📄 মেহমানের সম্মান করা
মেহমানের মান-সম্মান ও খাতির করা সচ্চরিত্র মানুষের আচরণ। বরণে ও আপ্যায়নে কথায় ও আচরণে যে মেহমানের সম্মান বজায় রাখে, সে নিশ্চয়ই চরিত্রবান লোক। যথাসাধ্য থাকা ও খাওয়ার সুবন্দোবস্ত যে করে, সে অবশ্যই সুচরিত্রের অধিকারী।
সবচেয়ে বড় চরিত্রবান মানুষ আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখতেন, সত্য কথা বলতেন, (অপরের) বোঝা বইয়ে দিতেন, মেহমানের খাতির করতেন এবং বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করতেন। '৫২৩
তাঁর পূর্বে মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহীম এর মেহমানের খাতির করার কথা কুরআনে উল্লেখ হয়েছে সূরা হূদের ৭৮ এবং সূরা যারিয়াতের ২৪-২৭ আয়াতে।
মেহমানের খাতির করা প্রত্যেক মুসলিমের কাজ। প্রত্যেক মুসলিমের উচিত, এ কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে চরিত্রবান হওয়া। মহানবী বলেছেন,
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ جَائِزَتَهُ
"যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন অবশ্যই মেহমানের পারিতোষিকসহ তার সম্মান করে।" লোকেরা বলল, 'তার পারিতোষিক কী? হে আল্লাহর রসূল!' তিনি বললেন,
يَوْمُهُ وَلَيْلَتُهُ ، وَالضَّيَافَةُ ثَلاثَةُ أَيَّامٍ ، فَمَا كَانَ وَرَاءَ ذَلِكَ فَهُوَ صَدَقَةٌ عَلَيْهِ
"একদিন ও একরাত (উত্তমভাবে পানাহারের ব্যবস্থা করা)। আর সাধারণতঃ মেহমানের খাতির তিন দিন পর্যন্ত। (অতঃপর স্বেচ্ছায় তার চলে যাওয়া উচিত)। তিনদিনের অতিরিক্ত হবে মেযবানের জন্য সাদকাহ স্বরূপ।"৫২৪
মেহমানের সাথে সুন্দর আচরণ প্রদর্শন করতে পারলে তার মন জয় করা যায়। হাসিমুখে বরণ ক'রে সাধ্যমতো তার আপ্যায়ন করলে সে কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ হয়ে যায়। পক্ষান্তরে এর বিপরীত করলে সে দূরে সরে যায়।
লক্ষণীয় যে, বর্তমানে বহু সংগঠন দাওয়াতের ময়দানে কাজ করছে। কিন্তু মানুষ সেই সংগঠনের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে, যার সদস্যগণ সুচরিত্রের ও অমায়িক ব্যবহারের অধিকারী। যাদের কোন অফিসে অথবা কারো বাসায় গেলে সুন্দরভাবে আপ্যায়ন করে। অথচ সহীহ আকীদার কোন অফিস বা সদস্যের বাড়িতে যান, সেখানে তেমন আগ্রহ লক্ষ্য করবেন না---ইল্লা মা শাআল্লাহ। পরন্তু দাওয়াতের ময়দানে এই শ্রেণীর সচ্চরিত্রতা প্রদর্শন খুব বেশি ফলপ্রসূ।
যদি বলেন, 'কারো সে আপ্যায়নের সামর্থ্য না থাকলে কী করতে পারে?' তাহলে বলব, 'আদরের ভোজন, কী করে ব্যঞ্জন?' সাধ্যমতো ভোজন দিয়ে আদর প্রদর্শন করলেও ফল মন্দ হয় না।
মেহমান-নেওয়াযী সুচরিত্রের অন্যতম লক্ষণ। অনুরূপ সময় ও অবস্থা খেয়াল ক'রে অপরের মেহমান হওয়া এবং অপ্রয়োজনে তার বোঝা না হওয়াও সুচরিত্রবান মানুষের কর্তব্য।
টিকাঃ
৫২৩. বুখারী ৩, মুসলিম ৪২২
৫২৪. বুখারী ৬০১৯, ৬১৩৫, মুসলিম ৪৬১১-৪৬১২
মেহমানের মান-সম্মান ও খাতির করা সচ্চরিত্র মানুষের আচরণ। বরণে ও আপ্যায়নে কথায় ও আচরণে যে মেহমানের সম্মান বজায় রাখে, সে নিশ্চয়ই চরিত্রবান লোক। যথাসাধ্য থাকা ও খাওয়ার সুবন্দোবস্ত যে করে, সে অবশ্যই সুচরিত্রের অধিকারী।
সবচেয়ে বড় চরিত্রবান মানুষ আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখতেন, সত্য কথা বলতেন, (অপরের) বোঝা বইয়ে দিতেন, মেহমানের খাতির করতেন এবং বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করতেন। '৫২৩
তাঁর পূর্বে মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহীম এর মেহমানের খাতির করার কথা কুরআনে উল্লেখ হয়েছে সূরা হূদের ৭৮ এবং সূরা যারিয়াতের ২৪-২৭ আয়াতে।
মেহমানের খাতির করা প্রত্যেক মুসলিমের কাজ। প্রত্যেক মুসলিমের উচিত, এ কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে চরিত্রবান হওয়া। মহানবী বলেছেন,
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ جَائِزَتَهُ
"যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন অবশ্যই মেহমানের পারিতোষিকসহ তার সম্মান করে।" লোকেরা বলল, 'তার পারিতোষিক কী? হে আল্লাহর রসূল!' তিনি বললেন,
يَوْمُهُ وَلَيْلَتُهُ ، وَالضَّيَافَةُ ثَلاثَةُ أَيَّامٍ ، فَمَا كَانَ وَرَاءَ ذَلِكَ فَهُوَ صَدَقَةٌ عَلَيْهِ
"একদিন ও একরাত (উত্তমভাবে পানাহারের ব্যবস্থা করা)। আর সাধারণতঃ মেহমানের খাতির তিন দিন পর্যন্ত। (অতঃপর স্বেচ্ছায় তার চলে যাওয়া উচিত)। তিনদিনের অতিরিক্ত হবে মেযবানের জন্য সাদকাহ স্বরূপ।"৫২৪
মেহমানের সাথে সুন্দর আচরণ প্রদর্শন করতে পারলে তার মন জয় করা যায়। হাসিমুখে বরণ ক'রে সাধ্যমতো তার আপ্যায়ন করলে সে কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ হয়ে যায়। পক্ষান্তরে এর বিপরীত করলে সে দূরে সরে যায়।
লক্ষণীয় যে, বর্তমানে বহু সংগঠন দাওয়াতের ময়দানে কাজ করছে। কিন্তু মানুষ সেই সংগঠনের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে, যার সদস্যগণ সুচরিত্রের ও অমায়িক ব্যবহারের অধিকারী। যাদের কোন অফিসে অথবা কারো বাসায় গেলে সুন্দরভাবে আপ্যায়ন করে। অথচ সহীহ আকীদার কোন অফিস বা সদস্যের বাড়িতে যান, সেখানে তেমন আগ্রহ লক্ষ্য করবেন না---ইল্লা মা শাআল্লাহ। পরন্তু দাওয়াতের ময়দানে এই শ্রেণীর সচ্চরিত্রতা প্রদর্শন খুব বেশি ফলপ্রসূ।
যদি বলেন, 'কারো সে আপ্যায়নের সামর্থ্য না থাকলে কী করতে পারে?' তাহলে বলব, 'আদরের ভোজন, কী করে ব্যঞ্জন?' সাধ্যমতো ভোজন দিয়ে আদর প্রদর্শন করলেও ফল মন্দ হয় না।
মেহমান-নেওয়াযী সুচরিত্রের অন্যতম লক্ষণ। অনুরূপ সময় ও অবস্থা খেয়াল ক'রে অপরের মেহমান হওয়া এবং অপ্রয়োজনে তার বোঝা না হওয়াও সুচরিত্রবান মানুষের কর্তব্য।
টিকাঃ
৫২৩. বুখারী ৩, মুসলিম ৪২২
৫২৪. বুখারী ৬০১৯, ৬১৩৫, মুসলিম ৪৬১১-৪৬১২
📄 আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা
চরিত্রবান মানুষের একটি মহৎ গুণ, সে জ্ঞাতিবন্ধন অক্ষুণ্ণ রাখে। যেভাবে সাধ্য সে বন্ধন-রজ্জুকে ছিন্ন হতে দেয় না। যেহেতু মহান প্রতিপালকের নির্দেশ হল,
وَاعْبُدُوا اللهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ)
অর্থাৎ, তোমরা আল্লাহর উপাসনা কর ও কোন কিছুকে তাঁর অংশী করো না এবং পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, পিতৃহীন, অভাবগ্রস্ত, আত্মীয় ও অনাত্মীয় প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, পথচারী এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার কর। ৫২৫
তিনি আরো বলেন,
وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامِ)
অর্থাৎ, সেই আল্লাহকে ভয় কর, যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞা কর এবং জ্ঞাতি-বন্ধন ছিন্ন করাকে ভয় কর। ৫২৬
যারা তাঁর সে নির্দেশ লংঘন করে, তাদের পরিণাম সম্বন্ধে তিনি বলেছেন,
وَالَّذِينَ يَنْقُضُونَ عَهْدَ اللهِ مِنْ بَعْدِ مِيثَاقِهِ وَيَقْطَعُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَنْ يُوصَلَ وَيُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ أُولَئِكَ لَهُمُ اللَّعْنَةُ وَلَهُمْ سُوءُ الدَّارِ )
অর্থাৎ, যারা আল্লাহর সাথে দৃঢ় অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে, যে সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখতে আল্লাহ আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের জন্য আছে অভিসম্পাত এবং তাদের জন্য আছে মন্দ আবাস। ৫২৭
যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে, মহান আল্লাহ তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এ কথার বিবরণ দিয়ে মহানবী বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى خَلَقَ الخَلْقَ حَتَّى إِذَا فَرَغَ مِنْهُمْ قَامَتِ الرَّحِمُ، فَقَالَتْ : هَذَا مَقَامُ العَائِذِ بِكَ مِنَ القَطِيعةِ ، قَالَ : نَعَمْ ، أَمَا تَرْضَيْنَ أنْ أصِلَ مَنْ وَصَلَكِ ، وَأَقْطَعَ مَنْ قَطَعَكِ؟ قَالَتْ : بَلَى ، قَالَ : فَذَلِكَ لَكِ ، ثُمَّ قَالَ رَسُول الله ﷺ : اقْرَؤُوا إِنْ شِئْتُمْ: فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ أُولَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ وفي رواية للبخاري: فَقَالَ الله تَعَالَى: مَنْ وَصَلَكِ، وَصَلْتُهُ، وَمَنْ قَطَعَكِ ، قَطَعْتُهُ
