📘 সচ্চরিত্রতা ও চারিত্রিক গুণাবলী > 📄 বড়দেরকে শ্রদ্ধা ও ছোটদেরকে স্নেহ

📄 বড়দেরকে শ্রদ্ধা ও ছোটদেরকে স্নেহ


সুচরিত্রবানের একটি সুন্দর আচরণ, সে বড়দেরকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করে এবং ছোটদেরকে স্নেহ করে।
বড় বলতে বয়োজ্যেষ্ঠ, আপনার থেকে বয়সে বড়, জ্ঞানে-বিদ্যায় বড়, সম্মানে বড় এমন মানুষকে সম্মান প্রদর্শন করা আপনার কর্তব্য।
বাড়িতে দাদা-দাদী, নানা-নানী, বাপ-মা, চাচা-চাচী, মামা-মামী, ফুফু-ফোফা, খালা-খালু, বড় ভাই-ভাবী, বড় বোন-বুনাই, স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ী, সকল বড় আত্মীয়র প্রতি ছোটদের শ্রদ্ধা করা চরিত্রবানের কর্তব্য।
গ্রাম বা জামাআতের মোড়ল-মাতবর, মুরুব্বী, মসজিদের ইমাম, আলেম-হাফেয, শিক্ষক-মাস্টার প্রভৃতি বড়দেরকে সম্মান করা সচ্চরিত্রতার লক্ষণ।
কর্মস্থলে মালিক, ম্যানেজার, সুপারভাইজার, ইঞ্জিনিয়ার, পরিচালক, সভাপতি, সম্পাদক, সদর বা হেড শ্রেণীর মানুষকে সম্মান জানানো চরিত্রবানের কর্তব্য।
কর্তব্য তাদেরকে সালাম দেওয়া, (পা ছুঁয়ে সালাম বা প্রণাম নয়,) এগানা হলে মুসাফাহা করা, মাথা বা হাত চুম্বন করা, সশ্রদ্ধ বাক্যালাপ করা।
বড়দের জন্য আসন ছেড়ে দেওয়া, তাদের বসার জায়গা থেকে উঁচু জায়গায় না বসা, তাদেরকে পিছন ক'রে না বসা, তাদের সামনে বেআদবি না করা, হৈ-হুল্লোড়, চেঁচামেচি বা গোলমাল না করা, তাদের বোঝা বইয়ে দেওয়া ইত্যাদি ছোটদের কর্তব্য।
আর বড়দের কর্তব্য ছোটদেরকে স্নেহ করা, তাদের প্রতি অহংকার প্রদর্শন না করা, তাদেরকে তুচ্ছজ্ঞান না করা, শিশুদের মাথায় হাত বুলানো ইত্যাদি।
এ আচরণ চরিত্রবানের, এ কাজ মুসলিমের এবং মুহাম্মাদী উম্মতের। এ রীতির বাইরে যারা, তারা পরিপূর্ণ উম্মতী বলে গণ্য নয়। মহানবী বলেছেন,
لَيْسَ مِنْ أُمَّتِي مَنْ لَمْ يُجِلَّ كَبِيرَنَا وَيَرْحَمُ صَغِيرَنَا وَيَعْرِفْ لِعَالِمِنَا حَقَّهُ
"সে ব্যক্তি আমার উম্মতের দলভুক্ত নয়, যে ব্যক্তি আমাদের বড়দেরকে সম্মান দেয় না, ছোটদেরকে স্নেহ করে না এবং আলেমের অধিকার চেনে না।”৪৮৮

টিকাঃ
৪৮৮. আহমাদ ২২৭৫৫, ত্বাবারানী, হাকেম, সহীহ তারগীব ৯৫

সুচরিত্রবানের একটি সুন্দর আচরণ, সে বড়দেরকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করে এবং ছোটদেরকে স্নেহ করে।
বড় বলতে বয়োজ্যেষ্ঠ, আপনার থেকে বয়সে বড়, জ্ঞানে-বিদ্যায় বড়, সম্মানে বড় এমন মানুষকে সম্মান প্রদর্শন করা আপনার কর্তব্য।
বাড়িতে দাদা-দাদী, নানা-নানী, বাপ-মা, চাচা-চাচী, মামা-মামী, ফুফু-ফোফা, খালা-খালু, বড় ভাই-ভাবী, বড় বোন-বুনাই, স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ী, সকল বড় আত্মীয়র প্রতি ছোটদের শ্রদ্ধা করা চরিত্রবানের কর্তব্য।
গ্রাম বা জামাআতের মোড়ল-মাতবর, মুরুব্বী, মসজিদের ইমাম, আলেম-হাফেয, শিক্ষক-মাস্টার প্রভৃতি বড়দেরকে সম্মান করা সচ্চরিত্রতার লক্ষণ।
কর্মস্থলে মালিক, ম্যানেজার, সুপারভাইজার, ইঞ্জিনিয়ার, পরিচালক, সভাপতি, সম্পাদক, সদর বা হেড শ্রেণীর মানুষকে সম্মান জানানো চরিত্রবানের কর্তব্য।
কর্তব্য তাদেরকে সালাম দেওয়া, (পা ছুঁয়ে সালাম বা প্রণাম নয়,) এগানা হলে মুসাফাহা করা, মাথা বা হাত চুম্বন করা, সশ্রদ্ধ বাক্যালাপ করা।
বড়দের জন্য আসন ছেড়ে দেওয়া, তাদের বসার জায়গা থেকে উঁচু জায়গায় না বসা, তাদেরকে পিছন ক'রে না বসা, তাদের সামনে বেআদবি না করা, হৈ-হুল্লোড়, চেঁচামেচি বা গোলমাল না করা, তাদের বোঝা বইয়ে দেওয়া ইত্যাদি ছোটদের কর্তব্য।
আর বড়দের কর্তব্য ছোটদেরকে স্নেহ করা, তাদের প্রতি অহংকার প্রদর্শন না করা, তাদেরকে তুচ্ছজ্ঞান না করা, শিশুদের মাথায় হাত বুলানো ইত্যাদি।
এ আচরণ চরিত্রবানের, এ কাজ মুসলিমের এবং মুহাম্মাদী উম্মতের। এ রীতির বাইরে যারা, তারা পরিপূর্ণ উম্মতী বলে গণ্য নয়। মহানবী বলেছেন,
لَيْسَ مِنْ أُمَّتِي مَنْ لَمْ يُجِلَّ كَبِيرَنَا وَيَرْحَمُ صَغِيرَنَا وَيَعْرِفْ لِعَالِمِنَا حَقَّهُ
"সে ব্যক্তি আমার উম্মতের দলভুক্ত নয়, যে ব্যক্তি আমাদের বড়দেরকে সম্মান দেয় না, ছোটদেরকে স্নেহ করে না এবং আলেমের অধিকার চেনে না।”৪৮৮

