📄 হাসিমুখে সাক্ষাৎ
সুচরিত্রবান মানুষের সাথে সাক্ষাৎকালে মুচকি হাসে, দেখা হলে হাসিমুখে স্বাগত জানায়, সুচরিত্রবতী নিজ মাহরাম, স্বামী বা কোন মহিলার সাথে সাক্ষাৎকালে মুখে হাসি দেখায়। যেহেতু হাসিতে আছে ভালোবাসার যাদু। আর সম্প্রীতি ও বৈধ ভালোবাসার জন্য হাসির ঝিলিক খুবই প্রতিক্রিয়াশীল।
যদিও এটা খুব ছোট্ট কাজ। এ কাজে তেমন কিছু ব্যয় করতে হয় না। তবুও তা একটি সদাচরণ, একটি পুণ্যকাজ। মহানবী বলেছেন,
لَا تَحْقِرنَّ مِنَ المَعْرُوفِ شَيْئاً وَلَوْ أَنْ تَلْقَى أَخَاكَ بِوَجْهِ طَلْقٍ
"তুমি পুণ্যের কোন কাজকে তুচ্ছ মনে করো না। যদিও তুমি তোমার (মুসলিম) ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করতে পার।” (অর্থাৎ হাসিমুখে সাক্ষাৎ করাও পুণ্যের কাজ)। ৫০৯
তিনি আরো বলেছেন,
كُلُّ مَعْرُوفٍ صَدَقَةٌ وَإِنَّ مِنْ الْمَعْرُوفِ أَنْ تَلْقَى أَخَاكَ بِوَجْهِ طَلْقٍ وَأَنْ تُفْرِغَ مِنْ دَلُوكَ فِي إِنَاءِ أَخِيكَ
"প্রত্যেক কল্যাণমূলক কর্মই হল সদকাহ (করার সমতুল্য)। আর তোমার ভাইয়ের সাথে তোমার হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা এবং তোমার বালতির সাহায্যে (কুয়ো থেকে পানি তুলে) তোমার ভাইয়ের পাত্র (কলসী ইত্যাদি) ভরে দেওয়াও কল্যাণমূলক (সৎ) কর্মের পর্যায়ভুক্ত।”৫১০
পক্ষান্তরে যারা সুচরিত্রবান নয়, তারা এ কাজকে তুচ্ছজ্ঞান করে। ফলে অপরের সাথে সাক্ষাতের সময় মুখ ভার ক'রে থাকে। বাংলা পাঁচের মতো মুখটাকে বাঁকিয়ে রাখে। খুব প্রয়োজন ছাড়া সৌজন্যমূলক কোন কথা বলে না। ভালোভাবে সালামের জবাব দেয় না। ভালোভাবে মুসাফাহা করে না। সফর থেকে এলে মুআনাকা করে না। আসলে তাদের মন বড় সংকীর্ণ ও অনুদার। তাদের হৃদয়ে অপরের সাক্ষাৎ কল্যাণ বয়ে আনে না। তাদের কাছে কারো সাক্ষাৎ ও আপ্যায়ন ভারী মনে হয়। অবাঞ্ছিত লোক না হলেও তারা মনকে প্রশস্ত করতে পারে না। নিশ্চয় এমন আচরণ সচ্চরিত্রবান নারী-পুরুষের নয়।
অবাঞ্ছিত অভদ্র লোক হলেও তার সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ করার বিধান রয়েছে ইসলামে। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, এক অভদ্র ব্যক্তি আল্লাহর নবী এর সাথে সাক্ষাৎ করতে চাইল। নবী এর কাছে খবর গেলে তিনি বললেন,
ائْذَنُوا لَهُ فَلَبِئْسَ ابْنُ الْعَشِيرَةِ أَوْ بِئْسَ رَجُلُ الْعَشِيرَةِ
"ওকে অনুমতি দাও। বাজে লোক ওটা!"
তারপর তাকে প্রবেশ করার অনুমতি দিলেন। সে যখন বসল, তখন নবী তার সামনে খুশী প্রকাশ করলেন এবং নম্রভাবে কথা বলতে লাগলেন। অতঃপর লোকটি চলে গেলে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাঁকে বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! আপনি তার সম্পর্কে এই এই (কুমন্তব্য) করলেন। তারপর সে যখন ভিতরে এল, তখন তার সামনে খুশী প্রকাশ করলেন এবং নম্রভাবে কথা বলতে লাগলেন!' আল্লাহর রসূল বললেন,
يَا عَائِشَةُ إِنَّ شَرَّ النَّاسِ مَنْزِلَةً عِنْدَ اللهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ وَدَعَهُ أَوْ تَرَكَهُ النَّاسُ اتَّقَاءَ فُحْشِهِ
"হে আয়েশা! কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্টমানের ব্যক্তি সেই হবে, যাকে মানুষ তার অশ্লীলতা থেকে বাঁচার জন্য বর্জন ক'রে থাকে। "৫১১
টিকাঃ
৫০৯. মুসলিম ৬৮৫৭
৫১০. আহমাদ ১৪৮৭৭, তিরমিযী, হাকেম, সহীহুল জামে' ৪৫৫৭
৫১১. বুখারী ৬০৫৪, ৬১৩১, মুসলিম ৬৭৬১
সুচরিত্রবান মানুষের সাথে সাক্ষাৎকালে মুচকি হাসে, দেখা হলে হাসিমুখে স্বাগত জানায়, সুচরিত্রবতী নিজ মাহরাম, স্বামী বা কোন মহিলার সাথে সাক্ষাৎকালে মুখে হাসি দেখায়। যেহেতু হাসিতে আছে ভালোবাসার যাদু। আর সম্প্রীতি ও বৈধ ভালোবাসার জন্য হাসির ঝিলিক খুবই প্রতিক্রিয়াশীল।
যদিও এটা খুব ছোট্ট কাজ। এ কাজে তেমন কিছু ব্যয় করতে হয় না। তবুও তা একটি সদাচরণ, একটি পুণ্যকাজ। মহানবী বলেছেন,
لَا تَحْقِرنَّ مِنَ المَعْرُوفِ شَيْئاً وَلَوْ أَنْ تَلْقَى أَخَاكَ بِوَجْهِ طَلْقٍ
"তুমি পুণ্যের কোন কাজকে তুচ্ছ মনে করো না। যদিও তুমি তোমার (মুসলিম) ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করতে পার।” (অর্থাৎ হাসিমুখে সাক্ষাৎ করাও পুণ্যের কাজ)। ৫০৯
তিনি আরো বলেছেন,
كُلُّ مَعْرُوفٍ صَدَقَةٌ وَإِنَّ مِنْ الْمَعْرُوفِ أَنْ تَلْقَى أَخَاكَ بِوَجْهِ طَلْقٍ وَأَنْ تُفْرِغَ مِنْ دَلُوكَ فِي إِنَاءِ أَخِيكَ
"প্রত্যেক কল্যাণমূলক কর্মই হল সদকাহ (করার সমতুল্য)। আর তোমার ভাইয়ের সাথে তোমার হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা এবং তোমার বালতির সাহায্যে (কুয়ো থেকে পানি তুলে) তোমার ভাইয়ের পাত্র (কলসী ইত্যাদি) ভরে দেওয়াও কল্যাণমূলক (সৎ) কর্মের পর্যায়ভুক্ত।”৫১০
পক্ষান্তরে যারা সুচরিত্রবান নয়, তারা এ কাজকে তুচ্ছজ্ঞান করে। ফলে অপরের সাথে সাক্ষাতের সময় মুখ ভার ক'রে থাকে। বাংলা পাঁচের মতো মুখটাকে বাঁকিয়ে রাখে। খুব প্রয়োজন ছাড়া সৌজন্যমূলক কোন কথা বলে না। ভালোভাবে সালামের জবাব দেয় না। ভালোভাবে মুসাফাহা করে না। সফর থেকে এলে মুআনাকা করে না। আসলে তাদের মন বড় সংকীর্ণ ও অনুদার। তাদের হৃদয়ে অপরের সাক্ষাৎ কল্যাণ বয়ে আনে না। তাদের কাছে কারো সাক্ষাৎ ও আপ্যায়ন ভারী মনে হয়। অবাঞ্ছিত লোক না হলেও তারা মনকে প্রশস্ত করতে পারে না। নিশ্চয় এমন আচরণ সচ্চরিত্রবান নারী-পুরুষের নয়।
অবাঞ্ছিত অভদ্র লোক হলেও তার সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ করার বিধান রয়েছে ইসলামে। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, এক অভদ্র ব্যক্তি আল্লাহর নবী এর সাথে সাক্ষাৎ করতে চাইল। নবী এর কাছে খবর গেলে তিনি বললেন,
ائْذَنُوا لَهُ فَلَبِئْسَ ابْنُ الْعَشِيرَةِ أَوْ بِئْسَ رَجُلُ الْعَشِيرَةِ
"ওকে অনুমতি দাও। বাজে লোক ওটা!"
