📘 সচ্চরিত্রতা ও চারিত্রিক গুণাবলী > 📄 অপরের প্রয়োজন পূরণ

📄 অপরের প্রয়োজন পূরণ


চরিত্রবান সৎশীল মানুষের এটা একটা মহৎ কাজ। এমন কাজে মানুষের নিকটেও সুনাম পাওয়া যায়, যদিও তার আশা করা উচিত নয় কোন মুসলিমের। কারণ, তা করলে আল্লাহর নিকট কোন বিনিময় পাওয়া যাবে না। সুতরাং সুনাম নেওয়ার নিয়ত না ক'রেই ভালো কাজ ক'রে যেতে হবে। আর তাতেই হবে সাফল্য লাভ। মহান আল্লাহর নির্দেশ,
وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ)
অর্থাৎ, উত্তম কাজ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। ৫৭৮
আর মহানবী বলেছেন,
المُسْلِمُ أَخُو المُسْلِم ، لا يَظْلِمهُ ، وَلا يُسْلِمُهُ مَنْ كَانَ فِي حَاجَةٍ أَخِيهِ ، كَانَ اللهُ فِي حَاجَته ، وَمَنْ فَرَّجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً ، فَرَّجَ اللَّهُ عَنْهُ بِهَا كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَومِ القِيَامَةِ، وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِماً سَتَرَهُ اللهُ يَومَ القِيامَةِ
"মুসলিম মুসলিমের ভাই, সে তার উপর অত্যাচার করবে না এবং তাকে অত্যাচারীর হাতে ছেড়ে দেবে না। যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূর্ণ করবে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূর্ণ করবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের কোন এক বিপদ দূর ক'রে দেবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার বহু বিপদের একটি বিপদ দূর ক'রে দেবেন। আর যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের দোষ-ত্রুটি গোপন করবে, আল্লাহ কিয়ামতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন করবেন।"৫৭৯
তিনি আরো বলেছেন
مَنْ نَفْسَ عَنْ مُؤْمِنٍ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنيَا ، نَفْسَ اللَّهُ عَنْهُ كُرِبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ القِيَامَةِ ، وَمَنْ يَسَّر عَلَى مُعْسِرٍ يَسَّرَ اللهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ، وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِماً سَتَرَهُ الله في الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ ، والله في عَونِ العَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَونِ أَخِيهِ
"যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের কোন পার্থিব দুর্ভোগ দূরীভূত করবে, আল্লাহ তার কিয়ামতের দিনের দুর্ভোগসমূহের মধ্যে কোন একটি দুর্ভোগ দূর করবেন। আর যে ব্যক্তি কোন ঋণ পরিশোধে অক্ষম ব্যক্তির প্রতি সহজ করবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার প্রতি সহজ করবেন। আর যতক্ষণ পর্যন্ত বান্দা তার মুসলমান ভাইয়ের সহযোগিতা করতে থাকে, আল্লাহও সে বান্দার সাহায্য করতে থাকেন। "৫৮০
অবশ্যই মহান প্রতিপালক এমন চরিত্রবান নারী-পুরুষকে ভালোবাসেন, যে মানুষের উপকার করে, মানুষের অভাব পূরণ করে। মহানবী বলেছেন,
أَحَبُّ النَّاسِ إِلَى اللهِ تَعَالَى أَنْفَعُهُمْ لِلنَّاسِ وَأَحَبُّ الْأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى سُرُورٌ تُدْخِلُهُ عَلَى مُسْلِمٍ أَوْ تَكَشِفُ عَنْهُ كُرْبَةً أَوْ تَقْضِي عَنْهُ دَيْنًا أَوْ تَطْرُدُ عَنْهُ جُوعًا وَلَأَنْ أَمْشِيَ مَعَ أَخِ فِي حَاجَةٍ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَعْتَكِفَ فِي هَذَا الْمَسْجِدِ - يَعْنِي مَسْجِدَ الْمَدِينَةِ - شَهْرًا وَمَنَ كَفَّ غَضَبَهُ سَتَرَ اللَّهُ عَوْرَتَهُ وَمَنْ كَظَمَ غَيْظَهُ وَلَوْ شَاءَ أَنْ يُمْضِيَهُ أَمْضَاهُ مَلأَ اللهُ قَلْبَهُ رَجَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ مَشَى مَعَ أَخِيهِ فِي حَاجَةٍ حَتَّى يُثْبِتَهَا لَهُ أَثْبَتَ اللَّهُ قَدَمَهُ يَوْمَ تَزُولُ الْأَقْدَامِ وَإِنَّ سُوءِ الْخُلُقِ لَيُفْسِدُ الْعَمَلَ كَمَا يُفْسِدُ الْخَلَ الْعَسَل
"আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়তম লোক হল সেই ব্যক্তি যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশী উপকারী। আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়তম আমল হল, একজন মুসলিমের হৃদয়কে খুশীতে পরিপূর্ণ করা অথবা তার কোন কষ্ট দূর করে দেওয়া অথবা তার তরফ থেকে তার ঋণ আদায় করে দেওয়া অথবা (কাপড় দান করে তার ইজ্জত ঢেকে দেওয়া অথবা) তার নিকট থেকে তার ক্ষুধা দূর করে দেওয়া। মসজিদে একমাস ধরে ই'তিকাফ করার চাইতে আমার মুসলিম ভাইয়ের কোন প্রয়োজন মিটাতে যাওয়া আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। যে ব্যক্তি নিজ ক্রোধ সংবরণ করে নেবে, আল্লাহ তার দোষ গোপন করে নেবেন। যে ব্যক্তি নিজ রাগ সামলে নেবে; অথচ সে ইচ্ছা করলে তা প্রয়োগ করতে পারত, সে ব্যক্তির হৃদয়কে আল্লাহ কিয়ামতের দিন সন্তুষ্ট করবেন। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করার জন্য যাবে এবং তা পূরণ করে দেবে, আল্লাহ সেদিন তার পদযুগলকে সুদৃঢ় রাখবেন, যেদিন পদযুগল পিছল কাটবে। আর মন্দ চরিত্র আমলকে নষ্ট করে, যেমন সির্কা মধুকে নষ্ট করে ফেলে।"৫৮১
অবশ্যই নিজ নিজ সাধ্যমতো। নচেৎ যে অভাব পূর্ণ করার ক্ষমতা তার নেই অথবা যে অভাব পূর্ণ করা তার জন্য বৈধ নয়, তা করতে সে আদিষ্ট নয়।

টিকাঃ
৫৭৮. হাজ্জ ৭৭
৫৭৯. বুখারী ২৪৪২, মুসলিম ৬৭৪৩
৫৮০. আহমাদ ৭৪২৭, মুসলিম ৭০২৮, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, হাকেম।
৫৮১. ত্বাবারানী ১৩৪৬৮, সহীহ তারগীব ২০৯০, সিলসিলাহ সহীহাহ ৯০৬, সহীহুল জামে' ১৭৬