টিকাঃ
৪৮৮. আহমাদ ২২৭৫৫, ত্বাবারানী, হাকেম, সহীহ তারগীব ৯৫

📘 সচ্চরিত্রতা ও চারিত্রিক গুণাবলী > 📄 প্রত্যুত্তরে সদাচার

📄 প্রত্যুত্তরে সদাচার


সদাচারীর সদাচারণ হল, কেউ প্রশ্ন করলে তার উত্তর দেয় সুন্দরভাবে। যেহেতু যার চরিত্র সুন্দর, তার সবকিছু সুন্দর।
কেউ সালাম দিলে তার সালামের উত্তর অধিকতর সুন্দরভাবে দেওয়া আবশ্যক। মহান আল্লাহর নির্দেশ,
وَإِذَا حُيِّيتُم بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا
"যখন তোমাদেরকে অভিবাদন করা হয় (সালাম দেওয়া হয়), তখন তোমরাও তা অপেক্ষা উত্তম অভিবাদন কর অথবা ওরই অনুরূপ কর। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী।"৪৮৯
সুতরাং যে শব্দে সালাম পাওয়া যায়, তার চাইতে বেশি ও সুন্দর শব্দে অথবা অনুরূপ শব্দে উত্তর দেওয়া আবশ্যক। আর এ কথাও বিদিত যে, সালাম দেওয়া সুন্নত। কিন্তু তার উত্তর দেওয়া ওয়াজেব।
তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়া চরিত্রবানের আচরণ নয়। তাকে জড়ানো হলে সে অকাট্য প্রমাণ সহকারে উত্তম ও সুন্দরতম উত্তর দেয়। অনুরূপ কারো সমালোচনার জবাব দেয় একই ভদ্রোচিত রীতিতে। তাতে কাউকে খোঁটা দেওয়া, খোঁচা দেওয়া, উস্কানি দেওয়া, ছোট করা, হেয় ও তুচ্ছ করা আদৌ উচিত নয়। এ ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশ হল, মহান আল্লাহর বাণী,
ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ ۖ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ ۚ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِ ۖ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ
"তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহবান কর হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং তাদের সাথে আলোচনা কর সভাবে। নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক, তাঁর পথ ছেড়ে কে বিপথগামী হয়, সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত এবং কে সৎপথে আছে তাও সবিশেষ অবহিত।"৪৯০
وَقُل لِّعِبَادِي يَقُولُوا الَّتِي هِيَ أَحْسَنُ ۚ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنزَغُ بَيْنَهُمْ ۚ إِنَّ الشَّيْطَانَ كَانَ لِلْإِنسَانِ عَدُوًّا مُّبِينًا
"আমার বান্দাদেরকে বল, তারা যেন সেই কথা বলে যা উত্তম। নিশ্চয় শয়তান তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উস্কানি দেয়; নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।"৪৯১
ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ السَّيِّئَةَ نَحْنُ أَعْلَمُ بِمَا يَصِفُونَ)
"তুমি ভালো দ্বারা মন্দের মুকাবিলা কর। তারা যা বলে, আমি সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত। ৪৯২
وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ)
"সৌজন্যের সাথে ছাড়া তোমরা গ্রন্থধারী (ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান)দের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক করো না; তবে ওদের মধ্যে যারা সীমালংঘনকারী, তাদের সাথে (তর্ক) নয়।” ৪৯৩
وَلَا تَسْتَوِي الْحَسَنَةُ وَلَا السَّيِّئَةُ ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ فَإِذَا الَّذِي بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَدَاوَةٌ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيمٌ - وَمَا يُلَقَّاهَا إِلَّا الَّذِينَ صَبَرُوا وَمَا يُلَقَّاهَا إِلَّا ذُو حَقٌّ عَظِيمٍ - وَإِمَّا يَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ)
"ভাল ও মন্দ সমান হতে পারে না। উৎকৃষ্ট দ্বারা মন্দ প্রতিহত কর; তাহলে যাদের সাথে তোমার শত্রুতা আছে, সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মত। এ চরিত্রের অধিকারী কেবল তারাই হয় যারা ধৈর্যশীল, এ চরিত্রের অধিকারী তারাই হয় যারা মহাভাগ্যবান। যদি শয়তানের কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।"৪৯৪
