📄 কতিপয় সাধারণ সচ্চরিত্রতার কর্ম
১. সাক্ষাৎকালে সালাম, মুসাফাহা ও মুআনাকা করা।
সাক্ষাৎকালে সালাম মুসাফাহাহ করা চরিত্রবানদের আদর্শ। দায়সারা সালাম নয়, আন্তরিক সালাম ও মুসাফাহাহ এবং সফর থেকে এলে মুআনাকা করার বিধান রয়েছে ইসলামে।
যেহেতু “মুসলিমের উপর মুসলিমের ৬টি হক রয়েছে। তার মধ্যে একটি হল, যখন তার সাথে দেখা হবে, তখন তাকে সালাম দেবে।---”৫৯৫
শরীয়ত মুসলিমকে সালাম প্রচার করতে নির্দেশ দেয়। মহানবী বলেন, “হে মানুষ! তোমরা সালাম প্রচার কর, অন্নদান কর, জ্ঞাতি-বন্ধন অক্ষুন্ন রাখ এবং লোকেরা যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন তোমরা স্বলাত পড়। এতে তোমরা নির্বিঘ্নে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।”৫৯৬
সালাম এক প্রকার দুআ। সালাম দিলে বরকত আসে। আনাস বলেন, একদা আল্লাহর রসূল আমাকে বললেন, “বেটা! তুমি তোমার পরিবারে প্রবেশ করলে সালাম দিও; এতে তোমার ও তোমার পরিবারের জন্য বরকত হবে।”৫৯৭
বেছে বেছে খাস খাস লোককে ও স্বার্থের তরে বিশেষ সালাম নয়। আমভাবে সালাম দেওয়া চরিত্রবানের কাজ। যেহেতু তা উত্তম ও সুন্দর ইসলামের পরিচায়ক। এক ব্যক্তি আল্লাহর রসূল কে জিজ্ঞাসা করল যে, 'কোন্ ইসলাম উত্তম? (ইসলামের কোন্ কোন্ কাজ উত্তম কাজ?) উত্তরে তিনি বললেন, “(অভাবীকে) খাদ্যদান করা এবং পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেওয়া।”৫৯৮
সালামে সম্প্রীতি কায়েম হয়, আর তার ফলে দারুস সালাম বেহেস্ত লাভ হয়। আল্লাহর রসূল বলেন, “তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না মু'মিন হয়েছ; আর ততক্ষণ পর্যন্ত মু'মিন হতেও পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আপোসে সম্প্রীতি কায়েম করেছ। আমি কি তোমাদেরকে এমন এক কাজের সংবাদ দেব না, যা করলে তোমাদের আপোসে সম্প্রীতি কায়েম হবে? তোমরা আপোসের মধ্যে সালাম প্রচার কর।”৫৯৯
দেবার মতো কোন জিনিস দিতে কার্পণ্য করা সচ্চরিত্রতার আলামত নয়। যে সালাম দিতে কার্পণ্য করে, সে সবচেয়ে বড় কৃপণ। মহানবী বলেন, "সবচেয়ে বড় চোর সে, যে স্বলাত চুরি করে এবং সবচেয়ে বড় বখীল সে, যে সালাম দিতে বখীলি করে।"৬০০
তিনি আরো বলেন, "সবচেয়ে বড় অক্ষম সে, যে দুআ করতে অক্ষমতা প্রকাশ করে এবং সবচেয়ে বড় কৃপণ সে, যে সালাম দিতে কৃপণতা করে।”৬০২
চরিত্রবান সালামে সুন্নাত খেয়াল রাখে। সুতরাং সে উট, ঘোড়া, সাইকেল বা গাড়ির উপর সওয়ার থাকলে পায়ে হেঁটে যাওয়া লোককে, পায়ে হেঁটে গেলে বসে থাকা লোককে, অল্প সংখ্যক হলে বেশী সংখ্যক লোককে, বয়সে ছোট হলে অপেক্ষাকৃত বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষকে সালাম দেয়। ৬০২
কিন্তু এর বিপরীতভাবে সালাম দিলে দোষের নয়। তবে অবশ্যই তা সুন্নাহ ও আফযলের খিলাপ কাজ হবে। আর সেই ব্যক্তি হবে উত্তম, যে প্রথমে সালাম দিয়ে থাকে। ৬০০
মহিলা কোন মাহরাম হলে অথবা গায়র মাহরাম বৃদ্ধা হলে তাকে সালাম দেওয়া বৈধ। নচেৎ গায়র মাহরাম কোন যুবতী মহিলাকে---বিশেষ করে ফিতনার ভয় থাকলে---তাকে সালাম দেওয়া এবং তার মুখ খোলানো চরিত্রবানের জন্য বৈধ নয়। শিশু হলেও তাকে সালাম দেয় চরিত্রবান। আর তা বিনয়ের একটি নিদর্শন। আমাদের মহানবী পথে চলাকালে ছোট শিশুদেরকে সালাম দিতেন। ৬০৪
জ্ঞাতব্য যে, উত্তমভাবে সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজেব। আর সালামের পর ও বিদায়কালে এক হাতে মুসাফাহাহ করা সুন্নত। আল্লাহর রসূল বলেন, "যখনই কোন দুই মুমিন ব্যক্তি সাক্ষাৎ ক'রে আপোসে মুসাফাহাহ করে, (কেবল আল্লাহর ওয়াস্তে একে অন্যের হাত ধরে), তখনই তাদের পৃথক হয়ে প্রস্থান করার পূর্বেই উভয়কেই ক্ষমা ক'রে দেওয়া হয়।”৬০৫
তা'যীমের জন্য নয়, বরং নিজের জায়গায় বসানোর জন্য, সহযোগিতা করার জন্য আগন্তুকের প্রতি উঠে দাঁড়ানো সুন্দর চরিত্রের পরিচায়ক।
আর সফর থেকে ফিরে সাক্ষাতের সময় পরস্পরকে মুআনাকা করা বিধেয়। আনাস বলেন, 'নবী এর সাহাবাগণ যখন আপোসে সাক্ষাৎ করতেন, তখন মুসাফাহাহ করতেন এবং যখন সফর থেকে ফিরে আসতেন, তখন মুআনাকা করতেন। '৬০৬
২. অপরের বাড়ি প্রবেশে অনুমতি নেওয়া
অপরের বাড়ি প্রবেশ করতে হলে তার অনুমতি নিতে হবে। মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবের সূরা নূর ২৭-২৮ আয়াতে এর বিধান দিয়েছেন। উচিত নয়, কারো বাড়ির দরজার সোজাসুজি দাঁড়ানো। কারো বাড়ির ভিতর দৃষ্টিপাত করা অথবা উঁকিঝুঁকি মেরে দেখা চরিত্রবানের কাজ নয়। দরজা অথবা জানালা দিয়ে, রাস্তা থেকে অথবা অন্য বাড়ির ছাদ বা জানালা থেকে, গাছ বা গাড়ির উপর থেকে কারো বাড়ির ভিতরে নজর দিলে নজরবাজের চোখ ফুটিয়ে দেওয়া বৈধ করা হয়েছে। আল্লাহর রসূল বলেন, “যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের গৃহে তাদের অনুমতি না নিয়ে উঁকি মেরে দেখে সে ব্যক্তির চোখে (ঢিল ছুঁড়ে) তাকে কানা ক'রে দেওয়া তাদের জন্য বৈধ হয়ে যায়। "৬০৭
৩. রাস্তা চলার আদব
১. যমীনে চলাফেরা করার সময় অহংকার প্রদর্শন করা, নিজেকে হিরো ও অপরকে জিরো এবং গুরুকে গরু মনে করে অবজ্ঞার সাথে বিচরণ করা অভদ্র, অসভ্য ও গোঁয়ার লোকের নিদর্শন। আসলে একজন মুসলিম হয় ভদ্র ও বিনয়ী। মহান আল্লাহ তার চলার গুণ বর্ণনা করে বলেন,
وَعِبَادُ الرَّحْمَنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْنًا وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلَامًا
অর্থাৎ, আর তারা রহমানের বান্দা, যারা যমীনের বুকে নম্রভাবে চলা-ফিরা করে এবং অজ্ঞ ব্যক্তিরা তাদেরকে সম্বোধন করলে (উপেক্ষা করে) বলে, সালাম।৬০৮
পক্ষান্তরে চরিত্রশূন্য অহংকারীরা ঔদ্ধত্যের সাথে রাস্তা চলে, হাসিমুখে কথা বলে না, গোমড়া মুখ প্রদর্শন করে, পথে কাউকে সালাম দিতে চায় না এবং সালামের উত্তর দিতেও আগ্রহ দেখায় না। মহান আল্লাহ লুকমান হাকীমের উপদেশ উল্লেখ ক'রে বলেন,
وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ
অর্থাৎ, তুমি (অহংকারবশে) মানুষকে মুখ বাঁকায়ো না (অবজ্ঞা করো না) এবং পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে বিচরণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক দাম্ভিক অহংকারীকে ভালোবাসেন না। ৬০৯
তিনি আরো বলেছেন,
وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا إِنَّكَ لَن تَخْرِقَ الْأَرْضَ وَلَن تَبْلُغَ الْجِبَالَ طُولاً
"ভূ-পৃষ্ঠে দম্ভভরে বিচরণ করো না, তুমি তো কখনোই পদভারে ভূ-পৃষ্ঠ বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনোই পর্বত-প্রমাণ হতে পারবে না।”৬১০
আল্লাহর রসূল বলেন, "একদা (পূর্ববর্তী উম্মতের) এক ব্যক্তি একজোড়া পোশাক পরে, গর্বভরে, মাথা আঁচড়ে অহংকারের সাথে চলা-ফেরা করছিল। ইত্যবসরে আল্লাহ তার (পায়ের নীচের মাটিকে) ধসিয়ে দিলেন। সুতরাং সে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত মাটির গভীরে নেমে যেতেই থাকবে।”৬১১
তিনি আরো বলেন, "যে ব্যক্তি মনে মনে গর্বিত হবে অথবা চলনে অহমিকা প্রকাশ করবে, সে ব্যক্তি যখন আল্লাহ তাআলার সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন তিনি তার উপর ক্রোধান্বিত থাকবেন। "৬১২
বহু মানুষ আছে, যারা অহংকারের সাথে নিজ লুঙ্গি, পায়জামা বা প্যান্ট গাঁটের নিচে ঝুলিয়ে পরে রাস্তায় ছেঁচড়ে নিয়ে বেড়ায়, তাদের ব্যাপারে মহানবী বলেন, “যে ব্যক্তি অহংকারের সাথে তার কাপড় (মাটিতে) ছেঁচড়ায় তার দিকে আল্লাহ তাকিয়ে দেখবেন না।"৬১৩
৪. রোগী দেখতে যাওয়া
আল্লাহর রসূল বলেছেন, "মুসলিমের উপর মুসলিমের ৫টি অধিকার রয়েছে; (তার মধ্যে একটা হল,) রোগীকে সাক্ষাৎ ক'রে সান্ত্বনা দেওয়া।”৬১৪
রোগীকে সাক্ষাৎ করতে গেলে মহান আল্লাহকে সাক্ষাৎ করা হয়। ৬১৫
আল্লাহর রসূল বলেন, “যে ব্যক্তি কোন রোগীকে সাক্ষাৎ ক'রে জিজ্ঞাসাবাদ করে অথবা তার কোন লিল্লাহী (আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ভ্রাতৃত্বস্থাপন করে সেই) ভাইকে সাক্ষাৎ করে, সে ব্যক্তিকে এক (গায়বী) আহবানকারী আহবান করে বলে, 'সুখী হও তুমি, সুখকর হোক তোমার ঐ যাত্রা (সাক্ষাতের জন্য যাওয়া)। আর তোমার স্থান হোক জান্নাতের প্রাসাদে। "৬১৬
তিনি আরো বলেন, "যখনই কোন ব্যক্তি সন্ধ্যাবেলায় কোন রোগীকে সাক্ষাৎ করতে যায়, তখনই তার সাথে ৭০ হাজার ফিরিস্তা বের হয়ে সকাল পর্যন্ত তার জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে। আর যে ব্যক্তি সকালবেলায় রোগীকে দেখা করতে আসে সে ব্যক্তির সাথে ও ৭০ হাজার ফিরিস্তা বের হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে।" ৬১৭
তিনি আরো বলেন, "যে ব্যক্তি রোগীকে সাক্ষাৎ করতে যায়, সে আসলে ফিরে না আসা পর্যন্ত জান্নাতের ফল তুলতে থাকে।”৬১৮
তিনি আরো বলেন, "যে ব্যক্তি রোগীকে সাক্ষাৎ করতে যায়, সে আসলে রহমতে বিচরণ করতে থাকে। অতঃপর সে যখন (রোগীর নিকটে) বসে যায়, তখন রহমতে স্থায়ী হয়ে যায়।"৬১৯
তাহলে এমন কাজ কি কোন চরিত্রবানের না হয়?
৫. জানাযায় অংশগ্রহণ করা
চরিত্রবান পুরুষের একটি সচ্চরিত্রতা হল, কেউ মারা গেলে তার জানাযায় অংশ গ্রহণ করে। যেহেতু আল্লাহর রসূল বলেন, "মুসলিমের উপর মুসলিমের ৫টি অধিকার রয়েছে; (তার মধ্যে একটা হল,) জানাযায় অংশগ্রহণ করা।”৬২০
জানাযায় অংশগ্রহণ করলে পরকাল স্মরণ হয়। আর চরিত্রবানের একটা আচরণ হল পরকালকে সদাসর্বদা স্মরণে রাখা। পরন্তু সেই অংশগ্রহণে রয়েছে বিশাল সওয়াব। আল্লাহর রসূল বলেন,
مَنْ اتَّبَعَ جَنَازَةَ مُسْلِمٍ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا وَكَانَ مَعَهُ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهَا وَيَفْرُغَ مِنْ دَفْنِهَا فَإِنَّه يَرْجِعُ مِنَ الْأَجْرِ بِقِيرَاطَيْنِ كُلُّ قِيرَاطٍ مِثْلُ أُحُدٍ وَمَنْ صَلَّى عَلَيْهَا ثُمَّ رَجَعَ قَبْلَ أَنْ تُدْفَنَ فَإِنَّهُ يَرْجِعُ بِقِيرَاطٍ
“যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং নেকী লাভের আশায় জানাযার অনুগমন করে তার স্বলাত ও দাফন হওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকে, সে ব্যক্তি দুই ক্বীরাত সওয়াব নিয়ে ফিরে আসে। প্রত্যেক ক্বীরাত উহুদ পাহাড় সমতুল্য। আর যে ব্যক্তি তার স্বলাত পড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে, সে ব্যক্তি এক ক্বীরাত সওয়াব নিয়ে ফিরে আসে।”৬২১
৬. মজলিসের আদব
চরিত্রবান সর্বদা ভালো মজলিসে বসে। আর যখন কোন মজলিসে বসে, তখন আল্লাহর যিক্র করতে ও তাঁর নবী এর উপর দরূদ পড়তে ভুল করে না।
চরিত্রবান সর্বদা ভালো লোকের সাথী হয়। চরিত্রবান সাথীর সাথে উঠা-বসা করে। কারণ মানুষ যার সাথে উঠা-বসা করবে, সে অবশ্যই তার দ্বারা কিছু না কিছু প্রভাবান্বিত হবে। আর সে জন্যই কারো কাছে বসার আগে জেনে নেওয়া উচিত, সে ভালো লোক কি না?
