📄 অনর্থক কথা ও কাজ বর্জন
মানুষের জীবনে দুই শ্রেণীর কথা ও কাজ থাকে: এক: যা নিজের বিষয়ীভূত, প্রয়োজনীয় ও উপকারী। দুই: যা নিজের বিষয়-বহির্ভূত, অপ্রয়োজনীয় ও অনর্থক। উক্ত কথা ও কাজ মানুষ চারভাবে সম্পাদন ক'রে থাকে:
১. যা নিজের বিষয়ীভূত, প্রয়োজনীয় ও উপকারী, তা করে এবং যা নিজের বিষয়-বহির্ভূত, অপ্রয়োজনীয় ও অনর্থক, তা বর্জন করে। এ মানুষ সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিচক্ষণ, হুঁশিয়ার ও সুন্দর চরিত্রবান।
২. যা নিজের বিষয়ীভূত, প্রয়োজনীয় ও উপকারী, তা করে না এবং যা নিজের বিষয়-বহির্ভূত, অপ্রয়োজনীয় ও অনর্থক, তা বর্জন করে না। এ মানুষ সর্বনিম্ন পর্যায়ের অকর্মণ্য ও বেকার।
৩. যা নিজের বিষয়ীভূত, প্রয়োজনীয় ও উপকারী, তা করে না, কিন্তু যা নিজের বিষয়-বহির্ভূত, অপ্রয়োজনীয় ও অনর্থক, তা বর্জন করে।
৪. যা নিজের বিষয়ীভূত, প্রয়োজনীয় ও উপকারী, তা করে, কিন্তু যা নিজের বিষয়-বহির্ভূত, অপ্রয়োজনীয় ও অনর্থক, তা বর্জন করে না। এ মানুষদ্বয়ের মধ্যে কিছু হলেও কল্যাণ আছে। কিন্তু এরা পূর্ণ চরিত্রবান ও সফল মানুষ নয়।
জ্ঞানী ও চরিত্রবান মানুষ কোনদিন সে কথায় বা কাজে নিজের সময় ব্যয় ও আয়ু ক্ষয় করে না, যাতে তার কোন প্রকার উপকার নেই; তা ইহলৌকিক, আর না পারলৌকিক।
পরন্তু যখনই কোন মানুষ অনর্থক বিষয়ে সময় ব্যয় করে, তখনই তার উপকারী বিষয় নষ্ট হতে বাধ্য। আর যদি কেউ তার সময়কে সার্থক ও উপকারী বিষয়ে ব্যয় করার চেষ্টা করে, তাহলে তার অনর্থক কোন বিষয়ে ব্যয় করার মতো সময় অবশিষ্ট থাকবে না।
একজন সচ্চরিত্র মানুষের আচরণ বড় সুন্দর। আপনি দেখবেন, সে সুন্দর মুসলিম হয়।
দেখবেন, সে প্রত্যেক হারাম জিনিস থেকে দূরে থাকছে এবং মাকরূহ ও অপ্রয়োজনীয় বৈধ বস্তুও বর্জন করছে।
দেখবেন, প্রত্যেক সেই কথা, কাজ, চিন্তা বা গবেষণা, যা নিজের বিশেষত্ব নয়, তা এড়িয়ে চলছে।
প্রত্যেক সেই কথা ও কাজ, যা নিজের দ্বীন বা দুনিয়ার জন্য উপকারী নয় অথবা অনর্থক, তা পরিহার করছে।
প্রত্যেক সেই কথা ও কাজ, যা নিজের দ্বীন বা দুনিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নয়, তা উপেক্ষা করছে।
প্রত্যেক সেই কথা ও কাজ, যা নিজের বিষয়ীভূত নয়, নিজের বিশেষত্ব নয়, তাতে কথা বলা, হস্তক্ষেপ করা, মন্তব্য করা ও টপকে পড়া হতে দূরে থাকছে।
দেখবেন, সে পরকীয় কথায় থাকতে পছন্দ করে না, সাধারণ মানুষ হয়ে রাজনীতির কথা বলে না, ভাণ্ডারী হয়ে ডাক্তারীর কথা বলে না, কবিরাজ হয়ে মহারাজের কথা বলে না, আদার ব্যাপারী হয়ে জাহাজের খোঁজ নেয় না। যে বোঝ বহিতে নারো বহ সেই বোঝ, আদার ব্যাপারী হয়ে জাহাজের খোঁজ?
সে ফালতু বা বাজে কথায় সময় ব্যয় করে না, খেলার খবর, বিশ্ব-সুন্দরী প্রতিযোগিতা ইত্যাদি অপ্রয়োজনীয় খবর রাখতে সময় খরচ করে না।
তাকে দেখবেন, সে অপ্রয়োজনীয় অনর্থক প্রশ্ন করে না, যেমন 'মূসা নবীর নানীর নাম কী' ইত্যাদি প্রশ্ন, যা দরকারী নয়, তার উত্তর খোঁজার জন্য সময় ব্যয় করে না।
কাউকে ব্যক্তিগত অসঙ্গত বিব্রতকর প্রশ্ন করে না। যেমন তার স্ত্রী-মিলন বিষয়ক প্রশ্ন, তার ব্যভিচার, যৌনাচার, পাপ ইত্যাদি গোপন বিষয়ক প্রশ্ন অথবা সন্তান কম হওয়ার কারণ জেনে প্রশ্ন ক'রে তাকে অস্বস্তিতে ফেলে না।
সূরা ফাতিহায় কয়টা অক্ষর নেই এবং কেন নেই, 'কোন্ সূরায় নয় মীম, কোন সূরায় নাই মীম', বিচ্ছিন্ন অক্ষরগুলোর অর্থ কী ইত্যাদি বিষয় নিয়ে, মহান আল্লাহর বিভিন্ন গুণাবলীর আকার-আকৃতি নিয়ে, সাহাবাদের ভুল ও আপোসের যুদ্ধ-বিগ্রহ নিয়ে বিচার-বিবেক করতে গিয়েও বিভ্রাটে পড়তে চায় না।
কোনও ফালতো বিষয়ে জড়ায় না সুন্দর চরিত্রবান ও সুন্দর মুসলিম। যেহেতু মহানবী বলেছেন,
مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ المَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ
"মানুষের ইসলামের সৌন্দর্য (অর্থাৎ তার উত্তম মুসলমান হওয়ার একটি চিহ্ন) হল অনর্থক (কথা ও কাজ) বর্জন করা।”৪৭৮
কা'ব বিন উজরাহ কর্তৃক বর্ণিত, একদা নবী তাঁকে না দেখতে পেয়ে তাঁর ব্যাপারে লোকেদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন। লোকেরা বলল, 'তিনি অসুস্থ।' সুতরাং তিনি বের হয়ে পায়ে হেঁটে তাঁর কাছে এসে বললেন, "কা'ব! তুমি সুসংবাদ নাও।" তাঁর মা তাঁর উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন, 'হে কা'ব! তোমার জন্য জান্নাত মোবারক হোক।' তা শুনে তিনি বললেন, "কে এ আল্লাহর ব্যাপারে কসম খেয়ে (নিশ্চয়তা দিচ্ছে)? কা'ব বললেন, 'ও আমার মা, হে আল্লাহর রসূল!' তিনি তাঁর মায়ের উদ্দেশ্যে বললেন,