আর মহানবী বলেছেন,
وَإِنِ امْرُؤٌ شَتَمَكَ وعَيَّرَكَ بِأَمْرٍ لَيْسَ هُوَ فِيكَ فلا تُعَيِّرُهُ بِأَمْرٍ هُوَ فِيهِ وَدَعْهُ يَكُونُ وَبَالُهُ عَلَيْهِ وأَجْرُهُ لَكَ ولا تَسُبَنَّ أَحَداً
"---আর যদি কোন ব্যক্তি তোমাকে গালি দেয় এবং যে ত্রুটি তোমার মধ্যে নেই তা নিয়ে তোমাকে লজ্জা দেয়, তাহলে তুমি তাকে সেই ত্রুটি নিয়ে ওকে লজ্জা দিয়ো না, যা ওর মধ্যে আছে। ওকে উপেক্ষা করে চল। ওর পাপ ওর উপর এবং তোমার পুণ্য তোমার জন্য। আর অবশ্যই কাউকে গালি দিয়ো না। " ৪৯৫
এ হল সবচেয়ে উত্তম রীতি। তবে অনুরূপ প্রতিশোধ নেওয়া অবৈধ নয়। কিন্তু তাতে সীমা লংঘন করা অবৈধ।
মহানবী বলেছেন,
المُتَسَابَّانِ مَا قَالَا فَعَلَى البَادِي مِنهُمَا حَتَّى يَعْتَدِي المَظْلُومُ
"আপোসে গালাগালিতে রত দু'জন ব্যক্তি যে সব কুবাক্য উচ্চারণ করে, সে সব তাদের মধ্যে সূচনাকারীর উপরে বর্তায়; যতক্ষণ না অত্যাচারিত ব্যক্তি (প্রতিশোধ গ্রহণে) সীমা অতিক্রম করে।"৪৯৬
আর মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُم بِهِ وَلَئِن صَبَرْتُمْ لَهُوَ خَيْرٌ لِّلصَّابِرِينَ )
"যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ কর, তাহলে ঠিক ততখানি করবে, যতখানি অন্যায় তোমাদের প্রতি করা হয়েছে। আর যদি তোমরা ধৈর্যধারণ কর, তাহলে অবশ্যই ধৈর্যশীলদের জন্য সেটাই উত্তম।"৪৯৭
গালির উত্তরে গালি দিলে বরাবর গালি দেওয়া যাবে। তবে উপযুক্ত না হলে অনুরূপ শব্দ প্রয়োগ করায় দোষ হবে না। আপনি মহিলা। কোন পুরুষ যদি আপনাকে 'শালী' বলে গালি দেয়, তাহলে আপনি তাকে 'শালা' বলে গালি দিয়ে প্রতিশোধ নিলে হাস্যকর হবে। কারণ আপনার তো কেউ শালা হতে পারে না। সুতরাং অনুরূপ কোন শব্দ অবশ্যই চয়ন করতে হবে। তবে তা যেন অপেক্ষাকৃত বেশি ভারী না হয়ে যায়। কবি বলেছেন, 'কুকুরের কাজ কুকুর করেছে কামড় দিয়াছে পায়, তা বলে কুকুরে কামড়ানো কি রে মানুষের শোভা পায়?' তা পায় না ঠিকই, কিন্তু লাঠি মেরে আঘাত করা যায়। তবে মেরে দেওয়া যায় না এবং আইনকে নিজের হাতে তুলে নেওয়া যায় না।
এ ক্ষেত্রে সচ্চরিত্রতার সর্বাধিক সুন্দর আচরণ হল, ধৈর্য ও ক্ষমাশীলতা; যদিও তা সাধারণ মানুষের জন্য ভীষণ কঠিন।
কেউ চিঠি লিখলে সুন্দরভাবে জবাব দেওয়া কর্তব্য। কেউ ফোন করলে সুন্দরভাবে রিসিভ করা কর্তব্য। অবজ্ঞা ক'রে নাক সিঁটকে রিসিভ না করা অহংকারীর আলামত। পরন্তু এমন ব্যক্তি অভিশপ্ত। যে কল করে, সে উত্তর না পেয়ে গালাগালি করে। অবশ্য সত্যিসত্যি ব্যস্ত থাকলে আলাদা কথা। তবুও মনে রাখতে হবে, যে টেলিফোন করছে তার একটা হক আছে। আর সে হক তাকে সাধ্যমতো আদায় করতে হবে। মিস্ড-কল দেখে পরে কথা বলতে হবে। নচেৎ পরিচিত হয়েও তার কলকে গুরুত্ব না দেওয়ার ফলে তার হক নষ্ট হয়।
মহানবী বলেছেন,
فَإِنَّ لِجَسَدِكَ عَلَيْكَ حَقّاً ، وَإِنَّ لِعَيْنَيْكَ عَلَيْكَ حَقَّاً ، وَإِنَّ لِزَوْجِكَ عَلَيْكَ حَقَّاً ، وَإِنَّ لِزَوْرِكَ عَلَيْكَ حَقًّاً
"তোমার উপর তোমার দেহের অধিকার আছে। তোমার উপর তোমার চক্ষুদ্বয়ের অধিকার আছে। তোমার উপর তোমার স্ত্রীর অধিকার আছে এবং তোমার উপর তোমার অতিথির অধিকার আছে।"
আর যে ফোনে সাক্ষাৎ কামনা করে, সে এক প্রকার অতিথি। তার হক আদায়ে তৎপর হওয়া এবং তার অভিশাপ থেকে দূরে থাকা চরিত্রবানের কর্তব্য।
অবশ্য কলকারীরও উচিত, মুসলিম ভাইয়ের প্রতি সুধারণা রাখা এবং সে কল রিসিভ না করলে 'তার অহংকার আছে, বদমাশি আছে, সে আমাকে অবজ্ঞা করছে, ইচ্ছা ক'রে তুলছে না' ইত্যাদি কুধারণা না করা।
সুন্দর আচরণ ও সুন্দর চরিত্রের অধিকারী নারী-পুরুষ দেখতে কুৎসিত হলেও, আসলে বড্ড সুন্দর, বড্ড সুন্দরী। মনের সৌন্দর্য বাহ্যিক সৌন্দর্যকে হার মানায়।

