, হা-হুতাশ করবে না ও নিরাশ হবে না।
নিজ ভাগ ও ভাগ্যের ব্যাপারে তাঁর চূড়ান্ত ফায়সালাকে মাথা পেতে মেনে নেওয়া হল তাঁর সাথে সচ্চরিত্রতা প্রদর্শন করার অন্তর্ভুক্ত।
নিশ্চয় সে চরিত্রবান নয়, যে মহান প্রতিপালকের অবাধ্যাচরণে লিপ্ত থাকে। যাঁর খায়-পরে, তাঁর অবাধ্যাচরণ করা কি সুচরিত্রবানের লক্ষণ হতে পারে। যে অন্নদাতার কৃতঘ্নতা করে, তাঁর আনুগত্যে অহংকার প্রদর্শন করে এবং নিজ খেয়ালখুশী অনুযায়ী চলে সে কি চরিত্রবান হতে পারে? আদৌ না।
মহান আল্লাহ বলেছেন, (الَهُكُمْ إِلَهُ وَاحِدٌ فَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالآخِرَةِ قُلُوبُهُم مُّنكِرَةٌ وَهُم مُّسْتَكْبِرُونَ) "তোমাদের উপাস্য একক উপাস্য; সুতরাং যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর সত্য বিমুখ এবং তারা অহংকারী।"৬৩৬
তাহলে তারা কি চরিত্রবান হতে পারে? মোটেই না।

টিকাঃ
৬৩৫. সূরা নিসা: ৮৭, ১২২
৬৩৬. সূরা নাহল: ২২

মানুষের প্রতি সম্মান ও ভক্তি প্রকাশ করা চরিত্রবান মানুষের গুণ। তাহলে মহান প্রতিপালককে বিশ্বাস করা, তাঁকে ভয় করা, তাঁর নবী ও কিতাবকে বিশ্বাস করা মানুষের সচ্চরিত্রতার লক্ষণ অবশ্যই। আল্লাহর সাথে সচ্চরিত্রতার বহিঃপ্রকাশ প্রধানতঃ কয়েকভাবে হয়ে থাকে:-
১. তাঁর দেওয়া সকল খবরে বিশ্বাস রাখা, তাঁর খবরে কোন প্রকার সন্দেহ পোষণ না করা। যেহেতু মহান সৃষ্টিকর্তা অপেক্ষা বেশি সত্যবাদী আর কে হতে পারে? তিনি বলেছেন, (وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ حَدِيثًا - وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ قِيلاً) "কথায় আল্লাহ অপেক্ষা অধিক সত্যবাদী কে আছে?”৬৩৫
২. তাঁর সকল আদেশ-নিষেধকে নির্দ্বিধায় পালন করা। সুতরাং কেউ যদি তাঁর কোন আদেশ প্রত্যাখ্যান বা উল্লংঘন করে অথবা কোন নিষেধ অবজ্ঞা বা উপেক্ষা করে, সে চরিত্রবান হতে পারে না।
৩. তাঁর বিধির বিধানকে সন্তুষ্ট চিত্তে ও ধৈর্যের সাথে বরণ করা। চরিত্রবানের কাজ হল, সে তাঁর ভাগ্য-বিধানের কাছে আত্মসমর্পণ করবে, তাতে কোন প্রকার অভিযোগ আনবে না। তাতে ধৈর্যধারণ করবে, অসন্তোষ বা ক্ষোভ প্রকাশ করবে না। তাতে কোন মঙ্গল আছে জানবে, হা-হুতাশ করবে না ও নিরাশ হবে না।
নিজ ভাগ ও ভাগ্যের ব্যাপারে তাঁর চূড়ান্ত ফায়সালাকে মাথা পেতে মেনে নেওয়া হল তাঁর সাথে সচ্চরিত্রতা প্রদর্শন করার অন্তর্ভুক্ত।
নিশ্চয় সে চরিত্রবান নয়, যে মহান প্রতিপালকের অবাধ্যাচরণে লিপ্ত থাকে। যাঁর খায়-পরে, তাঁর অবাধ্যাচরণ করা কি সুচরিত্রবানের লক্ষণ হতে পারে। যে অন্নদাতার কৃতঘ্নতা করে, তাঁর আনুগত্যে অহংকার প্রদর্শন করে এবং নিজ খেয়ালখুশী অনুযায়ী চলে সে কি চরিত্রবান হতে পারে? আদৌ না।
মহান আল্লাহ বলেছেন, (الَهُكُمْ إِلَهُ وَاحِدٌ فَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالآخِرَةِ قُلُوبُهُم مُّنكِرَةٌ وَهُم مُّسْتَكْبِرُونَ) "তোমাদের উপাস্য একক উপাস্য; সুতরাং যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর সত্য বিমুখ এবং তারা অহংকারী।"৬৩৬
তাহলে তারা কি চরিত্রবান হতে পারে? মোটেই না।

টিকাঃ
৬৩৫. সূরা নিসা: ৮৭, ১২২
৬৩৬. সূরা নাহল: ২২

📘 সচ্চরিত্রতা ও চারিত্রিক গুণাবলী > 📄 পিতামাতার সাথে সদাচরণ

📄 পিতামাতার সাথে সদাচরণ


চরিত্রবান নারী-পুরুষের একটি লক্ষণ হল, পিতামাতার সাথে সদাচরণ ও সদ্ব্যবহার করা। আর এর নির্দেশ দিয়েছেন খোদ মহান প্রতিপালক। তিনি বলেছেন, (وَوَصَّيْنَا الْأَنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حُسْناً) অর্থাৎ, আমি মানুষকে তার মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছি। ৬৩৭
তিনি আরো বলেন, (وَقَضَى رَبُّكَ أَلا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلاهُمَا فَلا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلاً كَرِيماً وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيراً )
অর্থাৎ, তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারো উপাসনা করবে না এবং পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে; তাদের এক জন অথবা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদেরকে বিরক্তিসূচক কিছু বলো না এবং তাদেরকে ভর্ৎসনা করো না; বরং তাদের সাথে বলো সম্মানসূচক নম্র কথা। অনুকম্পায় তাদের প্রতি বিনয়াবনত থেকো এবং বলো, 'হে আমার প্রতিপালক! তাদের উভয়ের প্রতি দয়া কর; যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছে।'৬৩৮
উক্ত নির্দেশ-বাণী থেকে স্পষ্ট হয়, পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করতে হবে। তাদেরকে বিরক্তিসূচক কথা বলা যাবে না। কোন ভুল ক'রে ফেললেও কোন প্রকার ভর্ৎসনা করা যাবে না। তাদের সাথে ভদ্রভাবে ও নম্রসুরে কথা বলতে হবে। তাদের মুখের উপর মুখ দেওয়া যাবে না। ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও ভক্তিতে তাদের নিকট বিনয়াবনত থাকতে হবে। তাদের জন্য দুআ করতে হবে। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ হতে হবে। তাদের নিমকহারামি করা যাবে না। মহান আল্লাহ বলেছেন,
﴿ وَوَصَّيْنَا الْأَنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ ﴾
অর্থাৎ, আমি তো মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। জননী কষ্টের পর কষ্ট বরণ ক'রে সন্তানকে গর্ভে ধারণ করে এবং তার স্তন্যপান ছাড়াতে দু'বছর অতিবাহিত হয়। সুতরাং তুমি আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।৬৩৯
পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার চরিত্রবানের সচ্চরিত্রতা কেন হবে না? তা যে মহান আল্লাহর ইবাদতের পর সর্বশ্রেষ্ঠ আমল। এমনকি নফল জিহাদের চাইতেও শ্রেষ্ঠ কর্ম।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন, আমি নবী কে জিজ্ঞেস করলাম, 'কোন আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়?' তিনি বললেন, "যথা সময়ে স্বলাত আদায় করা।” আমি বললাম, 'তারপর কোন্টি?' তিনি বললেন, "পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করা।” আমি বললাম, 'তারপর কোন্টি?' তিনি বললেন, "আল্লাহর পথে জিহাদ করা। "৬৪০
পিতামাতার সাথে দুর্ব্যবহার দুশ্চরিত্র সন্তানের অসদাচরণ কেন হবে না? তা যে মহান আল্লাহর ইবাদতে শির্ক করার পর সর্বনিকৃষ্ট আমল ও মহাপাপ। এমনকি প্রাণ হত্যার চাইতেও নিকৃষ্ট কর্ম ও মহা অপরাধ। মহানবী বলেছেন,
الكبَائِرُ : الإِشْرَاكُ بِاللهِ ، وَعُقُوقُ الوَالِدَيْنِ ، وَقَتْلُ النَّفْسِ ، وَاليَمِينُ الغَمُوسُ
"কাবীরাহ গুনাহসমূহ হচ্ছে, আল্লাহর সাথে শরীক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, প্রাণ হত্যা করা এবং মিথ্যা কসম খাওয়া।”৬৪১
আর সেই গুনাহ ও অপরাধের শাস্তি চরিত্রহীন সন্তান কিয়ামতের পূর্বে দুনিয়াতেও পেতে পারে। যেহেতু মহানবী বলেছেন,
بَابَانِ مُعَجَّلانِ عُقُوبَتُهُما في الدُّنْيا البَغْيُ والعُقُوقُ
"দুটি (পাপ) দরজা এমন রয়েছে, যার শাস্তি দুনিয়াতেই ত্বরান্বিত করা হয়; বিদ্রোহ ও পিতা-মাতার অবাধ্যাচরণ।"৬৪২
হ্যাঁ, দুনিয়াতেই অবাধ্য সন্তানের সন্তানরা তার অবাধ্যতা করবে। যেমন কর্ম, তেমন ফললাভ করবে সে নিজের শেষ জীবনেও।
এক ব্যক্তির বাপ ছিল বৃদ্ধাশ্রমে। মৃত্যু-শয্যায় সে শেষ বারের মতো দেখার জন্য ছেলেকে ডেকে পাঠাল। ছেলে বাপের শেষ ইচ্ছা কিছু আছে কি না জিজ্ঞাসা করলে সে বলল, 'আমার রুমের এই ফ্যানটা খারাপ হয়ে গেছে বাবা, ঠিক ক'রে দিয়ো।' ছেলে বলল, 'তুমি তো চলেই যাবে, তবে আবার ফ্যান ঠিক ক'রে কী হবে?' বাপ বলল, 'কারণ তোমাকেও এসে থাকতে হবে তো, তাই বলে চললাম!'
আর পরকালে পিতামাতার অবাধ্য সন্তান বেহেস্তে যাবে না। যেহেতু মহানবী বলেছেন,
وثَلاثَةٌ لا يَدْخُلُونَ الجَنَّةَ العاقُ لِوَالِدَيْهِ والمُدْمِنُ الْخَمْرَ والمَنَّانُ بِمَا أَعْطَى
"তিন ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না; পিতা-মাতার নাফরমান ছেলে, মদপানে অভ্যাসী মাতাল এবং দান করার পর যে বলে ও গর্ব করে বেড়ায় এমন খোঁটাদানকারী ব্যক্তি। "৬৪৩
বড় হতভাগা সে সন্তান, যে জান্নাত কাছে পেয়েও প্রবেশ করতে পারল না। জান্নাতের দরজা চিনতে ভুল করল অথবা উঠতি যৌবনের উন্মাদনা অথবা অন্য কিছু বা কেউ তাকে জান্নাতের দরজা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে গেল। মহানবী বলেছেন,
رَغِمَ أَنفُ ، ثُمَّ رَغِمَ أنْفُ ، ثُمَّ رَغِمَ أنْفُ مَنْ أَدْرَكَ أَبَوِيهِ عِنْدَ الكِبَرِ ، أَحَدُهُما أَوْ كِلِيهِمَا فَلَمْ يَدْخُلِ الجَنَّةَ
"তার নাক ধূলিধূসরিত হোক, অতঃপর তার নাক ধূলিধূসরিত হোক, অতঃপর তার নাক ধূলিধূসরিত হোক, যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে বৃদ্ধ অবস্থায় পেল; একজনকে অথবা দু'জনকেই। অতঃপর সে (তাদের খিদমত ক'রে) জান্নাত যেতে পারল না।"
وَمَنْ أَدْرَكَ وَالِدَيْهِ أَوْ أَحَدَهُمَا فَدَخَلَ النَّارَ فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ
'যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে অথবা তাদের একজনকে জীবিতাবস্থায় পেল অথচ তাকে দোযখে যেতে হবে, আল্লাহ তাকেও দূর করুন। '৬৪৪
হ্যাঁ, পিতামাতার বাধ্য থাকলে তবেই জান্নাত লাভ হবে সন্তানের। যদিও তাদের আনুগত্য করতে গিয়ে নিজের স্বার্থে ঘা পড়ে, সম্পদের ক্ষতি হয়, বন্ধুত্বে বাধা পড়ে, স্ত্রীর সুখ-সন্তুষ্টির ক্ষতি হয়।
মুআয বিন জাবাল বলেন, একদা এক ব্যক্তি নবী এর নিকট এসে বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন আমল শিখিয়ে দেন; যা করলে আমি জান্নাত প্রবেশ করতে পারব।' তিনি বললেন,
لا تُشْرِكْ بِاللهِ شَيْئًا وَإِنْ عُذِّبْتَ وَحُرِّقْتَ، وَأَطِعْ وَالِدَيْكَ وَإِنْ أَخْرَجَاكَ مِنْ مَالِكَ وَمِنْ كُلِّ شَيْءٍ هُوَ لَكَ، لَا تَتْرُكِ الصَّلَاةَ مُتَعَمِّدًا فَإِنَّهُ مَنْ تَرَكَ الصَّلَاةَ مُتَعَمِّدًا بَرِئَتْ مِنْهُ ذِمَّةُ اللَّهِ،
"তুমি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক (অংশী) করো না; যদিও তোমাকে সে ব্যাপারে শাস্তি দেওয়া হয় এবং পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়। তোমার মাতা-পিতার আনুগত্য কর; যদিও তারা তোমাকে তোমার ধন-সম্পদ এবং সমস্ত কিছু থেকে দূর করতে চায়। আর ইচ্ছাকৃত স্বলাত ত্যাগ করো না; কারণ, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত স্বলাত ত্যাগ করে তার উপর থেকে আল্লাহর দায়িত্ব উঠে যায়। "৬৪৫
পিতামাতার উপরে স্ত্রীকে প্রাধান্য দেওয়া যাবে না। সেই কঠিন মুহূর্তের সময় চরিত্রবান ছেলেকে ঈমানী পরীক্ষা দিয়ে পিতামাতার সাথে সদাচরণ করতে হবে এবং স্ত্রীর সাথেও ইনসাফ করতে হবে। স্ত্রী হকের প্রতিকূলে হলে তাকে প্রয়োজনে বর্জনও করতে হবে।
এক ব্যক্তি আবু দারদা এর নিকট এসে বলল, 'আমার এক স্ত্রী আছে। আমার মা তাকে ত্বালাক দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন।' আবু দার্দা বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ কে বলতে শুনেছি,
الوالد أوسط أبواب الجنة ، فإن شئت ، فأضع ذلك الباب ، أو احفظه
"পিতা-মাতা জান্নাতের দুয়ারসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দুয়ার। সুতরাং তুমি যদি চাও, তাহলে এ দুয়ারকে নষ্ট কর অথবা তার রক্ষণাবেক্ষণ কর।”৬৪৬
তবে আনুগত্যের ক্ষেত্রে মহানবী এর এ নির্দেশ অবশ্যই মনে রাখতে হবে,
لا طاعة لمخلوق في معصية الخالق
"স্রষ্টার অবাধ্যতা করে কোন সৃষ্টির আনুগত্য নেই।”৬৪৭
সুতরাং ইনসাফে পিতামাতার দোষ থাকলে অবশ্যই স্ত্রীকে বর্জন করা যাবে না। আর তখনই সন্তানকে লাঠি মাঝখানে ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। নচেৎ পিতামাতা কষ্ট পেলে তারা যদি সন্তানের উপর বদ্দুআ করে, তাহলে জেনে রাখা ভালো যে, তা অবশ্যই ফলবে। যেহেতু রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
« ثلاث دعوات مستجابات لا شك فيهنَّ دعوة الوالد ودعوة المسافر ودعوة المظلوم »
"তিন জনের দুআ সন্দেহাতীতভাবে গৃহীত হয়: (১) নির্যাতিত ব্যক্তির দুআ, (২) মুসাফিরের দুআ এবং (৩) ছেলের জন্য মাতা-পিতার (দুআ বা) বদ্দুআ।"৬৪৮
কেন নয়? পিতামাতা সন্তানের প্রতি সন্তুষ্ট থাকলে যে মহান প্রতিপালকও তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন। আর তারা অসন্তুষ্ট থাকলে তিনিও অসন্তুষ্ট থাকেন। মহানবী বলেছেন,
رضى الرب تبارك وتعالى في رضى الوالد ، وسخط الرب في سخط الوالد
“পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে রয়েছে আল্লাহ তাবারাকা অতাআলার সন্তুষ্টি, আর তাদের অসন্তুষ্টিতে রয়েছে তাঁর অসন্তুষ্টি।” ৬৪৯
অবশ্য আব্বার তুলনায় আম্মার মর্যাদা বেশি সন্তানের কাছে। আম্মা যে সন্তান পালনে বেশি কষ্ট করে। আম্মাই সন্তানের প্রতি বেশি মায়া করে। তাই আব্বার তুলনায় আম্মার রয়েছে ৩ গুণ বেশি মর্যাদা।
একটি লোক রাসূলুল্লাহ এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, 'হে আল্লাহর রসূল! আমার কাছ থেকে সদ্ব্যবহার পাওয়ার বেশী হকদার কে?' তিনি বললেন, "তোমার মা।” সে বলল, 'তারপর কে?' তিনি বললেন, "তোমার মা।” সে বলল, 'তারপর কে?' তিনি বললেন, "তোমার মা।” সে বলল, 'তারপর কে?' তিনি বললেন, "তোমার বাপ। "৬৫০
ইসলাম রক্ষার জন্য জিহাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। কিন্তু তা নফল হলে তার তুলনায় পিতামাতার সেবা হল বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মুআবিয়া বিন জাহেমাহ সুলামী বলেন, একদা জাহেমাহ নবী এর নিকট এসে বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! আমি জিহাদ করব মনস্থ করেছি, তাই আপনার নিকট পরামর্শ নিতে এসেছি।' এ কথা শুনে তিনি বললেন, "তোমার মা আছে কি?" জাহেমাহ বললেন, 'হ্যাঁ'। তিনি বললেন,
فَالْزَمُهَا فَإِنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ رِجْلَيْهَا
"তাহলে তুমি তার খিদমতে অবিচল থাক। কারণ, তার পদতলে তোমার জান্নাত রয়েছে।"৬৫১
মা-বাপ কাফের হলে দ্বীনের ব্যাপারে তাদের আনুগত্য করা যাবে না। কিন্তু তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করতে হবে। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَإِن جَاهَدَاكَ عَلَى أَن تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ)
"তোমার পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার অংশী করতে পীড়াপীড়ি করে, যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তাহলে তুমি তাদের কথা মান্য করো না, তবে পৃথিবীতে তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে বসবাস কর এবং যে ব্যক্তি আমার অভিমুখী হয়েছে তার পথ অবলম্বন কর, অতঃপর আমারই নিকট তোমাদের প্রত্যাবর্তন এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে অবহিত করব।”৬৫২
আসমা বিন্তে আবূ বাক্ সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী এর যুগে আমার অমুসলিম মা আমার কাছে এল। আমি নবী কে জিজ্ঞেস করলাম; বললাম, 'আমার মা (ইসলাম) অপছন্দ করা অবস্থায় (আমার সম্পদের লোভ রেখে) আমার নিকট এসেছে, আমি তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখব কি?' তিনি বললেন, "হ্যাঁ, তুমি তোমার মায়ের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখ।"৬৫৩
বাপ-মায়ের মাঝে কোন বিবাদে কোন এক পক্ষের কথা শুনে তার পক্ষ অবলম্বন করা এবং অপর পক্ষকে দোষারোপ করা উচিত নয় সন্তানের। যেহেতু বিবাদের কারণ এমন গোপন হতে পারে, যা সন্তানের কাছে প্রকাশ পাওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। আর সেই ক্ষেত্রে অন্য পক্ষকে কটু কথা বলা অথবা তার গীবত করা অথবা উভয়ের মাঝে চুগলী করা বৈধ নয়।
বর্তমানের ছেলেমেয়েরা সরাসরি মা-বাপকে গালি দেয়। সে যুগে দিত না। আব্দুল্লাহ ইবনে আম্র ইবনে আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ বললেন, "কাবীরাহ গুনাহসমূহের একটি হল আপন পিতা-মাতাকে গালি দেওয়া।" জিজ্ঞেস করা হল, 'হে আল্লাহর রসূল! আপন পিতা-মাতাকে কি কোন ব্যক্তি গালি দেয়?' তিনি বললেন,
نَعَمْ ، يَسُبُّ أَبَا الرَّجُلِ ، فَيَسُبُّ أَبَاهُ ، وَيَسُبُّ أُمَّهُ ، فَيَسُبُّ أُمَّهُ
"হ্যাঁ, সে লোকের পিতাকে গালি-গালাজ করে, তখন সেও তার পিতাকে গালি-গালাজ ক'রে থাকে এবং সে অন্যের মা-কে গালি দেয়, সুতরাং সেও তার মা-কে গালি দেয়। "৬৫৪
সুতরাং চরিত্রবান সন্তান পিতামাতাকে সরাসরি গালি তো দেয়ই না, পরন্তু অপরের পিতামাতাকে গালাগালি ক'রে তাদেরকে গালি খাওয়ায় না।
অনেক সময় তরবিয়ত-বিরোধী কাজ করে ছেলে-মেয়েরা। ফলে লোকেরা তা দেখে তাদের পিতামাতাকে গালি দেয়। সে খেয়ালও করা উচিত চরিত্রবান ছেলে-মেয়েদের।
পিতামাতার ইন্তিকালের পর তাঁদের আত্মীয়-বন্ধুদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখাও চরিত্রবান নেক সন্তানের কর্তব্য। এই জন্য সৎ-মা বা সৎ-বাপকে ভালোবাসা এবং তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখাও চরিত্রবানের সুন্দর আচরণ। মহানবী বলেছেন,
إِنَّ أَبَرَّ البِرِّ أَنْ يَصِلَ الرَّجُلُ وُدَّ أَبِيهِ
"পিতার মৃত্যুর পর তার বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা সবচেয়ে বড় নেকীর কাজ।"৬৫৫
তাঁদের গত হওয়ার পর তাঁদের নামে সদকা করা চরিত্রবান সুসন্তানের কাজ। যেমন সাহাবী সা'দ বিন উবাদাহ তাঁর মিখরাফের বাগান নিজ মায়ের নামে সদকাহ করেছিলেন।৬৫৬
চরিত্রবান ছেলের আচরণ এ হতে পারে না যে, সে তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভালো বাড়িতে সুখে বাস করবে এবং তার বৃদ্ধ পিতামাতাকে অচল বাড়িতে রাখবে অথবা বৃদ্ধ-খোঁয়াড়ে রেখে আসবে।
সে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুখে থাকবে এবং জন্মদাতা ও পালনকর্তা পিতামাতা শেষ বয়সেও রুযীর সন্ধানে পরিশ্রম ক'রে বেড়াবে অথবা ভিক্ষা ক'রে বেড়াবে।
ইমাম ইবনে হায্য (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, 'পিতামাতার এর থেকে বড় নাফরমানি আর কী হতে পারে যে, ছেলে ধনী হবে, আর তার বাপ, দাদা বা নানাকে লোকের বাথরুম পরিষ্কার করতে অথবা পশু-পালন করতে অথবা রাস্তা ঝাড়ু দিতে অথবা কাপড় ধুতে বাধ্য করবে। তার মা, দাদী বা নানীকে লোকের ঘরে পাট করতে অথবা রাস্তায় পানি (বা অন্য কিছু) বিক্রি করতে বাধ্য করবে।
এ কাজে নিশ্চয় সে সন্তান মহান আল্লাহর এই নির্দেশের বিরোধী, যাতে বলা হয়েছে, "অনুকম্পায় তাদের প্রতি বিনয়াবনত থাকবে।"৬৫৭
মহান আল্লাহর নির্দেশ হল, সন্তান মা-বাপের বাধ্য ও অনুগত থাকবে। আর সে নির্দেশ পালন করলে তবেই সে চরিত্রবান সন্তান হবে। ছেলেদের চাইতে মেয়েরা অবশ্যই দুর্বল, তাই তারাই বেশী মা-বাপের বাধ্য থাকে। বাপের অনুমতি ছাড়া তাদের বিবাহ হয় না। কিন্তু সেই মেয়েদের ব্যাপারে কী বলবেন, যারা পালনকর্তা মা-বাপের বুকে লাথি মেরে এবং গালে চুন-কালি দিয়ে চোরের মতো পালিয়ে গিয়ে রসিক নাগরের সাথে ব্যভিচারের ঘর বাঁধে?