وَمَا يُدْرِيكَ يَا أُمَّ كَعْبٍ ؟ لَعَلَّ كَعْبًا قَالَ مَا لَا يَعْنِيهِ أَوْ مَنَعَ مَا لَا يُغْنِيهِ
"হে কা'বের মা! কীভাবে জানলে তুমি (সে জান্নাতী)? হয়তো-বা কা'ব এমন কথাবার্তা বলেছে, যা তার বিষয়ীভূত নয় এবং এমন কিছু দানে বিরত থেকেছে, যা তাকে অভাবমুক্ত করত না।"৪৭৯
লোকমান হাকীমকে বলা হল, 'আপনি তো হাসহাস গোত্রের দাস। তাহলে আপনি এমন হাকীম (পণ্ডিত) হলেন কীভাবে?' তিনি বললেন, 'সত্য কথা বলে, আমানতদারী রক্ষা ক'রে এবং অনর্থক কথা ও কাজ বর্জন ক'রে। '৪৮০
ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, 'তিনটি কর্ম বুদ্ধি বৃদ্ধি করে: বিদ্যানদের সাথে ওঠা-বসা, সৎলোকদের সংসর্গে থাকা এবং অনর্থক কথা বর্জন করা।'
তিনি আরো বলেছেন, 'যে ব্যক্তি চায় যে, আল্লাহ তার হৃদয়কে আলোকিত করুন, তাহলে সে যেন অনর্থক কথা বর্জন করে।'
হাসান বাসরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, 'বান্দার প্রতি আল্লাহর বৈমুখ হওয়ার অন্যতম লক্ষণ হল, তিনি তাকে অনর্থক কাজে ব্যস্ত ক'রে দেন।'
মালেক বিন দীনার বলেছেন, 'যদি তুমি তোমার হৃদয়ে কঠোরতা, দেহে দুর্বলতা এবং রুযীতে বঞ্চনা অনুভব কর, তাহলে জেনে নিয়ো, তুমি অনর্থক বিষয়ে কথাবার্তা বলেছ।'
সতর্কতার বিষয় যে, অপরকে সৎকার্যের আদেশ ও মন্দকার্যে বাধা দান করা পরকীয় বিষয়ে অনর্থক হস্তক্ষেপ নয়। যেহেতু আপত্তিকর বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো ফালতো বিষয় নয়। আর এক মু'মিন অপর মু'মিনের অভিভাবক; স্বঘোষিত নয়, বরং প্রতিপালক-ঘোষিত।
টিকাঃ
৪৭৮. আহমাদ; ১৭৩৭, তিরমিযী ২৩১৮, ত্বাবারানী, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৪৯৮৭
৪৭৯. ইবনে আবিদ দুনয়া ১১০, ত্বাবারানীর আওসাত্ব ৭১৫৭, সিলসিলাহ সহীহাহ ৩১০৩
৪৮০. আল-ইস্তিযকার ৮/২৭৬
মানুষের জীবনে দুই শ্রেণীর কথা ও কাজ থাকে: এক: যা নিজের বিষয়ীভূত, প্রয়োজনীয় ও উপকারী। দুই: যা নিজের বিষয়-বহির্ভূত, অপ্রয়োজনীয় ও অনর্থক। উক্ত কথা ও কাজ মানুষ চারভাবে সম্পাদন ক'রে থাকে:
১. যা নিজের বিষয়ীভূত, প্রয়োজনীয় ও উপকারী, তা করে এবং যা নিজের বিষয়-বহির্ভূত, অপ্রয়োজনীয় ও অনর্থক, তা বর্জন করে। এ মানুষ সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিচক্ষণ, হুঁশিয়ার ও সুন্দর চরিত্রবান।
২. যা নিজের বিষয়ীভূত, প্রয়োজনীয় ও উপকারী, তা করে না এবং যা নিজের বিষয়-বহির্ভূত, অপ্রয়োজনীয় ও অনর্থক, তা বর্জন করে না। এ মানুষ সর্বনিম্ন পর্যায়ের অকর্মণ্য ও বেকার।
৩. যা নিজের বিষয়ীভূত, প্রয়োজনীয় ও উপকারী, তা করে না, কিন্তু যা নিজের বিষয়-বহির্ভূত, অপ্রয়োজনীয় ও অনর্থক, তা বর্জন করে।
৪. যা নিজের বিষয়ীভূত, প্রয়োজনীয় ও উপকারী, তা করে, কিন্তু যা নিজের বিষয়-বহির্ভূত, অপ্রয়োজনীয় ও অনর্থক, তা বর্জন করে না। এ মানুষদ্বয়ের মধ্যে কিছু হলেও কল্যাণ আছে। কিন্তু এরা পূর্ণ চরিত্রবান ও সফল মানুষ নয়।
জ্ঞানী ও চরিত্রবান মানুষ কোনদিন সে কথায় বা কাজে নিজের সময় ব্যয় ও আয়ু ক্ষয় করে না, যাতে তার কোন প্রকার উপকার নেই; তা ইহলৌকিক, আর না পারলৌকিক।
পরন্তু যখনই কোন মানুষ অনর্থক বিষয়ে সময় ব্যয় করে, তখনই তার উপকারী বিষয় নষ্ট হতে বাধ্য। আর যদি কেউ তার সময়কে সার্থক ও উপকারী বিষয়ে ব্যয় করার চেষ্টা করে, তাহলে তার অনর্থক কোন বিষয়ে ব্যয় করার মতো সময় অবশিষ্ট থাকবে না।
একজন সচ্চরিত্র মানুষের আচরণ বড় সুন্দর। আপনি দেখবেন, সে সুন্দর মুসলিম হয়।
দেখবেন, সে প্রত্যেক হারাম জিনিস থেকে দূরে থাকছে এবং মাকরূহ ও অপ্রয়োজনীয় বৈধ বস্তুও বর্জন করছে।
দেখবেন, প্রত্যেক সেই কথা, কাজ, চিন্তা বা গবেষণা, যা নিজের বিশেষত্ব নয়, তা এড়িয়ে চলছে।
প্রত্যেক সেই কথা ও কাজ, যা নিজের দ্বীন বা দুনিয়ার জন্য উপকারী নয় অথবা অনর্থক, তা পরিহার করছে।
প্রত্যেক সেই কথা ও কাজ, যা নিজের দ্বীন বা দুনিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নয়, তা উপেক্ষা করছে।
প্রত্যেক সেই কথা ও কাজ, যা নিজের বিষয়ীভূত নয়, নিজের বিশেষত্ব নয়, তাতে কথা বলা, হস্তক্ষেপ করা, মন্তব্য করা ও টপকে পড়া হতে দূরে থাকছে।
দেখবেন, সে পরকীয় কথায় থাকতে পছন্দ করে না, সাধারণ মানুষ হয়ে রাজনীতির কথা বলে না, ভাণ্ডারী হয়ে ডাক্তারীর কথা বলে না, কবিরাজ হয়ে মহারাজের কথা বলে না, আদার ব্যাপারী হয়ে জাহাজের খোঁজ নেয় না। যে বোঝ বহিতে নারো বহ সেই বোঝ, আদার ব্যাপারী হয়ে জাহাজের খোঁজ?