টিকাঃ
৪৮৯. সূরা নিসা: ৮৬
৪৯০. সূরা নাহল: ১২৫
৪৯১. সূরা বানী ইস্রাঈল: ৫৩
৪৯২. সূরা মু'মিনূন: ৯৬
৪৯৩. সূরা আনকাবুত: ৪৬
৪৯৪. সূরা হা-মীম সাজদাহ: ৩৪-৩৬
৪৯৫. ইবনে হিব্বান ৫২১, ত্বায়ালিসী ১২০৮, সহীহুল জামে' ৯৮
৪৯৬. আহমাদ ১০৩২৯, মুসলিম ৬৭৫৬, আবু দাউদ ৪৮৯৪, তিরমিযী
৪৯৭. সূরা নাহল: ১২৬

সদাচারীর সদাচারণ হল, কেউ প্রশ্ন করলে তার উত্তর দেয় সুন্দরভাবে। যেহেতু যার চরিত্র সুন্দর, তার সবকিছু সুন্দর।
কেউ সালাম দিলে তার সালামের উত্তর অধিকতর সুন্দরভাবে দেওয়া আবশ্যক। মহান আল্লাহর নির্দেশ,
وَإِذَا حُيِّيتُم بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا
"যখন তোমাদেরকে অভিবাদন করা হয় (সালাম দেওয়া হয়), তখন তোমরাও তা অপেক্ষা উত্তম অভিবাদন কর অথবা ওরই অনুরূপ কর। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী।"৪৮৯
সুতরাং যে শব্দে সালাম পাওয়া যায়, তার চাইতে বেশি ও সুন্দর শব্দে অথবা অনুরূপ শব্দে উত্তর দেওয়া আবশ্যক। আর এ কথাও বিদিত যে, সালাম দেওয়া সুন্নত। কিন্তু তার উত্তর দেওয়া ওয়াজেব।
তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়া চরিত্রবানের আচরণ নয়। তাকে জড়ানো হলে সে অকাট্য প্রমাণ সহকারে উত্তম ও সুন্দরতম উত্তর দেয়। অনুরূপ কারো সমালোচনার জবাব দেয় একই ভদ্রোচিত রীতিতে। তাতে কাউকে খোঁটা দেওয়া, খোঁচা দেওয়া, উস্কানি দেওয়া, ছোট করা, হেয় ও তুচ্ছ করা আদৌ উচিত নয়। এ ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশ হল, মহান আল্লাহর বাণী,
ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ ۖ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ ۚ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِ ۖ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ
"তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহবান কর হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং তাদের সাথে আলোচনা কর সভাবে। নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক, তাঁর পথ ছেড়ে কে বিপথগামী হয়, সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত এবং কে সৎপথে আছে তাও সবিশেষ অবহিত।"৪৯০
وَقُل لِّعِبَادِي يَقُولُوا الَّتِي هِيَ أَحْسَنُ ۚ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنزَغُ بَيْنَهُمْ ۚ إِنَّ الشَّيْطَانَ كَانَ لِلْإِنسَانِ عَدُوًّا مُّبِينًا
"আমার বান্দাদেরকে বল, তারা যেন সেই কথা বলে যা উত্তম। নিশ্চয় শয়তান তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উস্কানি দেয়; নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।"৪৯১
ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ السَّيِّئَةَ نَحْنُ أَعْلَمُ بِمَا يَصِفُونَ)
"তুমি ভালো দ্বারা মন্দের মুকাবিলা কর। তারা যা বলে, আমি সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত। ৪৯২
وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ)
"সৌজন্যের সাথে ছাড়া তোমরা গ্রন্থধারী (ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান)দের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক করো না; তবে ওদের মধ্যে যারা সীমালংঘনকারী, তাদের সাথে (তর্ক) নয়।” ৪৯৩
وَلَا تَسْتَوِي الْحَسَنَةُ وَلَا السَّيِّئَةُ ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ فَإِذَا الَّذِي بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَدَاوَةٌ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيمٌ - وَمَا يُلَقَّاهَا إِلَّا الَّذِينَ صَبَرُوا وَمَا يُلَقَّاهَا إِلَّا ذُو حَقٌّ عَظِيمٍ - وَإِمَّا يَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ)