চরিত্রবান সৎশীল মানুষের এটা একটা মহৎ কাজ। এমন কাজে মানুষের নিকটেও সুনাম পাওয়া যায়, যদিও তার আশা করা উচিত নয় কোন মুসলিমের। কারণ, তা করলে আল্লাহর নিকট কোন বিনিময় পাওয়া যাবে না। সুতরাং সুনাম নেওয়ার নিয়ত না ক'রেই ভালো কাজ ক'রে যেতে হবে। আর তাতেই হবে সাফল্য লাভ। মহান আল্লাহর নির্দেশ,
وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ)
অর্থাৎ, উত্তম কাজ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। ৫৭৮
আর মহানবী বলেছেন,
المُسْلِمُ أَخُو المُسْلِم ، لا يَظْلِمهُ ، وَلا يُسْلِمُهُ مَنْ كَانَ فِي حَاجَةٍ أَخِيهِ ، كَانَ اللهُ فِي حَاجَته ، وَمَنْ فَرَّجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً ، فَرَّجَ اللَّهُ عَنْهُ بِهَا كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَومِ القِيَامَةِ، وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِماً سَتَرَهُ اللهُ يَومَ القِيامَةِ
"মুসলিম মুসলিমের ভাই, সে তার উপর অত্যাচার করবে না এবং তাকে অত্যাচারীর হাতে ছেড়ে দেবে না। যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূর্ণ করবে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূর্ণ করবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের কোন এক বিপদ দূর ক'রে দেবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার বহু বিপদের একটি বিপদ দূর ক'রে দেবেন। আর যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের দোষ-ত্রুটি গোপন করবে, আল্লাহ কিয়ামতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন করবেন।"৫৭৯
তিনি আরো বলেছেন
مَنْ نَفْسَ عَنْ مُؤْمِنٍ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنيَا ، نَفْسَ اللَّهُ عَنْهُ كُرِبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ القِيَامَةِ ، وَمَنْ يَسَّر عَلَى مُعْسِرٍ يَسَّرَ اللهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ، وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِماً سَتَرَهُ الله في الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ ، والله في عَونِ العَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَونِ أَخِيهِ
"যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের কোন পার্থিব দুর্ভোগ দূরীভূত করবে, আল্লাহ তার কিয়ামতের দিনের দুর্ভোগসমূহের মধ্যে কোন একটি দুর্ভোগ দূর করবেন। আর যে ব্যক্তি কোন ঋণ পরিশোধে অক্ষম ব্যক্তির প্রতি সহজ করবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার প্রতি সহজ করবেন। আর যতক্ষণ পর্যন্ত বান্দা তার মুসলমান ভাইয়ের সহযোগিতা করতে থাকে, আল্লাহও সে বান্দার সাহায্য করতে থাকেন। "৫৮০
অবশ্যই মহান প্রতিপালক এমন চরিত্রবান নারী-পুরুষকে ভালোবাসেন, যে মানুষের উপকার করে, মানুষের অভাব পূরণ করে। মহানবী বলেছেন,
أَحَبُّ النَّاسِ إِلَى اللهِ تَعَالَى أَنْفَعُهُمْ لِلنَّاسِ وَأَحَبُّ الْأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى سُرُورٌ تُدْخِلُهُ عَلَى مُسْلِمٍ أَوْ تَكَشِفُ عَنْهُ كُرْبَةً أَوْ تَقْضِي عَنْهُ دَيْنًا أَوْ تَطْرُدُ عَنْهُ جُوعًا وَلَأَنْ أَمْشِيَ مَعَ أَخِ فِي حَاجَةٍ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَعْتَكِفَ فِي هَذَا الْمَسْجِدِ - يَعْنِي مَسْجِدَ الْمَدِينَةِ - شَهْرًا وَمَنَ كَفَّ غَضَبَهُ سَتَرَ اللَّهُ عَوْرَتَهُ وَمَنْ كَظَمَ غَيْظَهُ وَلَوْ شَاءَ أَنْ يُمْضِيَهُ أَمْضَاهُ مَلأَ اللهُ قَلْبَهُ رَجَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ مَشَى مَعَ أَخِيهِ فِي حَاجَةٍ حَتَّى يُثْبِتَهَا لَهُ أَثْبَتَ اللَّهُ قَدَمَهُ يَوْمَ تَزُولُ الْأَقْدَامِ وَإِنَّ سُوءِ الْخُلُقِ لَيُفْسِدُ الْعَمَلَ كَمَا يُفْسِدُ الْخَلَ الْعَسَل
"আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়তম লোক হল সেই ব্যক্তি যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশী উপকারী। আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়তম আমল হল, একজন মুসলিমের হৃদয়কে খুশীতে পরিপূর্ণ করা অথবা তার কোন কষ্ট দূর করে দেওয়া অথবা তার তরফ থেকে তার ঋণ আদায় করে দেওয়া অথবা (কাপড় দান করে তার ইজ্জত ঢেকে দেওয়া অথবা) তার নিকট থেকে তার ক্ষুধা দূর করে দেওয়া। মসজিদে একমাস ধরে ই'তিকাফ করার চাইতে আমার মুসলিম ভাইয়ের কোন প্রয়োজন মিটাতে যাওয়া আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। যে ব্যক্তি নিজ ক্রোধ সংবরণ করে নেবে, আল্লাহ তার দোষ গোপন করে নেবেন। যে ব্যক্তি নিজ রাগ সামলে নেবে; অথচ সে ইচ্ছা করলে তা প্রয়োগ করতে পারত, সে ব্যক্তির হৃদয়কে আল্লাহ কিয়ামতের দিন সন্তুষ্ট করবেন। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করার জন্য যাবে এবং তা পূরণ করে দেবে, আল্লাহ সেদিন তার পদযুগলকে সুদৃঢ় রাখবেন, যেদিন পদযুগল পিছল কাটবে। আর মন্দ চরিত্র আমলকে নষ্ট করে, যেমন সির্কা মধুকে নষ্ট করে ফেলে।"৫৮১
অবশ্যই নিজ নিজ সাধ্যমতো। নচেৎ যে অভাব পূর্ণ করার ক্ষমতা তার নেই অথবা যে অভাব পূর্ণ করা তার জন্য বৈধ নয়, তা করতে সে আদিষ্ট নয়।

টিকাঃ
৫৭৮. হাজ্জ ৭৭
৫৭৯. বুখারী ২৪৪২, মুসলিম ৬৭৪৩
৫৮০. আহমাদ ৭৪২৭, মুসলিম ৭০২৮, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, হাকেম।
৫৮১. ত্বাবারানী ১৩৪৬৮, সহীহ তারগীব ২০৯০, সিলসিলাহ সহীহাহ ৯০৬, সহীহুল জামে' ১৭৬