"আল্লাহ সকল কিছুকে সৃষ্টি করলেন। অতঃপর যখন তিনি সৃষ্টি কাজ শেষ করলেন, তখন আত্মীয়তার সম্পর্ক উঠে বলল, '(আমার এই দণ্ডায়মান হওয়াটা) আপনার নিকট বিচ্ছিন্নতা থেকে আশ্রয়প্রার্থীর দণ্ডায়মান হওয়া।' তিনি (আল্লাহ) বললেন, 'হ্যাঁ তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তোমার সাথে যে সুসম্পর্ক রাখবে, আমিও তার সাথে সুসম্পর্ক রাখব। আর যে তোমার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, আমিও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব।' সে (রক্ত সম্পর্ক) বলল, 'অবশ্যই।' আল্লাহ বললেন, 'তাহলে এ মর্যাদা তোমাকে দেওয়া হল।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, "তোমরা চাইলে (এ আয়াতটি) পড়ে নাও; 'ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে সম্ভবতঃ তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। ওরা তো তারা, যাদেরকে আল্লাহ অভিশপ্ত ক'রে বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন করেন।"৫২৮
الرَّحِمُ مُعَلَّقَةٌ بِالعَرْشِ تَقُولُ: مَنْ وَصَلَنِي ، وَصَلَهُ اللَّهُ ، وَمَنْ قَطَعَنِي ، قَطَعَهُ اللَّهُ
"জ্ঞাতিবন্ধন আরশে ঝুলন্ত আছে এবং সে বলছে, 'যে আমাকে অবিচ্ছিন্ন রাখবে, আল্লাহ তাঁর সম্পর্ক তার সাথে অবিচ্ছিন্ন রাখবেন। আর যে আমাকে বিচ্ছিন্ন করবে, আল্লাহ তাঁর সম্পর্ক তার সাথে বিচ্ছিন্ন করবেন। "৫২৯
চরিত্রবান নারী-পুরুষ জানে, জ্ঞাতিবন্ধন বজায় রাখা আল্লাহর নিকট প্রিয় কাজ এবং তা ছিন্ন করা তাঁর নিকট ঘৃণ্য কাজ। খাষআম গোত্রের এক ব্যক্তি বলেন, একদা আমি নবী এর কাছে এলাম। তখন তিনি তাঁর কিছু সঙ্গীর সাথে ছিলেন। আমি বললাম, 'আপনিই কি মনে করেন, আপনি রাসূলুল্লাহ?' তিনি বললেন, "হ্যাঁ।” আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! কোন্ আমল আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়?' উত্তরে তিনি বললেন, "আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা।” আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! তারপর কী?' তিনি বললেন, "তারপর আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা।' আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! তারপর কী?' তিনি বললেন, "তারপর ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে বাধা দান করা।"
আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! কোন্ আমল আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণ্য?' তিনি বললেন, "আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করা।" আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! তারপর কী?' তিনি বললেন, "তারপর আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা।" আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! তারপর কী?' তিনি বললেন, "তারপর মন্দ কাজের আদেশ ও ভালো কাজে বাধা দান করা।"৫৩০
চরিত্রবান মু'মিন হয়, আর ঈমানের অন্যতম দাবী হল আত্মীয়তার বন্ধন বহাল রাখা। মহানবী বলেছেন,
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَاليَومِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَاليَومِ الآخِرِ فَلْيَصِلُ رَحِمَهُ ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَاليَومِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْراً أَوْ لِيَصْمُتْ
"যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহমানের খাতির করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন আত্মীয়তার বন্ধন অক্ষুণ্ণ রাখে। এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে, নচেৎ চুপ থাকে।"৫৩১
আত্মীয় যদি আত্মীয়তা বজায় না রাখতে চায়, সে ক্ষেত্রেও চরিত্রবান অনুরূপ আচরণ করে না। বরং সে ক্ষেত্রেও সেই বন্ধনকে সে ছিন্ন হতে না দিয়ে নিজের কর্তব্য পালন ক'রে যায়। আর তার এ কঠিন কাজের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়। আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! আমার কিছু আত্মীয় আছে, আমি তাদের সাথে আত্মীয়তা বজায় রাখি, আর তারা ছিন্ন করে। আমি তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করি, আর তারা আমার সাথে দুর্ব্যবহার করে। তারা কষ্ট দিলে আমি সহ্য করি, আর তারা আমার সাথে মূর্খের আচরণ করে।' তিনি বললেন,
لَئِنْ كُنْتَ كَمَا قُلْتَ، فَكَأَنَّمَا تُسِفُهُمُ الْمَلَّ، وَلا يَزَالُ مَعَكَ مِنَ اللَّهِ ظَهِيرٌ عَلَيْهِمْ مَا دُمْتَ عَلَى ذَلِكَ
"যদি তা-ই হয়, তাহলে তুমি যেন তাদের মুখে গরম ছাই নিক্ষেপ করছ (অর্থাৎ, এ কাজে তারা গোনাহগার হয়।) এবং তোমার সাথে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্যকারী থাকবে; যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি এর উপর অনড় থাকবে।"৫৩২
আসলেই ভালোর বিনিময়ে ভালো প্রায় সকলেই করে। কিন্তু মন্দের বিনিময়ে ভালো করতে সকলে পারে না। যে পারে সেই ভালো লোক, সেই মহান চরিত্রবান। মহানবী বলেছেন,
لَيْسَ الْوَاصِلُ بِالْمُكَافِئ ، وَلكِنَّ الْوَاصِلَ الَّذِي إِذَا قَطَعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا
"সেই ব্যক্তি সম্পর্ক বজায়কারী নয়, যে সম্পর্ক বজায় করার বিনিময়ে বজায় করে। বরং প্রকৃত সম্পর্ক বজায়কারী হল সেই ব্যক্তি, যে কেউ তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সে তা কায়েম করে।”৫৩৩
এ ব্যাপারে শরীয়তের নির্দেশ হল,
صِلْ مَنْ قَطَعَكَ وَأَعْطِ مَنْ حَرَمَكَ وَاعْفُ عَمَّنْ ظَلَمَكَ
"তোমার সঙ্গে যে আত্মীয়তা ছিন্ন করেছে, তুমি তার সাথে তা বজায় কর, তোমাকে যে বঞ্চিত করেছে, তুমি তাকে প্রদান কর এবং যে তোমার প্রতি অন্যায়াচরণ করেছে, তুমি তাকে ক্ষমা ক'রে দাও।"৫৩৪
صِلْ مَنْ قَطَعَكَ وَأَحْسِنُ إِلَى مَنْ أَسَاءَ إِلَيْكَ وَقُلِ الْحَقَّ وَلَوْ عَلَى نَفْسِكَ
"তুমি তার সাথে সুসম্পর্ক জুড়ে চল যে তোমার সাথে তা নষ্ট করতে চায়, তার প্রতি সদ্ব্যবহার কর যে তোমার সাথে দুর্ব্যবহার করে এবং হক কথা বল; যদিও তা নিজের বিরুদ্ধে হয়।"৫৩৫
আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার উপকারিতা বিশাল। মহানবী বলেছেন,
مَن أَحَبَّ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ ، وَيُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ، فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ
"যে ব্যক্তি চায় যে, তার রুযী (জীবিকা) প্রশস্ত হোক এবং আয়ু বৃদ্ধি হোক, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখে।"৫৩৬
صِلَةُ الرَّحِمِ وَحُسْنُ الخُلُقِ وَحُسْنُ الْجِوَارِ يُعَمِّرْنَ الدِّيَارَ وَيَزِدْنَ فِي الْأَعْمَارِ
“আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা, সুন্দর চরিত্র অবলম্বন করা এবং প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার রাখায় দেশ আবাদ থাকে এবং আয়ু বৃদ্ধি পায়।”৫৩৭
صَدَقَةُ السِّرِّ تُطْفِي غَضَبَ الرَّبِّ ، وَصِلَةُ الرَّحِمِ تَزِيدُ فِي الْعُمُرِ ، وَفِعْلُ المَعْرُوفِ يَقِي مَصَارِعَ السُّوءِ
“গোপনে দান প্রতিপালকের ক্রোধ দূরীভূত করে, জ্ঞাতি-বন্ধন অক্ষুণ্ন রাখে, আয়ু বৃদ্ধি করে। আর পুণ্যকর্ম সর্বপ্রকার কুমরণ থেকে রক্ষা করে।”৫৩৮
صِلَةُ الْقَرَابَةِ مَثْرَاةٌ فِي الْمَالِ، مَحَبَّةٌ فِي الْأَهْلِ، مَنْسَأَةٌ فِي الْأَجَلِ
“আত্মীয়তার সুসম্পর্ক বজায় রাখাতে সম্পদ বৃদ্ধি হয়, পরিজনের মধ্যে সম্প্রীতি থাকে এবং আয়ুষ্কাল বেড়ে যায়।”৫৩৯
কীভাবে জ্ঞাতিবন্ধন বজায় রাখবেন?