সে ফালতু বা বাজে কথায় সময় ব্যয় করে না, খেলার খবর, বিশ্ব-সুন্দরী প্রতিযোগিতা ইত্যাদি অপ্রয়োজনীয় খবর রাখতে সময় খরচ করে না।
তাকে দেখবেন, সে অপ্রয়োজনীয় অনর্থক প্রশ্ন করে না, যেমন 'মূসা নবীর নানীর নাম কী' ইত্যাদি প্রশ্ন, যা দরকারী নয়, তার উত্তর খোঁজার জন্য সময় ব্যয় করে না।
কাউকে ব্যক্তিগত অসঙ্গত বিব্রতকর প্রশ্ন করে না। যেমন তার স্ত্রী-মিলন বিষয়ক প্রশ্ন, তার ব্যভিচার, যৌনাচার, পাপ ইত্যাদি গোপন বিষয়ক প্রশ্ন অথবা সন্তান কম হওয়ার কারণ জেনে প্রশ্ন ক'রে তাকে অস্বস্তিতে ফেলে না।
সূরা ফাতিহায় কয়টা অক্ষর নেই এবং কেন নেই, 'কোন্ সূরায় নয় মীম, কোন সূরায় নাই মীম', বিচ্ছিন্ন অক্ষরগুলোর অর্থ কী ইত্যাদি বিষয় নিয়ে, মহান আল্লাহর বিভিন্ন গুণাবলীর আকার-আকৃতি নিয়ে, সাহাবাদের ভুল ও আপোসের যুদ্ধ-বিগ্রহ নিয়ে বিচার-বিবেক করতে গিয়েও বিভ্রাটে পড়তে চায় না।
কোনও ফালতো বিষয়ে জড়ায় না সুন্দর চরিত্রবান ও সুন্দর মুসলিম। যেহেতু মহানবী বলেছেন,
مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ المَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ
"মানুষের ইসলামের সৌন্দর্য (অর্থাৎ তার উত্তম মুসলমান হওয়ার একটি চিহ্ন) হল অনর্থক (কথা ও কাজ) বর্জন করা।”৪৭৮
কা'ব বিন উজরাহ কর্তৃক বর্ণিত, একদা নবী তাঁকে না দেখতে পেয়ে তাঁর ব্যাপারে লোকেদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন। লোকেরা বলল, 'তিনি অসুস্থ।' সুতরাং তিনি বের হয়ে পায়ে হেঁটে তাঁর কাছে এসে বললেন, "কা'ব! তুমি সুসংবাদ নাও।" তাঁর মা তাঁর উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন, 'হে কা'ব! তোমার জন্য জান্নাত মোবারক হোক।' তা শুনে তিনি বললেন, "কে এ আল্লাহর ব্যাপারে কসম খেয়ে (নিশ্চয়তা দিচ্ছে)? কা'ব বললেন, 'ও আমার মা, হে আল্লাহর রসূল!' তিনি তাঁর মায়ের উদ্দেশ্যে বললেন,
وَمَا يُدْرِيكَ يَا أُمَّ كَعْبٍ ؟ لَعَلَّ كَعْبًا قَالَ مَا لَا يَعْنِيهِ أَوْ مَنَعَ مَا لَا يُغْنِيهِ
"হে কা'বের মা! কীভাবে জানলে তুমি (সে জান্নাতী)? হয়তো-বা কা'ব এমন কথাবার্তা বলেছে, যা তার বিষয়ীভূত নয় এবং এমন কিছু দানে বিরত থেকেছে, যা তাকে অভাবমুক্ত করত না।"৪৭৯
লোকমান হাকীমকে বলা হল, 'আপনি তো হাসহাস গোত্রের দাস। তাহলে আপনি এমন হাকীম (পণ্ডিত) হলেন কীভাবে?' তিনি বললেন, 'সত্য কথা বলে, আমানতদারী রক্ষা ক'রে এবং অনর্থক কথা ও কাজ বর্জন ক'রে। '৪৮০
ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, 'তিনটি কর্ম বুদ্ধি বৃদ্ধি করে: বিদ্যানদের সাথে ওঠা-বসা, সৎলোকদের সংসর্গে থাকা এবং অনর্থক কথা বর্জন করা।'
তিনি আরো বলেছেন, 'যে ব্যক্তি চায় যে, আল্লাহ তার হৃদয়কে আলোকিত করুন, তাহলে সে যেন অনর্থক কথা বর্জন করে।'
হাসান বাসরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, 'বান্দার প্রতি আল্লাহর বৈমুখ হওয়ার অন্যতম লক্ষণ হল, তিনি তাকে অনর্থক কাজে ব্যস্ত ক'রে দেন।'
মালেক বিন দীনার বলেছেন, 'যদি তুমি তোমার হৃদয়ে কঠোরতা, দেহে দুর্বলতা এবং রুযীতে বঞ্চনা অনুভব কর, তাহলে জেনে নিয়ো, তুমি অনর্থক বিষয়ে কথাবার্তা বলেছ।'
সতর্কতার বিষয় যে, অপরকে সৎকার্যের আদেশ ও মন্দকার্যে বাধা দান করা পরকীয় বিষয়ে অনর্থক হস্তক্ষেপ নয়। যেহেতু আপত্তিকর বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো ফালতো বিষয় নয়। আর এক মু'মিন অপর মু'মিনের অভিভাবক; স্বঘোষিত নয়, বরং প্রতিপালক-ঘোষিত।
টিকাঃ
৪৭৮. আহমাদ; ১৭৩৭, তিরমিযী ২৩১৮, ত্বাবারানী, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৪৯৮৭
৪৭৯. ইবনে আবিদ দুনয়া ১১০, ত্বাবারানীর আওসাত্ব ৭১৫৭, সিলসিলাহ সহীহাহ ৩১০৩
৪৮০. আল-ইস্তিযকার ৮/২৭৬
📄 আত্মপ্রশংসা ও তোষামদ বর্জন
আত্মশ্লাঘা বা আত্মপ্রশংসা করা কোন চরিত্রবানের কাজ নয়। নিজেকে 'হিরো' ও অপরকে 'জিরো' বানানো এবং কথায় কথায় আমিত্ব প্রকাশে আত্মগর্ব থাকে। আর সেটা হল অহংকারীর আলামত।
প্রশংসার যোগ্য হলেও নিজের প্রশংসা নিজে করা সুশীল মানুষের কাজ নয়। আর ধারণাবশে নিজেকে প্রশংসাযোগ্য বলে প্রকাশ করলে তো, সেটা আরো খারাপ। মহান আল্লাহ বলেছেন,
فَلَا تُزَكُّوا أَنْفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَى)
"তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। তিনিই সম্যক জানেন আল্লাহভীরু কে।” ৪৮১
এক জনের নাম বারাহ (পুণ্যময়ী) রাখা হলে তিনি বলেন,
لَا تُزَكُّوا أَنْفُسَكُمُ اللَّهُ أَعْلَمُ بِأَهْلِ الْبِرِّ مِنْكُمْ ، سَمُّوهَا زَيْنَبَ
"তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। কারণ আল্লাহই সম্যক্ জানেন তোমাদের মধ্যে পূণ্যময়ী কে। বরং ওর নাম যয়নাব রাখ।” ৪৮২
অনেক সময় পরচর্চা বা অপরের সমালোচনা ক'রে নিজের প্রশংসা জাহির করা হয়। আর হাসান বাসরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, 'প্রকাশ্যে নিজের বদনাম করার মানেই হল, মনে মনে নিজের প্রশংসা করা।'
অবশ্য কোন স্থলে কাউকে অপবাদ দিয়ে অপদস্থ করা হলে, সে ক্ষেত্রে নিজের সাফাই পেশ করা আত্মপ্রশংসার পর্যায়ভুক্ত নয়।
উপর্যুক্ত আয়াতের অন্য একটি ব্যাখ্যা হল, তোমরা অন্যের প্রশংসা করো না। যেমন হাদীসে নাম রাখার ব্যাপারে স্পষ্ট। সেটা নিজের প্রশংসা ছিল না, প্রশংসা ছিল শিশুকন্যার। বড় হয়ে সে নিজ নাম নিয়ে গর্বিতা হতে পারত, তাই তার নাম পরিবর্তন করা হয়েছিল।
বিশেষ ক'রে কারো মিথ্যা প্রশংসার সাথে তোষামদ ও মনোরঞ্জন করা একটি ঘৃণিত আচরণ। আর যখন 'আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়ার' ভয় থাকে, তখন ঐরূপ প্রশংসা সর্বনাশী। যেমন কোন মানুষের ভিতরের খবর না জেনে বাইরের অবস্থা দেখে প্রশংসা করলেও অনুমান প্রসূত কথা হয়ে যায়।