📘 সচ্চরিত্রতা ও চারিত্রিক গুণাবলী > 📄 পরোপকারিতা

📄 পরোপকারিতা


পরের উপকারে আসব, কিন্তু করব না। চরিত্রবান মানুষের এমন হওয়া উচিত নয়। অনেক সময় অনেক মানুষ দ্বারা ছোট উপকারের জন্য বড় মানুষকে তার খোশামদি করতে হয়। কিন্তু সে পাত্তা দেয় না। মুখ তুলে কথা বলে না, ফোনে জবাব দেয় না অথবা ব্যস্ততা প্রকাশ করে। তখন সেই ছোট মনের অনুদার মানুষের ভাবখানা শিয়ালের মতো হয়। 'শিয়ালের গু কাজে লাগে, শিয়াল গিয়ে পর্বতে হাগে।'
চরিত্রবান মানুষ এমন হয় না। বরং সে কারো উপকারে আসলে, তাতে সে আনন্দিত হয় এবং সানন্দ-চিত্তে সেই উপকার সাধন করতে পেরে মনে-প্রাণে তৃপ্তি লাভ করে। যেহেতু পরের উপকার করতে পেরে যে আনন্দ লাভ হয়, তার মতো বড় আনন্দ আর অন্য কিছুতে নেই। আর পরের উপকার যে করে, তার চেয়ে বড় ভালো মানুষ আর অন্য কেউ হতে পারে না। মহানবী বলেছেন,
خَيْرُ النَّاسِ أَنْفَعُهُمْ لِلنَّاسِ
“সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ সেই ব্যক্তি, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।”৫৮২
কোনও উপলক্ষ্যে কাউকে একটা উপহার দিয়ে আনন্দ দেওয়া যায়। তা শ্রেষ্ঠ কাজ।
কাউকে ঋণ দিয়ে উপকার করা যায়। আর তাতে সে আনন্দিত হয় এবং ঋণদাতার দেওয়া টাকার অর্ধেক টাকা সদকা করার সমান সওয়াব লাভ হয়।
কারো ঋণ পরিশোধ ক'রে দিয়ে তাকে স্বস্তি দেওয়া যায় এবং উপকৃত করা যায়।
কোন ক্ষুধার্থকে অন্নদান ক'রে আনন্দিত ও পরিতৃপ্ত করা যায়। এতে তার অনেক দুআ পাওয়া যায়। আর সওয়াব তো আছেই।
উক্ত সকল কাজ নিশ্চয়ই সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ। মহানবী বলেছেন,
أفْضَلُ الأَعْمالِ أنْ تُدْخِلَ على أخِيكَ المُؤْمِنِ سُرُوراً أَوْ تَقْضِيَ عَنهُ دَيْناً أَوْ تُطْعِمَهُ خُبْزاً
"সর্বশ্রেষ্ঠ আমল হল, (মু'মিন) মুসলিমের মনে তোমার আনন্দ ভরে দেওয়া, অথবা তার ঋণ পরিশোধ ক'রে দেওয়া অথবা তাকে রুটি খাওয়ানো।"৫৮৩
আর এ কথা পূর্বেই জেনেছি যে, যে ব্যক্তি মানুষের জন্য উপকারী, সে মহান প্রতিপালকের নিকট সবার চাইতে বেশি প্রিয় এবং কোনও ভাবে কোন মুসলিমকে খোশ করাও তাঁর নিকট সর্বাধিক প্রিয় আমল। মহানবী বলেছেন,
أَحَبُّ النَّاسِ إلى الله أَنْفَعُهُمْ وأَحَبُّ الأَعْمَالِ إلى الله عَزَّ وَجَلَّ سُرُورٌ تُدْخِلُهُ عَلَى مُسْلِمٍ
"আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়তম মানুষ সেই ব্যক্তি, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশী উপকারী এবং আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়তম আমল সেই আমল, যা ক'রে একজন মুসলিমকে আনন্দ দেওয়া যায়।"৫৮৪
অবশ্যই সে উপকার নিজ সাধ্যমতো করা যাবে। নচেৎ মহান আল্লাহ
(لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا)
"আল্লাহ কাউকেও তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করেন না।"৫৮৫
(لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا مَا آتَاهَا )
"আল্লাহ যাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন, তার চেয়ে গুরুতর বোঝা তিনি তার উপর চাপান না। ৫৮৬
অতএব চরিত্রবানের উচিত, যদি সে কারো সুখের গল্প লেখার পেন্সিল হতে না পারে, তাহলে যেন কারো দুঃখ মোছার রবার হয়ে যায়। লোহা দিয়ে সোনার গয়না তৈরী হয় না ঠিকই, কিন্তু সোনার গয়না তৈরী করতে লোহার হাতুড়ির দরকার হয়। সুতরাং সোনা না হতে পারলেও লোহা হওয়া উচিত।
উপকার করলে উপকৃত মানুষ উপকারীর দাসে পরিণত হয়। যেহেতু প্রতি দানই প্রতিদান চায়। ফলে সে উপকারের বিনিময়ে অনুরূপ উপকার না করতে পারলে উপকারীর অনুগত হয়ে যায়। মুলহাব বিন আবী সাফরাহ বলেন, 'আমি দেখে অবাক হই যে, লোকেরা নিজ মাল দিয়ে গোলাম ক্রয় করে, অথচ উপকারিতা দিয়ে স্বাধীন মানুষ ক্রয় করে না।'
সতর্কতার বিষয় যে, অনেকে উপকার করতে গিয়ে অপকার ক'রে বসে। বহু নির্বোধ বা আবেগী মানুষ দ্বারা এমন উল্টা কাজ ঘটে যেতে পারে। যেমন- নদীর জোয়ারে একটি বড় মাছ বালুচরে আটকে গিয়ে লাফাতে থাকে। কিছু বানর তাকে দেখে দয়া হলে তাকে পাড়ে তুলে দেয়, যাতে পানিতে পড়ে প্রাণ না হারায়!
একজন বিধবার উপকার করতে গিয়ে তার গায়ে কলঙ্কের ছাপ লেগে যায়।
একজন তরুণীকে দ্বীন শিখাতে গিয়ে সে তার প্রেমে পড়ে দ্বীনদারি নষ্ট ক'রে বসে।
কোন বিবাহিতার উপকার করতে গিয়ে সে যেন নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু না করে। মনে রাখতে হবে মহানবী এর সতর্কবাণী,
لَيْسَ مِنَّا مَنْ خَبَّبَ امْرَأَةً عَلَى زَوْجِهَا أَوْ عَبْدًا عَلَى سَيِّدِهِ
"যে ব্যক্তি কারো স্ত্রী অথবা ক্রীতদাসকে তার (স্বামী বা প্রভুর বিরুদ্ধে) প্ররোচিত করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।”৫৮৭
অনেকে অনেকের বাতের ব্যথা ভালো করতে গিয়ে কুষ্ঠব্যাধি সৃষ্টি ক'রে বসে। অতএব সাবধান সকলে।

টিকাঃ
৫৮২. সঃ জামে' ৩২৮৯, দারাকুতুনী, সিঃ সহীহাহ ৪২৬
৫৮৩. বাইহাক্বী ৭৬৭৮, ইবনে আবিদ দুনয়া, সিঃ সহীহাহ ১৪৯৪
৫৮৪. তাবারানী ১৩৪৬৮, ইবনে আবিদ দুনয়া, সহীহ তারগীব ২০৯০, সিলসিলাহ সহীহাহ ৯০৬, সহীহুল জামে' ১৭৬
৫৮৫. সূরা বাক্বারাহ-২: ২৮৬
৫৮৬. ত্বালাক্ব: ৭
৫৮৭. আহমাদ ৯১৫৭, আবু দাউদ ২১৭৭, হাকেম ২৭৯৫, ইবনে হিব্বান ৫৫৬০