আসা-যাওয়া বজায় রেখে, বিভিন্ন উপলক্ষ্যে দাওয়াত দিয়ে, বিপদ-আপদ ও নানা প্রয়োজনে সাহায্য-সহযোগিতা ক'রে জ্ঞাতিবন্ধন বজায় রাখা যায়। তাও যদি কেউ না পারে, তাহলে মহানবী বলেছেন,
( بُلُّوا أَرْحَامَكُمْ وَلَوْ بِالسَّلامِ )
“তোমরা তোমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক আর্দ্র রাখ; যদিও তা সালাম দিয়ে হয়।”৫৪০
আপনার দান করার কিছু থাকলে আত্মীয়কে দান করুন। কারণ তাতে রয়েছে ডবল সওয়াব। মহানবী বলেছেন,
الصَّدَقَةُ عَلَى المِسكينِ صَدَقَةٌ ، وعَلَى ذِي الرَّحِمِ ثِنْتَانِ : صَدَقَةٌ وَصِلَةٌ
“---মিসকীনকে সাদকাহ করলে সাদকাহ (করার সওয়াব) হয়। আর আত্মীয়কে সাদকাহ করলে দু'টি সওয়াব হয় : সাদকাহ করার ও আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার।”৫৪১
অবশ্য চরিত্রবান জানে, কার সাথে সে সম্পর্ক রাখা যাবে এবং কার সাথে কখন তা ছিন্ন করতে হবে। সে জানে আত্মীয়তার বন্ধন অপেক্ষা ঈমানের বন্ধন বেশি মজবুত। ঈমানের উপর আত্মীয়তার কোন প্রাধান্য নেই। ঈমানহীন আত্মীয়তাতে আন্তরিকতা নেই। মহানবী বলেছেন,
إِنَّ آلَ أَبِي فُلَانٍ لَيْسُوا بِأَولِيَائِي ، إِنَّمَا وَلِيَّ اللَّهُ وَصَالِحُ الْمُؤْمِنِينَ ، وَلَكِنْ لَهُمْ رَحِمٌ أَبُلُّهَا بِبلالِهَا
“অমুক গোত্রের লোকেরা (যারা আমার প্রতি ঈমান আনেনি তারা) আমার বন্ধু নয়। আমার বন্ধু তো আল্লাহ এবং নেক মু'মিনগণ। কিন্তু ওদের সাথে আমার রক্তের সম্পর্ক রয়েছে, আমি (দুনিয়াতে) অবশ্যই তা আর্দ্র রাখব।" ৫৪২
আত্মীয়র বন্ধুর সাথেও সম্পর্ক বজায় রাখা এক প্রকার সচ্চরিত্রতা। 'নবী যখন বকরী যবাই করতেন, তখন বলতেন, "খাদীজার বান্ধবীদের নিকট এই মাংস পাঠিয়ে দাও।" ৫৪৩
আত্মীয়তার বন্ধন ছেদন করার শাস্তি আখেরাতের আগে দুনিয়াতেও পাওয়া যায়। মহানবী বলেছেন,
مَا مِنْ ذَنْبِ أَجْدَرُ أَنْ يُعَجِّلَ اللَّهُ تَعَالَى لِصَاحِبِهِ الْعُقُوبَةَ فِي الدُّنْيَا - مَعَ مَا يَدَّخِرُ لَهُ فِي الْآخِرَةِ - مِثْلُ الْبَغْيِ وَقَطِيعَةِ الرَّحِمِ
"যুলুমবাজী ও (রক্তের) আত্মীয়তা ছিন্ন করা ছাড়া এমন উপযুক্ত আর কোন পাপাচার নেই যার শাস্তি পাপাচারীর জন্য দুনিয়াতেই আল্লাহ অবিলম্বে প্রদান করে থাকেন এবং সেই সাথে আখেরাতের জন্যও জমা করে রাখেন।" ৫৪৪
لَيْسَ شَيْءٌ أُطِيعَ اللَّهُ فِيهِ أَعْجَلَ ثَوَابًا مِنْ صِلَةِ الرَّحِمِ وَلَيْسَ شَيْءٌ أَعْجَلَ عِقَابًا مِنَ الْبَغْيِ وَقَطِيعَةِ الرَّحِمِ وَالْيَمِينِ الْفَاجِرَةِ تَدَعُ الدِّيَارَ بَلاقِعَ
"আল্লাহর আনুগত্য করা হয় এমন আমলের মধ্যে সবচেয়ে বেশী তাড়াতাড়ি যে আমলের সওয়াব পাওয়া যায়, তা হল আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা। আর যে বদ আমলের শাস্তি সত্বর দেওয়া হয়, তা হল বিদ্রোহ, আত্মীয়তার বন্ধন ছেদন করা এবং মিথ্যা কসম খাওয়া, যা দেশ-মাটিকে মরুময় ক'রে তোলে।" ৫৪৫
আত্মীয়তার বন্ধন ছেদনকারীর স্থান হবে জাহান্নামে। মহানবী বলেছেন,
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِع
"আত্মীয়তার ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।" ৫৪৬
আত্মীয়তার বন্ধন বজায়কারী জান্নাত লাভে ধন্য হবে। আবু আইয়ূব আনসারী কর্তৃক বর্ণিত, এক ব্যক্তি বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাকে এমন আমল বলে দিন, যা আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে।' নবী বললেন,
تَعْبُدُ الله ، وَلَا تُشْرِكْ بِهِ شَيئاً ، وَتُقِيمُ الصَّلاةَ ، وتُؤْتِي الزَّكَاةَ ، وَتَصِلُ الرَّحْمَ
"তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তার সাথে কাউকে অংশীদার করবে না, স্বলাত প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত দেবে এবং রক্ত সম্পর্ক বজায় রাখবে।”৫৪৭
তিনি আরো বলেছেন,
يَا أَيُّهَا النَّاسُ ، أَفْشُوا السَّلامَ ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ ، وَصِلُوا الأَرْحَامَ ، وَصَلُّوا والنَّاسُ نِيَامٌ ، تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلَام
"হে লোক সকল! তোমরা সালাম প্রচার কর, (ক্ষুধার্তকে) অন্নদান কর, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখ এবং লোকে যখন (রাতে) ঘুমিয়ে থাকে, তখন তোমরা স্বলাত পড়। তাহলে তোমরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ৫৪৮
সুতরাং এমন কাজ কি চরিত্রবানের না হয়?