টিকাঃ
৬৩৭. সূরা আনকাবূত ৮
৬৩৮. সূরা বানী ইস্রাঈল ২৩-২৪
৬৩৯. সূরা লুকমান ১৪
৬৪০. বুখারী ৫২৭, মুসলিম ২৬২, তিরমিযী, নাসাঈ
৬৪১. বুখারী ৬৬৭৫, ৬৮৭০
৬৪২. হাকেম ৭৩৫০, সহীহুল জামে' ২৮১০
৬৪৩. আহমাদ ৬১৮০, নাসাঈর কুবরা ২৩৪৩, হাকেম ২৫৬২, সহীহুল জামে' ৩০৭১
৬৪৪. ইবনে হিব্বান ৯০৭, সহীহ তারগীব ৯৯৬
৬৪৫. ত্বাবারানীর আউসাত্ব ৭৯৫৬, সহীহ তারগীব ৫৬৯
৬৪৬. তিরমিযী ১৯০০
৬৪৭. তাবারানী ১৪৭৯৫, আহমাদ ২০৬৫৩
৬৪৮. আবু দাউদ ১৫৩৮, তিরমিযী ১৯০৫, ৩৪৪৮, ইবনে মাজাহ ৩৮৬২, সিলসিলাহ সহীহাহ ৫৯৬
৬৪৯. তিরমিযী ১৮৯৯, হাকেম ৭২৪৯, বাযযার ২৩৯৪, ত্বাবারানী, সিলসিলাহ সহীহাহ ৫১৬
৬৫০. বুখারী ৫৯৭১, মুসলিম ৬৬৬৪
৬৫১. আহমাদ ১৫৫৩৮, নাসাঈ ৩১০৪, ইবনে মাজাহ ২৭৮১, বাইহাক্বী ১৮২৮৮, হাকেম ২৫০২
৬৫২. লুকুমান: ১৫
৬৫৩. বুখারী ২৬২০, ৩১৮৩, ৫৯৭৯, মুসলিম ২৩৭১-২৩৭২
৬৫৪. বুখারী ৫৯৭৩, মুসলিম ২৭৩
৬৫৫. মুসলিম ৬৬৭৭-৬৬৭৯
৬৫৬. বুখারী ২৭৫৬নং প্রমুখ
৬৫৭. আল-মুহাল্লা ১০/১০৮

চরিত্রবান নারী-পুরুষের একটি লক্ষণ হল, পিতামাতার সাথে সদাচরণ ও সদ্ব্যবহার করা। আর এর নির্দেশ দিয়েছেন খোদ মহান প্রতিপালক। তিনি বলেছেন, (وَوَصَّيْنَا الْأَنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حُسْناً) অর্থাৎ, আমি মানুষকে তার মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছি। ৬৩৭
তিনি আরো বলেন, (وَقَضَى رَبُّكَ أَلا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلاهُمَا فَلا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلاً كَرِيماً وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيراً )
অর্থাৎ, তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারো উপাসনা করবে না এবং পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে; তাদের এক জন অথবা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদেরকে বিরক্তিসূচক কিছু বলো না এবং তাদেরকে ভর্ৎসনা করো না; বরং তাদের সাথে বলো সম্মানসূচক নম্র কথা। অনুকম্পায় তাদের প্রতি বিনয়াবনত থেকো এবং বলো, 'হে আমার প্রতিপালক! তাদের উভয়ের প্রতি দয়া কর; যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছে।'৬৩৮
উক্ত নির্দেশ-বাণী থেকে স্পষ্ট হয়, পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করতে হবে। তাদেরকে বিরক্তিসূচক কথা বলা যাবে না। কোন ভুল ক'রে ফেললেও কোন প্রকার ভর্ৎসনা করা যাবে না। তাদের সাথে ভদ্রভাবে ও নম্রসুরে কথা বলতে হবে। তাদের মুখের উপর মুখ দেওয়া যাবে না। ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও ভক্তিতে তাদের নিকট বিনয়াবনত থাকতে হবে। তাদের জন্য দুআ করতে হবে। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ হতে হবে। তাদের নিমকহারামি করা যাবে না। মহান আল্লাহ বলেছেন,
﴿ وَوَصَّيْنَا الْأَنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ ﴾
অর্থাৎ, আমি তো মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। জননী কষ্টের পর কষ্ট বরণ ক'রে সন্তানকে গর্ভে ধারণ করে এবং তার স্তন্যপান ছাড়াতে দু'বছর অতিবাহিত হয়। সুতরাং তুমি আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।৬৩৯
পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার চরিত্রবানের সচ্চরিত্রতা কেন হবে না? তা যে মহান আল্লাহর ইবাদতের পর সর্বশ্রেষ্ঠ আমল। এমনকি নফল জিহাদের চাইতেও শ্রেষ্ঠ কর্ম।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন, আমি নবী কে জিজ্ঞেস করলাম, 'কোন আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়?' তিনি বললেন, "যথা সময়ে স্বলাত আদায় করা।” আমি বললাম, 'তারপর কোন্টি?' তিনি বললেন, "পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করা।” আমি বললাম, 'তারপর কোন্টি?' তিনি বললেন, "আল্লাহর পথে জিহাদ করা। "৬৪০
পিতামাতার সাথে দুর্ব্যবহার দুশ্চরিত্র সন্তানের অসদাচরণ কেন হবে না? তা যে মহান আল্লাহর ইবাদতে শির্ক করার পর সর্বনিকৃষ্ট আমল ও মহাপাপ। এমনকি প্রাণ হত্যার চাইতেও নিকৃষ্ট কর্ম ও মহা অপরাধ। মহানবী বলেছেন,
الكبَائِرُ : الإِشْرَاكُ بِاللهِ ، وَعُقُوقُ الوَالِدَيْنِ ، وَقَتْلُ النَّفْسِ ، وَاليَمِينُ الغَمُوسُ
"কাবীরাহ গুনাহসমূহ হচ্ছে, আল্লাহর সাথে শরীক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, প্রাণ হত্যা করা এবং মিথ্যা কসম খাওয়া।”৬৪১
আর সেই গুনাহ ও অপরাধের শাস্তি চরিত্রহীন সন্তান কিয়ামতের পূর্বে দুনিয়াতেও পেতে পারে। যেহেতু মহানবী বলেছেন,
بَابَانِ مُعَجَّلانِ عُقُوبَتُهُما في الدُّنْيا البَغْيُ والعُقُوقُ
"দুটি (পাপ) দরজা এমন রয়েছে, যার শাস্তি দুনিয়াতেই ত্বরান্বিত করা হয়; বিদ্রোহ ও পিতা-মাতার অবাধ্যাচরণ।"৬৪২
হ্যাঁ, দুনিয়াতেই অবাধ্য সন্তানের সন্তানরা তার অবাধ্যতা করবে। যেমন কর্ম, তেমন ফললাভ করবে সে নিজের শেষ জীবনেও।
এক ব্যক্তির বাপ ছিল বৃদ্ধাশ্রমে। মৃত্যু-শয্যায় সে শেষ বারের মতো দেখার জন্য ছেলেকে ডেকে পাঠাল। ছেলে বাপের শেষ ইচ্ছা কিছু আছে কি না জিজ্ঞাসা করলে সে বলল, 'আমার রুমের এই ফ্যানটা খারাপ হয়ে গেছে বাবা, ঠিক ক'রে দিয়ো।' ছেলে বলল, 'তুমি তো চলেই যাবে, তবে আবার ফ্যান ঠিক ক'রে কী হবে?' বাপ বলল, 'কারণ তোমাকেও এসে থাকতে হবে তো, তাই বলে চললাম!'
আর পরকালে পিতামাতার অবাধ্য সন্তান বেহেস্তে যাবে না। যেহেতু মহানবী বলেছেন,
وثَلاثَةٌ لا يَدْخُلُونَ الجَنَّةَ العاقُ لِوَالِدَيْهِ والمُدْمِنُ الْخَمْرَ والمَنَّانُ بِمَا أَعْطَى
"তিন ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না; পিতা-মাতার নাফরমান ছেলে, মদপানে অভ্যাসী মাতাল এবং দান করার পর যে বলে ও গর্ব করে বেড়ায় এমন খোঁটাদানকারী ব্যক্তি। "৬৪৩
বড় হতভাগা সে সন্তান, যে জান্নাত কাছে পেয়েও প্রবেশ করতে পারল না। জান্নাতের দরজা চিনতে ভুল করল অথবা উঠতি যৌবনের উন্মাদনা অথবা অন্য কিছু বা কেউ তাকে জান্নাতের দরজা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে গেল। মহানবী বলেছেন,
رَغِمَ أَنفُ ، ثُمَّ رَغِمَ أنْفُ ، ثُمَّ رَغِمَ أنْفُ مَنْ أَدْرَكَ أَبَوِيهِ عِنْدَ الكِبَرِ ، أَحَدُهُما أَوْ كِلِيهِمَا فَلَمْ يَدْخُلِ الجَنَّةَ
"তার নাক ধূলিধূসরিত হোক, অতঃপর তার নাক ধূলিধূসরিত হোক, অতঃপর তার নাক ধূলিধূসরিত হোক, যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে বৃদ্ধ অবস্থায় পেল; একজনকে অথবা দু'জনকেই। অতঃপর সে (তাদের খিদমত ক'রে) জান্নাত যেতে পারল না।"
وَمَنْ أَدْرَكَ وَالِدَيْهِ أَوْ أَحَدَهُمَا فَدَخَلَ النَّارَ فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ
'যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে অথবা তাদের একজনকে জীবিতাবস্থায় পেল অথচ তাকে দোযখে যেতে হবে, আল্লাহ তাকেও দূর করুন। '৬৪৪
হ্যাঁ, পিতামাতার বাধ্য থাকলে তবেই জান্নাত লাভ হবে সন্তানের। যদিও তাদের আনুগত্য করতে গিয়ে নিজের স্বার্থে ঘা পড়ে, সম্পদের ক্ষতি হয়, বন্ধুত্বে বাধা পড়ে, স্ত্রীর সুখ-সন্তুষ্টির ক্ষতি হয়।
মুআয বিন জাবাল বলেন, একদা এক ব্যক্তি নবী এর নিকট এসে বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন আমল শিখিয়ে দেন; যা করলে আমি জান্নাত প্রবেশ করতে পারব।' তিনি বললেন,
لا تُشْرِكْ بِاللهِ شَيْئًا وَإِنْ عُذِّبْتَ وَحُرِّقْتَ، وَأَطِعْ وَالِدَيْكَ وَإِنْ أَخْرَجَاكَ مِنْ مَالِكَ وَمِنْ كُلِّ شَيْءٍ هُوَ لَكَ، لَا تَتْرُكِ الصَّلَاةَ مُتَعَمِّدًا فَإِنَّهُ مَنْ تَرَكَ الصَّلَاةَ مُتَعَمِّدًا بَرِئَتْ مِنْهُ ذِمَّةُ اللَّهِ،
"তুমি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক (অংশী) করো না; যদিও তোমাকে সে ব্যাপারে শাস্তি দেওয়া হয় এবং পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়। তোমার মাতা-পিতার আনুগত্য কর; যদিও তারা তোমাকে তোমার ধন-সম্পদ এবং সমস্ত কিছু থেকে দূর করতে চায়। আর ইচ্ছাকৃত স্বলাত ত্যাগ করো না; কারণ, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত স্বলাত ত্যাগ করে তার উপর থেকে আল্লাহর দায়িত্ব উঠে যায়। "৬৪৫
পিতামাতার উপরে স্ত্রীকে প্রাধান্য দেওয়া যাবে না। সেই কঠিন মুহূর্তের সময় চরিত্রবান ছেলেকে ঈমানী পরীক্ষা দিয়ে পিতামাতার সাথে সদাচরণ করতে হবে এবং স্ত্রীর সাথেও ইনসাফ করতে হবে। স্ত্রী হকের প্রতিকূলে হলে তাকে প্রয়োজনে বর্জনও করতে হবে।
এক ব্যক্তি আবু দারদা এর নিকট এসে বলল, 'আমার এক স্ত্রী আছে। আমার মা তাকে ত্বালাক দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন।' আবু দার্দা বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ কে বলতে শুনেছি,
الوالد أوسط أبواب الجنة ، فإن شئت ، فأضع ذلك الباب ، أو احفظه
"পিতা-মাতা জান্নাতের দুয়ারসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দুয়ার। সুতরাং তুমি যদি চাও, তাহলে এ দুয়ারকে নষ্ট কর অথবা তার রক্ষণাবেক্ষণ কর।”৬৪৬
তবে আনুগত্যের ক্ষেত্রে মহানবী এর এ নির্দেশ অবশ্যই মনে রাখতে হবে,
لا طاعة لمخلوق في معصية الخالق
"স্রষ্টার অবাধ্যতা করে কোন সৃষ্টির আনুগত্য নেই।”৬৪৭
সুতরাং ইনসাফে পিতামাতার দোষ থাকলে অবশ্যই স্ত্রীকে বর্জন করা যাবে না। আর তখনই সন্তানকে লাঠি মাঝখানে ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। নচেৎ পিতামাতা কষ্ট পেলে তারা যদি সন্তানের উপর বদ্দুআ করে, তাহলে জেনে রাখা ভালো যে, তা অবশ্যই ফলবে। যেহেতু রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
« ثلاث دعوات مستجابات لا شك فيهنَّ دعوة الوالد ودعوة المسافر ودعوة المظلوم »
"তিন জনের দুআ সন্দেহাতীতভাবে গৃহীত হয়: (১) নির্যাতিত ব্যক্তির দুআ, (২) মুসাফিরের দুআ এবং (৩) ছেলের জন্য মাতা-পিতার (দুআ বা) বদ্দুআ।"৬৪৮
কেন নয়? পিতামাতা সন্তানের প্রতি সন্তুষ্ট থাকলে যে মহান প্রতিপালকও তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন। আর তারা অসন্তুষ্ট থাকলে তিনিও অসন্তুষ্ট থাকেন। মহানবী বলেছেন,
رضى الرب تبارك وتعالى في رضى الوالد ، وسخط الرب في سخط الوالد
“পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে রয়েছে আল্লাহ তাবারাকা অতাআলার সন্তুষ্টি, আর তাদের অসন্তুষ্টিতে রয়েছে তাঁর অসন্তুষ্টি।” ৬৪৯
অবশ্য আব্বার তুলনায় আম্মার মর্যাদা বেশি সন্তানের কাছে। আম্মা যে সন্তান পালনে বেশি কষ্ট করে। আম্মাই সন্তানের প্রতি বেশি মায়া করে। তাই আব্বার তুলনায় আম্মার রয়েছে ৩ গুণ বেশি মর্যাদা।
একটি লোক রাসূলুল্লাহ এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, 'হে আল্লাহর রসূল! আমার কাছ থেকে সদ্ব্যবহার পাওয়ার বেশী হকদার কে?' তিনি বললেন, "তোমার মা।” সে বলল, 'তারপর কে?' তিনি বললেন, "তোমার মা।” সে বলল, 'তারপর কে?' তিনি বললেন, "তোমার মা।” সে বলল, 'তারপর কে?' তিনি বললেন, "তোমার বাপ। "৬৫০
ইসলাম রক্ষার জন্য জিহাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। কিন্তু তা নফল হলে তার তুলনায় পিতামাতার সেবা হল বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মুআবিয়া বিন জাহেমাহ সুলামী বলেন, একদা জাহেমাহ নবী এর নিকট এসে বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! আমি জিহাদ করব মনস্থ করেছি, তাই আপনার নিকট পরামর্শ নিতে এসেছি।' এ কথা শুনে তিনি বললেন, "তোমার মা আছে কি?" জাহেমাহ বললেন, 'হ্যাঁ'। তিনি বললেন,
فَالْزَمُهَا فَإِنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ رِجْلَيْهَا
"তাহলে তুমি তার খিদমতে অবিচল থাক। কারণ, তার পদতলে তোমার জান্নাত রয়েছে।"৬৫১
মা-বাপ কাফের হলে দ্বীনের ব্যাপারে তাদের আনুগত্য করা যাবে না। কিন্তু তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করতে হবে। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَإِن جَاهَدَاكَ عَلَى أَن تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ)
"তোমার পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার অংশী করতে পীড়াপীড়ি করে, যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তাহলে তুমি তাদের কথা মান্য করো না, তবে পৃথিবীতে তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে বসবাস কর এবং যে ব্যক্তি আমার অভিমুখী হয়েছে তার পথ অবলম্বন কর, অতঃপর আমারই নিকট তোমাদের প্রত্যাবর্তন এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে অবহিত করব।”৬৫২
আসমা বিন্তে আবূ বাক্ সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী এর যুগে আমার অমুসলিম মা আমার কাছে এল। আমি নবী কে জিজ্ঞেস করলাম; বললাম, 'আমার মা (ইসলাম) অপছন্দ করা অবস্থায় (আমার সম্পদের লোভ রেখে) আমার নিকট এসেছে, আমি তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখব কি?' তিনি বললেন, "হ্যাঁ, তুমি তোমার মায়ের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখ।"৬৫৩
বাপ-মায়ের মাঝে কোন বিবাদে কোন এক পক্ষের কথা শুনে তার পক্ষ অবলম্বন করা এবং অপর পক্ষকে দোষারোপ করা উচিত নয় সন্তানের। যেহেতু বিবাদের কারণ এমন গোপন হতে পারে, যা সন্তানের কাছে প্রকাশ পাওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। আর সেই ক্ষেত্রে অন্য পক্ষকে কটু কথা বলা অথবা তার গীবত করা অথবা উভয়ের মাঝে চুগলী করা বৈধ নয়।
বর্তমানের ছেলেমেয়েরা সরাসরি মা-বাপকে গালি দেয়। সে যুগে দিত না। আব্দুল্লাহ ইবনে আম্র ইবনে আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ বললেন, "কাবীরাহ গুনাহসমূহের একটি হল আপন পিতা-মাতাকে গালি দেওয়া।" জিজ্ঞেস করা হল, 'হে আল্লাহর রসূল! আপন পিতা-মাতাকে কি কোন ব্যক্তি গালি দেয়?' তিনি বললেন,
نَعَمْ ، يَسُبُّ أَبَا الرَّجُلِ ، فَيَسُبُّ أَبَاهُ ، وَيَسُبُّ أُمَّهُ ، فَيَسُبُّ أُمَّهُ
"হ্যাঁ, সে লোকের পিতাকে গালি-গালাজ করে, তখন সেও তার পিতাকে গালি-গালাজ ক'রে থাকে এবং সে অন্যের মা-কে গালি দেয়, সুতরাং সেও তার মা-কে গালি দেয়। "৬৫৪
সুতরাং চরিত্রবান সন্তান পিতামাতাকে সরাসরি গালি তো দেয়ই না, পরন্তু অপরের পিতামাতাকে গালাগালি ক'রে তাদেরকে গালি খাওয়ায় না।
অনেক সময় তরবিয়ত-বিরোধী কাজ করে ছেলে-মেয়েরা। ফলে লোকেরা তা দেখে তাদের পিতামাতাকে গালি দেয়। সে খেয়ালও করা উচিত চরিত্রবান ছেলে-মেয়েদের।
পিতামাতার ইন্তিকালের পর তাঁদের আত্মীয়-বন্ধুদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখাও চরিত্রবান নেক সন্তানের কর্তব্য। এই জন্য সৎ-মা বা সৎ-বাপকে ভালোবাসা এবং তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখাও চরিত্রবানের সুন্দর আচরণ। মহানবী বলেছেন,
إِنَّ أَبَرَّ البِرِّ أَنْ يَصِلَ الرَّجُلُ وُدَّ أَبِيهِ
"পিতার মৃত্যুর পর তার বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা সবচেয়ে বড় নেকীর কাজ।"৬৫৫
তাঁদের গত হওয়ার পর তাঁদের নামে সদকা করা চরিত্রবান সুসন্তানের কাজ। যেমন সাহাবী সা'দ বিন উবাদাহ তাঁর মিখরাফের বাগান নিজ মায়ের নামে সদকাহ করেছিলেন।৬৫৬
চরিত্রবান ছেলের আচরণ এ হতে পারে না যে, সে তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভালো বাড়িতে সুখে বাস করবে এবং তার বৃদ্ধ পিতামাতাকে অচল বাড়িতে রাখবে অথবা বৃদ্ধ-খোঁয়াড়ে রেখে আসবে।
সে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুখে থাকবে এবং জন্মদাতা ও পালনকর্তা পিতামাতা শেষ বয়সেও রুযীর সন্ধানে পরিশ্রম ক'রে বেড়াবে অথবা ভিক্ষা ক'রে বেড়াবে।
ইমাম ইবনে হায্য (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, 'পিতামাতার এর থেকে বড় নাফরমানি আর কী হতে পারে যে, ছেলে ধনী হবে, আর তার বাপ, দাদা বা নানাকে লোকের বাথরুম পরিষ্কার করতে অথবা পশু-পালন করতে অথবা রাস্তা ঝাড়ু দিতে অথবা কাপড় ধুতে বাধ্য করবে। তার মা, দাদী বা নানীকে লোকের ঘরে পাট করতে অথবা রাস্তায় পানি (বা অন্য কিছু) বিক্রি করতে বাধ্য করবে।
এ কাজে নিশ্চয় সে সন্তান মহান আল্লাহর এই নির্দেশের বিরোধী, যাতে বলা হয়েছে, "অনুকম্পায় তাদের প্রতি বিনয়াবনত থাকবে।"৬৫৭
মহান আল্লাহর নির্দেশ হল, সন্তান মা-বাপের বাধ্য ও অনুগত থাকবে। আর সে নির্দেশ পালন করলে তবেই সে চরিত্রবান সন্তান হবে। ছেলেদের চাইতে মেয়েরা অবশ্যই দুর্বল, তাই তারাই বেশী মা-বাপের বাধ্য থাকে। বাপের অনুমতি ছাড়া তাদের বিবাহ হয় না। কিন্তু সেই মেয়েদের ব্যাপারে কী বলবেন, যারা পালনকর্তা মা-বাপের বুকে লাথি মেরে এবং গালে চুন-কালি দিয়ে চোরের মতো পালিয়ে গিয়ে রসিক নাগরের সাথে ব্যভিচারের ঘর বাঁধে?