পরের উপকারে আসব, কিন্তু করব না। চরিত্রবান মানুষের এমন হওয়া উচিত নয়। অনেক সময় অনেক মানুষ দ্বারা ছোট উপকারের জন্য বড় মানুষকে তার খোশামদি করতে হয়। কিন্তু সে পাত্তা দেয় না। মুখ তুলে কথা বলে না, ফোনে জবাব দেয় না অথবা ব্যস্ততা প্রকাশ করে। তখন সেই ছোট মনের অনুদার মানুষের ভাবখানা শিয়ালের মতো হয়। 'শিয়ালের গু কাজে লাগে, শিয়াল গিয়ে পর্বতে হাগে।'
চরিত্রবান মানুষ এমন হয় না। বরং সে কারো উপকারে আসলে, তাতে সে আনন্দিত হয় এবং সানন্দ-চিত্তে সেই উপকার সাধন করতে পেরে মনে-প্রাণে তৃপ্তি লাভ করে। যেহেতু পরের উপকার করতে পেরে যে আনন্দ লাভ হয়, তার মতো বড় আনন্দ আর অন্য কিছুতে নেই। আর পরের উপকার যে করে, তার চেয়ে বড় ভালো মানুষ আর অন্য কেউ হতে পারে না। মহানবী বলেছেন,
خَيْرُ النَّاسِ أَنْفَعُهُمْ لِلنَّاسِ
“সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ সেই ব্যক্তি, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।”৫৮২
কোনও উপলক্ষ্যে কাউকে একটা উপহার দিয়ে আনন্দ দেওয়া যায়। তা শ্রেষ্ঠ কাজ।
কাউকে ঋণ দিয়ে উপকার করা যায়। আর তাতে সে আনন্দিত হয় এবং ঋণদাতার দেওয়া টাকার অর্ধেক টাকা সদকা করার সমান সওয়াব লাভ হয়।
কারো ঋণ পরিশোধ ক'রে দিয়ে তাকে স্বস্তি দেওয়া যায় এবং উপকৃত করা যায়।
কোন ক্ষুধার্থকে অন্নদান ক'রে আনন্দিত ও পরিতৃপ্ত করা যায়। এতে তার অনেক দুআ পাওয়া যায়। আর সওয়াব তো আছেই।
উক্ত সকল কাজ নিশ্চয়ই সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ। মহানবী বলেছেন,
أفْضَلُ الأَعْمالِ أنْ تُدْخِلَ على أخِيكَ المُؤْمِنِ سُرُوراً أَوْ تَقْضِيَ عَنهُ دَيْناً أَوْ تُطْعِمَهُ خُبْزاً
"সর্বশ্রেষ্ঠ আমল হল, (মু'মিন) মুসলিমের মনে তোমার আনন্দ ভরে দেওয়া, অথবা তার ঋণ পরিশোধ ক'রে দেওয়া অথবা তাকে রুটি খাওয়ানো।"৫৮৩
আর এ কথা পূর্বেই জেনেছি যে, যে ব্যক্তি মানুষের জন্য উপকারী, সে মহান প্রতিপালকের নিকট সবার চাইতে বেশি প্রিয় এবং কোনও ভাবে কোন মুসলিমকে খোশ করাও তাঁর নিকট সর্বাধিক প্রিয় আমল। মহানবী বলেছেন,
أَحَبُّ النَّاسِ إلى الله أَنْفَعُهُمْ وأَحَبُّ الأَعْمَالِ إلى الله عَزَّ وَجَلَّ سُرُورٌ تُدْخِلُهُ عَلَى مُسْلِمٍ
"আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়তম মানুষ সেই ব্যক্তি, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশী উপকারী এবং আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়তম আমল সেই আমল, যা ক'রে একজন মুসলিমকে আনন্দ দেওয়া যায়।"৫৮৪
অবশ্যই সে উপকার নিজ সাধ্যমতো করা যাবে। নচেৎ মহান আল্লাহ
(لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا)
"আল্লাহ কাউকেও তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করেন না।"৫৮৫
(لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا مَا آتَاهَا )
"আল্লাহ যাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন, তার চেয়ে গুরুতর বোঝা তিনি তার উপর চাপান না। ৫৮৬
অতএব চরিত্রবানের উচিত, যদি সে কারো সুখের গল্প লেখার পেন্সিল হতে না পারে, তাহলে যেন কারো দুঃখ মোছার রবার হয়ে যায়। লোহা দিয়ে সোনার গয়না তৈরী হয় না ঠিকই, কিন্তু সোনার গয়না তৈরী করতে লোহার হাতুড়ির দরকার হয়। সুতরাং সোনা না হতে পারলেও লোহা হওয়া উচিত।
উপকার করলে উপকৃত মানুষ উপকারীর দাসে পরিণত হয়। যেহেতু প্রতি দানই প্রতিদান চায়। ফলে সে উপকারের বিনিময়ে অনুরূপ উপকার না করতে পারলে উপকারীর অনুগত হয়ে যায়। মুলহাব বিন আবী সাফরাহ বলেন, 'আমি দেখে অবাক হই যে, লোকেরা নিজ মাল দিয়ে গোলাম ক্রয় করে, অথচ উপকারিতা দিয়ে স্বাধীন মানুষ ক্রয় করে না।'
সতর্কতার বিষয় যে, অনেকে উপকার করতে গিয়ে অপকার ক'রে বসে। বহু নির্বোধ বা আবেগী মানুষ দ্বারা এমন উল্টা কাজ ঘটে যেতে পারে। যেমন- নদীর জোয়ারে একটি বড় মাছ বালুচরে আটকে গিয়ে লাফাতে থাকে। কিছু বানর তাকে দেখে দয়া হলে তাকে পাড়ে তুলে দেয়, যাতে পানিতে পড়ে প্রাণ না হারায়!
একজন বিধবার উপকার করতে গিয়ে তার গায়ে কলঙ্কের ছাপ লেগে যায়।
একজন তরুণীকে দ্বীন শিখাতে গিয়ে সে তার প্রেমে পড়ে দ্বীনদারি নষ্ট ক'রে বসে।
কোন বিবাহিতার উপকার করতে গিয়ে সে যেন নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু না করে। মনে রাখতে হবে মহানবী এর সতর্কবাণী,
لَيْسَ مِنَّا مَنْ خَبَّبَ امْرَأَةً عَلَى زَوْجِهَا أَوْ عَبْدًا عَلَى سَيِّدِهِ
"যে ব্যক্তি কারো স্ত্রী অথবা ক্রীতদাসকে তার (স্বামী বা প্রভুর বিরুদ্ধে) প্ররোচিত করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।”৫৮৭
অনেকে অনেকের বাতের ব্যথা ভালো করতে গিয়ে কুষ্ঠব্যাধি সৃষ্টি ক'রে বসে। অতএব সাবধান সকলে।