টিকাঃ
৫২৫. সূরা নিসা ৩৬
৫২৬. সূরা নিসা ১
৫২৭. সূরা রা'দ ২৫
৫২৮. সূরা মুহাম্মাদ ২২-২৩ আয়াত, বুখারী ৪৮৩০, ৫৯৮৭, ৭৫০২, মুসলিম ৬৬৮২ বুখারীর ৫৯৮৮নং অন্য বর্ণনায় ভিন্ন শব্দ বর্ণিত হয়েছে।
৫২৯. বুখারী ৫৯৮৯, মুসলিম ৬৬৮৩, শব্দাবলী মুসলিমের
৫৩০. আবু য়্যা'লা ৪৮-৩৯, সঃ তারগীব ২৫২২
৫৩১. বুখারী ৬১৩৮
৫৩২. মুসলিম ৬৬৮৯
৫৩৩. বুখারী ৫৯৯১
৫৩৪. আহমাদ ১৭৪৫২, হাকেম ৭২৮৫, ত্বাবারানী ১৪২৫৮, বাইহাক্বীর ৮০৭৯, সিঃ সহীহাহ ৮৯১
৫৩৫. ইবনে নাজ্জার, সহীহুল জামে ৩৭৬৯
৫৩৬. বুখারী ২০৬৭, ৫৯৮৬, মুসলিম ৬৬৮-৭-৬৬৮৮
৫৩৭. আহমাদ ২৫২৫৯, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৭৯৬৯, সহীহুল জামে ৩৭৬৭
৫৩৮. বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৩৪৪২, সহীহুল জামে ৩৭৬০
৫৩৯. তাবারানীর কাবীর ১৭২১, আওসাত্ব ৭৮১০, সহীহুল জামে ৩৭৬৮
৫৪০. বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৭৯৭২-৭৯৭৩, সহীহুল জামে' ২৮৩৮
৫৪১. তিরমিযী ৬৫৮
৫৪২. বুখারী ৫৯৯০, মুসলিম ৫৪১, শব্দ বুখারীর
৫৪৩. বুখারী ৩৮১৮, মুসলিম ৬৪৩০
৫৪৪. আহমাদ ২০৩৭৪, ২০৩৯৯, বুখারীর আল-আদাবুল মুফরাদ ২৯, আবু দাউদ ৪৯০৪, তিরমিযী ২৫১১, ইবনে মাজাহ ৪২১১, হাকেম ৩৩৫৯, ইবনে হিব্বান ৪৫৫, সহীহুল জামে' ৫৭০৪
৫৪৫. বাইহাকী ২০৩৬৪, সহীহুল জামে ৫৩৯১
৫৪৬. বুখারী ৫৯৮৪, মুসলিম ৬৬৮৪-৬৬৮৫, তিরমিযী
৫৪৭. বুখারী ১৩৯৬, ৫৯৮৩, শব্দাবলী মুসলিমের ১১৫
৫৪৮. তিরমিযী ২৪৮৫, ইবনে মাজাহ ১৩৩৪, ৩২৫১, হাকেম ৪২৮৩, সহীহ তারগীব ৬১০
চরিত্রবান মানুষের একটি মহৎ গুণ, সে জ্ঞাতিবন্ধন অক্ষুণ্ণ রাখে। যেভাবে সাধ্য সে বন্ধন-রজ্জুকে ছিন্ন হতে দেয় না। যেহেতু মহান প্রতিপালকের নির্দেশ হল,
وَاعْبُدُوا اللهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ)
অর্থাৎ, তোমরা আল্লাহর উপাসনা কর ও কোন কিছুকে তাঁর অংশী করো না এবং পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, পিতৃহীন, অভাবগ্রস্ত, আত্মীয় ও অনাত্মীয় প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, পথচারী এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার কর। ৫২৫
তিনি আরো বলেন,
وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامِ)
অর্থাৎ, সেই আল্লাহকে ভয় কর, যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞা কর এবং জ্ঞাতি-বন্ধন ছিন্ন করাকে ভয় কর। ৫২৬
যারা তাঁর সে নির্দেশ লংঘন করে, তাদের পরিণাম সম্বন্ধে তিনি বলেছেন,
وَالَّذِينَ يَنْقُضُونَ عَهْدَ اللهِ مِنْ بَعْدِ مِيثَاقِهِ وَيَقْطَعُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَنْ يُوصَلَ وَيُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ أُولَئِكَ لَهُمُ اللَّعْنَةُ وَلَهُمْ سُوءُ الدَّارِ )
অর্থাৎ, যারা আল্লাহর সাথে দৃঢ় অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে, যে সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখতে আল্লাহ আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের জন্য আছে অভিসম্পাত এবং তাদের জন্য আছে মন্দ আবাস। ৫২৭
যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে, মহান আল্লাহ তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এ কথার বিবরণ দিয়ে মহানবী বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى خَلَقَ الخَلْقَ حَتَّى إِذَا فَرَغَ مِنْهُمْ قَامَتِ الرَّحِمُ، فَقَالَتْ : هَذَا مَقَامُ العَائِذِ بِكَ مِنَ القَطِيعةِ ، قَالَ : نَعَمْ ، أَمَا تَرْضَيْنَ أنْ أصِلَ مَنْ وَصَلَكِ ، وَأَقْطَعَ مَنْ قَطَعَكِ؟ قَالَتْ : بَلَى ، قَالَ : فَذَلِكَ لَكِ ، ثُمَّ قَالَ رَسُول الله ﷺ : اقْرَؤُوا إِنْ شِئْتُمْ: فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ أُولَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ وفي رواية للبخاري: فَقَالَ الله تَعَالَى: مَنْ وَصَلَكِ، وَصَلْتُهُ، وَمَنْ قَطَعَكِ ، قَطَعْتُهُ
"আল্লাহ সকল কিছুকে সৃষ্টি করলেন। অতঃপর যখন তিনি সৃষ্টি কাজ শেষ করলেন, তখন আত্মীয়তার সম্পর্ক উঠে বলল, '(আমার এই দণ্ডায়মান হওয়াটা) আপনার নিকট বিচ্ছিন্নতা থেকে আশ্রয়প্রার্থীর দণ্ডায়মান হওয়া।' তিনি (আল্লাহ) বললেন, 'হ্যাঁ তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তোমার সাথে যে সুসম্পর্ক রাখবে, আমিও তার সাথে সুসম্পর্ক রাখব। আর যে তোমার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, আমিও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব।' সে (রক্ত সম্পর্ক) বলল, 'অবশ্যই।' আল্লাহ বললেন, 'তাহলে এ মর্যাদা তোমাকে দেওয়া হল।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, "তোমরা চাইলে (এ আয়াতটি) পড়ে নাও; 'ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে সম্ভবতঃ তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। ওরা তো তারা, যাদেরকে আল্লাহ অভিশপ্ত ক'রে বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন করেন।"৫২৮
الرَّحِمُ مُعَلَّقَةٌ بِالعَرْشِ تَقُولُ: مَنْ وَصَلَنِي ، وَصَلَهُ اللَّهُ ، وَمَنْ قَطَعَنِي ، قَطَعَهُ اللَّهُ
"জ্ঞাতিবন্ধন আরশে ঝুলন্ত আছে এবং সে বলছে, 'যে আমাকে অবিচ্ছিন্ন রাখবে, আল্লাহ তাঁর সম্পর্ক তার সাথে অবিচ্ছিন্ন রাখবেন। আর যে আমাকে বিচ্ছিন্ন করবে, আল্লাহ তাঁর সম্পর্ক তার সাথে বিচ্ছিন্ন করবেন। "৫২৯
চরিত্রবান নারী-পুরুষ জানে, জ্ঞাতিবন্ধন বজায় রাখা আল্লাহর নিকট প্রিয় কাজ এবং তা ছিন্ন করা তাঁর নিকট ঘৃণ্য কাজ। খাষআম গোত্রের এক ব্যক্তি বলেন, একদা আমি নবী এর কাছে এলাম। তখন তিনি তাঁর কিছু সঙ্গীর সাথে ছিলেন। আমি বললাম, 'আপনিই কি মনে করেন, আপনি রাসূলুল্লাহ?' তিনি বললেন, "হ্যাঁ।” আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! কোন্ আমল আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়?' উত্তরে তিনি বললেন, "আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা।” আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! তারপর কী?' তিনি বললেন, "তারপর আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা।' আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! তারপর কী?' তিনি বললেন, "তারপর ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে বাধা দান করা।"
আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! কোন্ আমল আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণ্য?' তিনি বললেন, "আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করা।" আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! তারপর কী?' তিনি বললেন, "তারপর আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা।" আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! তারপর কী?' তিনি বললেন, "তারপর মন্দ কাজের আদেশ ও ভালো কাজে বাধা দান করা।"৫৩০
চরিত্রবান মু'মিন হয়, আর ঈমানের অন্যতম দাবী হল আত্মীয়তার বন্ধন বহাল রাখা। মহানবী বলেছেন,
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَاليَومِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَاليَومِ الآخِرِ فَلْيَصِلُ رَحِمَهُ ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَاليَومِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْراً أَوْ لِيَصْمُتْ
"যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহমানের খাতির করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন আত্মীয়তার বন্ধন অক্ষুণ্ণ রাখে। এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে, নচেৎ চুপ থাকে।"৫৩১