আবূ বাকরাহ থেকে বর্ণিত, নবী এর নিকট এক ব্যক্তি অন্য একজনের (তার সামনে) ভাল প্রশংসা করলে নবী বললেন, 'হায় হায়! তুমি তোমার সাথীর গর্দান কেটে ফেললে!' এরূপ বার-বার বলার পর তিনি বললেন,
إِنْ كَانَ أَحَدُكُمْ مَادِحاً لاَ مَحَالَةَ فَلْيَقُلْ : أَحْسِبُ كَذَا وَكَذَا إِنْ كَانَ يَرَى أَنَّهُ كَذَلِكَ وَحَسِيبُهُ اللَّهُ ، وَلَا يُزَكِّى عَلَى اللَّهِ أَحَدٌ
"তোমাদের মধ্যে যদি কাউকে একান্তই তার সাথীর প্রংশসা করতে হয়, তাহলে সে যেন বলে, 'আমি ওকে এরূপ মনে করি'-যদি জানে যে, সে প্রকৃতই এরূপ--- 'এবং আল্লাহ ওর হিসাব গ্রহণকারী। আর আল্লাহর (জ্ঞানের) সামনে কাউকে নিষ্কলুষ ও পবিত্র ঘোষণা করা যায় না।”৪৮৩
সামনাসামনি কারো প্রশংসা করলে সে গর্বিত হতে পারে এবং তার মনে অহংকার বাসা বাঁধলে তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে। তাই মহানবী বলেছেন,
إِيَّاكُمْ وَالتَّمَادُحَ فَإِنَّهُ الذَّبْحُ
"মুখোমুখি প্রশংসা করা ও নেওয়া হতে দূরে থাক, কারণ তা যবাই। "৪৮৪
সাধারণতঃ স্বার্থসিদ্ধি লাভের উদ্দেশ্যে যারা অপরের মুখোমুখি প্রশংসা করে, তাদের সে আচরণ ভালো নয়। তোষামুদে মানুষের অভ্যাস, অপরের প্রশংসার মাধ্যমে নিজের আখের গুছিয়ে নেওয়া। তাই সেটা নিন্দনীয় এবং এমন প্রশংসাকারী অপমানিত হওয়ার উপযুক্ত।
এক ব্যক্তি উষমান এর সামনেই তাঁর প্রশংসা শুরু করলে মিকদাদ হাঁটুর উপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে তার মুখে কাঁকর ছিটাতে শুরু করলেন। তখন উষমান তাঁকে বললেন, 'কী ব্যাপার তোমার?' তিনি বললেন, 'রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
إِذَا رَأَيْتُمُ المَدَّاحِينَ ، فَاحْثُوا فِي وُجُوهِهِمُ التَّرَابَ
"তোমরা (মুখোমুখি) প্রশংসাকারীদের দেখলে তাদের মুখে ধুলো ছিটিয়ে দিয়ো।”৪৮৫
অবশ্য প্রয়োজনে যথোচিত প্রশংসা করা নিন্দনীয় নয়। কোন কর্মে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা প্রদানার্থে অপরের একটু তারীফ করা বৈধ এবং ফলপ্রসূ। বিশেষ ক'রে যদি প্রশংসিত ব্যক্তি পূর্ণ ঈমান ও ইয়াকীনের অধিকারী হয়, আত্মা অনুশীলনী ও পূর্ণ জ্ঞান লাভে ধন্য হয়, যার ফলে সে কারো প্রশংসা শুনে ফিতনা ও ধোঁকার শিকার না হয় এবং তার মন তাকে প্রতারিত না করে, তাহলে এ ধরনের লোকের মুখোমুখি প্রশংসা, না হারাম, আর না মাকরূহ। অন্যথা যদি কারো ক্ষেত্রে উক্ত বিষয়াদির কিছুর আশংকা বোধ হয়, তবে তা ঘোর অপছন্দনীয়।
একদা আল্লাহর রসূল আবু বাক্স কে বলেছিলেন; “আমার আশা এই যে, তুমিও তাদের একজন হবে।" অর্থাৎ সেই সৌভাগ্যবানদের একজন হবে, যাদেরকে জান্নাতের সমস্ত দ্বার থেকে আহবান জানানো হবে। ৪৮৬
অন্য এক সময় তিনি তাঁকে বলেছিলেন; "তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নও।” অর্থাৎ, ঐসব লোকেদের অন্তর্ভুক্ত নও যারা অহংকারবশতঃ লুঙ্গী-পায়জামা গাঁটের নীচে ঝুলিয়ে পরে।
একদা তিনি উমার কে বলেছিলেন, "শয়তান তোমাকে যে পথে চলতে দেখে, সে পথ ত্যাগ ক'রে সে অন্য পথ ধরে।”৪৮৭
টিকাঃ
৪৮১. নাজম: ৩২
৪৮২. মুসলিম ৫৭৩৩, আল-আদাবুল মুফরাদ বুখারী, আবু দাউদ ৪৯৫৩, সিলসিলাহ সহীহাহ ২১০
৪৮৩. বুখারী ৬০৬১, মুসলিম ৭৬৯৩-৭৬৯৪
৪৮৪. আহমাদ ১৬৮৩৭, ইবনে মাজাহ ৩৭৪৩, ত্বাবারানী ১৬১৭২, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ১০৩০৭, সহীহুল জামে ২৬৭৪
৪৮৫. মুসলিম ৭৬৯৮
৪৮৬. বুখারী ১৮৯৭, ৩৬৬৬, মুসলিম ২৪১৮
৪৮৭. বুখারী ৩২৯৪, ৬৩৫৫, দ্রঃ শরহে মুসলিম ও রিয়াযুস স্বালিহীন, ইমাম নাওয়াবী
আত্মশ্লাঘা বা আত্মপ্রশংসা করা কোন চরিত্রবানের কাজ নয়। নিজেকে 'হিরো' ও অপরকে 'জিরো' বানানো এবং কথায় কথায় আমিত্ব প্রকাশে আত্মগর্ব থাকে। আর সেটা হল অহংকারীর আলামত।
প্রশংসার যোগ্য হলেও নিজের প্রশংসা নিজে করা সুশীল মানুষের কাজ নয়। আর ধারণাবশে নিজেকে প্রশংসাযোগ্য বলে প্রকাশ করলে তো, সেটা আরো খারাপ। মহান আল্লাহ বলেছেন,
فَلَا تُزَكُّوا أَنْفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَى)
"তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। তিনিই সম্যক জানেন আল্লাহভীরু কে।” ৪৮১
এক জনের নাম বারাহ (পুণ্যময়ী) রাখা হলে তিনি বলেন,
لَا تُزَكُّوا أَنْفُسَكُمُ اللَّهُ أَعْلَمُ بِأَهْلِ الْبِرِّ مِنْكُمْ ، سَمُّوهَا زَيْنَبَ
"তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। কারণ আল্লাহই সম্যক্ জানেন তোমাদের মধ্যে পূণ্যময়ী কে। বরং ওর নাম যয়নাব রাখ।” ৪৮২
অনেক সময় পরচর্চা বা অপরের সমালোচনা ক'রে নিজের প্রশংসা জাহির করা হয়। আর হাসান বাসরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, 'প্রকাশ্যে নিজের বদনাম করার মানেই হল, মনে মনে নিজের প্রশংসা করা।'
অবশ্য কোন স্থলে কাউকে অপবাদ দিয়ে অপদস্থ করা হলে, সে ক্ষেত্রে নিজের সাফাই পেশ করা আত্মপ্রশংসার পর্যায়ভুক্ত নয়।
উপর্যুক্ত আয়াতের অন্য একটি ব্যাখ্যা হল, তোমরা অন্যের প্রশংসা করো না। যেমন হাদীসে নাম রাখার ব্যাপারে স্পষ্ট। সেটা নিজের প্রশংসা ছিল না, প্রশংসা ছিল শিশুকন্যার। বড় হয়ে সে নিজ নাম নিয়ে গর্বিতা হতে পারত, তাই তার নাম পরিবর্তন করা হয়েছিল।
বিশেষ ক'রে কারো মিথ্যা প্রশংসার সাথে তোষামদ ও মনোরঞ্জন করা একটি ঘৃণিত আচরণ। আর যখন 'আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়ার' ভয় থাকে, তখন ঐরূপ প্রশংসা সর্বনাশী। যেমন কোন মানুষের ভিতরের খবর না জেনে বাইরের অবস্থা দেখে প্রশংসা করলেও অনুমান প্রসূত কথা হয়ে যায়।
আবূ বাকরাহ থেকে বর্ণিত, নবী এর নিকট এক ব্যক্তি অন্য একজনের (তার সামনে) ভাল প্রশংসা করলে নবী বললেন, 'হায় হায়! তুমি তোমার সাথীর গর্দান কেটে ফেললে!' এরূপ বার-বার বলার পর তিনি বললেন,