আল্লাহর রসূল বলেন, "মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের অনুসারী হয়। সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকের দেখা উচিত যে, সে কার সাথে বন্ধুত্ব করছে।”৬২২
চরিত্রবান এমন জায়গায় বসে না, যেখানে বসলে পাপ হওয়ার আশঙ্কা আছে। মহানবী বলেন, “খবরদার! তোমরা রাস্তার ধারে বসো না। আর একান্তই যদি বসতেই হয়, তাহলে তার হক আদায় করো।" লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, 'রাস্তার হক কি? হে আল্লাহর রসূল!' তিনি বললেন, "দৃষ্টি সংযত রাখা, কাউকে কষ্ট দেওয়া হতে বিরত থাকা, সালামের জবাব দেওয়া, সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজে বাধা দান করা (এবং পথভ্রষ্টকে পথ বলে দেওয়া)। "৬২৩
অনুরূপ বাড়ির ছাদে বা এমন উঁচু জায়গায় বসতেও নিষেধ করেছেন আমাদের আদর্শ নবী মুহাম্মাদ। ৬২৪
চরিত্রবান মজলিসে এসে কাউকে উঠিয়ে তার জায়গায় বসে না, কাউকে বসায় না। মজলিসে দুটি লোক (আত্মীয় বা বন্ধু) একত্রে বসে থাকলে, সে গিয়ে তাদের মাঝে বসে উভয়ের মাঝে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করে না।
ভদ্র মানুষ মজলিসে উপস্থিত হয়ে যেখানে মজলিস শেষ হয়েছে, সেখানেই বসে যান। ঘাড় ডিঙিয়ে মানুষকে কষ্ট দেয় না।
চরিত্রবান পরকীয় কথায় কানাচি পাতে না। কারণ তা করলে কিয়ামতের দিন তার কানে গলিত সীসা ঢালা হবে। ৬২৫
মজলিসে প্রগল্ভ হয়ে প্রায় সর্বদা সব কথাতে, হাসির কথাতে এবং অহাসির কথাতেও 'হো-হো, হা-হা' করে হাসা বৈধ নয়। মহানবী বলেন, "তোমরা বেশী বেশী হেসো না। কারণ, অধিক হাসিতে হৃদয় মারা যায়। "৬২৬
মজলিসে থাকাকালে ঘেউ ঘেউ করে ঢেকুর তোলা উচিত নয়। ঢেকুর এলে যথাসম্ভব শব্দ দমন করা উচিত। যেহেতু লোকেরা তা পছন্দ করে না। ঢেকুরের সাথে এমন গ্যাস বের হতে পারে, যা লোকেদের নাকে খারাপ লাগে।
মজলিসে বসার সময় আদবের সাথে থাকুন। যাতে লোকে আপনাকে খারাপ ভাবে সে রকম কাজ করবেন না। যেমন কারো দিকে পা করে বা পা মেলে বসবেন না। দুজনের জায়গা একা নিয়ে বসবেন না। সীট বা টেবিলের উপর পা তুলে বসবেন না। দাঁত বা নাক খুঁটবেন না। হাওয়া ছাড়বেন না। কারো হাওয়া ছাড়া শুনে হাসবেন না। যেহেতু মহানবী কারো হাওয়া ছাড়া শুনে হাসতে নিষেধ করেছেন। ৬২৭
তিনি বলেছেন, "তোমাদের কেউ যে কাজ নিজেও করে সে কাজে হাসে কেন?”৬২৮
মজলিস থেকে উঠে চলে যাওয়ার সময় সালাম দিয়ে যান।
৭. হাই ও হাঁচির আদব
মহানবী বলেন, "নিশ্চয় আল্লাহ হাঁচিকে পছন্দ এবং হাইকে অপছন্দ করেন। সুতরাং তোমাদের মধ্যে কেউ যখন হাঁচি মেরে 'আলহামদু লিল্লাহ' বলে, তখন প্রত্যেক সেই মুসলিমের উচিত, যে সেই হাম্দ শোনে সে যেন তার উদ্দেশ্যে 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বলে। পক্ষান্তরে হাই হল শয়তানেরই তরফ থেকে। সুতরাং তোমাদের যে কেউ যখন হাই তোলে, তখন সে যেন তা যথাসাধ্য দমন করে। যেহেতু তোমাদের কেউ যখন হাই তোলে, তখন শয়তান হাসে।" অন্য এক বর্ণনায় আছে, "তোমাদের কেউ যখন 'হা-হা' বলে, তখন শয়তান হাসে। "৬২৯
তিনি আরো বলেন, "তোমাদের কেউ যখন হাই তোলে, তখন সে যেন নিজ মুখের উপর হাত রেখে নেয়। কেননা শয়তান তাতে প্রবেশ করে থাকে।”৬৩০
৮. আধুনিক জীবনের কিছু আদব
১. টেলিফোন বা মোবাইলের রিং সাধারণ রাখুন। অবশ্যই কোন প্রকার মিউজিক বা গান লাগিয়ে রাখবেন না। আযান ও কুরআনও লাগাবেন না। কারণ তা অপবিত্র জায়গায় বেজে উটতে পারে। এ ছাড়া মসজিদে বা দর্সে গেলে রিং বন্ধ রাখুন। আপনার মোবাইল দ্বারা অপরকে কষ্ট দিবেন না বা নিজ তথা অপরের ইবাদতের মনোযোগ ও একাগ্রতা নষ্ট করবেন না।
পরন্তু ইবাদতের জায়গায় যদি রিং বন্ধ করতে ভুলেই যান, তাহলে প্রথম রিং হওয়া মাত্র সাথে সাথে বন্ধ করে ফেলুন। স্বলাত অবস্থায় হলেও তা ছেড়ে রাখবেন না। কারণ, তাতে আপনার সাথে প্রায় সকল মুস্বাল্লীর মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হয়ে যাবে।
২. রেডিও শুনুন, কিন্তু গান-বাজনা শোনা থেকে অবশ্যই দূরে থাকুন। টিভি দেখুন, কিন্তু গান-বাজনা শুনবেন না। অবৈধ কিছু দেখবেন না। ভিডিও ক্যামেরা, ভিসিয়ার, ভিসিডি ইত্যাদি যন্ত্র খুব সাবধানে ব্যবহার করুন। এসব যন্ত্রকে দাওয়াতি কাজে ব্যবহার করুন। তবে সাবধান থাকবেন, যাতে 'বাত ভালো করতে গিয়ে কুষ্ঠব্যাধি' না হয়ে বসে।
৩. আধুনিক যুগে কম্পিউটার একটি আশ্চর্য জিনিস। এটিকেও আপনি আপনার উপকারে ব্যবহার করুন। তবে ইন্টারনেট ব্যবহার করুন খুব সতর্কতার সাথে। যেহেতু তাতে মধুও আছে এবং বিষও।
৪. গাড়ি চালালে অতি সাবধানতার সাথে চালান। ট্রাফিক আইন অবশ্যই মেনে চলুন। অপর সাইডে কোন গাড়ি থাক্ বা না-ই থাক্ আপনার শিগ্ন্যাল গ্রীন না হলে আপনি তা অতিক্রম করবেন না। অবশ্য গ্রীন হলেও অন্য সাইড ভালোভাবে দেখেই পার হন, কারণ আইন ভঙ্গকারী মানুষের অভাব নেই। মাত্রাধিক স্পীডে গাড়ি চালিয়ে নিজের তথা অপরের জীবনকে মরণের দিকে ঠেলে দিবেন না।
রোডে অপর গাড়ি বা পথচারীর খেয়াল অবশ্যই রাখবেন। পথের অধিকার সকলকেই যথোচিতভাবে প্রদান করবেন। উচিতভাবে সাইড দেবেন। খবরদার রোডে কারো সাথে প্রতিযোগিতার মনোভাব নিয়ে আগে যেতে চেষ্টা করবেন না। আপনার গাড়ির হর্নে ঘুমন্ত, রোগগ্রস্ত বা ইবাদতরত কোন ব্যক্তির ডিস্টার্ব করবেন না। রাতে সামনে গাড়ি থাকলে হেড-লাইট জ্বালিয়ে রাখবেন না।
গাড়ি চালানো একটি নেহাতই টেনশনের কাজ। সুতরাং অপরের ভুলের সাথে আপনার প্রচুর ধৈর্যের দরকার।
একজন মুসলিম হবে এতই আদর্শবান যে, তার মাধ্যমে অন্য লোকে কোন প্রকার কষ্ট পাবে না।
বলা বাহুল্য, গাড়ি চালানো খুবই সতর্কতা ও বড় সচ্চরিত্রতার কাজ।
টিকাঃ
৫৯৫. মুসলিম ২ ১৬২
৫৯৬. তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, হাকেম, সহীহ তারগীব ৬১০
৫৯৭. তিরমিযী ২৬৯৮
৫৯৮. বুখারী ৬২৩৬, মুসলিম ৩৯
৫৯৯. মুসলিম ৫৪
৬০০. সহীহুল জামে' ৯৬৬
৬০১. সহীহুল জামে' ৯৬৬
৬০২. বুখারী ৬২৩১-৬২৩২, মুসলিম ২১৬০
৬০৩. বুখারী ৬০৭৭, সিলসিলাহ সহীহাহ ১১৪৬
৬০৪. বুখারী ৬২৪৭, মুসলিম ২১৬৮