আত্মীয় যদি আত্মীয়তা বজায় না রাখতে চায়, সে ক্ষেত্রেও চরিত্রবান অনুরূপ আচরণ করে না। বরং সে ক্ষেত্রেও সেই বন্ধনকে সে ছিন্ন হতে না দিয়ে নিজের কর্তব্য পালন ক'রে যায়। আর তার এ কঠিন কাজের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়। আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! আমার কিছু আত্মীয় আছে, আমি তাদের সাথে আত্মীয়তা বজায় রাখি, আর তারা ছিন্ন করে। আমি তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করি, আর তারা আমার সাথে দুর্ব্যবহার করে। তারা কষ্ট দিলে আমি সহ্য করি, আর তারা আমার সাথে মূর্খের আচরণ করে।' তিনি বললেন,
لَئِنْ كُنْتَ كَمَا قُلْتَ، فَكَأَنَّمَا تُسِفُهُمُ الْمَلَّ، وَلا يَزَالُ مَعَكَ مِنَ اللَّهِ ظَهِيرٌ عَلَيْهِمْ مَا دُمْتَ عَلَى ذَلِكَ
"যদি তা-ই হয়, তাহলে তুমি যেন তাদের মুখে গরম ছাই নিক্ষেপ করছ (অর্থাৎ, এ কাজে তারা গোনাহগার হয়।) এবং তোমার সাথে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্যকারী থাকবে; যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি এর উপর অনড় থাকবে।"৫৩২
আসলেই ভালোর বিনিময়ে ভালো প্রায় সকলেই করে। কিন্তু মন্দের বিনিময়ে ভালো করতে সকলে পারে না। যে পারে সেই ভালো লোক, সেই মহান চরিত্রবান। মহানবী বলেছেন,
لَيْسَ الْوَاصِلُ بِالْمُكَافِئ ، وَلكِنَّ الْوَاصِلَ الَّذِي إِذَا قَطَعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا
"সেই ব্যক্তি সম্পর্ক বজায়কারী নয়, যে সম্পর্ক বজায় করার বিনিময়ে বজায় করে। বরং প্রকৃত সম্পর্ক বজায়কারী হল সেই ব্যক্তি, যে কেউ তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সে তা কায়েম করে।”৫৩৩
এ ব্যাপারে শরীয়তের নির্দেশ হল,
صِلْ مَنْ قَطَعَكَ وَأَعْطِ مَنْ حَرَمَكَ وَاعْفُ عَمَّنْ ظَلَمَكَ
"তোমার সঙ্গে যে আত্মীয়তা ছিন্ন করেছে, তুমি তার সাথে তা বজায় কর, তোমাকে যে বঞ্চিত করেছে, তুমি তাকে প্রদান কর এবং যে তোমার প্রতি অন্যায়াচরণ করেছে, তুমি তাকে ক্ষমা ক'রে দাও।"৫৩৪
صِلْ مَنْ قَطَعَكَ وَأَحْسِنُ إِلَى مَنْ أَسَاءَ إِلَيْكَ وَقُلِ الْحَقَّ وَلَوْ عَلَى نَفْسِكَ
"তুমি তার সাথে সুসম্পর্ক জুড়ে চল যে তোমার সাথে তা নষ্ট করতে চায়, তার প্রতি সদ্ব্যবহার কর যে তোমার সাথে দুর্ব্যবহার করে এবং হক কথা বল; যদিও তা নিজের বিরুদ্ধে হয়।"৫৩৫
আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার উপকারিতা বিশাল। মহানবী বলেছেন,
مَن أَحَبَّ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ ، وَيُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ، فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ
"যে ব্যক্তি চায় যে, তার রুযী (জীবিকা) প্রশস্ত হোক এবং আয়ু বৃদ্ধি হোক, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখে।"৫৩৬
صِلَةُ الرَّحِمِ وَحُسْنُ الخُلُقِ وَحُسْنُ الْجِوَارِ يُعَمِّرْنَ الدِّيَارَ وَيَزِدْنَ فِي الْأَعْمَارِ
“আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা, সুন্দর চরিত্র অবলম্বন করা এবং প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার রাখায় দেশ আবাদ থাকে এবং আয়ু বৃদ্ধি পায়।”৫৩৭
صَدَقَةُ السِّرِّ تُطْفِي غَضَبَ الرَّبِّ ، وَصِلَةُ الرَّحِمِ تَزِيدُ فِي الْعُمُرِ ، وَفِعْلُ المَعْرُوفِ يَقِي مَصَارِعَ السُّوءِ
“গোপনে দান প্রতিপালকের ক্রোধ দূরীভূত করে, জ্ঞাতি-বন্ধন অক্ষুণ্ন রাখে, আয়ু বৃদ্ধি করে। আর পুণ্যকর্ম সর্বপ্রকার কুমরণ থেকে রক্ষা করে।”৫৩৮
صِلَةُ الْقَرَابَةِ مَثْرَاةٌ فِي الْمَالِ، مَحَبَّةٌ فِي الْأَهْلِ، مَنْسَأَةٌ فِي الْأَجَلِ
“আত্মীয়তার সুসম্পর্ক বজায় রাখাতে সম্পদ বৃদ্ধি হয়, পরিজনের মধ্যে সম্প্রীতি থাকে এবং আয়ুষ্কাল বেড়ে যায়।”৫৩৯
কীভাবে জ্ঞাতিবন্ধন বজায় রাখবেন?
আসা-যাওয়া বজায় রেখে, বিভিন্ন উপলক্ষ্যে দাওয়াত দিয়ে, বিপদ-আপদ ও নানা প্রয়োজনে সাহায্য-সহযোগিতা ক'রে জ্ঞাতিবন্ধন বজায় রাখা যায়। তাও যদি কেউ না পারে, তাহলে মহানবী বলেছেন,
( بُلُّوا أَرْحَامَكُمْ وَلَوْ بِالسَّلامِ )
“তোমরা তোমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক আর্দ্র রাখ; যদিও তা সালাম দিয়ে হয়।”৫৪০
আপনার দান করার কিছু থাকলে আত্মীয়কে দান করুন। কারণ তাতে রয়েছে ডবল সওয়াব। মহানবী বলেছেন,
الصَّدَقَةُ عَلَى المِسكينِ صَدَقَةٌ ، وعَلَى ذِي الرَّحِمِ ثِنْتَانِ : صَدَقَةٌ وَصِلَةٌ
“---মিসকীনকে সাদকাহ করলে সাদকাহ (করার সওয়াব) হয়। আর আত্মীয়কে সাদকাহ করলে দু'টি সওয়াব হয় : সাদকাহ করার ও আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার।”৫৪১
অবশ্য চরিত্রবান জানে, কার সাথে সে সম্পর্ক রাখা যাবে এবং কার সাথে কখন তা ছিন্ন করতে হবে। সে জানে আত্মীয়তার বন্ধন অপেক্ষা ঈমানের বন্ধন বেশি মজবুত। ঈমানের উপর আত্মীয়তার কোন প্রাধান্য নেই। ঈমানহীন আত্মীয়তাতে আন্তরিকতা নেই। মহানবী বলেছেন,
إِنَّ آلَ أَبِي فُلَانٍ لَيْسُوا بِأَولِيَائِي ، إِنَّمَا وَلِيَّ اللَّهُ وَصَالِحُ الْمُؤْمِنِينَ ، وَلَكِنْ لَهُمْ رَحِمٌ أَبُلُّهَا بِبلالِهَا
“অমুক গোত্রের লোকেরা (যারা আমার প্রতি ঈমান আনেনি তারা) আমার বন্ধু নয়। আমার বন্ধু তো আল্লাহ এবং নেক মু'মিনগণ। কিন্তু ওদের সাথে আমার রক্তের সম্পর্ক রয়েছে, আমি (দুনিয়াতে) অবশ্যই তা আর্দ্র রাখব।" ৫৪২
আত্মীয়র বন্ধুর সাথেও সম্পর্ক বজায় রাখা এক প্রকার সচ্চরিত্রতা। 'নবী যখন বকরী যবাই করতেন, তখন বলতেন, "খাদীজার বান্ধবীদের নিকট এই মাংস পাঠিয়ে দাও।" ৫৪৩
আত্মীয়তার বন্ধন ছেদন করার শাস্তি আখেরাতের আগে দুনিয়াতেও পাওয়া যায়। মহানবী বলেছেন,
مَا مِنْ ذَنْبِ أَجْدَرُ أَنْ يُعَجِّلَ اللَّهُ تَعَالَى لِصَاحِبِهِ الْعُقُوبَةَ فِي الدُّنْيَا - مَعَ مَا يَدَّخِرُ لَهُ فِي الْآخِرَةِ - مِثْلُ الْبَغْيِ وَقَطِيعَةِ الرَّحِمِ
"যুলুমবাজী ও (রক্তের) আত্মীয়তা ছিন্ন করা ছাড়া এমন উপযুক্ত আর কোন পাপাচার নেই যার শাস্তি পাপাচারীর জন্য দুনিয়াতেই আল্লাহ অবিলম্বে প্রদান করে থাকেন এবং সেই সাথে আখেরাতের জন্যও জমা করে রাখেন।" ৫৪৪
لَيْسَ شَيْءٌ أُطِيعَ اللَّهُ فِيهِ أَعْجَلَ ثَوَابًا مِنْ صِلَةِ الرَّحِمِ وَلَيْسَ شَيْءٌ أَعْجَلَ عِقَابًا مِنَ الْبَغْيِ وَقَطِيعَةِ الرَّحِمِ وَالْيَمِينِ الْفَاجِرَةِ تَدَعُ الدِّيَارَ بَلاقِعَ
"আল্লাহর আনুগত্য করা হয় এমন আমলের মধ্যে সবচেয়ে বেশী তাড়াতাড়ি যে আমলের সওয়াব পাওয়া যায়, তা হল আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা। আর যে বদ আমলের শাস্তি সত্বর দেওয়া হয়, তা হল বিদ্রোহ, আত্মীয়তার বন্ধন ছেদন করা এবং মিথ্যা কসম খাওয়া, যা দেশ-মাটিকে মরুময় ক'রে তোলে।" ৫৪৫
আত্মীয়তার বন্ধন ছেদনকারীর স্থান হবে জাহান্নামে। মহানবী বলেছেন,
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِع
"আত্মীয়তার ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।" ৫৪৬
আত্মীয়তার বন্ধন বজায়কারী জান্নাত লাভে ধন্য হবে। আবু আইয়ূব আনসারী কর্তৃক বর্ণিত, এক ব্যক্তি বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাকে এমন আমল বলে দিন, যা আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে।' নবী বললেন,
تَعْبُدُ الله ، وَلَا تُشْرِكْ بِهِ شَيئاً ، وَتُقِيمُ الصَّلاةَ ، وتُؤْتِي الزَّكَاةَ ، وَتَصِلُ الرَّحْمَ
"তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তার সাথে কাউকে অংশীদার করবে না, স্বলাত প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত দেবে এবং রক্ত সম্পর্ক বজায় রাখবে।”৫৪৭
তিনি আরো বলেছেন,
يَا أَيُّهَا النَّاسُ ، أَفْشُوا السَّلامَ ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ ، وَصِلُوا الأَرْحَامَ ، وَصَلُّوا والنَّاسُ نِيَامٌ ، تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلَام
"হে লোক সকল! তোমরা সালাম প্রচার কর, (ক্ষুধার্তকে) অন্নদান কর, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখ এবং লোকে যখন (রাতে) ঘুমিয়ে থাকে, তখন তোমরা স্বলাত পড়। তাহলে তোমরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ৫৪৮
সুতরাং এমন কাজ কি চরিত্রবানের না হয়?