টিকাঃ
৬৩৭. সূরা আনকাবূত ৮
৬৩৮. সূরা বানী ইস্রাঈল ২৩-২৪
৬৩৯. সূরা লুকমান ১৪
৬৪০. বুখারী ৫২৭, মুসলিম ২৬২, তিরমিযী, নাসাঈ
৬৪১. বুখারী ৬৬৭৫, ৬৮৭০
৬৪২. হাকেম ৭৩৫০, সহীহুল জামে' ২৮১০
৬৪৩. আহমাদ ৬১৮০, নাসাঈর কুবরা ২৩৪৩, হাকেম ২৫৬২, সহীহুল জামে' ৩০৭১
৬৪৪. ইবনে হিব্বান ৯০৭, সহীহ তারগীব ৯৯৬
৬৪৫. ত্বাবারানীর আউসাত্ব ৭৯৫৬, সহীহ তারগীব ৫৬৯
৬৪৬. তিরমিযী ১৯০০
৬৪৭. তাবারানী ১৪৭৯৫, আহমাদ ২০৬৫৩
৬৪৮. আবু দাউদ ১৫৩৮, তিরমিযী ১৯০৫, ৩৪৪৮, ইবনে মাজাহ ৩৮৬২, সিলসিলাহ সহীহাহ ৫৯৬
৬৪৯. তিরমিযী ১৮৯৯, হাকেম ৭২৪৯, বাযযার ২৩৯৪, ত্বাবারানী, সিলসিলাহ সহীহাহ ৫১৬
৬৫০. বুখারী ৫৯৭১, মুসলিম ৬৬৬৪
৬৫১. আহমাদ ১৫৫৩৮, নাসাঈ ৩১০৪, ইবনে মাজাহ ২৭৮১, বাইহাক্বী ১৮২৮৮, হাকেম ২৫০২
৬৫২. লুকুমান: ১৫
৬৫৩. বুখারী ২৬২০, ৩১৮৩, ৫৯৭৯, মুসলিম ২৩৭১-২৩৭২
৬৫৪. বুখারী ৫৯৭৩, মুসলিম ২৭৩
৬৫৫. মুসলিম ৬৬৭৭-৬৬৭৯
৬৫৬. বুখারী ২৭৫৬নং প্রমুখ
৬৫৭. আল-মুহাল্লা ১০/১০৮

📘 সচ্চরিত্রতা ও চারিত্রিক গুণাবলী > 📄 সন্তানের সাথে সদাচরণ

📄 সন্তানের সাথে সদাচরণ


সন্তানের সাথে সদ্ব্যবহার করা চরিত্রবান পিতামাতার অন্যতম মহৎ কর্তব্য। সন্তানকে সুসন্তানরূপে গড়ে তুলতে হবে। আল্লাহর আদেশক্রমে সন্তান-সন্ততিকে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَا يَعْصُونَ اللهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ )
"হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন হতে রক্ষা কর, যার ইন্ধন মানুষ ও পাথর, যার নিয়ন্ত্রণভার অর্পিত আছে নির্মম-হৃদয় কঠোর-স্বভাব ফিরিস্তাগণের উপর, যারা আল্লাহ তাদেরকে যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদিষ্ট হয় তাই করে।"৬৫৮
তাছাড়া আমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। আর সন্তানের দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে কিয়ামতে প্রশ্ন করা হবে। তাই সদাচারী হয়ে সন্তানকেও চরিত্রবান বানাবার গুরু-दायিত্ব সুন্দরভাবে পালন করতে হবে পিতামাতাকে। আর তার জন্য নিম্নোক্ত উপদেশমালা মেনে চলুনঃ
১. সন্তানের সুন্দর দেখে নাম রাখুন। অসুন্দর নাম রেখে ছেলে-মেয়েকে লজ্জা দেবেন না।
২. যথাসময়ে ছেলের তরফ থেকে ২টি ও মেয়ের তরফ থেকে ১টি পশু আকীকা করুন।
৩. যথাসময়ে ছেলের খতনা করান।
৪. উর্ধ্বপক্ষে পূর্ণ ২ বছর তাকে মায়ের দুধ পান করান। মায়ের দুধের কোন বিকল্প নেই।
৫. সর্বপ্রথম তাকে কালেমা শিখিয়ে দিন এবং ঈমানী বীজ বপন করুন তার হৃদয়-মনে।
৬. সাত বছর বয়স হলে তাকে স্বলাতের আদেশ করুন। দশ বছরে স্বলাতের জন্য প্রহার করুন এবং ছেলে-মেয়ের বিছানা পৃথক করে দিন।
৭. সুন্দর চরিত্র শিক্ষা দিন। শিশুর প্রকৃতি বড় স্বচ্ছ ও অনুকরণ-প্রিয়। সে আপনাদের পরিবেশ ও চরিত্র অনুযায়ী গড়ে উঠবে সে খেয়াল রাখবেন।
৮. সকল প্রকার অসচ্চরিত্রতা থেকে দূরে রাখবেন।
৬. সন্তানের জন্য কথায় কথায়; খুশী অথবা রাগের সময় হিদায়াতের দুআ করুন। আর কোন সময়ই বদ্দুআ করবেন না। কারণ সন্তানের হক্কে মা-বাপের দুআ কবুল হয়। আর তাতে আপনাদের নিজেরই ক্ষতি।
৭. ছেলেদের সামনে মার্জিত কথাবার্তা বলবেন। কারণ, তারা তো আপনাদের ভাষা শুনেই কথা বলতে শিখবে। নোংরা কথা বলবেন না। তাদের সামনে স্বামী-স্ত্রী ঝগড়াও করবেন না খারাপ কথা বলে। তাদের সাথে মিথ্যা কথা বলবেন না।
৮. সন্তানের জন্য নিজে আদর্শ ও নমুনা হন। আর জেনে রাখুন, ‘দুধ গুণে ঘি, মা গুণে ঝি। আটা গুণে রুটি, মা গুণে বেটি। যেই মত কোদাল হবে সেই মত চাপ, সেই মত বেটা হবে যেই মত বাপ।’ সাধারণতঃ এরূপই হয়ে থাকে।
৯. ছেলেদের সামনে স্ববিরোধিতা থেকে দূরে থাকুন। আপনি যেটা করেন, তা করতে সন্তানকে নিষেধ করলে ফলপ্রসূ হবে না।
১০. তাদের সাথে কোন ওয়াদা করলে ওয়াদা পূরণ করুন। কখনো ওয়াদা ভঙ্গ করবেন না।
১১. ঘর থেকে সকল প্রকার অশ্লীলতা দূর করুন। অশ্লীল ছবি, ভিডিও, টিভি ইত্যাদি ঘরে রাখবেন না। বাইরেও দেখতে দেবেন না। নচেৎ, তাতে তাদের পড়াশোনা যাবে, চরিত্রও যাবে।
১২. পারলে শ্লীলতাপূর্ণ সিডি বা ক্যাসেট এনে রাখতে পারেন। গান-বাজনা ও অশ্লীলতা-বর্জিত সিডি-ক্যাসেট হল বর্তমানে মুসলিমদের বিকল্প বস্তু।
১৩. যৌন-চেতনার সাথে সাথে যৌন অপরাধ থেকে দূরে রাখার শতভাবে চেষ্টা করুন। খেয়াল রাখুন, যাতে তারা নৈতিক অবক্ষয়ের শিকার না হয়ে পড়ে।
১৪. তাদেরকে মেহনতী ও কর্মঠ হতে অভ্যাসী বানান। খাওয়া-পরাতে মধ্যম ধরনের জীবনযাপনে অভ্যাস করান। সকল প্রকার বিলাসিতা থেকে দূরে রাখুন।
১৫. তাদের বয়স অনুযায়ী ব্যবহার পরিবর্তন করুন। ছেলে বড় হলে তার সাথে তেমনি ব্যবহার করুন, যেমন করেন ভাইয়ের সাথে।
১৬. তাদের ব্যাপারে উদাসীন হবেন না। তাদের খোঁজ-খবর নিন। কোথায় যায়-আসে, কোথায় রাত্রিবাস করে, তাদের বন্ধু কে ইত্যাদি তদন্ত ক'রে দেখুন। তবে হ্যাঁ, তাদের প্রতি বিশ্বাস হারাবেন না এবং বেশী বিশ্বাসও ক'রে বসবেন না।
১৭. সন্তানের ছোট ভুলকে বড় ক'রে দেখবেন না। যত পারেন, ক্ষমা প্রদর্শন করুন।
১৮. যেমন ভুল, ঠিক তেমনি শাস্তি প্রয়োগ করুন। ‘লঘু পাপে গুরু দণ্ড’ ব্যবহার করবেন না। মশা মারতে কামান দাগবেন না। নচেৎ, 'বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো' হয়ে যাবে। হ্যাঁ, যেমন দুনিয়ার কাজের জন্য তাদেরকে মারধর করেন, তেমনি দ্বীনের কাজের জন্যও সমান খেয়াল রাখবেন।
১৯. খবরদার শাসনের ব্যাপারে তাদেরকে প্রশ্রয় দেবেন না। স্ত্রীরও উচিত নয়, আপনি শাসন করলে তার প্রশ্রয় দেওয়া অথবা ছেলে-মেয়ের কোন পাপ গোপন করা। তেমনি স্ত্রী শাসন করলে আপনারও আশকারা দেওয়া উচিত নয়।
২০. তাদের পড়াশোনার জন্য ভালো স্কুল বেছে নিন। খবরদার এমন স্কুলে দেবেন না, যেখানে তাদের আকীদা বেদ্বীনের বা বিজাতির আকীদা হয়ে যায়।
২১. যথাসম্ভব ছেলেমেয়ের সাথে বাস করুন এবং তাদের থেকে দূরে থাকবেন না। নানা কাজের ঝামেলা ও ব্যস্ততার মাঝে তাদের জন্যও আপনার কিছু সময় ব্যয় করুন।
২২. মসজিদ, জালসা ও ইল্মী মজলিসে তাদেরকে সাথে নিয়ে উপস্থিত হন।
২৩. বিয়ের বয়স হলে ছেলে-মেয়ের বিয়ে দিন। নচেৎ তারা কোন পাপ ক'রে বসলে আপনাদেরও পাপ হবে।
২৪. ভরণ-পোষণ, স্নেহ-প্রীতি, উপহার ও দানে সকলের মাঝে ইনসাফ বজায় রাখুন। সন্তান এক স্ত্রীর হোক অথবা একাধিক স্ত্রীর, পিতার কাছে সকলেই সমান।
২৫. তাদের প্রতি স্নেহশীল হন। মমতা প্রদর্শন করুন।
২৬. কন্যা সন্তান প্রতিপালনে বেশি যত্ন নিন। যাতে তার কোন পদস্খলন না ঘটে যায় এবং সুপাত্র তার ভাগ্যে জোটে। এর জন্য রয়েছে বিশাল মাহাত্ম্য। মহানবী বলেছেন,
مَنْ عَالَ ابْنَتَيْنِ أَوْ ثَلَاثَ بَنَاتٍ أَوْ أُخْتَيْنِ أَوْ ثَلَاثَ أَخَوَاتٍ حَتَّى يَمُتُنَ أَوْ يَمُوتَ عَنْهُنَّ كُنْتُ أَنَا وَهُوَ كَهَاتَيْنِ وَأَشَارَ بِأَصْبُعَيْهِ السَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى
"যে ব্যক্তি দুটি অথবা তিনটি কন্যা, কিংবা দুটি অথবা তিনটি বোন তাদের মৃত্যু অথবা বিবাহ, অথবা সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত, কিংবা ঐ ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত যথার্থ প্রতিপালন করে, সে ব্যক্তি আর আমি (পরকালে) তর্জনী ও মধ্যমা অঙ্গুলিদ্বয়ের মত পাশাপাশি অবস্থান করব।”৬৫৯