৬০৫. তিরমিযী, সহীহ আবু দাউদ ৪৩৪৩
৬০৬. তাবারানী, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৮/৩৬
৬০৭. বুখারী ৬৮৮৮, মুসলিম ২১৫৮, আবু দাউদ, নাসাঈ
৬০৮. সূরা ফুরকান ৬৩
৬০৯. সূরা লুকুমান ১৮
৬১০. সূরা বানী ইস্রাঈল: ৩৭
৬১১. বুখারী ৫৭৮৯, মুসলিম ২০৮৮
৬১২. আহমদ, বুখারীর আল-আদাবুল মুফরাদ, হাকেম ১/১৬০, সহীহুল জামে' ৬১৫৭
৬১৩. বুখারী ৫৭৮৪, মুসলিম ২০৮৫
৬১৪. বুখারী ১২৪০, মুসলিম ২১৬২
৬১৫. মুসলিম ৬৭২১
৬১৬. তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, সহীহ তিরমিযী ১৬৩৩
৬১৭. আহমাদ, ইবনে মাজাহ, বাইহাকী, প্রমুখ, সহীহুল জামে' ৫৭১৭
৬১৮. আহমাদ ২১৮৬৮, মুসলিম ২৫৬৮, তিরমিযী ৯৬৭
৬১৯. আল-আদাবুল মুফরাদ ৫২২
৬২০. বুখারী ১২৪০, মুসলিম ২১৬২
৬২১. বুখারী ৪৭
৬২২. আহমাদ ৭৯৬৮, আবু দাউদ ৪৮৩৩, তিরমিযী ২৩৭৮, সিলসিলাহ সহীহাহ, আলবানী ৯২৭
৬২৩. আহমাদ, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, সহীহুল জামে' ২৬৭৫
৬২৪. সিলসিলাহ সহীহাহ ৬/১৪-১৫
৬২৫. বুখারী ৭০৪২
৬২৬. ইবনে মাজাহ ৪১৯৩
৬২৭. সহীহুল জামে' ৬৮৯৬
৬২৮. বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৩২৪২
৬২৯. বুখারী ৬২২৩, ৬২২৬, মুসলিম ২৯৯৪
৬৩০. মুসলিম ২৯৯৫
১. সাক্ষাৎকালে সালাম, মুসাফাহা ও মুআনাকা করা।
সাক্ষাৎকালে সালাম মুসাফাহাহ করা চরিত্রবানদের আদর্শ। দায়সারা সালাম নয়, আন্তরিক সালাম ও মুসাফাহাহ এবং সফর থেকে এলে মুআনাকা করার বিধান রয়েছে ইসলামে।
যেহেতু “মুসলিমের উপর মুসলিমের ৬টি হক রয়েছে। তার মধ্যে একটি হল, যখন তার সাথে দেখা হবে, তখন তাকে সালাম দেবে।---”৫৯৫
শরীয়ত মুসলিমকে সালাম প্রচার করতে নির্দেশ দেয়। মহানবী বলেন, “হে মানুষ! তোমরা সালাম প্রচার কর, অন্নদান কর, জ্ঞাতি-বন্ধন অক্ষুন্ন রাখ এবং লোকেরা যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন তোমরা স্বলাত পড়। এতে তোমরা নির্বিঘ্নে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।”৫৯৬
সালাম এক প্রকার দুআ। সালাম দিলে বরকত আসে। আনাস বলেন, একদা আল্লাহর রসূল আমাকে বললেন, “বেটা! তুমি তোমার পরিবারে প্রবেশ করলে সালাম দিও; এতে তোমার ও তোমার পরিবারের জন্য বরকত হবে।”৫৯৭
বেছে বেছে খাস খাস লোককে ও স্বার্থের তরে বিশেষ সালাম নয়। আমভাবে সালাম দেওয়া চরিত্রবানের কাজ। যেহেতু তা উত্তম ও সুন্দর ইসলামের পরিচায়ক। এক ব্যক্তি আল্লাহর রসূল কে জিজ্ঞাসা করল যে, 'কোন্ ইসলাম উত্তম? (ইসলামের কোন্ কোন্ কাজ উত্তম কাজ?) উত্তরে তিনি বললেন, “(অভাবীকে) খাদ্যদান করা এবং পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেওয়া।”৫৯৮
সালামে সম্প্রীতি কায়েম হয়, আর তার ফলে দারুস সালাম বেহেস্ত লাভ হয়। আল্লাহর রসূল বলেন, “তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না মু'মিন হয়েছ; আর ততক্ষণ পর্যন্ত মু'মিন হতেও পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আপোসে সম্প্রীতি কায়েম করেছ। আমি কি তোমাদেরকে এমন এক কাজের সংবাদ দেব না, যা করলে তোমাদের আপোসে সম্প্রীতি কায়েম হবে? তোমরা আপোসের মধ্যে সালাম প্রচার কর।”৫৯৯
দেবার মতো কোন জিনিস দিতে কার্পণ্য করা সচ্চরিত্রতার আলামত নয়। যে সালাম দিতে কার্পণ্য করে, সে সবচেয়ে বড় কৃপণ। মহানবী বলেন, "সবচেয়ে বড় চোর সে, যে স্বলাত চুরি করে এবং সবচেয়ে বড় বখীল সে, যে সালাম দিতে বখীলি করে।"৬০০
তিনি আরো বলেন, "সবচেয়ে বড় অক্ষম সে, যে দুআ করতে অক্ষমতা প্রকাশ করে এবং সবচেয়ে বড় কৃপণ সে, যে সালাম দিতে কৃপণতা করে।”৬০২
চরিত্রবান সালামে সুন্নাত খেয়াল রাখে। সুতরাং সে উট, ঘোড়া, সাইকেল বা গাড়ির উপর সওয়ার থাকলে পায়ে হেঁটে যাওয়া লোককে, পায়ে হেঁটে গেলে বসে থাকা লোককে, অল্প সংখ্যক হলে বেশী সংখ্যক লোককে, বয়সে ছোট হলে অপেক্ষাকৃত বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষকে সালাম দেয়। ৬০২
কিন্তু এর বিপরীতভাবে সালাম দিলে দোষের নয়। তবে অবশ্যই তা সুন্নাহ ও আফযলের খিলাপ কাজ হবে। আর সেই ব্যক্তি হবে উত্তম, যে প্রথমে সালাম দিয়ে থাকে। ৬০০
মহিলা কোন মাহরাম হলে অথবা গায়র মাহরাম বৃদ্ধা হলে তাকে সালাম দেওয়া বৈধ। নচেৎ গায়র মাহরাম কোন যুবতী মহিলাকে---বিশেষ করে ফিতনার ভয় থাকলে---তাকে সালাম দেওয়া এবং তার মুখ খোলানো চরিত্রবানের জন্য বৈধ নয়। শিশু হলেও তাকে সালাম দেয় চরিত্রবান। আর তা বিনয়ের একটি নিদর্শন। আমাদের মহানবী পথে চলাকালে ছোট শিশুদেরকে সালাম দিতেন। ৬০৪
জ্ঞাতব্য যে, উত্তমভাবে সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজেব। আর সালামের পর ও বিদায়কালে এক হাতে মুসাফাহাহ করা সুন্নত। আল্লাহর রসূল বলেন, "যখনই কোন দুই মুমিন ব্যক্তি সাক্ষাৎ ক'রে আপোসে মুসাফাহাহ করে, (কেবল আল্লাহর ওয়াস্তে একে অন্যের হাত ধরে), তখনই তাদের পৃথক হয়ে প্রস্থান করার পূর্বেই উভয়কেই ক্ষমা ক'রে দেওয়া হয়।”৬০৫
তা'যীমের জন্য নয়, বরং নিজের জায়গায় বসানোর জন্য, সহযোগিতা করার জন্য আগন্তুকের প্রতি উঠে দাঁড়ানো সুন্দর চরিত্রের পরিচায়ক।
আর সফর থেকে ফিরে সাক্ষাতের সময় পরস্পরকে মুআনাকা করা বিধেয়। আনাস বলেন, 'নবী এর সাহাবাগণ যখন আপোসে সাক্ষাৎ করতেন, তখন মুসাফাহাহ করতেন এবং যখন সফর থেকে ফিরে আসতেন, তখন মুআনাকা করতেন। '৬০৬
২. অপরের বাড়ি প্রবেশে অনুমতি নেওয়া
অপরের বাড়ি প্রবেশ করতে হলে তার অনুমতি নিতে হবে। মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবের সূরা নূর ২৭-২৮ আয়াতে এর বিধান দিয়েছেন। উচিত নয়, কারো বাড়ির দরজার সোজাসুজি দাঁড়ানো। কারো বাড়ির ভিতর দৃষ্টিপাত করা অথবা উঁকিঝুঁকি মেরে দেখা চরিত্রবানের কাজ নয়। দরজা অথবা জানালা দিয়ে, রাস্তা থেকে অথবা অন্য বাড়ির ছাদ বা জানালা থেকে, গাছ বা গাড়ির উপর থেকে কারো বাড়ির ভিতরে নজর দিলে নজরবাজের চোখ ফুটিয়ে দেওয়া বৈধ করা হয়েছে। আল্লাহর রসূল বলেন, “যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের গৃহে তাদের অনুমতি না নিয়ে উঁকি মেরে দেখে সে ব্যক্তির চোখে (ঢিল ছুঁড়ে) তাকে কানা ক'রে দেওয়া তাদের জন্য বৈধ হয়ে যায়। "৬০৭