তারপর তাকে প্রবেশ করার অনুমতি দিলেন। সে যখন বসল, তখন নবী তার সামনে খুশী প্রকাশ করলেন এবং নম্রভাবে কথা বলতে লাগলেন। অতঃপর লোকটি চলে গেলে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাঁকে বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল! আপনি তার সম্পর্কে এই এই (কুমন্তব্য) করলেন। তারপর সে যখন ভিতরে এল, তখন তার সামনে খুশী প্রকাশ করলেন এবং নম্রভাবে কথা বলতে লাগলেন!' আল্লাহর রসূল বললেন,
يَا عَائِشَةُ إِنَّ شَرَّ النَّاسِ مَنْزِلَةً عِنْدَ اللهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ وَدَعَهُ أَوْ تَرَكَهُ النَّاسُ اتَّقَاءَ فُحْشِهِ
"হে আয়েশা! কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্টমানের ব্যক্তি সেই হবে, যাকে মানুষ তার অশ্লীলতা থেকে বাঁচার জন্য বর্জন ক'রে থাকে। "৫১১
টিকাঃ
৫০৯. মুসলিম ৬৮৫৭
৫১০. আহমাদ ১৪৮৭৭, তিরমিযী, হাকেম, সহীহুল জামে' ৪৫৫৭
৫১১. বুখারী ৬০৫৪, ৬১৩১, মুসলিম ৬৭৬১
📄 গিল্লাতী ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও দ্বীনী ভাইয়ের খিয়ারত
এ পৃথিবীতে আপন আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও এমন কিছু ভাই-বন্ধু থাকে, যাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ ক'রে কুশল বিনিময় করতে হয়। যাদের সাথে রক্ত, দুগ্ধ, বিবাহ, সম্পদ, স্বার্থ বা অন্য কোন সম্পর্কের বন্ধন থাকে না, থাকে শুধু দ্বীন ও ঈমানের বন্ধন, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশার আকর্ষণ। সুচরিত্রবান লোকেরা এই সম্পর্ক স্থাপন ক'রে থাকে। মহান আল্লাহর তুষ্টি বিধানের উদ্দেশ্যে আপোসে সম্প্রীতি কায়েম করে।
এই সম্প্রীতির প্রতি গুরুত্ব আরোপ ক'রে মহানবী বলেছেন,
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَا تَدْخُلُوا الجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا، وَلَا تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا، أولَا أَدُلُّكُمْ عَلَى شَيْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ ؟ أَفْشُوا السَّلامَ بينكم
“সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে! তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না; যতক্ষণ না তোমরা মু'মিন হবে। এবং তোমরা মু'মিন হতে পারবে না; যে পর্যন্ত না তোমরা পরস্পরে ভালবাসা রাখবে। আমি কি তোমাদেরকে এমন কাজ বলে দেব না, যখন তোমরা তা করবে, তখন তোমরা একে অপরকে ভালবাসতে লাগবে? তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালাম প্রচার কর।”৫১২
এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা কায়েমে রয়েছে ঈমানের স্বাদ। প্রকৃত ঈমানদারীর অনুভূতি। ঈমানী মিষ্টতার আস্বাদন। রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَجِدَ طَعْمَ الْإِيمَانِ فَلْيُحِبُّ الْمَرْءَ لَا يُحِبُّهُ إِلَّا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
“যে ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ পেতে পছন্দ করে, সে ব্যক্তি কেবল সুমহান আল্লাহর উদ্দেশ্যেই অপরকে ভালবাসুক।”৫১৩
ثَلاثُ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ بِهِنَّ حَلاوَةَ الإِيمَانِ : أَنْ يَكُونَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سَوَاهُمَا ، وَأَنْ يُحِبّ المَرْءَ لاَ يُحِبُّهُ إِلا لِلَّهِ ، وَأَنْ يَكْرَهَ أَنْ يَعُودَ فِي الكُفْرِ بَعْدَ أَنْ أَنْقَذَهُ الله مِنْهُ ، كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِي النَّارِ
“যার মধ্যে তিনটি গুণ থাকে, সে ঈমানের মিষ্টতা লাভ ক'রে থাকে। আল্লাহ ও তাঁর রসূল তার কাছে অন্য সব কিছু থেকে অধিক প্রিয় হবে; কাউকে ভালোবাসলে কেবল আল্লাহ'র জন্যই ভালবাসবে। আর কুফরী থেকে তাকে আল্লাহর বাঁচানোর পর পুনরায় তাতে ফিরে যাওয়াকে এমন অপছন্দ করবে, যেমন সে নিজেকে আগুনে নিক্ষিপ্ত করাকে অপছন্দ করে।"৫১৪
লিল্লাহী ভালোবাসা স্থাপনকারীরা আসলে আল্লাহর আওলিয়া। তাদের এমন মর্যাদা রয়েছে, যা দেখে নবী ও শহীদগণও ঈর্ষা করবেন! আল্লাহু আকবার! মহানবী বলেছেন,
إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللهِ لأُنَاسًا مَا هُمْ بِأَنْبِيَاءَ وَلَا شُهَدَاءَ يَغْبِطُهُمُ الْأَنْبِيَاءُ وَالشُّهَدَاءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِمَكَانِهِمْ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى
"কিছু লোক আছে যারা নবী নয়, শহীদও নয়। অথচ নবী ও শহীদগণ আল্লাহর নিকট তাদের মর্যাদা দেখে ঈর্ষা করবেন।" লোকেরা বলল, 'হে আল্লাহর রসূল, আমাদেরকে বলে দিন, তারা কারা?' তিনি বললেন,
هُمْ قَوْمٌ تَحَابُّوا بِرُوحِ اللَّهِ عَلَى غَيْرِ أَرْحَامٍ بَيْنَهُمْ وَلَا أَمْوَالٍ يَتَعَاطَوْنَهَا فَوَاللَّهِ إِنَّ وُجُوهَهُمْ لَنُورٌ وَإِنَّهُمْ عَلَى نُورٍ لاَ يَخَافُونَ إِذَا خَافَ النَّاسُ وَلَا يَحْزَنُونَ إِذَا حَزِنَ النَّاسُ
"ঐ লোক হল তারা, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আপোসে বন্ধুত্ব কায়েম করে; যাদের মাঝে কোন আত্মীয়তার বন্ধন থাকে না এবং থাকে না কোন অর্থের লেনদেন। আল্লাহর কসম! তাদের মুখমণ্ডল হবে জ্যোতির্ময়। তারা নূরের মাঝে অবস্থান করবে। লোকেরা যখন ভীত-সন্ত্রস্ত হবে, তখন তারা কোন ভয় পাবে না এবং লোকেরা যখন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে, তখন তাদের কোন দুশ্চিন্তা থাকবে না।" অতঃপর তিনি পাঠ করলেন,
أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ - الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ - لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ لَا تَبْدِيلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ)
'সতর্ক হও! নিশ্চয় যারা আল্লাহর বন্ধু, তাদের কোন ভয় নেই। তারা দুঃখিতও হবে না। যারা মুমিন এবং পরহেযগার। তাদের জন্য ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনে রয়েছে সুসংবাদ। আল্লাহর বাক্যাবলীর কোন পরিবর্তন নেই। এটাই হল মহাসাফল্য।”৫১৫
তাদের মুখমণ্ডল হবে জ্যোতির্ময়, তারা অবস্থান করবে জ্যোতির মেম্বরে। মহানবী বলেছেন,
قَالَ اللهُ - عَزَّ وَجَلَّ : المُتَحَابُّونَ فِي جَلالِي ، لَهُمْ مَنَابِرُ مِنْ نُورٍ يَغْبِطُهُمُ النَّبِيُّونَ وَالشُّهَدَاءُ
"আল্লাহ আয্যা অজাল্ল বলেন, 'আমার মর্যাদার ওয়াস্তে যারা আপোসে ভালবাসা স্থাপন করবে, তাদের (বসার) জন্য হবে নূরের মেম্বর; যা দেখে নবী ও শহীদগণ ঈর্ষা করবেন।"৫১৬
আল্লাহর ওয়াস্তে বন্ধুত্ব স্থাপনে রয়েছে আরো একটি পুরস্কার কিয়ামতের ছায়াহীন ময়দানে, মহা পুরস্কার। মহানবী বলেছেন,
سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللهُ فِي ظِلِّهِ يَوْمَ لاَ ظِلَّ إِلا ظِلُّهُ : (منهم) رَجُلَانِ تَحَابًا فِي اللهِ اجْتَمَعًا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ
"আল্লাহ সাত ব্যক্তিকে সেই দিনে তাঁর (আরশের) ছায়া দান করবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোন ছায়া থাকবে না; (তাদের মধ্যে হল,) সেই দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে বন্ধুত্ব ও ভালবাসা স্থাপন করে; যারা এই ভালবাসার উপর মিলিত হয় এবং এই ভালবাসার উপরেই চিরবিচ্ছিন্ন (তাদের মৃত্যু) হয়।”৫১৭
إِنَّ الله تَعَالَى يَقُولُ يَوْمَ القِيَامَةِ : أَيْنَ المُتَحَابُّونَ بِجَلَالِي ؟ اليَوْمَ أُظِلُّهُمْ فِي ظِلِّي يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلِّي
"আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন বলবেন, 'আমার মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্য পরস্পরকে যারা ভালবেসেছিল তারা কোথায়? আজকের দিন আমি তাদেরকে আমার ছায়ায় আশ্রয় দেব, যেদিন আমার (আরশের) ছায়া ছাড়া অন্য কোন ছায়া নেই। "৫১৮
আল্লাহু আকবার! কোনও সুচরিত্রবান পুরুষ কি এমন বন্ধুত্ব স্থাপনে কুণ্ঠাবোধ করতে পারে, কোনও সুচরিত্রবতী মহিলা কি এমন বান্ধবীর অনুসন্ধান না ক'রে জীবন অতিবাহিত করতে পারে?
চরিত্রবান মুসলিম চরিত্রবান মুসলিমের সাথে লিল্লাহী ভ্রাতৃত্ব কায়েম করে এবং চরিত্রবতী সুশীলা চরিত্রবতী সুশীলার সাথে লিল্লাহী বোন হিসাবে নির্বাচন ক'রে থাকে। আর এই সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য তারা আপোসে যিয়ারত ক'রে থাকে।
এই যিয়ারতে গিয়ে তারা সুখ-দুঃখের কথা বলে।
মহান আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার কথা বলে।
একে অপরকে সদুপদেশ দান করে।
দ্বীনের ব্যাপারে পরস্পর সহযোগিতার কথা বলে।
পরস্পরের দুরবস্থায় সাহায্য-সহযোগিতা করে।
রোগে-দুঃখে-শোকে পরস্পরকে সান্ত্বনা দেয়।
সৎপথে প্রতিষ্ঠিত থাকার ব্যাপারে অথবা সাংসারিক কোন সুবিধা-অসুবিধার ব্যাপারে শলাপরামর্শ করে। ইত্যাদি।
লিল্লাহী এই যিয়ারতের মাহাত্ম্য রয়েছে ইসলামে।
আবূ ইদ্রীস খাওলানী (রঃ) বলেন, আমি দিমাঙ্কের মসজিদে প্রবেশ ক'রে এক যুবককে দেখতে পেলাম, তাঁর সামনের দাঁতগুলি খুবই চকচকে এবং তাঁর সঙ্গে কিছু লোকও (বসে) রয়েছে। যখন তারা কোন বিষয়ে মতভেদ করছে, তখন (সিদ্ধান্তের জন্য) তাঁর দিকে রুজু করছে এবং তাঁর মত গ্রহণ করছে। সুতরাং আমি তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম (যে, ইনি কে)? (আমাকে) বলা হল যে, 'ইনি মুআয বিন জাবাল।' অতঃপর আগামী কাল আমি আগেভাগেই মসজিদে গেলাম। কিন্তু দেখলাম সেই (যুবকটি) আমার আগেই পৌঁছে গেছেন এবং তাঁকে স্বলাতরত অবস্থায় পেলাম। সুতরাং তাঁর স্বলাত শেষ হওয়া পর্যন্ত আমি অপেক্ষা করলাম। অতঃপর আমি তাঁর সামনে এসে তাঁকে সালাম দিলাম। তারপর বললাম, 'আল্লাহর কসম! আমি আপনাকে আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসি।' তিনি বললেন, 'আল্লাহর কসম?' আমি বললাম, 'আল্লাহর কসম।' পুনরায় তিনি বললেন, 'আল্লাহর কসম?' আমি বললাম, 'আল্লাহর কসম।' অতঃপর তিনি আমার চাদরের আঁচল ধরে আমাকে তাঁর দিকে টানলেন, তারপর বললেন, 'সুসংবাদ নাও।' কারণ, আমি রাসূলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি,
قَالَ الله تَعَالَى : وَجَبَتْ مَحَبَّتِي لِلْمُتَحَابِّيْنَ فِيَّ ، وَالمُتَجَالِسِينَ فِي ، وَالمُتَزَاوِرِينَ فِي وَالمُتَبَاذِلِينَ فِي
'আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য যারা পরস্পরের মধ্যে মহব্বত রাখে, একে অপরের সঙ্গে বসে, একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং একে অপরের জন্য খরচ করে, তাদের জন্য আমার মহব্বত ও ভালবাসা ওয়াজেব হয়ে যায়।”৫১৯
মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কাউকে ভালোবাসলে এবং সে কথা তাকে জানালে আল্লাহর ভালোবাসার দুআ পাওয়া যায়।
আনাস বলেন, এক ব্যক্তি নবী এর নিকট (বসে) ছিল। অতঃপর এক ব্যক্তি তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করল। (যে বসেছিল) সে বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! নিঃসন্দেহে আমি একে ভালবাসি।' (এ কথা শুনে) নবী তাকে বললেন, "তুমি কি (এ কথা) তাকে জানিয়েছ?” সে বলল, 'না।' তিনি বললেন, "তাকে জানিয়ে দাও।" সুতরাং সে (দ্রুত) তার পিছনে গিয়ে (তাকে) বলল, 'আমি আল্লাহর ওয়াস্তে তোমাকে ভালবাসি।' সে বলল, 'যাঁর ওয়াস্তে তুমি আমাকে ভালবাসো, তিনি তোমাকে ভালবাসুন। ৫২০
হ্যাঁ, আল্লাহর উদ্দেশ্যে কাউকে ভালোবাসলে আল্লাহর ভালোবাসা লাভ হয়। কর্মের অনুরূপ এমন সুফল লাভ করে চরিত্রবানেরা। মহানবী বলেছেন,
أَنَّ رَجُلاً زَارَ أَخَاً لَهُ فِي قَرْيَةٍ أُخْرَى ، فَأَرْصَدَ اللَّهُ تَعَالَى عَلَى مَدْرَجَتِهِ مَلَكاً ، فَلَمَّا أَتَى عَلَيْهِ ، قَالَ : أَيْنَ تُرِيدُ ؟ قَالَ : أُريدُ أخاً لي في هذِهِ الْقَرْيَةِ | قَالَ : هَلْ لَكَ عَلَيْهِ مِنْ نِعْمَةٍ تَرُبُّهَا عَلَيْهِ ؟ قَالَ : لا ، غَيْرَ أَنِّي أَحْبَبْتُهُ فِي الله تَعَالَى ، قَالَ : فَإِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكَ بِأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَبَّكَ كَمَا أَحْبَبْتَهُ فِيهِ
"এক ব্যক্তি অন্য কোন গ্রামে তার ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য বের হল। আল্লাহ তাআলা তার রাস্তায় এক ফিরিস্তাকে বসিয়ে দিলেন, তিনি তার অপেক্ষা করতে থাকলেন। যখন সে তাঁর কাছে পৌঁছল, তখন তিনি তাকে বললেন, 'তুমি কোথায় যাচ্ছ?' সে বলল, 'এ লোকালয়ে আমার এক ভাই আছে, আমি তার কাছে যাচ্ছি।' ফিরিস্তা জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার প্রতি কি তার কোন অনুগ্রহ রয়েছে, যার বিনিময় দেওয়ার জন্য তুমি যাচ্ছ?' সে বলল, 'না, আমি তার নিকট কেবলমাত্র এই জন্য যাচ্ছি যে, আমি তাকে আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসি।' ফিরিস্তা বললেন, '(তাহলে শোনো) আমি তোমার নিকট আল্লাহর দূত হিসাবে (এ কথা জানাবার জন্য) এসেছি যে, আল্লাহ তাআলা তোমাকে ভালবাসেন; যেমন তুমি তাকে আল্লাহর জন্য ভালবাস।”৫২১
এমন ভালোবাসার ফলে আপোসের যিয়ারত-যাত্রায় ফিরিশতার দুআ লাভ হয়। এমন বন্ধুত্বের সাক্ষাৎ হল সুখময়, এমন ভ্রাতৃত্বের পরিণামে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে চলার পথ হল বেহেস্তের পথ। মহানবী বলেছেন,
مَنْ عَادَ مَرِيضاً أَوْ زَارَ أخاً لَهُ فِي اللهِ ، نَادَاهُ مُنَادٍ : بِأَنْ طِبْتَ ، وَطَابَ مَمْشَاكَ ، وَتَبَوَّأْتَ مِنَ الْجَنَّةِ مَنْزِلاً
"যে ব্যক্তি কোন রোগীকে সাক্ষাৎ করে জিজ্ঞাসাবাদ করে অথবা তার কোন লিল্লাহী ভাইকে সাক্ষাৎ করে, সে ব্যক্তিকে এক (গায়বী) আহবানকারী আহবান ক'রে বলে, 'সুখী হও তুমি, সুখকর হোক তোমার ঐ যাত্রা (সাক্ষাতের জন্য যাওয়া)। আর তোমার স্থান হোক জান্নাতের প্রাসাদে।"৫২২
এরই বিপরীত প্রবাহে ভেবে দেখতে পারেন দুশ্চরিত্র যুবক-যুবতী প্রেমিক-প্রেমিকাদের কথা, যাদের ভালোবাসা আল্লাহর ওয়াস্তে নয়। যাদের ভালোবাসা হয় বিপরীতমুখী, যুবক-যুবতীর মাঝে অবৈধ ভালোবাসা, যৌবনের উন্মাদনা, রূপমুগ্ধতা অথবা অর্থলোভ তাদের ভালোবাসার কারণ হয়। তারা অবৈধভাবে মেলামিশা করে, লুকোচুরি ক'রে দেখা-সাক্ষাৎ করে অথবা নির্লজ্জ হয়ে প্রকাশ্যে কোন পার্ক, বনভূমি বা সমুদ্র-সৈকতে মিলিত হয়। তারা চায় তাদের চরিত্র যাক, কিন্তু ভালোবাসা অনির্বান হোক। তাদের ভালোবাসা হয় নিজেদের মনের খেয়ালখুশীকে বিজয়মাল্য দান করার জন্য। সুতরাং ধিক্ তাদেরকে শত ধিক্!