টিকাঃ
৬৫৮. তাহরীম: ৬
৬৫৯. আহমাদ ১২৪৯৮, সিলসিলাহ সহীহাহ ২৯৬

সন্তানের সাথে সদ্ব্যবহার করা চরিত্রবান পিতামাতার অন্যতম মহৎ কর্তব্য। সন্তানকে সুসন্তানরূপে গড়ে তুলতে হবে। আল্লাহর আদেশক্রমে সন্তান-সন্ততিকে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَا يَعْصُونَ اللهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ )
"হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন হতে রক্ষা কর, যার ইন্ধন মানুষ ও পাথর, যার নিয়ন্ত্রণভার অর্পিত আছে নির্মম-হৃদয় কঠোর-স্বভাব ফিরিস্তাগণের উপর, যারা আল্লাহ তাদেরকে যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদিষ্ট হয় তাই করে।"৬৫৮
তাছাড়া আমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। আর সন্তানের দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে কিয়ামতে প্রশ্ন করা হবে। তাই সদাচারী হয়ে সন্তানকেও চরিত্রবান বানাবার গুরু-दायিত্ব সুন্দরভাবে পালন করতে হবে পিতামাতাকে। আর তার জন্য নিম্নোক্ত উপদেশমালা মেনে চলুনঃ
১. সন্তানের সুন্দর দেখে নাম রাখুন। অসুন্দর নাম রেখে ছেলে-মেয়েকে লজ্জা দেবেন না।
২. যথাসময়ে ছেলের তরফ থেকে ২টি ও মেয়ের তরফ থেকে ১টি পশু আকীকা করুন।
৩. যথাসময়ে ছেলের খতনা করান।
৪. উর্ধ্বপক্ষে পূর্ণ ২ বছর তাকে মায়ের দুধ পান করান। মায়ের দুধের কোন বিকল্প নেই।
৫. সর্বপ্রথম তাকে কালেমা শিখিয়ে দিন এবং ঈমানী বীজ বপন করুন তার হৃদয়-মনে।
৬. সাত বছর বয়স হলে তাকে স্বলাতের আদেশ করুন। দশ বছরে স্বলাতের জন্য প্রহার করুন এবং ছেলে-মেয়ের বিছানা পৃথক করে দিন।
৭. সুন্দর চরিত্র শিক্ষা দিন। শিশুর প্রকৃতি বড় স্বচ্ছ ও অনুকরণ-প্রিয়। সে আপনাদের পরিবেশ ও চরিত্র অনুযায়ী গড়ে উঠবে সে খেয়াল রাখবেন।
৮. সকল প্রকার অসচ্চরিত্রতা থেকে দূরে রাখবেন।
৬. সন্তানের জন্য কথায় কথায়; খুশী অথবা রাগের সময় হিদায়াতের দুআ করুন। আর কোন সময়ই বদ্দুআ করবেন না। কারণ সন্তানের হক্কে মা-বাপের দুআ কবুল হয়। আর তাতে আপনাদের নিজেরই ক্ষতি।
৭. ছেলেদের সামনে মার্জিত কথাবার্তা বলবেন। কারণ, তারা তো আপনাদের ভাষা শুনেই কথা বলতে শিখবে। নোংরা কথা বলবেন না। তাদের সামনে স্বামী-স্ত্রী ঝগড়াও করবেন না খারাপ কথা বলে। তাদের সাথে মিথ্যা কথা বলবেন না।
৮. সন্তানের জন্য নিজে আদর্শ ও নমুনা হন। আর জেনে রাখুন, ‘দুধ গুণে ঘি, মা গুণে ঝি। আটা গুণে রুটি, মা গুণে বেটি। যেই মত কোদাল হবে সেই মত চাপ, সেই মত বেটা হবে যেই মত বাপ।’ সাধারণতঃ এরূপই হয়ে থাকে।
৯. ছেলেদের সামনে স্ববিরোধিতা থেকে দূরে থাকুন। আপনি যেটা করেন, তা করতে সন্তানকে নিষেধ করলে ফলপ্রসূ হবে না।
১০. তাদের সাথে কোন ওয়াদা করলে ওয়াদা পূরণ করুন। কখনো ওয়াদা ভঙ্গ করবেন না।
১১. ঘর থেকে সকল প্রকার অশ্লীলতা দূর করুন। অশ্লীল ছবি, ভিডিও, টিভি ইত্যাদি ঘরে রাখবেন না। বাইরেও দেখতে দেবেন না। নচেৎ, তাতে তাদের পড়াশোনা যাবে, চরিত্রও যাবে।
১২. পারলে শ্লীলতাপূর্ণ সিডি বা ক্যাসেট এনে রাখতে পারেন। গান-বাজনা ও অশ্লীলতা-বর্জিত সিডি-ক্যাসেট হল বর্তমানে মুসলিমদের বিকল্প বস্তু।
১৩. যৌন-চেতনার সাথে সাথে যৌন অপরাধ থেকে দূরে রাখার শতভাবে চেষ্টা করুন। খেয়াল রাখুন, যাতে তারা নৈতিক অবক্ষয়ের শিকার না হয়ে পড়ে।
১৪. তাদেরকে মেহনতী ও কর্মঠ হতে অভ্যাসী বানান। খাওয়া-পরাতে মধ্যম ধরনের জীবনযাপনে অভ্যাস করান। সকল প্রকার বিলাসিতা থেকে দূরে রাখুন।
১৫. তাদের বয়স অনুযায়ী ব্যবহার পরিবর্তন করুন। ছেলে বড় হলে তার সাথে তেমনি ব্যবহার করুন, যেমন করেন ভাইয়ের সাথে।
১৬. তাদের ব্যাপারে উদাসীন হবেন না। তাদের খোঁজ-খবর নিন। কোথায় যায়-আসে, কোথায় রাত্রিবাস করে, তাদের বন্ধু কে ইত্যাদি তদন্ত ক'রে দেখুন। তবে হ্যাঁ, তাদের প্রতি বিশ্বাস হারাবেন না এবং বেশী বিশ্বাসও ক'রে বসবেন না।
১৭. সন্তানের ছোট ভুলকে বড় ক'রে দেখবেন না। যত পারেন, ক্ষমা প্রদর্শন করুন।
১৮. যেমন ভুল, ঠিক তেমনি শাস্তি প্রয়োগ করুন। ‘লঘু পাপে গুরু দণ্ড’ ব্যবহার করবেন না। মশা মারতে কামান দাগবেন না। নচেৎ, 'বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো' হয়ে যাবে। হ্যাঁ, যেমন দুনিয়ার কাজের জন্য তাদেরকে মারধর করেন, তেমনি দ্বীনের কাজের জন্যও সমান খেয়াল রাখবেন।
১৯. খবরদার শাসনের ব্যাপারে তাদেরকে প্রশ্রয় দেবেন না। স্ত্রীরও উচিত নয়, আপনি শাসন করলে তার প্রশ্রয় দেওয়া অথবা ছেলে-মেয়ের কোন পাপ গোপন করা। তেমনি স্ত্রী শাসন করলে আপনারও আশকারা দেওয়া উচিত নয়।
২০. তাদের পড়াশোনার জন্য ভালো স্কুল বেছে নিন। খবরদার এমন স্কুলে দেবেন না, যেখানে তাদের আকীদা বেদ্বীনের বা বিজাতির আকীদা হয়ে যায়।
২১. যথাসম্ভব ছেলেমেয়ের সাথে বাস করুন এবং তাদের থেকে দূরে থাকবেন না। নানা কাজের ঝামেলা ও ব্যস্ততার মাঝে তাদের জন্যও আপনার কিছু সময় ব্যয় করুন।
২২. মসজিদ, জালসা ও ইল্মী মজলিসে তাদেরকে সাথে নিয়ে উপস্থিত হন।
২৩. বিয়ের বয়স হলে ছেলে-মেয়ের বিয়ে দিন। নচেৎ তারা কোন পাপ ক'রে বসলে আপনাদেরও পাপ হবে।
২৪. ভরণ-পোষণ, স্নেহ-প্রীতি, উপহার ও দানে সকলের মাঝে ইনসাফ বজায় রাখুন। সন্তান এক স্ত্রীর হোক অথবা একাধিক স্ত্রীর, পিতার কাছে সকলেই সমান।
২৫. তাদের প্রতি স্নেহশীল হন। মমতা প্রদর্শন করুন।
২৬. কন্যা সন্তান প্রতিপালনে বেশি যত্ন নিন। যাতে তার কোন পদস্খলন না ঘটে যায় এবং সুপাত্র তার ভাগ্যে জোটে। এর জন্য রয়েছে বিশাল মাহাত্ম্য। মহানবী বলেছেন,
مَنْ عَالَ ابْنَتَيْنِ أَوْ ثَلَاثَ بَنَاتٍ أَوْ أُخْتَيْنِ أَوْ ثَلَاثَ أَخَوَاتٍ حَتَّى يَمُتُنَ أَوْ يَمُوتَ عَنْهُنَّ كُنْتُ أَنَا وَهُوَ كَهَاتَيْنِ وَأَشَارَ بِأَصْبُعَيْهِ السَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى
"যে ব্যক্তি দুটি অথবা তিনটি কন্যা, কিংবা দুটি অথবা তিনটি বোন তাদের মৃত্যু অথবা বিবাহ, অথবা সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত, কিংবা ঐ ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত যথার্থ প্রতিপালন করে, সে ব্যক্তি আর আমি (পরকালে) তর্জনী ও মধ্যমা অঙ্গুলিদ্বয়ের মত পাশাপাশি অবস্থান করব।”৬৫৯