টিকাঃ
৫২৫. সূরা নিসা ৩৬
৫২৬. সূরা নিসা ১
৫২৭. সূরা রা'দ ২৫
৫২৮. সূরা মুহাম্মাদ ২২-২৩ আয়াত, বুখারী ৪৮৩০, ৫৯৮৭, ৭৫০২, মুসলিম ৬৬৮২ বুখারীর ৫৯৮৮নং অন্য বর্ণনায় ভিন্ন শব্দ বর্ণিত হয়েছে।
৫২৯. বুখারী ৫৯৮৯, মুসলিম ৬৬৮৩, শব্দাবলী মুসলিমের
৫৩০. আবু য়্যা'লা ৪৮-৩৯, সঃ তারগীব ২৫২২
৫৩১. বুখারী ৬১৩৮
৫৩২. মুসলিম ৬৬৮৯
৫৩৩. বুখারী ৫৯৯১
৫৩৪. আহমাদ ১৭৪৫২, হাকেম ৭২৮৫, ত্বাবারানী ১৪২৫৮, বাইহাক্বীর ৮০৭৯, সিঃ সহীহাহ ৮৯১
৫৩৫. ইবনে নাজ্জার, সহীহুল জামে ৩৭৬৯
৫৩৬. বুখারী ২০৬৭, ৫৯৮৬, মুসলিম ৬৬৮-৭-৬৬৮৮
৫৩৭. আহমাদ ২৫২৫৯, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৭৯৬৯, সহীহুল জামে ৩৭৬৭
৫৩৮. বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৩৪৪২, সহীহুল জামে ৩৭৬০
৫৩৯. তাবারানীর কাবীর ১৭২১, আওসাত্ব ৭৮১০, সহীহুল জামে ৩৭৬৮
৫৪০. বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৭৯৭২-৭৯৭৩, সহীহুল জামে' ২৮৩৮
৫৪১. তিরমিযী ৬৫৮
৫৪২. বুখারী ৫৯৯০, মুসলিম ৫৪১, শব্দ বুখারীর
৫৪৩. বুখারী ৩৮১৮, মুসলিম ৬৪৩০
৫৪৪. আহমাদ ২০৩৭৪, ২০৩৯৯, বুখারীর আল-আদাবুল মুফরাদ ২৯, আবু দাউদ ৪৯০৪, তিরমিযী ২৫১১, ইবনে মাজাহ ৪২১১, হাকেম ৩৩৫৯, ইবনে হিব্বান ৪৫৫, সহীহুল জামে' ৫৭০৪
৫৪৫. বাইহাকী ২০৩৬৪, সহীহুল জামে ৫৩৯১
৫৪৬. বুখারী ৫৯৮৪, মুসলিম ৬৬৮৪-৬৬৮৫, তিরমিযী
৫৪৭. বুখারী ১৩৯৬, ৫৯৮৩, শব্দাবলী মুসলিমের ১১৫
৫৪৮. তিরমিযী ২৪৮৫, ইবনে মাজাহ ১৩৩৪, ৩২৫১, হাকেম ৪২৮৩, সহীহ তারগীব ৬১০
📄 মনের সুস্থতা
কিয়ামতের বিভীষিকাময় ময়দান। জান্নাত-জাহান্নামের অনিশ্চয়তা নিয়ে সকল মানুষ চিন্তিত। সেখানে সাহায্যকারী কেউ নেই; না স্বজন-বন্ধু, না অর্থ-সম্পদ। কেউ কারো উপকার করবে না। অবশ্য উপকারী হবে মানুষের সুস্থ অন্তর। মহান আল্লাহ বলেছেন,
يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلا بَنُونَ إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ)
"যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন কাজে আসবে না; সেদিন উপকৃত হবে কেবল সেই; যে আল্লাহর নিকট সুস্থ অন্তঃকরণ নিয়ে উপস্থিত হবে।”৫৪৯
সুস্থ মনঃ যে মন সকল প্রকার পাপ-পঙ্কিলতা ও অসদাচরণ; যেমন হিংসা, পরশ্রীকাতরতা, বিদ্বেষ, কুধারণা ইত্যাদি থেকে পরিচ্ছন্ন।
সুস্থ মন: যাতে কোন প্রকার এমন প্রবৃত্তি নেই, যা মহান প্রতিপালকের আদেশ ও নিষেধের বিরোধিতা করে। কোন প্রকার এমন সন্দেহ নেই, যা তাঁর বাণীকে অবিশ্বাস করে।
সুস্থ মনঃ যে মন মানুষের মঙ্গল কামনা করে। যে মন পরের শুভাকাঙ্ক্ষী হয়। এই মনের মানুষই কিয়ামতে সহী-সালামতে অবস্থান করবে। এ মনের মানুষই জান্নাতের অধিকারী হবে।
সুফিয়ান বিন দীনার বলেন, আমি আলীর অন্যতম শিষ্য আবূ বাশীরকে বললাম, 'আমাদের পূর্ববর্তীদের আমল সম্বন্ধে আমাকে কিছু বলুন।' তিনি বললেন, 'তাঁরা সামান্য আমল করতেন, কিন্তু অসামান্য সওয়াব অর্জন করতেন।' আমি বললাম, 'তা কী কারণে?' তিনি বললেন, 'তাঁদের বক্ষস্থল সুস্থ থাকার কারণে?'
আবু দুজানা অসুস্থ ছিলেন। তাঁর মুখমণ্ডল চাঁদের মতো হাস্যোজ্জ্বল ছিল। তাঁকে বলা হল, 'কী কারণে আপনার চেহারা চাঁদের মতো এত ঝলমল করছে?' তিনি বললেন, 'আমার নিকট দুটি আমল অপেক্ষা অন্য কিছু নির্ভরযোগ্য নেই; প্রথম এই যে, আমি সে বিষয়ে মুখ খুলতাম না, যে বিষয় আমার সাথে সম্পৃক্ত নয়। আর দ্বিতীয় এই যে, মুসলিমদের জন্য আমার হৃদয় পরিষ্কার ছিল।'
কাসেম জুয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, 'দ্বীনের মৌলিক বিষয় হল সংযম। সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত হল রাত্রি জাগরণ করা এবং বেহেস্তের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত পথ হল বক্ষস্থলকে পরিষ্কার রাখা।'
এতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই যে, যার মন সত্যিকারে পরিষ্কার, তার চরিত্র সবার চাইতে শ্রেষ্ঠ এবং সে সব চাইতে ভালো লোক। আব্দুল্লাহ বিন আম্র বলেন, একদা মহানবী কে জিজ্ঞাসা করা হল, 'সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ লোক কে?' উত্তরে তিনি বললেন,
كُلُّ مَحْمُومِ الْقَلْبِ صَدُوقِ اللِّسَانِ
"সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ লোক হল সেই, যার হৃদয় হল পরিষ্কার এবং জিভ হল সত্যবাদী।"
জিজ্ঞাসা করা হল, 'পরিষ্কার হৃদয়ের অর্থ কী?' বললেন,
هُوَ التَّقِيُّ النَّقِيُّ لَا إِثْمَ فِيهِ وَلَا بَغْيَ وَلَا غِلَّ وَلَا حَسَدَ
"যে হৃদয় সংযমশীল, নির্মল, যাতে কোন পাপ নেই, অন্যায় নেই, ঈর্ষা ও হিংসা নেই।"
জিজ্ঞাসা করা হল, 'তারপর কে?' তিনি বললেন, "যে দুনিয়াকে ঘৃণা করে এবং আখেরাতকে ভালোবাসে।"
জিজ্ঞাসা করা হল, 'তারপর কে?' বললেন, "সুন্দর চরিত্রের মুমিন।"৫৫০
পক্ষান্তরে অসুস্থ মন?