৩. রাস্তা চলার আদব
১. যমীনে চলাফেরা করার সময় অহংকার প্রদর্শন করা, নিজেকে হিরো ও অপরকে জিরো এবং গুরুকে গরু মনে করে অবজ্ঞার সাথে বিচরণ করা অভদ্র, অসভ্য ও গোঁয়ার লোকের নিদর্শন। আসলে একজন মুসলিম হয় ভদ্র ও বিনয়ী। মহান আল্লাহ তার চলার গুণ বর্ণনা করে বলেন,
وَعِبَادُ الرَّحْمَنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْنًا وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلَامًا
অর্থাৎ, আর তারা রহমানের বান্দা, যারা যমীনের বুকে নম্রভাবে চলা-ফিরা করে এবং অজ্ঞ ব্যক্তিরা তাদেরকে সম্বোধন করলে (উপেক্ষা করে) বলে, সালাম।৬০৮
পক্ষান্তরে চরিত্রশূন্য অহংকারীরা ঔদ্ধত্যের সাথে রাস্তা চলে, হাসিমুখে কথা বলে না, গোমড়া মুখ প্রদর্শন করে, পথে কাউকে সালাম দিতে চায় না এবং সালামের উত্তর দিতেও আগ্রহ দেখায় না। মহান আল্লাহ লুকমান হাকীমের উপদেশ উল্লেখ ক'রে বলেন,
وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ
অর্থাৎ, তুমি (অহংকারবশে) মানুষকে মুখ বাঁকায়ো না (অবজ্ঞা করো না) এবং পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে বিচরণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক দাম্ভিক অহংকারীকে ভালোবাসেন না। ৬০৯
তিনি আরো বলেছেন,
وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا إِنَّكَ لَن تَخْرِقَ الْأَرْضَ وَلَن تَبْلُغَ الْجِبَالَ طُولاً
"ভূ-পৃষ্ঠে দম্ভভরে বিচরণ করো না, তুমি তো কখনোই পদভারে ভূ-পৃষ্ঠ বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনোই পর্বত-প্রমাণ হতে পারবে না।”৬১০
আল্লাহর রসূল বলেন, "একদা (পূর্ববর্তী উম্মতের) এক ব্যক্তি একজোড়া পোশাক পরে, গর্বভরে, মাথা আঁচড়ে অহংকারের সাথে চলা-ফেরা করছিল। ইত্যবসরে আল্লাহ তার (পায়ের নীচের মাটিকে) ধসিয়ে দিলেন। সুতরাং সে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত মাটির গভীরে নেমে যেতেই থাকবে।”৬১১
তিনি আরো বলেন, "যে ব্যক্তি মনে মনে গর্বিত হবে অথবা চলনে অহমিকা প্রকাশ করবে, সে ব্যক্তি যখন আল্লাহ তাআলার সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন তিনি তার উপর ক্রোধান্বিত থাকবেন। "৬১২
বহু মানুষ আছে, যারা অহংকারের সাথে নিজ লুঙ্গি, পায়জামা বা প্যান্ট গাঁটের নিচে ঝুলিয়ে পরে রাস্তায় ছেঁচড়ে নিয়ে বেড়ায়, তাদের ব্যাপারে মহানবী বলেন, “যে ব্যক্তি অহংকারের সাথে তার কাপড় (মাটিতে) ছেঁচড়ায় তার দিকে আল্লাহ তাকিয়ে দেখবেন না।"৬১৩
৪. রোগী দেখতে যাওয়া
আল্লাহর রসূল বলেছেন, "মুসলিমের উপর মুসলিমের ৫টি অধিকার রয়েছে; (তার মধ্যে একটা হল,) রোগীকে সাক্ষাৎ ক'রে সান্ত্বনা দেওয়া।”৬১৪
রোগীকে সাক্ষাৎ করতে গেলে মহান আল্লাহকে সাক্ষাৎ করা হয়। ৬১৫
আল্লাহর রসূল বলেন, “যে ব্যক্তি কোন রোগীকে সাক্ষাৎ ক'রে জিজ্ঞাসাবাদ করে অথবা তার কোন লিল্লাহী (আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ভ্রাতৃত্বস্থাপন করে সেই) ভাইকে সাক্ষাৎ করে, সে ব্যক্তিকে এক (গায়বী) আহবানকারী আহবান করে বলে, 'সুখী হও তুমি, সুখকর হোক তোমার ঐ যাত্রা (সাক্ষাতের জন্য যাওয়া)। আর তোমার স্থান হোক জান্নাতের প্রাসাদে। "৬১৬
তিনি আরো বলেন, "যখনই কোন ব্যক্তি সন্ধ্যাবেলায় কোন রোগীকে সাক্ষাৎ করতে যায়, তখনই তার সাথে ৭০ হাজার ফিরিস্তা বের হয়ে সকাল পর্যন্ত তার জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে। আর যে ব্যক্তি সকালবেলায় রোগীকে দেখা করতে আসে সে ব্যক্তির সাথে ও ৭০ হাজার ফিরিস্তা বের হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে।" ৬১৭
তিনি আরো বলেন, "যে ব্যক্তি রোগীকে সাক্ষাৎ করতে যায়, সে আসলে ফিরে না আসা পর্যন্ত জান্নাতের ফল তুলতে থাকে।”৬১৮
তিনি আরো বলেন, "যে ব্যক্তি রোগীকে সাক্ষাৎ করতে যায়, সে আসলে রহমতে বিচরণ করতে থাকে। অতঃপর সে যখন (রোগীর নিকটে) বসে যায়, তখন রহমতে স্থায়ী হয়ে যায়।"৬১৯
তাহলে এমন কাজ কি কোন চরিত্রবানের না হয়?
৫. জানাযায় অংশগ্রহণ করা
চরিত্রবান পুরুষের একটি সচ্চরিত্রতা হল, কেউ মারা গেলে তার জানাযায় অংশ গ্রহণ করে। যেহেতু আল্লাহর রসূল বলেন, "মুসলিমের উপর মুসলিমের ৫টি অধিকার রয়েছে; (তার মধ্যে একটা হল,) জানাযায় অংশগ্রহণ করা।”৬২০
জানাযায় অংশগ্রহণ করলে পরকাল স্মরণ হয়। আর চরিত্রবানের একটা আচরণ হল পরকালকে সদাসর্বদা স্মরণে রাখা। পরন্তু সেই অংশগ্রহণে রয়েছে বিশাল সওয়াব। আল্লাহর রসূল বলেন,
مَنْ اتَّبَعَ جَنَازَةَ مُسْلِمٍ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا وَكَانَ مَعَهُ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهَا وَيَفْرُغَ مِنْ دَفْنِهَا فَإِنَّه يَرْجِعُ مِنَ الْأَجْرِ بِقِيرَاطَيْنِ كُلُّ قِيرَاطٍ مِثْلُ أُحُدٍ وَمَنْ صَلَّى عَلَيْهَا ثُمَّ رَجَعَ قَبْلَ أَنْ تُدْفَنَ فَإِنَّهُ يَرْجِعُ بِقِيرَاطٍ
“যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং নেকী লাভের আশায় জানাযার অনুগমন করে তার স্বলাত ও দাফন হওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকে, সে ব্যক্তি দুই ক্বীরাত সওয়াব নিয়ে ফিরে আসে। প্রত্যেক ক্বীরাত উহুদ পাহাড় সমতুল্য। আর যে ব্যক্তি তার স্বলাত পড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে, সে ব্যক্তি এক ক্বীরাত সওয়াব নিয়ে ফিরে আসে।”৬২১
৬. মজলিসের আদব
চরিত্রবান সর্বদা ভালো মজলিসে বসে। আর যখন কোন মজলিসে বসে, তখন আল্লাহর যিক্র করতে ও তাঁর নবী এর উপর দরূদ পড়তে ভুল করে না।
চরিত্রবান সর্বদা ভালো লোকের সাথী হয়। চরিত্রবান সাথীর সাথে উঠা-বসা করে। কারণ মানুষ যার সাথে উঠা-বসা করবে, সে অবশ্যই তার দ্বারা কিছু না কিছু প্রভাবান্বিত হবে। আর সে জন্যই কারো কাছে বসার আগে জেনে নেওয়া উচিত, সে ভালো লোক কি না?