টিকাঃ
৬৫৮. তাহরীম: ৬
৬৫৯. আহমাদ ১২৪৯৮, সিলসিলাহ সহীহাহ ২৯৬

📘 সচ্চরিত্রতা ও চারিত্রিক গুণাবলী > 📄 স্বামীর সাথে সদ্‌ব্যবহার

📄 স্বামীর সাথে সদ্‌ব্যবহার


চরিত্রবতী স্বামী-সোহাগিনী নারী স্বামীর সাথে সদ্ব্যবহার করে। যত সুন্দর চরিত্র-গুণ আছে স্বামীর সাথে প্রয়োগ করে।
১. চরিত্রবতী স্ত্রী স্বামীর আদেশ পালন করে। তার মনের বিরোধিতা করে না। সে যেমন বলে, তেমন চলে। অবশ্য বৈধ বিষয়ে, অবৈধ বিষয়ে নয়। স্বামীর অনুগতা হওয়া বেহেস্তী স্ত্রীর পরিচয়। প্রিয় নবী বলেন,
إِذَا صَلَّتِ الْمَرْأَةُ خَمْسَهَا، وَصَامَتْ شَهْرَهَا ، وَحَصَّنَتْ فَرْجَهَا، وَأَطَاعَتْ بَعْلَهَا، دَخَلَتْ مِنْ أَيِّ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ شَاءَتْ
"রমণী তার পাঁচ ওয়াক্তের স্বলাত পড়লে, রমযানের সিয়াম পালন করলে, ইজ্জতের হিফাযত করলে ও স্বামীর তাবেদারী করলে জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছামত প্রবেশ করতে পারবে।”৬৬০
এমন গুণবতী হল সর্বশ্রেষ্ঠ স্ত্রী। মহানবী বলেছেন,
خَيْرُ النِّسَاءِ الَّتِي تَسُرُّهُ إِذا نَظَرَ وَتُطِيعُهُ إِذا أَمَرَ ولا تُخَالِفُهُ فِي نَفْسِها ولا مالها بِمَا يَكْرَهُ
"সর্বশ্রেষ্ঠ রমণী সেই, যার প্রতি তার স্বামী দৃকপাত করলে সে তাকে খোশ করে দেয়, কোন আদেশ করলে তা পালন করে এবং তার জীবন ও সম্পদে স্বামীর অপছন্দনীয় বিরুদ্ধাচরণ করে না। ৬৬১
তবে আনুগত্যের ক্ষেত্রে মহানবী এর এ নির্দেশ অবশ্যই মনে রাখতে হবে,
لا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ
"স্রষ্টার অবাধ্যতা করে কোন সৃষ্টির আনুগত্য নেই। "৬৬২
২. চরিত্রবতী স্ত্রী স্বামীকে যেমন ভালোবাসে, তেমনি শ্রদ্ধাও করে। যেহেতু স্ত্রীর নিকট স্বামীর মর্যাদা বিরাট। এই মর্যাদার কথা ইসলাম নিজে ঘোষণা করেছে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاء بِمَا فَضَّل الله بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ
অর্থাৎ, পুরুষ নারীর কর্তা। কারণ, আল্লাহ তাদের এককে রের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং এ জন্য যে পুরুষ (তাদের জন্য) ধন ব্যয় করে। ৬৬৩
স্বামী শুধু স্ত্রীর কর্তাই নয়, বরং সে তার সিজদাযোগ্য শ্রদ্ধেয় ও মাননীয়। তবে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা যেহেতু হারাম, তাই ইসলামে তাকে সিজদা করতে আদেশ দেওয়া হয়নি। মহানবী বলেছেন,
لَوْ كُنْتُ آمِرًا أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لِأَحَدٍ لَأَمَرْتُ الْمَرْأَةَ أَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا
"যদি আমি কাউকে কারো জন্য সিজদা করতে আদেশ করতাম, তাহলে নারীকে আদেশ করতাম, সে যেন তার স্বামীকে সিজদা করে।”৬৬৪
প্রিয় নবী বলেন, "স্ত্রীর জন্য স্বামী তার জান্নাত অথবা জাহান্নাম।"৬৬৫
অর্থাৎ, স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য হলে পরকালে তার স্থান হবে জাহান্নামে। আর বাধ্য হয়ে তাকে খোশ রাখতে পারলে তার স্থান হবে জান্নাতে।
স্ত্রীর উপর স্বামীর এত বড় মর্যাদা ও অধিকার রয়েছে যে, যতই সে তা প্রাণপণ দিয়ে আদায় করার চেষ্টা করুক, পরিপূর্ণরূপে তা আদায় করতে সক্ষম নয়। 'অত পারি না' বলে যে স্ত্রীরা মুখ ঘুরায়, নাক বাঁকায় অথবা কোন ওজুহাতে বা ছলবাহানা করে স্বামীর খিদমতে ফাঁকি দেয়, তারা চরিত্রবতী স্ত্রী নয়। মহানবী বলেছেন,
مِن حَقِّ الزَّوجِ عَلَى زَوجَتِهِ إِن سَالَ دَماً وَقَيحاً وَصَدِيداً فَلَحَسَتَهُ بِلِسَانِهَا مَا أَدَّتْ حَقَّهُ
"স্ত্রীর কাছে স্বামীর এমন অধিকার আছে যে, স্ত্রী যদি স্বামীর দেহের ঘা চেঁটেও থাকে, তবুও সে তার যথার্থ হক আদায় করতে পারবে না। "৬৬৬
অন্য এক হাদীসে তিনি বলেছেন,
(فَإِنَّ الْمَرْأَةَ لَوْ تَعْلَمُ مَا حَقٌّ زَوْجِهَا ، لَمْ تَزَلْ قَائِمَةً مَا حَضَرَ غَدَاؤُهُ وَعَشَاؤُهُ
"মহিলা যদি নিজ স্বামীর হক (যথার্থরূপে) জানতো, তাহলে তার দুপুর অথবা রাতের খাবার খেয়ে শেষ না করা পর্যন্ত সে (তার পাশে) দাঁড়িয়ে থাকতো। "৬৬৭
প্রেম-ভালোবাসার মাঝেই এত বড় প্রাপ্য অধিকার স্বামীর। আধুনিকারা তা স্বীকার না করলেও সে অধিকার আদায় না করা পর্যন্ত নিজ সৃষ্টিকর্তার অধিকার আদায় করতে পারবে না কোন নারী। সে অধিকার লংঘিত হলে এবং স্বামী ক্ষমা না করলে মহান আল্লাহ স্ত্রীকে ক্ষমা করবেন না। এমন মেয়েদের দ্বারা আপন প্রতিপালকের হক আদায় হয় না। মহানবী বলেছেন,
(وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لاَ تُؤَدِّي المَرْأَةُ حَقَّ رَبِّهَا حَتَّى تُؤدِّيَ حَقَّ زَوْجِهَا كُلَّهُ حَتَّى لَوْ سَأَلَهَا نَفْسَهَا وَهِيَ عَلَى قَتَبٍ لَمْ تَمْنَعُهُ
"তাঁর শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ আছে! নারী তার প্রতিপালকের হক ততক্ষণ পর্যন্ত আদায় করতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার স্বামীর হক আদায় করেছে। সওয়ারীর পিঠে থাকলেও যদি স্বামী তার মিলন চায়, তবে সে বাধা দিতে পারবে না।"৬৬৮
৩. চরিত্রবতী স্ত্রী স্বামীকে সর্বতোভাবে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করে এবং তাকে কোন প্রকার কষ্ট দেয় না।
অনেক স্ত্রী ধনী বলে ধনের গর্বে স্বামীকে পাত্তা দেয় না। সময়ে খিদমত করে না, প্রয়োজনে মিলন দেয় না।
স্ত্রী অধিক শিক্ষিতা বলে অথবা চাকরি করে বলে স্বামীকে চাকর বানিয়ে রাখে।
স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করেছে বলে স্ত্রী তাকে 'স্বামী' না ভেবে 'আসামী' ভাবে।
নিজের ছেলেমেয়ে বড় হয়ে পায়ের তলায় মাটি হয়েছে বলে স্বামীর কোন মর্যাদা রক্ষা করে না। তার কোন অধিকার আছে বলেও মনে করে না।
স্বামী অসুস্থ অথবা যৌবনহারা হলে স্ত্রী আর তাকে গুরুত্ব দেয় না। অনেক স্ত্রী তাকে ঘৃণা করে, বর্জন করে এবং অন্য পুরুষের দিকে আকৃষ্টা হয়।
অনেক স্ত্রী নিজ ভাই, ছেলে বা জামাইয়ের সহযোগিতায় নিরীহ স্বামীকে ঘর ছাড়তে বাধ্য করে!
একই বাড়িতে বসবাস ক'রে পৃথক খাওয়া-শোওয়ার কথাও শোনা যায় অনেক স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপারে।
এমন স্ত্রীরা যে চরিত্রবতী স্ত্রী নয়, তা বলাই বাহুল্য।
বান্দার হক আদায় না করা পর্যন্ত আল্লাহর হক আদায় করা সম্ভব নয়। বান্দার হক বিনষ্ট করলে আল্লাহ তাঁর আদায়কৃত হক গ্রহণ করেন না। কোন ক্রীতদাস নিজ প্রভুর অবাধ্য হলে মহান প্রভুরও অবাধ্যতা হয়। কোন স্ত্রী নিজ স্বামীকে খোশ করতে না পারলে তার প্রতি মহান স্বামীও নাখোশ থাকেন।
কোন সতী পতিকে সন্তুষ্ট না করতে পারলে বিশ্বাধিপতিও তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকেন। তার প্রাত্যহিকী ইবাদত রদ করে থাকেন। মহানবী বলেছেন,
اثْنَانِ لَا تُجَاوِزُ صَلَاتُهُمَا رُءُوسَهُمَا : عَبْدٌ آبِقٌ مِنْ مَوَالِيهِ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَيْهِمْ ، وَامْرَأَةٌ عَصَتْ زَوْجَهَا حَتَّى تَرْجِعَ
"দুই ব্যক্তির স্বলাত তাদের মাথা অতিক্রম করে না (কবুল হয় না); সেই ক্রীতদাস যে তার প্রভুর নিকট থেকে পলায়ন করেছে, সে তার নিকট ফিরে না আসা পর্যন্ত এবং যে স্ত্রী তার স্বামীর অবাধ্যাচরণ করেছে, সে তার বাধ্য না হওয়া পর্যন্ত (স্বলাত কবুল হয় না।)”৬৬৯
(ثَلاثَةٌ لا يُقبَلُ منهم صَلاةٌ وَلَا تَصْعَدُ إِلَى السَّمَاءِ وَلَا تَجَاوِزُ رُءُوسُهُم : رَجُلٌ أَمَّ قَوْماً وَهُم لَه كَارِهُونَ ، وَرَجُلٌ صَلَّى عَلَى جَنَازَةٍ وَلَمْ يُؤْمَرٍ ، وَامْرَأَةُ دَعَاهَا زَوجُهَا من اللَّيْلِ فَأَبَتْ عَلَيْهِ
"তিন ব্যক্তির স্বলাত কবুল হয় না, আকাশের দিকে উঠে না; মাথার উপরে যায় না; এমন ইমাম যার ইমামতি (অধিকাংশ) লোকে অপছন্দ করে, বিনা আদেশে যে কারো জানাযা পড়ায়, এবং রাত্রে সঙ্গমের উদ্দেশ্যে স্বামী ডাকলে যে স্ত্রী তাতে অসম্মত হয়। ৬৭০
৪. চরিত্রবতী স্ত্রী স্বামীর যৌন-আহবানে সত্বর সাড়া দেয়। যৌন-বাজারে স্বামী-স্ত্রী চার শ্রেণীর হয়ে থাকে। তার মধ্যে স্বামী গরম ও স্ত্রী ঠাণ্ডা হলেও যথাসাধ্য স্বামীকে পরিতৃপ্ত করা চরিত্রবতী স্ত্রীর আচরণ। যেহেতু স্বামীর বিছানার অধিকার একটি বড় অধিকার। শয্যাসঙ্গিনী না হয়ে স্বামীকে অসন্তুষ্ট রাখলে, বিশ্বস্বামীও অসন্তুষ্ট থাকেন। মহানবী বলেছেন,
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا مِنْ رَجُلٍ يَدْعُو امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهَا فَتَأْبَى عَلَيْهِ إِلَّا كَانَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ سَاخِطًا عَلَيْهَا حَتَّى يَرْضَى عَنْهَا »
"সেই আল্লাহর কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! কোন স্বামী তার স্ত্রীকে নিজ বিছানার দিকে আহবান করার পর সে আসতে অস্বীকার করলে যিনি আকাশে আছেন তিনি (আল্লাহ) তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকেন, যে পর্যন্ত না স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যায়।”৬৭১
বিবাহের একটি মহান উদ্দেশ্য যৌনক্ষুধা নিবারণ করা। অনেক সময় স্বামীর চাহিদা বেশী থাকে, কিন্তু স্ত্রীর থাকে না। হয়তো স্বামীর অতি সহবাসের ফলে তার নিজের সীমিত চাহিদা পূরণ হয়ে যায়। অথবা গোসল ইত্যাদি অন্য কোন ওজুহাত দেখিয়ে স্বামীর অভিসারের ইঙ্গিত সে এড়িয়ে চলে। এতে স্বামীর অধিকার লংঘন হয়। কোন শারীরিক অসুবিধা না থাকলে স্ত্রীর তাতে অসম্মত হওয়া বৈধ নয়। কারণ সে যদি অকারণে সে অধিকার আদায় না ক'রে স্বামীকে রাগান্বিত রাখে, তাহলে ফিরিস্তাবর্গও তাকে অভিশাপ করেন। মহানবী বলেছেন,
(إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ إلى فِراشِهِ فَأَبَتْ فَبَاتَ غَضْبَانَ عَلَيْهَا لَعَنَتُهَا المَلَائِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ
"স্বামী যখন তার স্ত্রীকে নিজ বিছানার দিকে (সঙ্গম করতে) আহ্বান করে, তখন যদি স্ত্রী আসতে অস্বীকার করে, অতঃপর সে তার উপর রাগান্বিত অবস্থায় রাত্রি কাটায়, তবে সকাল পর্যন্ত ফিরিস্তাবর্গ তার উপর অভিশাপ করতে থাকেন।"৬৭২
(إذا باتتِ المَرْأةُ هاجِرَةً فِراشَ زَوْجِهَا لَعَنَتْهَا المَلَائِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ
"যখন স্ত্রী নিজ স্বামীর বিছানা ত্যাগ করে (অন্যত্র) রাত্রিযাপন করে, তখন ফিরিস্তাবর্গ সকাল পর্যন্ত তাকে অভিশাপ দিতে থাকেন।"
অন্য এক বর্ণনায় আছে,
(لَعَنَتْهَا الْمَلَائِكَةُ حَتَّى تَرْجِعَ
"যতক্ষণ পর্যন্ত না স্বামীর বিছানায় ফিরে এসেছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ফিরিস্তাগণ তার উপর অভিশাপ করতে থাকেন।"
চরিত্রবতী স্ত্রী যেমন নিজ প্রতিপালককে সন্তুষ্ট রাখে, তেমনই সন্তুষ্ট রাখে নিজ প্রাণপতিকে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রতিপালকের নফল ইবাদতের তুলনায় স্বামীকে পরিতৃপ্ত রাখার গুরুত্ব বেশি। তাই কোন স্ত্রী তার স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ব্যতীত নফল সিয়াম রাখতে পারে না। মহানবী বলেছেন,
لَا يَحِلُّ لِلْمَرْأَةِ أَنْ تَصُومَ وَزَوْجُهَا شَاهِدٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ وَلَا تَأْذَنَ فِي بَيْتِهِ إِلَّا بِإِذْنِهِ
"মহিলার জন্য এ হালাল নয় যে, তার স্বামী (ঘরে) উপস্থিত থাকাকালে তার বিনা অনুমতিকে সে (নফল) সিয়াম রাখে এবং তার বিনা অনুমতিতে স্বামীর ঘরে প্রবেশ করতে কাউকে অনুমতি দেয়।"৬৭৩
বলাই বাহুল্য যে, অধিকাংশ তালাক ও দ্বিতীয় বিবাহের কারণ হল স্বামীর আহ্বানে স্ত্রীর যথাসময়ে সাড়া না দেওয়া। উক্ত অধিকার পালনেই স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন মজবুত ও মধুর থাকে, নচেৎ দাম্পত্যের মধু কদুতে পরিণত হয়। সে ক্ষেত্রে দেহের ভালোবাসা দিয়েই চালাক স্ত্রী স্বামীর মনকে বন্দী রাখে।
৫. স্বামীর অভিপ্রায় ও চাহিদার খেয়াল রাখা গুণবতী স্ত্রীর কর্তব্য। স্বামী বাইরে থেকে এসে যেন অপ্রীতিকর কিছু দেখতে, শুনতে, শুঁকতে বা অনুভব করতে না পারে। পুরুষ বাইরে কর্মব্যস্ততায় জ্বলে-পুড়ে বাড়িতে এসে যদি স্ত্রীর হাসিমুখ ও দেহ-সংসারের পারিপাট্য না পেল, তাহলে তার আর সুখ কোথায়? সংসারে তার মত দুর্ভাগা ব্যক্তি আর কেউ নেই, যাকে বাইরে মেহনতে জ্বলে এসে বাড়িতে স্ত্রীর তাপেও জ্বলতে হয়।
৬. স্বামীর দ্বীন ও ইজ্জতের খেয়াল করা ওয়াজেব। বেপর্দা, টো-টো কোম্পানী হয়ে, পাড়াকুঁদুলী হয়ে, দরজা, জানালা বা ছাদ হতে উঁকি ঝুঁকি মেরে, স্বামীর অবর্তমানে কোন বেগানার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করে, অন্য পুরুষের সাথে গোপন সম্পর্ক কায়েম করে এবং তার সাথে মোবাইলে বা নেটে কথা বলে, ম্যাসেজ দিয়ে অথবা ভিডিও-চ্যাট ক'রে অথবা কোথাও গেয়ে-এসে নিজের তথা স্বামীর বদনাম করা এবং আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা মোটেই বৈধ নয়। স্বামী-গৃহে হিফাযতের সাথে থেকে তার মন মতো চলা এক আমানত। এই আমানতের খিয়ানত স্বামীর অবর্তমানে করলে নিশ্চয়ই সে সাধ্বী, সতী ও চরিত্রবতী নারী নয়। মহান আল্লাহ বলেন,
فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ الله
"সাধ্বী নারীরা অনুগতা এবং পুরুষের অনুপস্থিতিতে লোকচক্ষুর অন্তরালে নিজেদের ইজ্জত রক্ষাকারিণী। আল্লাহর হিফাযতে তারা তা হিফাযত করে।"৬৭৪
স্বামীর নিকট স্বামীর ভয়ে বা তাকে প্রদর্শন ক'রে পর্দাবিবি বা হিফাযতকারিণী সেজে তার অবর্তমানে গোপনে আল্লাহকে ভয় না ক'রে হাট-বাজার, কুটুমবাড়ি, বিয়েবাড়ি, চিত্তবিনোদন কেন্দ্র প্রভৃতি গিয়ে অথবা শ্বশুরবাড়িতে পর্দানশীন সেজে এবং বাপের বাড়িতে বেপর্দা হয়ে নিজের মন ও খেয়াল-খুশীর তাবেদারী ক'রে থাকলে সে নারী নিশ্চয় বড় ধোঁকাবাজ। প্রিয় নবী বলেন,
(ثَلاَثَةٌ لَا تَسْأَلُ عَنْهُمْ رَجُلٌ فَارَقَ الجَمَاعَةَ وعَصَى إِمَامَهُ ومات عاصياً وأمَةٌ أوْ عَبْدٌ أَبقَ مِنْ سَيِّدِهِ فَمَاتَ وامْرَأَةٌ غاب عنها زَوْجَهَا وقد كفاها مَوْنَةَ الدُّنْيا فَتَبَرَّجَتْ بَعْدَهُ فَلَا تَسْأَلُ عَنْهُمْ
"তিন ব্যক্তি সম্পর্কে কোন প্রশ্নই করো না; যে জামাআত ত্যাগ করে ইমামের অবাধ্য হয়ে মারা যায়, যে ক্রীতদাস বা দাসী প্রভু থেকে পলায়ন করে মারা যায়, এবং সেই নারী যার স্বামী অনুপস্থিত থাকলে---তার সাংসারিক সমস্ত প্রয়োজনীয় জিনিস বন্দোবস্ত করে দেওয়া সত্ত্বেও---তার অনুপস্থিতিতে বেপর্দায় বাইরে যায়।" ৬৭৫
৭. স্বামীর বৈয়াক্তিক ও সামাজিক জীবনের প্রতিও বিশেষ খেয়াল রাখা চরিত্রবতী স্ত্রীর কর্তব্য। সুতরাং তার ব্যক্তিগত কাজ-কারবার, পড়াশোনা প্রভৃতিতে ডিস্টার্ব করা বা বাধা দেওয়া হিতাকাঙ্কিনী স্ত্রীর অভ্যাস হতে পারে না।
৮. স্বামীর ঘর সংসার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং সাজিয়ে গুছিয়ে পরিপাটি ক'রে রাখা গুণবতী স্ত্রীর কর্তব্য। স্বামীর যাবতীয় খিদমত করা, ছেলে-মেয়েদেরকে পরিষ্কার ও সভ্য করে রাখাও তার দায়িত্ব। সর্বকাজ নিজের হাতে করাই উত্তম। তবুও কাজের চাপ বেশি হলে এমন দাসী ব্যবহার করতে পারে, যা তার জন্য অথবা সংসারের আর কারো জন্য সর্বনাশ বয়ে না আনে।
যেমন চরিত্রবতী স্ত্রী কেবল স্বামীর জন্য সাজ-সজ্জা ও প্রসাধন ব্যবহার করে। স্বামীর কাছে নেড়িখেড়ি থাকা ও তার অন্যান্য আত্মীয়ের কাছে প্রসাধিকা সুন্দরী সাজার অভ্যাস চরিত্রবতী স্ত্রীর হতে পারে না।
৯. স্বামীর কৃতজ্ঞতা করা। স্বামী তার স্ত্রীকে মন-প্রাণ দিয়ে ভালোবেসে থাকে। যথাসাধ্য উত্তম আহার-বসনের ব্যবস্থা ক'রে থাকে। তবুও ত্রুটি স্বাভাবিক। কিন্তু সামান্য ত্রুটি দেখে সমস্ত উপকার, উপহার ও প্রীতি-ভালোবাসাকে ভুলে যাওয়া নারীর সহজাত প্রকৃতি। কিছু শিক্ষা বা শাসনের কথা বললে মনে করে, স্বামী তাকে কোনদিন ভালোবাসে না। স্বামীর অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার মনে নিদারুণ ব্যথা দিয়ে থাকে। এটি এমন একটি কর্ম যার জন্যও মেয়েরা পুরুষদের চেয়ে অধিক সংখ্যায় জাহান্নামবাসিনী হবে। মহানবী বলেন, “আমি দেখলাম, জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসিনী হল মহিলা।” সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, 'তা কীসের জন্য হে আল্লাহর রসূল?' তিনি বললেন, "তাদের কুফরীর জন্য।" তাঁরা বললেন, 'আল্লাহর সাথে কুফরী?' তিনি বললেন,
(يَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ وَيَكْفُرْنَ الإِحْسَانَ لَوْ أَحْسَنْتَ إِلَى إِحْدَاهُنَّ الدَّهْرَ ثُمَّ رَأَتْ مِنْكَ شَيْئًا قَالَتْ مَا رَأَيْتُ مِنْكَ خَيْرًا قَط
"(না,) তারা স্বামীর কুফরী (অকৃতজ্ঞতা) ও নিমকহারামি করে। তাদের কারো প্রতি যদি সারা জীবন এহসানী কর, অতঃপর সে যদি তোমার নিকট সামান্য ত্রুটি লক্ষ্য করে, তাহলে ব'লে বসে, 'তোমার নিকট কোন মঙ্গল দেখলাম না আমি!"৬৭৬
বড় দুঃখের বিষয় যে, স্ত্রী স্বামীর নিকট থেকে যা পায়, তা কেবল নিজের প্রাপ্য ভেবেই গ্রহণ করে। এই জন্যই আধুনিক যুগের নীতি হল, 'ভালোবাসায় নো থ্যাংক, নো সোরি।' কিন্তু ইসলাম বলে, ভালোবাসার ফুল যদি কৃতজ্ঞতার শিশিরে ভিজা থাকে, তাহলে বেশি সুন্দর দেখায়। নচেৎ অবেলায় শুকিয়ে যায়। প্রিয় নবী বলেন,
(لَا يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَى امْرَأَةٍ لَا تَشْكُرُ لِزَوْجِهَا ، وَهِيَ لَا تَسْتَغْنِي عَنْهُ
"আল্লাহ সেই রমণীর দিকে তাকিয়েও দেখেন না (দেখবেন না) যে তার স্বামীর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না, অথচ সে স্বামীর অমুখাপেক্ষিনী নয়।”৬৭৭
যে মহিলা নিজ স্বামীর প্রতি কৃতঘ্ন, সে চরিত্রবতী নয়, সে মহান প্রতিপালকের প্রতিও কৃতজ্ঞ হতে পারে না। কারণ মহানবী বলেছেন,
مَنْ لَمْ يَشْكُرِ النَّاسَ ، لَمْ يَشْكُرِ اللَّهِ
"যে ব্যক্তি (উপকারী) মানুষের শুক্র করল না, সে আল্লাহর শুক্র করল না। ৬৭৮
স্বামীর কৃতজ্ঞতা আদায় করার জন্য তার প্রশংসা করে গুণবতী স্ত্রী। তবে তার প্রতিপক্ষে অন্য কোন পুরুষের প্রশংসা তার সম্মুখে করে না। যেহেতু পরোক্ষভাবে তাতে তাকে গালি দেওয়া হয়। আর তাতে ফল মন্দ হতে পারে।
১০. স্ত্রী হয় সংসারের রানী। স্বামীর ধন-সম্পদ সর্বংসহা হয় তার রাজত্ব এবং স্বামীর আমানতও। তাই তার যথার্থ হিফাযত করা এবং যথাস্থানে সঠিকভাবে তা ব্যয় করা গুণবতী স্ত্রীর কর্তব্য। অন্যায়ভাবে গোপনে ব্যয় করা, তার বিনা অনুমতিতে দান করা বা আত্মীয়-স্বজনকে উপঢৌকন দেওয়া আমানতের খিয়ানত। এমন স্ত্রী পুণ্যময়ী নয়; বরং খিয়ানতকারিণী। মহানবী বলেন,
(لَا تُنْفِقِ امْرَأَةٌ شَيْئاً مِنْ بَيْتِ زَوْجِهَا إِلَّا بِإِذْنِ زَوْجِهَا
"স্বামীর অনুমতি ছাড়া কোন স্ত্রী যেন তার ঘর থেকে কোন কিছু দান না করে।" বলা হল, 'হে আল্লাহর রসূল! খাবারও দান করতে পারে না কি?' তিনি বললেন, "খাবার তো আমাদের সর্বোত্তম মাল।”৬৭৯
১১. স্বামীর বিনা অনুমতিতে বাইরে, মার্কেট, বিয়েবাড়ি, মড়াবাড়ি ইত্যাদি না যাওয়া পতিভক্তির পরিচয়। এমনকি মসজিদে (ইমামের পশ্চাতে মহিলা জামাআতে) স্বলাত পড়তে গেলেও স্বামীর অনুমতি চাই। ৬৮০
আর এই পরাধীনতায় আছে মুক্তির পরম স্বাদ। মাতৃক্রোড় উপেক্ষা করে ঝড়-বৃষ্টি, শীত-গ্রীষ্মে যেমন শিশু নিজেকে বিপদে ফেলে, তা-এর কোল ছেড়ে ডিম যেমন ঘোলা হয়ে যায়, সুতো ছিঁড়ে স্বাধীন হয়ে ঘুড়ি যেমন ক্ষণিক উড়ে ধ্বংস হয়ে যায়, রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিমান যেমন ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, ঠিক তেমনি নারীও স্বামীর এই স্নেহ-সীমা ও বন্ধনকে উল্লংঘন করে নিজের দ্বীন ও দুনিয়া বরবাদ করে।
১২. কোন বিষয়ে স্বামী রাগান্বিত হলে চরিত্রবতী স্ত্রী বিনীতা হয়ে নীরব থাকে। নচেৎ ইটের বদলে পাটকেল ছুঁড়লে আগুনে পেট্রল পড়ে। যে সোহাগ করে, তার শাসন করার অধিকার আছে। আর এ শাসন স্ত্রী ঘাড় পেতে মেনে নিতে বাধ্য। ভুল হলে ক্ষমা চাইবে। যেহেতু স্বামী বয়সে ও মর্যাদায় বড়। ক্ষমা প্রার্থনায় অপমান নয়; বরং মানুষের মান বর্ধমান হয়; ইহকালে এবং পরকালেও। তাছাড়া অহংকার ও ঔদ্ধত্যের সাথে 'বেশ করেছি, অত পারি না' ইত্যাদি বলে অনমনীয়তা প্রকাশ গুণবতী সতী নারীর ধর্ম নয়। সুতরাং স্বামীর রাগের আগুনকে অহংকার ও ঔদ্ধত্যের পেট্রল দ্বারা নয় বরং বিনয়ের পানি দ্বারা নির্বাপিত করা উচিত। প্রিয় নবী বলেন,
( وَنِسَاؤُكُمْ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ الْوَدُودُ الوَلُودُ العَؤُودُ عَلَى زَوْجِهَا الَّتِي إِذَا غَضِبَ جَاءَتْ حَتَّى تَضَعَ يَدَهَا فِي يَدِ زَوْجِهَا ، وَتَقُولُ : لَا أُذُوقُ غَيْضاً حَتَّى تَرْضَى
"তোমাদের স্ত্রীরাও জান্নাতী হবে; যে স্ত্রী অধিক প্রণয়িণী, সন্তানদাত্রী, বার- বার ভুল করে বার-বার স্বামীর নিকট আত্মসমর্পণকারিণী, যার স্বামী রাগ করলে সে তার নিকট এসে তার হাতে হাত রেখে বলে, আপনি রাজি (ঠাণ্ডা) না হওয়া পর্যন্ত আমি ঘুমাবই না।”৬৮১
স্বামীকে সন্তুষ্ট ও রাজী করবার জন্য ইসলাম এক প্রকার মিথ্যা বলাকেও স্ত্রীর জন্য বৈধ করেছে।
উম্মে কুলসুম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'আমি নবী কে কেবলমাত্র তিন অবস্থায় মিথ্যা বলার অনুমতি দিতে শুনেছি : যুদ্ধের ব্যাপারে, লোকের মধ্যে আপোস-মীমাংসা করার সময় এবং স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের (প্রেম) আলাপ-আলোচনায়। '৬৮২
'ললনার ছলনা' যদিও মন্দ বলে প্রসিদ্ধ, তবুও স্বামীর মনকে ভোলানোর জন্য, তাকে খোশ করার জন্য, তার মনকে নিজের মনোকারাগারে চিরবন্দী করে রাখার জন্য ছলনা করা এবং প্রেমের অভিনয় করা বড় ফলপ্রসূ। প্রেমের শিশমহল বড় ভঙ্গুর। সুতরাং ভাঙ্গা প্রেমের মহল বহাল রাখতে ছলনা ও প্রেমের অভিনয় যদি কাজে দেয়, তাহলে চরিত্রবতী স্ত্রীকে তা করা উচিত।
১৩. স্বামীর সংসারে তার পিতামাতা ও বোনদের সাথে সদ্ব্যবহার করা গুণবতী স্ত্রীর অন্যতম কর্তব্য। স্বামীর মা-বাপ ও বোনকে নিজের মা-বাপ ও বোন ধারণা করে সংসারের প্রত্যেক কাজ তাদের পরামর্শ নিয়ে করা, যথাসাধ্য তাদের খিদমত করা এবং তাদের (বৈধ) আদেশ-নিষেধ মেনে চলা পুণ্যময়ী সাধ্বী নারীর কর্তব্য।
১৪. নিজের এবং অনুরূপ স্বামীর সন্তান-সন্ততির লালন-পালন, তরবিয়ত ও শিক্ষা দেওয়া স্ত্রীর শিরোধার্য কর্তব্য। এর জন্য তাকে ধৈর্য, স্থৈর্য, করুণা ও স্নেহের পথ অবলম্বন করা একান্ত উচিত। বিশেষ করে স্বামীর সামনে সন্তানের উপর রাগ না ঝাড়া, গালিমন্দ, বদ্দুআ ও মারধর না করা স্ত্রীর আদবের পরিচয়। মহানবী বলেছেন,
(كُلُّكُم رَاعٍ ، وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ: وَالْأَمِيرُ رَاعٍ ، وَالرَّجُلُ رَاعٍ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ ، وَالمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ عَلَى بَيْتِ زَوْجِهَا وَوَلَدِهِ ، فَكُلُّكُمْ رَاعٍ ، وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ
“প্রতিটি মানুষই দায়িত্বশীল। সুতরাং প্রত্যেকেই অবশ্যই তার অধীনস্থদের দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। দেশের শাসক জনগণের দায়িত্বশীল। সে তার দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জবাবদিহী করবে। একজন পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল। অতএব সে তার দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামী ও সন্তানের দায়িত্বশীলা। কাজেই সে তার দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিতা হবে। তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। অতএব প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনস্থের দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।”৬৮৩
১৫. চরিত্রবতী স্ত্রী স্বামীর মুখের উপর মুখ চালায় না, ধমক দিয়ে কথা বলে না, একটা কথা শুনে একশ'টা কথা শোনায় না, লজ্জা বা গালি দিয়ে ভর্ৎসনা করে না, অপরের সামনে কটু কথা শুনিয়ে তাকে লাঞ্ছিত করে না।
মহানবী বলেছেন, “সৌভাগ্যের স্ত্রী সেই; যাকে দেখে স্বামী মুগ্ধ হয়। সংসার ছেড়ে বাইরে গেলে স্ত্রী ও তার সম্পদের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকে। আর দুর্ভাগার স্ত্রী হল সেই; যাকে দেখে স্বামীর মন তিক্ত হয়, যে স্বামীর উপর জিভ লম্বা করে (লানতান করে) এবং সংসার ছেড়ে বাইরে গেলে ঐ স্ত্রী ও তার সম্পদের ব্যাপারে সে নিশ্চিন্ত হতে পারে না।”৬৮৪
যে স্ত্রী স্বামীর উপর মুখ চালায়, সম্পদ বা আভিজাত্যের অহংকারবশতঃ স্বামীকে নিজের অযোগ্য মনে করে, বুড়ো হওয়ার আগেই তাকে 'বুড়ো' বানায়, সে স্ত্রী চরিত্রবতী নয়। সেই শ্রেণীর স্ত্রী থেকে আল্লাহর আশ্রয় কামনা করা উচিত। মহানবী তাই করতেন, তিনি বলতেন,
(اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ جَارِ السُّوءِ، وَمِنْ زَوجٍ تُشَيِّبُنِي قَبْلَ الْمَشِيبِ، وَمِنْ وَلَدٍ يَكُونُ عَلَيَّ رَبِّاً، وَمِنْ مَالٍ يَكُونُ عَلَيَّ عَذَاباً، وَمِنْ خَلِيلٍ مَاكِرٍ عَيْنُهُ تَرَانِي ، وَقَلْبُهُ يَرْعَانِي إِنْ رَأَى حَسَنَةً دَفَنَهَا، وَإِنْ رَأَى سَيِّئَةً أَذَاعَهَا)
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি মন্দ প্রতিবেশী থেকে, এমন স্ত্রী থেকে, যে বৃদ্ধ হওয়ার আগেই আমাকে বৃদ্ধ বানাবে, এমন সন্তান থেকে, যে আমার প্রভু হতে চাইবে, এমন মাল থেকে, যা আমার জন্য আযাব হবে, এবং এমন ধূর্ত বন্ধু থেকে, যার চোখ আমাকে দেখে এবং তার হৃদয় আমার প্রতি লক্ষ্য রাখে, অতঃপর ভাল কিছু দেখলে তা পুঁতে ফেলে এবং খারাপ কিছু দেখলে তা প্রচার করে। ৬৮৫
১৬. চরিত্রবতী স্ত্রী স্বামীর কোন রহস্য বা গোপন কথা প্রকাশ করে না; না সাংসারিক কোন কথা, আর না-ই যৌন-মিলন সংক্রান্ত কোন কথা। যেহেতু তা এক আমানত। আর আমানতে খিয়ানত করা বৈধ নয়। মহানবী বলেছেন,
إِنَّ مِنْ أَشَرِّ النَّاسِ عِنْدَ اللهِ مَنْزِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ الرَّجُلَ يُفْضِي إِلَى امْرَأَتِهِ وَتُفْضِي إِلَيْهِ ثُمَّ يَنْشُرُ سِرَّهَا
"কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট মানের দিক থেকে সবচেয়ে জঘন্য মানের ব্যক্তি হল সে, যে স্বামী স্ত্রী-মিলন করে এবং যে স্ত্রী স্বামী-মিলন করে, অতঃপর একে অন্যের মিলন-রহস্য (অপরের নিকট) প্রচার করে।"৬৮৬
১৭. স্বামী-সংসারে যতই কষ্ট হোক, চরিত্রবতী স্ত্রী ধৈর্যধারণ করে, স্বামীর ভুলকে ক্ষমা করে এবং শরীয়ত-সম্মত কারণ ছাড়া কথায় কথায় তালাক বা বিবাহ-বিচ্ছেদ চায় না। যেহেতু মহানবী বলেছেন,
أَيُّمَا امْرَأَةٍ سَأَلَتْ زَوْجَهَا الطَّلَاقَ مِنْ غَيْرِ مَا بَأْسٍ فَحَرَامٌ عَلَيْهَا رَائِحَةُ الْجَنَّةِ
"যে স্ত্রীলোক অকারণে তার স্বামীর নিকট থেকে তালাক চাইবে সে স্ত্রীলোকের জন্য জান্নাতের সুগন্ধও হারাম হয়ে যাবে।”৬৮৭
الْمُخْتَلِعَاتُ وَالْمُنْتَزِعَاتُ هُنَّ الْمُنَافِقَاتُ
নবী বলেন, "খোলা তালাক প্রার্থিনী এবং বিবাহ-বন্ধন ছিন্নকারিণীরা মুনাফিক মেয়ে।"৬৮৮