টিকাঃ
৫১২. মুসলিম ২০০
৫১৩. আহমাদ, হাকেম ৩, ৭৩১২, সহীহুল জামে' ৫৯৫৮
৫১৪. বুখারী ১৬, মুসলিম ১৭৪
৫১৫. সূরা ইউনুস ৬২-৬৪ আয়াত, আবু দাউদ ৩৫২৯
৫১৬. তিরমিযী ২৩৯০. আহমাদ ২২০৮০
৫১৭. বুখারী ৬৬০, মুসলিম ২৪২৭
৫১৮. মুসলিম ৬৭১৩
৫১৯. আহমাদ ২২০৩০, মুঅত্তা ১৭৭৯, ত্বাবারানী, হাকেম, সহীহুল জামে' ৪৩৩১
৫২০. আবু দাউদ ৫১২৭
৫২১. মুসলিম ৬৭১৪
৫২২. তিরমিযী ২০০৮
এ পৃথিবীতে আপন আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও এমন কিছু ভাই-বন্ধু থাকে, যাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ ক'রে কুশল বিনিময় করতে হয়। যাদের সাথে রক্ত, দুগ্ধ, বিবাহ, সম্পদ, স্বার্থ বা অন্য কোন সম্পর্কের বন্ধন থাকে না, থাকে শুধু দ্বীন ও ঈমানের বন্ধন, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশার আকর্ষণ। সুচরিত্রবান লোকেরা এই সম্পর্ক স্থাপন ক'রে থাকে। মহান আল্লাহর তুষ্টি বিধানের উদ্দেশ্যে আপোসে সম্প্রীতি কায়েম করে।
এই সম্প্রীতির প্রতি গুরুত্ব আরোপ ক'রে মহানবী বলেছেন,
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَا تَدْخُلُوا الجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا، وَلَا تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا، أولَا أَدُلُّكُمْ عَلَى شَيْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ ؟ أَفْشُوا السَّلامَ بينكم
“সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে! তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না; যতক্ষণ না তোমরা মু'মিন হবে। এবং তোমরা মু'মিন হতে পারবে না; যে পর্যন্ত না তোমরা পরস্পরে ভালবাসা রাখবে। আমি কি তোমাদেরকে এমন কাজ বলে দেব না, যখন তোমরা তা করবে, তখন তোমরা একে অপরকে ভালবাসতে লাগবে? তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালাম প্রচার কর।”৫১২
এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা কায়েমে রয়েছে ঈমানের স্বাদ। প্রকৃত ঈমানদারীর অনুভূতি। ঈমানী মিষ্টতার আস্বাদন। রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَجِدَ طَعْمَ الْإِيمَانِ فَلْيُحِبُّ الْمَرْءَ لَا يُحِبُّهُ إِلَّا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
“যে ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ পেতে পছন্দ করে, সে ব্যক্তি কেবল সুমহান আল্লাহর উদ্দেশ্যেই অপরকে ভালবাসুক।”৫১৩
ثَلاثُ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ بِهِنَّ حَلاوَةَ الإِيمَانِ : أَنْ يَكُونَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سَوَاهُمَا ، وَأَنْ يُحِبّ المَرْءَ لاَ يُحِبُّهُ إِلا لِلَّهِ ، وَأَنْ يَكْرَهَ أَنْ يَعُودَ فِي الكُفْرِ بَعْدَ أَنْ أَنْقَذَهُ الله مِنْهُ ، كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِي النَّارِ
“যার মধ্যে তিনটি গুণ থাকে, সে ঈমানের মিষ্টতা লাভ ক'রে থাকে। আল্লাহ ও তাঁর রসূল তার কাছে অন্য সব কিছু থেকে অধিক প্রিয় হবে; কাউকে ভালোবাসলে কেবল আল্লাহ'র জন্যই ভালবাসবে। আর কুফরী থেকে তাকে আল্লাহর বাঁচানোর পর পুনরায় তাতে ফিরে যাওয়াকে এমন অপছন্দ করবে, যেমন সে নিজেকে আগুনে নিক্ষিপ্ত করাকে অপছন্দ করে।"৫১৪
লিল্লাহী ভালোবাসা স্থাপনকারীরা আসলে আল্লাহর আওলিয়া। তাদের এমন মর্যাদা রয়েছে, যা দেখে নবী ও শহীদগণও ঈর্ষা করবেন! আল্লাহু আকবার! মহানবী বলেছেন,
إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللهِ لأُنَاسًا مَا هُمْ بِأَنْبِيَاءَ وَلَا شُهَدَاءَ يَغْبِطُهُمُ الْأَنْبِيَاءُ وَالشُّهَدَاءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِمَكَانِهِمْ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى
"কিছু লোক আছে যারা নবী নয়, শহীদও নয়। অথচ নবী ও শহীদগণ আল্লাহর নিকট তাদের মর্যাদা দেখে ঈর্ষা করবেন।" লোকেরা বলল, 'হে আল্লাহর রসূল, আমাদেরকে বলে দিন, তারা কারা?' তিনি বললেন,
هُمْ قَوْمٌ تَحَابُّوا بِرُوحِ اللَّهِ عَلَى غَيْرِ أَرْحَامٍ بَيْنَهُمْ وَلَا أَمْوَالٍ يَتَعَاطَوْنَهَا فَوَاللَّهِ إِنَّ وُجُوهَهُمْ لَنُورٌ وَإِنَّهُمْ عَلَى نُورٍ لاَ يَخَافُونَ إِذَا خَافَ النَّاسُ وَلَا يَحْزَنُونَ إِذَا حَزِنَ النَّاسُ
"ঐ লোক হল তারা, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আপোসে বন্ধুত্ব কায়েম করে; যাদের মাঝে কোন আত্মীয়তার বন্ধন থাকে না এবং থাকে না কোন অর্থের লেনদেন। আল্লাহর কসম! তাদের মুখমণ্ডল হবে জ্যোতির্ময়। তারা নূরের মাঝে অবস্থান করবে। লোকেরা যখন ভীত-সন্ত্রস্ত হবে, তখন তারা কোন ভয় পাবে না এবং লোকেরা যখন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে, তখন তাদের কোন দুশ্চিন্তা থাকবে না।" অতঃপর তিনি পাঠ করলেন,
أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ - الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ - لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ لَا تَبْدِيلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ)
'সতর্ক হও! নিশ্চয় যারা আল্লাহর বন্ধু, তাদের কোন ভয় নেই। তারা দুঃখিতও হবে না। যারা মুমিন এবং পরহেযগার। তাদের জন্য ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনে রয়েছে সুসংবাদ। আল্লাহর বাক্যাবলীর কোন পরিবর্তন নেই। এটাই হল মহাসাফল্য।”৫১৫
তাদের মুখমণ্ডল হবে জ্যোতির্ময়, তারা অবস্থান করবে জ্যোতির মেম্বরে। মহানবী বলেছেন,
قَالَ اللهُ - عَزَّ وَجَلَّ : المُتَحَابُّونَ فِي جَلالِي ، لَهُمْ مَنَابِرُ مِنْ نُورٍ يَغْبِطُهُمُ النَّبِيُّونَ وَالشُّهَدَاءُ
"আল্লাহ আয্যা অজাল্ল বলেন, 'আমার মর্যাদার ওয়াস্তে যারা আপোসে ভালবাসা স্থাপন করবে, তাদের (বসার) জন্য হবে নূরের মেম্বর; যা দেখে নবী ও শহীদগণ ঈর্ষা করবেন।"৫১৬
আল্লাহর ওয়াস্তে বন্ধুত্ব স্থাপনে রয়েছে আরো একটি পুরস্কার কিয়ামতের ছায়াহীন ময়দানে, মহা পুরস্কার। মহানবী বলেছেন,
سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللهُ فِي ظِلِّهِ يَوْمَ لاَ ظِلَّ إِلا ظِلُّهُ : (منهم) رَجُلَانِ تَحَابًا فِي اللهِ اجْتَمَعًا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ
"আল্লাহ সাত ব্যক্তিকে সেই দিনে তাঁর (আরশের) ছায়া দান করবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোন ছায়া থাকবে না; (তাদের মধ্যে হল,) সেই দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে বন্ধুত্ব ও ভালবাসা স্থাপন করে; যারা এই ভালবাসার উপর মিলিত হয় এবং এই ভালবাসার উপরেই চিরবিচ্ছিন্ন (তাদের মৃত্যু) হয়।”৫১৭
إِنَّ الله تَعَالَى يَقُولُ يَوْمَ القِيَامَةِ : أَيْنَ المُتَحَابُّونَ بِجَلَالِي ؟ اليَوْمَ أُظِلُّهُمْ فِي ظِلِّي يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلِّي
"আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন বলবেন, 'আমার মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্য পরস্পরকে যারা ভালবেসেছিল তারা কোথায়? আজকের দিন আমি তাদেরকে আমার ছায়ায় আশ্রয় দেব, যেদিন আমার (আরশের) ছায়া ছাড়া অন্য কোন ছায়া নেই। "৫১৮
আল্লাহু আকবার! কোনও সুচরিত্রবান পুরুষ কি এমন বন্ধুত্ব স্থাপনে কুণ্ঠাবোধ করতে পারে, কোনও সুচরিত্রবতী মহিলা কি এমন বান্ধবীর অনুসন্ধান না ক'রে জীবন অতিবাহিত করতে পারে?