আল্লাহর রসূল বলেন, "মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের অনুসারী হয়। সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকের দেখা উচিত যে, সে কার সাথে বন্ধুত্ব করছে।”৬২২
চরিত্রবান এমন জায়গায় বসে না, যেখানে বসলে পাপ হওয়ার আশঙ্কা আছে। মহানবী বলেন, “খবরদার! তোমরা রাস্তার ধারে বসো না। আর একান্তই যদি বসতেই হয়, তাহলে তার হক আদায় করো।" লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, 'রাস্তার হক কি? হে আল্লাহর রসূল!' তিনি বললেন, "দৃষ্টি সংযত রাখা, কাউকে কষ্ট দেওয়া হতে বিরত থাকা, সালামের জবাব দেওয়া, সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজে বাধা দান করা (এবং পথভ্রষ্টকে পথ বলে দেওয়া)। "৬২৩
অনুরূপ বাড়ির ছাদে বা এমন উঁচু জায়গায় বসতেও নিষেধ করেছেন আমাদের আদর্শ নবী মুহাম্মাদ। ৬২৪
চরিত্রবান মজলিসে এসে কাউকে উঠিয়ে তার জায়গায় বসে না, কাউকে বসায় না। মজলিসে দুটি লোক (আত্মীয় বা বন্ধু) একত্রে বসে থাকলে, সে গিয়ে তাদের মাঝে বসে উভয়ের মাঝে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করে না।
ভদ্র মানুষ মজলিসে উপস্থিত হয়ে যেখানে মজলিস শেষ হয়েছে, সেখানেই বসে যান। ঘাড় ডিঙিয়ে মানুষকে কষ্ট দেয় না।
চরিত্রবান পরকীয় কথায় কানাচি পাতে না। কারণ তা করলে কিয়ামতের দিন তার কানে গলিত সীসা ঢালা হবে। ৬২৫
মজলিসে প্রগল্ভ হয়ে প্রায় সর্বদা সব কথাতে, হাসির কথাতে এবং অহাসির কথাতেও 'হো-হো, হা-হা' করে হাসা বৈধ নয়। মহানবী বলেন, "তোমরা বেশী বেশী হেসো না। কারণ, অধিক হাসিতে হৃদয় মারা যায়। "৬২৬
মজলিসে থাকাকালে ঘেউ ঘেউ করে ঢেকুর তোলা উচিত নয়। ঢেকুর এলে যথাসম্ভব শব্দ দমন করা উচিত। যেহেতু লোকেরা তা পছন্দ করে না। ঢেকুরের সাথে এমন গ্যাস বের হতে পারে, যা লোকেদের নাকে খারাপ লাগে।
মজলিসে বসার সময় আদবের সাথে থাকুন। যাতে লোকে আপনাকে খারাপ ভাবে সে রকম কাজ করবেন না। যেমন কারো দিকে পা করে বা পা মেলে বসবেন না। দুজনের জায়গা একা নিয়ে বসবেন না। সীট বা টেবিলের উপর পা তুলে বসবেন না। দাঁত বা নাক খুঁটবেন না। হাওয়া ছাড়বেন না। কারো হাওয়া ছাড়া শুনে হাসবেন না। যেহেতু মহানবী কারো হাওয়া ছাড়া শুনে হাসতে নিষেধ করেছেন। ৬২৭
তিনি বলেছেন, "তোমাদের কেউ যে কাজ নিজেও করে সে কাজে হাসে কেন?”৬২৮
মজলিস থেকে উঠে চলে যাওয়ার সময় সালাম দিয়ে যান।
৭. হাই ও হাঁচির আদব
মহানবী বলেন, "নিশ্চয় আল্লাহ হাঁচিকে পছন্দ এবং হাইকে অপছন্দ করেন। সুতরাং তোমাদের মধ্যে কেউ যখন হাঁচি মেরে 'আলহামদু লিল্লাহ' বলে, তখন প্রত্যেক সেই মুসলিমের উচিত, যে সেই হাম্দ শোনে সে যেন তার উদ্দেশ্যে 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বলে। পক্ষান্তরে হাই হল শয়তানেরই তরফ থেকে। সুতরাং তোমাদের যে কেউ যখন হাই তোলে, তখন সে যেন তা যথাসাধ্য দমন করে। যেহেতু তোমাদের কেউ যখন হাই তোলে, তখন শয়তান হাসে।" অন্য এক বর্ণনায় আছে, "তোমাদের কেউ যখন 'হা-হা' বলে, তখন শয়তান হাসে। "৬২৯
তিনি আরো বলেন, "তোমাদের কেউ যখন হাই তোলে, তখন সে যেন নিজ মুখের উপর হাত রেখে নেয়। কেননা শয়তান তাতে প্রবেশ করে থাকে।”৬৩০
৮. আধুনিক জীবনের কিছু আদব
১. টেলিফোন বা মোবাইলের রিং সাধারণ রাখুন। অবশ্যই কোন প্রকার মিউজিক বা গান লাগিয়ে রাখবেন না। আযান ও কুরআনও লাগাবেন না। কারণ তা অপবিত্র জায়গায় বেজে উটতে পারে। এ ছাড়া মসজিদে বা দর্সে গেলে রিং বন্ধ রাখুন। আপনার মোবাইল দ্বারা অপরকে কষ্ট দিবেন না বা নিজ তথা অপরের ইবাদতের মনোযোগ ও একাগ্রতা নষ্ট করবেন না।
পরন্তু ইবাদতের জায়গায় যদি রিং বন্ধ করতে ভুলেই যান, তাহলে প্রথম রিং হওয়া মাত্র সাথে সাথে বন্ধ করে ফেলুন। স্বলাত অবস্থায় হলেও তা ছেড়ে রাখবেন না। কারণ, তাতে আপনার সাথে প্রায় সকল মুস্বাল্লীর মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হয়ে যাবে।
২. রেডিও শুনুন, কিন্তু গান-বাজনা শোনা থেকে অবশ্যই দূরে থাকুন। টিভি দেখুন, কিন্তু গান-বাজনা শুনবেন না। অবৈধ কিছু দেখবেন না। ভিডিও ক্যামেরা, ভিসিয়ার, ভিসিডি ইত্যাদি যন্ত্র খুব সাবধানে ব্যবহার করুন। এসব যন্ত্রকে দাওয়াতি কাজে ব্যবহার করুন। তবে সাবধান থাকবেন, যাতে 'বাত ভালো করতে গিয়ে কুষ্ঠব্যাধি' না হয়ে বসে।
৩. আধুনিক যুগে কম্পিউটার একটি আশ্চর্য জিনিস। এটিকেও আপনি আপনার উপকারে ব্যবহার করুন। তবে ইন্টারনেট ব্যবহার করুন খুব সতর্কতার সাথে। যেহেতু তাতে মধুও আছে এবং বিষও।
৪. গাড়ি চালালে অতি সাবধানতার সাথে চালান। ট্রাফিক আইন অবশ্যই মেনে চলুন। অপর সাইডে কোন গাড়ি থাক্ বা না-ই থাক্ আপনার শিগ্ন্যাল গ্রীন না হলে আপনি তা অতিক্রম করবেন না। অবশ্য গ্রীন হলেও অন্য সাইড ভালোভাবে দেখেই পার হন, কারণ আইন ভঙ্গকারী মানুষের অভাব নেই। মাত্রাধিক স্পীডে গাড়ি চালিয়ে নিজের তথা অপরের জীবনকে মরণের দিকে ঠেলে দিবেন না।
রোডে অপর গাড়ি বা পথচারীর খেয়াল অবশ্যই রাখবেন। পথের অধিকার সকলকেই যথোচিতভাবে প্রদান করবেন। উচিতভাবে সাইড দেবেন। খবরদার রোডে কারো সাথে প্রতিযোগিতার মনোভাব নিয়ে আগে যেতে চেষ্টা করবেন না। আপনার গাড়ির হর্নে ঘুমন্ত, রোগগ্রস্ত বা ইবাদতরত কোন ব্যক্তির ডিস্টার্ব করবেন না। রাতে সামনে গাড়ি থাকলে হেড-লাইট জ্বালিয়ে রাখবেন না।