إِنْ كَانَ أَحَدُكُمْ مَادِحاً لاَ مَحَالَةَ فَلْيَقُلْ : أَحْسِبُ كَذَا وَكَذَا إِنْ كَانَ يَرَى أَنَّهُ كَذَلِكَ وَحَسِيبُهُ اللَّهُ ، وَلَا يُزَكِّى عَلَى اللَّهِ أَحَدٌ
"তোমাদের মধ্যে যদি কাউকে একান্তই তার সাথীর প্রংশসা করতে হয়, তাহলে সে যেন বলে, 'আমি ওকে এরূপ মনে করি'-যদি জানে যে, সে প্রকৃতই এরূপ--- 'এবং আল্লাহ ওর হিসাব গ্রহণকারী। আর আল্লাহর (জ্ঞানের) সামনে কাউকে নিষ্কলুষ ও পবিত্র ঘোষণা করা যায় না।”৪৮৩
সামনাসামনি কারো প্রশংসা করলে সে গর্বিত হতে পারে এবং তার মনে অহংকার বাসা বাঁধলে তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে। তাই মহানবী বলেছেন,
إِيَّاكُمْ وَالتَّمَادُحَ فَإِنَّهُ الذَّبْحُ
"মুখোমুখি প্রশংসা করা ও নেওয়া হতে দূরে থাক, কারণ তা যবাই। "৪৮৪
সাধারণতঃ স্বার্থসিদ্ধি লাভের উদ্দেশ্যে যারা অপরের মুখোমুখি প্রশংসা করে, তাদের সে আচরণ ভালো নয়। তোষামুদে মানুষের অভ্যাস, অপরের প্রশংসার মাধ্যমে নিজের আখের গুছিয়ে নেওয়া। তাই সেটা নিন্দনীয় এবং এমন প্রশংসাকারী অপমানিত হওয়ার উপযুক্ত।
এক ব্যক্তি উষমান এর সামনেই তাঁর প্রশংসা শুরু করলে মিকদাদ হাঁটুর উপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে তার মুখে কাঁকর ছিটাতে শুরু করলেন। তখন উষমান তাঁকে বললেন, 'কী ব্যাপার তোমার?' তিনি বললেন, 'রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
إِذَا رَأَيْتُمُ المَدَّاحِينَ ، فَاحْثُوا فِي وُجُوهِهِمُ التَّرَابَ
"তোমরা (মুখোমুখি) প্রশংসাকারীদের দেখলে তাদের মুখে ধুলো ছিটিয়ে দিয়ো।”৪৮৫
অবশ্য প্রয়োজনে যথোচিত প্রশংসা করা নিন্দনীয় নয়। কোন কর্মে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা প্রদানার্থে অপরের একটু তারীফ করা বৈধ এবং ফলপ্রসূ। বিশেষ ক'রে যদি প্রশংসিত ব্যক্তি পূর্ণ ঈমান ও ইয়াকীনের অধিকারী হয়, আত্মা অনুশীলনী ও পূর্ণ জ্ঞান লাভে ধন্য হয়, যার ফলে সে কারো প্রশংসা শুনে ফিতনা ও ধোঁকার শিকার না হয় এবং তার মন তাকে প্রতারিত না করে, তাহলে এ ধরনের লোকের মুখোমুখি প্রশংসা, না হারাম, আর না মাকরূহ। অন্যথা যদি কারো ক্ষেত্রে উক্ত বিষয়াদির কিছুর আশংকা বোধ হয়, তবে তা ঘোর অপছন্দনীয়।
একদা আল্লাহর রসূল আবু বাক্স কে বলেছিলেন; “আমার আশা এই যে, তুমিও তাদের একজন হবে।" অর্থাৎ সেই সৌভাগ্যবানদের একজন হবে, যাদেরকে জান্নাতের সমস্ত দ্বার থেকে আহবান জানানো হবে। ৪৮৬
অন্য এক সময় তিনি তাঁকে বলেছিলেন; "তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নও।” অর্থাৎ, ঐসব লোকেদের অন্তর্ভুক্ত নও যারা অহংকারবশতঃ লুঙ্গী-পায়জামা গাঁটের নীচে ঝুলিয়ে পরে।
একদা তিনি উমার কে বলেছিলেন, "শয়তান তোমাকে যে পথে চলতে দেখে, সে পথ ত্যাগ ক'রে সে অন্য পথ ধরে।”৪৮৭
টিকাঃ
৪৮১. নাজম: ৩২
৪৮২. মুসলিম ৫৭৩৩, আল-আদাবুল মুফরাদ বুখারী, আবু দাউদ ৪৯৫৩, সিলসিলাহ সহীহাহ ২১০
৪৮৩. বুখারী ৬০৬১, মুসলিম ৭৬৯৩-৭৬৯৪
৪৮৪. আহমাদ ১৬৮৩৭, ইবনে মাজাহ ৩৭৪৩, ত্বাবারানী ১৬১৭২, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ১০৩০৭, সহীহুল জামে ২৬৭৪
৪৮৫. মুসলিম ৭৬৯৮
৪৮৬. বুখারী ১৮৯৭, ৩৬৬৬, মুসলিম ২৪১৮
৪৮৭. বুখারী ৩২৯৪, ৬৩৫৫, দ্রঃ শরহে মুসলিম ও রিয়াযুস স্বালিহীন, ইমাম নাওয়াবী
📄 বড়দেরকে শ্রদ্ধা ও ছোটদেরকে স্নেহ
সুচরিত্রবানের একটি সুন্দর আচরণ, সে বড়দেরকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করে এবং ছোটদেরকে স্নেহ করে।
বড় বলতে বয়োজ্যেষ্ঠ, আপনার থেকে বয়সে বড়, জ্ঞানে-বিদ্যায় বড়, সম্মানে বড় এমন মানুষকে সম্মান প্রদর্শন করা আপনার কর্তব্য।
বাড়িতে দাদা-দাদী, নানা-নানী, বাপ-মা, চাচা-চাচী, মামা-মামী, ফুফু-ফোফা, খালা-খালু, বড় ভাই-ভাবী, বড় বোন-বুনাই, স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ী, সকল বড় আত্মীয়র প্রতি ছোটদের শ্রদ্ধা করা চরিত্রবানের কর্তব্য।
গ্রাম বা জামাআতের মোড়ল-মাতবর, মুরুব্বী, মসজিদের ইমাম, আলেম-হাফেয, শিক্ষক-মাস্টার প্রভৃতি বড়দেরকে সম্মান করা সচ্চরিত্রতার লক্ষণ।
কর্মস্থলে মালিক, ম্যানেজার, সুপারভাইজার, ইঞ্জিনিয়ার, পরিচালক, সভাপতি, সম্পাদক, সদর বা হেড শ্রেণীর মানুষকে সম্মান জানানো চরিত্রবানের কর্তব্য।
কর্তব্য তাদেরকে সালাম দেওয়া, (পা ছুঁয়ে সালাম বা প্রণাম নয়,) এগানা হলে মুসাফাহা করা, মাথা বা হাত চুম্বন করা, সশ্রদ্ধ বাক্যালাপ করা।
বড়দের জন্য আসন ছেড়ে দেওয়া, তাদের বসার জায়গা থেকে উঁচু জায়গায় না বসা, তাদেরকে পিছন ক'রে না বসা, তাদের সামনে বেআদবি না করা, হৈ-হুল্লোড়, চেঁচামেচি বা গোলমাল না করা, তাদের বোঝা বইয়ে দেওয়া ইত্যাদি ছোটদের কর্তব্য।
আর বড়দের কর্তব্য ছোটদেরকে স্নেহ করা, তাদের প্রতি অহংকার প্রদর্শন না করা, তাদেরকে তুচ্ছজ্ঞান না করা, শিশুদের মাথায় হাত বুলানো ইত্যাদি।
এ আচরণ চরিত্রবানের, এ কাজ মুসলিমের এবং মুহাম্মাদী উম্মতের। এ রীতির বাইরে যারা, তারা পরিপূর্ণ উম্মতী বলে গণ্য নয়। মহানবী বলেছেন,
لَيْسَ مِنْ أُمَّتِي مَنْ لَمْ يُجِلَّ كَبِيرَنَا وَيَرْحَمُ صَغِيرَنَا وَيَعْرِفْ لِعَالِمِنَا حَقَّهُ
"সে ব্যক্তি আমার উম্মতের দলভুক্ত নয়, যে ব্যক্তি আমাদের বড়দেরকে সম্মান দেয় না, ছোটদেরকে স্নেহ করে না এবং আলেমের অধিকার চেনে না।”৪৮৮
টিকাঃ
৪৮৮. আহমাদ ২২৭৫৫, ত্বাবারানী, হাকেম, সহীহ তারগীব ৯৫
সুচরিত্রবানের একটি সুন্দর আচরণ, সে বড়দেরকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করে এবং ছোটদেরকে স্নেহ করে।
বড় বলতে বয়োজ্যেষ্ঠ, আপনার থেকে বয়সে বড়, জ্ঞানে-বিদ্যায় বড়, সম্মানে বড় এমন মানুষকে সম্মান প্রদর্শন করা আপনার কর্তব্য।
বাড়িতে দাদা-দাদী, নানা-নানী, বাপ-মা, চাচা-চাচী, মামা-মামী, ফুফু-ফোফা, খালা-খালু, বড় ভাই-ভাবী, বড় বোন-বুনাই, স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ী, সকল বড় আত্মীয়র প্রতি ছোটদের শ্রদ্ধা করা চরিত্রবানের কর্তব্য।