চরিত্রবান মুসলিম চরিত্রবান মুসলিমের সাথে লিল্লাহী ভ্রাতৃত্ব কায়েম করে এবং চরিত্রবতী সুশীলা চরিত্রবতী সুশীলার সাথে লিল্লাহী বোন হিসাবে নির্বাচন ক'রে থাকে। আর এই সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য তারা আপোসে যিয়ারত ক'রে থাকে।
এই যিয়ারতে গিয়ে তারা সুখ-দুঃখের কথা বলে।
মহান আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার কথা বলে।
একে অপরকে সদুপদেশ দান করে।
দ্বীনের ব্যাপারে পরস্পর সহযোগিতার কথা বলে।
পরস্পরের দুরবস্থায় সাহায্য-সহযোগিতা করে।
রোগে-দুঃখে-শোকে পরস্পরকে সান্ত্বনা দেয়।
সৎপথে প্রতিষ্ঠিত থাকার ব্যাপারে অথবা সাংসারিক কোন সুবিধা-অসুবিধার ব্যাপারে শলাপরামর্শ করে। ইত্যাদি।
লিল্লাহী এই যিয়ারতের মাহাত্ম্য রয়েছে ইসলামে।
আবূ ইদ্রীস খাওলানী (রঃ) বলেন, আমি দিমাঙ্কের মসজিদে প্রবেশ ক'রে এক যুবককে দেখতে পেলাম, তাঁর সামনের দাঁতগুলি খুবই চকচকে এবং তাঁর সঙ্গে কিছু লোকও (বসে) রয়েছে। যখন তারা কোন বিষয়ে মতভেদ করছে, তখন (সিদ্ধান্তের জন্য) তাঁর দিকে রুজু করছে এবং তাঁর মত গ্রহণ করছে। সুতরাং আমি তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম (যে, ইনি কে)? (আমাকে) বলা হল যে, 'ইনি মুআয বিন জাবাল।' অতঃপর আগামী কাল আমি আগেভাগেই মসজিদে গেলাম। কিন্তু দেখলাম সেই (যুবকটি) আমার আগেই পৌঁছে গেছেন এবং তাঁকে স্বলাতরত অবস্থায় পেলাম। সুতরাং তাঁর স্বলাত শেষ হওয়া পর্যন্ত আমি অপেক্ষা করলাম। অতঃপর আমি তাঁর সামনে এসে তাঁকে সালাম দিলাম। তারপর বললাম, 'আল্লাহর কসম! আমি আপনাকে আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসি।' তিনি বললেন, 'আল্লাহর কসম?' আমি বললাম, 'আল্লাহর কসম।' পুনরায় তিনি বললেন, 'আল্লাহর কসম?' আমি বললাম, 'আল্লাহর কসম।' অতঃপর তিনি আমার চাদরের আঁচল ধরে আমাকে তাঁর দিকে টানলেন, তারপর বললেন, 'সুসংবাদ নাও।' কারণ, আমি রাসূলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি,
قَالَ الله تَعَالَى : وَجَبَتْ مَحَبَّتِي لِلْمُتَحَابِّيْنَ فِيَّ ، وَالمُتَجَالِسِينَ فِي ، وَالمُتَزَاوِرِينَ فِي وَالمُتَبَاذِلِينَ فِي
'আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য যারা পরস্পরের মধ্যে মহব্বত রাখে, একে অপরের সঙ্গে বসে, একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং একে অপরের জন্য খরচ করে, তাদের জন্য আমার মহব্বত ও ভালবাসা ওয়াজেব হয়ে যায়।”৫১৯
মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কাউকে ভালোবাসলে এবং সে কথা তাকে জানালে আল্লাহর ভালোবাসার দুআ পাওয়া যায়।
আনাস বলেন, এক ব্যক্তি নবী এর নিকট (বসে) ছিল। অতঃপর এক ব্যক্তি তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করল। (যে বসেছিল) সে বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! নিঃসন্দেহে আমি একে ভালবাসি।' (এ কথা শুনে) নবী তাকে বললেন, "তুমি কি (এ কথা) তাকে জানিয়েছ?” সে বলল, 'না।' তিনি বললেন, "তাকে জানিয়ে দাও।" সুতরাং সে (দ্রুত) তার পিছনে গিয়ে (তাকে) বলল, 'আমি আল্লাহর ওয়াস্তে তোমাকে ভালবাসি।' সে বলল, 'যাঁর ওয়াস্তে তুমি আমাকে ভালবাসো, তিনি তোমাকে ভালবাসুন। ৫২০
হ্যাঁ, আল্লাহর উদ্দেশ্যে কাউকে ভালোবাসলে আল্লাহর ভালোবাসা লাভ হয়। কর্মের অনুরূপ এমন সুফল লাভ করে চরিত্রবানেরা। মহানবী বলেছেন,
أَنَّ رَجُلاً زَارَ أَخَاً لَهُ فِي قَرْيَةٍ أُخْرَى ، فَأَرْصَدَ اللَّهُ تَعَالَى عَلَى مَدْرَجَتِهِ مَلَكاً ، فَلَمَّا أَتَى عَلَيْهِ ، قَالَ : أَيْنَ تُرِيدُ ؟ قَالَ : أُريدُ أخاً لي في هذِهِ الْقَرْيَةِ | قَالَ : هَلْ لَكَ عَلَيْهِ مِنْ نِعْمَةٍ تَرُبُّهَا عَلَيْهِ ؟ قَالَ : لا ، غَيْرَ أَنِّي أَحْبَبْتُهُ فِي الله تَعَالَى ، قَالَ : فَإِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكَ بِأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَبَّكَ كَمَا أَحْبَبْتَهُ فِيهِ
"এক ব্যক্তি অন্য কোন গ্রামে তার ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য বের হল। আল্লাহ তাআলা তার রাস্তায় এক ফিরিস্তাকে বসিয়ে দিলেন, তিনি তার অপেক্ষা করতে থাকলেন। যখন সে তাঁর কাছে পৌঁছল, তখন তিনি তাকে বললেন, 'তুমি কোথায় যাচ্ছ?' সে বলল, 'এ লোকালয়ে আমার এক ভাই আছে, আমি তার কাছে যাচ্ছি।' ফিরিস্তা জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার প্রতি কি তার কোন অনুগ্রহ রয়েছে, যার বিনিময় দেওয়ার জন্য তুমি যাচ্ছ?' সে বলল, 'না, আমি তার নিকট কেবলমাত্র এই জন্য যাচ্ছি যে, আমি তাকে আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসি।' ফিরিস্তা বললেন, '(তাহলে শোনো) আমি তোমার নিকট আল্লাহর দূত হিসাবে (এ কথা জানাবার জন্য) এসেছি যে, আল্লাহ তাআলা তোমাকে ভালবাসেন; যেমন তুমি তাকে আল্লাহর জন্য ভালবাস।”৫২১
এমন ভালোবাসার ফলে আপোসের যিয়ারত-যাত্রায় ফিরিশতার দুআ লাভ হয়। এমন বন্ধুত্বের সাক্ষাৎ হল সুখময়, এমন ভ্রাতৃত্বের পরিণামে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে চলার পথ হল বেহেস্তের পথ। মহানবী বলেছেন,
مَنْ عَادَ مَرِيضاً أَوْ زَارَ أخاً لَهُ فِي اللهِ ، نَادَاهُ مُنَادٍ : بِأَنْ طِبْتَ ، وَطَابَ مَمْشَاكَ ، وَتَبَوَّأْتَ مِنَ الْجَنَّةِ مَنْزِلاً
"যে ব্যক্তি কোন রোগীকে সাক্ষাৎ করে জিজ্ঞাসাবাদ করে অথবা তার কোন লিল্লাহী ভাইকে সাক্ষাৎ করে, সে ব্যক্তিকে এক (গায়বী) আহবানকারী আহবান ক'রে বলে, 'সুখী হও তুমি, সুখকর হোক তোমার ঐ যাত্রা (সাক্ষাতের জন্য যাওয়া)। আর তোমার স্থান হোক জান্নাতের প্রাসাদে।"৫২২
এরই বিপরীত প্রবাহে ভেবে দেখতে পারেন দুশ্চরিত্র যুবক-যুবতী প্রেমিক-প্রেমিকাদের কথা, যাদের ভালোবাসা আল্লাহর ওয়াস্তে নয়। যাদের ভালোবাসা হয় বিপরীতমুখী, যুবক-যুবতীর মাঝে অবৈধ ভালোবাসা, যৌবনের উন্মাদনা, রূপমুগ্ধতা অথবা অর্থলোভ তাদের ভালোবাসার কারণ হয়। তারা অবৈধভাবে মেলামিশা করে, লুকোচুরি ক'রে দেখা-সাক্ষাৎ করে অথবা নির্লজ্জ হয়ে প্রকাশ্যে কোন পার্ক, বনভূমি বা সমুদ্র-সৈকতে মিলিত হয়। তারা চায় তাদের চরিত্র যাক, কিন্তু ভালোবাসা অনির্বান হোক। তাদের ভালোবাসা হয় নিজেদের মনের খেয়ালখুশীকে বিজয়মাল্য দান করার জন্য। সুতরাং ধিক্ তাদেরকে শত ধিক্!