টিকাঃ
৫৮২. সঃ জামে' ৩২৮৯, দারাকুতুনী, সিঃ সহীহাহ ৪২৬
৫৮৩. বাইহাক্বী ৭৬৭৮, ইবনে আবিদ দুনয়া, সিঃ সহীহাহ ১৪৯৪
৫৮৪. তাবারানী ১৩৪৬৮, ইবনে আবিদ দুনয়া, সহীহ তারগীব ২০৯০, সিলসিলাহ সহীহাহ ৯০৬, সহীহুল জামে' ১৭৬
৫৮৫. সূরা বাক্বারাহ-২: ২৮৬
৫৮৬. ত্বালাক্ব: ৭
৫৮৭. আহমাদ ৯১৫৭, আবু দাউদ ২১৭৭, হাকেম ২৭৯৫, ইবনে হিব্বান ৫৫৬০

📘 সচ্চরিত্রতা ও চারিত্রিক গুণাবলী > 📄 দানের প্রতিদান

📄 দানের প্রতিদান


প্রতি দানই প্রতিদান চায়, এটাই সচ্চরিত্রতার রীতি। অভিজ্ঞরা বলেন, 'পৃথিবীটা চলছে কমার্সিয়াল লেন-দেনের উপর। লেনদেন ঠিক রাখলে পৃথিবীটা প্রেমে হাবুডুবু খাবে।'
আর মহান আল্লাহ বলেছেন,
هَلْ جَزَاء الْإِحْسَانِ إِلَّا الْإِحْسَانُ)
"উত্তম কাজের জন্য উত্তম পুরস্কার ব্যতীত আর কী হতে পারে?"৫৮৮
হ্যাঁ, সচ্চরিত্রতার এই রীতি ভদ্র সমাজে প্রচলিত আছে, কেউ আপনার উপকার করলে, বিনিময়ে আপনি তার উপকার করবেন। অবশ্য তার মানে এই নয় যে, কেউ উপকার করলে, তবেই আপনি তার উপকার করবেন, নচেৎ করবেন না।
এটাই রীতি, কেউ আপনাকে কোন উপহার দিলে, আপনি বিনিময়ে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন, তার প্রশংসা করবেন এবং তার জন্য দুআ করবেন। আর সেই সাথে সক্ষম হলে আপনি তাকে অনুরূপ উপহার দেবেন।
দান দিয়ে মানুষকে দাস বানানো যায়, তেমনি প্রতিদান দিয়ে মানুষের মন-জয় করা যায়।
পক্ষান্তরে দান পেয়ে প্রতিদান দিতে না পারলে, দাতার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না ক'রে উল্টা তার বদনাম করা অথবা অপকার ও ক্ষতি সাধন করা হীন মানসিকতার নেমকহারামের আচরণ।
কিন্তু সচ্চরিত্রতা হল, 'যার নুন খাও, তার গুণ গাও।' শরীয়ত আমাদেরকে সে রীতি শিক্ষা দিয়েছে। মহানবী বলেছেন,
مَنْ صُنِعَ إِلَيْهِ مَعْرُوفٌ فَلْيَجْزِهِ ، فَإِنْ لَمْ يَجِدُ مَا يَجْزِيهِ ، فَلْيُثْنِ عَلَيْهِ ، فَإِنَّهُ إِذَا أَثْنَى عَلَيْهِ فَقَدْ شَكَرَهُ ، وَإِنْ كَتَمَهُ فَقَدْ كَفَرَهُ ، وَمَنْ تَحَلَّى بِمَا لَمْ يُعْطَ ، فَكَأَنَّمَا لَبِسَ ثَوْبَي زُورٍ
"যে ব্যক্তিকে কোন উপহার দান করা হয় সে ব্যক্তির উচিত, দেওয়ার মত কিছু পেলে তা দিয়ে তার প্রতিদান (প্রত্যুপহার) দেওয়া। দেওয়ার মত কিছু না পেলে দাতার প্রশংসা করা উচিত। কারণ, যে ব্যক্তি (দাতার) প্রশংসা করে সে তার কৃতজ্ঞতা (বা শুকরিয়া) আদায় করে দেয়, যে ব্যক্তি (উপহার) গোপন করে (প্রতিদান দেয় না বা শুক্র আদায় করে না) সে কৃতঘ্নতা (বা নাশুক্রী) করে। আর যে ব্যক্তি এমন কিছু প্রকাশ করে যা তাকে দেওয়া হয়নি, সে ব্যক্তি দু'টি মিথ্যা লেবাস পরিধানকারীর মতো।”৫৮৯
তিনি আরো বলেছেন,
مَنِ اسْتَعَاذَ بِاللهِ ، فَأَعِيذُوهُ، وَمَنْ سَأَلَ بِاللهِ ، فَأَعْطُوهُ ، وَمَنْ دَعَاكُمْ ، فَأَجِيبُوهُ ، وَمَنْ صَنَعَ إِلَيْكُمْ مَعْرُوفاً فَكَافِئُوهُ ، فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا مَا تُكَافِئُونَهُ بِهِ فَادْعُوا لَهُ حَتَّى تَرَوْا أَنَّكُمْ قَد كَافَأْتُمُوهُ
"কেউ আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করলে, তাকে আশ্রয় দাও। আর যে আল্লাহর নামে যাঞা করবে, তাকে দান কর। যে তোমাদেরকে নিমন্ত্রণ দেবে, তোমরা তার নিমন্ত্রণ গ্রহণ কর। যে তোমাদের উপকার করবে, তোমরা তার (যথোচিত) প্রতিদান দাও। আর যদি তোমরা তার (যথার্থ) প্রতিদানযোগ্য কিছু না পাও, তাহলে তার জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত দুআ করতে থাক, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের এ ধারণা বদ্ধমূল হবে যে, তোমরা তার (সঠিক) প্রতিদান আদায় ক'রে দিয়েছ। ৫৯০
চেষ্টা সত্ত্বেও প্রতিদান দিতে না পারলে কম-সে-কম দাতার শুকরিয়া আদায় করা কর্তব্য। যেহেতু তা না করলে সে মহান প্রতিপালকের নিকটেও অকৃতজ্ঞ থেকে যাবে। মহানবী বলেছেন,
مَنْ لَمْ يَشْكُرِ النَّاسَ ، لَمْ يَشْكُرِ اللَّهِ
“যে ব্যক্তি (উপকারী) মানুষের শুক্র করল না, সে আল্লাহর শুক্র করল না।”৫৯১
যদিও আপনি জানেন, উপকারী বা দাতার নাম করলে আপনার নাম ক্ষয়প্রাপ্ত হবে, তবুও সে দাতা। আপনাকে দান দিয়েছে, বিনিময়ে তাকে প্রতিদান দিতে না পারলেও তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে। যার আলো পেয়ে আপনি আলোকিত হয়েছেন, তার ঋণ অপরিশোধ্য হলেও, তার প্রতি প্রভাতের চাঁদের মতো ব্যবহার প্রদর্শন করা কর্তব্য। মহতের মাহাত্ম্য স্বীকার করা উচিত। তবেই না আপনি চরিত্রবান। কবি বলেছেন, 'তপন-উদয়ে হবে মহিমার ক্ষয়, তবু প্রভাতের চাঁদ শান্তমুখে কয়, অপেক্ষা করিয়া আছি অস্তসিন্ধুতীরে প্রণাম করিয়া যাব উদিত রবিরে।'