টিকাঃ
৬৬০. তাবারানী, ইবনে হিব্বান, আহমাদ প্রভৃতি, মিশকাত ৩২৫৪
৬৬১. আহমাদ, নাসাঈ, হাকেম, সিঃ সহীহাহ ১৮৩৮
৬৬২. ত্বাবারানী ১৪৭৯৫, আহমাদ ২০৬৫৩
৬৬৩. সূরা নিসা: ৩৪
৬৬৪. তিরমিযী, মিশকাত ৩২৫৫
৬৬৫. ইবনে আবী শাইবাহ, নাসাঈ, ত্বাবারানী, হাকেম, প্রভৃতি, আদাবুয যিফাফ ২৮৫পৃঃ
৬৬৬. হাকেম, ইবনে হিব্বان, ইবনে আবী শাইবাহ, সঃ জামে' ৩১৪৮
৬৬৭. ত্বাবারানী, সঃ জামে' ৫২৫৯
৬৬৮. ইবনে মাজাহ, আহমাদ, ইবনে হিব্বান
৬৬৯. ত্বাবারানী, হাকেম, সিঃ সহীহাহ ২৬৮
৬৭০. ইবনে খুযাইমা ১৫১৮, সিঃ সহীহাহ ৬৫০
৬৭১. মুসলিম ১৪৩৬
৬৭২. বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, আহমাদ, প্রভৃতি
৬৭৩. বুখারী ৫১৯৫, মুসলিম ২৪১৭নং প্রমুখ
৬৭৪. সূরা নিসা: ৩৪
৬৭৫
৬৭৬. বুখারী, মুসলিম
৬৭৭. নাসাঈ, সিঃ সহীহাহ ২৮৯
৬৭৮. আহমাদ ১১২৮০, তিরমিযী ১৯৫৫
৬৭৯. তিরমিযী, সহীহ তারগীব ৯৪৩
৬৮০. আহকামুন নিসা ১/২৭৫-২৭৬
৬৮১. ত্বাবারানী, দারাকুত্বনী, সিঃ সহীহাহ ২৮৭
৬৮২. মুসলিম ৬৭৯৯
৬৮৩. বুখারী ও মুসলিম
৬৮৪. হাকেম ২৬৮৪, সিলসিলাহ সহীহাহ ১০৪৭
৬৮৫. ত্বাবারানী, সিঃ সহীহাহ ৩১৩৭
৬৮৬. মুসলিম ৩৬১৫, আবু দাউদ ৪৮৭০
৬৮৭. আহমাদ ২২৩৭৯, আবু দাউদ ২২২৬, তিরমিযী ১১৮৭, ইবনে মাজাহ ২০৫৫, ইবনে হিব্বান, বাইহাকী ৭/৩১৬, সহীহুল জামে' ২৭০৬
৬৮৮. আহমাদ ৯৩৫৮, নাসাঈ ৩৪৬১, বাইহাকী, সিলসিলাহ সহীহাহ ৬৩২