গাড়ি চালানো একটি নেহাতই টেনশনের কাজ। সুতরাং অপরের ভুলের সাথে আপনার প্রচুর ধৈর্যের দরকার।
একজন মুসলিম হবে এতই আদর্শবান যে, তার মাধ্যমে অন্য লোকে কোন প্রকার কষ্ট পাবে না।
বলা বাহুল্য, গাড়ি চালানো খুবই সতর্কতা ও বড় সচ্চরিত্রতার কাজ।
টিকাঃ
৫৯৫. মুসলিম ২ ১৬২
৫৯৬. তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, হাকেম, সহীহ তারগীব ৬১০
৫৯৭. তিরমিযী ২৬৯৮
৫৯৮. বুখারী ৬২৩৬, মুসলিম ৩৯
৫৯৯. মুসলিম ৫৪
৬০০. সহীহুল জামে' ৯৬৬
৬০১. সহীহুল জামে' ৯৬৬
৬০২. বুখারী ৬২৩১-৬২৩২, মুসলিম ২১৬০
৬০৩. বুখারী ৬০৭৭, সিলসিলাহ সহীহাহ ১১৪৬
৬০৪. বুখারী ৬২৪৭, মুসলিম ২১৬৮
৬০৫. তিরমিযী, সহীহ আবু দাউদ ৪৩৪৩
৬০৬. তাবারানী, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৮/৩৬
৬০৭. বুখারী ৬৮৮৮, মুসলিম ২১৫৮, আবু দাউদ, নাসাঈ
৬০৮. সূরা ফুরকান ৬৩
৬০৯. সূরা লুকুমান ১৮
৬১০. সূরা বানী ইস্রাঈল: ৩৭
৬১১. বুখারী ৫৭৮৯, মুসলিম ২০৮৮
৬১২. আহমদ, বুখারীর আল-আদাবুল মুফরাদ, হাকেম ১/১৬০, সহীহুল জামে' ৬১৫৭
৬১৩. বুখারী ৫৭৮৪, মুসলিম ২০৮৫
৬১৪. বুখারী ১২৪০, মুসলিম ২১৬২
৬১৫. মুসলিম ৬৭২১
৬১৬. তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, সহীহ তিরমিযী ১৬৩৩
৬১৭. আহমাদ, ইবনে মাজাহ, বাইহাকী, প্রমুখ, সহীহুল জামে' ৫৭১৭
৬১৮. আহমাদ ২১৮৬৮, মুসলিম ২৫৬৮, তিরমিযী ৯৬৭
৬১৯. আল-আদাবুল মুফরাদ ৫২২
৬২০. বুখারী ১২৪০, মুসলিম ২১৬২
৬২১. বুখারী ৪৭
৬২২. আহমাদ ৭৯৬৮, আবু দাউদ ৪৮৩৩, তিরমিযী ২৩৭৮, সিলসিলাহ সহীহাহ, আলবানী ৯২৭
৬২৩. আহমাদ, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, সহীহুল জামে' ২৬৭৫
৬২৪. সিলসিলাহ সহীহাহ ৬/১৪-১৫
৬২৫. বুখারী ৭০৪২
৬২৬. ইবনে মাজাহ ৪১৯৩
৬২৭. সহীহুল জামে' ৬৮৯৬
৬২৮. বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৩২৪২
৬২৯. বুখারী ৬২২৩, ৬২২৬, মুসলিম ২৯৯৪
৬৩০. মুসলিম ২৯৯৫
📄 চরিত্রবানের করণীয় ও বর্জনীয় আরো কিছু কাজ
আল্লাহর ভাগ করা ভাগ্যে অসন্তুষ্ট হওয়া চরিত্রবানের আদর্শ হতে পারে না।
ফরয স্বলাত ত্যাগ করা, সময় পার করে স্বলাত পড়া, লোক দেখিয়ে ইবাদত করা, জুমআহ ও জামাআত ত্যাগ করা, যাকাত না দেওয়া, দান করে গেয়ে বেড়ানো, সামান্য ওযরে সিয়াম না রাখা, ফরয হওয়া সত্ত্বেও হজ্জ না করা, ইলম অনুযায়ী আমল না করা ইত্যাদি আচরণ চরিত্রবানের নয়।
চরিত্রবান গান-বাজনা শোনা, নোংরা ফিল্ম, অবৈধ খেলা ও নাটক-যাত্রা দেখা থেকে বিরত থাকে।
কথায় কথায় অভিশাপ বা খারাপ ভাষা ব্যবহার করে না।
চরিত্রবান ধীর ও শান্ত হয়। কোন বিষয়ে তাড়াহুড়া করে না।
সে লোভী হয় না। লালসা থাকে না তার মনের ভিতরে।
চরিত্রবান নিজেকে নিজে সম্মান দেয়। অর্থাৎ নিজের সম্মান নিজে রক্ষা করে। এমন কাজ করে না, যাতে তার সম্মান রক্ষা হয় না।
কারো গীবত করে না। চুগলী করে না। দু'মুখে কথা বলে না।
চরিত্রবান পরের কাছ থেকে শোনা খবর যাচাই ক'রে দেখে।
ভদ্র লোকেরা রটনা ও গুজবে কান দেয় না। প্রত্যেক বিষয় ভালোভাবে বুঝার পর মন্তব্য করে। বিতর্কিত বিষয়, ব্যক্তিত্ব বা জামাআতের ব্যাপারে কড়া মন্তব্য করা থেকে দূরে থাকে।
সতর্ক মানুষ এক পক্ষের কথা শুনে বিচার করে বা রায় দিয়ে বসে না।
হক কথা বলে, তবে কৌশলের সাথে।
নিজের ভুল স্বীকার করে এবং অপরের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হয়। যৌথ ভুলের ব্যাপারে নিজেকেই অধিক দোষারোপ করে এবং পরের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজেকে বাঁচাতে চায় না। কারো ত্রুটি দেখলে সরাসরি তাকে আঘাত করে না।
চরিত্রবান নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে। কর্তব্য পালনে কোন প্রকার অবহেলা বা ফাঁকিবাজি করে না।
সুশীল মানুষ নিজের উপর আস্থা রাখে। আত্মনির্ভরশীল হয়। পর-প্রত্যাশী হয় না। যতই অভাব ও দুঃখ-দৈন্য আসুক, সে পরমুখাপেক্ষী হয় না। লজ্জাশীলতা তাকে কারো কাছে হাত পাততে বাধা দেয়।
চরিত্রবান কার্পণ্য করে না।
আবেগাপ্লুত হয় না, চোখ বন্ধ ক'রে কাউকে কাফের বলে না।
সচ্চরিত্রবান মানুষ অভিমানী হয় না, কথায় কথায় মাইণ্ড ক'রে বসে না।
সে কারো সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে না। প্রাণ হত্যা করে না। যতই কষ্ট হোক আত্মহত্যা করে না।
চরিত্রবান যালেম হয় না। সে কাউকে অপমান ও অপদস্থ করে না।
চরিত্রবান কোন প্রকার মাদকদ্রব্য সেবন করে না। মদ, ভাং, গাঁজা, আফিম, চুরুট, সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, তামাক, গুল, গোরাকু, খৈনী ইত্যাদি ব্যবহার করে না।
ভদ্র মানুষ সত্য প্রত্যাখান করে না। কারণ তা এক প্রকার অহংকার।
সে কাউকে ঠাট্টা বা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করা থেকে সুদূরে থাকে।
চরিত্রবান জুয়া (ফ্লাশ) খেলা, লটারী খেলা, দাবা, পাশা, তাস, কেরাম, লুডু, ভিডিও গেম ইত্যাদি সময় নষ্টকারী খেলা খেলে না।
সে এতীমের মাল ভক্ষণ করে না, গরীবের হক মেরে খায় না। কোম্পানি বা সরকারী সম্পত্তি অথবা মসজিদ-মাদ্রাসা, ভাই-বোন বা অন্য কোন মানুষের জমি-জায়গা অন্যায়ভাবে ব্যবহার ও ভোগ করে না। পরের জমি চাষ ক'রে ভাগে ফাঁকি দেয় না।
চুরি করার কাজ কি চরিত্রবানের হতে পারে? পরের সম্পদ আত্মসাৎ করা কি চরিত্রবানের কাজ হতে পারে?