টিকাঃ
৫১২. মুসলিম ২০০
৫১৩. আহমাদ, হাকেম ৩, ৭৩১২, সহীহুল জামে' ৫৯৫৮
৫১৪. বুখারী ১৬, মুসলিম ১৭৪
৫১৫. সূরা ইউনুস ৬২-৬৪ আয়াত, আবু দাউদ ৩৫২৯
৫১৬. তিরমিযী ২৩৯০. আহমাদ ২২০৮০
৫১৭. বুখারী ৬৬০, মুসলিম ২৪২৭
৫১৮. মুসলিম ৬৭১৩
৫১৯. আহমাদ ২২০৩০, মুঅত্তা ১৭৭৯, ত্বাবারানী, হাকেম, সহীহুল জামে' ৪৩৩১
৫২০. আবু দাউদ ৫১২৭
৫২১. মুসলিম ৬৭১৪
৫২২. তিরমিযী ২০০৮
📄 মেহমানের সম্মান করা
মেহমানের মান-সম্মান ও খাতির করা সচ্চরিত্র মানুষের আচরণ। বরণে ও আপ্যায়নে কথায় ও আচরণে যে মেহমানের সম্মান বজায় রাখে, সে নিশ্চয়ই চরিত্রবান লোক। যথাসাধ্য থাকা ও খাওয়ার সুবন্দোবস্ত যে করে, সে অবশ্যই সুচরিত্রের অধিকারী।
সবচেয়ে বড় চরিত্রবান মানুষ আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখতেন, সত্য কথা বলতেন, (অপরের) বোঝা বইয়ে দিতেন, মেহমানের খাতির করতেন এবং বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করতেন। '৫২৩
তাঁর পূর্বে মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহীম এর মেহমানের খাতির করার কথা কুরআনে উল্লেখ হয়েছে সূরা হূদের ৭৮ এবং সূরা যারিয়াতের ২৪-২৭ আয়াতে।
মেহমানের খাতির করা প্রত্যেক মুসলিমের কাজ। প্রত্যেক মুসলিমের উচিত, এ কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে চরিত্রবান হওয়া। মহানবী বলেছেন,
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ جَائِزَتَهُ
"যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন অবশ্যই মেহমানের পারিতোষিকসহ তার সম্মান করে।" লোকেরা বলল, 'তার পারিতোষিক কী? হে আল্লাহর রসূল!' তিনি বললেন,
يَوْمُهُ وَلَيْلَتُهُ ، وَالضَّيَافَةُ ثَلاثَةُ أَيَّامٍ ، فَمَا كَانَ وَرَاءَ ذَلِكَ فَهُوَ صَدَقَةٌ عَلَيْهِ
"একদিন ও একরাত (উত্তমভাবে পানাহারের ব্যবস্থা করা)। আর সাধারণতঃ মেহমানের খাতির তিন দিন পর্যন্ত। (অতঃপর স্বেচ্ছায় তার চলে যাওয়া উচিত)। তিনদিনের অতিরিক্ত হবে মেযবানের জন্য সাদকাহ স্বরূপ।"৫২৪
মেহমানের সাথে সুন্দর আচরণ প্রদর্শন করতে পারলে তার মন জয় করা যায়। হাসিমুখে বরণ ক'রে সাধ্যমতো তার আপ্যায়ন করলে সে কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ হয়ে যায়। পক্ষান্তরে এর বিপরীত করলে সে দূরে সরে যায়।
লক্ষণীয় যে, বর্তমানে বহু সংগঠন দাওয়াতের ময়দানে কাজ করছে। কিন্তু মানুষ সেই সংগঠনের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে, যার সদস্যগণ সুচরিত্রের ও অমায়িক ব্যবহারের অধিকারী। যাদের কোন অফিসে অথবা কারো বাসায় গেলে সুন্দরভাবে আপ্যায়ন করে। অথচ সহীহ আকীদার কোন অফিস বা সদস্যের বাড়িতে যান, সেখানে তেমন আগ্রহ লক্ষ্য করবেন না---ইল্লা মা শাআল্লাহ। পরন্তু দাওয়াতের ময়দানে এই শ্রেণীর সচ্চরিত্রতা প্রদর্শন খুব বেশি ফলপ্রসূ।
যদি বলেন, 'কারো সে আপ্যায়নের সামর্থ্য না থাকলে কী করতে পারে?' তাহলে বলব, 'আদরের ভোজন, কী করে ব্যঞ্জন?' সাধ্যমতো ভোজন দিয়ে আদর প্রদর্শন করলেও ফল মন্দ হয় না।
মেহমান-নেওয়াযী সুচরিত্রের অন্যতম লক্ষণ। অনুরূপ সময় ও অবস্থা খেয়াল ক'রে অপরের মেহমান হওয়া এবং অপ্রয়োজনে তার বোঝা না হওয়াও সুচরিত্রবান মানুষের কর্তব্য।
টিকাঃ
৫২৩. বুখারী ৩, মুসলিম ৪২২
৫২৪. বুখারী ৬০১৯, ৬১৩৫, মুসলিম ৪৬১১-৪৬১২
মেহমানের মান-সম্মান ও খাতির করা সচ্চরিত্র মানুষের আচরণ। বরণে ও আপ্যায়নে কথায় ও আচরণে যে মেহমানের সম্মান বজায় রাখে, সে নিশ্চয়ই চরিত্রবান লোক। যথাসাধ্য থাকা ও খাওয়ার সুবন্দোবস্ত যে করে, সে অবশ্যই সুচরিত্রের অধিকারী।
সবচেয়ে বড় চরিত্রবান মানুষ আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখতেন, সত্য কথা বলতেন, (অপরের) বোঝা বইয়ে দিতেন, মেহমানের খাতির করতেন এবং বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করতেন। '৫২৩
তাঁর পূর্বে মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহীম এর মেহমানের খাতির করার কথা কুরআনে উল্লেখ হয়েছে সূরা হূদের ৭৮ এবং সূরা যারিয়াতের ২৪-২৭ আয়াতে।
মেহমানের খাতির করা প্রত্যেক মুসলিমের কাজ। প্রত্যেক মুসলিমের উচিত, এ কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে চরিত্রবান হওয়া। মহানবী বলেছেন,
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ جَائِزَتَهُ
"যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন অবশ্যই মেহমানের পারিতোষিকসহ তার সম্মান করে।" লোকেরা বলল, 'তার পারিতোষিক কী? হে আল্লাহর রসূল!' তিনি বললেন,
يَوْمُهُ وَلَيْلَتُهُ ، وَالضَّيَافَةُ ثَلاثَةُ أَيَّامٍ ، فَمَا كَانَ وَرَاءَ ذَلِكَ فَهُوَ صَدَقَةٌ عَلَيْهِ
"একদিন ও একরাত (উত্তমভাবে পানাহারের ব্যবস্থা করা)। আর সাধারণতঃ মেহমানের খাতির তিন দিন পর্যন্ত। (অতঃপর স্বেচ্ছায় তার চলে যাওয়া উচিত)। তিনদিনের অতিরিক্ত হবে মেযবানের জন্য সাদকাহ স্বরূপ।"৫২৪
মেহমানের সাথে সুন্দর আচরণ প্রদর্শন করতে পারলে তার মন জয় করা যায়। হাসিমুখে বরণ ক'রে সাধ্যমতো তার আপ্যায়ন করলে সে কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ হয়ে যায়। পক্ষান্তরে এর বিপরীত করলে সে দূরে সরে যায়।
লক্ষণীয় যে, বর্তমানে বহু সংগঠন দাওয়াতের ময়দানে কাজ করছে। কিন্তু মানুষ সেই সংগঠনের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে, যার সদস্যগণ সুচরিত্রের ও অমায়িক ব্যবহারের অধিকারী। যাদের কোন অফিসে অথবা কারো বাসায় গেলে সুন্দরভাবে আপ্যায়ন করে। অথচ সহীহ আকীদার কোন অফিস বা সদস্যের বাড়িতে যান, সেখানে তেমন আগ্রহ লক্ষ্য করবেন না---ইল্লা মা শাআল্লাহ। পরন্তু দাওয়াতের ময়দানে এই শ্রেণীর সচ্চরিত্রতা প্রদর্শন খুব বেশি ফলপ্রসূ।
যদি বলেন, 'কারো সে আপ্যায়নের সামর্থ্য না থাকলে কী করতে পারে?' তাহলে বলব, 'আদরের ভোজন, কী করে ব্যঞ্জন?' সাধ্যমতো ভোজন দিয়ে আদর প্রদর্শন করলেও ফল মন্দ হয় না।
মেহমান-নেওয়াযী সুচরিত্রের অন্যতম লক্ষণ। অনুরূপ সময় ও অবস্থা খেয়াল ক'রে অপরের মেহমান হওয়া এবং অপ্রয়োজনে তার বোঝা না হওয়াও সুচরিত্রবান মানুষের কর্তব্য।
টিকাঃ
৫২৩. বুখারী ৩, মুসলিম ৪২২
৫২৪. বুখারী ৬০১৯, ৬১৩৫, মুসলিম ৪৬১১-৪৬১২
📄 আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা
চরিত্রবান মানুষের একটি মহৎ গুণ, সে জ্ঞাতিবন্ধন অক্ষুণ্ণ রাখে। যেভাবে সাধ্য সে বন্ধন-রজ্জুকে ছিন্ন হতে দেয় না। যেহেতু মহান প্রতিপালকের নির্দেশ হল,
وَاعْبُدُوا اللهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ)
অর্থাৎ, তোমরা আল্লাহর উপাসনা কর ও কোন কিছুকে তাঁর অংশী করো না এবং পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, পিতৃহীন, অভাবগ্রস্ত, আত্মীয় ও অনাত্মীয় প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, পথচারী এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার কর। ৫২৫
তিনি আরো বলেন,
وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامِ)
অর্থাৎ, সেই আল্লাহকে ভয় কর, যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞা কর এবং জ্ঞাতি-বন্ধন ছিন্ন করাকে ভয় কর। ৫২৬
যারা তাঁর সে নির্দেশ লংঘন করে, তাদের পরিণাম সম্বন্ধে তিনি বলেছেন,
وَالَّذِينَ يَنْقُضُونَ عَهْدَ اللهِ مِنْ بَعْدِ مِيثَاقِهِ وَيَقْطَعُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَنْ يُوصَلَ وَيُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ أُولَئِكَ لَهُمُ اللَّعْنَةُ وَلَهُمْ سُوءُ الدَّارِ )
অর্থাৎ, যারা আল্লাহর সাথে দৃঢ় অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে, যে সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখতে আল্লাহ আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের জন্য আছে অভিসম্পাত এবং তাদের জন্য আছে মন্দ আবাস। ৫২৭
যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে, মহান আল্লাহ তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এ কথার বিবরণ দিয়ে মহানবী বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى خَلَقَ الخَلْقَ حَتَّى إِذَا فَرَغَ مِنْهُمْ قَامَتِ الرَّحِمُ، فَقَالَتْ : هَذَا مَقَامُ العَائِذِ بِكَ مِنَ القَطِيعةِ ، قَالَ : نَعَمْ ، أَمَا تَرْضَيْنَ أنْ أصِلَ مَنْ وَصَلَكِ ، وَأَقْطَعَ مَنْ قَطَعَكِ؟ قَالَتْ : بَلَى ، قَالَ : فَذَلِكَ لَكِ ، ثُمَّ قَالَ رَسُول الله ﷺ : اقْرَؤُوا إِنْ شِئْتُمْ: فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ أُولَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ وفي رواية للبخاري: فَقَالَ الله تَعَالَى: مَنْ وَصَلَكِ، وَصَلْتُهُ، وَمَنْ قَطَعَكِ ، قَطَعْتُهُ
"আল্লাহ সকল কিছুকে সৃষ্টি করলেন। অতঃপর যখন তিনি সৃষ্টি কাজ শেষ করলেন, তখন আত্মীয়তার সম্পর্ক উঠে বলল, '(আমার এই দণ্ডায়মান হওয়াটা) আপনার নিকট বিচ্ছিন্নতা থেকে আশ্রয়প্রার্থীর দণ্ডায়মান হওয়া।' তিনি (আল্লাহ) বললেন, 'হ্যাঁ তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তোমার সাথে যে সুসম্পর্ক রাখবে, আমিও তার সাথে সুসম্পর্ক রাখব। আর যে তোমার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, আমিও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব।' সে (রক্ত সম্পর্ক) বলল, 'অবশ্যই।' আল্লাহ বললেন, 'তাহলে এ মর্যাদা তোমাকে দেওয়া হল।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, "তোমরা চাইলে (এ আয়াতটি) পড়ে নাও; 'ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে সম্ভবতঃ তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। ওরা তো তারা, যাদেরকে আল্লাহ অভিশপ্ত ক'রে বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন করেন।"৫২৮
الرَّحِمُ مُعَلَّقَةٌ بِالعَرْشِ تَقُولُ: مَنْ وَصَلَنِي ، وَصَلَهُ اللَّهُ ، وَمَنْ قَطَعَنِي ، قَطَعَهُ اللَّهُ
"জ্ঞাতিবন্ধন আরশে ঝুলন্ত আছে এবং সে বলছে, 'যে আমাকে অবিচ্ছিন্ন রাখবে, আল্লাহ তাঁর সম্পর্ক তার সাথে অবিচ্ছিন্ন রাখবেন। আর যে আমাকে বিচ্ছিন্ন করবে, আল্লাহ তাঁর সম্পর্ক তার সাথে বিচ্ছিন্ন করবেন। "৫২৯