টিকাঃ
৫৮৮. রাহমান: ৬০
৫৮৯. তিরমিযী ২০৩৪, আবু দাউদ ৪৮-১৩, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, সহীহ তারগীব ৯৫৪
৫৯০. আবু দাউদ ১৬৭৪, নাসায়ী ২৫৬৭
৫৯১. আহমাদ ১১২৮০, তিরমিযী ১৯৫৫

প্রতি দানই প্রতিদান চায়, এটাই সচ্চরিত্রতার রীতি। অভিজ্ঞরা বলেন, 'পৃথিবীটা চলছে কমার্সিয়াল লেন-দেনের উপর। লেনদেন ঠিক রাখলে পৃথিবীটা প্রেমে হাবুডুবু খাবে।'
আর মহান আল্লাহ বলেছেন,
هَلْ جَزَاء الْإِحْسَانِ إِلَّا الْإِحْسَانُ)
"উত্তম কাজের জন্য উত্তম পুরস্কার ব্যতীত আর কী হতে পারে?"৫৮৮
হ্যাঁ, সচ্চরিত্রতার এই রীতি ভদ্র সমাজে প্রচলিত আছে, কেউ আপনার উপকার করলে, বিনিময়ে আপনি তার উপকার করবেন। অবশ্য তার মানে এই নয় যে, কেউ উপকার করলে, তবেই আপনি তার উপকার করবেন, নচেৎ করবেন না।
এটাই রীতি, কেউ আপনাকে কোন উপহার দিলে, আপনি বিনিময়ে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন, তার প্রশংসা করবেন এবং তার জন্য দুআ করবেন। আর সেই সাথে সক্ষম হলে আপনি তাকে অনুরূপ উপহার দেবেন।
দান দিয়ে মানুষকে দাস বানানো যায়, তেমনি প্রতিদান দিয়ে মানুষের মন-জয় করা যায়।
পক্ষান্তরে দান পেয়ে প্রতিদান দিতে না পারলে, দাতার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না ক'রে উল্টা তার বদনাম করা অথবা অপকার ও ক্ষতি সাধন করা হীন মানসিকতার নেমকহারামের আচরণ।
কিন্তু সচ্চরিত্রতা হল, 'যার নুন খাও, তার গুণ গাও।' শরীয়ত আমাদেরকে সে রীতি শিক্ষা দিয়েছে। মহানবী বলেছেন,
مَنْ صُنِعَ إِلَيْهِ مَعْرُوفٌ فَلْيَجْزِهِ ، فَإِنْ لَمْ يَجِدُ مَا يَجْزِيهِ ، فَلْيُثْنِ عَلَيْهِ ، فَإِنَّهُ إِذَا أَثْنَى عَلَيْهِ فَقَدْ شَكَرَهُ ، وَإِنْ كَتَمَهُ فَقَدْ كَفَرَهُ ، وَمَنْ تَحَلَّى بِمَا لَمْ يُعْطَ ، فَكَأَنَّمَا لَبِسَ ثَوْبَي زُورٍ
"যে ব্যক্তিকে কোন উপহার দান করা হয় সে ব্যক্তির উচিত, দেওয়ার মত কিছু পেলে তা দিয়ে তার প্রতিদান (প্রত্যুপহার) দেওয়া। দেওয়ার মত কিছু না পেলে দাতার প্রশংসা করা উচিত। কারণ, যে ব্যক্তি (দাতার) প্রশংসা করে সে তার কৃতজ্ঞতা (বা শুকরিয়া) আদায় করে দেয়, যে ব্যক্তি (উপহার) গোপন করে (প্রতিদান দেয় না বা শুক্র আদায় করে না) সে কৃতঘ্নতা (বা নাশুক্রী) করে। আর যে ব্যক্তি এমন কিছু প্রকাশ করে যা তাকে দেওয়া হয়নি, সে ব্যক্তি দু'টি মিথ্যা লেবাস পরিধানকারীর মতো।”৫৮৯
তিনি আরো বলেছেন,
مَنِ اسْتَعَاذَ بِاللهِ ، فَأَعِيذُوهُ، وَمَنْ سَأَلَ بِاللهِ ، فَأَعْطُوهُ ، وَمَنْ دَعَاكُمْ ، فَأَجِيبُوهُ ، وَمَنْ صَنَعَ إِلَيْكُمْ مَعْرُوفاً فَكَافِئُوهُ ، فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا مَا تُكَافِئُونَهُ بِهِ فَادْعُوا لَهُ حَتَّى تَرَوْا أَنَّكُمْ قَد كَافَأْتُمُوهُ
"কেউ আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করলে, তাকে আশ্রয় দাও। আর যে আল্লাহর নামে যাঞা করবে, তাকে দান কর। যে তোমাদেরকে নিমন্ত্রণ দেবে, তোমরা তার নিমন্ত্রণ গ্রহণ কর। যে তোমাদের উপকার করবে, তোমরা তার (যথোচিত) প্রতিদান দাও। আর যদি তোমরা তার (যথার্থ) প্রতিদানযোগ্য কিছু না পাও, তাহলে তার জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত দুআ করতে থাক, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের এ ধারণা বদ্ধমূল হবে যে, তোমরা তার (সঠিক) প্রতিদান আদায় ক'রে দিয়েছ। ৫৯০
চেষ্টা সত্ত্বেও প্রতিদান দিতে না পারলে কম-সে-কম দাতার শুকরিয়া আদায় করা কর্তব্য। যেহেতু তা না করলে সে মহান প্রতিপালকের নিকটেও অকৃতজ্ঞ থেকে যাবে। মহানবী বলেছেন,
مَنْ لَمْ يَشْكُرِ النَّاسَ ، لَمْ يَشْكُرِ اللَّهِ
“যে ব্যক্তি (উপকারী) মানুষের শুক্র করল না, সে আল্লাহর শুক্র করল না।”৫৯১
যদিও আপনি জানেন, উপকারী বা দাতার নাম করলে আপনার নাম ক্ষয়প্রাপ্ত হবে, তবুও সে দাতা। আপনাকে দান দিয়েছে, বিনিময়ে তাকে প্রতিদান দিতে না পারলেও তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে। যার আলো পেয়ে আপনি আলোকিত হয়েছেন, তার ঋণ অপরিশোধ্য হলেও, তার প্রতি প্রভাতের চাঁদের মতো ব্যবহার প্রদর্শন করা কর্তব্য। মহতের মাহাত্ম্য স্বীকার করা উচিত। তবেই না আপনি চরিত্রবান। কবি বলেছেন, 'তপন-উদয়ে হবে মহিমার ক্ষয়, তবু প্রভাতের চাঁদ শান্তমুখে কয়, অপেক্ষা করিয়া আছি অস্তসিন্ধুতীরে প্রণাম করিয়া যাব উদিত রবিরে।'