"ভাল ও মন্দ সমান হতে পারে না। উৎকৃষ্ট দ্বারা মন্দ প্রতিহত কর; তাহলে যাদের সাথে তোমার শত্রুতা আছে, সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মত। এ চরিত্রের অধিকারী কেবল তারাই হয় যারা ধৈর্যশীল, এ চরিত্রের অধিকারী তারাই হয় যারা মহাভাগ্যবান। যদি শয়তানের কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।"৪৯৪
আর মহানবী বলেছেন,
وَإِنِ امْرُؤٌ شَتَمَكَ وعَيَّرَكَ بِأَمْرٍ لَيْسَ هُوَ فِيكَ فلا تُعَيِّرُهُ بِأَمْرٍ هُوَ فِيهِ وَدَعْهُ يَكُونُ وَبَالُهُ عَلَيْهِ وأَجْرُهُ لَكَ ولا تَسُبَنَّ أَحَداً
"---আর যদি কোন ব্যক্তি তোমাকে গালি দেয় এবং যে ত্রুটি তোমার মধ্যে নেই তা নিয়ে তোমাকে লজ্জা দেয়, তাহলে তুমি তাকে সেই ত্রুটি নিয়ে ওকে লজ্জা দিয়ো না, যা ওর মধ্যে আছে। ওকে উপেক্ষা করে চল। ওর পাপ ওর উপর এবং তোমার পুণ্য তোমার জন্য। আর অবশ্যই কাউকে গালি দিয়ো না। " ৪৯৫
এ হল সবচেয়ে উত্তম রীতি। তবে অনুরূপ প্রতিশোধ নেওয়া অবৈধ নয়। কিন্তু তাতে সীমা লংঘন করা অবৈধ।
মহানবী বলেছেন,
المُتَسَابَّانِ مَا قَالَا فَعَلَى البَادِي مِنهُمَا حَتَّى يَعْتَدِي المَظْلُومُ
"আপোসে গালাগালিতে রত দু'জন ব্যক্তি যে সব কুবাক্য উচ্চারণ করে, সে সব তাদের মধ্যে সূচনাকারীর উপরে বর্তায়; যতক্ষণ না অত্যাচারিত ব্যক্তি (প্রতিশোধ গ্রহণে) সীমা অতিক্রম করে।"৪৯৬
আর মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُم بِهِ وَلَئِن صَبَرْتُمْ لَهُوَ خَيْرٌ لِّلصَّابِرِينَ )
"যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ কর, তাহলে ঠিক ততখানি করবে, যতখানি অন্যায় তোমাদের প্রতি করা হয়েছে। আর যদি তোমরা ধৈর্যধারণ কর, তাহলে অবশ্যই ধৈর্যশীলদের জন্য সেটাই উত্তম।"৪৯৭
গালির উত্তরে গালি দিলে বরাবর গালি দেওয়া যাবে। তবে উপযুক্ত না হলে অনুরূপ শব্দ প্রয়োগ করায় দোষ হবে না। আপনি মহিলা। কোন পুরুষ যদি আপনাকে 'শালী' বলে গালি দেয়, তাহলে আপনি তাকে 'শালা' বলে গালি দিয়ে প্রতিশোধ নিলে হাস্যকর হবে। কারণ আপনার তো কেউ শালা হতে পারে না। সুতরাং অনুরূপ কোন শব্দ অবশ্যই চয়ন করতে হবে। তবে তা যেন অপেক্ষাকৃত বেশি ভারী না হয়ে যায়। কবি বলেছেন, 'কুকুরের কাজ কুকুর করেছে কামড় দিয়াছে পায়, তা বলে কুকুরে কামড়ানো কি রে মানুষের শোভা পায়?' তা পায় না ঠিকই, কিন্তু লাঠি মেরে আঘাত করা যায়। তবে মেরে দেওয়া যায় না এবং আইনকে নিজের হাতে তুলে নেওয়া যায় না।
এ ক্ষেত্রে সচ্চরিত্রতার সর্বাধিক সুন্দর আচরণ হল, ধৈর্য ও ক্ষমাশীলতা; যদিও তা সাধারণ মানুষের জন্য ভীষণ কঠিন।
কেউ চিঠি লিখলে সুন্দরভাবে জবাব দেওয়া কর্তব্য। কেউ ফোন করলে সুন্দরভাবে রিসিভ করা কর্তব্য। অবজ্ঞা ক'রে নাক সিঁটকে রিসিভ না করা অহংকারীর আলামত। পরন্তু এমন ব্যক্তি অভিশপ্ত। যে কল করে, সে উত্তর না পেয়ে গালাগালি করে। অবশ্য সত্যিসত্যি ব্যস্ত থাকলে আলাদা কথা। তবুও মনে রাখতে হবে, যে টেলিফোন করছে তার একটা হক আছে। আর সে হক তাকে সাধ্যমতো আদায় করতে হবে। মিস্ড-কল দেখে পরে কথা বলতে হবে। নচেৎ পরিচিত হয়েও তার কলকে গুরুত্ব না দেওয়ার ফলে তার হক নষ্ট হয়।
মহানবী বলেছেন,
فَإِنَّ لِجَسَدِكَ عَلَيْكَ حَقّاً ، وَإِنَّ لِعَيْنَيْكَ عَلَيْكَ حَقَّاً ، وَإِنَّ لِزَوْجِكَ عَلَيْكَ حَقَّاً ، وَإِنَّ لِزَوْرِكَ عَلَيْكَ حَقًّاً
"তোমার উপর তোমার দেহের অধিকার আছে। তোমার উপর তোমার চক্ষুদ্বয়ের অধিকার আছে। তোমার উপর তোমার স্ত্রীর অধিকার আছে এবং তোমার উপর তোমার অতিথির অধিকার আছে।"
আর যে ফোনে সাক্ষাৎ কামনা করে, সে এক প্রকার অতিথি। তার হক আদায়ে তৎপর হওয়া এবং তার অভিশাপ থেকে দূরে থাকা চরিত্রবানের কর্তব্য।
অবশ্য কলকারীরও উচিত, মুসলিম ভাইয়ের প্রতি সুধারণা রাখা এবং সে কল রিসিভ না করলে 'তার অহংকার আছে, বদমাশি আছে, সে আমাকে অবজ্ঞা করছে, ইচ্ছা ক'রে তুলছে না' ইত্যাদি কুধারণা না করা।
সুন্দর আচরণ ও সুন্দর চরিত্রের অধিকারী নারী-পুরুষ দেখতে কুৎসিত হলেও, আসলে বড্ড সুন্দর, বড্ড সুন্দরী। মনের সৌন্দর্য বাহ্যিক সৌন্দর্যকে হার মানায়।