গ্রাম বা জামাআতের মোড়ল-মাতবর, মুরুব্বী, মসজিদের ইমাম, আলেম-হাফেয, শিক্ষক-মাস্টার প্রভৃতি বড়দেরকে সম্মান করা সচ্চরিত্রতার লক্ষণ।
কর্মস্থলে মালিক, ম্যানেজার, সুপারভাইজার, ইঞ্জিনিয়ার, পরিচালক, সভাপতি, সম্পাদক, সদর বা হেড শ্রেণীর মানুষকে সম্মান জানানো চরিত্রবানের কর্তব্য।
কর্তব্য তাদেরকে সালাম দেওয়া, (পা ছুঁয়ে সালাম বা প্রণাম নয়,) এগানা হলে মুসাফাহা করা, মাথা বা হাত চুম্বন করা, সশ্রদ্ধ বাক্যালাপ করা।
বড়দের জন্য আসন ছেড়ে দেওয়া, তাদের বসার জায়গা থেকে উঁচু জায়গায় না বসা, তাদেরকে পিছন ক'রে না বসা, তাদের সামনে বেআদবি না করা, হৈ-হুল্লোড়, চেঁচামেচি বা গোলমাল না করা, তাদের বোঝা বইয়ে দেওয়া ইত্যাদি ছোটদের কর্তব্য।
আর বড়দের কর্তব্য ছোটদেরকে স্নেহ করা, তাদের প্রতি অহংকার প্রদর্শন না করা, তাদেরকে তুচ্ছজ্ঞান না করা, শিশুদের মাথায় হাত বুলানো ইত্যাদি।
এ আচরণ চরিত্রবানের, এ কাজ মুসলিমের এবং মুহাম্মাদী উম্মতের। এ রীতির বাইরে যারা, তারা পরিপূর্ণ উম্মতী বলে গণ্য নয়। মহানবী বলেছেন,
لَيْسَ مِنْ أُمَّتِي مَنْ لَمْ يُجِلَّ كَبِيرَنَا وَيَرْحَمُ صَغِيرَنَا وَيَعْرِفْ لِعَالِمِنَا حَقَّهُ
"সে ব্যক্তি আমার উম্মতের দলভুক্ত নয়, যে ব্যক্তি আমাদের বড়দেরকে সম্মান দেয় না, ছোটদেরকে স্নেহ করে না এবং আলেমের অধিকার চেনে না।”৪৮৮
টিকাঃ
৪৮৮. আহমাদ ২২৭৫৫, ত্বাবারানী, হাকেম, সহীহ তারগীব ৯৫
📄 প্রত্যুত্তরে সদাচার
সদাচারীর সদাচারণ হল, কেউ প্রশ্ন করলে তার উত্তর দেয় সুন্দরভাবে। যেহেতু যার চরিত্র সুন্দর, তার সবকিছু সুন্দর।
কেউ সালাম দিলে তার সালামের উত্তর অধিকতর সুন্দরভাবে দেওয়া আবশ্যক। মহান আল্লাহর নির্দেশ,
وَإِذَا حُيِّيتُم بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا
"যখন তোমাদেরকে অভিবাদন করা হয় (সালাম দেওয়া হয়), তখন তোমরাও তা অপেক্ষা উত্তম অভিবাদন কর অথবা ওরই অনুরূপ কর। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী।"৪৮৯
সুতরাং যে শব্দে সালাম পাওয়া যায়, তার চাইতে বেশি ও সুন্দর শব্দে অথবা অনুরূপ শব্দে উত্তর দেওয়া আবশ্যক। আর এ কথাও বিদিত যে, সালাম দেওয়া সুন্নত। কিন্তু তার উত্তর দেওয়া ওয়াজেব।
তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়া চরিত্রবানের আচরণ নয়। তাকে জড়ানো হলে সে অকাট্য প্রমাণ সহকারে উত্তম ও সুন্দরতম উত্তর দেয়। অনুরূপ কারো সমালোচনার জবাব দেয় একই ভদ্রোচিত রীতিতে। তাতে কাউকে খোঁটা দেওয়া, খোঁচা দেওয়া, উস্কানি দেওয়া, ছোট করা, হেয় ও তুচ্ছ করা আদৌ উচিত নয়। এ ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশ হল, মহান আল্লাহর বাণী,
ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ ۖ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ ۚ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِ ۖ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ
"তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহবান কর হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং তাদের সাথে আলোচনা কর সভাবে। নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক, তাঁর পথ ছেড়ে কে বিপথগামী হয়, সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত এবং কে সৎপথে আছে তাও সবিশেষ অবহিত।"৪৯০
وَقُل لِّعِبَادِي يَقُولُوا الَّتِي هِيَ أَحْسَنُ ۚ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنزَغُ بَيْنَهُمْ ۚ إِنَّ الشَّيْطَانَ كَانَ لِلْإِنسَانِ عَدُوًّا مُّبِينًا
"আমার বান্দাদেরকে বল, তারা যেন সেই কথা বলে যা উত্তম। নিশ্চয় শয়তান তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উস্কানি দেয়; নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।"৪৯১
ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ السَّيِّئَةَ نَحْنُ أَعْلَمُ بِمَا يَصِفُونَ)
"তুমি ভালো দ্বারা মন্দের মুকাবিলা কর। তারা যা বলে, আমি সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত। ৪৯২
وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ)
"সৌজন্যের সাথে ছাড়া তোমরা গ্রন্থধারী (ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান)দের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক করো না; তবে ওদের মধ্যে যারা সীমালংঘনকারী, তাদের সাথে (তর্ক) নয়।” ৪৯৩
وَلَا تَسْتَوِي الْحَسَنَةُ وَلَا السَّيِّئَةُ ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ فَإِذَا الَّذِي بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَدَاوَةٌ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيمٌ - وَمَا يُلَقَّاهَا إِلَّا الَّذِينَ صَبَرُوا وَمَا يُلَقَّاهَا إِلَّا ذُو حَقٌّ عَظِيمٍ - وَإِمَّا يَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ)
"ভাল ও মন্দ সমান হতে পারে না। উৎকৃষ্ট দ্বারা মন্দ প্রতিহত কর; তাহলে যাদের সাথে তোমার শত্রুতা আছে, সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মত। এ চরিত্রের অধিকারী কেবল তারাই হয় যারা ধৈর্যশীল, এ চরিত্রের অধিকারী তারাই হয় যারা মহাভাগ্যবান। যদি শয়তানের কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।"৪৯৪
আর মহানবী বলেছেন,
وَإِنِ امْرُؤٌ شَتَمَكَ وعَيَّرَكَ بِأَمْرٍ لَيْسَ هُوَ فِيكَ فلا تُعَيِّرُهُ بِأَمْرٍ هُوَ فِيهِ وَدَعْهُ يَكُونُ وَبَالُهُ عَلَيْهِ وأَجْرُهُ لَكَ ولا تَسُبَنَّ أَحَداً