চরিত্রবতী স্বামী-সোহাগিনী নারী স্বামীর সাথে সদ্ব্যবহার করে। যত সুন্দর চরিত্র-গুণ আছে স্বামীর সাথে প্রয়োগ করে।
১. চরিত্রবতী স্ত্রী স্বামীর আদেশ পালন করে। তার মনের বিরোধিতা করে না। সে যেমন বলে, তেমন চলে। অবশ্য বৈধ বিষয়ে, অবৈধ বিষয়ে নয়। স্বামীর অনুগতা হওয়া বেহেস্তী স্ত্রীর পরিচয়। প্রিয় নবী বলেন,
إِذَا صَلَّتِ الْمَرْأَةُ خَمْسَهَا، وَصَامَتْ شَهْرَهَا ، وَحَصَّنَتْ فَرْجَهَا، وَأَطَاعَتْ بَعْلَهَا، دَخَلَتْ مِنْ أَيِّ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ شَاءَتْ
"রমণী তার পাঁচ ওয়াক্তের স্বলাত পড়লে, রমযানের সিয়াম পালন করলে, ইজ্জতের হিফাযত করলে ও স্বামীর তাবেদারী করলে জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছামত প্রবেশ করতে পারবে।”৬৬০
এমন গুণবতী হল সর্বশ্রেষ্ঠ স্ত্রী। মহানবী বলেছেন,
خَيْرُ النِّسَاءِ الَّتِي تَسُرُّهُ إِذا نَظَرَ وَتُطِيعُهُ إِذا أَمَرَ ولا تُخَالِفُهُ فِي نَفْسِها ولا مالها بِمَا يَكْرَهُ
"সর্বশ্রেষ্ঠ রমণী সেই, যার প্রতি তার স্বামী দৃকপাত করলে সে তাকে খোশ করে দেয়, কোন আদেশ করলে তা পালন করে এবং তার জীবন ও সম্পদে স্বামীর অপছন্দনীয় বিরুদ্ধাচরণ করে না। ৬৬১
তবে আনুগত্যের ক্ষেত্রে মহানবী এর এ নির্দেশ অবশ্যই মনে রাখতে হবে,
لا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ
"স্রষ্টার অবাধ্যতা করে কোন সৃষ্টির আনুগত্য নেই। "৬৬২
২. চরিত্রবতী স্ত্রী স্বামীকে যেমন ভালোবাসে, তেমনি শ্রদ্ধাও করে। যেহেতু স্ত্রীর নিকট স্বামীর মর্যাদা বিরাট। এই মর্যাদার কথা ইসলাম নিজে ঘোষণা করেছে। মহান আল্লাহ বলেছেন,
الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاء بِمَا فَضَّل الله بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ
অর্থাৎ, পুরুষ নারীর কর্তা। কারণ, আল্লাহ তাদের এককে রের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং এ জন্য যে পুরুষ (তাদের জন্য) ধন ব্যয় করে। ৬৬৩
স্বামী শুধু স্ত্রীর কর্তাই নয়, বরং সে তার সিজদাযোগ্য শ্রদ্ধেয় ও মাননীয়। তবে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা যেহেতু হারাম, তাই ইসলামে তাকে সিজদা করতে আদেশ দেওয়া হয়নি। মহানবী বলেছেন,
لَوْ كُنْتُ آمِرًا أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لِأَحَدٍ لَأَمَرْتُ الْمَرْأَةَ أَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا
"যদি আমি কাউকে কারো জন্য সিজদা করতে আদেশ করতাম, তাহলে নারীকে আদেশ করতাম, সে যেন তার স্বামীকে সিজদা করে।”৬৬৪
প্রিয় নবী বলেন, "স্ত্রীর জন্য স্বামী তার জান্নাত অথবা জাহান্নাম।"৬৬৫
অর্থাৎ, স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য হলে পরকালে তার স্থান হবে জাহান্নামে। আর বাধ্য হয়ে তাকে খোশ রাখতে পারলে তার স্থান হবে জান্নাতে।
স্ত্রীর উপর স্বামীর এত বড় মর্যাদা ও অধিকার রয়েছে যে, যতই সে তা প্রাণপণ দিয়ে আদায় করার চেষ্টা করুক, পরিপূর্ণরূপে তা আদায় করতে সক্ষম নয়। 'অত পারি না' বলে যে স্ত্রীরা মুখ ঘুরায়, নাক বাঁকায় অথবা কোন ওজুহাতে বা ছলবাহানা করে স্বামীর খিদমতে ফাঁকি দেয়, তারা চরিত্রবতী স্ত্রী নয়। মহানবী বলেছেন,
مِن حَقِّ الزَّوجِ عَلَى زَوجَتِهِ إِن سَالَ دَماً وَقَيحاً وَصَدِيداً فَلَحَسَتَهُ بِلِسَانِهَا مَا أَدَّتْ حَقَّهُ
"স্ত্রীর কাছে স্বামীর এমন অধিকার আছে যে, স্ত্রী যদি স্বামীর দেহের ঘা চেঁটেও থাকে, তবুও সে তার যথার্থ হক আদায় করতে পারবে না। "৬৬৬
অন্য এক হাদীসে তিনি বলেছেন,
(فَإِنَّ الْمَرْأَةَ لَوْ تَعْلَمُ مَا حَقٌّ زَوْجِهَا ، لَمْ تَزَلْ قَائِمَةً مَا حَضَرَ غَدَاؤُهُ وَعَشَاؤُهُ
"মহিলা যদি নিজ স্বামীর হক (যথার্থরূপে) জানতো, তাহলে তার দুপুর অথবা রাতের খাবার খেয়ে শেষ না করা পর্যন্ত সে (তার পাশে) দাঁড়িয়ে থাকতো। "৬৬৭
প্রেম-ভালোবাসার মাঝেই এত বড় প্রাপ্য অধিকার স্বামীর। আধুনিকারা তা স্বীকার না করলেও সে অধিকার আদায় না করা পর্যন্ত নিজ সৃষ্টিকর্তার অধিকার আদায় করতে পারবে না কোন নারী। সে অধিকার লংঘিত হলে এবং স্বামী ক্ষমা না করলে মহান আল্লাহ স্ত্রীকে ক্ষমা করবেন না। এমন মেয়েদের দ্বারা আপন প্রতিপালকের হক আদায় হয় না। মহানবী বলেছেন,
(وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لاَ تُؤَدِّي المَرْأَةُ حَقَّ رَبِّهَا حَتَّى تُؤدِّيَ حَقَّ زَوْجِهَا كُلَّهُ حَتَّى لَوْ سَأَلَهَا نَفْسَهَا وَهِيَ عَلَى قَتَبٍ لَمْ تَمْنَعُهُ
"তাঁর শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ আছে! নারী তার প্রতিপালকের হক ততক্ষণ পর্যন্ত আদায় করতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার স্বামীর হক আদায় করেছে। সওয়ারীর পিঠে থাকলেও যদি স্বামী তার মিলন চায়, তবে সে বাধা দিতে পারবে না।"৬৬৮
৩. চরিত্রবতী স্ত্রী স্বামীকে সর্বতোভাবে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করে এবং তাকে কোন প্রকার কষ্ট দেয় না।
অনেক স্ত্রী ধনী বলে ধনের গর্বে স্বামীকে পাত্তা দেয় না। সময়ে খিদমত করে না, প্রয়োজনে মিলন দেয় না।
স্ত্রী অধিক শিক্ষিতা বলে অথবা চাকরি করে বলে স্বামীকে চাকর বানিয়ে রাখে।
স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করেছে বলে স্ত্রী তাকে 'স্বামী' না ভেবে 'আসামী' ভাবে।
নিজের ছেলেমেয়ে বড় হয়ে পায়ের তলায় মাটি হয়েছে বলে স্বামীর কোন মর্যাদা রক্ষা করে না। তার কোন অধিকার আছে বলেও মনে করে না।
স্বামী অসুস্থ অথবা যৌবনহারা হলে স্ত্রী আর তাকে গুরুত্ব দেয় না। অনেক স্ত্রী তাকে ঘৃণা করে, বর্জন করে এবং অন্য পুরুষের দিকে আকৃষ্টা হয়।
অনেক স্ত্রী নিজ ভাই, ছেলে বা জামাইয়ের সহযোগিতায় নিরীহ স্বামীকে ঘর ছাড়তে বাধ্য করে!
একই বাড়িতে বসবাস ক'রে পৃথক খাওয়া-শোওয়ার কথাও শোনা যায় অনেক স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপারে।
এমন স্ত্রীরা যে চরিত্রবতী স্ত্রী নয়, তা বলাই বাহুল্য।
বান্দার হক আদায় না করা পর্যন্ত আল্লাহর হক আদায় করা সম্ভব নয়। বান্দার হক বিনষ্ট করলে আল্লাহ তাঁর আদায়কৃত হক গ্রহণ করেন না। কোন ক্রীতদাস নিজ প্রভুর অবাধ্য হলে মহান প্রভুরও অবাধ্যতা হয়। কোন স্ত্রী নিজ স্বামীকে খোশ করতে না পারলে তার প্রতি মহান স্বামীও নাখোশ থাকেন।
কোন সতী পতিকে সন্তুষ্ট না করতে পারলে বিশ্বাধিপতিও তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকেন। তার প্রাত্যহিকী ইবাদত রদ করে থাকেন। মহানবী বলেছেন,
اثْنَانِ لَا تُجَاوِزُ صَلَاتُهُمَا رُءُوسَهُمَا : عَبْدٌ آبِقٌ مِنْ مَوَالِيهِ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَيْهِمْ ، وَامْرَأَةٌ عَصَتْ زَوْجَهَا حَتَّى تَرْجِعَ
"দুই ব্যক্তির স্বলাত তাদের মাথা অতিক্রম করে না (কবুল হয় না); সেই ক্রীতদাস যে তার প্রভুর নিকট থেকে পলায়ন করেছে, সে তার নিকট ফিরে না আসা পর্যন্ত এবং যে স্ত্রী তার স্বামীর অবাধ্যাচরণ করেছে, সে তার বাধ্য না হওয়া পর্যন্ত (স্বলাত কবুল হয় না।)”৬৬৯
(ثَلاثَةٌ لا يُقبَلُ منهم صَلاةٌ وَلَا تَصْعَدُ إِلَى السَّمَاءِ وَلَا تَجَاوِزُ رُءُوسُهُم : رَجُلٌ أَمَّ قَوْماً وَهُم لَه كَارِهُونَ ، وَرَجُلٌ صَلَّى عَلَى جَنَازَةٍ وَلَمْ يُؤْمَرٍ ، وَامْرَأَةُ دَعَاهَا زَوجُهَا من اللَّيْلِ فَأَبَتْ عَلَيْهِ
"তিন ব্যক্তির স্বলাত কবুল হয় না, আকাশের দিকে উঠে না; মাথার উপরে যায় না; এমন ইমাম যার ইমামতি (অধিকাংশ) লোকে অপছন্দ করে, বিনা আদেশে যে কারো জানাযা পড়ায়, এবং রাত্রে সঙ্গমের উদ্দেশ্যে স্বামী ডাকলে যে স্ত্রী তাতে অসম্মত হয়। ৬৭০
৪. চরিত্রবতী স্ত্রী স্বামীর যৌন-আহবানে সত্বর সাড়া দেয়। যৌন-বাজারে স্বামী-স্ত্রী চার শ্রেণীর হয়ে থাকে। তার মধ্যে স্বামী গরম ও স্ত্রী ঠাণ্ডা হলেও যথাসাধ্য স্বামীকে পরিতৃপ্ত করা চরিত্রবতী স্ত্রীর আচরণ। যেহেতু স্বামীর বিছানার অধিকার একটি বড় অধিকার। শয্যাসঙ্গিনী না হয়ে স্বামীকে অসন্তুষ্ট রাখলে, বিশ্বস্বামীও অসন্তুষ্ট থাকেন। মহানবী বলেছেন,
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا مِنْ رَجُلٍ يَدْعُو امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهَا فَتَأْبَى عَلَيْهِ إِلَّا كَانَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ سَاخِطًا عَلَيْهَا حَتَّى يَرْضَى عَنْهَا »
"সেই আল্লাহর কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! কোন স্বামী তার স্ত্রীকে নিজ বিছানার দিকে আহবান করার পর সে আসতে অস্বীকার করলে যিনি আকাশে আছেন তিনি (আল্লাহ) তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকেন, যে পর্যন্ত না স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যায়।”৬৭১
বিবাহের একটি মহান উদ্দেশ্য যৌনক্ষুধা নিবারণ করা। অনেক সময় স্বামীর চাহিদা বেশী থাকে, কিন্তু স্ত্রীর থাকে না। হয়তো স্বামীর অতি সহবাসের ফলে তার নিজের সীমিত চাহিদা পূরণ হয়ে যায়। অথবা গোসল ইত্যাদি অন্য কোন ওজুহাত দেখিয়ে স্বামীর অভিসারের ইঙ্গিত সে এড়িয়ে চলে। এতে স্বামীর অধিকার লংঘন হয়। কোন শারীরিক অসুবিধা না থাকলে স্ত্রীর তাতে অসম্মত হওয়া বৈধ নয়। কারণ সে যদি অকারণে সে অধিকার আদায় না ক'রে স্বামীকে রাগান্বিত রাখে, তাহলে ফিরিস্তাবর্গও তাকে অভিশাপ করেন। মহানবী বলেছেন,
(إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ إلى فِراشِهِ فَأَبَتْ فَبَاتَ غَضْبَانَ عَلَيْهَا لَعَنَتُهَا المَلَائِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ
"স্বামী যখন তার স্ত্রীকে নিজ বিছানার দিকে (সঙ্গম করতে) আহ্বান করে, তখন যদি স্ত্রী আসতে অস্বীকার করে, অতঃপর সে তার উপর রাগান্বিত অবস্থায় রাত্রি কাটায়, তবে সকাল পর্যন্ত ফিরিস্তাবর্গ তার উপর অভিশাপ করতে থাকেন।"৬৭২
(إذا باتتِ المَرْأةُ هاجِرَةً فِراشَ زَوْجِهَا لَعَنَتْهَا المَلَائِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ
"যখন স্ত্রী নিজ স্বামীর বিছানা ত্যাগ করে (অন্যত্র) রাত্রিযাপন করে, তখন ফিরিস্তাবর্গ সকাল পর্যন্ত তাকে অভিশাপ দিতে থাকেন।"
অন্য এক বর্ণনায় আছে,
(لَعَنَتْهَا الْمَلَائِكَةُ حَتَّى تَرْجِعَ
"যতক্ষণ পর্যন্ত না স্বামীর বিছানায় ফিরে এসেছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ফিরিস্তাগণ তার উপর অভিশাপ করতে থাকেন।"
চরিত্রবতী স্ত্রী যেমন নিজ প্রতিপালককে সন্তুষ্ট রাখে, তেমনই সন্তুষ্ট রাখে নিজ প্রাণপতিকে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রতিপালকের নফল ইবাদতের তুলনায় স্বামীকে পরিতৃপ্ত রাখার গুরুত্ব বেশি। তাই কোন স্ত্রী তার স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ব্যতীত নফল সিয়াম রাখতে পারে না। মহানবী বলেছেন,
لَا يَحِلُّ لِلْمَرْأَةِ أَنْ تَصُومَ وَزَوْجُهَا شَاهِدٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ وَلَا تَأْذَنَ فِي بَيْتِهِ إِلَّا بِإِذْنِهِ
"মহিলার জন্য এ হালাল নয় যে, তার স্বামী (ঘরে) উপস্থিত থাকাকালে তার বিনা অনুমতিকে সে (নফল) সিয়াম রাখে এবং তার বিনা অনুমতিতে স্বামীর ঘরে প্রবেশ করতে কাউকে অনুমতি দেয়।"৬৭৩
বলাই বাহুল্য যে, অধিকাংশ তালাক ও দ্বিতীয় বিবাহের কারণ হল স্বামীর আহ্বানে স্ত্রীর যথাসময়ে সাড়া না দেওয়া। উক্ত অধিকার পালনেই স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন মজবুত ও মধুর থাকে, নচেৎ দাম্পত্যের মধু কদুতে পরিণত হয়। সে ক্ষেত্রে দেহের ভালোবাসা দিয়েই চালাক স্ত্রী স্বামীর মনকে বন্দী রাখে।
৫. স্বামীর অভিপ্রায় ও চাহিদার খেয়াল রাখা গুণবতী স্ত্রীর কর্তব্য। স্বামী বাইরে থেকে এসে যেন অপ্রীতিকর কিছু দেখতে, শুনতে, শুঁকতে বা অনুভব করতে না পারে। পুরুষ বাইরে কর্মব্যস্ততায় জ্বলে-পুড়ে বাড়িতে এসে যদি স্ত্রীর হাসিমুখ ও দেহ-সংসারের পারিপাট্য না পেল, তাহলে তার আর সুখ কোথায়? সংসারে তার মত দুর্ভাগা ব্যক্তি আর কেউ নেই, যাকে বাইরে মেহনতে জ্বলে এসে বাড়িতে স্ত্রীর তাপেও জ্বলতে হয়।
৬. স্বামীর দ্বীন ও ইজ্জতের খেয়াল করা ওয়াজেব। বেপর্দা, টো-টো কোম্পানী হয়ে, পাড়াকুঁদুলী হয়ে, দরজা, জানালা বা ছাদ হতে উঁকি ঝুঁকি মেরে, স্বামীর অবর্তমানে কোন বেগানার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করে, অন্য পুরুষের সাথে গোপন সম্পর্ক কায়েম করে এবং তার সাথে মোবাইলে বা নেটে কথা বলে, ম্যাসেজ দিয়ে অথবা ভিডিও-চ্যাট ক'রে অথবা কোথাও গেয়ে-এসে নিজের তথা স্বামীর বদনাম করা এবং আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা মোটেই বৈধ নয়। স্বামী-গৃহে হিফাযতের সাথে থেকে তার মন মতো চলা এক আমানত। এই আমানতের খিয়ানত স্বামীর অবর্তমানে করলে নিশ্চয়ই সে সাধ্বী, সতী ও চরিত্রবতী নারী নয়। মহান আল্লাহ বলেন,
فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ الله
"সাধ্বী নারীরা অনুগতা এবং পুরুষের অনুপস্থিতিতে লোকচক্ষুর অন্তরালে নিজেদের ইজ্জত রক্ষাকারিণী। আল্লাহর হিফাযতে তারা তা হিফাযত করে।"৬৭৪
স্বামীর নিকট স্বামীর ভয়ে বা তাকে প্রদর্শন ক'রে পর্দাবিবি বা হিফাযতকারিণী সেজে তার অবর্তমানে গোপনে আল্লাহকে ভয় না ক'রে হাট-বাজার, কুটুমবাড়ি, বিয়েবাড়ি, চিত্তবিনোদন কেন্দ্র প্রভৃতি গিয়ে অথবা শ্বশুরবাড়িতে পর্দানশীন সেজে এবং বাপের বাড়িতে বেপর্দা হয়ে নিজের মন ও খেয়াল-খুশীর তাবেদারী ক'রে থাকলে সে নারী নিশ্চয় বড় ধোঁকাবাজ। প্রিয় নবী বলেন,
(ثَلاَثَةٌ لَا تَسْأَلُ عَنْهُمْ رَجُلٌ فَارَقَ الجَمَاعَةَ وعَصَى إِمَامَهُ ومات عاصياً وأمَةٌ أوْ عَبْدٌ أَبقَ مِنْ سَيِّدِهِ فَمَاتَ وامْرَأَةٌ غاب عنها زَوْجَهَا وقد كفاها مَوْنَةَ الدُّنْيا فَتَبَرَّجَتْ بَعْدَهُ فَلَا تَسْأَلُ عَنْهُمْ
"তিন ব্যক্তি সম্পর্কে কোন প্রশ্নই করো না; যে জামাআত ত্যাগ করে ইমামের অবাধ্য হয়ে মারা যায়, যে ক্রীতদাস বা দাসী প্রভু থেকে পলায়ন করে মারা যায়, এবং সেই নারী যার স্বামী অনুপস্থিত থাকলে---তার সাংসারিক সমস্ত প্রয়োজনীয় জিনিস বন্দোবস্ত করে দেওয়া সত্ত্বেও---তার অনুপস্থিতিতে বেপর্দায় বাইরে যায়।" ৬৭৫
৭. স্বামীর বৈয়াক্তিক ও সামাজিক জীবনের প্রতিও বিশেষ খেয়াল রাখা চরিত্রবতী স্ত্রীর কর্তব্য। সুতরাং তার ব্যক্তিগত কাজ-কারবার, পড়াশোনা প্রভৃতিতে ডিস্টার্ব করা বা বাধা দেওয়া হিতাকাঙ্কিনী স্ত্রীর অভ্যাস হতে পারে না।
৮. স্বামীর ঘর সংসার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং সাজিয়ে গুছিয়ে পরিপাটি ক'রে রাখা গুণবতী স্ত্রীর কর্তব্য। স্বামীর যাবতীয় খিদমত করা, ছেলে-মেয়েদেরকে পরিষ্কার ও সভ্য করে রাখাও তার দায়িত্ব। সর্বকাজ নিজের হাতে করাই উত্তম। তবুও কাজের চাপ বেশি হলে এমন দাসী ব্যবহার করতে পারে, যা তার জন্য অথবা সংসারের আর কারো জন্য সর্বনাশ বয়ে না আনে।
যেমন চরিত্রবতী স্ত্রী কেবল স্বামীর জন্য সাজ-সজ্জা ও প্রসাধন ব্যবহার করে। স্বামীর কাছে নেড়িখেড়ি থাকা ও তার অন্যান্য আত্মীয়ের কাছে প্রসাধিকা সুন্দরী সাজার অভ্যাস চরিত্রবতী স্ত্রীর হতে পারে না।
৯. স্বামীর কৃতজ্ঞতা করা। স্বামী তার স্ত্রীকে মন-প্রাণ দিয়ে ভালোবেসে থাকে। যথাসাধ্য উত্তম আহার-বসনের ব্যবস্থা ক'রে থাকে। তবুও ত্রুটি স্বাভাবিক। কিন্তু সামান্য ত্রুটি দেখে সমস্ত উপকার, উপহার ও প্রীতি-ভালোবাসাকে ভুলে যাওয়া নারীর সহজাত প্রকৃতি। কিছু শিক্ষা বা শাসনের কথা বললে মনে করে, স্বামী তাকে কোনদিন ভালোবাসে না। স্বামীর অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার মনে নিদারুণ ব্যথা দিয়ে থাকে। এটি এমন একটি কর্ম যার জন্যও মেয়েরা পুরুষদের চেয়ে অধিক সংখ্যায় জাহান্নামবাসিনী হবে। মহানবী বলেন, “আমি দেখলাম, জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসিনী হল মহিলা।” সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, 'তা কীসের জন্য হে আল্লাহর রসূল?' তিনি বললেন, "তাদের কুফরীর জন্য।" তাঁরা বললেন, 'আল্লাহর সাথে কুফরী?' তিনি বললেন,
(يَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ وَيَكْفُرْنَ الإِحْسَانَ لَوْ أَحْسَنْتَ إِلَى إِحْدَاهُنَّ الدَّهْرَ ثُمَّ رَأَتْ مِنْكَ شَيْئًا قَالَتْ مَا رَأَيْتُ مِنْكَ خَيْرًا قَط
"(না,) তারা স্বামীর কুফরী (অকৃতজ্ঞতা) ও নিমকহারামি করে। তাদের কারো প্রতি যদি সারা জীবন এহসানী কর, অতঃপর সে যদি তোমার নিকট সামান্য ত্রুটি লক্ষ্য করে, তাহলে ব'লে বসে, 'তোমার নিকট কোন মঙ্গল দেখলাম না আমি!"৬৭৬
বড় দুঃখের বিষয় যে, স্ত্রী স্বামীর নিকট থেকে যা পায়, তা কেবল নিজের প্রাপ্য ভেবেই গ্রহণ করে। এই জন্যই আধুনিক যুগের নীতি হল, 'ভালোবাসায় নো থ্যাংক, নো সোরি।' কিন্তু ইসলাম বলে, ভালোবাসার ফুল যদি কৃতজ্ঞতার শিশিরে ভিজা থাকে, তাহলে বেশি সুন্দর দেখায়। নচেৎ অবেলায় শুকিয়ে যায়। প্রিয় নবী বলেন,
(لَا يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَى امْرَأَةٍ لَا تَشْكُرُ لِزَوْجِهَا ، وَهِيَ لَا تَسْتَغْنِي عَنْهُ
"আল্লাহ সেই রমণীর দিকে তাকিয়েও দেখেন না (দেখবেন না) যে তার স্বামীর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না, অথচ সে স্বামীর অমুখাপেক্ষিনী নয়।”৬৭৭
যে মহিলা নিজ স্বামীর প্রতি কৃতঘ্ন, সে চরিত্রবতী নয়, সে মহান প্রতিপালকের প্রতিও কৃতজ্ঞ হতে পারে না। কারণ মহানবী বলেছেন,
مَنْ لَمْ يَشْكُرِ النَّاسَ ، لَمْ يَشْكُرِ اللَّهِ
"যে ব্যক্তি (উপকারী) মানুষের শুক্র করল না, সে আল্লাহর শুক্র করল না। ৬৭৮
স্বামীর কৃতজ্ঞতা আদায় করার জন্য তার প্রশংসা করে গুণবতী স্ত্রী। তবে তার প্রতিপক্ষে অন্য কোন পুরুষের প্রশংসা তার সম্মুখে করে না। যেহেতু পরোক্ষভাবে তাতে তাকে গালি দেওয়া হয়। আর তাতে ফল মন্দ হতে পারে।
১০. স্ত্রী হয় সংসারের রানী। স্বামীর ধন-সম্পদ সর্বংসহা হয় তার রাজত্ব এবং স্বামীর আমানতও। তাই তার যথার্থ হিফাযত করা এবং যথাস্থানে সঠিকভাবে তা ব্যয় করা গুণবতী স্ত্রীর কর্তব্য। অন্যায়ভাবে গোপনে ব্যয় করা, তার বিনা অনুমতিতে দান করা বা আত্মীয়-স্বজনকে উপঢৌকন দেওয়া আমানতের খিয়ানত। এমন স্ত্রী পুণ্যময়ী নয়; বরং খিয়ানতকারিণী। মহানবী বলেন,
(لَا تُنْفِقِ امْرَأَةٌ شَيْئاً مِنْ بَيْتِ زَوْجِهَا إِلَّا بِإِذْنِ زَوْجِهَا
"স্বামীর অনুমতি ছাড়া কোন স্ত্রী যেন তার ঘর থেকে কোন কিছু দান না করে।" বলা হল, 'হে আল্লাহর রসূল! খাবারও দান করতে পারে না কি?' তিনি বললেন, "খাবার তো আমাদের সর্বোত্তম মাল।”৬৭৯
১১. স্বামীর বিনা অনুমতিতে বাইরে, মার্কেট, বিয়েবাড়ি, মড়াবাড়ি ইত্যাদি না যাওয়া পতিভক্তির পরিচয়। এমনকি মসজিদে (ইমামের পশ্চাতে মহিলা জামাআতে) স্বলাত পড়তে গেলেও স্বামীর অনুমতি চাই। ৬৮০
আর এই পরাধীনতায় আছে মুক্তির পরম স্বাদ। মাতৃক্রোড় উপেক্ষা করে ঝড়-বৃষ্টি, শীত-গ্রীষ্মে যেমন শিশু নিজেকে বিপদে ফেলে, তা-এর কোল ছেড়ে ডিম যেমন ঘোলা হয়ে যায়, সুতো ছিঁড়ে স্বাধীন হয়ে ঘুড়ি যেমন ক্ষণিক উড়ে ধ্বংস হয়ে যায়, রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিমান যেমন ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, ঠিক তেমনি নারীও স্বামীর এই স্নেহ-সীমা ও বন্ধনকে উল্লংঘন করে নিজের দ্বীন ও দুনিয়া বরবাদ করে।
১২. কোন বিষয়ে স্বামী রাগান্বিত হলে চরিত্রবতী স্ত্রী বিনীতা হয়ে নীরব থাকে। নচেৎ ইটের বদলে পাটকেল ছুঁড়লে আগুনে পেট্রল পড়ে। যে সোহাগ করে, তার শাসন করার অধিকার আছে। আর এ শাসন স্ত্রী ঘাড় পেতে মেনে নিতে বাধ্য। ভুল হলে ক্ষমা চাইবে। যেহেতু স্বামী বয়সে ও মর্যাদায় বড়। ক্ষমা প্রার্থনায় অপমান নয়; বরং মানুষের মান বর্ধমান হয়; ইহকালে এবং পরকালেও। তাছাড়া অহংকার ও ঔদ্ধত্যের সাথে 'বেশ করেছি, অত পারি না' ইত্যাদি বলে অনমনীয়তা প্রকাশ গুণবতী সতী নারীর ধর্ম নয়। সুতরাং স্বামীর রাগের আগুনকে অহংকার ও ঔদ্ধত্যের পেট্রল দ্বারা নয় বরং বিনয়ের পানি দ্বারা নির্বাপিত করা উচিত। প্রিয় নবী বলেন,
( وَنِسَاؤُكُمْ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ الْوَدُودُ الوَلُودُ العَؤُودُ عَلَى زَوْجِهَا الَّتِي إِذَا غَضِبَ جَاءَتْ حَتَّى تَضَعَ يَدَهَا فِي يَدِ زَوْجِهَا ، وَتَقُولُ : لَا أُذُوقُ غَيْضاً حَتَّى تَرْضَى
"তোমাদের স্ত্রীরাও জান্নাতী হবে; যে স্ত্রী অধিক প্রণয়িণী, সন্তানদাত্রী, বার- বার ভুল করে বার-বার স্বামীর নিকট আত্মসমর্পণকারিণী, যার স্বামী রাগ করলে সে তার নিকট এসে তার হাতে হাত রেখে বলে, আপনি রাজি (ঠাণ্ডা) না হওয়া পর্যন্ত আমি ঘুমাবই না।”৬৮১
স্বামীকে সন্তুষ্ট ও রাজী করবার জন্য ইসলাম এক প্রকার মিথ্যা বলাকেও স্ত্রীর জন্য বৈধ করেছে।
উম্মে কুলসুম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'আমি নবী কে কেবলমাত্র তিন অবস্থায় মিথ্যা বলার অনুমতি দিতে শুনেছি : যুদ্ধের ব্যাপারে, লোকের মধ্যে আপোস-মীমাংসা করার সময় এবং স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের (প্রেম) আলাপ-আলোচনায়। '৬৮২
'ললনার ছলনা' যদিও মন্দ বলে প্রসিদ্ধ, তবুও স্বামীর মনকে ভোলানোর জন্য, তাকে খোশ করার জন্য, তার মনকে নিজের মনোকারাগারে চিরবন্দী করে রাখার জন্য ছলনা করা এবং প্রেমের অভিনয় করা বড় ফলপ্রসূ। প্রেমের শিশমহল বড় ভঙ্গুর। সুতরাং ভাঙ্গা প্রেমের মহল বহাল রাখতে ছলনা ও প্রেমের অভিনয় যদি কাজে দেয়, তাহলে চরিত্রবতী স্ত্রীকে তা করা উচিত।
১৩. স্বামীর সংসারে তার পিতামাতা ও বোনদের সাথে সদ্ব্যবহার করা গুণবতী স্ত্রীর অন্যতম কর্তব্য। স্বামীর মা-বাপ ও বোনকে নিজের মা-বাপ ও বোন ধারণা করে সংসারের প্রত্যেক কাজ তাদের পরামর্শ নিয়ে করা, যথাসাধ্য তাদের খিদমত করা এবং তাদের (বৈধ) আদেশ-নিষেধ মেনে চলা পুণ্যময়ী সাধ্বী নারীর কর্তব্য।
১৪. নিজের এবং অনুরূপ স্বামীর সন্তান-সন্ততির লালন-পালন, তরবিয়ত ও শিক্ষা দেওয়া স্ত্রীর শিরোধার্য কর্তব্য। এর জন্য তাকে ধৈর্য, স্থৈর্য, করুণা ও স্নেহের পথ অবলম্বন করা একান্ত উচিত। বিশেষ করে স্বামীর সামনে সন্তানের উপর রাগ না ঝাড়া, গালিমন্দ, বদ্দুআ ও মারধর না করা স্ত্রীর আদবের পরিচয়। মহানবী বলেছেন,
(كُلُّكُم رَاعٍ ، وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ: وَالْأَمِيرُ رَاعٍ ، وَالرَّجُلُ رَاعٍ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ ، وَالمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ عَلَى بَيْتِ زَوْجِهَا وَوَلَدِهِ ، فَكُلُّكُمْ رَاعٍ ، وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ
“প্রতিটি মানুষই দায়িত্বশীল। সুতরাং প্রত্যেকেই অবশ্যই তার অধীনস্থদের দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। দেশের শাসক জনগণের দায়িত্বশীল। সে তার দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জবাবদিহী করবে। একজন পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল। অতএব সে তার দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামী ও সন্তানের দায়িত্বশীলা। কাজেই সে তার দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিতা হবে। তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। অতএব প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনস্থের দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।”৬৮৩
১৫. চরিত্রবতী স্ত্রী স্বামীর মুখের উপর মুখ চালায় না, ধমক দিয়ে কথা বলে না, একটা কথা শুনে একশ'টা কথা শোনায় না, লজ্জা বা গালি দিয়ে ভর্ৎসনা করে না, অপরের সামনে কটু কথা শুনিয়ে তাকে লাঞ্ছিত করে না।
মহানবী বলেছেন, “সৌভাগ্যের স্ত্রী সেই; যাকে দেখে স্বামী মুগ্ধ হয়। সংসার ছেড়ে বাইরে গেলে স্ত্রী ও তার সম্পদের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকে। আর দুর্ভাগার স্ত্রী হল সেই; যাকে দেখে স্বামীর মন তিক্ত হয়, যে স্বামীর উপর জিভ লম্বা করে (লানতান করে) এবং সংসার ছেড়ে বাইরে গেলে ঐ স্ত্রী ও তার সম্পদের ব্যাপারে সে নিশ্চিন্ত হতে পারে না।”৬৮৪
যে স্ত্রী স্বামীর উপর মুখ চালায়, সম্পদ বা আভিজাত্যের অহংকারবশতঃ স্বামীকে নিজের অযোগ্য মনে করে, বুড়ো হওয়ার আগেই তাকে 'বুড়ো' বানায়, সে স্ত্রী চরিত্রবতী নয়। সেই শ্রেণীর স্ত্রী থেকে আল্লাহর আশ্রয় কামনা করা উচিত। মহানবী তাই করতেন, তিনি বলতেন,
(اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ جَارِ السُّوءِ، وَمِنْ زَوجٍ تُشَيِّبُنِي قَبْلَ الْمَشِيبِ، وَمِنْ وَلَدٍ يَكُونُ عَلَيَّ رَبِّاً، وَمِنْ مَالٍ يَكُونُ عَلَيَّ عَذَاباً، وَمِنْ خَلِيلٍ مَاكِرٍ عَيْنُهُ تَرَانِي ، وَقَلْبُهُ يَرْعَانِي إِنْ رَأَى حَسَنَةً دَفَنَهَا، وَإِنْ رَأَى سَيِّئَةً أَذَاعَهَا)
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি মন্দ প্রতিবেশী থেকে, এমন স্ত্রী থেকে, যে বৃদ্ধ হওয়ার আগেই আমাকে বৃদ্ধ বানাবে, এমন সন্তান থেকে, যে আমার প্রভু হতে চাইবে, এমন মাল থেকে, যা আমার জন্য আযাব হবে, এবং এমন ধূর্ত বন্ধু থেকে, যার চোখ আমাকে দেখে এবং তার হৃদয় আমার প্রতি লক্ষ্য রাখে, অতঃপর ভাল কিছু দেখলে তা পুঁতে ফেলে এবং খারাপ কিছু দেখলে তা প্রচার করে। ৬৮৫
১৬. চরিত্রবতী স্ত্রী স্বামীর কোন রহস্য বা গোপন কথা প্রকাশ করে না; না সাংসারিক কোন কথা, আর না-ই যৌন-মিলন সংক্রান্ত কোন কথা। যেহেতু তা এক আমানত। আর আমানতে খিয়ানত করা বৈধ নয়। মহানবী বলেছেন,
إِنَّ مِنْ أَشَرِّ النَّاسِ عِنْدَ اللهِ مَنْزِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ الرَّجُلَ يُفْضِي إِلَى امْرَأَتِهِ وَتُفْضِي إِلَيْهِ ثُمَّ يَنْشُرُ سِرَّهَا
"কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট মানের দিক থেকে সবচেয়ে জঘন্য মানের ব্যক্তি হল সে, যে স্বামী স্ত্রী-মিলন করে এবং যে স্ত্রী স্বামী-মিলন করে, অতঃপর একে অন্যের মিলন-রহস্য (অপরের নিকট) প্রচার করে।"৬৮৬
১৭. স্বামী-সংসারে যতই কষ্ট হোক, চরিত্রবতী স্ত্রী ধৈর্যধারণ করে, স্বামীর ভুলকে ক্ষমা করে এবং শরীয়ত-সম্মত কারণ ছাড়া কথায় কথায় তালাক বা বিবাহ-বিচ্ছেদ চায় না। যেহেতু মহানবী বলেছেন,
أَيُّمَا امْرَأَةٍ سَأَلَتْ زَوْجَهَا الطَّلَاقَ مِنْ غَيْرِ مَا بَأْسٍ فَحَرَامٌ عَلَيْهَا رَائِحَةُ الْجَنَّةِ
"যে স্ত্রীলোক অকারণে তার স্বামীর নিকট থেকে তালাক চাইবে সে স্ত্রীলোকের জন্য জান্নাতের সুগন্ধও হারাম হয়ে যাবে।”৬৮৭
الْمُخْتَلِعَاتُ وَالْمُنْتَزِعَاتُ هُنَّ الْمُنَافِقَاتُ
নবী বলেন, "খোলা তালাক প্রার্থিনী এবং বিবাহ-বন্ধন ছিন্নকারিণীরা মুনাফিক মেয়ে।"৬৮৮