টিকাঃ
৫৮৮. রাহমান: ৬০
৫৮৯. তিরমিযী ২০৩৪, আবু দাউদ ৪৮-১৩, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, সহীহ তারগীব ৯৫৪
৫৯০. আবু দাউদ ১৬৭৪, নাসায়ী ২৫৬৭
৫৯১. আহমাদ ১১২৮০, তিরমিযী ১৯৫৫

📘 সচ্চরিত্রতা ও চারিত্রিক গুণাবলী > 📄 চারিত্রিক সাদাকাহ্

📄 চারিত্রিক সাদাকাহ্


যারা সাদকাহ করার মতো কোন অর্থ পায় না, তারা চারিত্রিক বহু কর্ম দ্বারা সাদকার সওয়াব অর্জন করতে পারে। যেহেতু প্রত্যেক সৎকার্যই সাদকাহ। তার মানে যে কোন ভালো কাজ করলেই সাদকাহ বা দান করার সওয়াব লাভ হয়। নিঃস্ব হয়েও সাদকাহ করার সওয়াব অর্জন করা যায়।
এমনকি নিজ স্ত্রীর ভরণ-পোষণ করবেন, নিজের যৌনক্ষুধা মিটানোর জন্য তার সাথে মিলন করবেন, তাতেও সাদকাহ। আল্লাহু আকবার!
একদা কিছু সাহাবা বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! ধনীরাই তো বেশী নেকীর অধিকারী হয়ে গেল। তারা স্বলাত পড়ছে যেমন আমরা স্বলাত পড়ছি, তারা সিয়াম রাখছে যেমন আমরা রাখছি এবং (আমাদের চেয়ে তারা অতিরিক্ত কাজ এই করছে যে,) নিজেদের প্রয়োজন-অতিরিক্ত মাল থেকে তারা সাদকাহ করছে।' তিনি বললেন,
أَوَلَيسَ قَدْ جَعَلَ اللهُ لَكُمْ مَا تَصَدَّقُونَ بِهِ : إِنَّ بِكُلِّ تَسْبِيحَةٍ صَدَقَةً ، وَكُلُّ تكبيرة صَدَقَةً ، وَكُلُّ تَحْمِيدَةٍ صَدَقَةً ، وَكُلُّ تَهْلِيلَةٍ صَدَقَةً ، وَأَمْرُ بِالمَعْرُوفِ صَدَقَةٌ ، وَنَهِي عَنِ المُنْكَرِ صَدَقَةٌ ، وفِي بُضْعِ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ
"আল্লাহ কি তোমাদের জন্য সাদকাহ করার মত জিনিস দান করেননি? নিঃসন্দেহে প্রত্যেক তাসবীহ সাদকাহ, প্রত্যেক তাকবীর সাদকাহ, প্রত্যেক তাহলীল সাদকাহ, ভাল কাজের নির্দেশ দেওয়া সাদকাহ ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা সাদকাহ এবং তোমাদের স্ত্রী-মিলন করাও সাদকাহ।”
সাহাবাগণ বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কেউ স্ত্রী-মিলন ক'রে নিজের যৌনক্ষুধা নিবারণ করে, তবে এতেও কি তার পুণ্য হবে?' তিনি বললেন,
أَرَأَيْتُمْ لَوْ وَضَعَهَا فِي حَرامٍ أَكَانَ عَلَيْهِ وِزْرُ ؟ فَكَذَلِكَ إِذَا وَضَعَهَا فِي الحَلالِ كَانَ لَهُ أَجْرٌ
"কী রায় তোমাদের, যদি কেউ অবৈধভাবে যৌন-মিলন করে, তাহলে কি তার পাপ হবে? (নিশ্চয় হবে।) অনুরূপ সে যদি বৈধভাবে (স্ত্রী-মিলন করে) নিজের কামক্ষুধা নিবারণ করে, তাহলে তাতে তার পুণ্য হবে।"৫৯২
তিনি বলেছেন,
كُلُّ سَلامَى مِنَ النَّاسِ عَلَيْهِ صَدَقَةٌ ، كُلَّ يَومٍ تَطْلُعُ فِيهِ الشَّمْسُ : تَعْدِلُ بَينَ الاثنينِ صَدَقَةٌ ، وتُعِينُ الرَّجُلَ فِي دَابَّتِهِ ، فَتَحْمِلُهُ عَلَيْهَا أَوْ تَرفَعُ لَهُ عَلَيْهَا مَتَاعَهُ صَدَقَةٌ ، وَالكَلِمَةُ الطَّيِّبَةُ صَدَقَةٌ ، وبكلِّ خَطْوَةٍ تَمشيهَا إِلَى الصَّلاةِ صَدَقَةٌ ، وتميط الأذى عَنِ الطَّرِيقِ صَدَقَةٌ
"প্রতিদিন যাতে সূর্য উদয় হয় (অর্থাৎ প্রত্যেক দিন) মানুষের প্রত্যেক গ্রন্থির পক্ষ থেকে প্রদেয় একটি ক'রে সাদকাহ রয়েছে। (আর সাদকাহ শুধু মাল খরচ করাকেই বলে না; বরং) দু'জন মানুষের মধ্যে তোমার মীমাংসা ক'রে দেওয়াটাও সাদকাহ, কোন মানুষকে নিজ সওয়ারীর উপর বসানো অথবা তার উপর তার সামান উঠিয়ে নিয়ে সাহায্য করাও সাদকাহ, ভাল কথা বলা সাদকাহ, স্বলাতের জন্য কৃত প্রত্যেক পদক্ষেপ সাদকাহ এবং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস দূরীভূত করাও সাদকাহ।"৫৯৩
অন্য এক হাদীসে আছে,
تَبَسُّمُكَ فِي وَجْهِ أَخِيكَ لَكَ صَدَقَةٌ وَأَمْرُكَ بِالْمَعْرُوفِ وَنَهْيُكَ عَنْ الْمُنْكَرِ صَدَقَةٌ وَإِرْشَادُكَ الرَّجُلَ فِي أَرْضِ الضَّلَالِ لَكَ صَدَقَةٌ وَبَصَرُكَ لِلرَّجُلِ الرَّدِيءِ الْبَصَرِ لَكَ صَدَقَةٌ وَإِمَاطَتُكَ الْحَجَرَ وَالشَّوْكَةَ وَالْعَظْمَ عَنْ الطَّرِيقِ لَكَ صَدَقَةٌ وَإِفْرَاغُكَ مِنْ دَلْوِكَ فِي دَلْوِ أَخِيكَ لَكَ صَدَقَةٌ
"তোমার ভাইয়ের সম্মুখে মুচকি হাসা তোমার জন্য সাদকাহ। ভাল কাজের নির্দেশ দেওয়া ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা তোমার জন্য সাদকাহ। পথ-ভোলা মানুষকে পথ বলে দেওয়া তোমার জন্য সাদকাহ। অন্ধ মানুষকে পথ দেখানো তোমার জন্য সাদকাহ। পথ থেকে পাথর, কাঁটা ও হাড় সরিয়ে ফেলা তোমার জন্য সাদকাহ। এবং তোমার বালতি দ্বারা তোমার ভাইয়ের বালতি ভরে দেওয়া তোমার জন্য সাদকা।"৫৯৪