চরিত্রবান নারী-পুরুষ জানে, জ্ঞাতিবন্ধন বজায় রাখা আল্লাহর নিকট প্রিয় কাজ এবং তা ছিন্ন করা তাঁর নিকট ঘৃণ্য কাজ। খাষআম গোত্রের এক ব্যক্তি বলেন, একদা আমি নবী এর কাছে এলাম। তখন তিনি তাঁর কিছু সঙ্গীর সাথে ছিলেন। আমি বললাম, 'আপনিই কি মনে করেন, আপনি রাসূলুল্লাহ?' তিনি বললেন, "হ্যাঁ।” আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! কোন্ আমল আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়?' উত্তরে তিনি বললেন, "আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা।” আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! তারপর কী?' তিনি বললেন, "তারপর আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা।' আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! তারপর কী?' তিনি বললেন, "তারপর ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে বাধা দান করা।"
আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! কোন্ আমল আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণ্য?' তিনি বললেন, "আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করা।" আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! তারপর কী?' তিনি বললেন, "তারপর আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা।" আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! তারপর কী?' তিনি বললেন, "তারপর মন্দ কাজের আদেশ ও ভালো কাজে বাধা দান করা।"৫৩০
চরিত্রবান মু'মিন হয়, আর ঈমানের অন্যতম দাবী হল আত্মীয়তার বন্ধন বহাল রাখা। মহানবী বলেছেন,
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَاليَومِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَاليَومِ الآخِرِ فَلْيَصِلُ رَحِمَهُ ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَاليَومِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْراً أَوْ لِيَصْمُتْ
"যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহমানের খাতির করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন আত্মীয়তার বন্ধন অক্ষুণ্ণ রাখে। এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে, নচেৎ চুপ থাকে।"৫৩১
আত্মীয় যদি আত্মীয়তা বজায় না রাখতে চায়, সে ক্ষেত্রেও চরিত্রবান অনুরূপ আচরণ করে না। বরং সে ক্ষেত্রেও সেই বন্ধনকে সে ছিন্ন হতে না দিয়ে নিজের কর্তব্য পালন ক'রে যায়। আর তার এ কঠিন কাজের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়। আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! আমার কিছু আত্মীয় আছে, আমি তাদের সাথে আত্মীয়তা বজায় রাখি, আর তারা ছিন্ন করে। আমি তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করি, আর তারা আমার সাথে দুর্ব্যবহার করে। তারা কষ্ট দিলে আমি সহ্য করি, আর তারা আমার সাথে মূর্খের আচরণ করে।' তিনি বললেন,
لَئِنْ كُنْتَ كَمَا قُلْتَ، فَكَأَنَّمَا تُسِفُهُمُ الْمَلَّ، وَلا يَزَالُ مَعَكَ مِنَ اللَّهِ ظَهِيرٌ عَلَيْهِمْ مَا دُمْتَ عَلَى ذَلِكَ
"যদি তা-ই হয়, তাহলে তুমি যেন তাদের মুখে গরম ছাই নিক্ষেপ করছ (অর্থাৎ, এ কাজে তারা গোনাহগার হয়।) এবং তোমার সাথে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্যকারী থাকবে; যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি এর উপর অনড় থাকবে।"৫৩২
আসলেই ভালোর বিনিময়ে ভালো প্রায় সকলেই করে। কিন্তু মন্দের বিনিময়ে ভালো করতে সকলে পারে না। যে পারে সেই ভালো লোক, সেই মহান চরিত্রবান। মহানবী বলেছেন,
لَيْسَ الْوَاصِلُ بِالْمُكَافِئ ، وَلكِنَّ الْوَاصِلَ الَّذِي إِذَا قَطَعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا
"সেই ব্যক্তি সম্পর্ক বজায়কারী নয়, যে সম্পর্ক বজায় করার বিনিময়ে বজায় করে। বরং প্রকৃত সম্পর্ক বজায়কারী হল সেই ব্যক্তি, যে কেউ তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সে তা কায়েম করে।”৫৩৩
এ ব্যাপারে শরীয়তের নির্দেশ হল,
صِلْ مَنْ قَطَعَكَ وَأَعْطِ مَنْ حَرَمَكَ وَاعْفُ عَمَّنْ ظَلَمَكَ
"তোমার সঙ্গে যে আত্মীয়তা ছিন্ন করেছে, তুমি তার সাথে তা বজায় কর, তোমাকে যে বঞ্চিত করেছে, তুমি তাকে প্রদান কর এবং যে তোমার প্রতি অন্যায়াচরণ করেছে, তুমি তাকে ক্ষমা ক'রে দাও।"৫৩৪
صِلْ مَنْ قَطَعَكَ وَأَحْسِنُ إِلَى مَنْ أَسَاءَ إِلَيْكَ وَقُلِ الْحَقَّ وَلَوْ عَلَى نَفْسِكَ
"তুমি তার সাথে সুসম্পর্ক জুড়ে চল যে তোমার সাথে তা নষ্ট করতে চায়, তার প্রতি সদ্ব্যবহার কর যে তোমার সাথে দুর্ব্যবহার করে এবং হক কথা বল; যদিও তা নিজের বিরুদ্ধে হয়।"৫৩৫
আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার উপকারিতা বিশাল। মহানবী বলেছেন,
مَن أَحَبَّ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ ، وَيُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ، فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ
"যে ব্যক্তি চায় যে, তার রুযী (জীবিকা) প্রশস্ত হোক এবং আয়ু বৃদ্ধি হোক, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখে।"৫৩৬
صِلَةُ الرَّحِمِ وَحُسْنُ الخُلُقِ وَحُسْنُ الْجِوَارِ يُعَمِّرْنَ الدِّيَارَ وَيَزِدْنَ فِي الْأَعْمَارِ
“আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা, সুন্দর চরিত্র অবলম্বন করা এবং প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার রাখায় দেশ আবাদ থাকে এবং আয়ু বৃদ্ধি পায়।”৫৩৭
صَدَقَةُ السِّرِّ تُطْفِي غَضَبَ الرَّبِّ ، وَصِلَةُ الرَّحِمِ تَزِيدُ فِي الْعُمُرِ ، وَفِعْلُ المَعْرُوفِ يَقِي مَصَارِعَ السُّوءِ
“গোপনে দান প্রতিপালকের ক্রোধ দূরীভূত করে, জ্ঞাতি-বন্ধন অক্ষুণ্ন রাখে, আয়ু বৃদ্ধি করে। আর পুণ্যকর্ম সর্বপ্রকার কুমরণ থেকে রক্ষা করে।”৫৩৮
صِلَةُ الْقَرَابَةِ مَثْرَاةٌ فِي الْمَالِ، مَحَبَّةٌ فِي الْأَهْلِ، مَنْسَأَةٌ فِي الْأَجَلِ
“আত্মীয়তার সুসম্পর্ক বজায় রাখাতে সম্পদ বৃদ্ধি হয়, পরিজনের মধ্যে সম্প্রীতি থাকে এবং আয়ুষ্কাল বেড়ে যায়।”৫৩৯
কীভাবে জ্ঞাতিবন্ধন বজায় রাখবেন?
আসা-যাওয়া বজায় রেখে, বিভিন্ন উপলক্ষ্যে দাওয়াত দিয়ে, বিপদ-আপদ ও নানা প্রয়োজনে সাহায্য-সহযোগিতা ক'রে জ্ঞাতিবন্ধন বজায় রাখা যায়। তাও যদি কেউ না পারে, তাহলে মহানবী বলেছেন,
( بُلُّوا أَرْحَامَكُمْ وَلَوْ بِالسَّلامِ )
“তোমরা তোমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক আর্দ্র রাখ; যদিও তা সালাম দিয়ে হয়।”৫৪০
আপনার দান করার কিছু থাকলে আত্মীয়কে দান করুন। কারণ তাতে রয়েছে ডবল সওয়াব। মহানবী বলেছেন,
الصَّدَقَةُ عَلَى المِسكينِ صَدَقَةٌ ، وعَلَى ذِي الرَّحِمِ ثِنْتَانِ : صَدَقَةٌ وَصِلَةٌ
“---মিসকীনকে সাদকাহ করলে সাদকাহ (করার সওয়াব) হয়। আর আত্মীয়কে সাদকাহ করলে দু'টি সওয়াব হয় : সাদকাহ করার ও আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার।”৫৪১
অবশ্য চরিত্রবান জানে, কার সাথে সে সম্পর্ক রাখা যাবে এবং কার সাথে কখন তা ছিন্ন করতে হবে। সে জানে আত্মীয়তার বন্ধন অপেক্ষা ঈমানের বন্ধন বেশি মজবুত। ঈমানের উপর আত্মীয়তার কোন প্রাধান্য নেই। ঈমানহীন আত্মীয়তাতে আন্তরিকতা নেই। মহানবী বলেছেন,
إِنَّ آلَ أَبِي فُلَانٍ لَيْسُوا بِأَولِيَائِي ، إِنَّمَا وَلِيَّ اللَّهُ وَصَالِحُ الْمُؤْمِنِينَ ، وَلَكِنْ لَهُمْ رَحِمٌ أَبُلُّهَا بِبلالِهَا
“অমুক গোত্রের লোকেরা (যারা আমার প্রতি ঈমান আনেনি তারা) আমার বন্ধু নয়। আমার বন্ধু তো আল্লাহ এবং নেক মু'মিনগণ। কিন্তু ওদের সাথে আমার রক্তের সম্পর্ক রয়েছে, আমি (দুনিয়াতে) অবশ্যই তা আর্দ্র রাখব।" ৫৪২
আত্মীয়র বন্ধুর সাথেও সম্পর্ক বজায় রাখা এক প্রকার সচ্চরিত্রতা। 'নবী যখন বকরী যবাই করতেন, তখন বলতেন, "খাদীজার বান্ধবীদের নিকট এই মাংস পাঠিয়ে দাও।" ৫৪৩
আত্মীয়তার বন্ধন ছেদন করার শাস্তি আখেরাতের আগে দুনিয়াতেও পাওয়া যায়। মহানবী বলেছেন,
مَا مِنْ ذَنْبِ أَجْدَرُ أَنْ يُعَجِّلَ اللَّهُ تَعَالَى لِصَاحِبِهِ الْعُقُوبَةَ فِي الدُّنْيَا - مَعَ مَا يَدَّخِرُ لَهُ فِي الْآخِرَةِ - مِثْلُ الْبَغْيِ وَقَطِيعَةِ الرَّحِمِ
"যুলুমবাজী ও (রক্তের) আত্মীয়তা ছিন্ন করা ছাড়া এমন উপযুক্ত আর কোন পাপাচার নেই যার শাস্তি পাপাচারীর জন্য দুনিয়াতেই আল্লাহ অবিলম্বে প্রদান করে থাকেন এবং সেই সাথে আখেরাতের জন্যও জমা করে রাখেন।" ৫৪৪
لَيْسَ شَيْءٌ أُطِيعَ اللَّهُ فِيهِ أَعْجَلَ ثَوَابًا مِنْ صِلَةِ الرَّحِمِ وَلَيْسَ شَيْءٌ أَعْجَلَ عِقَابًا مِنَ الْبَغْيِ وَقَطِيعَةِ الرَّحِمِ وَالْيَمِينِ الْفَاجِرَةِ تَدَعُ الدِّيَارَ بَلاقِعَ
"আল্লাহর আনুগত্য করা হয় এমন আমলের মধ্যে সবচেয়ে বেশী তাড়াতাড়ি যে আমলের সওয়াব পাওয়া যায়, তা হল আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা। আর যে বদ আমলের শাস্তি সত্বর দেওয়া হয়, তা হল বিদ্রোহ, আত্মীয়তার বন্ধন ছেদন করা এবং মিথ্যা কসম খাওয়া, যা দেশ-মাটিকে মরুময় ক'রে তোলে।" ৫৪৫
আত্মীয়তার বন্ধন ছেদনকারীর স্থান হবে জাহান্নামে। মহানবী বলেছেন,
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِع
"আত্মীয়তার ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।" ৫৪৬
আত্মীয়তার বন্ধন বজায়কারী জান্নাত লাভে ধন্য হবে। আবু আইয়ূব আনসারী কর্তৃক বর্ণিত, এক ব্যক্তি বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাকে এমন আমল বলে দিন, যা আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে।' নবী বললেন,
تَعْبُدُ الله ، وَلَا تُشْرِكْ بِهِ شَيئاً ، وَتُقِيمُ الصَّلاةَ ، وتُؤْتِي الزَّكَاةَ ، وَتَصِلُ الرَّحْمَ
"তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তার সাথে কাউকে অংশীদার করবে না, স্বলাত প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত দেবে এবং রক্ত সম্পর্ক বজায় রাখবে।”৫৪৭
তিনি আরো বলেছেন,
يَا أَيُّهَا النَّاسُ ، أَفْشُوا السَّلامَ ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ ، وَصِلُوا الأَرْحَامَ ، وَصَلُّوا والنَّاسُ نِيَامٌ ، تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلَام
"হে লোক সকল! তোমরা সালাম প্রচার কর, (ক্ষুধার্তকে) অন্নদান কর, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখ এবং লোকে যখন (রাতে) ঘুমিয়ে থাকে, তখন তোমরা স্বলাত পড়। তাহলে তোমরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ৫৪৮
সুতরাং এমন কাজ কি চরিত্রবানের না হয়?