সে মন পরের শ্রী দেখে কাতর হয়। অন্যের ঋদ্ধি-বৃদ্ধি দেখে হিংসা করে। অন্যের আয়-উন্নতি দেখে ধ্বংস-কামনা করে। অন্যের প্রতি অকারণে বিদ্বেষ ও ঘৃণা পোষণ করে। অন্যের প্রশংসা শুনে তার গা-জ্বালা করে। নিজে যেমন ধ্বংসপ্রাপ্ত, তেমনি অন্যকেও সেই রূপ হওয়ার আশা করে। বেশ্যা চায়, সারা বিশ্বের মহিলারা সবাই বেশ্যা হোক। আমার বদনাম হয়েছে, তেমনি সবারই হোক।
এমন মনের মানুষরা নিশ্চয় চরিত্রবান নয়, ভালো লোক নয়। যারা চরিত্রবান, যাদের হৃদয় সাদা ও স্বচ্ছ, যাদের মনে কোন কূট ও টেরামি নেই, তারা পূর্বাপর কোন মুসলিমের প্রতি তাদের মনে কোন প্রকার অপরিচ্ছন্নতা রাখে না। আর তারা দুআ ক'রে বলে,
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَّحِيمٌ )
'হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এবং বিশ্বাসে অগ্রণী আমাদের ভাইদেরকে ক্ষমা কর এবং মুমিনদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে হিংসা-বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি তো দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু। ১৫৫১
টিকাঃ
৫৪৯. শুআ'রা: ৮৮-৮৯
৫৫০. ইবনে মাজাহ ৪২১৬, সহীহুল জামে ৩২৯১
৫৫১. হাশ্র: ১০
কিয়ামতের বিভীষিকাময় ময়দান। জান্নাত-জাহান্নামের অনিশ্চয়তা নিয়ে সকল মানুষ চিন্তিত। সেখানে সাহায্যকারী কেউ নেই; না স্বজন-বন্ধু, না অর্থ-সম্পদ। কেউ কারো উপকার করবে না। অবশ্য উপকারী হবে মানুষের সুস্থ অন্তর। মহান আল্লাহ বলেছেন,
يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلا بَنُونَ إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ)
"যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন কাজে আসবে না; সেদিন উপকৃত হবে কেবল সেই; যে আল্লাহর নিকট সুস্থ অন্তঃকরণ নিয়ে উপস্থিত হবে।”৫৪৯
সুস্থ মনঃ যে মন সকল প্রকার পাপ-পঙ্কিলতা ও অসদাচরণ; যেমন হিংসা, পরশ্রীকাতরতা, বিদ্বেষ, কুধারণা ইত্যাদি থেকে পরিচ্ছন্ন।
সুস্থ মন: যাতে কোন প্রকার এমন প্রবৃত্তি নেই, যা মহান প্রতিপালকের আদেশ ও নিষেধের বিরোধিতা করে। কোন প্রকার এমন সন্দেহ নেই, যা তাঁর বাণীকে অবিশ্বাস করে।
সুস্থ মনঃ যে মন মানুষের মঙ্গল কামনা করে। যে মন পরের শুভাকাঙ্ক্ষী হয়। এই মনের মানুষই কিয়ামতে সহী-সালামতে অবস্থান করবে। এ মনের মানুষই জান্নাতের অধিকারী হবে।
সুফিয়ান বিন দীনার বলেন, আমি আলীর অন্যতম শিষ্য আবূ বাশীরকে বললাম, 'আমাদের পূর্ববর্তীদের আমল সম্বন্ধে আমাকে কিছু বলুন।' তিনি বললেন, 'তাঁরা সামান্য আমল করতেন, কিন্তু অসামান্য সওয়াব অর্জন করতেন।' আমি বললাম, 'তা কী কারণে?' তিনি বললেন, 'তাঁদের বক্ষস্থল সুস্থ থাকার কারণে?'
আবু দুজানা অসুস্থ ছিলেন। তাঁর মুখমণ্ডল চাঁদের মতো হাস্যোজ্জ্বল ছিল। তাঁকে বলা হল, 'কী কারণে আপনার চেহারা চাঁদের মতো এত ঝলমল করছে?' তিনি বললেন, 'আমার নিকট দুটি আমল অপেক্ষা অন্য কিছু নির্ভরযোগ্য নেই; প্রথম এই যে, আমি সে বিষয়ে মুখ খুলতাম না, যে বিষয় আমার সাথে সম্পৃক্ত নয়। আর দ্বিতীয় এই যে, মুসলিমদের জন্য আমার হৃদয় পরিষ্কার ছিল।'
কাসেম জুয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, 'দ্বীনের মৌলিক বিষয় হল সংযম। সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত হল রাত্রি জাগরণ করা এবং বেহেস্তের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত পথ হল বক্ষস্থলকে পরিষ্কার রাখা।'
এতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই যে, যার মন সত্যিকারে পরিষ্কার, তার চরিত্র সবার চাইতে শ্রেষ্ঠ এবং সে সব চাইতে ভালো লোক। আব্দুল্লাহ বিন আম্র বলেন, একদা মহানবী কে জিজ্ঞাসা করা হল, 'সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ লোক কে?' উত্তরে তিনি বললেন,
كُلُّ مَحْمُومِ الْقَلْبِ صَدُوقِ اللِّسَانِ
"সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ লোক হল সেই, যার হৃদয় হল পরিষ্কার এবং জিভ হল সত্যবাদী।"
জিজ্ঞাসা করা হল, 'পরিষ্কার হৃদয়ের অর্থ কী?' বললেন,
هُوَ التَّقِيُّ النَّقِيُّ لَا إِثْمَ فِيهِ وَلَا بَغْيَ وَلَا غِلَّ وَلَا حَسَدَ
"যে হৃদয় সংযমশীল, নির্মল, যাতে কোন পাপ নেই, অন্যায় নেই, ঈর্ষা ও হিংসা নেই।"
জিজ্ঞাসা করা হল, 'তারপর কে?' তিনি বললেন, "যে দুনিয়াকে ঘৃণা করে এবং আখেরাতকে ভালোবাসে।"
জিজ্ঞাসা করা হল, 'তারপর কে?' বললেন, "সুন্দর চরিত্রের মুমিন।"৫৫০
পক্ষান্তরে অসুস্থ মন?
সে মন পরের শ্রী দেখে কাতর হয়। অন্যের ঋদ্ধি-বৃদ্ধি দেখে হিংসা করে। অন্যের আয়-উন্নতি দেখে ধ্বংস-কামনা করে। অন্যের প্রতি অকারণে বিদ্বেষ ও ঘৃণা পোষণ করে। অন্যের প্রশংসা শুনে তার গা-জ্বালা করে। নিজে যেমন ধ্বংসপ্রাপ্ত, তেমনি অন্যকেও সেই রূপ হওয়ার আশা করে। বেশ্যা চায়, সারা বিশ্বের মহিলারা সবাই বেশ্যা হোক। আমার বদনাম হয়েছে, তেমনি সবারই হোক।
এমন মনের মানুষরা নিশ্চয় চরিত্রবান নয়, ভালো লোক নয়। যারা চরিত্রবান, যাদের হৃদয় সাদা ও স্বচ্ছ, যাদের মনে কোন কূট ও টেরামি নেই, তারা পূর্বাপর কোন মুসলিমের প্রতি তাদের মনে কোন প্রকার অপরিচ্ছন্নতা রাখে না। আর তারা দুআ ক'রে বলে,
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَّحِيمٌ )
'হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এবং বিশ্বাসে অগ্রণী আমাদের ভাইদেরকে ক্ষমা কর এবং মুমিনদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে হিংসা-বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি তো দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু। ১৫৫১
টিকাঃ
৫৪৯. শুআ'রা: ৮৮-৮৯
৫৫০. ইবনে মাজাহ ৪২১৬, সহীহুল জামে ৩২৯১
৫৫১. হাশ্র: ১০
📄 আল্লাহর পথে নিন্দুকের নিন্দাকে উপেক্ষা
চরিত্রবান মুসলিম নারী-পুরুষের একটি গুণ হল, তারা আল্লাহর পথে কোন নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করে না। তাঁর দ্বীন জানতে, মানতে ও প্রচার করতে কোন বাধাদানকারীর বাধাকে পরোয়া করে না। কাফেরদের রক্তচক্ষুকে ভয় ক'রে আল্লাহর দ্বীন থেকে বৈমুখ হয় না। যেহেতু মহান আল্লাহর নির্দেশ,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَن يَرْتَدَّ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةً عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ الله وَلَا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لائِمٍ ذَلِكَ فَضْلُ الله يُؤْتِيهِ مَن يَشَاء وَاللَّهِ وَاسِعٌ عَلِيمٌ)
"হে বিশ্বাসিগণ! তোমাদের মধ্যে কেউ ধর্ম হতে ফিরে গেলে আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় আনয়ন করবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন ও যারা তাঁকে ভালবাসবে, তারা হবে বিশ্বাসীদের প্রতি কোমল ও অবিশ্বাসীদের প্রতি কঠোর। তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে এবং কোন নিন্দুকের নিন্দায় ভয় করবে না, এ আল্লাহর অনুগ্রহ যাকে ইচ্ছা তিনি দান করেন। বস্তুতঃ আল্লাহ প্রাচুর্যময়, প্রজ্ঞাময়।" ৫৫২