টিকাঃ
৪৮৯. সূরা নিসা: ৮৬
৪৯০. সূরা নাহল: ১২৫
৪৯১. সূরা বানী ইস্রাঈল: ৫৩
৪৯২. সূরা মু'মিনূন: ৯৬
৪৯৩. সূরা আনকাবুত: ৪৬
৪৯৪. সূরা হা-মীম সাজদাহ: ৩৪-৩৬
৪৯৫. ইবনে হিব্বান ৫২১, ত্বায়ালিসী ১২০৮, সহীহুল জামে' ৯৮
৪৯৬. আহমাদ ১০৩২৯, মুসলিম ৬৭৫৬, আবু দাউদ ৪৮৯৪, তিরমিযী
৪৯৭. সূরা নাহল: ১২৬

📘 সচ্চরিত্রতা ও চারিত্রিক গুণাবলী > 📄 সুধারণা

📄 সুধারণা


চরিত্রবান নারী-পুরুষ যখন সুধারণা ও কুধারণার দ্বন্দে পড়ে, তখন সে মুসলিমের প্রতি সুধারণাই রাখে। অবশ্য নিশ্চিত ধারণা হলে সে কথা আলাদা এবং যে ক্ষেত্রে সুধারণা করলে ক্ষতির আশঙ্কা আছে, সে ক্ষেত্রে সুধারণা ক'রে নিশ্চিত হওয়া উচিত নয়।
'না কর ধারণা শূন্য রহে প্রতি বন, থাকিতেও পারে ব্যাঘ্র করিয়া শয়ন।'
স্ত্রী-কন্যার প্রতি সুধারণা রেখে স্বাধীনতা দিলে ক্ষতির আশঙ্কা আছে, সুতরাং তাদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা জ্ঞানী ও বিচক্ষণ মানুষের অন্যতম সদাচরণ।
কেউ আপনার ফোন রিসিভ করল না। কেউ আপনাকে দাওয়াত দিল না। কেউ আপনার দাওয়াতে এল না। কেউ আপনার সাথে ওয়াদা ভঙ্গ করল---ইত্যাদি। সেই সময় সুচরিত্রবান কুধারণা না ক'রে সুধারণা ক'রে বলে, 'কুছ তো মাজবুরিয়াঁ রহী হোঙ্গী, ইঁউ কোয়ী বেঅফা নেহী হোতা।'
অর্থাৎ, কিছু নিরুপায় অবস্থা থেকে থাকবে, এমনি কেউ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে না।
হ্যাঁ, সুধারণা করাতে মানসিক শান্তি আছে, পাপ নেই। পক্ষান্তরে কুধারণা করাতে মনে অশান্তি আছে, তাতে পাপও হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيراً مِنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ
অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা বহুবিধ ধারণা হতে দূরে থাক; কারণ কোন কোন ধারণা পাপ। ৪৯৮
কুধারণা এক প্রকার মিথ্যা কথা, মিথ্যা অপবাদ। এই জন্য মানুষের প্রতি কুধারণা করতে হয় না। মহানবী বলেছেন,
إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ ، فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الحَدِيثِ
"তোমরা কুধারণা থেকে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রাখ। কারণ কুধারণা সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা।"৪৯৯
কোন এক জায়গায় এক জোড়া যুবক-যুবতী বসে আছে। হতে পারে তারা স্বামী-স্ত্রী, হতে পারে ভাই-বোন, আবার হতে পারে প্রেমিক-প্রেমিকা। সে ক্ষেত্রে সুধারণা ক'রে যদি স্বামী-স্ত্রী বা ভাই-বোন ধরে নেওয়া হয়, তাহলে মনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় না এবং পাপও হয় না; যদিও তারা তা না হয়। পক্ষান্তরে কুধারণা ক'রে তাদেরকে প্রেমিক-প্রেমিকা ধরে নিলে এবং তারা তা না হলে তাদের চরিত্রে অপবাদ আরোপ করা হয়, যা অনেক বড় গোনাহের কাজ।
একদা রাত্রিকালে সফিয়্যাহ (রাঃ) ই'তিকাফরত স্বামী মহানবী কে মসজিদে দেখা করার জন্য এলেন। কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলার পর তিনি বাসায় ফিরতে গেলে মহানবী তাঁকে পৌঁছে দিতে তাঁর সাথে বের হলেন। পথে আনসারদের দুই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁদের দেখা হলে তারা শীঘ্র চলতে লাগল। মহানবী বললেন, "ওহে! কে তোমরা? শোন। আমার সাথে এ মহিলা হল (আমারই স্ত্রী) সফিয়া বিন্তে হুয়াই।” তারা বলল, 'আল্লাহর পানাহ! সুবহানাল্লাহ! আপনার ব্যাপারেও কি আমরা কোন সন্দেহ করতে পারি?' মহানবী বললেন,
إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِى مِنَ الإِنْسَانِ مَجْرَى الدَّمِ وَإِنِّي خَشِيتُ أَنْ يَقْذِفَ فِي قُلُوبِكُمَا شَرًا
"(আমি বলছি না যে, তোমরা কোন কুধারণা ক'রে বসবে। কিন্তু আমি জানি যে,) শয়তান আদম সন্তানের রক্তশিরায় প্রবাহিত হয়। আর আমার ভয় হয় যে, সে তোমাদের মনে কোন কুধারণা প্রক্ষিপ্ত ক'রে দেবে।"৫০০
অনুরূপভাবে মহান প্রতিপালকের প্রতি সুধারণা রাখা নির্দেশ আছে মুসলিমের প্রতি। মহানবী বলেছেন,
لا يَمُوتَنَ أَحَدُكُمْ إِلَّا وَهُوَ يُحْسِنُ الظَّنَّ بِاللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
"আল্লাহ আয্যা অজাল্লার প্রতি সুধারণা না রেখে তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই মৃত্যুবরণ না করে।”৫০১
কারণ আল্লাহ আয্যা অজাল্ল বলেন,
أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي ، وَأَنَا مَعَهُ حَيْثُ يَذْكُرُنِي
'আমি সেইরূপ, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি তার সাথে থাকি, যখন যে আমাকে স্মরণ করে।"৫০২

টিকাঃ
৪৯৮. সূরা হুজুরাত ১২
৪৯৯. বুখারী ৫১৪৩, মুসলিম ৬৭০১
৫০০. বুখারী ২০৩৫, মুসলিম ৫৮০৮
৫০১. মুসলিম ৭৪১২, ইবনে মাজাহ ৪১৬৭
৫০২. বুখারী ৭৮০৫, মুসলিম ৭১২৮