টিকাঃ
৫৯২. মুসলিম ২৩৭৬
৫৯৩. বুখারী ২৯৮৯, মুসলিম ২৩৭৭, ২৩৮২
৫৯৪. তিরমিযী ১৯৫৬

যারা সাদকাহ করার মতো কোন অর্থ পায় না, তারা চারিত্রিক বহু কর্ম দ্বারা সাদকার সওয়াব অর্জন করতে পারে। যেহেতু প্রত্যেক সৎকার্যই সাদকাহ। তার মানে যে কোন ভালো কাজ করলেই সাদকাহ বা দান করার সওয়াব লাভ হয়। নিঃস্ব হয়েও সাদকাহ করার সওয়াব অর্জন করা যায়।
এমনকি নিজ স্ত্রীর ভরণ-পোষণ করবেন, নিজের যৌনক্ষুধা মিটানোর জন্য তার সাথে মিলন করবেন, তাতেও সাদকাহ। আল্লাহু আকবার!
একদা কিছু সাহাবা বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! ধনীরাই তো বেশী নেকীর অধিকারী হয়ে গেল। তারা স্বলাত পড়ছে যেমন আমরা স্বলাত পড়ছি, তারা সিয়াম রাখছে যেমন আমরা রাখছি এবং (আমাদের চেয়ে তারা অতিরিক্ত কাজ এই করছে যে,) নিজেদের প্রয়োজন-অতিরিক্ত মাল থেকে তারা সাদকাহ করছে।' তিনি বললেন,
أَوَلَيسَ قَدْ جَعَلَ اللهُ لَكُمْ مَا تَصَدَّقُونَ بِهِ : إِنَّ بِكُلِّ تَسْبِيحَةٍ صَدَقَةً ، وَكُلُّ تكبيرة صَدَقَةً ، وَكُلُّ تَحْمِيدَةٍ صَدَقَةً ، وَكُلُّ تَهْلِيلَةٍ صَدَقَةً ، وَأَمْرُ بِالمَعْرُوفِ صَدَقَةٌ ، وَنَهِي عَنِ المُنْكَرِ صَدَقَةٌ ، وفِي بُضْعِ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ
"আল্লাহ কি তোমাদের জন্য সাদকাহ করার মত জিনিস দান করেননি? নিঃসন্দেহে প্রত্যেক তাসবীহ সাদকাহ, প্রত্যেক তাকবীর সাদকাহ, প্রত্যেক তাহলীল সাদকাহ, ভাল কাজের নির্দেশ দেওয়া সাদকাহ ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা সাদকাহ এবং তোমাদের স্ত্রী-মিলন করাও সাদকাহ।”
সাহাবাগণ বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কেউ স্ত্রী-মিলন ক'রে নিজের যৌনক্ষুধা নিবারণ করে, তবে এতেও কি তার পুণ্য হবে?' তিনি বললেন,
أَرَأَيْتُمْ لَوْ وَضَعَهَا فِي حَرامٍ أَكَانَ عَلَيْهِ وِزْرُ ؟ فَكَذَلِكَ إِذَا وَضَعَهَا فِي الحَلالِ كَانَ لَهُ أَجْرٌ
"কী রায় তোমাদের, যদি কেউ অবৈধভাবে যৌন-মিলন করে, তাহলে কি তার পাপ হবে? (নিশ্চয় হবে।) অনুরূপ সে যদি বৈধভাবে (স্ত্রী-মিলন করে) নিজের কামক্ষুধা নিবারণ করে, তাহলে তাতে তার পুণ্য হবে।"৫৯২
তিনি বলেছেন,
كُلُّ سَلامَى مِنَ النَّاسِ عَلَيْهِ صَدَقَةٌ ، كُلَّ يَومٍ تَطْلُعُ فِيهِ الشَّمْسُ : تَعْدِلُ بَينَ الاثنينِ صَدَقَةٌ ، وتُعِينُ الرَّجُلَ فِي دَابَّتِهِ ، فَتَحْمِلُهُ عَلَيْهَا أَوْ تَرفَعُ لَهُ عَلَيْهَا مَتَاعَهُ صَدَقَةٌ ، وَالكَلِمَةُ الطَّيِّبَةُ صَدَقَةٌ ، وبكلِّ خَطْوَةٍ تَمشيهَا إِلَى الصَّلاةِ صَدَقَةٌ ، وتميط الأذى عَنِ الطَّرِيقِ صَدَقَةٌ
"প্রতিদিন যাতে সূর্য উদয় হয় (অর্থাৎ প্রত্যেক দিন) মানুষের প্রত্যেক গ্রন্থির পক্ষ থেকে প্রদেয় একটি ক'রে সাদকাহ রয়েছে। (আর সাদকাহ শুধু মাল খরচ করাকেই বলে না; বরং) দু'জন মানুষের মধ্যে তোমার মীমাংসা ক'রে দেওয়াটাও সাদকাহ, কোন মানুষকে নিজ সওয়ারীর উপর বসানো অথবা তার উপর তার সামান উঠিয়ে নিয়ে সাহায্য করাও সাদকাহ, ভাল কথা বলা সাদকাহ, স্বলাতের জন্য কৃত প্রত্যেক পদক্ষেপ সাদকাহ এবং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস দূরীভূত করাও সাদকাহ।"৫৯৩
অন্য এক হাদীসে আছে,
تَبَسُّمُكَ فِي وَجْهِ أَخِيكَ لَكَ صَدَقَةٌ وَأَمْرُكَ بِالْمَعْرُوفِ وَنَهْيُكَ عَنْ الْمُنْكَرِ صَدَقَةٌ وَإِرْشَادُكَ الرَّجُلَ فِي أَرْضِ الضَّلَالِ لَكَ صَدَقَةٌ وَبَصَرُكَ لِلرَّجُلِ الرَّدِيءِ الْبَصَرِ لَكَ صَدَقَةٌ وَإِمَاطَتُكَ الْحَجَرَ وَالشَّوْكَةَ وَالْعَظْمَ عَنْ الطَّرِيقِ لَكَ صَدَقَةٌ وَإِفْرَاغُكَ مِنْ دَلْوِكَ فِي دَلْوِ أَخِيكَ لَكَ صَدَقَةٌ
"তোমার ভাইয়ের সম্মুখে মুচকি হাসা তোমার জন্য সাদকাহ। ভাল কাজের নির্দেশ দেওয়া ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা তোমার জন্য সাদকাহ। পথ-ভোলা মানুষকে পথ বলে দেওয়া তোমার জন্য সাদকাহ। অন্ধ মানুষকে পথ দেখানো তোমার জন্য সাদকাহ। পথ থেকে পাথর, কাঁটা ও হাড় সরিয়ে ফেলা তোমার জন্য সাদকাহ। এবং তোমার বালতি দ্বারা তোমার ভাইয়ের বালতি ভরে দেওয়া তোমার জন্য সাদকা।"৫৯৪

টিকাঃ
৫৯২. মুসলিম ২৩৭৬
৫৯৩. বুখারী ২৯৮৯, মুসলিম ২৩৭৭, ২৩৮২
৫৯৪. তিরমিযী ১৯৫৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00