জমি-জায়গা দাবিয়ে নেওয়া, ঘুস খাওয়া, সূদ খাওয়া, পণ বা যৌতুক নেওয়া সচ্চরিত্রবান মানুষের আচরণ হতে পারে না।
ওজনে নেওয়ার সময় বেশী এবং দেওয়ার সময় কম দেওয়া, ব্যবসায় ও যে কোন ব্যাপারে মিথ্যা কসম খাওয়া, মানুষকে ধোঁকা দেওয়া, জালিয়াতি করা, মালে ভেজাল দেওয়া, কসম ক'রে মাল বিক্রি করা, প্রয়োজনের সময় মাল গুদামজাত করে রাখা চরিত্রবানের আচরণ নয়।
মিথ্যা অপবাদ দেওয়া, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, সাক্ষ্য গোপন করা, অসিয়ত পালন না করা ইত্যাদি থেকে দূরে থাকে চরিত্রবান।
পুরুষের দাড়ি চাঁছা, সোনা ও রেশমবস্ত্র ব্যবহার করা, পুরুষের গাঁটের নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরা, বিজাতির অনুকরণ বা সাদৃশ্য অবলম্বন করা ইত্যাদি সুন্দর চরিত্রের আচরণ নয়।
মহিলার বেপর্দা হওয়া, এগানা পুরুষ ছাড়া তার একাকিনী সফর করা, ভ্রূ-প্লাক করা, পরচুলা ব্যবহার করা, চুলের খোঁপা বাঁধা, দেহ দেগে নক্সা করা, দাঁত ঘষে ফাঁক ফাঁক করা, বিপদে মাতম করা ইত্যাদি সুন্দর চরিত্রবতীর আচরণ হতে পারে না।
আল্লাহর ভাগ করা ভাগ্যে অসন্তুষ্ট হওয়া চরিত্রবানের আদর্শ হতে পারে না।
ফরয স্বলাত ত্যাগ করা, সময় পার করে স্বলাত পড়া, লোক দেখিয়ে ইবাদত করা, জুমআহ ও জামাআত ত্যাগ করা, যাকাত না দেওয়া, দান করে গেয়ে বেড়ানো, সামান্য ওযরে সিয়াম না রাখা, ফরয হওয়া সত্ত্বেও হজ্জ না করা, ইলম অনুযায়ী আমল না করা ইত্যাদি আচরণ চরিত্রবানের নয়।
চরিত্রবান গান-বাজনা শোনা, নোংরা ফিল্ম, অবৈধ খেলা ও নাটক-যাত্রা দেখা থেকে বিরত থাকে।
কথায় কথায় অভিশাপ বা খারাপ ভাষা ব্যবহার করে না।
চরিত্রবান ধীর ও শান্ত হয়। কোন বিষয়ে তাড়াহুড়া করে না।
সে লোভী হয় না। লালসা থাকে না তার মনের ভিতরে।
চরিত্রবান নিজেকে নিজে সম্মান দেয়। অর্থাৎ নিজের সম্মান নিজে রক্ষা করে। এমন কাজ করে না, যাতে তার সম্মান রক্ষা হয় না।
কারো গীবত করে না। চুগলী করে না। দু'মুখে কথা বলে না।
চরিত্রবান পরের কাছ থেকে শোনা খবর যাচাই ক'রে দেখে।
ভদ্র লোকেরা রটনা ও গুজবে কান দেয় না। প্রত্যেক বিষয় ভালোভাবে বুঝার পর মন্তব্য করে। বিতর্কিত বিষয়, ব্যক্তিত্ব বা জামাআতের ব্যাপারে কড়া মন্তব্য করা থেকে দূরে থাকে।
সতর্ক মানুষ এক পক্ষের কথা শুনে বিচার করে বা রায় দিয়ে বসে না।
হক কথা বলে, তবে কৌশলের সাথে।
নিজের ভুল স্বীকার করে এবং অপরের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হয়। যৌথ ভুলের ব্যাপারে নিজেকেই অধিক দোষারোপ করে এবং পরের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজেকে বাঁচাতে চায় না। কারো ত্রুটি দেখলে সরাসরি তাকে আঘাত করে না।
চরিত্রবান নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে। কর্তব্য পালনে কোন প্রকার অবহেলা বা ফাঁকিবাজি করে না।
সুশীল মানুষ নিজের উপর আস্থা রাখে। আত্মনির্ভরশীল হয়। পর-প্রত্যাশী হয় না। যতই অভাব ও দুঃখ-দৈন্য আসুক, সে পরমুখাপেক্ষী হয় না। লজ্জাশীলতা তাকে কারো কাছে হাত পাততে বাধা দেয়।
চরিত্রবান কার্পণ্য করে না।
আবেগাপ্লুত হয় না, চোখ বন্ধ ক'রে কাউকে কাফের বলে না।
সচ্চরিত্রবান মানুষ অভিমানী হয় না, কথায় কথায় মাইণ্ড ক'রে বসে না।
সে কারো সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে না। প্রাণ হত্যা করে না। যতই কষ্ট হোক আত্মহত্যা করে না।
চরিত্রবান যালেম হয় না। সে কাউকে অপমান ও অপদস্থ করে না।
চরিত্রবান কোন প্রকার মাদকদ্রব্য সেবন করে না। মদ, ভাং, গাঁজা, আফিম, চুরুট, সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, তামাক, গুল, গোরাকু, খৈনী ইত্যাদি ব্যবহার করে না।
ভদ্র মানুষ সত্য প্রত্যাখান করে না। কারণ তা এক প্রকার অহংকার।
সে কাউকে ঠাট্টা বা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করা থেকে সুদূরে থাকে।
চরিত্রবান জুয়া (ফ্লাশ) খেলা, লটারী খেলা, দাবা, পাশা, তাস, কেরাম, লুডু, ভিডিও গেম ইত্যাদি সময় নষ্টকারী খেলা খেলে না।
সে এতীমের মাল ভক্ষণ করে না, গরীবের হক মেরে খায় না। কোম্পানি বা সরকারী সম্পত্তি অথবা মসজিদ-মাদ্রাসা, ভাই-বোন বা অন্য কোন মানুষের জমি-জায়গা অন্যায়ভাবে ব্যবহার ও ভোগ করে না। পরের জমি চাষ ক'রে ভাগে ফাঁকি দেয় না।
চুরি করার কাজ কি চরিত্রবানের হতে পারে? পরের সম্পদ আত্মসাৎ করা কি চরিত্রবানের কাজ হতে পারে?
জমি-জায়গা দাবিয়ে নেওয়া, ঘুস খাওয়া, সূদ খাওয়া, পণ বা যৌতুক নেওয়া সচ্চরিত্রবান মানুষের আচরণ হতে পারে না।
ওজনে নেওয়ার সময় বেশী এবং দেওয়ার সময় কম দেওয়া, ব্যবসায় ও যে কোন ব্যাপারে মিথ্যা কসম খাওয়া, মানুষকে ধোঁকা দেওয়া, জালিয়াতি করা, মালে ভেজাল দেওয়া, কসম ক'রে মাল বিক্রি করা, প্রয়োজনের সময় মাল গুদামজাত করে রাখা চরিত্রবানের আচরণ নয়।
মিথ্যা অপবাদ দেওয়া, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, সাক্ষ্য গোপন করা, অসিয়ত পালন না করা ইত্যাদি থেকে দূরে থাকে চরিত্রবান।
পুরুষের দাড়ি চাঁছা, সোনা ও রেশমবস্ত্র ব্যবহার করা, পুরুষের গাঁটের নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরা, বিজাতির অনুকরণ বা সাদৃশ্য অবলম্বন করা ইত্যাদি সুন্দর চরিত্রের আচরণ নয়।
মহিলার বেপর্দা হওয়া, এগানা পুরুষ ছাড়া তার একাকিনী সফর করা, ভ্রূ-প্লাক করা, পরচুলা ব্যবহার করা, চুলের খোঁপা বাঁধা, দেহ দেগে নক্সা করা, দাঁত ঘষে ফাঁক ফাঁক করা, বিপদে মাতম করা ইত্যাদি সুন্দর চরিত্রবতীর আচরণ হতে পারে না।