চরিত্রবান নারী-পুরুষ যখন সুধারণা ও কুধারণার দ্বন্দে পড়ে, তখন সে মুসলিমের প্রতি সুধারণাই রাখে। অবশ্য নিশ্চিত ধারণা হলে সে কথা আলাদা এবং যে ক্ষেত্রে সুধারণা করলে ক্ষতির আশঙ্কা আছে, সে ক্ষেত্রে সুধারণা ক'রে নিশ্চিত হওয়া উচিত নয়।
'না কর ধারণা শূন্য রহে প্রতি বন, থাকিতেও পারে ব্যাঘ্র করিয়া শয়ন।'
স্ত্রী-কন্যার প্রতি সুধারণা রেখে স্বাধীনতা দিলে ক্ষতির আশঙ্কা আছে, সুতরাং তাদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা জ্ঞানী ও বিচক্ষণ মানুষের অন্যতম সদাচরণ।
কেউ আপনার ফোন রিসিভ করল না। কেউ আপনাকে দাওয়াত দিল না। কেউ আপনার দাওয়াতে এল না। কেউ আপনার সাথে ওয়াদা ভঙ্গ করল---ইত্যাদি। সেই সময় সুচরিত্রবান কুধারণা না ক'রে সুধারণা ক'রে বলে, 'কুছ তো মাজবুরিয়াঁ রহী হোঙ্গী, ইঁউ কোয়ী বেঅফা নেহী হোতা।'
অর্থাৎ, কিছু নিরুপায় অবস্থা থেকে থাকবে, এমনি কেউ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে না।
হ্যাঁ, সুধারণা করাতে মানসিক শান্তি আছে, পাপ নেই। পক্ষান্তরে কুধারণা করাতে মনে অশান্তি আছে, তাতে পাপও হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيراً مِنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ
অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা বহুবিধ ধারণা হতে দূরে থাক; কারণ কোন কোন ধারণা পাপ। ৪৯৮
কুধারণা এক প্রকার মিথ্যা কথা, মিথ্যা অপবাদ। এই জন্য মানুষের প্রতি কুধারণা করতে হয় না। মহানবী বলেছেন,
إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ ، فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الحَدِيثِ
"তোমরা কুধারণা থেকে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রাখ। কারণ কুধারণা সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা।"৪৯৯
কোন এক জায়গায় এক জোড়া যুবক-যুবতী বসে আছে। হতে পারে তারা স্বামী-স্ত্রী, হতে পারে ভাই-বোন, আবার হতে পারে প্রেমিক-প্রেমিকা। সে ক্ষেত্রে সুধারণা ক'রে যদি স্বামী-স্ত্রী বা ভাই-বোন ধরে নেওয়া হয়, তাহলে মনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় না এবং পাপও হয় না; যদিও তারা তা না হয়। পক্ষান্তরে কুধারণা ক'রে তাদেরকে প্রেমিক-প্রেমিকা ধরে নিলে এবং তারা তা না হলে তাদের চরিত্রে অপবাদ আরোপ করা হয়, যা অনেক বড় গোনাহের কাজ।
একদা রাত্রিকালে সফিয়্যাহ (রাঃ) ই'তিকাফরত স্বামী মহানবী কে মসজিদে দেখা করার জন্য এলেন। কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলার পর তিনি বাসায় ফিরতে গেলে মহানবী তাঁকে পৌঁছে দিতে তাঁর সাথে বের হলেন। পথে আনসারদের দুই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁদের দেখা হলে তারা শীঘ্র চলতে লাগল। মহানবী বললেন, "ওহে! কে তোমরা? শোন। আমার সাথে এ মহিলা হল (আমারই স্ত্রী) সফিয়া বিন্তে হুয়াই।” তারা বলল, 'আল্লাহর পানাহ! সুবহানাল্লাহ! আপনার ব্যাপারেও কি আমরা কোন সন্দেহ করতে পারি?' মহানবী বললেন,
إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِى مِنَ الإِنْسَانِ مَجْرَى الدَّمِ وَإِنِّي خَشِيتُ أَنْ يَقْذِفَ فِي قُلُوبِكُمَا شَرًا
"(আমি বলছি না যে, তোমরা কোন কুধারণা ক'রে বসবে। কিন্তু আমি জানি যে,) শয়তান আদম সন্তানের রক্তশিরায় প্রবাহিত হয়। আর আমার ভয় হয় যে, সে তোমাদের মনে কোন কুধারণা প্রক্ষিপ্ত ক'রে দেবে।"৫০০
অনুরূপভাবে মহান প্রতিপালকের প্রতি সুধারণা রাখা নির্দেশ আছে মুসলিমের প্রতি। মহানবী বলেছেন,
لا يَمُوتَنَ أَحَدُكُمْ إِلَّا وَهُوَ يُحْسِنُ الظَّنَّ بِاللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
"আল্লাহ আয্যা অজাল্লার প্রতি সুধারণা না রেখে তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই মৃত্যুবরণ না করে।”৫০১
কারণ আল্লাহ আয্যা অজাল্ল বলেন,
أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي ، وَأَنَا مَعَهُ حَيْثُ يَذْكُرُنِي
'আমি সেইরূপ, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি তার সাথে থাকি, যখন যে আমাকে স্মরণ করে।"৫০২

টিকাঃ
৪৯৮. সূরা হুজুরাত ১২
৪৯৯. বুখারী ৫১৪৩, মুসলিম ৬৭০১
৫০০. বুখারী ২০৩৫, মুসলিম ৫৮০৮
৫০১. মুসলিম ৭৪১২, ইবনে মাজাহ ৪১৬৭
৫০২. বুখারী ৭৮০৫, মুসলিম ৭১২৮