টিকাঃ
৫২৫. সূরা নিসা ৩৬
৫২৬. সূরা নিসা ১
৫২৭. সূরা রা'দ ২৫
৫২৮. সূরা মুহাম্মাদ ২২-২৩ আয়াত, বুখারী ৪৮৩০, ৫৯৮৭, ৭৫০২, মুসলিম ৬৬৮২ বুখারীর ৫৯৮৮নং অন্য বর্ণনায় ভিন্ন শব্দ বর্ণিত হয়েছে।
৫২৯. বুখারী ৫৯৮৯, মুসলিম ৬৬৮৩, শব্দাবলী মুসলিমের
৫৩০. আবু য়্যা'লা ৪৮-৩৯, সঃ তারগীব ২৫২২
৫৩১. বুখারী ৬১৩৮
৫৩২. মুসলিম ৬৬৮৯
৫৩৩. বুখারী ৫৯৯১
৫৩৪. আহমাদ ১৭৪৫২, হাকেম ৭২৮৫, ত্বাবারানী ১৪২৫৮, বাইহাক্বীর ৮০৭৯, সিঃ সহীহাহ ৮৯১
৫৩৫. ইবনে নাজ্জার, সহীহুল জামে ৩৭৬৯
৫৩৬. বুখারী ২০৬৭, ৫৯৮৬, মুসলিম ৬৬৮-৭-৬৬৮৮
৫৩৭. আহমাদ ২৫২৫৯, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৭৯৬৯, সহীহুল জামে ৩৭৬৭
৫৩৮. বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৩৪৪২, সহীহুল জামে ৩৭৬০
৫৩৯. তাবারানীর কাবীর ১৭২১, আওসাত্ব ৭৮১০, সহীহুল জামে ৩৭৬৮
৫৪০. বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৭৯৭২-৭৯৭৩, সহীহুল জামে' ২৮৩৮
৫৪১. তিরমিযী ৬৫৮
৫৪২. বুখারী ৫৯৯০, মুসলিম ৫৪১, শব্দ বুখারীর
৫৪৩. বুখারী ৩৮১৮, মুসলিম ৬৪৩০
৫৪৪. আহমাদ ২০৩৭৪, ২০৩৯৯, বুখারীর আল-আদাবুল মুফরাদ ২৯, আবু দাউদ ৪৯০৪, তিরমিযী ২৫১১, ইবনে মাজাহ ৪২১১, হাকেম ৩৩৫৯, ইবনে হিব্বান ৪৫৫, সহীহুল জামে' ৫৭০৪
৫৪৫. বাইহাকী ২০৩৬৪, সহীহুল জামে ৫৩৯১
৫৪৬. বুখারী ৫৯৮৪, মুসলিম ৬৬৮৪-৬৬৮৫, তিরমিযী
৫৪৭. বুখারী ১৩৯৬, ৫৯৮৩, শব্দাবলী মুসলিমের ১১৫
৫৪৮. তিরমিযী ২৪৮৫, ইবনে মাজাহ ১৩৩৪, ৩২৫১, হাকেম ৪২৮৩, সহীহ তারগীব ৬১০
চরিত্রবান মানুষের একটি মহৎ গুণ, সে জ্ঞাতিবন্ধন অক্ষুণ্ণ রাখে। যেভাবে সাধ্য সে বন্ধন-রজ্জুকে ছিন্ন হতে দেয় না। যেহেতু মহান প্রতিপালকের নির্দেশ হল,
وَاعْبُدُوا اللهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ)
অর্থাৎ, তোমরা আল্লাহর উপাসনা কর ও কোন কিছুকে তাঁর অংশী করো না এবং পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, পিতৃহীন, অভাবগ্রস্ত, আত্মীয় ও অনাত্মীয় প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, পথচারী এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার কর। ৫২৫
তিনি আরো বলেন,
وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامِ)
অর্থাৎ, সেই আল্লাহকে ভয় কর, যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞা কর এবং জ্ঞাতি-বন্ধন ছিন্ন করাকে ভয় কর। ৫২৬
যারা তাঁর সে নির্দেশ লংঘন করে, তাদের পরিণাম সম্বন্ধে তিনি বলেছেন,
وَالَّذِينَ يَنْقُضُونَ عَهْدَ اللهِ مِنْ بَعْدِ مِيثَاقِهِ وَيَقْطَعُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَنْ يُوصَلَ وَيُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ أُولَئِكَ لَهُمُ اللَّعْنَةُ وَلَهُمْ سُوءُ الدَّارِ )
অর্থাৎ, যারা আল্লাহর সাথে দৃঢ় অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে, যে সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখতে আল্লাহ আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের জন্য আছে অভিসম্পাত এবং তাদের জন্য আছে মন্দ আবাস। ৫২৭
যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে, মহান আল্লাহ তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এ কথার বিবরণ দিয়ে মহানবী বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى خَلَقَ الخَلْقَ حَتَّى إِذَا فَرَغَ مِنْهُمْ قَامَتِ الرَّحِمُ، فَقَالَتْ : هَذَا مَقَامُ العَائِذِ بِكَ مِنَ القَطِيعةِ ، قَالَ : نَعَمْ ، أَمَا تَرْضَيْنَ أنْ أصِلَ مَنْ وَصَلَكِ ، وَأَقْطَعَ مَنْ قَطَعَكِ؟ قَالَتْ : بَلَى ، قَالَ : فَذَلِكَ لَكِ ، ثُمَّ قَالَ رَسُول الله ﷺ : اقْرَؤُوا إِنْ شِئْتُمْ: فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ أُولَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ وفي رواية للبخاري: فَقَالَ الله تَعَالَى: مَنْ وَصَلَكِ، وَصَلْتُهُ، وَمَنْ قَطَعَكِ ، قَطَعْتُهُ
"আল্লাহ সকল কিছুকে সৃষ্টি করলেন। অতঃপর যখন তিনি সৃষ্টি কাজ শেষ করলেন, তখন আত্মীয়তার সম্পর্ক উঠে বলল, '(আমার এই দণ্ডায়মান হওয়াটা) আপনার নিকট বিচ্ছিন্নতা থেকে আশ্রয়প্রার্থীর দণ্ডায়মান হওয়া।' তিনি (আল্লাহ) বললেন, 'হ্যাঁ তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তোমার সাথে যে সুসম্পর্ক রাখবে, আমিও তার সাথে সুসম্পর্ক রাখব। আর যে তোমার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, আমিও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব।' সে (রক্ত সম্পর্ক) বলল, 'অবশ্যই।' আল্লাহ বললেন, 'তাহলে এ মর্যাদা তোমাকে দেওয়া হল।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, "তোমরা চাইলে (এ আয়াতটি) পড়ে নাও; 'ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে সম্ভবতঃ তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। ওরা তো তারা, যাদেরকে আল্লাহ অভিশপ্ত ক'রে বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন করেন।"৫২৮
الرَّحِمُ مُعَلَّقَةٌ بِالعَرْشِ تَقُولُ: مَنْ وَصَلَنِي ، وَصَلَهُ اللَّهُ ، وَمَنْ قَطَعَنِي ، قَطَعَهُ اللَّهُ
"জ্ঞাতিবন্ধন আরশে ঝুলন্ত আছে এবং সে বলছে, 'যে আমাকে অবিচ্ছিন্ন রাখবে, আল্লাহ তাঁর সম্পর্ক তার সাথে অবিচ্ছিন্ন রাখবেন। আর যে আমাকে বিচ্ছিন্ন করবে, আল্লাহ তাঁর সম্পর্ক তার সাথে বিচ্ছিন্ন করবেন। "৫২৯
চরিত্রবান নারী-পুরুষ জানে, জ্ঞাতিবন্ধন বজায় রাখা আল্লাহর নিকট প্রিয় কাজ এবং তা ছিন্ন করা তাঁর নিকট ঘৃণ্য কাজ। খাষআম গোত্রের এক ব্যক্তি বলেন, একদা আমি নবী এর কাছে এলাম। তখন তিনি তাঁর কিছু সঙ্গীর সাথে ছিলেন। আমি বললাম, 'আপনিই কি মনে করেন, আপনি রাসূলুল্লাহ?' তিনি বললেন, "হ্যাঁ।” আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! কোন্ আমল আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়?' উত্তরে তিনি বললেন, "আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা।” আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! তারপর কী?' তিনি বললেন, "তারপর আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা।' আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! তারপর কী?' তিনি বললেন, "তারপর ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে বাধা দান করা।"
আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! কোন্ আমল আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণ্য?' তিনি বললেন, "আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করা।" আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! তারপর কী?' তিনি বললেন, "তারপর আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা।" আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! তারপর কী?' তিনি বললেন, "তারপর মন্দ কাজের আদেশ ও ভালো কাজে বাধা দান করা।"৫৩০
চরিত্রবান মু'মিন হয়, আর ঈমানের অন্যতম দাবী হল আত্মীয়তার বন্ধন বহাল রাখা। মহানবী বলেছেন,
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَاليَومِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَاليَومِ الآخِرِ فَلْيَصِلُ رَحِمَهُ ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَاليَومِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْراً أَوْ لِيَصْمُتْ
"যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহমানের খাতির করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন আত্মীয়তার বন্ধন অক্ষুণ্ণ রাখে। এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে, নচেৎ চুপ থাকে।"৫৩১
আত্মীয় যদি আত্মীয়তা বজায় না রাখতে চায়, সে ক্ষেত্রেও চরিত্রবান অনুরূপ আচরণ করে না। বরং সে ক্ষেত্রেও সেই বন্ধনকে সে ছিন্ন হতে না দিয়ে নিজের কর্তব্য পালন ক'রে যায়। আর তার এ কঠিন কাজের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়। আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! আমার কিছু আত্মীয় আছে, আমি তাদের সাথে আত্মীয়তা বজায় রাখি, আর তারা ছিন্ন করে। আমি তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করি, আর তারা আমার সাথে দুর্ব্যবহার করে। তারা কষ্ট দিলে আমি সহ্য করি, আর তারা আমার সাথে মূর্খের আচরণ করে।' তিনি বললেন,
لَئِنْ كُنْتَ كَمَا قُلْتَ، فَكَأَنَّمَا تُسِفُهُمُ الْمَلَّ، وَلا يَزَالُ مَعَكَ مِنَ اللَّهِ ظَهِيرٌ عَلَيْهِمْ مَا دُمْتَ عَلَى ذَلِكَ
"যদি তা-ই হয়, তাহলে তুমি যেন তাদের মুখে গরম ছাই নিক্ষেপ করছ (অর্থাৎ, এ কাজে তারা গোনাহগার হয়।) এবং তোমার সাথে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্যকারী থাকবে; যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি এর উপর অনড় থাকবে।"৫৩২
আসলেই ভালোর বিনিময়ে ভালো প্রায় সকলেই করে। কিন্তু মন্দের বিনিময়ে ভালো করতে সকলে পারে না। যে পারে সেই ভালো লোক, সেই মহান চরিত্রবান। মহানবী বলেছেন,
لَيْسَ الْوَاصِلُ بِالْمُكَافِئ ، وَلكِنَّ الْوَاصِلَ الَّذِي إِذَا قَطَعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا
"সেই ব্যক্তি সম্পর্ক বজায়কারী নয়, যে সম্পর্ক বজায় করার বিনিময়ে বজায় করে। বরং প্রকৃত সম্পর্ক বজায়কারী হল সেই ব্যক্তি, যে কেউ তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সে তা কায়েম করে।”৫৩৩
এ ব্যাপারে শরীয়তের নির্দেশ হল,
صِلْ مَنْ قَطَعَكَ وَأَعْطِ مَنْ حَرَمَكَ وَاعْفُ عَمَّنْ ظَلَمَكَ
"তোমার সঙ্গে যে আত্মীয়তা ছিন্ন করেছে, তুমি তার সাথে তা বজায় কর, তোমাকে যে বঞ্চিত করেছে, তুমি তাকে প্রদান কর এবং যে তোমার প্রতি অন্যায়াচরণ করেছে, তুমি তাকে ক্ষমা ক'রে দাও।"৫৩৪
صِلْ مَنْ قَطَعَكَ وَأَحْسِنُ إِلَى مَنْ أَسَاءَ إِلَيْكَ وَقُلِ الْحَقَّ وَلَوْ عَلَى نَفْسِكَ
"তুমি তার সাথে সুসম্পর্ক জুড়ে চল যে তোমার সাথে তা নষ্ট করতে চায়, তার প্রতি সদ্ব্যবহার কর যে তোমার সাথে দুর্ব্যবহার করে এবং হক কথা বল; যদিও তা নিজের বিরুদ্ধে হয়।"৫৩৫
আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার উপকারিতা বিশাল। মহানবী বলেছেন,
مَن أَحَبَّ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ ، وَيُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ، فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ
"যে ব্যক্তি চায় যে, তার রুযী (জীবিকা) প্রশস্ত হোক এবং আয়ু বৃদ্ধি হোক, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখে।"৫৩৬
صِلَةُ الرَّحِمِ وَحُسْنُ الخُلُقِ وَحُسْنُ الْجِوَارِ يُعَمِّرْنَ الدِّيَارَ وَيَزِدْنَ فِي الْأَعْمَارِ
“আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা, সুন্দর চরিত্র অবলম্বন করা এবং প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার রাখায় দেশ আবাদ থাকে এবং আয়ু বৃদ্ধি পায়।”৫৩৭
صَدَقَةُ السِّرِّ تُطْفِي غَضَبَ الرَّبِّ ، وَصِلَةُ الرَّحِمِ تَزِيدُ فِي الْعُمُرِ ، وَفِعْلُ المَعْرُوفِ يَقِي مَصَارِعَ السُّوءِ
“গোপনে দান প্রতিপালকের ক্রোধ দূরীভূত করে, জ্ঞাতি-বন্ধন অক্ষুণ্ন রাখে, আয়ু বৃদ্ধি করে। আর পুণ্যকর্ম সর্বপ্রকার কুমরণ থেকে রক্ষা করে।”৫৩৮
صِلَةُ الْقَرَابَةِ مَثْرَاةٌ فِي الْمَالِ، مَحَبَّةٌ فِي الْأَهْلِ، مَنْسَأَةٌ فِي الْأَجَلِ
“আত্মীয়তার সুসম্পর্ক বজায় রাখাতে সম্পদ বৃদ্ধি হয়, পরিজনের মধ্যে সম্প্রীতি থাকে এবং আয়ুষ্কাল বেড়ে যায়।”৫৩৯
কীভাবে জ্ঞাতিবন্ধন বজায় রাখবেন?