টিকাঃ
৬৬০. তাবারানী, ইবনে হিব্বান, আহমাদ প্রভৃতি, মিশকাত ৩২৫৪
৬৬১. আহমাদ, নাসাঈ, হাকেম, সিঃ সহীহাহ ১৮৩৮
৬৬২. ত্বাবারানী ১৪৭৯৫, আহমাদ ২০৬৫৩
৬৬৩. সূরা নিসা: ৩৪
৬৬৪. তিরমিযী, মিশকাত ৩২৫৫
৬৬৫. ইবনে আবী শাইবাহ, নাসাঈ, ত্বাবারানী, হাকেম, প্রভৃতি, আদাবুয যিফাফ ২৮৫পৃঃ
৬৬৬. হাকেম, ইবনে হিব্বان, ইবনে আবী শাইবাহ, সঃ জামে' ৩১৪৮
৬৬৭. ত্বাবারানী, সঃ জামে' ৫২৫৯
৬৬৮. ইবনে মাজাহ, আহমাদ, ইবনে হিব্বান
৬৬৯. ত্বাবারানী, হাকেম, সিঃ সহীহাহ ২৬৮
৬৭০. ইবনে খুযাইমা ১৫১৮, সিঃ সহীহাহ ৬৫০
৬৭১. মুসলিম ১৪৩৬
৬৭২. বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, আহমাদ, প্রভৃতি
৬৭৩. বুখারী ৫১৯৫, মুসলিম ২৪১৭নং প্রমুখ
৬৭৪. সূরা নিসা: ৩৪
৬৭৫
৬৭৬. বুখারী, মুসলিম
৬৭৭. নাসাঈ, সিঃ সহীহাহ ২৮৯
৬৭৮. আহমাদ ১১২৮০, তিরমিযী ১৯৫৫
৬৭৯. তিরমিযী, সহীহ তারগীব ৯৪৩
৬৮০. আহকামুন নিসা ১/২৭৫-২৭৬
৬৮১. ত্বাবারানী, দারাকুত্বনী, সিঃ সহীহাহ ২৮৭
৬৮২. মুসলিম ৬৭৯৯
৬৮৩. বুখারী ও মুসলিম
৬৮৪. হাকেম ২৬৮৪, সিলসিলাহ সহীহাহ ১০৪৭
৬৮৫. ত্বাবারানী, সিঃ সহীহাহ ৩১৩৭
৬৮৬. মুসলিম ৩৬১৫, আবু দাউদ ৪৮৭০
৬৮৭. আহমাদ ২২৩৭৯, আবু দাউদ ২২২৬, তিরমিযী ১১৮৭, ইবনে মাজাহ ২০৫৫, ইবনে হিব্বান, বাইহাকী ৭/৩১৬, সহীহুল জামে' ২৭০৬
৬৮৮. আহমাদ ৯৩৫৮, নাসাঈ ৩৪৬১, বাইহাকী, সিলসিলাহ সহীহাহ ৬৩২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00