আবূ যার বলেছেন, 'আমাকে আমার বন্ধু সাতটি কাজের অসিয়ত করে গেছেন; (১) আমি যেন মিসকীনদেরকে ভালোবাসি এবং তাদের নিকটবর্তী হই (বসি), (২) আমার থেকে যারা নিম্নমানের তাদের প্রতি লক্ষ্য (করে উপদেশ বা সান্ত্বনা গ্রহণ) করি ও আমার থেকে যে ঊর্ধ্বে তার প্রতি লক্ষ্য না করি, (৩) আমার প্রতি অন্যায় করা হলেও আমি আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখি, (৪) বেশী বেশী 'লা হাউলা অলা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ' বলি, (৫) তিক্ত হলেও যেন হক কথা বলি, (৬) আল্লাহর ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দা-ভয় যেন আমাকে না ধরে এবং (৭) লোকেদের কাছে যেন কিছুও না চাই। ১৫৫৩
মানুষের ভয়ে বা লজ্জায় হক বলা থেকে বিরত থাকা চরিত্রবানের কাজ হতে পারে না। আল্লাহর ব্যাপারে প্রশাসনকেও ভয় নেই। যেহেতু তাঁর অবাধ্যাচরণ ক'রে কোন প্রশাসনের আনুগত্য বৈধ নয়। সে ক্ষেত্রেও হক কথা বলতে কোন নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করা চরিত্রবান মুসলিমের কাজ নয়।
আবূ অলীদ উবাদাহ ইবনে সামেত বলেন, 'আমরা রাসূলুল্লাহ এর কাছে এই মর্মে বাইয়াত করলাম যে, দুঃখে-সুখে, আরামে ও কষ্টে এবং আমাদের উপর (অন্যদেরকে) প্রাধান্য দেওয়ার অবস্থায় আমরা তাঁর পূর্ণ আনুগত্য করব। রাষ্ট্রনেতার বিরুদ্ধে তার নিকট থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার লড়াই করব না; যতক্ষণ না তোমরা (তার মধ্যে) প্রকাশ্য কুফরী দেখ, যে ব্যাপারে তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে দলীল রয়েছে। আর আমরা সর্বদা সত্য কথা বলব এবং আল্লাহর ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করব না। ১৫৫৪
হ্যাঁ, হক কথা সূর্যের মতো। মেঘ চিরে তা প্রকাশ পায়। ঢাকা থাকলেও বেশি ক্ষণ বা দিন ঢাকা থাকে না। আর মহানবী বলেছেন,
أَفْضَلُ الْجِهَادِ كَلِمَةُ عَدْلٍ عِنْدَ سُلْطَانٍ جَائِرٍ
"অত্যাচারী বাদশাহর নিকট হক কথা বলা সর্বশ্রেষ্ঠ জিহাদ।”৫৫৫
তবে খেয়াল রাখতে হবে, প্রশাসনের কাছে, একান্তে তার কর্ণকুহরে। প্রকাশ্যে লোক মাঝে নয়, জনসভা ও মিম্বরে নয়। কারণ তাও এক প্রকার নিষিদ্ধ বিদ্রোহ।
সত্য বলতে ভয় নেই। হিকমতের সাথে সত্য বলতে দোষ নেই। বাধা এলে আল্লাহর উপর ভরসা রেখে বাধাকে উল্লংঘন করা কর্তব্য চরিত্রবান দাঈর।
কবি বলেছেন, 'বিধির বিধান মানতে গিয়ে নিষেধ যদি দেয় আগল, বিশ্ব যদি কয় পাগল আছেন সত্য মাথার 'পর বেপরোয়া তুই সত্য বল, বুক ঠুকে তুই সত্য বল। (তখন) তোর পথেরই মশাল হয়ে জ্বলবে বিধির রুদ্র চোখ, বিধির বিধান সত্য হোক। বিধির বিধান সত্য হোক।'
টিকাঃ
৫৫২. সূরা মায়িদাহ: ৫৪
৫৫৩. আহমাদ ২১৪১৫, ত্বাবারানী ১৬২৬, সহীহ তারগীব ৮১১
৫৫৪. বুখারী ৭২০০, মুসলিম ৪৮৭৪
৫৫৫. আবু দাউদ ৪৩৪৬, তিরমিযী ২১৭৪, ইবনে মাজাহ ৪০১১
চরিত্রবান মুসলিম নারী-পুরুষের একটি গুণ হল, তারা আল্লাহর পথে কোন নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করে না। তাঁর দ্বীন জানতে, মানতে ও প্রচার করতে কোন বাধাদানকারীর বাধাকে পরোয়া করে না। কাফেরদের রক্তচক্ষুকে ভয় ক'রে আল্লাহর দ্বীন থেকে বৈমুখ হয় না। যেহেতু মহান আল্লাহর নির্দেশ,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَن يَرْتَدَّ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةً عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ الله وَلَا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لائِمٍ ذَلِكَ فَضْلُ الله يُؤْتِيهِ مَن يَشَاء وَاللَّهِ وَاسِعٌ عَلِيمٌ)
"হে বিশ্বাসিগণ! তোমাদের মধ্যে কেউ ধর্ম হতে ফিরে গেলে আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় আনয়ন করবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন ও যারা তাঁকে ভালবাসবে, তারা হবে বিশ্বাসীদের প্রতি কোমল ও অবিশ্বাসীদের প্রতি কঠোর। তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে এবং কোন নিন্দুকের নিন্দায় ভয় করবে না, এ আল্লাহর অনুগ্রহ যাকে ইচ্ছা তিনি দান করেন। বস্তুতঃ আল্লাহ প্রাচুর্যময়, প্রজ্ঞাময়।" ৫৫২
আবূ যার বলেছেন, 'আমাকে আমার বন্ধু সাতটি কাজের অসিয়ত করে গেছেন; (১) আমি যেন মিসকীনদেরকে ভালোবাসি এবং তাদের নিকটবর্তী হই (বসি), (২) আমার থেকে যারা নিম্নমানের তাদের প্রতি লক্ষ্য (করে উপদেশ বা সান্ত্বনা গ্রহণ) করি ও আমার থেকে যে ঊর্ধ্বে তার প্রতি লক্ষ্য না করি, (৩) আমার প্রতি অন্যায় করা হলেও আমি আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখি, (৪) বেশী বেশী 'লা হাউলা অলা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ' বলি, (৫) তিক্ত হলেও যেন হক কথা বলি, (৬) আল্লাহর ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দা-ভয় যেন আমাকে না ধরে এবং (৭) লোকেদের কাছে যেন কিছুও না চাই। ১৫৫৩
মানুষের ভয়ে বা লজ্জায় হক বলা থেকে বিরত থাকা চরিত্রবানের কাজ হতে পারে না। আল্লাহর ব্যাপারে প্রশাসনকেও ভয় নেই। যেহেতু তাঁর অবাধ্যাচরণ ক'রে কোন প্রশাসনের আনুগত্য বৈধ নয়। সে ক্ষেত্রেও হক কথা বলতে কোন নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করা চরিত্রবান মুসলিমের কাজ নয়।
আবূ অলীদ উবাদাহ ইবনে সামেত বলেন, 'আমরা রাসূলুল্লাহ এর কাছে এই মর্মে বাইয়াত করলাম যে, দুঃখে-সুখে, আরামে ও কষ্টে এবং আমাদের উপর (অন্যদেরকে) প্রাধান্য দেওয়ার অবস্থায় আমরা তাঁর পূর্ণ আনুগত্য করব। রাষ্ট্রনেতার বিরুদ্ধে তার নিকট থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার লড়াই করব না; যতক্ষণ না তোমরা (তার মধ্যে) প্রকাশ্য কুফরী দেখ, যে ব্যাপারে তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে দলীল রয়েছে। আর আমরা সর্বদা সত্য কথা বলব এবং আল্লাহর ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করব না। ১৫৫৪
হ্যাঁ, হক কথা সূর্যের মতো। মেঘ চিরে তা প্রকাশ পায়। ঢাকা থাকলেও বেশি ক্ষণ বা দিন ঢাকা থাকে না। আর মহানবী বলেছেন,
أَفْضَلُ الْجِهَادِ كَلِمَةُ عَدْلٍ عِنْدَ سُلْطَانٍ جَائِرٍ
"অত্যাচারী বাদশাহর নিকট হক কথা বলা সর্বশ্রেষ্ঠ জিহাদ।”৫৫৫
তবে খেয়াল রাখতে হবে, প্রশাসনের কাছে, একান্তে তার কর্ণকুহরে। প্রকাশ্যে লোক মাঝে নয়, জনসভা ও মিম্বরে নয়। কারণ তাও এক প্রকার নিষিদ্ধ বিদ্রোহ।
সত্য বলতে ভয় নেই। হিকমতের সাথে সত্য বলতে দোষ নেই। বাধা এলে আল্লাহর উপর ভরসা রেখে বাধাকে উল্লংঘন করা কর্তব্য চরিত্রবান দাঈর।
কবি বলেছেন, 'বিধির বিধান মানতে গিয়ে নিষেধ যদি দেয় আগল, বিশ্ব যদি কয় পাগল আছেন সত্য মাথার 'পর বেপরোয়া তুই সত্য বল, বুক ঠুকে তুই সত্য বল। (তখন) তোর পথেরই মশাল হয়ে জ্বলবে বিধির রুদ্র চোখ, বিধির বিধান সত্য হোক। বিধির বিধান সত্য হোক।'
টিকাঃ
৫৫২. সূরা মায়িদাহ: ৫৪
৫৫৩. আহমাদ ২১৪১৫, ত্বাবারানী ১৬২৬, সহীহ তারগীব ৮১১
৫৫৪. বুখারী ৭২০০, মুসলিম ৪৮৭৪
৫৫৫. আবু দাউদ ৪৩৪৬, তিরমিযী ২১৭৪, ইবনে মাজাহ ৪০১১