আসা-যাওয়া বজায় রেখে, বিভিন্ন উপলক্ষ্যে দাওয়াত দিয়ে, বিপদ-আপদ ও নানা প্রয়োজনে সাহায্য-সহযোগিতা ক'রে জ্ঞাতিবন্ধন বজায় রাখা যায়। তাও যদি কেউ না পারে, তাহলে মহানবী বলেছেন,
( بُلُّوا أَرْحَامَكُمْ وَلَوْ بِالسَّلامِ )
“তোমরা তোমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক আর্দ্র রাখ; যদিও তা সালাম দিয়ে হয়।”৫৪০
আপনার দান করার কিছু থাকলে আত্মীয়কে দান করুন। কারণ তাতে রয়েছে ডবল সওয়াব। মহানবী বলেছেন,
الصَّدَقَةُ عَلَى المِسكينِ صَدَقَةٌ ، وعَلَى ذِي الرَّحِمِ ثِنْتَانِ : صَدَقَةٌ وَصِلَةٌ
“---মিসকীনকে সাদকাহ করলে সাদকাহ (করার সওয়াব) হয়। আর আত্মীয়কে সাদকাহ করলে দু'টি সওয়াব হয় : সাদকাহ করার ও আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার।”৫৪১
অবশ্য চরিত্রবান জানে, কার সাথে সে সম্পর্ক রাখা যাবে এবং কার সাথে কখন তা ছিন্ন করতে হবে। সে জানে আত্মীয়তার বন্ধন অপেক্ষা ঈমানের বন্ধন বেশি মজবুত। ঈমানের উপর আত্মীয়তার কোন প্রাধান্য নেই। ঈমানহীন আত্মীয়তাতে আন্তরিকতা নেই। মহানবী বলেছেন,
إِنَّ آلَ أَبِي فُلَانٍ لَيْسُوا بِأَولِيَائِي ، إِنَّمَا وَلِيَّ اللَّهُ وَصَالِحُ الْمُؤْمِنِينَ ، وَلَكِنْ لَهُمْ رَحِمٌ أَبُلُّهَا بِبلالِهَا
“অমুক গোত্রের লোকেরা (যারা আমার প্রতি ঈমান আনেনি তারা) আমার বন্ধু নয়। আমার বন্ধু তো আল্লাহ এবং নেক মু'মিনগণ। কিন্তু ওদের সাথে আমার রক্তের সম্পর্ক রয়েছে, আমি (দুনিয়াতে) অবশ্যই তা আর্দ্র রাখব।" ৫৪২
আত্মীয়র বন্ধুর সাথেও সম্পর্ক বজায় রাখা এক প্রকার সচ্চরিত্রতা। 'নবী যখন বকরী যবাই করতেন, তখন বলতেন, "খাদীজার বান্ধবীদের নিকট এই মাংস পাঠিয়ে দাও।" ৫৪৩
আত্মীয়তার বন্ধন ছেদন করার শাস্তি আখেরাতের আগে দুনিয়াতেও পাওয়া যায়। মহানবী বলেছেন,
مَا مِنْ ذَنْبِ أَجْدَرُ أَنْ يُعَجِّلَ اللَّهُ تَعَالَى لِصَاحِبِهِ الْعُقُوبَةَ فِي الدُّنْيَا - مَعَ مَا يَدَّخِرُ لَهُ فِي الْآخِرَةِ - مِثْلُ الْبَغْيِ وَقَطِيعَةِ الرَّحِمِ
"যুলুমবাজী ও (রক্তের) আত্মীয়তা ছিন্ন করা ছাড়া এমন উপযুক্ত আর কোন পাপাচার নেই যার শাস্তি পাপাচারীর জন্য দুনিয়াতেই আল্লাহ অবিলম্বে প্রদান করে থাকেন এবং সেই সাথে আখেরাতের জন্যও জমা করে রাখেন।" ৫৪৪
لَيْسَ شَيْءٌ أُطِيعَ اللَّهُ فِيهِ أَعْجَلَ ثَوَابًا مِنْ صِلَةِ الرَّحِمِ وَلَيْسَ شَيْءٌ أَعْجَلَ عِقَابًا مِنَ الْبَغْيِ وَقَطِيعَةِ الرَّحِمِ وَالْيَمِينِ الْفَاجِرَةِ تَدَعُ الدِّيَارَ بَلاقِعَ
"আল্লাহর আনুগত্য করা হয় এমন আমলের মধ্যে সবচেয়ে বেশী তাড়াতাড়ি যে আমলের সওয়াব পাওয়া যায়, তা হল আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা। আর যে বদ আমলের শাস্তি সত্বর দেওয়া হয়, তা হল বিদ্রোহ, আত্মীয়তার বন্ধন ছেদন করা এবং মিথ্যা কসম খাওয়া, যা দেশ-মাটিকে মরুময় ক'রে তোলে।" ৫৪৫
আত্মীয়তার বন্ধন ছেদনকারীর স্থান হবে জাহান্নামে। মহানবী বলেছেন,
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِع
"আত্মীয়তার ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।" ৫৪৬
আত্মীয়তার বন্ধন বজায়কারী জান্নাত লাভে ধন্য হবে। আবু আইয়ূব আনসারী কর্তৃক বর্ণিত, এক ব্যক্তি বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাকে এমন আমল বলে দিন, যা আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে।' নবী বললেন,
تَعْبُدُ الله ، وَلَا تُشْرِكْ بِهِ شَيئاً ، وَتُقِيمُ الصَّلاةَ ، وتُؤْتِي الزَّكَاةَ ، وَتَصِلُ الرَّحْمَ
"তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তার সাথে কাউকে অংশীদার করবে না, স্বলাত প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত দেবে এবং রক্ত সম্পর্ক বজায় রাখবে।”৫৪৭
তিনি আরো বলেছেন,
يَا أَيُّهَا النَّاسُ ، أَفْشُوا السَّلامَ ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ ، وَصِلُوا الأَرْحَامَ ، وَصَلُّوا والنَّاسُ نِيَامٌ ، تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلَام
"হে লোক সকল! তোমরা সালাম প্রচার কর, (ক্ষুধার্তকে) অন্নদান কর, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখ এবং লোকে যখন (রাতে) ঘুমিয়ে থাকে, তখন তোমরা স্বলাত পড়। তাহলে তোমরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ৫৪৮
সুতরাং এমন কাজ কি চরিত্রবানের না হয়?
টিকাঃ
৫২৫. সূরা নিসা ৩৬
৫২৬. সূরা নিসা ১
৫২৭. সূরা রা'দ ২৫
৫২৮. সূরা মুহাম্মাদ ২২-২৩ আয়াত, বুখারী ৪৮৩০, ৫৯৮৭, ৭৫০২, মুসলিম ৬৬৮২ বুখারীর ৫৯৮৮নং অন্য বর্ণনায় ভিন্ন শব্দ বর্ণিত হয়েছে।
৫২৯. বুখারী ৫৯৮৯, মুসলিম ৬৬৮৩, শব্দাবলী মুসলিমের
৫৩০. আবু য়্যা'লা ৪৮-৩৯, সঃ তারগীব ২৫২২
৫৩১. বুখারী ৬১৩৮
৫৩২. মুসলিম ৬৬৮৯
৫৩৩. বুখারী ৫৯৯১
৫৩৪. আহমাদ ১৭৪৫২, হাকেম ৭২৮৫, ত্বাবারানী ১৪২৫৮, বাইহাক্বীর ৮০৭৯, সিঃ সহীহাহ ৮৯১
৫৩৫. ইবনে নাজ্জার, সহীহুল জামে ৩৭৬৯
৫৩৬. বুখারী ২০৬৭, ৫৯৮৬, মুসলিম ৬৬৮-৭-৬৬৮৮
৫৩৭. আহমাদ ২৫২৫৯, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৭৯৬৯, সহীহুল জামে ৩৭৬৭
৫৩৮. বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৩৪৪২, সহীহুল জামে ৩৭৬০
৫৩৯. তাবারানীর কাবীর ১৭২১, আওসাত্ব ৭৮১০, সহীহুল জামে ৩৭৬৮
৫৪০. বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৭৯৭২-৭৯৭৩, সহীহুল জামে' ২৮৩৮
৫৪১. তিরমিযী ৬৫৮
৫৪২. বুখারী ৫৯৯০, মুসলিম ৫৪১, শব্দ বুখারীর
৫৪৩. বুখারী ৩৮১৮, মুসলিম ৬৪৩০
৫৪৪. আহমাদ ২০৩৭৪, ২০৩৯৯, বুখারীর আল-আদাবুল মুফরাদ ২৯, আবু দাউদ ৪৯০৪, তিরমিযী ২৫১১, ইবনে মাজাহ ৪২১১, হাকেম ৩৩৫৯, ইবনে হিব্বান ৪৫৫, সহীহুল জামে' ৫৭০৪
৫৪৫. বাইহাকী ২০৩৬৪, সহীহুল জামে ৫৩৯১
৫৪৬. বুখারী ৫৯৮৪, মুসলিম ৬৬৮৪-৬৬৮৫, তিরমিযী
৫৪৭. বুখারী ১৩৯৬, ৫৯৮৩, শব্দাবলী মুসলিমের ১১৫
৫৪৮. তিরমিযী ২৪৮৫, ইবনে মাজাহ ১৩৩৪, ৩২৫১, হাকেম ৪২৮৩, সহীহ তারগীব ৬১০