"---আর যদি কোন ব্যক্তি তোমাকে গালি দেয় এবং যে ত্রুটি তোমার মধ্যে নেই তা নিয়ে তোমাকে লজ্জা দেয়, তাহলে তুমি তাকে সেই ত্রুটি নিয়ে ওকে লজ্জা দিয়ো না, যা ওর মধ্যে আছে। ওকে উপেক্ষা করে চল। ওর পাপ ওর উপর এবং তোমার পুণ্য তোমার জন্য। আর অবশ্যই কাউকে গালি দিয়ো না। " ৪৯৫
এ হল সবচেয়ে উত্তম রীতি। তবে অনুরূপ প্রতিশোধ নেওয়া অবৈধ নয়। কিন্তু তাতে সীমা লংঘন করা অবৈধ।
মহানবী বলেছেন,
المُتَسَابَّانِ مَا قَالَا فَعَلَى البَادِي مِنهُمَا حَتَّى يَعْتَدِي المَظْلُومُ
"আপোসে গালাগালিতে রত দু'জন ব্যক্তি যে সব কুবাক্য উচ্চারণ করে, সে সব তাদের মধ্যে সূচনাকারীর উপরে বর্তায়; যতক্ষণ না অত্যাচারিত ব্যক্তি (প্রতিশোধ গ্রহণে) সীমা অতিক্রম করে।"৪৯৬
আর মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُم بِهِ وَلَئِن صَبَرْتُمْ لَهُوَ خَيْرٌ لِّلصَّابِرِينَ )
"যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ কর, তাহলে ঠিক ততখানি করবে, যতখানি অন্যায় তোমাদের প্রতি করা হয়েছে। আর যদি তোমরা ধৈর্যধারণ কর, তাহলে অবশ্যই ধৈর্যশীলদের জন্য সেটাই উত্তম।"৪৯৭
গালির উত্তরে গালি দিলে বরাবর গালি দেওয়া যাবে। তবে উপযুক্ত না হলে অনুরূপ শব্দ প্রয়োগ করায় দোষ হবে না। আপনি মহিলা। কোন পুরুষ যদি আপনাকে 'শালী' বলে গালি দেয়, তাহলে আপনি তাকে 'শালা' বলে গালি দিয়ে প্রতিশোধ নিলে হাস্যকর হবে। কারণ আপনার তো কেউ শালা হতে পারে না। সুতরাং অনুরূপ কোন শব্দ অবশ্যই চয়ন করতে হবে। তবে তা যেন অপেক্ষাকৃত বেশি ভারী না হয়ে যায়। কবি বলেছেন, 'কুকুরের কাজ কুকুর করেছে কামড় দিয়াছে পায়, তা বলে কুকুরে কামড়ানো কি রে মানুষের শোভা পায়?' তা পায় না ঠিকই, কিন্তু লাঠি মেরে আঘাত করা যায়। তবে মেরে দেওয়া যায় না এবং আইনকে নিজের হাতে তুলে নেওয়া যায় না।
এ ক্ষেত্রে সচ্চরিত্রতার সর্বাধিক সুন্দর আচরণ হল, ধৈর্য ও ক্ষমাশীলতা; যদিও তা সাধারণ মানুষের জন্য ভীষণ কঠিন।
কেউ চিঠি লিখলে সুন্দরভাবে জবাব দেওয়া কর্তব্য। কেউ ফোন করলে সুন্দরভাবে রিসিভ করা কর্তব্য। অবজ্ঞা ক'রে নাক সিঁটকে রিসিভ না করা অহংকারীর আলামত। পরন্তু এমন ব্যক্তি অভিশপ্ত। যে কল করে, সে উত্তর না পেয়ে গালাগালি করে। অবশ্য সত্যিসত্যি ব্যস্ত থাকলে আলাদা কথা। তবুও মনে রাখতে হবে, যে টেলিফোন করছে তার একটা হক আছে। আর সে হক তাকে সাধ্যমতো আদায় করতে হবে। মিস্ড-কল দেখে পরে কথা বলতে হবে। নচেৎ পরিচিত হয়েও তার কলকে গুরুত্ব না দেওয়ার ফলে তার হক নষ্ট হয়।
মহানবী বলেছেন,
فَإِنَّ لِجَسَدِكَ عَلَيْكَ حَقّاً ، وَإِنَّ لِعَيْنَيْكَ عَلَيْكَ حَقَّاً ، وَإِنَّ لِزَوْجِكَ عَلَيْكَ حَقَّاً ، وَإِنَّ لِزَوْرِكَ عَلَيْكَ حَقًّاً
"তোমার উপর তোমার দেহের অধিকার আছে। তোমার উপর তোমার চক্ষুদ্বয়ের অধিকার আছে। তোমার উপর তোমার স্ত্রীর অধিকার আছে এবং তোমার উপর তোমার অতিথির অধিকার আছে।"
আর যে ফোনে সাক্ষাৎ কামনা করে, সে এক প্রকার অতিথি। তার হক আদায়ে তৎপর হওয়া এবং তার অভিশাপ থেকে দূরে থাকা চরিত্রবানের কর্তব্য।
অবশ্য কলকারীরও উচিত, মুসলিম ভাইয়ের প্রতি সুধারণা রাখা এবং সে কল রিসিভ না করলে 'তার অহংকার আছে, বদমাশি আছে, সে আমাকে অবজ্ঞা করছে, ইচ্ছা ক'রে তুলছে না' ইত্যাদি কুধারণা না করা।
সুন্দর আচরণ ও সুন্দর চরিত্রের অধিকারী নারী-পুরুষ দেখতে কুৎসিত হলেও, আসলে বড্ড সুন্দর, বড্ড সুন্দরী। মনের সৌন্দর্য বাহ্যিক সৌন্দর্যকে হার মানায়।
টিকাঃ
৪৮৯. সূরা নিসা: ৮৬
৪৯০. সূরা নাহল: ১২৫
৪৯১. সূরা বানী ইস্রাঈল: ৫৩
৪৯২. সূরা মু'মিনূন: ৯৬
৪৯৩. সূরা আনকাবুত: ৪৬
৪৯৪. সূরা হা-মীম সাজদাহ: ৩৪-৩৬
৪৯৫. ইবনে হিব্বান ৫২১, ত্বায়ালিসী ১২০৮, সহীহুল জামে' ৯৮
৪৯৬. আহমাদ ১০৩২৯, মুসলিম ৬৭৫৬, আবু দাউদ ৪৮৯৪, তিরমিযী
৪৯৭. সূরা নাহল: ১২৬
সদাচারীর সদাচারণ হল, কেউ প্রশ্ন করলে তার উত্তর দেয় সুন্দরভাবে। যেহেতু যার চরিত্র সুন্দর, তার সবকিছু সুন্দর।
কেউ সালাম দিলে তার সালামের উত্তর অধিকতর সুন্দরভাবে দেওয়া আবশ্যক। মহান আল্লাহর নির্দেশ,
وَإِذَا حُيِّيتُم بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا
"যখন তোমাদেরকে অভিবাদন করা হয় (সালাম দেওয়া হয়), তখন তোমরাও তা অপেক্ষা উত্তম অভিবাদন কর অথবা ওরই অনুরূপ কর। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী।"৪৮৯
সুতরাং যে শব্দে সালাম পাওয়া যায়, তার চাইতে বেশি ও সুন্দর শব্দে অথবা অনুরূপ শব্দে উত্তর দেওয়া আবশ্যক। আর এ কথাও বিদিত যে, সালাম দেওয়া সুন্নত। কিন্তু তার উত্তর দেওয়া ওয়াজেব।
তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়া চরিত্রবানের আচরণ নয়। তাকে জড়ানো হলে সে অকাট্য প্রমাণ সহকারে উত্তম ও সুন্দরতম উত্তর দেয়। অনুরূপ কারো সমালোচনার জবাব দেয় একই ভদ্রোচিত রীতিতে। তাতে কাউকে খোঁটা দেওয়া, খোঁচা দেওয়া, উস্কানি দেওয়া, ছোট করা, হেয় ও তুচ্ছ করা আদৌ উচিত নয়। এ ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশ হল, মহান আল্লাহর বাণী,
ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ ۖ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ ۚ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِ ۖ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ
"তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহবান কর হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং তাদের সাথে আলোচনা কর সভাবে। নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক, তাঁর পথ ছেড়ে কে বিপথগামী হয়, সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত এবং কে সৎপথে আছে তাও সবিশেষ অবহিত।"৪৯০
وَقُل لِّعِبَادِي يَقُولُوا الَّتِي هِيَ أَحْسَنُ ۚ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنزَغُ بَيْنَهُمْ ۚ إِنَّ الشَّيْطَانَ كَانَ لِلْإِنسَانِ عَدُوًّا مُّبِينًا