📘 সচ্চরিত্রতা ও চারিত্রিক গুণাবলী > 📄 রসিকতা

📄 রসিকতা


হাস্য-রসিকতা করা খোশ-মেজাজের লক্ষণ। সঙ্গী-সাথীদের সাথে রহস্য ও মস্করা করা আমুদে লোকের আলামত। যে মানুষ নিজে আনন্দে থাকে, সে অপরকে আনন্দ বিতরণ করতে পারে। আর সে মানুষ নিশ্চয় সুচরিত্রবান। তবে হাস্য-রসিকতা মানে বক্কানি বা ঢেটামি নয়। যেহেতু মু'মিনের চিত্ত হয় ভাবময়, রূপ হয় গাম্ভির্যপূর্ণ। অপরকে হাসাবার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বলে রসিকতা করা, মিথ্যা কৌতুক বা গল্প বানিয়ে অপরকে হাসানো সুচরিত্রবানের লক্ষণ নয়। যেহেতু রসূল বলেন,
وَيْلٌ لِلَّذِي يُحَدِّثُ فَيَكْذِبُ لِيُضْحِكَ بِهِ الْقَوْمَ وَيْلٌ لَهُ وَيْلٌ لَهُ
"দুর্ভোগ সেই ব্যক্তির, যে মিথ্যা বলে লোকেদেরকে হাসায়। দুর্ভোগ তার জন্য, দুর্ভোগ তার জন্য।"৫০৩
বলা বাহুল্য, রসিকতা ও মস্করায় মিথ্যা ও অশ্লীল কথা থাকবে না। রসূল সত্য কথার মাধ্যমেই মস্করা করেছেন। যেমন, আবু উমাইর নামক এক শিশুর খেলনা পাখী (নুগাইর) মারা গেলে সে দুঃখিত হয়। তা দেখে তিনি তাকে খোশ করার জন্য মস্করা করে বললেন, 'এই যে উমাইর! কি করেছে নুগাইর?”৫০৪
একদা এক ব্যক্তি তাঁর নিকট সওয়ারী উঁট চাইলে তিনি বললেন, "তোমাকে একটি উটনীর বাচ্চা দেব।" লোকটি বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! বাচ্চা নিয়ে কী করব?' তিনি বললেন, "উটনী ছাড়া কি উট আর কেউ জন্ম দেয়?” (অর্থাৎ প্রত্যেক উটই তো তার মায়ের বাচ্চা।) ৫০৫
একদা এক বৃদ্ধা এসে বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! আপনি দুআ করে দিন যাতে আল্লাহ আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।' তিনি মস্করা করে বললেন, 'বৃদ্ধারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" তা শুনে বৃদ্ধা কাঁদতে কাঁদতে প্রস্থান করল। তিনি সাহাবাদেরকে বললেন, "ওকে বলে দাও যে, বৃদ্ধাবস্থায় সে জান্নাতে যাবে না।” (বরং সে যুবতী হয়ে যাবে।) ৫০৬

টিকাঃ
৫০৩. আবু দাউদ ৪৯৯২, তিরমিযী ২৩১৫, সহীহুল জামে' ৭০১৩
৫০৪. বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৪৮৮৪
৫০৫. আবুদাউদ, তিরমিযী, মিশকাত ৪৮৮৬
৫০৬. শামায়েলুত তিরমিযী, রাযীন, গায়াতুল মারাম, মিশকাত ৪৮৮৮

হাস্য-রসিকতা করা খোশ-মেজাজের লক্ষণ। সঙ্গী-সাথীদের সাথে রহস্য ও মস্করা করা আমুদে লোকের আলামত। যে মানুষ নিজে আনন্দে থাকে, সে অপরকে আনন্দ বিতরণ করতে পারে। আর সে মানুষ নিশ্চয় সুচরিত্রবান। তবে হাস্য-রসিকতা মানে বক্কানি বা ঢেটামি নয়। যেহেতু মু'মিনের চিত্ত হয় ভাবময়, রূপ হয় গাম্ভির্যপূর্ণ। অপরকে হাসাবার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বলে রসিকতা করা, মিথ্যা কৌতুক বা গল্প বানিয়ে অপরকে হাসানো সুচরিত্রবানের লক্ষণ নয়। যেহেতু রসূল বলেন,
وَيْلٌ لِلَّذِي يُحَدِّثُ فَيَكْذِبُ لِيُضْحِكَ بِهِ الْقَوْمَ وَيْلٌ لَهُ وَيْلٌ لَهُ
"দুর্ভোগ সেই ব্যক্তির, যে মিথ্যা বলে লোকেদেরকে হাসায়। দুর্ভোগ তার জন্য, দুর্ভোগ তার জন্য।"৫০৩
বলা বাহুল্য, রসিকতা ও মস্করায় মিথ্যা ও অশ্লীল কথা থাকবে না। রসূল সত্য কথার মাধ্যমেই মস্করা করেছেন। যেমন, আবু উমাইর নামক এক শিশুর খেলনা পাখী (নুগাইর) মারা গেলে সে দুঃখিত হয়। তা দেখে তিনি তাকে খোশ করার জন্য মস্করা করে বললেন, 'এই যে উমাইর! কি করেছে নুগাইর?”৫০৪
একদা এক ব্যক্তি তাঁর নিকট সওয়ারী উঁট চাইলে তিনি বললেন, "তোমাকে একটি উটনীর বাচ্চা দেব।" লোকটি বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! বাচ্চা নিয়ে কী করব?' তিনি বললেন, "উটনী ছাড়া কি উট আর কেউ জন্ম দেয়?” (অর্থাৎ প্রত্যেক উটই তো তার মায়ের বাচ্চা।) ৫০৫
একদা এক বৃদ্ধা এসে বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! আপনি দুআ করে দিন যাতে আল্লাহ আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।' তিনি মস্করা করে বললেন, 'বৃদ্ধারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" তা শুনে বৃদ্ধা কাঁদতে কাঁদতে প্রস্থান করল। তিনি সাহাবাদেরকে বললেন, "ওকে বলে দাও যে, বৃদ্ধাবস্থায় সে জান্নাতে যাবে না।” (বরং সে যুবতী হয়ে যাবে।) ৫০৬

টিকাঃ
৫০৩. আবু দাউদ ৪৯৯২, তিরমিযী ২৩১৫, সহীহুল জামে' ৭০১৩
৫০৪. বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৪৮৮৪
৫০৫. আবুদাউদ, তিরমিযী, মিশকাত ৪৮৮৬
৫০৬. শামায়েলুত তিরমিযী, রাযীন, গায়াতুল মারাম, মিশকাত ৪৮৮৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00