"আমার বান্দাদেরকে বল, তারা যেন সেই কথা বলে যা উত্তম। নিশ্চয় শয়তান তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উস্কানি দেয়; নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।"৪৯১
ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ السَّيِّئَةَ نَحْنُ أَعْلَمُ بِمَا يَصِفُونَ)
"তুমি ভালো দ্বারা মন্দের মুকাবিলা কর। তারা যা বলে, আমি সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত। ৪৯২
وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ)
"সৌজন্যের সাথে ছাড়া তোমরা গ্রন্থধারী (ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান)দের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক করো না; তবে ওদের মধ্যে যারা সীমালংঘনকারী, তাদের সাথে (তর্ক) নয়।” ৪৯৩
وَلَا تَسْتَوِي الْحَسَنَةُ وَلَا السَّيِّئَةُ ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ فَإِذَا الَّذِي بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَدَاوَةٌ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيمٌ - وَمَا يُلَقَّاهَا إِلَّا الَّذِينَ صَبَرُوا وَمَا يُلَقَّاهَا إِلَّا ذُو حَقٌّ عَظِيمٍ - وَإِمَّا يَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ)
"ভাল ও মন্দ সমান হতে পারে না। উৎকৃষ্ট দ্বারা মন্দ প্রতিহত কর; তাহলে যাদের সাথে তোমার শত্রুতা আছে, সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মত। এ চরিত্রের অধিকারী কেবল তারাই হয় যারা ধৈর্যশীল, এ চরিত্রের অধিকারী তারাই হয় যারা মহাভাগ্যবান। যদি শয়তানের কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।"৪৯৪
আর মহানবী বলেছেন,
وَإِنِ امْرُؤٌ شَتَمَكَ وعَيَّرَكَ بِأَمْرٍ لَيْسَ هُوَ فِيكَ فلا تُعَيِّرُهُ بِأَمْرٍ هُوَ فِيهِ وَدَعْهُ يَكُونُ وَبَالُهُ عَلَيْهِ وأَجْرُهُ لَكَ ولا تَسُبَنَّ أَحَداً
"---আর যদি কোন ব্যক্তি তোমাকে গালি দেয় এবং যে ত্রুটি তোমার মধ্যে নেই তা নিয়ে তোমাকে লজ্জা দেয়, তাহলে তুমি তাকে সেই ত্রুটি নিয়ে ওকে লজ্জা দিয়ো না, যা ওর মধ্যে আছে। ওকে উপেক্ষা করে চল। ওর পাপ ওর উপর এবং তোমার পুণ্য তোমার জন্য। আর অবশ্যই কাউকে গালি দিয়ো না। " ৪৯৫
এ হল সবচেয়ে উত্তম রীতি। তবে অনুরূপ প্রতিশোধ নেওয়া অবৈধ নয়। কিন্তু তাতে সীমা লংঘন করা অবৈধ।
মহানবী বলেছেন,
المُتَسَابَّانِ مَا قَالَا فَعَلَى البَادِي مِنهُمَا حَتَّى يَعْتَدِي المَظْلُومُ
"আপোসে গালাগালিতে রত দু'জন ব্যক্তি যে সব কুবাক্য উচ্চারণ করে, সে সব তাদের মধ্যে সূচনাকারীর উপরে বর্তায়; যতক্ষণ না অত্যাচারিত ব্যক্তি (প্রতিশোধ গ্রহণে) সীমা অতিক্রম করে।"৪৯৬
আর মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُم بِهِ وَلَئِن صَبَرْتُمْ لَهُوَ خَيْرٌ لِّلصَّابِرِينَ )
"যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ কর, তাহলে ঠিক ততখানি করবে, যতখানি অন্যায় তোমাদের প্রতি করা হয়েছে। আর যদি তোমরা ধৈর্যধারণ কর, তাহলে অবশ্যই ধৈর্যশীলদের জন্য সেটাই উত্তম।"৪৯৭
গালির উত্তরে গালি দিলে বরাবর গালি দেওয়া যাবে। তবে উপযুক্ত না হলে অনুরূপ শব্দ প্রয়োগ করায় দোষ হবে না। আপনি মহিলা। কোন পুরুষ যদি আপনাকে 'শালী' বলে গালি দেয়, তাহলে আপনি তাকে 'শালা' বলে গালি দিয়ে প্রতিশোধ নিলে হাস্যকর হবে। কারণ আপনার তো কেউ শালা হতে পারে না। সুতরাং অনুরূপ কোন শব্দ অবশ্যই চয়ন করতে হবে। তবে তা যেন অপেক্ষাকৃত বেশি ভারী না হয়ে যায়। কবি বলেছেন, 'কুকুরের কাজ কুকুর করেছে কামড় দিয়াছে পায়, তা বলে কুকুরে কামড়ানো কি রে মানুষের শোভা পায়?' তা পায় না ঠিকই, কিন্তু লাঠি মেরে আঘাত করা যায়। তবে মেরে দেওয়া যায় না এবং আইনকে নিজের হাতে তুলে নেওয়া যায় না।
এ ক্ষেত্রে সচ্চরিত্রতার সর্বাধিক সুন্দর আচরণ হল, ধৈর্য ও ক্ষমাশীলতা; যদিও তা সাধারণ মানুষের জন্য ভীষণ কঠিন।
কেউ চিঠি লিখলে সুন্দরভাবে জবাব দেওয়া কর্তব্য। কেউ ফোন করলে সুন্দরভাবে রিসিভ করা কর্তব্য। অবজ্ঞা ক'রে নাক সিঁটকে রিসিভ না করা অহংকারীর আলামত। পরন্তু এমন ব্যক্তি অভিশপ্ত। যে কল করে, সে উত্তর না পেয়ে গালাগালি করে। অবশ্য সত্যিসত্যি ব্যস্ত থাকলে আলাদা কথা। তবুও মনে রাখতে হবে, যে টেলিফোন করছে তার একটা হক আছে। আর সে হক তাকে সাধ্যমতো আদায় করতে হবে। মিস্ড-কল দেখে পরে কথা বলতে হবে। নচেৎ পরিচিত হয়েও তার কলকে গুরুত্ব না দেওয়ার ফলে তার হক নষ্ট হয়।
মহানবী বলেছেন,
فَإِنَّ لِجَسَدِكَ عَلَيْكَ حَقّاً ، وَإِنَّ لِعَيْنَيْكَ عَلَيْكَ حَقَّاً ، وَإِنَّ لِزَوْجِكَ عَلَيْكَ حَقَّاً ، وَإِنَّ لِزَوْرِكَ عَلَيْكَ حَقًّاً
"তোমার উপর তোমার দেহের অধিকার আছে। তোমার উপর তোমার চক্ষুদ্বয়ের অধিকার আছে। তোমার উপর তোমার স্ত্রীর অধিকার আছে এবং তোমার উপর তোমার অতিথির অধিকার আছে।"
আর যে ফোনে সাক্ষাৎ কামনা করে, সে এক প্রকার অতিথি। তার হক আদায়ে তৎপর হওয়া এবং তার অভিশাপ থেকে দূরে থাকা চরিত্রবানের কর্তব্য।
অবশ্য কলকারীরও উচিত, মুসলিম ভাইয়ের প্রতি সুধারণা রাখা এবং সে কল রিসিভ না করলে 'তার অহংকার আছে, বদমাশি আছে, সে আমাকে অবজ্ঞা করছে, ইচ্ছা ক'রে তুলছে না' ইত্যাদি কুধারণা না করা।
সুন্দর আচরণ ও সুন্দর চরিত্রের অধিকারী নারী-পুরুষ দেখতে কুৎসিত হলেও, আসলে বড্ড সুন্দর, বড্ড সুন্দরী। মনের সৌন্দর্য বাহ্যিক সৌন্দর্যকে হার মানায়।
টিকাঃ
৪৮৯. সূরা নিসা: ৮৬
৪৯০. সূরা নাহল: ১২৫
৪৯১. সূরা বানী ইস্রাঈল: ৫৩
৪৯২. সূরা মু'মিনূন: ৯৬
৪৯৩. সূরা আনকাবুত: ৪৬
৪৯৪. সূরা হা-মীম সাজদাহ: ৩৪-৩৬
৪৯৫. ইবনে হিব্বান ৫২১, ত্বায়ালিসী ১২০৮, সহীহুল জামে' ৯৮
৪৯৬. আহমাদ ১০৩২৯, মুসলিম ৬৭৫৬, আবু দাউদ ৪৮৯৪, তিরমিযী
৪৯৭. সূরা নাহল: ১২৬